শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৫

অথই নীলিমা'র গল্প : ধস

একদিন সবকিছু ধসে পড়ে যাবে...

বুড়ো ফকিরটা একই কথা সেই তখন থেকে বলে যাচ্ছিল। বিরক্ত হয়ে সরে আসল হাবিব কিন্তু পেছন পেছন বুড়ো ফকিরটাও আসতে লাগলো। ‘একদিন তো সব ধসে পড়ে যাবে, দুটো টাকা দাও না বাবা।” “ধসে যখন পড়েই যাবে তখন দুটো টাকা নিয়ে কি করবেন?” চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল হাবিবের কিন্তু কি মনে করে পকেটে হাত দিয়ে দুটো টাকা বের করে আনল। টাকাদুটোর সাথে সাথে একটা সিগারেটও হাতে ঠেকল ওর।
পকেটে যে একটা সিগারেট তখনও রয়ে গেছে জানা ছিল না কেন ভেবে মেজাজটা আরেকটু খারাপ হল। কিছুক্ষণ আগে প্রায় চেয়ে চেয়ে দোকানদারের কাছ থেকে ধারে একটা সিগারেট নিয়ে টান দিয়েছে সে, এমনিতেই বাকি পড়ে আছে শ দুয়েক টাকা দোকানে, তাই যতই চেনা হোক না কেন হাত পাততে লজ্জা লাগে বৈকি। পকেটের দুটো টাকা বুড়ো ফকিরটাকে দিতে দিতে বলল হাবিব, “এইভাবে মানুষের কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে না আপনার?” ম্লান হেসে বুড়োটা বলল, “লজ্জা-শরমের কথা ভাবলে তো আর বাঁচতে পারবো না রে বাবা!”

হাবিব উত্তর দেয়না। সিগারেটটা ধরায়। বাঁচতে পারার অর্থটা আসলে কি? এই গরমে ঘেমে নেয়ে সিগারেট খেতে খেতে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পার্টির জন্য অপেক্ষা করা? এই জন্যই কি কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়ে ছিল সাধাসিধে বাপটা ওর? এর চাইতে গ্রামে পড়ে থাকতো বাপ দাদাদের মতো জমি জমা চাষবাস করে দুবেলা তাও দুমুঠো খেতে পেত সেও অনেক ভালো ছিল... এখন তো ওর আমও গেলো ছালাও গেলো। বাপে চোখ বুজেছে ম্যালা দিন হল, গ্রামের জমিজেরাতও বেদখলে, ছোট ভাই আর বোনটা এসে জুটেছে ঘাড়ে, আর হাবিব একটা চাকরি জোটাতে না পেরে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরতে ঘুরতে পাড়ার রফিকের কুসঙ্গে পড়ে এখন পার্টির অপেক্ষায় রাস্তার ধারে বসে সিগারেট ফুঁকছে। ছোট ভাইটার কলেজ এই আশেপাশেই, একটু সতর্ক হয়ে চারপাশে তাকাল হাবিব। ও যে কোনও অফিসে চাকরি করেনা, বরং এইভাবে ড্রাগের ধান্ধা করে পেট চালায় এটা জানতে দেয়া যাবে না ভাইটাকে। ও কিছু করতে পারে নাই, ওর ভাইটা পারুক। এখন ওর স্বপ্ন দেখবার বয়স। ধাক্কা খাবার নয়।

“ সব কিছু ধসে পড়ে যাবে।” ওফ, কি শুরু করেছে এই পাগলা বুড়োটা! ধসে পড়বে তো পড়ুক, প্রথমে তোর মুখে পড়ুক হারামজাদা। ব্যাটার মুখে একটা লাত্থি বসাতে পারলে ভালো লাগতো হাবিবের। ধসে পড়ে যাবে ধসে পড়ে যাবে। শুনি ধসে পড়ার বাকি আছে টা কি? মানুষই তো ধসে পড়ে যাচ্ছে। নিজেকে দিয়েই বিচার করে হাবিব। আজ এই ঘর্মাক্ত তেল চিটচিটে চুল, সস্তা টিশার্ট, সোল-ছেঁড়া জুতো যা দিয়ে তার বুড়ো আঙ্গুল কেন কণে আঙ্গুলটাও পারলে বের হয়ে আসে এই রকম উড়োখুড়ো হাবিবকে দেখলে কে তাকে চিনতে পারবে ভার্সিটি আমলের সেই স্মার্ট ড্যাশিং মেয়েদের হার্টথ্রব হাবিবুর রাহমানকে? হাবিব তো তখন ছিল ওর সমসাময়িকদের রীতিমত চক্ষুশূল, ঈর্ষার পাত্র।মেয়েদের মধ্যে তো হাবিবের ডাক নাম ছিল হাব্বি। ন্যাকা ন্যাকা ওই মেয়েগুলোর ছ্যাবলামি দেখলে দারুণ আত্মতৃপ্তি পেত হাবিব। হাবিবের ক্রেজে ওর কোনও বন্ধুই মেয়েগুলোর কাছে পাত্তা পেতনা। আর হাবিব পাত্তা দিতো না মেয়েগুলোকে। যদিও ঢাকা শহরের এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে সে ঘুরতে যায়নি মেয়েগুলোর সাথে। এখনও চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারবে ও যে কোন রেস্টুরেন্টের পিজাটা অসাম কিংবা লেকের পাড়ের কোন ফুচকাতে ঝাল বেশি। নাহ, হাবিব মোটেও মেয়ে-নাচানি ছেলে ছিল না। মেয়েগুলো নিজেরাই নাচত হাবিবের জন্য। হাবিবের কোনও দোষ নাই। নাই তো। তবে কি না সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে মনের কোনও একটা জায়গায় খোঁচা ঠিকই লাগে হাবিবের- আশিক একবার বলেছিল, “এইভাবে চাচার টাকাগুলোর যে শ্রাদ্ধ করছিস মেয়েদের পেছনে, লেখাপড়াতেও একটু খরচ কর। পড়া তো কম জমে যায়নি। যেভাবে চলছিস তাতে পরীক্ষায় পাশ করতেও বড্ড বেগ পেতে হবে তোকে বলে দিচ্ছি।”

তা আশিক ভুল কিছু বলেনি। বাপ মারা যাওয়ার পর সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল হাবিব। বাপটা যে তার কত কষ্ট করে টাকা পাঠাতো! দু- একটা জমি বন্ধকও রেখেছিল ছেলের লেখাপড়াতে টাকা লাগবে ভেবে। সব দু-হাতে উড়িয়েছে ও। কখনও মেয়েদের পেছনে, কখনও বা বন্ধুদের সাথে সিনেমা হলে গিয়ে বাংলা সিনেমার স্বাদ নিতে। পড়াশোনা করেইনি একদম। পরীক্ষার পরপর বাপের মারা যাওয়ার খবর পেয়ে যখন সে গ্রামে গেলো, তখনই প্রথম আসল চিত্রটা সামনে এলো তার। ওই যে পাগলা বুড়োটা যে সবকিছু ধসে পড়ে যাওয়ার প্রলাপ বকছে, ঠিক সেভাবেই প্রায় সবকিছু ধসে পড়ছিলো তখন। যে বড় চাচাকে পিতৃতুল্য ভেবে এসেছিল হাবিব এতদিন, সম্পত্তির ব্যাপারে তাকেই দেখা গেলো সবচেয়ে কঠোর আর স্বার্থপর হতে। একে তো ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেছেন বাবা, তার ওপর মাথা গোঁজার যে একটা ঠাই মাত্র ছিল সেটাকেও বেশিদিন ধরে রাখা গেলো না। মায়ের বাপের বাড়ি থেকে আনা গহনা বেচে যে টুকু পাওয়া গেলো তাও গেলো ঋণের পেছনে। ঢাকা ফিরবার দিন ভোরবেলা মাকে পাওয়া গেলো অর্ধমৃত অবস্থায়, বিছানায় শুয়ে। মৃত্যুর আগে কেবল একটা কথাই বলতে পেরেছিল মা, “ভাইবোনদুটোকে একটু দেখিস।” তিনদিনের মাথায় বাবা-মাকে হারিয়ে ছোট ভাইবোনের হাত ধরে যখন ঢাকা ফিরল হাবিব জানতে পারলো আন-অফিসিয়ালি রেজাল্ট দিয়েছে। সেকেন্ড ক্লাস পেয়ে পাস করেছে সে। বন্ধুমহলে এটা নাক কুঁচকানোর মতো রেজাল্ট হলেও একটা স্বস্তি পেয়েছিল হাবিব যে সে অন্তত পক্ষে ফেল হয়নাই।

অবশ্য সে স্বস্তিও থাকেনাই বেশিদিন যখন সে আস্তে আস্তে বুঝতে পারছিল ঢাকার মতো একটা শহরে কপর্দকহীন অবস্থায় দুটো উঠতি বয়সের ভাইবোন নিয়ে বেঁচে থাকার সমস্যাটা আসলে কতটা ভয়াবহ। গ্রামে ফিরে যাওয়ার পথও পেছনে ফেলে এসেছে সে, আর যে রেজাল্ট তাতে কাউকে না ধরে চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়। এমন কেউ নেই যার পায়ে পড়েনি হাবিব। এমনকি ভার্সিটিলাইফের যে মেয়েগুলোর সাথে সে টাইম-পাস এফেয়ার করে বেড়িয়েছিল যারা কিনা হাবিবের পায়ে পড়েও হাবিবকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি তাদের কাছেও গিয়েছে হাবিব, পায়ে পড়েছে ক্ষমা ভিক্ষা করেছে কিন্তু কিছু হয়নি। বাপ-চাচাকে বলে চাকরির বন্দোবস্ত করা সম্ভব হলেও একবার চোখ তুলে তাকায়ওনি ওরা ঘেন্নায়। সত্যিই তো, একদিন সব ধসে পড়ে যায়, হাবিবের ক্ষেত্রে তো সেই কবেই গেছে, এখন নতুন করে কি ধসে পড়বে! কড়া করে আরকবার বুড়োকে ধমক লাগায় হাবিব।

পার্টি আসছে না কেন? চোখ কচলাল ও। পার্টি এলে হাবিবের তাকে নিয়ে যেতে হবে ওস্তাদের কাছে। এই হচ্ছে কাজ। এর চাইতেও বড় বড় কাজ অবশ্য একসময় করেছে হাবিব, কিন্তু একবার একটা স্ক্যাণ্ডাল করে ফেলেছিল সে, তারপর থেকে মাল হ্যান্ডেলিং এ আর হাবিবকে লাগায়না ওরা। যদিও দোষটা হাবিবের ছিল না।আগের রাতে পার্টি যে মাল দিয়েছিল সেই মালই ওস্তাদকে সকালবেলা দিয়ে এসেছিল হাবিব। কিন্তু ওস্তাদ বলল মাল নাকি কম আছে। আরও কয়েক পেটি থাকবার কথা ছিল। গুণতে গিয়ে হাবিবও বিষম খেয়েছিল। ও শিওর এসব ওই শিকদার হারামজাদার কাজ। ওস্তাদের কাছে হাবিবের মাল নিয়ে যাবার সময় কারচুপিটা করেছে সে। হাবিবকে পারলে বেরই করে দিতো ওস্তাদ, কিন্তু রেখে দিয়েছে কিছুদিনের জন্য। এমনিতেই হাবিব ওস্তাদের অনেক খবরাখবর জানে। কদিন পর ওস্তাদ এ এলাকা থেকে পাততাড়ি গোটাবে, যাবে নতুন জায়গায় নতুন নামে। তার আগে হাবিবকে ছাঁটাই করে দেবার রিস্ক নেবে না সে। যদিও পুলিশের সাথে ভাগ বাটোয়ারার বন্দোবস্ত পাক্কা করাই আছে, কিন্তু নতুন যে দারোগা এসেছে সে এখনও টোপ গেলেনি। হাবিবকে ছেড়ে দিলে সে যদি গিয়ে সব তথ্য দিয়ে আসে? অন্যখানে যাবার আগেই একবার জেলের ভাত খেতে চায় না ওস্তাদ।

পকেটের মোবাইল টা বেজে উঠলো হাবিবের। দুইটা মোবাইল ব্যবহার করে হাবিব। একটা বাসার জন্য, আরেকটা কাজের। এখন বাজছে বাসারটা। আঁখি করেছে। ছোট বোন। “কি রে, স্কুল শেষ নাকি?”

ওপাশ থেকে ফোঁপানির শব্দ ভেসে আসল। হাবিব বুঝতে পারলো না আঁখি কাঁদছে কেন। “কি হইসে, কাঁদছিস ক্যান?”

“ভাইয়া আজ বেতনের তারিখ ছিল...”

“জানি তো। টাকা তো কালই তোকে দিলাম। টাকা কই গেলো?”

“ছোট ভাইয়া নিয়ে চলে গ্যাসে। আমি এখন বেতন কিভাবে দিব?”

হাবিব বিরক্ত হল। রাহাত কেন আঁখির টাকা নিয়ে যাবে? “তুই বোধহয় কিছু ভুল করছিস। রাহাত যে এমাসের হাত খরচ চাইল সেটাও তো গতকাল দিয়ে দিসি ওরে। ও আবার তোর টাকা নেবে কেন?”

“সেটা আমি কি জানি? ওরেই জিজ্ঞেস করো না । আমার বেতনের কি হবে এখন?”

হাবিবের মাথা ভোঁ ভোঁ করতে থাকল। এখন সে টাকা পাবে কোথায়? বহুত কষ্ট করে ভাইবোনের মাস খরচ টা যোগাড় করেছিল এবার। এমনিতেই টাকা কম পাচ্ছে প্রতিমাসে। ইদানিং রাহাতের হাতখরচও বেড়েছে। গার্ল ফ্রেন্ড- টেন্ড জুটিয়েছে নাকি! হাবিব ভাবে। তবু মুখ বন্ধ করে যা চেয়েছে দিয়ে এসেছে সব। তবে আজ একটা বিহিত করতে হবে। আঁখির চাহিদা এমনিতেই কম, রাহাতকে এমনিতেও এতদিন আঁখির দ্বিগুণ হাত খরচ দিয়ে এসেছে হাবিব, এখন কি না বোনটার বেতনেও হাত দিচ্ছে সে! নাহ, এতোটা মেনে নেয়া যায় না...

ওপাশ থেকে আঁখির ফোঁপানি শুনতে পেল হাবিব... “এখন আমি কি করবো? এমনিতেই গতমাসের বেতন বাকি ছিল... এবার আর স্যার মানবেন না। ভাইয়া আমি কি করবো?”

চিন্তা করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে, আসছি আমি... বলতে চাইল হাবিব কিন্তু পারল না। পার্টি এখনও আসেনি। এখান থেকে নড়া যাবে না। আজ পার্টি এলে ওস্তাদের পায়ে পড়ে কিছু টাকা অ্যাডভান্স নিতে হবে। “তুই স্যার কে বলে দুটো দিন সময় চা। আমি দেখছি কি করা যায়।” বলল হাবিব। কিন্তু জানে না আসলেই কিছু করতে পারবে কি না। কি হচ্ছে এসব। এমনিতেই পথে বসা সে, নিচে নামবার আর জায়গা কই?

“সবকিছু ধসে পড়ে যাবে” বুড়োটা আবার ধুয়ো তুলেছে। আরেকজনের কাছে হাত পেতেছে। আর ধসে পড়া! বাকি রয়েছে টা কি ধসে পড়ার। আঁখির স্কুলের কি হবে? আজকাল তো অশিক্ষিত মেয়ে বিয়ে দেয়াও কঠিন। বিয়ে দিলে একটা ঝামেলা চুকত। ভাবার সাথে সাথে লজ্জিত হল হাবিব। এ কি ভাবছে সে। বোনকে বোঝা ভাবছে? সেই বোন যাকে কি না রাজকন্যার মতো মাথায় তুলে রাখত ছেলেবেলায়। সেই বোন যে কিনা মায়ের মতো তার কপর্দকহীন ভাইয়ের সংসারটা আগলে রেখেছে। মায়ের মতো- হ্যাঁ, ঠিক এমনটাই মনে হয়েছিল সেদিন যেদিন কি না হাবিব অনেক কষ্টে ছোট্ট একটা মাথা গুঁজার ঠাই যোগাড় করতে পেরেছিল ঢাকার মতো একটা শহরে। এক রুমের ছোট্ট বাসা, রাহাত তো শুরুতেই চেঁচাতে লেগেছিল থাকতে পারবে না এই ঘুপচি ঘরে এই বলে। কিন্তু আঁখি, একদম যেন মায়ের মতো ধীর-স্থির সে, কোনও প্রতিবাদ না, রাগ না, প্রথমদিন থেকেই লেগে গিয়েছিল ঘর সামলানোর কাজে, আজো সারাদিনের ক্লান্তি শেষে যখন এই ঘুপচি ঘরে ফিরে আসে হাবিব কেন যেন মায়ের কাছে ফিরেছি বলে মনে হয় ওর, ক্লান্তি ধুয়ে যায়, কিভাবে জানে না সে , আর এখন... স্বল্পে সন্তুষ্ট সেই বোনটাকে স্কুলে পড়বার বেতনটুকু পর্যন্ত দিতে পারছি না আমি! সামনের ইলেকট্রিক পিলারটাতে মাথা ঠুকতে মন চাইল হাবিবের।কি করছে সে? কি হচ্ছে এসব? নিজে তো নিচে নামছেই সাথে সাথে ভাইবোন দুটোকেও টেনে নিচে নামাচ্ছে।ভীষণ অপদার্থ মনে হতে থাকলো নিজেকে।আরেকবার ফোন দিবে নাকি আঁখিকে? একটু অভয় দেবে?পড়াশুনায় দারুণ ভালো বোনটা হয়তো কাঁদতে কাঁদতে স্কুলেই যাবে না আজ। ফোনটা করতে গেলো হাবিব কিন্তু তার আগেই দেখল পার্টির গাড়ি চলে এসেছে। “উঠে পড়।” ড্রাইভারের সিট থেকে আদেশ ভেসে আসলো। চেনা লোক।এর আগেও এসেছে কয়েকবার।কোডনেম তাই চাইল না হাবিবের কাছে। ফাঁকা মাথায় উঠে বসল হাবিব। কিছু সময়ের জন্য ভুলে গিয়েছিল সে কে। চিন্তার ঘোর থেকে বেরিয়ে আসে ও। কি যেন করতে হবে এখন? হ্যাঁ, সামনে বাঁয়ে কিছুদূর গিয়ে ডানে বাঁক নিতে হবে। তারপর মাইলখানেক গেলে একটা কোচিং স্কুল। তার ঠিক উল্টোপাশের চিকন গলি দিয়ে কিছুদূর গেলে ওদের অস্থায়ী আস্তানা। অস্থায়ী মানে ড্রাগ বিক্রি ঐখান থেকেই হয়। মেইন আস্তানায় পার্টিকে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। ওস্তাদ আজ এখানেই থাকবেন। হাবিব স্কুলের অদূরে গাড়ি থামাতে বলল। আশপাশ দেখতে দেখতে পার্টি মানে গোঁফঅলা মাস্তান টাইপ লোকটা বলল, “এই স্কুলে বেশ ভালোই কামাই হয়, নাকি?”

হাবিব মাথা ঝাঁকালো। আজকালকার ছেলেরা ভালোই চালু আছে, খুঁজে খুঁজে ঠিক বের করে কোথায় নেশার জিনিস পাওয়া যায়। কোচিং সেরে ঠিকই উল্টোদিকের গলির মধ্যে ঢুকে পড়ে ওরা। বেশ ভালোই বিক্রি হয় হেরোইন কোকেন এখানে। তবে এইখানে নেশা করতে দেবার নিষেধ আছে ওস্তাদের। কিনবার কাজ কিনবা, কিন্তু নেশা কইরা আমার দোকানের পাশে পইড়া থাকবার পারবা না। কিছুদিন আগে একবার স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছিল, পুলিশ নিয়ে রেড করেছিল। তবে কোনও প্রমাণ পায়নাই। অবশ্য পুলিশ বাবাজিরে আগেই কেনা হয়ে গেছিল ওস্তাদের। এ বাজারে সবদিক দেখতে হয়। তবে পোষাচ্ছে না, তারপরও। ওস্তাদ তাই এই এলাকা ছেড়ে পাততাড়ি গোটাবেন। পার্টির সাথে এই তার শেষ ডিল।

তখন হাবিবের কি হবে? ওস্তাদের সাথে পার্টির দেখা করিয়ে দিয়ে হাবিব ভাবতে বসল। বাসায় খাওয়াবে কি ভাই বোন দুটোকে? বাতাস? এদিকে আঁখির বেতনের জন্য ওস্তাদের কাছ থেকে অ্যাডভানস নিতে হবে, সেটা কি পাবে ও আদৌ? মাথা ঘোলাটে হয়ে আসতে লাগলো হাবিবের। হায়রে জীবন। কোথায় নেমেছে সে! আজ থেকে কয়েক বছর আগে কি সে কখনও ভাবতে পেরেছিল একদিন এভাবে ড্রাগ ডিলারের সাথে উঠতে-বসতে হবে হাবিবকে? নাহ, ভাবেনি, কল্পনাতেও আসেনি কোনদিন। অথচ সেটাই করছে আজ সে। প্রথম প্রথম যখন এ লাইনে এসেছিল অ্যাডজাসট করতে কষ্টই হয়েছিল ওর। ডিলিং এর সময় কোডনেম ব্যবহার করতে হবে, টাকা লেনদেনের সময় প্রথমে সাঙ্কেতিক নাম্বার দেয়া বিস্কিটের প্যাকেট দেয়ানেয়া করে পরিচয় পাকা করতে হবে,কোথাকার কোন ঝোপঝাড়-জংলা জায়গার মধ্যে মাসে একবার মিটিং করতে হবে- কি যে সব নিয়মকানুন,সিকিউরিটি, গোপনীয়তা! অনেক সময় লেগেছে মানিয়ে নিতে, তবে কাজ করেছে সে সততার সাথে।ওস্তাদের বিশ্বাসও সে অর্জন করতে পেরেছিল ধীরে ধীরে অথচ শেষে কি হল?শিকদার হারামজাদার কারণে এখন তাকে কি না সেইসব হাই লেভেল কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পার্টির গাইডের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে! শেম অন ইউ হাবিব, শেম অন ইউ... মনে মনে নিজেকে দোষারোপ করতে থাকল ও। আর ঠিক এমন সময় গোঁফঅলা লোকটাকে রেগে মেগে ওস্তাদের ঘর থেকে বের হয়ে আসতে দেখল । ধড়ফড় করে উঠে বসলো হাবিব। কিছু অশ্রাব্য গালিগালাজ ওস্তাদের উদ্দেশে ছেড়ে দিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো লোকটা। গোঁ গোঁ শব্দে গাড়ি চলে গেলে হাবিব মাল-বিক্রেতা ছোকরাটাকে জিজ্ঞেস করলো, “কি হইসে রে?”

“ওস্তাদের সাথে ফাটাফাটি। ঘুমায় গেছিলেন নাকি? কানে আওয়াজ যায়নাই?”

হাবিব সত্যিই শুনতে পায়নাই। চিন্তায় এমনই ডুবে ছিল সে। বেভুলের মতো মাথায় বাড়ি মারে একটা। ওস্তাদের ঘরের দিকে যেতে গেলে বাধা দিলো ছোকরাটা। “কই যান? এখন গেলে পুরাই মার্ডার হয়ে যাবেন।” হাত দিয়ে গলা কাটার ভঙ্গি করলো ও।

“কিন্তু আমার যে কিছু টাকার দরকার ছিল...”

“টাকা? আরে ডিল ক্যান্সেল মানে কি বুঝেন না? যেটুকু টাকা পাওনা আছে সময়মত পান কি না সেই দোয়া করেন।”

হাবিব কিছু বলতে পারলো না। এখন কি হবে? আঁখির বেতনের কি হবে? ঘর চালানোর টাকাটাই আঁখিকে দিয়ে দেবে নাকি? তাহলে খাবে কি? চোখ ঝাপসা হয়ে আসল। ওস্তাদের ঘরের দিকে তাও হাঁটতে থাকল সে। কিন্তু দু পা হাঁটতেই ফোন বেজে উঠলো। বাসার ফোনটাই। কিন্তু নাম্বারটা অজানা। কানে দিতে ওপাশ থেকে রাহাতের কলেজের প্রিন্সিপালের কণ্ঠ পেল হাবিব। এক্ষুনি যেতে হবে কলেজে। কি হয়েছে রাহাতের? বুক ধড়ফড় করতে থাকলো হাবিবের। এক্সিডেন্ট হয়েছে কোনও? নাকি পরীক্ষায় পাশ করেনি?ছাগল একটা, গার্লফ্রেন্ডের ফেরে পড়ে বুঝি পড়াশুনাটা মাথায় উঠিয়েছে হাবিবের মতোই! ভার্সিটি আমলে নিজের এমন হেলাফেলাকে কখনও গ্রাহ্যি করেনি হাবিব কিন্তু আজ তার ভীষণ জেদ হল।ভীষণ ভীষণ রাগ ধরল ওর। একদিকে এভাবে সে নোংরা জীবন যাপন করে যাচ্ছে ভাইবোনগুলোকে দাঁড় করাবার আশায় আর অন্যদিকে তার কষ্টের কথা ভাববার এতটুকু সময় নেই রাহাতের? দেদারসে টাকা ওড়াচ্ছে দু হাতে, বোনটার স্কুলের টাকা পর্যন্ত মেরে দিচ্ছে! একবার, কেবল একবার হাবিবের কথা না হোক বোনটার কথা ভেবে দ্যাখ। ওই ঘুপচি ঘরটার কথা ভেবে দ্যাখ বাপ মাএর স্বপ্নগুলোর কথা ভেবে দ্যাখ। একবার ইচ্ছে করে না বাঁচার মতো বাঁচতে রাহাতের? ভাই পারেনি, তার পারতে ইচ্ছে হয়না? গ্রামের ওই হিংসুক আত্মীয়গুলোকে দেখিয়ে দেবার জিদ হয়না? হাবিবের সব রাগ পড়ল গিয়ে রাহাতের ওপর। যাবে না সে, যাবে না কলেজে। দেবে না ঢুকতে রাহাতকে বাড়িতে দ্বিতীয়বার। তবু পা থেমে থাকল না। একরকম হেঁটে হেঁটেই কলেজের কাছে পৌঁছে গেল সে। রিক্সা নেবার কথা মাথায় এল না। প্রিন্সিপ্যালের দরজায় টোকা দিতে খুলে গেলো সশব্দে। ঘরের কোণায় কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে আছে রাহাত। মাথা নিচু, হাত জড় করা। হাবিবকে দেখে প্রিন্সিপ্যাল বসতে বললেন। নরম গদিওলা চেয়ারে প্রায় ডুবে যেতে যেতে হাবিব প্রিন্সিপ্যালকে বলতে শুনল, “এগুলো কি, চিনতে পারছেন?”

হাবিব ওনার হাতের দিকে তাকাল। কয়েকটা পুরিয়া। কিসের পুরিয়া এগুলো? চকিতে একবার দেখে নিল রাহাতকে। রাহাত নির্বিকার। তারপর তাকাল প্রিন্সিপ্যালের দিকে।তাঁর দৃষ্টিতে কঠোরতা। এগুলো... এগুলো প্রিন্সিপ্যালের কাছে এলো কি করে? হাবিব ঘামতে থাকল। তবে কি হাবিবের ড্রাগ-ব্যবসার কথা জেনে ফেলেছে প্রিন্সিপ্যাল? কিভাবে জানলো? এভাবে... এভাবে ভাইয়ের সামনে ধরা পড়বে হাবিব ভাবতে পারেনি কখনও। এখন কি হবে? ওর জন্য এখন কি ভাইটার পড়া বাদ হয়ে যাবে? একের পর এক চিন্তা মাথায় খেলতে থাকল হাবিবের মুহূর্তের মধ্যে। অথচ এই ভাইটাকে কত গালমন্দ করছিল মনে মনে সে এতক্ষণ। কত কি ভাবছিল সে। অথচ কি দেখা গেলো? দেখা গেলো এই যে হাবিবের নিজের জন্যই আজ রাহাতকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। ছিঃ। সব হাবিবের জন্য। বেঁচে থাকতে বাপ-মায়ের জন্য কিছু করতে পারেনি, বরং বাপ মা ওর জন্য কপর্দকহীন হয়েছেন, এখন ওর জন্য ওর ভাইবোনের জীবনও শেষের পথে! নিজের কাছে নিজেকে একটা ঘৃণ্য জীব বলে মনে হতে লাগলো হাবিবের। কি বলবে বুঝতে পারলনা, হাবিবকে নীরব থাকতে দেখে প্রিন্সিপ্যাল নিজেই বলে উঠলেন, “ রাহাতকে আর আমাদের কলেজে রাখা সম্ভব নয় হাবিবুর রাহমান সাহেব। উই আর সরি।”

হাবিব প্রায় নুয়ে পড়ল একেবারে। “না, স্যার একটু বিবেচনা করুন, আমার জন্য আপনি এভাবে আমার ভাইটাকে...”

“আপনার জন্য? আপনি সারাদিন অফিসে ব্যস্ত থাকবেন, ভাইটা কি করছে কার সাথে মিশছে পড়াশোনা করছে নাকি ড্রাগ নিচ্ছে সে খেয়াল রাখবেন না আর এখন আপনার ভাই বন্ধুদের ড্রাগ বিলাতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়বার পর আপনি মাফ চাইতে আসবেন? না, এ হয়না। এর আগেও কয়েকবার উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ধরা পড়েছে রাহাত, আপনাকে চিঠিও পাঠিয়েছিলাম আপনার ভাইয়ের হাতে, আপনি আসেননি। বোধহয় ভাই দেয়ইনি আপনার হাতে। আর না। আপনার ভাইকে নিয়ে যান, কোনও মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে দিন। এ কলেজে ওর কোনও জায়গা হবে না বলে দিচ্ছি।”

হাবিব চমকে উঠে তাকাল রাহাতের দিকে। রাহাতের কোনও ভাবান্তর নেই। চোখ লাল, চেহারায় একটা বেপরোয়া ভাব। রাহাত... রাহাত ড্রাগ এডিকট? হাবিব অস্ফুট স্বরে বলে উঠল... “রাহাত... তুই... তুই... ড্রাগ নিস?”

“নিই। কি করবা তুমি, হ্যাঁ? কি করবা? তোমার তাতে কি আমি ড্রাগ নিলে?হুম?” রাহাত কেমন অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকল। রাহাতের এরকম চেহারা আগে কোনোদিন দেখেনি হাবিব। প্রিন্সিপ্যালের ইশারায় সিকিউরিটি গার্ড দুটো রাহাত কে ধরতে চলে গেল। রাহাত তবু থামল না, বলতেই থাকল, “আমাকে ভাই আর কি বলবে। আমরা যদি না ড্রাগস নেই তাহলে ভাইয়ের বিজনেস চলবে কেমন করে? কি হল ভাই বল? চুপ করে আছো কেন?বল, উত্তর দাও?”

হাবিবে চমকে উঠলো আবারো। রাহাত তাহলে জানে! কিন্তু কি করে জানলো? তাহলে কি শিকদার নয়, রাহাতই ওর ব্যাগ থেকে কয়েক পেটি মাল সরিয়েছিল কয়েক হপ্তা আগে? অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে হাবিব তাকিয়ে থাকল রাহাতের দিকে। হাবিবের দৃষ্টির ভুল অর্থ বুঝলেন বুঝি প্রিন্সিপ্যাল। একটু নরম গলায় বললেন, “ও আবোল-তাবোল বকছে। বুঝছি কষ্ট হচ্ছে তবু মনটাকে শক্ত করুন। দেখুন আপনি যদি চান তাহলে আমি আপনাকে কাছের একটি নিরাময় কেন্দ্রের ঠিকানা দিতে পারি। আমি রাহাতের খারাপ চাই না। ওকে অনেকদিন ধরেই দেখছি, দু একবার হাতে নাতে ধরবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।আজ ধরতে পেরেই আপনাকে ফোন দিলাম।ইচ্ছে করলে পুলিশ ডাকতে পারতাম, কিন্তু ডাকিনি। ভেবেছি আপনাকে আগে বলা উচিত। হাবিব সাহেব আমার মনে হয় না বেশি দেরি হয়ে গেছে। সময় আছে, এখনি সামলান ওকে। নইলে আরও ভায়োলেনট হয়ে যেতে পারে সামনে। কার্ড টা কোথায় রাখলাম... এই যে, এই নিন নিরাময় কেন্দ্রের কার্ড। পারলে এখুনি যান, আমি এখান থেকে একজনকে পাঠিয়ে দিব আপনার সাথে রাহাতকে ম্যানেজ করবার জন্য। কি হল, কথা বলছেন না কেন? কি ব্যাপার, উঠে পড়ছেন যে? হাবিব সাহেব??হ্যাল্লো...”

হাবিব কিছু বললনা। বেভুলের মতো প্রিন্সিপ্যালের হাত থেকে কার্ডটা নিয়ে উঠে দাঁড়াল। রাহাত জানে! হাবিব যে ড্রাগ বিক্রি করে সংসার চালায় তা রাহাত জানে! শুধু যে জানে তাই না, ওই ড্রাগ রাহাত নিজেও নেয়! এসব- এসব হাবিব এতদিন জানতে পারেনি কেন! এ দিন দেখবার জন্য, এ দিন দেখবার জন্য এতোটা নিচে নেমেছিল হাবিব? হাবিব আর ভাবতে পারল না। দু হাতে মাথা চেপে ধরল। হাবিব এতোটা নিচে নেমেছিল কেবল ভাইবোনদুটোকে ওপরে ওঠাবার জন্য কিন্তু কি হল? ওর সব কষ্ট সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে শেষ পর্যন্ত তো ভাইটাও নিচে নামলো, হাবিবের মতোই নিচে! এখন কি হবে?কিভাবে সব ঠিক করবে হাবিব? রাহাতের চিকিৎসার খরচ কোত্থেকে জোটাবে হাবিব? আঁখির কি হবে? খাবে কি ওরা? টাকা পাবে কোথায়? হাবিব থমকে দাঁড়াল। প্রিন্সিপ্যালের নরম কণ্ঠ, রাহাতের চেঁচানি যেন সুদূর থেকে আসছে বলে হাবিবের মনে হতে লাগলো।ওর দু’কান যেন আর কিছু শুনতে পেলনা। দু’চোখ যেন কিছু দেখতে পেলনা। প্রচণ্ড আলোর মধ্যেও হাতড়াতে হাতড়াতে বাইরে যাওয়ার দরজাটা খুঁজতে থাকল ও। কোথায় দরজা, কোথায়? চারদিক এমন অন্ধকার নেমে আসছে কেন? তবে কি বুড়ো ফকিরটার কথাই ফলে যাচ্ছে অক্ষরে অক্ষরে?

ধসে পড়ছে সব। সব, সব কিছু...



লেখক পরিচিতি:

জন্ম রাজশাহীতে, ১৯৮৮ সালের ২৩ নভেম্বর। কথাশিল্পী মনিরা কায়েস ও কবি আবু হাসান শাহরিয়ারের একমাত্র কন্যা অথই নীলিমার শিক্ষাজীবন কেটেছে জুনিয়র ল্যাবরেটরি স্কুল, ভিকারুন নিসা নুন স্কুল ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে, প্রভাষক পদে। পেশা শিক্ষকতা ও গবেষণা হলেও নেশা তার বই পড়া এবং অনিয়মিতভাবে টুকটাক লেখালেখি করা। লেখালেখিতে হাতখড়ি মূলত শৈশবেই, ১৯৯২-৯৩ এর দিকে। ভোরের কাগজের ইষ্টিকুটুমসহ কিশোর পত্রিকা, ছোটদের কাগজ ও বিভিন্ন ছোটদের পাতায় বিভিন্ন সময় লেখালেখি করেছেন। "পড়াখেলা" নামে শিশুতোষ পত্রিকার ক্ষুদে সম্পাদক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছিলেন একদা, শিশুকালে। পরবর্তিতে পড়াশোনার চাপে লেখালেখিতে দীর্ঘ ছেদ পড়ে যায়। সুদীর্ঘ বিরতির পর গত কয়েক বছর ধরে অনিয়মিতভাবে নিয়মিত লেখালেখির চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। তাই তাকে আদৌ লেখক বলা যায় কি না এ ব্যাপারে অথই নীলিমা বড্ড বেশি সন্দিহান! পারি, রহস্যপত্রিকা ও অনলাইনে টুকটাক লেখালেখি করেছেন এর মধ্যে। লেখালেখির ক্ষেত্রে শিশুতোষ, সায়েন্স ফিকশন, রম্য ও রহস্য- রোমাঞ্চ গল্পের দিকেই তার ঝোঁক বেশি।



ই-মেইল: athoynilima@gmail.com




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন