বুধবার, ১৩ মে, ২০১৫

যে গল্পটা লিখেও লেখা হল না

মোজাফ্ফর হোসেন

বছরতিনেক আগে মেয়েটির সঙ্গে প্রথম দেখা। স্পষ্ট মনে আছে। তখন আমি রাজশাহী সাহেব বাজারের মোল্লা ম্যাচে থাকি। ছ’তলায় উত্তরমুখি ছোট্ট একটি কক্ষ। মেয়েটি যখন এল তখন রাত তিনটা বাজতে মিনিটসাতেক বাকি। আমি ওর কথা শোনার ফাঁকে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে নিয়েছিলাম।
সেটা অবশ্য স্বপ্নের ভেতরের সময়। ঘুম ভেঙে দেখি, সবে বারটা ছুঁই ছুঁই। আরও নির্দিষ্ট করে বললে এগারটা সাতচল্লিশ মিনিট। সাধারণত এত আর্লি আমি ঘুমাই না। সেদিন কি এক অজানা কারণে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। যতদূর মনে পড়ে, লাইটটা অন করেই ঘুমিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি অফ। চাঁদের একটা চিকন আলো ভেন্টিলিটার দিয়ে সোজা আমার নাক বরাবর এসে পড়েছে। ঘেমেও গেছি ভীষণ। আগস্ট মাস। এ-সময় ফ্যান ঘুরলেও মাঝে মাঝে এমন ঘেমে ওঠাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। লাইট অন করে আর ঘুমাতে পারিনি। ছাদে গেলে আরাম পেতাম। হয়ত। কিন্তু একটু আগে যা ঘটেছে তাতে সাহসে কুলালো না। সারাক্ষণ মেয়েটির চেহারাটা চোখে চোখে ভাসছিল। মনে হচ্ছিল, চোখের ক্যানভাসে কোনো শিল্পী এসে ছবিটা এঁকে দিয়ে গেছেন!

মেয়েটি ঠিক বিছানার কোণায় এসে বসল। স্বপ্নে ঘটে যাওয়া ঘটনা এত ডিটেইলে মনে থাকে না। কিন্তু আমার ঠিক ঠিক মনে ছিল। যা ঘটেছে তার সমস্তটাই যেন আমি আবারও দেখতে পাচ্ছিলাম! ও অমন করে বসে থাকলো কিছুক্ষণ। প্রথমে ভেবেছিলাম স্বপ্নে দেখছি। অর্থাৎ ড্রিম উইদইন এ ড্রিম! পরে দেখি বিষয়টা তেমন নয়। খুব বিষণ্ন চেহারা নিয়ে বসে আছে। প্রথমে অত ভালো করে কিছু দেখা যায়নি। মনে হচ্ছিল, ভেজা গ্লাসের ওপার থেকে ওকে দেখছি। একটু ধাতস্থ হতেই টের পেলাম--মেয়েটির মুখের তিনভাগের দু’ভাগ ঝলসানো। এখন শুকিয়ে কেমন খাঁজকাটা খাঁজকাটা হয়ে আছে। গাঁয়ের মেটেল রাস্তায় কাদা শুকানোর পর এমন ভাবটা রয়ে যায়। ভারতীয় ভৌতিক সিনেমায় ভূত-নারীদের এমন বীভৎস মেকআপ করানো হয়। পর্দায় দেখে খানিকটা মজা পেলেও এভাবে সামনাসামনি দেখে গাটা ঘিনঘিন করে উঠল। আমি চুপচাপ বোকার মতো তাকিয়েছিলাম। আর ঘামছিলাম যে, সেটা ঘুম ভাঙার পর বুঝেছি।

আপনি লেখেন? মেয়েটি খুব স্বাভাবিকস্বরে জিজ্ঞেস করল। মনে হলো, আমরা ট্রেনে মুখোমুখি বসে একটা সৌজন্য আলাপ শুরু করতে চলেছি।

কি লেখেন? গল্প? মেয়েটি আবার প্রশ্ন করলো। উত্তরটা তার প্রশ্নেই ছিল। বুঝতে পারলাম সবকিছু জেনেই সে এসেছে। তবুও হ্যাঁসূচক মাথা নাড়ানোর প্রয়োজনবোধ করলাম।

আমাকে নিয়ে লিখবেন? মেয়েটি অনুরোধের সুরে বলল। কি উত্তর দেব ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না।

লিখতে কিন্তু হবেই। এইবার তার কণ্ঠে খানিকটা জোর এসেছে। আমার আর হ্যাঁ না বলে উপায় থাকলো না। মেয়েটি আমার ভ্যাবাচ্যাকা ভাব দেখে মুচকি একটা হাসি দিল। মুখের যে অংশটা পোড়েনি সেই অংশের দিকে তাকিয়ে থেকে টের পেলাম।

একগ্লাস পানি হবে? সে বলল। আমি পানি পান করার জন্যে গ্লাস ব্যবহার করি না। রুমে একটাই গ্লাস আছে, কে যেন গিফ্ট করেছিল, ওটা এখন কলমদানি সেজে টেবিলে বসে আছে। কোকের এক লিটার বোতলে খানিকটা পানি পড়ে ছিল। সেদিন পানি তুলতে ভুলে গিয়েছিলাম। প্রায়ই এই ভুলটা হয়। যেদিন ভুলটা হয় সেদিন পাশের রুম থেকে হাফ বোতল ধার করে রাতটা পার করে দিই। বোতলটা এগিয়ে দিলাম। ও হাতে নিয়ে আবার আমার দিকে এগিয়ে দিল। আমি বোতলের মুখ খুলতে খুলতে মনে মনে ভেবে মজা পেলাম-- কেমন মুখমুড়ি পেত্নি তুমি যে বোতলের মুখটাও খুলতে পারো না! তুমি ফুঁ দিলেই তো...!

উ হু, ফুঁ দিলে এই রুমের কোনোকিছুই আর জায়গা মতো থাকবে না। ঝড় বয়ে যাবে! মেয়েটি বলল। তার মানে সে মনের কথা পড়তে পারে। ভীষণ ড্যাঞ্জারাস কথা। এতক্ষণ আমি মনে মনে কি কি ভেবেছিলাম, তাই নিয়ে ভাবনায় পড়ে গেলাম। মেয়েটির স্ফীত বুক দেখে ভেবেছিলাম, এত আগুন বুকে বয়ে বেড়ালে মুখ তো পুড়বেই! এখন সেটা মনে পড়ে গেলে খুব লজ্জা পেলাম।

আমাকে নিয়ে কি লিখবেন, সেটা তো জানতে চাইলেন না? মেয়েটি হেসে হেসে কথা বলার চেষ্টা করছিল। অমন বিশ্রী মুখে হাসিটা মোটেও ভাল দেখাচ্ছিল না। একপাশের মাড়ি আলগা হয়ে কঙ্কালের মতো দেখাচ্ছিল।

আপনি যা যা বলবেন। বললাম আমি।

আমি যদি সব বলেই দিই, তবে আপনার মতো লেখক ধরলাম কেন!

জ্বি। কথা ঠিক। মনে মনে বললাম। এখন মনে মনে বলা আর মুখে বলা একই কথা।

আমার কথা লিখবেন আপনি। মেয়েটি পানি পান শেষ করে বলল।

তারপরও যদি একটু ধরিয়ে দিতেন?

সেটা দিতেই তো আসা। এটা বলেই মেয়েটি বুক থেকে শাড়ির আঁচলটা নামালো। এই প্রথম খেয়াল করলাম ব্লাউজ-ব্রা কোনো কিছুই পরেনি সে। একদম উদোম বুক আমার সামনে। যথেষ্ট উঁচু--মাংসল। কিন্তু মুখের দুভাগের মতোই খাঁজকাটা খাঁজকাটা। আমি একবার তাকিয়েই বিদ্যুৎবেগে দৃষ্টিটা সরিয়ে নিলাম। এমন ভয়ঙ্কর বীভৎস স্বপ্ন আমি কেন দেখছি-- স্বপ্নেই নিজেকে ভর্ৎসনা করলাম। নিজেকে জাগাতে একবার বলে উঠলাম-- ইটস নট রিয়েল। জাস্ট অ্যা ড্রিম। ওয়েক আপ।

ছুঁয়ে দেখবেন? মেয়েটি বলল।

না, না। না। আমার বিশ্বাস হয়েছে। আপনি বুকটা ঢাকুন প্লিজ।

কেন? আগে তো খুউব দেখতে চাচ্ছিলেন। পোড়া এই জন্যে তো! দেখতে ভালো লাগে না, না? মেয়েটি বলল। আমি চুপ করে শুনলাম। বুকের কাপড় ওঠাল না। আমাকে ভয় দেখানোর ভালো তরিকা সে উদ্ধার করে ফেলেছে।

আমি লিখে দেব। সুবোধ বালকের মতো বললাম আমি।

আমাকে হাসলে ভালো লাগে না। দেখতে ভাল দেখায় না। আমাকে ভূতের মতো, অন্ধকারের মতো সকলে দেখতে ভয়ে ভড়কে যায়। কেন আমি বেঁচে থাকবো? মেয়েটি বলল। এজন্যেই তো সত্যি সত্যি ভূত বনে গেলাম! হিঃ হিঃ! মেয়েটি হাসলো। কুৎসিত করে হাসার চেষ্টা। কিন্তু বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দের মতো বেজে উঠল তার হাসির ঐকতান।

আপনি আত্মহত্যা করেছেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম।

না। না আমি আত্মহত্যা করিনি। আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এরপর মেয়েটি বলল তার সব বলা। খুবই সাদামাটা সেসব কথাবার্তা। রোজই কাগজ কিংবা টেলিভিশন খুললেই জানা যায়--মোটামুটি একই কারণে ঝলসে গেছে কুলছুম, ইরা কিংবা শ্যামার মুখ-বুক। অ্যাসিড-সন্ত্রাসী বেকসুর খালাস। কোনো বিশেষ ক্ষমতা বলে নয়, পুরুষ এই কারণেই। বঞ্চনা আর স্বপ্নভঙ্গ সহ্য করতে না পেরে কুলছুম, ইরা কিংবা শ্যামার আত্মহত্যা। খুবই ম্যাড়মেড়ে একপেশে ট্রাজিক ঘটনা। এসব লেখা সংবাদ কর্মীদের কাজ। আধুনিক গল্প লেখিয়েদের এসব লেখা মানায় না। আমি হলাম কি যে পোস্টমডার্ন রাইটার! বন্ধুরা তাই বলে। আমি লিখবো বার্থলেম কিংবা মুরাকামির মতো। তবুও ভয়ে ভয়ে বললাম, এবং ভাবলাম, আমি লিখবো। মেয়েটি খানিকটা খুশি খুশি ভাব করে চলে গেল। বন্ধ দরজা এড়িয়ে কিভাবে যায়, সেটা মনোযোগ দিয়ে দেখতে গিয়ে ঘুমটা পটাক করে শব্দ করে ভেঙে গেল। এই প্রথম ঘুম ভাঙলে যে শব্দ হতে পারে সেটা অভিজ্ঞতা দিয়ে টের পেলাম।

সেদিন আটটা দশে ছিল আল মামুন স্যারের মেটামরফোসিসের ওপর সমাপনী লেকচার। প্রতিদিনকার মতো হাত-মুখ ধুয়ে কটা বিস্কিট মুখে দিয়ে রওনা হলাম। বোতলে একফোঁটাও পানি নেই। ভবনতলে হোটেলে পানি খেয়ে রওনা হলাম। এমনটি প্রায়ই হয়। প্রতিদিনকার অভ্যস্ত জীবনে মেয়েটির কথা বেমালুম ভুলে গেলাম। ক্লাস শেষ করে কাফকার লেখনী স্টাইল নিয়ে লেখক বন্ধু হিশাম এবং রাতুলের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা। কাফকার এই মেথডটা কি করে অ্যাপ্লাই করা যায়, সেই চিন্তা তখন মাথাজুড়ে। এর কিছু দিন পর এমএ পরীক্ষা। পড়া আর লেখালেখির চাপে মেয়েটি অন্য সব স্বপ্নের মতো আমার জীবন থেকে নেই হয়ে গেল। মাঝে আরও আরও স্বপ্ন দেখেছি, ভুলেও গেছি একটার পর একটা। কিন্তু কোনো একটি স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি সেই প্রথম ঘটল। বছরখানেক পরে। তখন আমি ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেদিনও ছিল শুক্রবার। মানে আগেরবারও শুক্রবার ছিল বলে আমার ধারণা। কেননা আব্দুল্লাহ আল মামুন স্যারের ক্লাস শনিবারই হতো।

মেয়েটি আগের জায়গাতেই বসলো। আমি সেদিন বম্বের মাতৃভূমি সিনেমাটি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আজব প্লটের এক সিনেমা। ভারতের একগাঁয়ে ভ্রুণহত্যা ও শিশুকন্যা হত্যার ফলে গ্রামটি নারীশূন্য হয়ে পড়ে। দূরে এক পরিত্যক্ত বাড়িতে একটি পরিবার একমেয়েসমেত লুকিয়ে থাকে। পরে গ্রামের মোড়লের বড় ছেলের সঙ্গে ঐ মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মেয়েটির শশুর-দেবরসহ গ্রামশুদ্ধ লোক মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। মেয়েটির সন্তানসম্ভবা হলে পিতৃত্বের দাবি ওঠে ঘরে ঘরে। ভাবছিলাম ঐ মেয়েটি। মুখের দিকে ভালো করিয়ে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম ভুল ভেবেছি।

লিখলেন না যে? মেয়েটি বলল। আমি অপরাধীর মতো জড়সড় হয়ে বসে রইলাম। কি বাহানা বানানো যায় ভাবছিলাম।

আপনি কলমে লেখেন না যে আপনার কলমের কালি প্রায়ই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আপনার কম্পিউটার বছরজুড়ে দিব্যি চলেছে। আপনি প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখেছেন। আমি দেখে গেছি। আমার কথা লিখছেন ভেবে বিরক্ত করিনি। মেয়েটি গড়গড় করে বলল। আমি কোনো কথা বললাম না। ও মনের কথা বুঝতে পারে, মনে পড়ে গেলে মনে মনেও কিছু না ভাবার চেষ্টা করলাম।

আমার গল্পটা আপনাকে লিখতেই হবে। কেউ জানে না আমার মৃত্যুর আসল কারণ। সকলে জানে আমি আত্মহত্যা করেছি। অথচ আমাকে খুন করা হয়েছে। আমার বন্ধু-পরিবার কেউই আমার পাশে দাঁড়ায়নি। সকলে একটু একটু করে খুন করেছে আমাকে। সবাইকে এটা জানাতে চাই। অন্তত প্রত্যেকটা মেয়েকে। আরও অনেক কিছু বলল মেয়েটি। সব প্রচলিত নারীবাদী কথাবার্তা। আমরা পত্রিকা বা টিভি খুললেই এমন সব কথা শুনি। শুনতে শুনতে আমাদের মুখস্ত হয়ে গেছে। সয়ে গেছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কাগজগুলো নতুন কিছু চায়। এসব কথা লিখলে আমার গল্প ছাপবে না কোনও সম্পাদক। বলবে চর্চিত বিষয় চর্বন। আবার না লিখেও রক্ষা নেই। একটা ফাঁদে আমি আঁটকে গেছি। লিখেই মুক্তি।

লিখবো আশ্বস্ত হয়ে মেয়েটি চলে গেল। নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম; বলল, ‘একটা মেয়ে’।

এক সপ্তাহ--এক মাস, বেশি দেরি করলে আবারও চলে আসতে পারে। এবার আসলে মেজাজটা যে চড়া হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি আতঙ্কে আতঙ্কে লিখতে থাকলাম। ও কিভাবে আমার কাছে আসতো, কেমন বীভৎস ওর চেহারা এইসব নিয়ে। অ্যাসিড-আত্মহত্যার বিষয়টি এড়িয়ে একটা পরাবাস্তব প্রেমের গল্প ফেঁদে বসলাম। গল্পটি শেষ হতে হতে আমি ঢাকায়। ততদিনে আরও একটা বছর ফুরুৎ করে উড়াল। How does time fly? কে যানে! নতুন চাকরি নিয়ে ব্যস্ত সময়, গল্পটি যে ফাইনালি দেখে কাউকে পাঠাবো সেই সময় হচ্ছিল না। গতমাসে এক বন্ধুপ্রতিম সম্পাদক খুব করে পেয়ে বসলেন। দুপুর বারটাই ফোন এল। তখন আমি অফিসে। ঠিক করলাম বাসায় ফিরেই একবার চোখ বুলিয়ে পাঠিয়ে দেব। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতে ফিরতে সেটাই ভাবছিলাম। আরও কি কি যেন ভাবছিলাম।

হরতাল। রাস্তা ফাঁকাই ছিল। পাশের সিটে একটি মেয়ে এসে বসলো। কিংবা আগে থেকেই বসা ছিল আমি খেয়াল করিনি। আমার এই বেখেয়ালি স্বভাবটা বেশ পুরানো। নামতে যাবো এমন সময় মেয়েটি কথা বলল। ভাবলাম অন্য কারো সঙ্গে তাই গুরুত্ব দিইনি। কথাগুলো কানে এল : যেটি লিখেছেন ওটি আমার গল্প না। গত দশ বছরে কত লেখককে বললাম, কেউ আর আমার গল্পটি লিখলো না! সকলে তাদের গল্পটি লিখেছে। মেয়েটির দিকে তাকালাম। কথাগুলো মনে মনে বলছিল আর আমি শুনতে পাচ্ছিলাম। সৌম্য-সুন্দর চেহারা। বলছি না যে, দ্য বেস্ট থিং অব দিজ ওয়ার্ল্ড আই হ্যাভ এভার সীন। তবে চেহারায় কি যেন ছিল, আমি ঠিক ঠিক বলতে পারবো না। অনেক কিছুই আমি ঠিক ঠিক বলতে পারি না। এটিও তেমনি। মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো। রাতের সেই হাসি। ভাবলাম এটা আমার নিজস্ব থট প্রসেস। তাই মেয়েটির সঙ্গে কথা না বলেই গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম। সে আমার মনের কথা বোঝে। নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে আমি কি বলতে চেয়েছি! গাড়ি থেকে নেমে শেষবারের মতোন তাকালাম, তার সেই অন্ধকারে চুপটি বসে থাকা চেহারাটা এক ঝলক ভেসে উঠলো। সেই বীভৎস ক্ষত। সেই হাসিটাও।

বাসায় ফিরে গল্পটিকে আর খুঁজে পেলাম না। নাম দিয়েছিলাম, ‘গল্পটা মেয়েটির’। কম্পিউটারের প্রায় প্রতিটা ফোল্ডারে তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম। যেসব ফোল্ডারে রাখিনি নিশ্চিত জেনেও অলট-পালট করলাম। যে ডাইরিতে কিছু নোট টুকেছিলাম, সেটিও বর্ণহীন পড়ে আছে। যেন মেয়েটিকে নিয়ে কোনোদিন কিছু লিখিনি। একটি শব্দও না।





৩টি মন্তব্য: