সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৫

২০১৫ সালের পড়া গল্পের সালতামামি

গল্পপাঠ : ১
 ২০১৫ তে কত সংখ্যক গল্প পড়েছেন?

সুদেষ্ণা দাশগুপ্তা : ১
২০১৫ সালে প্রচুর কিছু পড়িনি। সব মনেও নেই। তবুও ছোট, বড় এবং উপন্যাস মিলিয়ে শ'খানেকের মত বা তার একটু বেশি পড়েছি।


গল্পপাঠ :২  
কোন কোন মাধ্যম থেকে গল্পগুলো পড়েছেন?

সুদেষ্ণা দাশগুপ্তা : ২
গল্পের বই, পাক্ষিক দেশ, পাক্ষিক সানন্দা, বিভিন্ন শারদীয় পত্রিকা, খবরের কাগজে প্রকাশিত ছোট গল্প এবং অনলাইন ম্যাগাজিন গল্পপাঠ।


গল্পপাঠ : ৩
 কোন কোন গল্পকারের গল্প পড়েছেন?

সুদেষ্ণা দাশগুপ্তা : ৩
সারা বছর জুড়েই তো বই পড়া, তাই সব গল্পের নাম এবং লেখকের নাম সেভাবে বলা মুশকিল। বিশেষ করে পাক্ষিক দেশে আজকাল অনেক নতুন নতুন লেখকেরা বেশ ভাল লিখছেন। তাঁদের সবার নাম আমার মনে নেই।


গল্পপাঠ : 
এরমধ্যে ভাললাগার গল্পগুলোর কয়েকটি নাম করুন। গল্পগুলো ভাল হয়ে উঠেছে কি কারণে সে গুলো উল্লেখ করুন। এবং

গল্পপাঠ : 
 সেরা গল্পটি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষন বলুন।


সুদেষ্ণা দাশগুপ্তা : ৫
হ্যাঁ ভাললাগা গল্পের মধ্যে প্রথমেই আমার পাক্ষিক দেশে প্রকাশিত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটা ছোট গল্পের কথা মনে পড়ছে। গল্পটির নাম "একটা আঁচিলের গল্প"। অক্টোবরের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত। গল্পটি নিছকই একটি প্রেমের গল্প। প্রথমে একটি প্রেম, পরে বিচ্ছেদ, বিরহ কাতরতা এবং সেই কাতরতাকেই সঙ্গী করে দীর্ঘ দশ দশটি বছর পার করা। দশ বছর পর হঠাৎ যখন আবার একদিন দেখা হয় তখন পুরুষটি চমকে লক্ষ্য করে যে নারীর মুখে যে আঁচিলটি তার সবচাইতে আদরের ছিল সেটি উধাও। সাথে সাথেই পুরুষটির এত দিনের যে সেই নারীর প্রতি বিচ্ছেদ-ব্যাথা ছিল তাও উধাও হয়। এরপর নতুন আরেকটি প্রেমের আভাষও দেখা দেয়।

একটি আলাদা ধরণের বই পড়লাম ঋতুপর্ণ ঘোষের " ফার্স্ট পার্সন"। দুটি খন্ডে। প্রথমেই বলি বইয়ের এই সেটটি দেখতে চমৎকার। পুরো কুচকুচে কালো মলাটে সোনালী অক্ষরে নাম আর লেখকের নাম লেখা। এঁনার ছবিই আমরা দেখেছি। এই বই লেখকের নিজের দেখা নানা কথা, ঘটনা, তাঁর বিভিন্ন কাজ, সমাজ, সমসাময়িক রাজনীতি সমস্ত কিছুই আছে। মন্দ না।

২০১৫'র কলকাতা বইমেলায় কিনে পড়েছি কুলদা রায়ের "বৃষ্টি চিহ্ণিত জল"। কুলদা রায়' র লেখা বিভিন্ন নোটের সাথে পরিচিতি হয়েছে বেশিনা, মাত্র বছর দেড়েক। তাঁর লেখা মানে গল্প বলার ধরণটি বড় মিষ্টি। তাঁর নানা লেখায় সিমেন্ট-বালির বদলে কাদা-মাটির, গোলাপ-রজনীগন্ধার বদলে ঘেঁটু, বৈঁচি অথবা অপরাজিতার ছোঁয়াই বেশি। ওই বই তে ১৫টি গল্প আছে। "দুধকুমারের ঐরাবত " গল্পটি আমার ভাললাগে। ঐটি অবশ্য অনুস্টুপে আমি আগেও পড়েছিলাম। বাস্তব আর খোয়াব মিলেমিশে একাকার। ওনার এই গল্পগুলিতে যদি কেউ ভাবে যে শেষে একটা দারুণ কিছু হবে, ক্লাইম্যাক্স ইত্যাদি, তাহলে কিন্তু পাঠক বিফল হবেন। যেমনটা হয়েছে আমার "শবনম অথবা হিমিকালিপি" গল্পে, পুরো গল্প জুড়েই আছে ঐ " তারে ধরি ধরি মনে করি ধরতে গেলাম আর পেলাম না", এই অভিজ্ঞতা।

আরেকটি উপন্যাস পড়লাম সম্পুর্ণ আলাদাধর্মী। শুভদীপ বড়ুয়ার "নি:শব্দ পাহাড়"। পরীকথা পত্রিকায় উপন্যাসটির প্রথম খন্ডটি প্রকাশিত হয়েছে। উপন্যাসটির ভাষাই শুধু বাঙলা, এছাড়া এর সাথে বাঙলার কোনো যোগই নেই। এক আমেরিকান রিপোর্টার গেছেন আফগানিস্তান, তাঁর চোখের সামনে দেখা আফগানিস্তানের আর্থ, সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন যেমন আছে তেমনই ইতিহাসের পাতা পিছতে পিছতে মধ্যযুগীয় ইতিহাসের মিশরের তুতেনখোমেন, পারস্যের শাহ আব্বাস, চেঙ্গিস খান, তৈমুড় লঙ সকলের ইতিহাস বিস্তারিত আছে। তথ্যে ভরপুর এই উপন্যাস পড়লে সাহিত্যের সাথে সাথেই আফগানিস্তান নিয়ে কোনো রিসার্চওয়ার্কেও প্রচুর সহায়ক হবে। বাঙলা ভাষাটিও খানিক আলাদা, ইদানিং কালের চেয়ে বেশি সম্মৃদ্ধ। "হলদে গোলাপ" স্বপ্নময় চক্রবর্তী'র পড়ছি, শেষ হয়নি। ভালো লাগছে এটুকুই এখন বলতে পারি।


গল্পপাঠ : 
আপনি কি মনে করেন এই গল্পগুলো বাংলাদেশের চিরায়ত গল্পগুলোর সমতূল্য বা তাদেরকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে?

 সুদেষ্ণা দাশগুপ্তা : ৬ 
দেখুন এভাবে বলা যায়না। তুলনামূলক বিচার করাও ঠিক বলে আমি মনে করিনা। সংখ্যায় তো নিশ্চয়ই আগে অনেক বেশি বেশি ভাল, সুপাঠ্য গল্প হত। তবে এখন যে একেবারেই হয় না তা নয়। কিছু গল্প বেশ মনে দাগ কাটে, নাম হয়ত মনে থাকল না কিন্তু গল্পের রেশটি মনে রয়ে যায়।


গল্পপাঠ :
বিদেশী গল্পের সাথে এর মানকে কিভাবে তুলনা করবেন?

 সুদেষ্ণা দাশগুপ্তা : ৭
খুব একটা বিদেশি গল্প পড়া হয়ে ওঠেনা। আমি রহস্য গল্প বা গোয়েন্দা গল্প ভালবাসি। পাক্ষিক দেশে ক'দিন হল একটি ধারাবাহিক উপন্যাস শেষ হল শেখর মুখোপাধ্যায়ের " গজপতি নিবাস রহস্য"। লেখার ঢংটি মন্দ না কিন্তু বিদেশি রহস্যগল্পের সাথে তার কোন তুলনা হয়না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন