বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৫

নোবেল পুরস্কার ২০১৫ নিয়ে অলাত এহসানের প্রবন্ধ

স্ফেতলানা আলেকসিয়েভিচ : যাতনা ও গুমোট দিনের ভাষ্যকার

আধুনিক সাহিত্যের কেন্দ্রবিন্দুর বিষয় যে ব্যক্তি মানুষ, তা আর কাউকে স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ব্যক্তিমানুষের ভেতর দিয়ে উঠে আসে সমাজ ও সময়েরই কথন। তাই, অবশ্যম্ভাবীভাবেই এর মধ্যে ইতিহাস-রাজনীতি-অর্থনীতি এবং, অবশ্যই, সাহিত্যের সুষমা যুক্ত থাকে। যে কারণে সাহিত্য কে নোবেল পেলেন না-পেলেন, এ নিয়ে বিশ্বে হিসেব-কেতাব কম হয় না। তার একটা বৈশ্বয়িক কারণ এ-ও হতে পারে যে, সৃষ্টিশীলতার দিকে দিয়ে কারা বিশ্বে এগিয়ে আছে তারও একটা স্বীকৃতি তৈরি হয়। যে কারণে যিনি সাহিত্যিক পুরস্কার পেলেন তার সাহিত্য নিয়েও বিচার-বিশ্লেষণের অন্ত নেই। গত বছর যখন প্যাত্রিক মাদিয়ানো সাহিত্যে নোবেল জয়ের পর, রাজনৈতিকভাবে তখন বলা হয়েছিল—প্রচ্ছন্ন ভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাশক্তিধর রাষ্ট্রের ভূমিকা ও জয়ে মালিকানাকেই সামনে নিয়ে আছে হয়েছে। সেই বিচারে এ বছরের সাহিত্যে নোবেল জয়কে কী বলা যেতে পারে? এজন্য আমাদের এবারের নোবেল জয়ির সাহিত্য ও জীবনের নিগূঢ় খতিয়ে দেখতে হবে।

নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর যখন আমাদের কাছে এসে পৌঁছে, তার আগেই এ নিয়ে জুয়াড়িদের উৎসব শুরু হয়ে যায়। বিজয়ীর নাম নিয়ে মিলিয়ন পাউন্ডের বৈধ-অবৈধ জুয়ারির আসর বসে। বৈধদের মধ্যে এদিক দিয়ে ব্রিটিশ বেটিং হাউস ল্যাডব্রোকেস একধাপ এগিয়ে। প্রতিবারই মহা-আড়ম্বরে বাজির আসর বসায় তারা। টিয়ে দিয়ে ভাগ্য গণনার মতো ল্যাডব্রোকেস জহুরিরা বিশ্বসাহিত্য থেকে বেছে বেছে সম্ভাব্য গোটা ২০ জন সাহিত্যিকের নাম লিখা কার্ড খামে ভরে ছড়িয়ে দেয় সবার সামনে। এর মধ্যে কয়েকটি মাত্র থাকে তাদের টার্ম-কার্ড। তাদের বিচারের অবশ্য ভিত্তিও থাকে। তাছাড়া ধারণা করা হয়, দাবার আড়াই কোর্টের বাঁধা ঘোড়া কোর্ট এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিতে লবিং করতেও পিছ পা হয় না। যে কারণে নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে আগাম লিখতে গিয়ে সবাই তাদের কার্ডগুলো একবার হলেও খুলে দেখেন। বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সাহিত্যে নোবেল প্রতিযোগিতের নামভুক্তি শুরু হলেও সেপ্টেম্বরের এসে তা বাজির স্নায়ুচাপে পরিণত হয়। ল্যাডব্রোকেস বরাবরই এ সময়ই সম্ভাব্য নোবেল জয়ীর নামে দাবার কোর্টে বাজির ঘোড়া নামিয়ে দিয়ে লেজ ধরিয়ে দেন জুয়ারিদের হাতে। বেশ কয়েক বছর যাবৎ ভাগ্যের ছিঁকে না ছিড়লেও এবার তারা বাজিমাত করেছে। অনেকের কাছে সাহিত্যের বিচারে পিছিয়ে থাকলেও, গত ৮ অক্টোবর ঘোষিত নোবেল পুরস্কার ল্যাডব্রোকেসের বাজির তালিকায় একেবারে উপরে থাকা মানুষ বেলারুশের সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক স্ফেতলানা আলেকসিয়েভিচ জিতেছেন।

সাহিত্যে ১১২তম নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করার সময় সুইডিশ একাডেমির প্রধান সারা দানিউস বলেন, ‘আলেকসিয়েভিচ তার অনন্যসাধারণ লেখনীশৈলীর মাধ্যমে সতর্কভাবে বাছাই করা কিছু কণ্ঠের যে কোলাজ রচনা করেছেন, তা পুরো একটি যুগ সম্পর্কে আমাদের বোধের জগৎকে নিয়ে গেছে আরো গভীরে।’ আমাদের তখন মনে করতে হয়, স্ফেতলানা অ্যালেক্সিভিচের ৪০ বছর কেটেছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার পরের সময়ের অসংখ্য মানুষের জীবন কাহিনী শুনে। মূলত এখানেই অ্যালেক্সিভিচের সাফল্য। ৬৭ বছর বয়সী স্ফেতলানা আলেকসিয়েভিচ হলেন চতুর্দশ নারী, যিনি সাহিত্যে নোবেল পেলেন। তাছাড়া তিনিই প্রথম সাংবাদিক, যিনি সহিত্যের সবচেয়ে সম্মানজনক এ পুরস্কার পেলেন। আবার, ১৯৮৭ সালে কবি-প্রাবন্ধিক জোসেফ ব্রোদস্কির পর প্রায় ২৯ বছরের ব্যবধানে আরেক রুশভাষী লেখক স্ফেতলানা আলেকসিয়েভিচ এবারের নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হলেন। নোবেল কমিটির ভাষায়, ‘for her polyphonic writings, a moument to suffering and courage in our time.’ (তার বহুস্বরিক লেখায়, আমাদের সময়ে যাতনা আর সাহসিকতার সৌধ)জন্য স্ফেতলানা আলেকসিয়েভিচ এ পুরস্কার পেলেন।

সাহিত্য সম্পর্কে স্ফেতলানা অ্যালেক্সিভিচের বক্তব্য হলো, ‘আপনি যদি সোভিয়েত ও সোভিয়েত-উত্তর সমগ্র ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকান, এটা একটা কবরখানা আর রক্তাক্ত প্রজন্মের ইতিহাস। রাষ্ট্রীয় ঘাতক আর আক্রান্তের মধ্যে আন্তঃসংলাপ। রাশিয়ার সেই জঘন্য প্রশ্ন : কি করতে হবে এবং কে অভিযুক্ত হবে। বিপ্লব, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ মানুষের কাছে লুকায়িত। এটা আসলে বিশাল সাম্রাজ্যের পতন, দানবীয় সমাজতান্ত্রিক ভিত্তির পতন, কল্পরাজ্যের পতন এবং আজকের দিনে যা মহাজাতিক চ্যালেঞ্জ—চেরনোবিল। আমাদের ইতিহাসের মতোই এটা বিশ্বের বসবাসকারী সব প্রাণির জন্য চ্যালেঞ্জ। এবং এটাই আমার বইয়ের থিম, এটাই আমার পথ, নরকের আবর্ত, মানুষ থেকে মানুষে।’ কিন্তু সাহিত্য নিয়ে লেখিকা জীবন ও সময় ঘনিষ্টতার যে বয়ান দিন না কেন, বলার বিষয় হলো, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটে দেয়া এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১২ ভাগ মানুষ স্ফেতলানা অ্যালেক্সিভিচের সাহিত্য পড়েছেন। অর্থাৎ অনেক অনাবিষ্কৃত সাহিত্যিককে এই পুরস্কারের জন্য খুঁজে বের করার জন্য নোবেল কমিটি—নন্দিত ও নিন্দিত—উভয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টা সমানের আসতো না, যদি না এবারের বিবেচ্যদের তালিকায় শক্তিশালী সব লেখকরা না থাকতেন। তাদের প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি। তবে মজার ব্যাপারট হলো, শেষ ছয়জন নোবেল জয়ি নারীর দিকে তাকালে দেখা যায়, দুই বছর অন্তর অন্তর তারা এ পুরস্কার পেয়েছেন। অর্থাৎ আফ্রিকান নাডিম গার্ডিমার (১৯৯১) থেকে আমেরিকান টনি মরিসন (১৯৯৩); ব্রিটিশ ডরিস লেসিং (২০০৭) থেকে ম্যাক্সিকান হার্তা মুলার (২০০৯) এবং কানাডার এলিস মুনরো (২০১৩) থেকে বেলারুশের স্ফেতলানা (২০১৫) ওই ছকে বাঁধা পড়েছেন। এবার তবে সদ্য নোবেল জয়ির ঠিকুজি পাঠ করা যাক।

