সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৫

কুলদা রায়ের গল্প : মধুশ্রীর খোঁজে

সোহরাব চাচার কাছেই প্রথম মধুশ্রীর কথা শুনেছিলাম। তখন তার বয়স অল্প। আমাদের বাড়িতে মাঝে মাঝে আসতেন। কোনো কোনো রবিবারে মুরগির ঝোল মাংস রাঁধতেন। তিনি ছিলেন এলাকার বিখ্যাত বাবুর্চি। নানা জায়গায় বিয়ে বা জেয়াফতের রান্নার ‘খ্যাপে’ যেতেন।

সেদিন সোহরাব চাচা মুরগি নয়—তিনটি দেশি হাঁস রান্না করছিলেন। আর মা রান্না করছিল পাবদা মাছ দিয়ে চুকাই শাকের শুক্তো। সোহরাব চাচা খেতে বায়না ধরেছেন। তিনি সেদিন বাগেরহাটের কচুয়া থেকে ফিরেছেন। খুব ক্লান্ত। রাঁধতে রাঁধতে মাকে বলছিলেন, জানেন বৌদি, কচুয়া থানার পুবদিকে আন্ধারমানিক গ্রামে কাল ছিল সোনাবদ্দি মীরের বাপজানের জেয়াফতের খাওন। এলাহি কারবার। মুসলমানগো লাইগা এক পাত। হিন্দুগো লাইগা ভেন্ন পাত। খুলনা থেকে রামচন্দর তাগো রান্না করতি আইছিল।

কথা এটা না। এটা কথার আগে আলাপ।


সোহরাব চাচা একটু ছোটোখাটো গড়নের মানুষটি। মাথায় লম্বা চুল। পেছনে ঝুটি বেঁধে রাখতেন। আর কাঁধে একটা গামছা আঁচলের কায়দায় নামানো। আমার মায়ের কাছে মূল কথাটি বলতে গিয়ে একটু লজ্জা পাচ্ছিলেন। বললেন, আন্ধারমানিক গ্রামে এক ঘর বাওন আছে। নাম শ্রীপতি চক্রবর্তী। নমোশুদ্রগো পুজা-আর্চা করে। তার দুইটা মাইয়া। হিন্দুগো পাতে বাপের লগেই বইসাছিলো মাইয়া দুইটা। দুইটা যেন পরী—একটার নাম লক্ষ্মী পরী। আরেকটা সরস্বতী পরী। আহা, কী রূপ!

তখন আমাদের রূপ বোঝার মতো বয়স হয়নি। তবে লক্ষ্মী আর সরস্বতী শব্দের মধ্যে দিয়ে বোঝা গেল—তাদের দেবী মাহাত্ম্য আছে। মা বলল, বিয়া করবেন নাকি?

সোহরাব চাচা জিব কেটে বললেন, আউ ছি। কি যে কন বউদি! আমি সোহরাবুদ্দিন খাঁ। জাতে মুসলমান। হিন্দুর মাইয়া বিয়া করি ক্যামনে? তা ছাড়া—

--তাছাড়া?

--তাছাড়া করি মাইনসের বাড়ি রান্না-বান্নার কাজ। আমারে বিয়া করবে কেডা!

সোহরাব চাচা কোনোদিন বিয়ে করেননি। তিনি চিরকাল কুমার জীবন যাপনই করে গেছেন। সেটা অন্য গল্প।

আমাদের এলাকার লালমিয়া অতীব প্রতাপশালী লোক। তার ষোলটি ছেলেমেয়ে। নোয়া ছেলেটির নাম হাবিল মিয়া। এলাকায় তার তুল্য জোয়ান লোক দ্বিতীয়টি নেই। লোকে বলে তার বিয়ে করার দরকার নেই। এই হাবিল মিয়া সোহরাব চাচার সঙ্গে আন্ধারমানিক গেলেন। দিন সাতেক থেকে এলেন। শোনা গেল—হাবিল মিয়া প্রেমে পড়েছেন। আন্ধারমানিক গ্রামে। শুনে মা চমকে উঠল—মধুশ্রীর লগে নয় তো?

সোহরাব চাচা বললেন, না বউদি। হাবিল মিয়ার দোষ-ত্রুটি যাই থাউক —তিনি হিন্দুগো মাইয়ার জাত মারনের লোক নন। নইলে আমি তার লগে ঘুরি ক্যান?

কথা সত্যি। আন্ধারমানিক থেকে ফেরার পর হাবিল মিয়ার মধ্যে বেশ একটা পরিবর্তন হলো। তিনি নিয়মিত কালীবাড়ির আশেপাশে ঘুরতে লাগলেন। কালীবাড়িতে  শ্রাবণ মাসে পদ-কীর্তনের বার্ষিক আসর বসে।  আষাঢ় আসতে দেরি থাকায় সেবার জৈষ্ঠ্য মাসের পয়লাই পদ-কীর্তনের আয়োজন হল। এর সকল তত্ত্বাবধানে রইলেন হাবিল মিয়া। সেখানে আন্ধারমানিকের মধুশ্রী সম্প্রদায় মান-ভঞ্জনপালা গেয়ে গেল। মধুশ্রীর গলায় রাধার বিরহ অসহনীয়। রাধা আকুল হয়ে সখী বিশাখাকে ক্ষণে ক্ষণে বলছে—সখি, ওই বুঝি বাঁশি ডাকে।

এই গান শুনে আমাদের এলাকার মানুষ ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছা যেতে লাগল। মধুশ্রীকে রাধাজ্ঞানে প্রণাম করতে লাগল। কয়েকজন অতি উৎসাহী যুবক রাধার বিরহে কাতর হয়ে তার হাত ধরতে গেল। তা দেখে হাবিল মিয়া ক্ষিপ্ত হলেন। কাতর যুবকদের যেতে হল হাসপাতালে। এটা নিয়ে শহরে কিঞ্চিৎ হৈ চৈ হলেও লোকে ধন্য ধন্য করতে লাগল হাবিল মিয়ার নামে। তবে কিছু কিছু কানাকানিও উঠল—হাবিল মিয়া আন্ধারমানিকের মধুশ্রীর প্রেমে পড়েছে। যদি তিনি মধুশ্রীর প্রেমে না পড়বেন তাহলে   তিনি ঘন ঘন  আন্ধারমানিক যাতায়াত করছেন কেন?

তবে সোহরাব চাচাই আসল খবর আনলেন। তিনিই মাকে বললেন, না। হাবিল মিয়া মধুশ্রীর প্রেমে পড়েননি। তিনি প্রেমে পড়েছেন আন্ধারমানিকের সোনাবুদ্দি মহাজনের মাইজা মাইয়ার লগে। মাইয়ার নাম---সাবিকুন নাহার।

সোনাবুদ্দি মহাজন আন্ধারমানিকের অতি উচ্চ বংশের লোক। তারা কোনো এক কালে ইরান দেশ থেকে এসেছিলেন। তখন পীর খান জাহান আলী বাদা-বন কেটে দিঘী কেটেছেন। ষাট গম্বুজ গড়েছেন। বাগেরহাট শহরের খান জাহান আলীর মাজারের আশেপাশে সোনাবুদ্দি মহাজনের পর দাদার কবর আছে। তিনি ছিলেন মাজারের প্রধান খাদেম। এলাকার লোকে তাদের মান্য করে। সেই হেতু সোনাবুদ্দি মহাজন হাবিল মিয়ার সঙ্গে সাবিকুন নাহারের বিয়ে দিতে পারেন না।

মা উদ্বিঘ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল, তাইলে ওখানে হাবিল মিয়ার বিয়া হচ্ছে না?

সোহরাব চাচা বললেন, না হইয়া উপায় নাই। মহাজন বাড়ির সামনে হাবিল মিয়া হত্যে দিয়া পড়ছেন। কইছেন—সাবিকুন নাহারকে বিয়া করতি না পারলে এ জীবন রাইখা ফায়দা কি? মহাজন বাড়ির এই দরজা দেষ্টে তিনি জান কোরবানী দেবেন।

--কও কি!

--কওয়ার আর আছে কি।

বেশ গুরুগম্ভীর গলায় সোহরাব চাচা মাকে বললেন সে কাহিনী। হাবিল মিয়া সোহরাব চাচাকে হুকুম দিয়েছেন—কোরবানী করার জন্য সবচেয়ে ধারালো ছুরি নিয়ে আসতে। এই ছুরি আছে হাবিল মিয়ার বাপজান লাল মিয়ার জিম্মায়।

সোহরাব মিয়াকে ছুরি দিতে দিতে লাল মিয়া তার পুত্রকে একটা চিঠি পাঠালেন। লিখলেন, ব্যাটা, তুমি মনে রাখিও—তোমাকে আমি খোদার নামে হাওলা করিয়া দিয়াছি। ফিরিলে নয়া বিবিকে লইয়া ফিরিবা। না হইলে আন্ধারমানিকে তোমার দাফনের ব্যবস্থা হইবে। খোদা হাফিজ।

এই চিঠি সোহরাব চাচা হাবিল মিয়ার হাতে দেয়নি। দিয়েছেন আন্ধারমানিকের মধুশ্রীর বাবা শ্রীপতি চক্রবর্তীর হাতে। চক্রবর্তী মহাশয় এলাকার সজ্জন লোক। তাকে হেলা করা যায় না। তিনি চিঠিটি নিয়ে সোনাবুদ্দি মহাজনের কাছে গেলেন। দেখে মহাজন খুব ধন্ধে পড়ে গেলেন। বললেন, কন তো চক্রবর্তী মশাই, অক্ষণ আমি কী করি?

করার কিছুই ছিল না। চিঠি দেওয়ার ক্ষণেই সাবিকুন নাহার অন্ধরমহল থেকে ছুটে বেরিয়ে এসেছে সদর দরোজায়। হাবিল মিয়ার সামনে উবু হবে বসে কোমল স্বরে বলে উঠল, আপনার কোরবানীর আগে আমিই আমার জান কোরবান কইরা ফেলবো।

বলে সাবিকুন নাহার আর হাবিল মিয়া দুজনে খান জাহান আলীর দরগার উদ্দেশ্যে রওনা করল। সেখানে দীঘিতে খান জাহান আলীর কুমির আছে। সাবিকুন নাহার দীঘির জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। একা নয়—ঝাঁপিয়ে পড়ল  হাবিল মিয়াকে নিয়েই। কালা পাহাড় আর ধ্বলা পাহাড় নামের এই কুমির দুটো দীঘির দক্ষিণ পাড়ের কাছে রোদ পোহাচ্ছিলো। তাদের দেখে হা করে এগিয়ে এলো।

এটুকু শুনে মা খুব ভয় পেয়ে গেল। তার চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল পড়তে লাগল। আকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল, হ্যারা দুইজনে কুমিরের পেটে গেলো?

সোহরাব চাচা হেসে বলল, না বউদি, কুমিরের পেটে যাবে ক্যান। খান জাহান আলী জাগ্রত পীর। তার কুমির আসলে কুমির না—কোহেকাফের পরী। মানুষ মারনের কাম তারা করে না। মাইনসের মানত পূরণ করতি পরীরা কুমির সাইজা আছে।

--তাইলে?

--তাইলে দুইদিন পরে হাবিল মিয়া নয়া বিবি নিয়া ফিরতেছে। এই উপলক্ষ্যে বিরাট খাওন হবে। লাল মিয়া সাবে হুকুম দিছেন—এই খাওনে ষাট খাসি, মুরগি আশি জবাই হবে। নো গরু। খাওন উপলক্ষ্যে আন্ধারমানিকের শ্রীপতি চক্রবর্তী আসবেন। লগে তার মাইয়া। তারা রাধার মান ভঞ্জন পালা গান করবেন। শুনবেন হাবিল মিয়ার আম্মাজান। তয় পালা গান হবে অন্ধরমহলে। বাইরের লোকের যাওনের সুযোগ নাই।
কথিত আছে,  রাধার মান-ভঞ্জন পালা শুনে সেদিন হাবিল মিয়ার আম্মাজান কাঁদতে কাঁদতে বহুদিন পরে হেসে উঠেছিলেন।

এরপরের ইতিহাসে চমকে দেওয়ার মতো কিছু নেই। হাবিল মিয়া সংসারে থিতু হলেন। ব্যবসাপাতিতে মন দিলেন। তাদের চারটি বাল-বাচ্চাও হল। তাদের দেখতে সত্যি সত্যি পরী পরীই লাগে। বড়ো মায়াময়। যে দেখে সেই বলে যেমন মা—তেমন তার পোলাপান। দেখলেও পুণ্যি।

হাবিল মিয়া তার বাপজানের বাড়ি থেকে বেশ তফাতে গোহাটার কাছে দোতলা বাড়ি করলেন। বাড়ির নাম—সাবিকুন মঞ্জিল। সাবিকুন মঞ্জিল লতায়-পাতায় ঘেরা।

এর মধ্যে আমরা বয়স পাচ্ছি। সোহরাব চাচারও চুল পাকতে শুরু করেছে। তিনিই খবর আনলেন আন্ধারমানিকের শ্রীপতি চক্রবর্তী পরলোকে গেছেন। তার আগে ছোটো মেয়ে বনশ্রীর বিয়ে দিয়ে যেতে পেরেছেন। বড় মেয়ে মধুশ্রী এ জীবনে বিয়ে করবে না বলে পণ করেছে। সে পালা গেয়ে সংসার চালাচ্ছে। কিন্তু শ্রীপতি চক্রবর্তী মারা যাওয়া পরে  তাকে দেখার কেউ রইল না।  তাকে নিয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়ে গেছে। কে না জানে পৃথিবীর সকল চিন্তাই সুমধুর নয়। দুশ্চিন্তার আকর।

এইকালে এলাকার প্রখ্যাত ব্যক্তি ধীরেণ বাগচিকে গিয়ে ধরলেন হাবিল মিয়া। তারা দুজনে বন্ধু মানুষ। ধীরেণ বাকচীর যাত্রার দল দিপালী অপেরায় মধুশ্রীকে নেওয়া হল। তার জন্য বিশেষ কয়েকটি যাত্রা পালাও লেখা হল। এর মধ্যে সাধক রামপ্রসাদ পালায় মধুশ্রী সাজে কালীমাতা। আনারকলি পালায় আনারকলি চরিত্রটি। পালার শেষদিকে আনারকলিকে যখন জহর পানে মৃত্যু বরণ করতে হয় তা দেখে লোকে কেঁদে বুক ভাষায়। নবাব সিরাজ উদ্দৌলা পালায় সাজে মদনলালের বোন আলেয়া। কারাবালা পালা করার ইচ্ছে ছিল ধীরেণ বাকচীর। সেখানে মায়মুনা চরিত্রটি করার কথা ছিল মধুশ্রীর। ঠিকঠাক মত রিহার্সেলও হল। কিন্তু এলাকার কিছু মৌলনা শ্রেণীর লোক সড়কে মিছিল নামিয়ে ঘোষণা দিল, এই কারবালা পালা  স্টেজে নামালে দিপালী অপেরার প্যান্ডেলে আগুন ধরিয়ে দেবে। ধীরেণ বাকচি ভয় পেয়ে গেলেন।

কিন্তু হাবিল মিয়া এই বিক্ষুব্ধ মৌলানাদের রুখে দিলেন। কেউ দিপালী অপেরার ধারে কাছে ট্যা ফ্যা করার কোনো সুযোগ পেল না। সব কিছুই আগের মতই চলতে লাগল। শুধু কারবালা পালাটি স্টেজে নামল না। ধীরেণ বাকচী নিজেই পালাটি না করার ঘোষণা দিলেন।

একদিন শোনা গেল মধুশ্রীকে ধীরেণ বাকচী বিয়ে করেছেন। ধীরেণ বাকচীর এটা দ্বিতীয় পক্ষ। প্রথম পক্ষে পাঁচ ছেলে মেয়ে আছে। তার স্ত্রীও সুন্দরী। সোহরাব চাচা মাকে বলেছিলেন, এই বিয়েটা করতে হাবিল মিয়াই বাকচীকে উস্কেছেন। বিয়ের পর তিনি মধুশ্রীকে বৌদি বৌদি বলে গলা শুকোচ্ছেন।

এই বিয়েতে ধীরেণ বাকচীর প্রথম পক্ষ খুব গোস্বা করলেও এলাকার লোকের আপত্তি ছিল না। মধুশ্রী যাত্রা পালা করলেও তার নামে কোনো বাজে কথা রটনা নেই। তার মত গুণী মহিলাকে বউ হিসেবে পাওয়াটা এলাকার সৌভাগ্য হিসেবে গণ্য করল সবাই।

এই সময়কালে বেশ কয়েকটা পরিবর্তন ঘটল। ধীরেণ বাকচীর যাত্রাপালার বেশ উন্নতি হলো। মধুশ্রীই ধীরেণ বাকচীর দলটি চালাতে লাগলেন। জামালপুর থেকে একটি নতুন মেয়েকে আনা হল। মেয়েটি মধুশ্রীর দূর সম্পর্কে মামাতো বোন। দেখতে মাঝারী গড়নের। কিন্তু যখন ঘাগরা পরে নাচতে নাচতে গেয়ে ওঠে—এ ছুরি জানে তো ভানুমতির খেল—তখন, তাকে আর মিস প্রভা মনে হয়না। সত্যি সত্যি রূপকথার যাদুকরী ভানুমতিই মনে হয়। এই মিস প্রভার কারণেই দিকে দিকে দিপালী অপেরার নাম যশ আরো বেড়ে গেল। দল চালানোর জন্য মধুশ্রী ধীরে ধীরে অভিনয় আর গান থেকে সরে গেল।

এবং হাবিল মিয়া বাকচী বাড়ি যাওয়া বন্ধ করলেন। শোনা গেল তিনি এখন নিয়মিত মদ্যপান করছেন। মাঝে মাঝে তাকে মাতাল অবস্থায় সড়কে দেখা যায়। আর বিড়বিড় করে কোনো একটি গান করেন। তবে গানটির কথা যে কী সেটি জড়ানো স্বর থেকে কোনোভাবে উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

তখন আমি ময়মনসিংহ থাকি। একদিন রেল ইস্টিশানে দাঁড়িয়ে আছি। পূজার ছুটিতে বাড়ি যাব। জামালপুর থেকে আসার পথে ট্রেন লেট। আর যখন ট্রেনটি এলো সেটি এসে স্টেশনে দাঁড়িয়ে গেল। ছাড়তে দেরি হবে। বেশ বিরক্তিকর। এর মধ্যেই আমাকে অবাক করে দিয়ে একটি কম্পার্টমেন্ট থেকে সোহরাব চাচার মুঁখি উকি দিল। আমাকে ইশারায় কম্পার্মেন্টে ডেকে নিলেন। বললেন, জামালপুর থেকে আসছেন। তার সামনে একজন বোরখাওয়ালী বসে আছেন। সোহরাব চাচা তাকে রীতিমত পাহারা দিয়ে চলেছেন। বোরখার ভেতর থেকে দুটো দুটো চোখ শুধু দেখা যায়। সে চোখে টানা করে কাজল পরা।  এর মধ্যে কখন যে  একটা ঝাঁকি দিয়ে ট্রেন চলতে শুরু করেছে বোঝা গেল না। ট্রেনের দুলুনীতে কোন এক ফাঁকে তার মুখ থেকে ঢাকনাটি সরে গেল। আর তখনই সোহরাব চাচা ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে ঢাকনাটি মেয়েটির মুখে টেনে দিলেন। ফিস ফিস করে বললেন, মিস প্রভা, দিনকাল ভালো না। মুখ চোখ ঢাইকা রাইখেন গো মাইয়া।

চমকে উঠলাম। এই মেয়ের নাম মিস প্রভা। জ্বলন্ত আগুণের মত রূপ। তার মুখে কোনো কলঙ্ক নেই। আছে মায়াময় হাসি। সহ্য করা কঠিন। ফলে আমি পরের ইস্টিশনে কম্পার্টমেন্ট বদলে ফেললাম।

নবমী পূজার দিন বসেছিলাম আমার বাল্যবন্ধু সিজারদের রকে। তখন রাত নেমেছে। কোথাও ছাতিম ফুলের ঘ্রাণ ছুটেছে। আর জ্যোৎস্না ফুটেছে। এর মধ্যে দূর থেকে একটা মোটর সাইকেলের শব্দ শোনা গেল। সিজার বলল রেডি হ।

শব্দটা কাছে আসতেই বোঝা গেল—ওটা হোন্ডা ৮০ সিসি মোইকেলের শব্দ। পথ দিয়ে ধীরে ধীরে চলছে। এতো ধীরে যে একটা সাধারণ বাই সাইকেলও তাকে যেকোনো সময় পিছনে ফেলে দিতে পারে।

সিজারদের বাসা থেকে সামান্য দক্ষিণে এগিয়ে গেলেই একটা পুকুর। এ রাস্তাটি সোজা পুকুর বরাবর না গিয়ে বাঁদিকে বাঁক নিয়েছে। মোটর সাইকেলটিকে সেই বাঁক ঘুরে যেতে হবে-- বাঁক ঘুরে বটতলার দিক ধরতে হবে। কিন্তু সেই বাঁকটি ঘুরল না। সোজা পুকুর বরাবর চলে গেল। ঝপ করে একটা শব্দ হল। আরোহীসহ মোটর সাইকেলটি আশ্বিনের জলে ভরা পুকুরে পড়ে গেছে। এটা দুর্ঘটনা। সিজারের সঙ্গে দৌঁড়ে পুকুরে নেমে পড়লাম। আরোহীকে জল থেকে টেনে ওঠাতে গেলাম। তিনি অচেনা কেউ নন—তিনি হাবিল মিয়া। আমাদের দেখে তিনি রেগে গেলেন। রেগে মেগেই বললেন—তিনি বাঁয়ে যাবেন না। বাঁয়ে গেলে তাকে সাবিকুন মঞ্জিলের দিকে যেতে হবে। কিন্তু এখন সেখানে তিনি যেতে চান না। যাবেন—সোজা বাকচী বাড়ির পথে।

এই পথে বাকচি বাড়ী যাওয়া যায় না। এই পথ গোহাটায় গিয়েছে। সেখানে সাবিকুন মঞ্জিল আছে। তিনি এই জল কাদায় মাখামাখি অবস্থায় পুকুরের মধ্যে থেকেই গাইতে শুরু করলেন একটা গান। কান পেতে শুনে বোঝার চেষ্টা করি তার জড়ানো গলার গানটির কথা। তিনি গাইছেন রাধার মানভঞ্জন পালার গান। সখী বিশাখার উদ্দেশ্যে বিনোদিনী রাধা অধীরা হয়ে গাইছেন—'সখি, ওই বুঝি বাঁশি ডাকে'।

হাবিল মিয়া জল থেকে উঠবেন না। তিনি জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। কাঁদতে কাঁদতে গান গাইছেন। এটা অসহনীয় যন্ত্রণা। তিনি ভারি মানুষ। আমরা তাকে ওঠাতে না পারলেও তার হোন্ডা ৮০ সিসি মোটর সাইকেলটি ওঠালাম। এর মধ্যেই দেখি, হাবিল মিয়ার বিবি সাবিকুন নাহার এসে পড়েছেন। পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়েছেন। জ্যোৎস্নার আলোতে তার চোখে আলাদা রোশনাই। তিনি এক অপার কোমল গলায় ডাকলেন, উঠে আসুন।

হাবিল মিয়া্র কান্না থেমে গেল। তিনি বাধ্য ছেলের মত জল থেকে এলেন। উঠে এলেন ফোঁপাতে ফোঁপাতে। উঠে এলেন সেই অসহনীয় গানটি গাইতে গাইতে। উঠে এলেন আশ্বিনের জল ঝরাতে ঝরাতে। সাবিকুন নাহার তাকে সস্নেহে আগলে ধরে নিয়ে গেলেন ছায়ার মত। মিলিয়ে গেল সেই গান—'সখি, ওই বুঝি বাঁশি ডাকে'।


সিজার বলল, এ ঘটনা নতুন নয়।  এরকম ঘটে প্রতিদিনই। ঠিক এই সময়টিতে হাবিল মিয়া ফেরেন মোটর সাইকেলটিতে চেপে। সোজা পুকুরে গিয়ে পড়েন। আর  তাঁর স্ত্রী এসে জল থেকে তুলে নিয়ে যান।

সিজার আরো বলল, সাবিকুন চাচী তাকে ফেরাতে অনেক চেষ্টা করেছেন। পারছেন না। ডাক্তার-কবিরাজ—পীর ফকিরও ধরেছেন। কোনও কাজ হচ্ছে না। অথচ সংসারে কোনো ঝামেলা নেই। সুখী সংসার। হাবিল মিয়া দ্বায়িত্বশীল স্বামী। স্নেহশীল পিতা। তার বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন নিউ ইয়র্কে। ছোটো মেয়েটি কলেজে পড়ছে। ছেলেটি পড়ছে ঢাকায়—বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আরো কিছুদিন পরে জানা গেল—সাবিকুন নাহার ছোটো মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন লন্ডনে। পড়াশুনা শেষ করে নিজের ছেলেটি ব্যবসা করতে শুরু করেছে। তিনি নিউ নিয়র্কে বড় মেয়ের কাছে চলে গিয়েছেন। আর ফিরবেন না। সাবিকুন মঞ্জিলে হাবিল মিয়াই একা পড়ে আছেন। দিনের মধ্যে অধিকাংশ সময়ই মাতাল অবস্থায় থাকেন। বেদাতী বলে তার পনেরোটি ভাইবোন তার কোনো খোঁজ-খবরই রাখেন না। চিরকুমার  সোহরাব চাচা তার দেখাশুনা করেন। রান্নাবান্না করেন। চোখের আড়াল করেন না। তাকে দেখলেই মনে হয় তিনি কোনো অঘটন ঘটার অপেক্ষা করছেন। ভীত। শঙ্কিত।

এর মাস ছয়েক পরে সিজার একটি চিঠি লিখে জানালো—

হাবিল চাচা পুরো উন্মাদ হয়ে গেছেন। তার ঘরের মধ্যে শেকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। মাঝে মাঝে একেবারে অশান্ত হয়ে ওঠেন। দেয়ালে মাথা ঠুকতে থাকেন। মাথা কেটে রক্ত বের হয়। তাকে থামানোর কোনো উপায় থাকে না। তখন টেপ রেকর্ডারে একটি গান চালিয়ে দিতে হয়। গানটি—'সখি, ওই বুঝি বাঁশি বাজে'। ধীরেণ বাকচীর বাড়িতে গিয়ে মধুশ্রীর হাতে পায়ে ধরে সোহরাব চাচা গানটি গাইয়ে এনেছেন। এই গানটি ছাড়া আর কোনো দাওয়াই নেই হাবিল চাচার। গানটি শুনলে হাবিল চাচা শান্ত হয়ে যান।

দেড় মাস পরে সিজার আরেকটি চিঠি পাঠাল। সিজার লিখেছে--
হাবিল চাচা কিছুদিন সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করছিলেন। ফলে তার হাত পায়ের শেকল খুলে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বিকাল বেলা বয়না ধরলেন—তিনি ছাঁদে যাবেন। বহুদিন তিনি আকাশ দেখেন না। সোহরাব চাচা তাকে ছাঁদে নিয়ে এলেন। হাবিল চাচা চুপ করে রইলেন। অবাক বিস্ময়ে চারিদিকে ডালুমালু করে তাকিয়ে দেখতে লাগলেন। চারিদিকে গাছপালা। ফাঁকে ফাঁকে বাড়িঘর। ইলেক্ট্রিক তার দিগন্ত ভেদ করে চলে গেছে। দূরে নদী। সব যেন গত জন্মে্র ছবি। এখন নতুন করে আবার চিনে নিতে হচ্ছে। নদীর দিকে তাকিয়ে তিনি শুধালেন, নদীটার নাম কি?

সোহরাব চাচা উত্তর দিলেন—মধুমতি। আপনি বাল্যকালে সাঁতার কাটতেন।

নদীর কথা শুনে হাবিল চাচার সম্বিত ফিরে আসতে শুরু করল। তিনি মিটি মিটি করে হাসতে লাগলেন। অনেকদিন পরে স্পষ্ট গলায় বললেন—মধু, না—মতি?

সোহরাব চাচা স্তব্ধ। মুখে কথা নেই।
হাবিল চাচা হাহাকার করে উঠলেন—মধুশ্রী।

হাবিল চাচার মনজুড়ে শুধু মধুশ্রী। আর কিছু নেই। তিনি মধুশ্রীর প্রেমে দিওয়ানা। সাবিকুন নাহার চাচী এই প্রেম সহ্য করতে না পেরে তাকে ছেড়ে নিউ ইয়র্ক চলে গেছেন।
তবে গল্পটি এখানে নয়। গল্পটি এর পরে।


সিজার লিখেছে—এ সময় প্লেনের শব্দ শোনা গেল। সোহরাব চাচাকে কোনো সুযোগ না দিয়ে হাবিল চাচা ছাঁদ থেকে লাফ দিলেন। লাফিয়ে উঠলেন শূন্যে। প্লেনকে ধরবেন। সাবিকুন নাহার তাকে ছেড়ে ওই প্লেনে করে নিউ ইয়র্কে চলে গেছেন। তাকে প্লেন থেকে ফিরিয়ে আনবেন। তার অনুপস্থিতি তিনি আর সইতে পারছেন না।

এরপর সিজার আর কিছু লেখেনি। শুধু লাল কালি দিয়ে লিখেছে--

ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন---



এরপর বহুদিন গত হয়েছে। আমি দেশ ছেড়ে নিউ ইয়র্কে থিতু হয়েছি। ব্যস্ততার একটা মস্ত ঘূর্ণির মধ্যে পড়ে গেছি। এর টানা দশ বছর পরে দেশে গেছি। আমার শান্ত সুন্দর মা বুড়ি হয়ে গেছে। একদিন মা বলল, সোহরাব চাচা অসুস্থ হয়ে পইড়া আছেন। তোকে দেখতে চাইছেন। তার নিজের আসার শক্তি নাই।

সোহরাব চাচার এ সংসারে থাকার মধ্যে কেউ নেই। তিনি সাবিকুন মঞ্জিলে থাকেন। তাকে চেনা যায় না। খুব বুড়ো হয়ে গেছেন। মাথার চুল পড়ে গেছে। যা দু’এক গাছি আছে তাও শাদা। তার হাত-পা কাঁপে। চোখ কাঁপে। ভালো করে দেখতে পান না। তিনি আমাকে কাছে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন—তুমি আন্ধারমানিক গ্রামের সাবিকুন নাহার ভাবীকে নিউ ইয়র্কে দ্যাখছো বাপজান?

আমি মাথা নাড়লাম। দেখিনি। নিউ ইয়র্কে এরকম নামে কেউ আছেন বলেও শুনিনি। তার বড় মেয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল বছর তিনেক আগে। তারপর ফ্লোরিডায়। এখন ঠিক কোথায় –জানা যায় না। হয়তো বড় মেয়ের কাছে সাবিকুন নাহার  আছেন। হয়তো ছোটো মেয়ের কাছে লন্ডনে আছেন। হয়তো বেঁচে আছেন। হয়তো বেঁচে নেই। বেঁচে থাকলে খুব বুড়ো হয়ে গেছেন। কেউ বলতে পারে না। কেউ কিছুই জানে না। জানার সুযোগও নেই।

একথা সোহরাব চাচাকে বললাম না। বললে তিনি দুঃখ পাবেন। এই বয়সে তাকে দুঃখ দিতে ইচ্ছে করছে না। বললাম, দেখেছি।
শুনে সোহরাব চাচা খুব খুশী হলেন। বললেন, তিনি সাক্ষাৎ পরী।

বলতে বলতে তার মুখে হাসি এসেছে। বললেন, হাবিল মিয়ার লগে আমিই সাবিকুন নাহারের লগে দেখা করাইছিলাম। আন্ধারমানিক গ্রামে। তাদের মধ্যে মোহব্বৎ হইছিল। কোনোদিন এই মোহব্বতের ঘাটতি দেখি নাই।
এরপর সোহরাব চাচা চুপ করে রইলেন। চোখ বুজে থাকলেন। মুখটা বিষাদে ভরে গেল। তার শ্বাস ঘন হয়ে গেল। বুক ওঠা-নামা করতে লাগল। মনে হল—তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাকে বললাম, থাক, আপনাকে আর কথা বলতে হবে না।
তিনি থামলেন। অদূরে জলের কলস। গ্লাসে ঢেলে তার মুখে ধরলাম। তিনি ঢকঢক করে জল খেলেন। বললেন, না। তিনি থামবেন না। একটা কথা বলবেন। সেটা বলতেই তিনি আমাকে ডেকে এনেছেন।
--কী কথা?

তিনি বলতে চেষ্টা করলেন, সাবিকুন নাহার ভাবী ভুল বুঝেছেন। তিনি ভেবেছেন হাবিল ভাই তাকে প্রতারণা করেছেন। তার বর্তমানে মধুশ্রীকে ভালোবেসেছেন। কথাটা ভুল।

হাবিল ভাই মধুশ্রীকে নয়---তার গাওয়া্‌ 'সখী, ওই বুঝি বাঁশি ডাকে’ গানটিকে ভালোবেসেছিলেন। গানটি তার আম্মাজান গাইতে গাইতে শিশুকালে হাবিল মিয়াকে ঘুম পাড়াতেন।
আম্মাজানের বাপের বাড়ি কাটোরবাড়ি গ্রামে। সেখানে জীতেন সরকারের গলায় গানটি শুনতেন বিয়ের আগে। শুনে নিজের গলায় সুরটি তুলে নিয়েছিলেন। জীতেন সরকার কে বা কার কাছে হয়তো বলেছিলেন, এই মাইয়ার গলায় রূপ আছে।

বিয়ের পরেও মাঝে মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে গাইতেন। গাইতেন গলাখাটো করে। বাইরের কেউ শুনতে পেতো না। পরে ছেলেমেয়েদের ঘুমের কালে গাইতেন।  ছেলেমেয়েরা বড় হতে শুরু করলে আর গাইতে পারেননি। লাল মিয়া সাহেবের নিষেধ ছিল। ধর্মে তার মতি এসেছিল। ফলে হাবিল মিয়ার আম্মাজান ফিসফিস করে দরজা-জানলা বন্ধ করে একা একা গাইতেন। এমনভাবে গাইতেন যেন, সে সুর তার ছায়াটিও শুনতে না পায়। শেষদিকে ফিসফিসও করতেন না। শুধু ঠোঁট নাড়তেন। ঠোঁট নাড়া ছাড়া তার উপায় ছিল না। যখন ঠোঁট নাড়া বন্ধ হয়ে গেল, তখন তিনি মনে মনে গাইতেন কাটোরবাড়ির জীতেন সরকারের গানটি। আর তার চোখ থেকে জল ঝরত। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, একদিন সব জলের শেষ আছে।


তারপর আমার কানের কাছে মুখটি এনে সোহরাব চাচা বললেন, মধুশ্রীকে হাবিল মিয়া নয়—আমি ভালোবাইসাছিলাম। তারে বিয়া করা আমার মতন লোকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জীবনে অন্য কাউরে বিয়াই করি নাই।
সোহরাব চাচা আমার হাত ধরলেন। তখন আবার তার হাত আবার কাঁপতে শুরু করেছে । থামাতে পারছেন না। তার কথাও বেশ জড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি এই কথাটা জীবনে অন্য কাউকে বলেননি। আমার কাছেই শুধু স্বীকার করলেন। এই গভীর গোপন কথাটা বলার জন্যই তিনি এতদিন অপেক্ষা করছেন। বলে তাঁর মুখটা সলজ্জ হয়ে উঠেছে। আবার চাপা পড়া ভারও নেমে গেছে। অনন্ত প্রাশান্তি নিয়ে বললেন, সাবিকুন নাহার ভাবীর লগে তুমি দেখা কইরো। তারে কইয়ো, তিনি যেন হাবিল মিয়াকে ক্ষমা কইরা দ্যান।


লেখক পরিচিতি
কুলদা রায়
গল্পকার। ব্লগার।
প্রকাশিত বই
১. কাঠপাতার ঘর। ব্যক্তিগত জার্নাল। প্রকাশক : গুরুচণ্ডালী, কোলকাতা।
২.  বৃষ্টিচিহ্নিত জল। ১৫টি  গল্পের বই। প্রকাশক। সোপান, কোলকাতা। নালন্দা, ঢাকা। 

1 টি মন্তব্য: