সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৫

পড়ুয়ার নোট থেকে

সতীনাথ ভাদুড়ী

বিশ বছর আগে লোকে কথায়-কথায় Marcel Proust-এর নাম আওড়াত। তাঁর পনেরো খণ্ডে সমাপ্ত উপন্যাস ‘A la Recherche du Temps Perdu’ আজ অনেকেই পড়ে ফেলেছে বলে সে ফ্যাশন কেটেছে। তিনি আজ সেকেলে; কিন্তু পৃথিবীর সাহিত্যের উপর তাঁর প্রভাব আজও শেষ হয়নি। জীবনের আপাত-তুচ্ছ ঘটনাগুলোর উপর এত গুরুত্ব, তাঁর আগে আর কেউ দেননি।
সেগুলোর সঙ্গেও যে মানুষের মন জড়ানো, আমি মেশানো। আমার মন বাদ দিয়ে কোন জিনিসের বা ঘটনার কী মূল্য? অনুভূতির মিষ্টি রঙে রাঙাতে পারলে ছাইমাটিও সোনা হয়ে ওঠে। দৈনন্দিন জীবনের তুচ্ছ জিনিসগুলোও সাহিত্যের দরবারে আর অপাঙক্তেয় থাকে না। তখন সাহিত্যিকের কাজ হয়ে ওঠে আরও কঠিন। কোনটুকুকে বাদ কোনটুকুকে রাখবে সাহিত্যের মালমসলা হিসাবে, লেখকের এই সনাতন সমস্যায়, আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্দর্শনের দরকার হয়। কারণ তথাকথিত তুচ্ছ ঘটনাগুলি রসের উৎস বলে মেনে নিতে পাঠকের মনে একটা স্বাভাবিক বিরোধ আছে। Proust—এর চেয়ে কম প্রতিভার সাহিত্যিকরা পাঠকের মন ধরে রাখবার জন্য, লেখকদের জানা কতকগুলি পাঠক-ঠকানো কৌশলের সাহায্য নেন। Zola-র পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেওয়া লেখার মধ্যে কোন জিনিসের ভেজাল, তা সূক্ষ্ম পাঠকরা সেই সময়ই ধরে ফেলেছিলেন। পাঠকের কৌতূহল বজায় রাখবার জন্য Proustকিন্তু সে পথ মাড়াননি। আপনা থেকে সে সব জিনিস যখন নিজ মূল্যে এসে গিয়েছে, তখন অবশ্য তিনি সেগুলোকে বাদ দেননি। দিলে তাঁর মনের আড়ষ্টতাই প্রমাণিত হত। কোন বিষয়ের তুচ্ছতা বা গুরুত্ব আমাদের আরোপ করা জিনিস—কতকটা মতামতের ব্যাপার। কিন্তু তুচ্ছতম জিনিসের আড়ালেও কত রহস্য আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। সেই সব রহস্যগুলোর উপর নানা দিক থেকে সন্ধানী আলো ফেলে, তিনি তুলে ধরেছেন আমাদের চোখের সম্মুখে। এই রহস্যের সন্ধানই আমাদের কৌতুহলকে জাগ্রত করে রাখে। নিছক বিশ্লেষণ নয়; আবার শুধু ভাবানুষঙ্গগুলোকে প্রকাশ করাও নয়; তাঁর লেখার সমগ্র রূপ এ দুইয়ের উর্ধ্বে। নইলে একটার পর একটা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণে আমাদের মন হাঁপিয়ে উঠত।

অভিনব এই রস। পাঠকের সবচেয়ে আনন্দ নিজেকে আবিষ্কারের। অল্প বয়সে দাগ দিয়ে-দিয়ে পড়া বই আবার বেশি বয়সে পড়লে এক রকম হয় না? মার্জিনে নিজের হাতের লেখা Very important—টুকুকে পাশের শেকস্পিয়ারের লাইনগুলোর চেয়েও ভালো লাগে। আসলে কিন্তু আমি তখন ঐ লেখাটুকু ভালো-লাগালাগির উর্ধ্বে উঠে যাই। কী যেন অন্য একটা জিনিসের পরশ পাই। বোধ হয় অনেক বছর আগেকার আমির একটা নৈর্ব্যক্তিক সত্তার। পুরনো অথচ অভিনব এক মিষ্টি রসে আমার মন ভরে ওঠে। Proustহয়তো ভেবেছিলেন, নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলোকে তুলে ধরেছেন পাঠকদের সম্মুখে। কিন্তু পাঠকদের বুঝবার ও নেবার ক্ষমতার ভিত্তি যে সব সময়ই তাদের নিজের-নিজের অভিজ্ঞতা। চেষ্টা করে, একজন জন্মান্ধকে লাল আর নীলের পার্থক্য কী কেউ কোন দিন বোঝাতে পারে?

ছবি দেখবার সময় সৌন্দর্যপিপাসু লোকে সমগ্র রূপটাই দেখে; খুঁটিয়ে দেখতে চায় না। সমস্ত ছবিটাই তার চোখের সম্মুখে পড়ে কীনা প্রথম থেকে। কিন্তু বই পড়বার সময় পাঠক প্রথম থেকে সমগ্র রূপটা দেখতে পায় না। খণ্ড থেকে সমগ্রে পৌঁছাতে হয়। দর্শকের থেকে পাঠকের ধৈর্য তাই অনেক বেশি। কথাশিল্পীর এতে অসুবিধার চেয়ে সুবিধা অনেক। পাঠকের মন তয়ের করে নেবার তিনি সুযোগ পান প্রচুর। ভাবানুষঙ্গ, সূক্ষ্ম অনুভূতি-আশ্রয়ী স্মৃতি, বিশ্লেষণ ও বিবরণের মধ্যে দিয়ে Proustসেই সুযোগের যথাযথ যথাসম্ভব সদ্ব্যবহার করেছেন। কিন্তু প্রথমের দিকে পাঠক সে কথা ঠিক বুঝতে পারে না।
বিবরণের ঢিমে তেতালা গতি, থেমে চলা, জেদি মাছির মতো ফের পুরনো জায়গায় ফিরে আসা, অন্তহীন বর্ণনা ও বাগবিস্তার, বহুপদ-সমন্বত অতি দীর্ঘ বাক্যাবলী প্রভৃতি দেখে পাঠক একটা বিরোধ নিয়ে বইপড়া আরম্ভ করে।পরে কয়েক খণ্ড পড়বার পর কখন থেকে যেন, পাঠকের মন নিজের গতি ভুলে, গল্পের মৃদু স্রোতে গা এলিয়ে দেওয়াটাকে উপভোগ করে। পড়তে-পড়তে তখন মনে হয়, প্রতি বিষয়ের উপর তাঁর এত বলবার আছে যে, বহুপদ-সমন্বিত, বিশেষণখচিত দীর্ঘ বাক্যাবলী না-হলে বুঝি তা প্রকাশ সম্ভব হত না। ভুলে যেতে হয় যে, ছোট-ছোট সরল বাক্যেও এই কথাগুলিই বলা যেত, এবং বলতে পারলে আরও ভালো লাগত পাঠকের।
Faulkner—ও লেখার হৃদয়ে প্রবেশ করতে দেবার আগে, তাঁর এক-নিঃশ্বাসে বলে যাওয়া দাঁতভাঙা কথার বিস্তার ঘটান, পাঠককে অভ্যস্ত করিয়ে নেন। Meredith-ও তা-ই করে নিতেন। নিজের বদভ্যাস পাঠককে সইয়ে নেবার সাহস ও ক্ষমতা ক’জন লেখকের আছে? শিক্ষাদীক্ষা দিয়ে নিজের লেখার পাঠক নিজে তৈরি করে নেওয়া কি সহজ কাজ! কবিরা এ বিষয়ে গদ্যলেখকদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকেন।

তবু ‘A la Recherche du Temps Perdu’ পড়বার পর ধারণা জন্মায় যে বইখানি যেন চমৎকারিত্বে পূর্ণ অনেকগুলি মুহূর্তের যোগফল। ঐ মুহূর্তগুলির ব্যাপ্তি অনুভূতির রঙে রাঙিয়ে বিস্তৃত করে দেওয়া হয়েছে। লেখকের কৃতিত্ব যেন উচ্ছ্বল মুহূর্তগুলিকে বাছায়, সাজানোতে, তার বিস্তৃতি বাড়ানো—কমানোতে। এই রকমের লেখায় সাধারণত লেখকের দৃষ্টি থাকে, যাতে এক পুর্ণ মুহূর্ত থেকে আর-এক পূর্ণ মুহূর্তে যাবার সময় পাঠকের মন ঝাঁকানি না-খায়। গাঁথুনি আর জোড়ের দাগগুলো যেন হঠাৎ দেখলে বোঝা না-যায়। Proust—এর কৌশল আলাদা। তিনি ঝাঁকানি খাইয়ে-খাইয়ে মনকে পুরনো মুহুর্তে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। গাড়ির ঝাঁকানিতে কিছুক্ষণের পর যেমন ঘুম আসে, এ বেলায়ও হয় তেমনি। গতির ছন্দ আয়ত্ত হয়ে গেলেই ঝাঁকুনি থেকে আরাম পাওয়া যায় দোলনের।

আর-এক রকমের উপন্যাস আছে, যাতে বিশেষ মুহুর্তগুলোর উপর গুরুত্ব কম। পাথর জুড়ে-জুড়ে ইমারত খাড়া করা হয় না সে ক্ষেত্রে। একটা সমগ্র পাহাড় কুঁদে, বাহুল্যটুকুকে বাদ দিয়ে, শুধু ইমারতের অংশটুকুকে রাখা হয়—অজান্তা, ইলোরার গুহাগুলোর মতো।

এই দুই শ্রেণীর উপন্যাসের মধ্যে দ্বিতীয়টি যে প্রথমটির চেয়ে ভালো, এমন কোন কথা নেই। একই জিনিস, একই চেষ্টা, আকর্ষণও প্রায় এক—শুধু একটু জোর দিয়ে বলার (emphasis) পার্থক্য। দুটোরই সমগ্র রূপ রয়েছে---একটা চোখের সম্মুখে, আর-একটা একটু আড়ালে।

যখনই মনে-পড়াগুলোকে নিয়ে কোন লেখা চোখে পড়ে, তখনই ভাবি যে, এর জন্য নতুন একটা বিরামচিহ্ন কেন এখনও সৃষ্টি হল না। প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়-চিহ্ন, দৃষ্টান্তচিহ্ন বা উদ্ধারচিহ্নের মতো, মনে পড়া বা নীরব চিন্তা বোঝবার জন্য একটা চিহ্নের এখন দরকার হয়ে পড়েছে ভাষায়। এই চিহ্নগুলির ব্যবহারের কম কথায় বেশি বলা যায়—শর্টহ্যান্ড লেখার মতো। পাঠকেরও বুঝতে সুবিধা, লেখকেরও বোঝাতে সুবিধা।

বাংলা গদ্যে আগে একটা দাঁড়ি চিহ্ন ছাড়া আর কোন ছেদচিহ্ন ছিল না। পরে প্রয়োজনবোধে আমরা বিদেশি ভাষা থেকে বহু বিরামচিহ্ন বাংলায় নিয়েছি। আর একটা বাড়াতে দোষ কী? মুশকিল হচ্ছে যে এই ‘স্মরণ বা চিন্তনচিহ্ন’ কোন বিদেশি ভাষাতেও নেই। অথচ এর দরকার সব ভাষাতেই। মনে পড়া বোঝাতে গিয়ে এক-একজন লেখক এক-এক রকম চিহ্ন ব্যবহার করেন। একই লেখক চিন্তন বোঝাতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন-ভিন্ন চিহ্ন ব্যবহার করেছেন, তা-ও দেখা যায়। এই একই উদ্দেশ্যে কেউ ব্যবহার করেন ‘ড্যাশ’, কেউ ‘বন্ধনীচিহ্ন’, কেউ ‘উদ্ধারচিহ্ন’, কেউ বা শুধু কয়েকটি বিন্দু। এর অসুবিধা হচ্ছে যে যে লেখক এক ভেবে চিহ্ন দিলেন, পাঠক হয়তো তার অন্য অর্থ করল। একজন লোক ভাবছে, এই কথা বোঝাতে গিয়ে লেখক হয়তো চিন্তা-রাশির আগে ও পরে অনেকগুলি বিন্দু-চিহ্ন দিলেন। পাঠক হয়তো সেগুলোকে ‘বর্জনচিহ্ন’ হিসাবে নিল। আর লেখার মধ্যে বর্জনচিহ্ন হিসাবে ব্যবহৃত ড্যাশ বা বিন্দুসমষ্টিকে পাঠকেরা চিরকাল একটু সন্দেহের চোখে দেখে।

কোন একটি চরিত্রের মনে-মনে ভাবা চিন্তাগুলোকে যখন আর সাহিত্য থেকে বাদ দেওয়া যায় না, তখন এর জন্য একটা নতুন চিহ্ন সৃষ্টি করা ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। এর দরকার বোধ হয় দিন-দিনই বাড়বে। ‘সে ভাবিতে লাগিল’, ‘তাহার মনে পড়িল’, কিংবা অনুরূপ কোন পদ বার বার চোখে পড়া, পাঠকের পক্ষেও বিরক্তিকর। ফরাসিদের মতো সাহিত্যপ্রেমী ও যুক্তিবাদী জাতি কেন এ রকম ছেদচিহ্নের সৃষ্টি নিয়ে মাথা ঘামায়নি জানি না। এই উদ্দেশ্যে কোন স্বীকৃত চিহ্নের প্রথম প্রচলন করে যে-কোন ভাষা আজ পৃথিবীর অন্য-ভাষীদের পথ দেখাবে। বাংলার এ এক সুযোগ।

‘চিন্তনচিহ্ন’ না-থাকার একটা ফল দেখা যাচ্ছে ভাষার উপর। এক রকম লিখনশৈলীর প্রচলন হতে আরম্ভ হয়েছে, যেখানে লেখকের বিবরণ, পুস্তকের কোন চরিত্রের মনে-মনে ভাবা কথা ও সেই চরিত্রের মুখে প্রকাশিত কথা, সবগুলো একনিশ্বাসে বলে যান লেখক। স্পষ্ট উল্লেখ থাকে না কোনটা কী; আভাস-ইঙ্গিতে বুঝে নিতে হয়। একটা থেকে আর-একটায় যাবার সময় যাতে পাঠক হোঁচট না-খায়, সেদিকে লেখকের নজর থাকে। যেমন ধরুন, লেখক লিখলেন—

এ গল্প আমার শোনা নরেনের মুখে। বিশ বছর আগেকার তার প্রেমের কাহিনী। এক কিশোরীর সঙ্গে। এখনও সেই কিশোরীটির কথা বলতে গেলে তার চোখে জল আসে। কী মিষ্টি ছিল তার মুখের হাসিটি। আছে না এক-একটা মেয়ে? না-হেসে কথা বলতে পারে না? হাসি ছাড়া তাদের যেন ভাবতেই পারা যায় না। ইত্যাদি...এই প্যারার মধ্যে প্রথম চারিটি বাক্য লেখকের দেওয়া বিরবরণ। পঞ্চম বাক্যটি নরেনের মনে-মনে ভাবা কথা। তার পরের বাক্যগুলো নরেনের বলা কথা।

যত চমৎকারিত্বেই ভরা হোক না কেন, একটানা চিন্তা সব সময়ই পাঠকের একঘেয়ে লাগে। তাই লেখকদের এই বৈচিত্র্যের চেষ্টা।

উপন্যাসের আদিযুগে উত্তমপুরুষে লেখারই প্রচলন ছিল; অর্থাৎ একটি চরিত্র নিজের জবানিতে গল্প বলে যেত। এ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা বুঝতে পেরে লেখকরা দ্বায়িত্ব নিলেন সর্বজ্ঞ হবার; অধিকার নিলেন প্রেমিক-প্রেমিকার শোবার ঘরে ঢুকবার। ফলে পাঠক লেখকের কাছ থেকে অনেক বেশি আশা করতে শিখল। লেখক যখন সকলের আচরণ ও মনের অন্ধিসন্ধি জানেন, তখন কোন বিষয় অনুল্লেখের দ্বায়িত্ব তাঁরই; এই হল পাঠকের যুক্তি। কিন্তু যেখানে একটি চরিত্রের জবানিতে কোন গল্প বলা হয়, সেখানে পাঠকরা অপেক্ষাকৃত ক্ষমাশীল ও উদার লেখকের প্রতি। যার জবানিতে গল্পটি, তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আড়ালে বা অজুহাতে লেখকের ত্রুটি কিছু পরিমাণে ঢাকা পড়ে যায়। এ সব ক্ষেত্রে লেখককে একজনের চোখ দিয়ে সমস্ত ঘটনাবলী দেখতে হয়—সব রকম সম্ভাব্য দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। কাজ এখানে অপেক্ষাকৃত সহজ। লেখকের মন নানাদিকে বিক্ষিপ্ত হবার অবকাশ পায় কম। সেই জন্য একজন চোরের মুখ দিয়ে যীশুখ্রিস্টের মৃত্যুবিবরণ দেওয়া, লেখকের পক্ষে অপেক্ষাকৃত সহজ। আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস লিখে Proust এই সুবিধাটি পেয়েছেন। লেখক নিজেই এখানে গল্পের কেন্দ্র। তাই লেখক হিসাবে Proust-এর ত্রুটিগুলোকে, কিছু পরিমাণে মানুষ Proust এবং গল্পের নায়ক Proust-এর রুচি-অভিরুচির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বলে ভাবতে পাঠকরা ভালোবাসে। তবু মন নিয়ে লেখা বইয়ে, মনের চেয়ে মনন বেশি থাকলে সেটা যে লেখার দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়, এ কথা পাঠকরা চেষ্টা করেও ভুলতে পারে না।

অনেককে বলতে শুনি যে, লাগামছাড়া চিন্তাগুলিকে নিয়ে উপন্যাস লিখবার চলন নাকি মনঃসমীক্ষণ শাস্ত্রের প্রভাব, সাহিত্যের উপর, কিন্তু পড়লেই বোঝা যায় যে এই সব অসংলগ্ন চিন্তাগুলো বেশ চেষ্টা করে সাজানো। অসংলগ্নতাটুকু কৃত্রিম। ঔপন্যাসিক বুঝতে পেরেছেন যে, এই ধরনের লিখলে, তিনি অনেক বাইরের কথা ঢোকাতে পারেন লেখার মধ্যে, যা তা না-হলে সম্ভব হচ্ছিল না। Balzac, Tolstoy—এর লেখার মধ্যেও এমন অনেক ছোট-ছোট ঘটনা আছে যা মূল আখ্যায়িকার পক্ষে ঠিক প্রাসঙ্গিক নয়। উদ্দেশ্য সকলের এক না-হলেও, এ প্রয়োজন ঔপন্যাসিক মাত্রেই হয়। হঠাৎ-আসা অসংলগ্ন চিন্তাধারার মধ্যে দিয়ে লেখকরা নানা রকম প্রসঙ্গ বইয়ের মধ্যে ঢোকাবার একটা নতুন হাতিয়ার পেয়েছেন। মনঃসমীক্ষণের সঙ্গে এর সম্বন্ধ যদি বা কিছু থাকে, তা অত্যন্ত অপ্রত্যক্ষ। শুধু মনঃসমিক্ষণ কথাটি, পাঠকদের ভ্রূকুঞ্চনের হাত থেকে বাঁচবার একটা পলকা আড়াল দিয়েছে মাত্র, লেখককে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন