বুধবার, ১৭ জুন, ২০১৫

ছোটগল্প বনাম খাটোগল্প

হামীম কামরুল হক

ছোটগল্পের জায়গাটা দিনে দিনে খাটো হয়ে যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে নানান সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ‘মরে যাচ্ছে কিনা’ (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস), বা ‘ছোটগল্প আছে, ছোটগল্প নেই’ (হাসান আজিজুল হক) ইত্যাদি দ্বিধা ও দোলাচলের ভেতরে, এগুলো একোবারেই গণ্য না করে ছোটগল্প লেখা হচ্ছে তো হয়েই চলেছে।
সাহিত্যের একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে ছোটগল্প, সে জায়গা প্রবণতার দিক থেকে কবিতার লক্ষণাক্রান্ত, ভঙ্গির দিক থেকে বর্ণনাক্রান্ত (যেমন বর্ণনা উপন্যাসও করে), আর রসনিষ্পত্তির দিক থেকে নাট্যলক্ষণাক্রান্ত ছিল। আরো অনেক রকমের ছিল। সবকিছু ব্যতিরেকে আমরা ছোটগল্প পড়তে চাই। কিন্তু আমরা প্রায়শই জানি না কী ধরনের ছোটগল্প পড়তে চাই। প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কখনো প্রথম বাক্য বা প্রথম এক দুই অনুচ্ছেদ পড়ার পরও যদি লেখকের লেখা না টানে তো সেই গল্প আর পড়া হয়ে ওঠে না। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঠের বয়স, মেজাজ ও রুচির হেরফের হওয়ার জন্যও এমনাটা হয়। তারপর বাংলা ছোটগল্পে একেবারে মৌলিক পরিবর্তনের মতো কোনো কিছু ইদানীংকালে ঘটছ কিনা সেদিকেও নজর রাখা লাগে। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, গল্প তো দূরের কথা গদ্যটি সম্পর্কেই অনেকের সচেতনতা নেই, কেউ কেউ শব্দের সঠিক প্রয়োগটির ক্ষেত্রে হেলাফেলা করেন, বাক্যে ক্রিয়াপদের ব্যবহার, বাক্যপ্রকরণ -- সবেতেই নানান গণ্ডগোল যে বেঁধে আছে-- সেটি পর্যন্ত গ্রাহ্য করেন না। কেউ কেউ পোস্টমর্ডান গল্প লিখছেন। তখন আবার দেবেশ রায়ের কথাটি মনে পড়ে,‘‘আজ পর্যন্ত মর্ডানই তো হলাম না; এখনই পোস্টমর্ডান?” তারপর পশ্চিমের দিকে তাকিয়েই সব করতে হবে কেন? পশ্চিমী সাহিত্যদর্শন পৌঁছে গেছে গঠনবাদে বা স্ট্রাকচারালিজমে, যেখানে হবস, লক থেকে রাসেলের দর্শন বাতিল না হলেও রদ্দি হয়ে গেছে প্রায়। বিদ্যামান পরিস্থিতিকে রেখে সাজুয্য বা সামঞ্জস্য তৈরি করার দার্শনিক পদ্ধতি এখন আর চলে না, তার বদলে ‘যা নেই’ তাকে খোঁজা এবং ‘নেই’ থেকে সেই সামঞ্জস্যকে নির্মাণ করার প্রয়াস লক্ষ্য করছেন অনেকেই। গঠনবাদের পেছনে আছে নিৎসের গভীর প্রভাব। সেই প্রভাব পুরোনো মতে বিদ্যামান যুক্তিকাঠামো এবং এরওপর নির্মিতির বিপক্ষে এমন এক পরিস্থিতিকে হাজির করে যা সাহিত্যকেও প্রভাবিত করেছে। গঠনবাদ পার হয়ে এসেছে উত্তর-গঠনবাদের পর্যায়। সেদিকে আরো অনেক জটিল প্রয়াস আছে। কিন্তু তত্ত্ব আর সাহিত্য সৃষ্টি তো এক নিয়ম নেমে চলে না। তত্ত্ব ছক মানে আর সাহিত্যসৃষ্টি ছক ভেঙে। অন্তত আগে ছক মেনে-- পরে সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব নয়। আগে সাহিত্য সৃষ্টির পরে তাতে তত্ত্ব তো কতভাবেই না সেঁটে দেওয়া যায়। ছোটগল্পকে কি যা বিদ্যামান তার যৌক্তিকতা ভেঙে যা নেই সেই কাঠামো নিতে উদ্যোগী হলে তা নতুন হয়ে দেখা দেবে? ছোটগল্প তার নানান সীমাবদ্ধতা ও খাটোত্ব কীভাবে পার হবে তা তো তত্ত্ব দিয়ে দেখানোর বদলে তেমন ছোটগল্প লিখে তবে দেখানো বোধ করি বেশি সম্ভব। আর আমরা কজন স্পষ্ট করে জানি ছোটগল্প থেকে চাওয়া ও পাওয়ার বিষয়গুলো কী কী হতে পারে?

কয়েকদিন আগে আমার কবি বন্ধু আসাদ আহমেদের সঙ্গে এনিয়ে একটু আলাপ হল। পাঠক হিসেবে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাঁর নানান বিচার-বিশ্লেষণে নানা সময়ে উপকৃত হয়েছি। সেদিন আলাপ প্রসঙ্গে তাঁর কাছে জানতে চাই, কোন ধরনের ছোটগল্প তিনি পড়তে চান। উত্তরে বলেন, ‘যে-গল্প আমাকে টাচ (স্পর্শ) করে।’

--‘এই টাচ করার ঘটনাটির শুরু কোথা থেকে, মানে, গল্প পড়ার শুরুতেই, না পড়া শেষে?’

তিনি বলেন, ‘গল্প আসলে এমন-- শামীমের (আমাদের আরেকজন বন্ধু কবি শামীম রেজা) বাসায় তো নানান ধরনের গল্পের কালেকশন আছে। এর ভেতরে একটা গল্প পড়েছিলাম, লেখকের নামটা এখন মনে করতে পারছি না। সেখানে গল্পটা আমাকে টাচ করেছে, ঠিক গল্পের কাহিনী না, গল্পটা যেভাবে, যে-ভাষায় ও ভঙ্গিতে লেখা হল। একটা ছেলে পানির বিশ ফুট নিচ থেকে মাছও ধরে পাশাপাশি মাটিও জোগাড় করে কী সব কাজে লাগায়। এই কাজ করতে গিয়ে একদিন ছেলেটি মারা যায়।-- গল্প এখানেই শেষ, এই গল্পে তো কোনো কাহিনী নেই, কিন্তু গল্পটা টাচ করেছিল, তার তাপ এখনো লেগে আছে। এমন গল্পই পড়তে চাই, যেখানে কী বলব, একটা অর্কেস্ট্রেশন আছে, সমস্ত কিছু একসঙ্গে বেজে ওঠে।

আমি বলি, ‘মানে বর্ণনা, ভাষা , চরিত্র, পরিবেশ, মন-প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-ক্ষরণ-পূরণ আরো আরো যা যা?’

--‘হ্যাঁ, সবকিছু সেখানে একসঙ্গে বেজে উঠছে। ওই অর্কেস্ট্রা-টা চাই। যেমন তারাশঙ্করের গল্প। গল্প পড়ছি আর ওইটা বেজে চলছে তালে তালে। আগাগোড়া ওই রকম। সেখানে টেকনিক আছে কিনা নেই-- তা প্রধান নয়, লেখায় তো যে যত বেশি তার টেকনিক আড়াল করতে পারে যে তত বড় ওস্তাদ। তারাশঙ্কর তা পারেন। কিন্তু এমনভাবে গল্প বলেন-- ওই অর্কেস্ট্রা-টা পাই।’

--‘বিভূতিভূষণ?’

--‘তাঁর গল্প তাঁর উপন্যাসের মতো জমে না। তিনি একটা বর্ণনা দিয়ে যান। কিন্তু ওই যে অর্কেস্ট্রা-টা ওটা পাই না তো।’

--‘মানিক?’

--‘তিনি খুব চিন্তাশীল, মনননির্ভর গল্পকার। কিন্তু অনুভবের অর্কেস্ট্রাটা -- ওটা মানিকে পাই না।’

--‘রবীন্দ্রনাথ?’

--‘রবীন্দ্রনাথ তো বলাই বাহুল্য। আসলে অন্যরা অনেক কিছু বলতে পারে, আমি রবীন্দ্রনাথ আর তারাশঙ্করের ছোটগল্পে আমি যা চাই-- ওই টাচ, ওই অর্কেস্ট্রা-টা পাই। অনুভবের অর্কেস্ট্রা-টা।’

এইখানও অনুভবের প্রসঙ্গটা এসে পড়লই। সাহিত্য তো অনুভবের একটা বিশেষ জগৎ নিয়ে গড়ে ওঠা। এই বিশেষ জগতটা কী-- তা নিয়ে তর্ক আছে। সুনির্দিষ্ট করে বলা খুবই মুশকিল। কবিতার কথা এখানে আনলে আলোচনা আরো খাপছাড়া হয়ে উঠবে, ছোটগল্প নিয়ে যখন কথা হচ্ছে, তাতেই থাকার চেষ্টা করা যাক। ছোটগল্পের জন্য গদ্য চাই। গত শতকের ষাটের দশকে দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একবার দেবেশ রায়কে বলেছিলেন, ‘আমরা তো এখনও বাংলা ছোটগল্পের গদ্যটাই তৈরি করতে পারলাম না; ছোটগল্প আমরা কবে লিখব র্যাঁ?’ দেবেশ রায়ের লেখা থেকে কথাটা জেনে বিশেষ করে ওই ‘র্যাঁ’ শব্দটা এমন ধাক্কা মেরেছিল। তখন গদ্যটি আসলে কী তাঁর খোঁজ চলে। শঙ্খ ঘোষ থেকে একটা ভালো কথা পাওয়া গেল,“গদ্যকে বলা যাক স্বতন্ত্র আর-একটি বিন্যাস যা ভাবনাজগতের অন্তর্বর্তী দেশকে (inner space) রূপায়িত করে আনে।” সোজা কথায় সাহিত্য যে আমাদের ‘মনের কথা’, সেই মনের কথাটা গদ্যে ধরা থাকে। কিন্তু সাহিত্য নিয়ে বোঝাবুঝির জায়গাটা অনেক গোলমেলে। এই গোলমালটা ছোটগল্পেও। অনুভবের প্রসঙ্গ তো উঠলই। কমবেশি সবাই বলেন, যে এটা (সাহিত্য) বোঝার ব্যাপারই নয়, এটা অনুভবেরই জগৎ। কিন্তু অনুভব কথাটা আরো গোলমেলে। কে কেমন অনুভব করেন তা তার নিজের কাছেই নিশ্চিত কোনো আকার পায় না। লিও তলস্তয় বলেছিলেন, লেখা তার কাছে অনুভূতির সঞ্চারণ। অ্যালডাস হাক্সলির ইংগিত ধরে বলতে হয়, কেউ যদি লেখায় যৌনসম্ভোগের চেয়ে আনন্দ না পান তার দ্বারা লিখে খুব বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। আরো অনেকের মতো সমরেশ বসুও লেখার মাধ্যমে অন্তরের মুক্তির কথা বলছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘আসলে মুক্তি নাকি স্বস্তি?’ উত্তরে সমরেশ বসু বলেছিলেন,“কখনো কখনো অনেক বাজে লেখা আমার হাত দিয়ে বেরোয়, কখনো দু’একটা ভালো লেখাও হয়তো লিখি, কিন্তু লেখার টেবিলে গেলে-- দ্যাখো আমি এখনো মেয়েদের সঙ্গ পছন্দ করি, মেয়েদের সান্নিধ্য আমাকে উদ্দীপ্ত করে যদিও যৌবনের সেই উত্তাপ ও সক্ষমতা আগের মতন আর নেই, তবু লেখার টেবিলে গেলে এখনো পর্যন্ত যে আনন্দ পাই তা আর কিছুতেই পাই না।” প্রায় একই কথা শোনা গিয়েছিলো সুনীল গাঙ্গেপাধ্যায়ের কাছে। আমেরিকায় রয়ে যাওয়ার, সেখানে আনন্দফুর্তি করে জীবন কাটাবার ব্যাপক সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনিও লেখার ভেতরে যে আনন্দ পান তা আর কোনো কিছুতে পান না বলেই ফিরে এসেছেন। এরপরে তাঁর ইতিহাস আমাদের জানা। বিপুল জনপ্রিয়তাই নয়, বিরাট এক পরিশ্রমের (তাঁর সেই পরিশ্রমের কতটুকু জলে গেল, আর কতটুকু ডাঙায় উঠল-- এই নিয়ে কুতর্কে যোগ যারা দিতে চান তারা দিন) নাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

এই যে আনন্দ নিয়ে লেখা, সেই আনন্দটার অদ্ভুত দিক আছে। ক্ষতবিক্ষত জীবনের কাহিনী, রক্ত-অশ্রু-ঘামে মেশানো কাহিনী পড়ে আমরা আনন্দ পাই, এ একটা বিশেষ আনন্দ। করুণার এমন এক জল আমাদের সিক্ত করে দিয়ে যায়, যা আর কোনো কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়। তো লেখকরা এই বিশেষ আনন্দ নিয়ে যা লিখেন তা যদি আমাদের আনন্দ না দেয়, তো? এই আনন্দ তো চিন্তার আনন্দও। কারো কারো মতে, লেখা, সে যাই হোক না কেন, তা পড়ে যদি চিন্তা আলোড়িত না হল, তাহলে সে লেখা ব্যর্থ। যে লেখা পড়ে নানান আবেগ এসে জড়ো হয়, বা কান্না পায়-- সে লেখা লেখাই নয়। তদুপরি, সাহিত্যে চিন্তার চেয়ে আনন্দের ভূমিকাই বড় বলে বোধ করি। আবারও বলতে হয়, এ এক বিশেষ আনন্দ। সর্বোপরি এ আনন্দ বিস্তারের আনন্দ। মনকে, চিন্তাকে, অনুভূতিকে প্রসারিত করার আনন্দ। সেই আনন্দ ছোটগল্পের বেলায় যদি খাটো হয়ে যায়, সংকীর্ণ হয়ে যায়-- তাহলে?

ছোটগল্প তো কোনো ঘটনার প্রতিবেদন নয়, প্রতিবাদ বা বক্তব্য প্রকাশেরও মাধ্যম নয়, নাটকীয় মুহূর্ত তৈরিও নয়, চাবুক খাওয়া সমাপ্তির জায়গা নয়, এমন কি অসাধারণ গদ্যে লেখা হলো কিন্তু গল্প হল না-- এটাও বিবেচনায় এসে পড়ে। ছোটগল্প তো যেকোনো কিছু নিয়ে লেখা হতে পারে, চেখভ স্রেফ একটা আপেল নিয়েও গল্প লিখতে পারার কথা বলেছিলেন। আমাদের লক্ষ রাখা দরকার, ছোটগল্প তা যতই ওস্তাদিময় হোক, জীবনের গহীনভিতরের কাহিনী তুলে আনুক, দৈনন্দিন লড়াই সংগ্রামের বর্ণনা আনুক, তা যদি মনকে সংর্কীণ করে দেয়, জীবন সম্পর্কে তিতিবিরক্তিকে আরো বাড়িয়ে দেয়, সেই গল্পের আবেদন আসলে কতখানি? সেই গল্প কী বার বার পড়ার মতো? বুদ্ধদেব বসু ‘আনন্দের সাহিত্যে’র কথা বলেছেন, আমরা বলতে চাই সেই আনন্দ বিস্তার, প্রসারণের আনন্দ। ছোটগল্পে অবশ্য জীবনের ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতার কথা আসবে, এসেওছে হাজার বার, কিন্তু সেই তুচ্ছতার পরিচয় পেয়ে মনে এমন এক বৃহতের পরিচয় জেগেছে-- সেই পরিচয়ই ছোটগল্পের প্রসারণের জায়গা। আসল কথা এর লেখার ভঙ্গিতে, ভাষায়, অ্যাপ্রোচে জীবন যেন ক্ষুদ্রতার লক্ষণ থেকে বেরিয়ে আসে। ফলে বিন্দুর মধ্যে সিন্ধু, বিম্বের মধ্যে বিশ্ব, বৈশ্বিক অনুভবের সেই অতিপুরাতন কথাগুলোর দিকেই ফিরে যেতে হয়। লোকে আধুনিকতা খোঁজে, ‘অনেকবার করে বলা’কে একটু নতুন করে বলার চেষ্টা করলেও তাকে বুর্জুয়া, পেটিবুর্জুয়া চিন্তা বলে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করতে ছাড়ে না।

মূল্যবোধ ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে, বলেই মূল্যবোধের আর কোনো দরকার নেই, মূল্যবোধ নির্মাণেরও আর কোনো প্রয়োজন নেই, দায় নেই-- এইসব কথাই বরং দিন আসেছ রদ্দি হয়ে যাওয়ার। সব নষ্ট, ভ্রষ্ট, রসাতলে গেছে-- বলতে বলতে-- এই করতে করতে আমরা সর্বক্ষেত্রে মনুষ্যত্বের তুচ্ছতা, সংকীর্ণতাকেই তীব্র করে দেখে যাচ্ছি, দেখিয়ে যাচ্ছি। মনুষ্যত্বের সঙ্গে মহত্ত্বের সঙ্গে আর আমাদের কোনো যোগ নেই। ফুকো ঘোষণা করেছেন, মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আসলে এতকাল ‘মানুষ’ নামক ধারণায় আমরা যে-মানুষকে চিনতাম সেই মানুষ এখন বিলুপ্ত। তাহলে নতুন মানুষ? সেই মানুষকে আমরা এখনো সংর্কীণ করে দেখব? পরিপার্শ্বের হাজারো সংর্কীণতার ভেতর ছোটগল্পও সংকীর্ণতায় আক্রান্ত, না হয়ে উপায় কী। সংকীর্ণমনের বা মগজের যে-ব্যক্তিটি ছোটগল্প লিখছেন, তার কাছে, সেই বিস্তার-প্রসারণের যে আনন্দ ছোটগল্প এনে দিতে পারে-- সেই প্রত্যাশা করা বাতুলতা মাত্র। তার কাছে ছোটগল্প খাটোগল্পে পরিণতি পাবে-- এ কথা আগাম বলে দেওয়া যায়। যেখানে গদ্যটি খাটো (খাটো মানে ছোট ছোট বাক্যে লেখা গদ্যে নয়), বর্ণনাভঙ্গিটি খাটো, দৃষ্টি খাটো সর্বোপরি বোধটি খাটো। এই খাটো জায়গা থেকে বেরুতে হলে বিরাট রকমের খাটুনি চাই, পঠনপাঠন চাই,-- তা কজনে করতে রাজি? তবে এনিয়ে তর্ক হতে পারে। কিন্তু সাহিত্য তর্ক করে না, সৃষ্টি করে। পালটা কথা কেউ না কেউ বলতেই পারেন যে, সংকীর্ণমন ও মনন নিয়েও প্রসারিত জীবনকে ধরা যায়। অনেকে ধরেওছেন। তা যদি কেউ করতে পারেন তাও সই, কেবল সই-ই না, তাকে স্বাগতম, সুস্বাগতম জানাই; কিন্তু ছোটগল্পের নামে খাটোগল্প আর কাহাতক সহ্য করা যায়।

লেখক পরিচিতি

হামীম কামরুল হক
জন্ম: ২২ জানুয়ারি ১৯৭৩। চট্টগ্রামের বাংলাদেশে নৌবাহিনী উচ্চবিদ্যালয়ে লেখাপড়ার শুরু, সেখানে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে সিলেট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়া, ১৯৮৫ সালে। সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা সম্পন্ন। পেশা: একটি সরকারি প্র্রতিষ্ঠানের সহকারী সম্পাদক।
প্রকাশিত গ্রন্থ- উপন্যাস: রাত্রি এখনো যৌবনে (২০০৮), গোপনীয়তার মালিকানা (২০১০)। গল্পগ্রন্থ: শূন্যপরান ও অন্যান্য গল্প (২০১৩)। নভেলা সংকলন: গোলাপের সিঁড়ি (২০১২)।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন