বুধবার, ১৭ জুন, ২০১৫

শামসুজ্জামান হীরা'র গল্প : কাদাখোঁচা

বেশ কিছুদিন ধরে জোরেশোরে চলছিল সাফসুতরোর কাজ। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, হেথা-হোথা গজানো আগাছা—সবকিছু কেটে-ছেটে পরিষ্কার, ঘরদোর রং করে ঝকঝকে পরিপাটি। বিঘা চারেক জায়গা নিয়ে বাড়ি। দু’বিঘার ওপর বাড়ির ভিটে। পুব পাশটায় বাকি দু’বিঘা জুড়ে বেশ ছিমছাম করে কাটা পুকুর। ওটার চারপাশ ঘিরে সার সার সুপুরি আর নারকেল গাছ।

বাড়িতে বসবাসের ঘর দুটো; লম্বা পুরনো ঘরের পাশ ঘেঁষে মাসখানেক হল বাংলো টাইপের যে ঘরটা তোলা হয়েছে তাতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক সব ফিটিংস্।


নতুন-তোলা ঘরের বারান্দাটা যথেষ্ট প্রশস্ত। বারান্দার দু’পাশে লাগানো হয়েছে হরেক জাতের সুগন্ধি ফুলের গাছ ও অর্নামেন্টাল প্ল্যান্ট। ফুলের সুবাস হেমন্তের হিমেল হাওয়ার গা জড়িয়ে ভাসে।

পরিবারের সেজো সন্তান ইমতিয়াজ নাফিস ছ’বছর পর দেশে ফিরেছে। গ্রামের বাড়িতে বেশ কিছুদিন কাটানোর ইচ্ছা তার। আর সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই এতকিছুর আয়োজন।

ছয় বছরেও তেমন বদলায়নি ওদের বাড়িটা। পৌরসভার শেষপ্রান্তে লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন বাড়ি। উপজেলা-সদর থেকে বাড়ি যাওয়ার আধা কিলোমিটার পথটা পাকা হয়েছে, এই যা।


সূর্য ঢলে পড়েছে পশ্চিম-দিগন্তে। আম-কাঠাল আর হিজলের ঝাঁকড়া মাথা শুষে নিয়ে সূর্যের ক্লান্ত রশ্মি সন্ধ্যার আবেশ ছড়ায়।

দক্ষিণমুখী বারান্দায় বেতের চেয়ার টেনে বসে কখনও সম্মুখের বিস্তীর্ণ প্রান্তরের দিকে, কখনও-বা পুকুরের দিকে চোখ ফেলছে নাফিস। পুকুরের পানি শুকিয়ে নেমে গেছে বেশ খানিকটা নিচে। তারপরও ঝাঁকবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে পোনামাছের দল। মাঝে মাঝে পানিতে শব্দ তুলে ঝুপ করে আচমকা দিচ্ছে ডুব। বড় বড় মাছগুলো ঘাই দিচ্ছে থেকে থেকে।

আজ সন্ধ্যা নাগাদ ঢাকা থেকে ওর দুই বন্ধুর আসবার কথা। যখন দেশে ছিল, ভার্সিটির ছাত্র, তখন থেকেই ওদের সঙ্গে বন্ধুত্ব—দেশ ত্যাগ করবার পরও যোগাযোগ ছিল নেটে, ফেসবুকে, ফোনে, স্কাইপে। এখন তো গোটা গ্লোবটাই এক বিশাল ভিলেজ। ঠিক করেছে, দুয়েকদিন কাটাবে বন্ধুদের নিয়ে। বন্ধুরা ওরই মত—সাহিত্য, সমকালীন সমাজ-চিন্তা, আর দর্শন দিয়ে করোটি ঠাসা।

সুইডেনের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এই প্রথম বাড়ি-ফেরা নাফিসের। গ্রামে আসার আগে ঢাকায় বড় ভাইয়ের বাসায় দিন পনেরো কাটিয়েই হাঁপিয়ে উঠেছিল ওরা; বসবাসের অযোগ্য এই শহর। কংক্রিটের জঙ্গল, ধুলোবালি যানজট—পথের পাশে আবর্জনার স্তূপ। তার ওপর একমাত্র মেয়ে, বয়স কতই বা—বড়জোর নয়—অসুস্থ হয়ে পড়েছিল গান্ধা ওই পরিবেশে। স্মৃতি তো ওর স্টকহোম সিটিকে ঘিরে; ছিমছাম, নির্ঝঞ্ঝাট নগরী। ঢাকা পৌঁছোতেই জলের মাছ যেন ডাঙায়! আর এ কারণেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাফিস, গ্রামেই কাটাবে বেশ কিছুদিন—সম্ভব হলে ফিরে যাওয়ার আগপর্যন্ত।

গ্রামের বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকার মধ্যে বৃদ্ধা মা, ছোট ভাই আর প্রায় আটত্রিশ বছর ধরে পাগলি এক বোন। এছাড়া রয়েছে কাজের এক বুয়া; বাজার-সদাই করবার, ফুট-ফরমাশ খাটবার জন্য এক কিশোর। ছোট ভাই ব্যবসা করে উপজেলা শহরে—বইয়ের দোকান। জমিজমা, সংসার দেখভাল করার একমাত্র পুরুষ।


হ্যাঁ, মেরুন রঙের টয়োটা করোলা কারটা ধীর গতিতে এগিয়ে আসছে বাড়ির দিকে। এসে গেল তাহলে ওরা। নাফিস আড়মোড়া ভেঙে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। বারান্দার সম্মুখে এসে থামে গাড়ি। মাথা নুইয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে নাজিম আর সাজ্জাদ — নাফিসের বন্ধুদ্বয়। গাড়িটি নাজিমের, নিজেই ড্রাইভ করে। একসময় ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করত—এখন এক বড় এনজিওতে ভালো চাকরি জুটিয়ে নিয়েছে।

–খুব ধকল গেল বুঝি? রাস্তাঘাটের যা অবস্থা! বন্ধুদের সঙ্গে হাত মেলাতে মেলাতে জিজ্ঞেস করে নাফিস।

–যে হারে গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, কবছর পর অবস্থা যে কী দাঁড়াবে ভাবাই যায় না। বলে সাজ্জাদ। ও আবার একটি বহুলপ্রচারিত জাতীয় দৈনিকের সিনিয়র রিপোর্টার।

–হাত-মুখ ধুয়ে নাও। বারান্দায়ই বসার ব্যবস্থা করি, কি বলো? আলো-আঁধারিতে ভালোই জমবে আড্ডা। চাঁদও উঠবে কিছুক্ষণ বাদেই—শুক্লপক্ষের চাঁদ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই গরম কাপড় গায়ে চাপিয়ে তিনবন্ধু বারান্দায় এসে বসে।

মিনারেল ওয়াটারের বোতল আর নাশতা এনে ছোট টেবিলটার ওপর রাখে শিরিন—নাফিসের স্ত্রী।

–এখন তো বোধ হয় ওগুলো চলবে না; চা না কি কফি? স্মিত হেসে জানতে চায় শিরিন।

–কি বল, নাজিম? আর তোমার কী পছন্দ সাজ্জাদ? অ্যাহ্?

–বেশ ঠান্ডা, কফি-ই চলুক। সন্ধ্যায় বোতল কোনটা খোলা হবে? নাক-মুখ দিয়ে গলগলিয়ে বেনসনের ধোঁয়া ছেড়ে জানতে চায় নাজিম।

–অ্যাবসুলাত, ফ্যান্টাসটিক সুইডিস ভোদকা, হুইস্কি সিভাস রিগাল আর মেক্সিকান টেকিলাও আছে,... যেটা পছন্দ...। প্লেটে কাবাব আর স্যালাদ তুলতে তুলতে বলে নাফিস।

তিনটি প্লেটের গায়ে চামচের সচলতায় টুংটাং শব্দ ওঠে ।

–তোমাদের বাড়িটা কিন্তু দারুণ, দোস্ত। সামনে খোলা প্রান্তর... । মুখে পাঁপর ভাজা পুরতে পুরতে বলে সাজ্জাদ।

–অঘ্রান তো গেল বলে। ফসল কাটা হয়ে গেছে, এখন তাই খাঁখাঁ প্রান্তর। আবার কদিন পরই ধানখেত দেখে মনে হবে সবুজ গালচে। কমাস আগে এলে দেখতে, যতদূর চোখ যায় শুধু থৈথৈ জল। চলনবিলের অংশ। বলে নাফিস। ঢাকায় এমন নির্মল বাতাস পাবে? এমন এনভায়রনমেন্ট?

সন্ধ্যার সফেদ কুয়াশাকে হটিয়ে দিয়ে রাত্রির কোমল আঁধার এসে ঢেকে ফেলে চরাচর। বারান্দার অনুজ্জ্বল আলোয় তিনটি ছায়ামূর্তি পরম আয়েশে আলোচনার ঝাঁপি খুলে ধরে।

–তো যা বলছিলাম, নাফিস; তোমাদের বাড়িতে কাটালে যে কেউ কবি বনে যাবে। আর তোমার তো কথাই আলাদা। বেরিয়েছে কটা এ কদিনে? বলে সাজ্জাদ।

–কবিতা কি চাইলেই বেরোয়, বন্ধু? প্রত্যাদেশ—অহি নাজিলের মত বলতে পারো। কখন যে কবিতার বিধাতা তোমাকে মোহাচ্ছন্ন করে বের করবেন কবিতা, তা শুধু তিনিই জানেন!

–কবি আর নবি, ভালোই বলেছ! উচ্চস্বরে হেসে ওঠে সাজ্জাদ। আধুনিক কবিতা কিন্তু দোস্ত, ঈশ্বর প্রেরিত বাণীর চাইতে অনেক কঠিন। আমাদের মত লোকের পক্ষেও অনেক কবিতা বুঝে ওঠা ভার! অল্পস্বল্প লেখালেখি তো করি, তারপরও...।

–অল্পস্বল্প বলছ কেন! গল্পে তোমার দারুণ হাত, সব্বাই স্বীকার করবে। গল্প নিয়েও তো কত নিরীক্ষা; সব গল্পই কি বোঝা যায় সহজে? আসলে জীবনটাই তো যথেষ্ট দুর্বোধ্য, নয় কি? ঈষৎ মাথা নেড়ে বলে নাফিস। নিছক ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষণ, এমনকি মেধা দিয়েও কি সবকিছু বোঝা যায়? সবকিছুর ব্যাখ্যা করাও কি যায়? ভুল বললাম?

–ভুল হতে যাবে কেন। জেনোর প্যারাডক্সগুলোর কথাই ধরো; বোধগম্য কোনও সমাধান কি মিলেছে আজও? বিশেষ করে সেই ছুটন্ত তীরের ধাঁধা। গতিময় বস্তুজগতটা ইল্যুশন বৈ আর কি! নাজিম মুখ খোলে। ভার্সিটিতে একসময় ইংরেজি পড়ালেও দর্শনের ওপর ঝোঁক ওর কম নয়। আর সুযোগ পেলে যতটুকু না-জানে তার চেয়ে বেশি কপচায়!

–আমি অত জটিল অর্থে কথাটা বলিনি। নিজেকেই কি ভালোভাবে বুঝি? বুঝতে কি পারি একে অন্যের মনের ভাব? ভাষার সে-ক্ষমতা আজও কি গড়ে উঠেছে? ইটস্ রিয়েলি অ্যা ট্রাজেডি...! ইচ্ছাশক্তি না যুক্তি কোনটা নিয়ন্ত্রণ করে আমাদেরকে, তাও কি বুঝি?

–শোপেনহাওয়ারে যেতে হয়, বন্ধু। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি, ইচ্ছাশক্তি হল সবল এক অন্ধ, যে খোঁড়া এক চক্ষুষ্মানকে, অর্থাৎ যুক্তিকে কাঁধে বয়ে বেড়ায়! নাফিসের কথার শেষাংশের ওপর মন্তব্য ঝাড়ে নাজিম।

–আহ্, তোমার দার্শনিক কচকচানিতে মাটি হবে দেখছি মজার এই আড্ডাটা! হেসে বলে নাফিস: তবে একথা সত্যি, একসময় শোপেনহাওয়ারের যথেষ্ট প্রভাব ছিল লেখকদের ওপর—এখনও যে নেই তা নয়।

হাতঘড়িতে চোখ বোলায় নাফিস; পৌনে আটটা। চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে বলে, ভালোই তো রাত হয়েছে দেখছি; সন্ধ্যা হয় সোয়া পাঁচটায়; দেখতে দেখতেই গড়িয়ে গেছে এত সময়! কোন মাল আনব?

–হুইস্কি। বলে সাজ্জাদ।

–টেকিলা হলে মন্দ হয় না, অনেক দিন চাখিনি। শীতটাও ভালোই জেঁকে ধরেছে—হি-হি-হি...। হাস্যকর ভঙ্গিতে শরীর কাঁপায় নাজিম। টেকিলার জন্য তো আবার স্পেশাল খুদে গ্লাশ---আছে তো?

কিছুক্ষণের মধ্যেই হুইস্কি আর টেকিলার দুটো বোতল নিয়ে বারান্দায় ফিরে আসে নাফিস। পেছন পেছন চোদ্দ-পনেরো বছরের এক ছেলে ট্রেতে আলুর চপ, ছোলা-মুড়ি, গাজর, শশা আর আইসবক্সে কিউব নিয়ে এসে রাখে চৌকোনো টেবিলটার ওপর। পিরিচে ফালি করা কাগজিলেবু আর লবণ, দু’বোতল পানি।

–চিয়ারস্। হাত প্রসারিত করে লিকারের প্লাশ একটু তুলে ধরে একে অন্যেরটার সঙ্গে ঠোকাঠুকি করে তিনজনই অনুচ্চ ধ্বনি তোলে।

টেকিলা নিট খেতে হয়, এক ঢোকে ছোট্ট এক গ্লাশ। গলা গড়িয়ে নামতে না নামতেই জিহ্বা দিয়ে লবণ আর লেবু চেটে নিলে আরাম পাওয়া যায়।

এ-শুধু গানের দিন, এ-লগন গান শোনাবার...এ-তিথি শুধু গো যেন দখিন হাওয়ার...। ভেতরবাড়ি থেকে মেয়েলি কণ্ঠে গান ভেসে আসে।

দুই বন্ধুর কান খাড়া। সবিস্ময়ে জিজ্ঞেস করে সাজ্জাদ: কী মিষ্টি গলা, কে গাইছে রে?

–অ্যাঁ...হুঁ...মানে আমার বড় বোন...পাগলি...। একটু ইতস্তত করে বলে নাফিস।

–একেবারে সন্ধ্যা মুখার্জির গলা...। সাজ্জাদ বলে।

–একসময় স্টেজে গান করত; স্বাধীনতার আগে; যখন ক্লাশ নাইনের ছাত্রী...। আমি তখন সবে স্কুলে ঢুকেছি। শহরে তখন আমাদের বাসা। যুদ্ধের শুরুতেই পাকিস্তানি সেনারা বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। শহর ছেড়ে পালিয়ে আসতে হয় গ্রামে। গ্রামেও কী স্বস্তি ছিল? সে অনেক কথা। তেয়াত্তরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে ও। চিকিৎসা অনেক হয়েছে; লাভ হয়নি। অ্যাক্যুট সিজফ্রেনিক পেশেন্ট। এখন রাতে ঘুম পাড়াতে ১০০ এমজির তিনটা লারগেকটিল ট্যাবলেট লাগে, তাও মাঝে মাঝে খুব জ্বালায় সারা রাত...। কথাগুলো বলে হুইস্কির গ্লাশে লম্বা এক চুমুক দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে নাফিস: হাহ্!

–ও হানিফ, একটা মিষ্টি দে...; চা দে...দে... দে-এ-এ-এ...। তীক্ষ্ণ কণ্ঠে টেনে টেনে বায়না ধরে পাগলি।

–আজ রাতে আবার জ্বালাবে মনে হচ্ছে। মিষ্টি আর চা-তে ওর সাংঘাতিক নেশা...। বলে নাফিস।

–দিলেই তো হয়...। সাজ্জাদ বলে।

–দিলে রাতে আর ঘুমোবে না। কী সমস্যায় পড়া গেল! বাড়িতে লোক সমাগম বেশি হলে ওর পাগলামি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে। দেখা যাক কী করা যায়। আরেকটা বাড়তি লারগেকটিল না-হয় দিতে হবে...।

বারান্দার কাছাকাছি আমগাছ থেকে একটা বাদুড় কিচকিচ শব্দ তুলে ডানা ঝাপটে উড়াল দেয়। বাড়ির পেছনের জোলা থেকে কিছুক্ষণ পর পর ডাহুকের ডাক ভেসে আসে।

দপ করে নিভে গেল বারান্দার বাল্ব। লোডশেডিং।

–ভেতরে বসব, না কি দরজা খুলে দিয়ে এখানেই? জিজ্ঞেস করে নাফিস। ভেতরে আইপিএসের কানেকশন আছে—আলো আসবে।

–এখানেই বসি। তোমাদের বাড়িতে শহুরে সব সুবিধাই আছে দেখছি। নাজিম বলে। গলা বেশ জড়িয়ে এসেছে ওর।

–মায়ের বয়স তো আশি ছুঁই ছুঁই; ওর জন্যই এতসব ব্যবস্থা। ইদানীং আবার শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। শীত এলে কাশি, বাতের ব্যথাটাও বেড়ে যায়। বছর সাতেক আগে তো বেশ বড় ধরনের স্ট্রোক হয়ে গেল। সেই থেকে ভেঙে পড়েছে শরীর। না-হলে এ-বয়সে আরো শক্ত থাকত। গ্লাশে দু’আঙ্গুল পরিমাণ হুইস্কি ঢালতে ঢালতে বলে নাফিস। এই তো মনে হয় সেদিনকার কথা, আমি কলেজে পড়ি, মা একা একা যেত শপিঙে। আর এখন আমারই তো পঁয়তাল্লিশ পেরিয়ে গেল বলে। দেখতে দেখতে সময় কী করে পেরিয়ে যায়!

–হুঁ, সময় বয়ে যায় দ্রুত লয়ে; ক্ষয়ে যায় জীবনের সুরম্য সৌধ, আহা...! টেকিলা দীর্ঘজীবী হোক।

–বেশি হয়ে যাচ্ছে নাজিম। আর খাওয়া ঠিক হবে না। শাসনের সুরে বলে নাফিস।

–আচ্ছা, ধরো চল্লিশ বছর বয়সে ফিফটি ইয়ারস ওল্ড হুইস্কি যারা বানানোর প্ল্যান করে, তারা কী বেকুব নয়? অ্যাহ্? নাজিমের কথা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। ওই মদ চেখে দেখার সৌভাগ্য কি ওদের হয়? মরে ভূত—হা হা হা, লাইফ ইজ অ্যাবসার্ড...মিনিঙলেস...!

–অ্যাবসোল্যুটলি কারেক্ট। পাটিগণিতের সেই অঙ্কটাকে একটু অন্যভাবে বললে, একটা বানর বছরের পর বছর একটি পিচ্ছিল বাঁশ বেয়ে ওপরে উঠতে চায়, ওখানে রাখা এক কাঁদি কলার আশায়; কিছুদূর ওঠে, আবার পিছলে পড়ে, ওঠে পিছলে পড়ে; কলা পর্যন্ত পৌঁছোনো হয়ে ওঠে না তার! কী হল নাফিস, তুমি একদম চুপ মেরে আছ, কিছু বলবে তো...।

–অতশত বুঝি না। কিছু আকাঙ্ক্ষা, কিছু ইচ্ছা পূরণের জন্য মানুষ বেঁচে থাকে। প্রকৃতি মূলত প্রজননের মধ্যে দিয়ে নিজের অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুপ্ত ইচ্ছার বীজ পুঁতে দেয় প্রাণীর অবচেতন মনে; বেঁচে থাকে সে-ইচ্ছার বাস্তবায়নের জন্য। কোনো একটা কিছুকে ভালো লাগার জন্যও হয়তো বেঁচে থাকে। ব্যাখ্যাতীত কোনও কারণেও বাঁচে। আরও সোজাসাপ্টাভাবে বুঝি, নিজের মত করে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করাই জীবনের মিনিঙ...। নাফিস বলে।

–রাত অনেক হল, এখন আলাপ সাঙ্গ করে খেতে এসো। ঠান্ডায় খাবার জমে গেলে খেতে পারবে না কিন্তু। উফ্, কী ঠান্ডারে বাপ! হাতের দু’তালু ঘষতে ঘষতে বলে শিরিন: আর তোমাদের কী আক্কেল বল তো, এই শীতে বারান্দায় বসে কেউ গপ্পো করে? ঘরে বসতে কী গা চুলকোয়?

–আশ্চর্য তো, তুমি এভাবে বলছো! এই ঠান্ডা তো সুইডেনের সামার, না কি? মুচকি হেসে বলে নাফিস। ঠিক আছে উঠছি...এক্ষুনি উঠছি।

ভালোই টেনেছে সাজ্জাদ এবং নাজিম। বোঝা যাচ্ছে, শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেই ওদের। নাফিসের রেগুলার খেয়ে অভ্যাস—খায়ও পরিমিত, ব্যালান্স হারায় না তাই কখনও।


সকাল ন-টা পার করে দিয়ে ঘুম ভাঙে নাজিম আর সাজ্জাদের। নাশতার পাট চুকিয়ে আবার বারান্দায় গিয়ে বসে তিন বন্ধু।

–আহ্, লম্বা একটা ঘুম হল বটে; দশ ঘণ্টা! শরীরটা ঝরঝরে লাগছে বেশ। বলে নাজিম।

বাইরে তখনও কুয়াশা। প্রান্তরের পিঠের ওপর পেঁজা-পেঁজা শিমুল তুলোর মত জমে আছে কুয়াশার অতিকায় স্তূপ। গাছের পাতা গড়িয়ে এখনও ঝরছে ঘনিভূত কুয়াশার হিম-জল, টুপটাপ।

–কাল রাতে ভালোই জমেছিল। বিশেষ করে জীবনের অর্থ নিয়ে আলোচনাটা; যদিও তেমন বিস্তারিত কিছু হয়নি। সাজ্জাদ বলে।

–জীবনের অর্থ নিয়ে প্রায় প্রতিটি দার্শনিক ভেবেছেন। সেই আদি কালের বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, সক্রেটিস, ডায়োজেনিস। ডায়োজেনিসের সেই মজার ঘটনা তো নিশ্চয়ই জানো। বড় পিপের মধ্যে প্রায় ন্যাংটো হয়ে বসবাস করতেন। কেউ কিছু খেতে দিলে খেতেন। মনে করতেন, সুখ একান্তভাবে বাস করে মনের ভেতর। বাহ্যিক কিছুতে নয়। আর এই সুখই জীবনকে করে তোলে অর্থবহ। জানা যায়, একদিন পিপের বাইরে এসে রোদ পোহাচ্ছিলেন ডায়োজেনিস। রোদ আড়াল করে গ্রিকবীর আলেকজান্ডার তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে জানতে চেয়েছিলেন, কী পেলে তিনি সুখী হবেন। ডায়োজেনিস বিরক্তি মেশানো সুরে বলেছিলেন, আপাতত দয়া করে তাঁকে রোদ পোহাতে দিলেই সুখী হবেন তিনি । গ্রিক-সম্রাটের মুখে কোনও বুলি ফোটেনি! বলে নাজিম।

–আরে রাখো তোমার জীবনের মেটাফিজিক্যাল সুখ বা অর্থ নিয়ে প্যাচাল! অ্যাবসারডিস্ট বা এগজিসটেনশ্যালিস্টরা ওগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করে জীবনের যে অর্থ নির্দেশ করেছেন, সেটাই আমার কাছে অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হয়। অ্যাবসোল্যুট কোনও সুখ বা অর্থ নেই জীবনের—নেই কোনও গৎবাঁধা নিয়ম। তোমার কাছে যা যুক্তিযুক্ত মনে হবে সেভাবে চলবে তোমার জীবন। জীবনের প্রতিটি ক্ষণকে উপভোগ করা—কারণ কেউ তো জানে না, তার জীবনের দৈর্ঘ কত। আর এভাবে জীবনযাপন করতে গেলে প্রথাবিরোধী না হয়ে উপায় নেই। মানুষের তৈরি প্রথা, এমনকী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড অ্যাবসার্ডিটিতে ঠাসা! আলবেয়ার কাম্যুর বইগুলো পড়েছো তো নিশ্চয়ই ...। হাত নেড়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বক্তৃতার ঢঙে বলে সাজ্জাদ। আধুনিক কথাসাহিত্যের বিশাল অংশ দাঁড়িয়ে আছে এই দর্শনের ওপর।

–তোমরা দুজনে তো বারান্দাটাকে দর্শনের ক্লাশ বানিয়ে ফেললে দেখছি। ওরেব্বাপ, একটু দম নাও। বাইরে বেশ ঝলমলে রোদ উঠেছে। চেয়ার নিয়ে বাইরে বসলে কেমন হয়? ডায়োজেনিসের মত রোদ পোহানো যায়...আরেক প্রস্ত চা চলতে পারে, না কি কফি, কি বলো?

তিন বন্ধু বারান্দার সামনের একটা ফাঁকা জায়গা বেছে নিয়ে আরাম করে বসে। কাজের ছেলেটা বারান্দা থেকে টেবিল এনে তার ওপর চিড়েভাজা আর বিস্কুটের প্লেট রাখে।

মোবাইলটা হঠাৎই বেজে ওঠে নাজিমের। সেটটা কানে ঠেকিয়ে ভ্রূ কুঁচকে বলে ওঠে ও: হ্যাঁ, হ্যাঁ রাজু, কী বললে স্টকমার্কেটে কালও দরপতন! কত পয়েন্ট? বল কী! ঠিক আছে, আমি কাল ঢাকা আসছি; কথা হবে...রাখি। সেট অফ করে রাগে ফুঁসতে থাকে নাজিম: শালারা শুরুটা করল কী! ছিয়ানব্বইতে একবার, আবার এখন। সিন্ডিকেট করে ছোট ছোট বিনিয়োগকারীদের পকেট কেটে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে হাতেগোনা কটা বদমাশ! তথ্য-প্রমাণ মিলেছে, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেই। এভাবে দেশ চলে? সব খুঁইয়ে দুই না তিনজন তো সুইসাইড করেছে, খবরে শুনলাম।

–তোমারও শেয়ার কেনা ছিল নাকি? চামচে চিড়েভাজা তুলতে তুলতে জিজ্ঞেস করে নাফিস।

–পাঁচ লাখ টাকা অলরেডি গন। ইশ্, কী বোকামিটাই না করেছি বেশি লাভের আশা করতে যেয়ে! কে জানত এরকম অস্বাভাবিক ধস নামবে। সময়মত বেচে দিলে ভালোই লাভ হত। বেশ তো ফুরফুরে মেজাজে ছিলাম; ফোনটা এসে দিল মুড অফ করে; হেল্...!

–নো প্রবলেম দোস্ত, ডায়োজেনিসের মত রোদ পোহাও, নো চিন্তা...। তাছাড়া পাঁচ-দশ লাখ টাকা তোমার কাছে একটা ব্যাপার! সাজ্জাদ হালকা মেজাজে বলে।

চা নিয়ে আসে ছেলেটা। পেছন পেছন এসে দাঁড়ায় নাফিসের পাগলি বোন। রোগাটে লম্বা, মাথার বেশির ভাগ চুলে পাক ধরেছে, হাতের দীর্ঘ নখগুলো বাঁকা, পশুর নখরের মত দেখায়। নখ কাটতে দেয় না ও। মুখ আর গলার চামড়ায় ছোপ ছোপ দাগ। তারপরও বোঝা যায়, একসময় চেহারায় ধার ছিল; টিকোলো নাক, ডাগর চোখ, যদিও পাণ্ডরোগীর মত হলদেটে এখন। ঠোঁট বেঁকিয়ে অদ্ভুত একচিলতে হাসে; ফ্যাকাশে ঠোঁটের ফাঁকে দেখা দেয় কটা নোংরা দাঁত। বেশ বিব্রত দেখায় নাফিসকে। নিজেকে সামলে নিয়ে বলে: কেমন আছো, আপু?

–ভালো।ফ্যাসফেসে গলায় জবাব দেয় পাগলি। তারপর ছিঁচকাদুনে ছোট্ট মেয়ের মত নাকিসুরে আবদার জোড়ে: চাঁ খাঁব...হুঁহ্ চাঁ...চাঁ দে...

–ভেতরে যাও লক্ষ্মী আপু, চা দেবে তোমাকে। নরম গলায় বলে নাফিস; তারপর জোরে আওয়াজ দেয়: হানিফ, মিলি আপুকে চা দে...।

টলতে টলতে ভেতরবাড়ির দিকে হাঁটে মিলি। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে খেয়ে শরীরের ভারসাম্য অনেকটা হারিয়ে ফেলেছে ও। গুনগুনিয়ে গান ধরে: আজ যেন নেই কোনও ভাবনা...যদি আজ অকারণ কোথাও হারায় মন...।

–এই একটাই আমাদের দুঃখ, বলতে পারো। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে নাফিস।

কিছুক্ষণের জন্যে নীরবতা। বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড়ের ফাঁক গলিয়ে ফিনফিনে উত্তুরে হাওয়া শরীর ছুঁয়ে যায়। গাছগাছালির নিষ্প্রাণ তামাটে পাতা নিঃশব্দে খসে পড়ে। দেশি বরই গাছটাতে ঝাঁপিয়ে বরই এসেছে। বুলবুলি পাখিরা বরইগাছের ডালে ওড়াউড়ি করে। ঘরের চালে বেশ কটা শালিক আর কাক। পুকুরের পানিতে পোতা বাঁশের সরু ডগাতে মাছরাঙা একাগ্রমনে শিকারের সন্ধানে ওঁত পেতে আছে।

–এক পত্রিকা থেকে ফরমায়েশ, গল্প চাই। মাথায় প্লট আসছে না। কথা পাড়ে সাজ্জাদ। ছোটগল্পও অনেকটা তোমার সেই কবিতার মতই—চাইলেই বেরোয় না। বেড়ানো ছাড়াও তোমাদের এখানে আসার অন্য একটি কারণ, বলতে পারো, কিছু একটা পাওয়া, যা কিনা গল্পের প্লট হতে পারে।


মানুষের পায়ের শব্দে ওদের চোখ পড়ে পুকুরের পানে। গজারি গাছের মত লিকলিকে মাঝবয়সী এক লোক পুকুরের পানির কিনার ঘেঁষে প্যাচপেচে কাদা খচে ধীর পায়ে হাঁটছে। পরনে নোংরা লুঙ্গি—মালকোচা মারা। গায়ে ছেঁড়া কালো ঝুরঝুরে চাদর। হাতে মাথাচোখা ছোট একটুকরো বাঁশের বাখারি । লোকটির পেছন পেছন হাঁটছে ছ-সাত বছরের এক মেয়ে। ছেঁড়া-ফাটা সোয়েটার গায়ে, পরনে ইজের। মেয়েটির হাতে মাটির ছোট্ট হাড়ি। কিছুক্ষণ পর পর লোকটা বাঁশের দণ্ডটি দিয়ে পুকুরের কাদামাটি খোঁচাচ্ছে আর কী যেন তুলে রাখছে মেয়ের হাতে-ধরা হাড়িতে। একরাশ বিস্ময় নিয়ে তিন বন্ধু তাকিয়ে থাকে লোকটির অদ্ভুত এই কাজের দিকে। অনেকক্ষণ ধরে চলে এই কাদা খোঁচানোর কাজ। তারপর পুকুরের পাড়ে উঠে এলে হাতের ইশারায় লোকটাকে কাছে ডাকে নাফিস। কাছে এলে লোকটার চেহারা প্রকটভাবে নজরে আসে ওদের। কালো মুখে কাঁচা-পাকা দাড়ি, এই বয়সেই সারা মুখে বলিরেখা। বেতের ঝাড়ের মত জটবাঁধা একমাথা চুল, হাতের কনুইয়ের কাছে মার্বেলাকারের ফোলা ফোলা বেশ কিছু মাংসপিণ্ড। মেয়েটিও এসে লোকটার পাশ ঘেঁষে গুটিশুটি মেরে দাঁড়ায়। ড্যাবডেবে চোখে চেয়ে থাকে নির্নিমেষ। ওর নাক বেয়ে হলদেটে শিকনি এসে জমে আছে ঠোঁটের ওপর।

–আপনার বাড়ি কোনখানে? জিজ্ঞেস করে নাফিস: আগে কখনও দেখেছি বলে তো মনে হয় না।

–বাড়ি ওই গাঁয়ে, হাতের ইশারায় দেখায় লোকটা: শাইলখা, ফইটকার বিলের কাছে।

–পুকুরে ঘুরে ঘুরে কী করছিলেন?

–কেঁইচো তুললেম...

–তা কেঁচো দিয়ে কী করবেন?

–কেঁইচো বশশিত লাগায়্যা দাউন দেব, মাছ ধরব...

–দাউন জিনিসটা আবার কী? জানতে চায় সাজ্জাদ।

–সুইতের সাতে ম্যালাগুইল্যা বশশি লাগায়্যা মাছ ধরাক কয় দাউন। বিলি এহনো যেহানে পানি জুইম্যা আছে সেহানে দাউন দেব।

–কী কী মাছ ধরা পড়ে আপনার দাউনে? রুই কাতলা আইড় বোয়াল...?

–বাইজান যে কী কয়! এহন কী আর আগের লাহান মাছ পাওয়া যায়? জোয়ারের সমায়ও তো বিলি পানি থাহে না আগের লাহান। মাছ থাকপি ক্যাবা কইরা; জমিত যেরহম বিষ মারে চাষারা, মাছের বংশ শ্যাষ!

–বিলে আগের মত পানি নাই কেন?

–গাঙে পানি না থাকলি বিলি পানি আসপি ক্যাবা কইরা?

–তাহলে কী মাছ পান দাউনে?

–টাহি, শৈল, কৈ, এহাক সমায় বাইম...

–এক দাউনে কয়টা বড়শি লাগান?

–এই বিশ তিরিশটা---পানি বুইজ্যা...।

–বিশটা মাছ পেলে তো অনেক দামে বেচেন, তাই না?

–কী যে কয় বাইজান! এ দ্যাশের লোক লয় মনে অয়। বশশি ফেললিই কি আর মাছ পাওয়া যায়? বিশটা জুলালি কুনোদিন দশটা, কুনোদিন আটটা, কুনোদিন পাঁচটা আবার কুনোদিন এডাও লয়...।

–যেদিন একেবারেই মাছ পান না, মন খারাপ হয় না?

–তা তো অয়ই, কিন্তু সবই তো কপাল। আল্লায় না দিলিপরে পাব ক্যাবা কইরা?

–যখন বিল একদম শুকিয়ে যায় তখন চলেন কী কাজ করে?

–মাইনষের ভুঁইত কাম করি, পাইট-পইরেত দেই; যহন যে কাম পাই, করি...

–আর এই মেয়েটা কে?

–এই গেদি? আমার বিটি...।

–দিনকাল কেমন যাচ্ছে? কেমন আছেন?

–বালোই আছি আল্লার রহমতে...। যাই এহন, বাইজান। বাইত ম্যালা কাম...।

–তুমি তো রীতিমত এক ইন্টারভিউ নিয়ে নিলে কাদা খোঁচানো ওই লোকটার, সাজ্জাদ; কী বিচিত্র সব জীবন! গল্প লেখায় কাজে আসবে; কি, ঠিক বলিনি? নাফিস বলে।

–কাদাখোঁচা, এই নামে একটা গল্প লেখার চেষ্টা করা যেতে পারে; দেখি।

লেখক পরিচিতি
শামসুজ্জামান হীরা
মুক্তিযোদ্ধা। গল্পকার। অনুবাদক। 


1 টি মন্তব্য:

  1. Where are you HERA bhai?
    You were my leader at the university of Chittagong? Where is your brother Masum?
    Salim B

    উত্তরমুছুন