১৯৪৮ সালের ৩১ মে ইউক্রেনের ইভানো-ফ্রাঙ্কোস্ক শহরে জন্ম স্ফেতলানা আলেকসিয়েভিচ। তার পুরো নাম স্ফেতলানা আলেক্সান্দ্রভনা আলেকসিয়েভিচ (Svetlana Alexandrovna Alexievich)। তার বাবা ছিলেন বেলারুশের ও মা ইউক্রেনের বাসিন্দা। সেনা সদস্য পিতা অবসর নেয়ার পর সয়েতলানার পুরো পরিবার বেলারুশে ফিরে আসেন। স্ফেতলানা’র বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা বেলারুশেই। সেখানে স্কুল পেরুনোর পরেই বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিনস্ক-এ সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। যদিও স্ফেতলানার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে; তথাপি তার পাশাপাশি সাংবাদিকতাও করতেন তিনি। আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর শাসন আমলে রাজনৈতিক মতাদর্শগত নির্যাতনের পর ২০০০ সালে তিনি বেলারুশ ছাড়েন। ততোদিনে স্নাতক সম্পন্না স্ফেতলানা পোল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি ব্রেস্ট শহরের একটি স্থানীয় দৈনিকে কাজ শুরু করেন। এ সময় The International Cities of Refuge Network (দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিস অফ রিফিউজি নেটওয়ার্ক)-এর সহায়তা ও নিরাপত্তায় তার বসবাস ছিল প্যারিস, গোটেনবার্গ ও বার্লিন। ২০১১ সালে তিনি মিনস্কে ফিরে এসে প্রথমে ‘নেম্যান’(Neman) সাহিত্য ম্যাগাজিন ও পরে সেলেস্কজা গ্যাজেটা নামে একটি দৈনিকে কাজ শুরু করেন। মূলত এ সময় থেকেই তার সাংবাদিকতায় সাহিত্যের দ্বৈতযাত্রা শুরু হয়। ক্রমেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন অনুসন্ধানী নারী সাংবাদিক হিসেবে।

১৯৭০ সালে স্থানীয় একটি পত্রিকায় রিপোর্টিংয়ের কাজ করার সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়া বেশ কিছু নারী সৈনিকের সাক্ষাৎকার নেন তিনি। এটাই তাকে গতানুগতিক সাংবাদিকতার ছকের বাইড়ে নিয়ে আসে। এই সাক্ষাৎকার ও মৌখিক কথার ওপর ভিত্তি করে ১৯৮৫ সালে প্রকাশ হয় তার প্রথম বই ‘ইউ ভজনি নি জেন্সকো লিকো’। বেলারুশিয়ান ভাষায় লেখা বই ১৯৮৮ সালে ‘ওয়ার’স আনউমেনলি ফেস’ [War's Unwomanly Face(Always a Woman: Stories by Soviet Women Writers)] নামে বইটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ হয়। বইটি নিজ দেশেই প্রকাশিত হতে দেননি স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বলা হয়, এতে শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিই স্থান পেয়েছে, কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকার ওপর জোর দেয়া হয়নি। প্রকাশের পর প্রায় বইটি প্রায় দুই মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। এই সময়ের কাজ নিয়ে আরো একটি বই ‘The Last Witnesses: the Book of Unchildlike Stories’। এতে তিনি শিশুদের স্মৃতিকথায় যুদ্ধকে তুলে আনেন। মূলত নারী ও শিশুদের দৃষ্টিতে আগামীর বিশ্ব কেমন হতে পারে এমন এক অভিপ্রায়ে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন যুদ্ধক্ষেত্রের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ‘Enchanted with Death’ বইতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সেখানের নাগরিক ও কর্মীদের ভেতরের মর্ষকামিতা তুলে ধরেন। আসলে তারা সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের আদর্শ ত্যাগ করে নতুন বিশ্বমানসিকতা আত্মস্থ করতে না পেরেই আত্মহত্যা করছিলেন, এটা ছিল স্ফেতলানার দেখানো বিষয়। একই বিষয়ে তিনি ‘Second-hand Time’ নামে বই লিখেন। তার প্রথমদিকের এই বইগুলো বেলারুশীয় ভাষায় লেখা, যার পরবর্তীতে ইংরেজি সংস্করণ বের হয়।

চেরনোবিল বিপর্যয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার পরিচিতি প্রসারে বিপুল ভূমিকা রাখে। পেশায় অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলেকসিয়েভিচ খুব কাছ থেকে দেখেছেন সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ, চেরনোবিল বিপর্যয়। এ নিয়ে তার দু’টি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: ‘Zinky Boys : Soviet Voices from the Afghanistan War’ এবং ‘Zinky Boys I Voices from Chernobyl’। সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রামাণ্য প্রতিবেদনের এই দুই বইয়ে তিনি সোভিয়েত আমল ও সোভিয়েত-পরবর্তী যুদ্ধবিগ্রহ ও মানবজীবনের সংকটকালীন নানাদিক তুলে ধরেন। স্ফেতলানার ‘জিংকি বয় : সোভিয়েত ভয়েস ফ্রম দ্য আফগানিস্তান ওয়ার’ বইটিতে তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। এতে তিনি হতভাগা সেসব মায়ের মর্মস্পর্শী কথা তুলে ধরেন, যারা ওই সময় তাদের সন্তানকে হারিয়েছেন। স্ফেতলানার ‘Voices from Chernobyl : The Oral History of a Nuclear Disaster’ গ্রন্থের প্রধান উপজীব্য হলো, প্রায় ২৯ বছর আগে (১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল) রাশিয়ার ইউক্রেনে রুশচালিত পারমাণবিক চুল্লিতে বিস্ফোরণের ফলে ভয়ংকর পরিণতির শিকার ওই অঞ্চলের মানুষের স্মৃতিকথা। এজন্য তাকে দশ বছর ধরে তিনি চেরনোবিল এলাকায় ঘুরে বেড়াতে হয়। মূলত এসব বইতে তিনি হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে ঘটনাকে মর্মস্পর্শী করে তুলে ধরেন। অন্যকথায়, তার সাহিত্যঘেঁষা সংবাদকর্ম মূলত সোভিয়েত ও সোভিয়েত উত্তর আবেগঘন ইতিহাস। এদিক দিয়ে দেখলে, তার সাহিত্য সে সময় অন্য অনেকের মতোই সোভিয়েত বিরোধী সাহিত্য ভূক্তি সম্ভব। তবে তার বিরোধিতার জায়গা অনেক বেশি সে সময়ের পশ্চিমা ঘেঁষাও বলা যাবে। যে কারণে তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে তখন সাংবাদিকতার জন্য অনেক পশ্চিমা পুরস্কারগুলো অর্জন করা। অনেক ক্রিটিকস মনে করেন, স্ফেতলানা তার ‘সংবাদ-সাহিত্য’র জন্য সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ পুরস্কার পুলিথজার দিলে নোবেল পুরষ্কারের আরো ভাল ব্যবহার করা যেত। তাকে পুরস্কার দেয়ার পেছনেও রাজনীতির শ্লেস পাচ্ছেন কেউ কেউ। কী সেটা, তার দেখার আগের স্ফেতলানার লেখার স্টাইল ও পুরষ্কারের দিকে শেষবারের মতো নজর দেয়া যাক। যা আরো পরিষ্কার করবে তার লেখার প্রকৃতি।

স্ফেতলানা আলেকসিয়েভিচ মূলত সাক্ষাৎকারভিত্তিক লেখালেখির জন্য এ পুরস্কার জেতেন। সুইডিশ একাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘তার লেখনী মানব জীবনের দুঃখ-কষ্ট আর সাহসিকতার এক অনন্য যুগলবন্দি’। এ বিষয়ে বহুমাত্রিক লেখার জন্য তিনি এ সম্মানজনক পুরস্কার জিতেছেন। তার সাক্ষাৎকারের সঙ্গে কল্পসাহিত্যে ব্যবহৃত কলাকৌশলের সংমিশ্রণ দেখা যায়। তবে তার গদ্য কেবল ইতিহাসকে তুলে ধরেনি, ধারণ করেছে মানুষের আবেগের ইতিহাস। সংবাদ সংশ্লিষ্ট থাকলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তার গুরুত্ব মোটেও কম নয়। তার গ্রন্থগুলো একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও বিশেষ প্রভাব ফেলে। যা তাকে নিয়ে জল্পনার একটা চাহিদা তৈরি করে বৈকি। নিজের দেশে আলেকসিয়েভিচ পরিচিত সরকারের একজন সমালোচক হিসেবে। পাশাপাশি অপেশাদার পাখিবিজ্ঞানী হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। এ-ও ঠিক, প্রায় অর্ধশতক পর একজন সাহিত্যিককে এই পুরস্কার দেয়া হলো, যিনি মূলত ‘নন-ফিকশন’ লেখক। তার দ্বৈতস্বরের গদ্যকে সুইডিশ একাডেমি অভিহিত করেছে ‘সমকালীন মানব যাতনা আর সাহসিকতার সৌধ’ হিসেবে।

প্রথম থেকেই স্ফেতলানা অ্যালেক্সিভিচের লেখা বেলারুশ, সুইডিশ, ইংলিশ, জার্মান ভাষায় প্রকাশ হতে থাকে। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পূর্বে তিনি আন্দ্রে সিনাভস্কি প্রাইজ (১৯৯৭), লিইপজিগার বুক প্রাইজ অন ইউরোপিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিং (১৯৯৮), হার্ডার প্রাইজ (১৯৯৯), ন্যাশনাল বুক ক্রিটিক্স সার্কেল অ্যাওয়ার্ড (২০০৫), অক্সফাম নোভিব/পেন পুরস্কার (২০০৭) এবং ২০১৩ সালে পিচ প্রাইজ অফ দ্য জার্মান বুক ট্রেড ও প্রিক্স মেডেসিস ইসায়ই পুরস্কারসহ অন্যান্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি নিজেও দ্য লেটার ইউলিসিস এওয়ার্ড-এর উপদেষ্টা কিমিটির একজন সদস্য।

সাহিত্য সততই সাহিত্য হলেও সাহিত্য পুরস্কার কখনোই নিষ্কটন ছিল না। এর সঙ্গে বিশ্বরাজনীতির একটা যোগসূত্র আছে। শান্তিতে নোবেল নিয়েও এই কথা বলা যায়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পশ্চিমাদের দৃশ্যমান কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র থাকলো না। কিন্তু বিষয়টা অনেক বেশি বৈশ্বয়িক রূপ লাভ করেছে। যে কারণে অনেক সময় বিরুদ্ধ শিবিরকে ঘায়েল করা, কিংবা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে ভাষ্যকার বা প্রতিনিধি তৈরিতেও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিবিসি সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক জর্জ ওরয়েল নিয়ে একজন ক্রিটিকস বলেছিলেন, ওরয়েল সারাজীবন অত উপন্যাস না লিখে একটা লিফলেট ছাপলেই হতো। ২০০৯ সালে সাহিত্যে নোবেল জয়ি হিস্প্যানিসভাষি লেখিকা হার্তা মুয়েলারের বেলায় কেউ কেউ বলেন—তার নোবেল জয় যতটা না সাহিত্যিক তার চেয়ে বেশি কমিউনিজমের বিরোধিতারই পুরস্কার।

লক্ষণীয় হলো, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন রাশিয়ার আবির্ভাব প্রবল ও আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই রুশভাষী জনগোষ্ঠীর জন্য স্ফেতলানা নিয়ে এলেন গৌরবের এই পরম পালক। মূলত গতবছর ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ফলে ক্ষমতার রাজনীতিতে ইউক্রেনের সাহিত্যিক হিসেবে তিনি শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। ওই বছরই প্রথম তাঁর হয়ে Ural Federal University নোবেল কমিটির কাছে মনোনয়ন দাখিল করে। সে সময় শর্টলিস্টেন না থাকলেও তিনি যথেষ্ট আলোচনায় ছিলেন। গত বছর নোবেল জিতেন প্যাত্রিক মাদিয়ানো। মাদিয়ানো আসলে নিজ দেশেও ততটা পরিচিত নন। অনেকটা খুঁজে বের করার মতো অবস্থা। তখন নোবেল ওয়েবসাইডে নেয়া জরিপে শতকরা মাত্র ১৪ ভাগের কিছু বেশি মানুষ তার সাহিত্য পড়েছে বলে জানা যায়। অথচ সেবছর সম্ভাবনার সমান্তরালে থাকা আলজেরিয়ার সাহিত্যিক আসিয়া জাবের এই বছর মারা গেলেন নোবেল পুরস্কার ছাড়াই। একই কথা বলা যাবে নোবেল জয়ি অপর দুই নারী সাহিত্যেকের নামে। বলা যায়, ২০০৭ সালে নোবেল জয়ি ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ডরিস লেসিং কয়েক দশক আগে নোবেল জয়ের সমূহ সম্ভাবনা রাখতেন। কানাডার গল্পকার এলিস মুনরো’কে আরো কম পক্ষে একদশক আগে নোবেল দেয়া উচিত ছিল। একই কথা ২০১১’র নোবেল জয়ি সুইডিশ কবি টমাস ট্রান্সট্রোমারের বেলায়ও খাটে।

এটা ঠিক, এ বছর প্রথম থেকেই স্ফেতলানা অ্যালেক্সিভিচের নাম বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হয়েছে। এমন অনেকই ছিলেন, যাদের নামে বিভিন্ন সময় মিডিয়াগুলো আগেই সাক্ষাৎকার নিয়ে রাখতো নোবেল পাওয়ার অনুভূতি নিয়ে। যে কারণে এই আলোচনা এবারও পিছন ছাড়বে না বলে সবার বিশ্বাস। সাহিত্য মহলের ধারণা, ন্যাটো আর মার্কিন স্বার্থে যায় বলেই তাকে এবার নোবেল দেয়া হলো।

যদি সাহিত্যের বিচারে দিতে হয়, তাহলে চার বছর আগে লেখালেখি ছেড়ে দেয়া নিউইয়র্ক বাসিন্দা ফিলিপ রথকে তার অব্যহতির আগেই দেয়া যেতে পারতো। ২০১১-এ যখন কবিদের দিকে নোবেল যাচ্ছে বোল উঠেছিল তখন ৮৩ বছর বয়সি সিরিয়ান কবি অ্যাডোনিস (আলী আহমেদ সাঈদ)-এর নাম সবচেয়ে উচ্চ স্বরেই শোনা গেছে। কিন্তু তিনি কি আরেক আরব কবি ফিলিস্তিনের মাহমুদ-দারবিশের মতো চির-উপেক্ষিত থেকে যাবেন, সেই প্রশ্ন দানা বাঁধছে। ১৯৯৪ সালে জাপানের কেনবুরোর ওয়ের নোবেল জয়ের পর হারুকি মুরাকামি গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় আছেন। বিশ্বে বহুল পঠিক এই সাহিত্যিককে কেন নোবেল দেয়া হল না এই নিয়ে খানিকটা ক্ষুব্ধই সাহিত্য মোদিরা। নাইজেরিয়ার মহান সাহিত্যিক চিনুয়া আচেবে নোবেল ছাড়াই মারা যাওয়ার পর অনেকই ভেবেছিলেন সাহিত্যে অবদানের বিচারে এবছর নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গ-এর প্রতি সুবিচার করা হবে। বিশেষ করে এ বছর তার Caitani Ndeenda (I Will Marry When I Want) উপন্যাসের বিচারে হলেও এই মহান সংগ্রামী পুরস্কার পেতে পারতেন। বহুল পঠিত ম্যান অফ বুকার জয়ি আলবেনিয়ার লেখক ইসমাল কাদেরে, অতিপ্রজ ৭৬ বছর বয়সী আমেরিকান লেখিকা জয়েস ক্যারোল ওটস, ইতালির উপমবার্কে ইকো, ভারতীয় বংশভূত কানাডিয়ান লেখক রোহিনতন মিস্ত্রি, ভারতীয় বংশভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদী, সোমালিয়ার ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন ফারাহ, দক্ষিণ কোরিয়ার বহুপ্রজ কবি কোন উন, ৯৫ বছর বয়সী সার্বিয়ান লেখিকা ডোবরিকা কোসিক, অস্ট্রেলিয়ার পিটার হান্দকে-এর কথা মনে থাকলে মনে হয় এই বছর স্ফেতলানা অ্যালেক্সিভিচের নোবেল পাওয়া কতটা অসার। সবচেয়ে বড় কথা, মাক্সিকান ঔপন্যাস কার্লোস ফুয়েন্তেস নোবেল পাওয়া ছাড়াই মৃত্যু নোবেল কমিটির জন্য কম লজ্জার নয়। সেই বিচারে বিশ্বের এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চেক প্রজাতন্তের ৮৫ বছর বয়সী সাহিত্যিক মিলান কুন্দেরা’ও যদি নোবেল ছাড়া শীতল মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে নোবেল কমিটি ‘তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়’ কিসিমের কথা বলেও ক্ষমা পাবে বলে মনে করার কিছুই নেই।

এখন দেখার বিষয় হলো, এই নোবেল প্রাপ্তির পর সাহিত্য বিশ্বে তার ভূমিকা কী দাঁড়ায়। নোবেল পাওয়ার পরও অনেক সাহিত্যিকই বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছেন। পাঠক তাকে ধরে রাখেন নি। বা নোবল পুরস্কার তাদের নামে বিশেষ কোনো আলোড়নও তুলেনি। এমনও হয়ে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির চাপ তার লেখালেখির গতিকেই রূদ্ধ করে দিয়েছে। আবার অনেক নোবলে জয়ি আছেন, যাদের সাহিত্য শতবর্ষেও সমুজ্জ্বল রয়েছে। যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটের জরিপে তিনি বিশ্বে বহুল পঠিত সাহিত্যিকদের একেবারে উপরে অবস্থান করছেন। মজার বিষয় হলো, যে মার্কিন নীতি কখনো কখনো কখনো নোবেলের উপর জেঁকে বসেছে, সেই নীতির বিরোধী ঔপন্যাসিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, জন স্টাইনবেক, ইউলিয়াম ফকনার, কবি পাবলো নেরুদা, নাট্যকার হারল্ড পিটার প্রমুখ রয়েছেন পাঠের ঠিক উপরের কাতারে। এদের নিয়ে বিশ্বে নিত্যনতুন ও সুদূর প্রসারি গবেষণা থেমে নেই।

একটি কথা তো সুপ্রতিষ্ঠিত যে, পুরস্কার শেষ পর্যন্ত কোনো লেখকই তৈরি করে না বা নিমজ্জমান লেখকের কিস্তি জাগিয়ে তুলতেও পারে না। বরং নোবেল না পেয়েও কেউ কেউ যে বিশ্বজয় করে বসে আছেন তার উদাহরণও অভাব পড়বে না। ১৯০১ সালে যখন প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন হয়, তখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী লেখক লিও তলস্তয়কে একপ্রকার উপেক্ষা করেই নোবেল দেয়া হয় ফরাসি কবি সালি প্রুদহোম’কে। এমনকি ১৯১০ সালের নভেম্বরে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ১০টি আসরেও তলস্তয়কে পুরস্কৃত করার অনন্য সুযোগ হারানোকে নোবল যাত্রার ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ সূচনা হিসেবেই দেখা যায়। তবুও তলস্তয় যে বিশ্বের এখন পর্যন্ত সেরা লেখকদের অন্যতম তা আর কাউকে হাত ধরে বলতে হয় না। পাঠক মাত্রই তা জানেন। একই কথা বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষিতে অসাধারণ গল্পকার আর্হেন্তিনার হোর্হে লুইস বোর্হেস’র ক্ষেত্রেও প্রণিধান যোগ্য। সেই বিচারে স্ফেতলানা অ্যালেক্সিভিচের ভবিষ্যৎ কী তা সময়ই স্বাক্ষ দিবে।

কিন্তু ব্যাপারটা হলো, যাদের পাঠা তারাই তো ঠিক করবে—পাঠা লেজ থেকে কাটা হবে নাকি মুড়ো থেকে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিষয়টা অনেকটাই পশ্চিমা রাজনীতি ও অর্থনীতি দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সবাইকে ছাড়িয়ে বেলারুশ লেখিকা ও সাংবাদিক স্ফেতলানা আলেকসিয়েভিচ ২০১৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়ে যান, তখন আমাদের তেমন কিছুই বলার থাকে না। এর মধ্যদিয়ে মূলত ওই নীতির বাগিসের বাগারম্বড়ই পরিষ্কার হয়। কিন্তু সাহিত্যের বোদ্ধা পাঠক এর দ্বারা কখনোই আক্রান্ত হন না, সেটাই সত্য।

তবে সামগ্রিক বিচারে স্ফেতলানা আমাদেরকে যে একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ের মুখোমুখি করে দেন, তা অস্বীকার করা যাবে না। অস্বীকার করা যায় না, সংবাদকে সাহিত্যে উন্নিত করতে তার যে অবদান। তাছাড়া যুদ্ধাক্রান্ত নারী ও শিশুর চোখ দিয়ে আগামীর যে বিশ্ব গড়তে চান তা, ভবিষ্যতের বিভৎসতা এড়ানো জন্য তা সুদূরপ্রসারি প্রস্তাবও বলা যায়। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে যাতনার কথাগুলো তুলে এনেছেন, দিনে দিনে তা ‘সংবাদ-সাহিত্য’র সৌধকে আরো পোক্ত করবে। যা নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য আট মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার (৮০ লাখ ক্রোনার বা ৯ লাখ ৫০ হাজার ইউএস ডলার)-এর চাইতেও মূল্যবান। যথারীতি আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ অর্থমূল্য ও পদক তুলে দেয়া হবে। ০


তথ্যসূত্র :
১. ইউকিপিডিয়া, ফ্রি এনসাইকোপিডিয়া
৪. নোবেল কমিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
৩. দ্য নিউ ইয়র্কার, নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান



লেখক পরিচিতি
অলাত এহ্সান

মূলত গল্পকার। জন্ম ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী গ্রামে। ঢাকা কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক(সম্মান)ও স্নাতকোত্তর। ছাত্র জীবন থেকেই বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া। কবিতা, প্রবন্ধ ও ফিচার লিখেন। সখ ভ্রমণ, সিনেমা দেখা, গান শোনা ও পড়া। একটি দৈনিকে কর্মরত।

প্রকাশিত বই ‌'হেঁটে যাতায়াত ও আমরা'(অনুবাদ)। প্রকাশিতব্য গল্পগ্রন্থ ‘পুরো ব্যাপারটাই প্রায়শ্চিত্ত ছিল’। প্রবন্ধের বই প্রকাশের কাজ চলছে। alatehasan@yahoo.com, +88 01714 784 385

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন