বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৬

অদ্বয় দত্ত'র গল্প : পাশা খেললেন ঈশ্বর

বেশ ঝোড়ো হাওয়া দিচ্ছে।

ব্রহ্মপিতা খুব নিবিড়ভাবে দেখলেন আদি মানুষটিকে, একটি পাথুরে গুহার ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে জড়সড় হয়ে বসে আছে। সেই নিভু নিভু আগুনের উত্তাপ তার শরীরকে উষ্ণ করার জন্য যথেষ্ট নয় বোধহয়। তাই সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসা ঠান্ডা হাওয়ায় কেঁপে কেঁপে উঠছে আদি মানুষটি।


ব্রহ্মপিতা আজ আকাশগঙ্গা ছায়াপথের প্রান্তবর্তী সূর্য নামের এই অখ্যাত শূদ্রনক্ষত্রের কাছে এসেছেন অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ সম্পন্ন করতে। এসেছেন এর নীল একটি গ্রহের কাছে। সবকিছু দেখভাল করার জন্য একজন একনিষ্ঠ দূত রয়েছেন ব্রহ্মপিতার সঙ্গে।

দূত মুগ্ধ-দৃষ্টিতে নীল গ্রহটি, পৃথিবী যার নাম, দেখতে দেখতে বললেন, ‘মহাপিতেঃ! তোমার মনে আছে, এখানকার বামন নক্ষত্রটি সৃষ্টির পর এর গ্রহগুলো দেখে তুমি ভীষণ বিরক্ত হয়েছিলে!’

ব্রহ্মপিতা বললেন, ‘সে তো প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর আগের কথা রে!’

‘হ্যাঁ জগৎপিতা! গ্রহগুলো দেখে তুমি বলেছিলেÑএখানে আর কী পরীক্ষা চালাবে রে!’ দূত চতুর্দিকে চোখ বোলালেন, ‘অথচ দেখো এর চারদিকটা এখন কী মায়াময় হয়ে উঠেছে!’

ব্রহ্মপিতা দূরপাণে তাকিয়ে আছেন। অন্যমনস্ক, গভীর চিন্তায় নিমগ্ন।

সেই কবে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হলো। কত বিচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালেন বিশ^ব্রহ্মাণ্ডজুড়ে। কিন্তু মন ভরল না ব্রহ্মপিতার। সারা ব্রহ্মাণ্ড ঘুরতে ঘুরতে যে বার তিনি এখানে আসেন, সে বার তাঁর পতœী ব্রহ্মমাতাও সঙ্গে ছিলেন। ব্রহ্মাণ্ডের কোথায় কী কী করা যায়, তার একটি ধারণা পেতে এই ছোট্ট গ্রহতেও নেমেছিলেন তাঁরা। কিম্ভূত দেখতে এই গ্রহটি কী করে যেন বেশ মনে ধরে যায় ব্রহ্মমাতার। বলেন, ‘এখানেই হোক আমাদের সবচেয়ে জটিল কর্মযজ্ঞ।’

ব্রহ্মপিতা বিরক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু এড়িয়ে যেতে পারেননি ব্রহ্মমাতার মনোবাঞ্ছা।

দূতকে বললেন, ‘গ্রহটাকে প্রাণের উপযুক্ত করতে ভালোই ঝামেলা হয়েছিল, তাই না?’

দূত বললেন, ‘ঝামেলা বলে ঝামেলা। তুমি এর এই দিকটা ঠিক করো তো ওই দিকটায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়। এক সময় সব যখন ঠিকঠাক হলো তখন দেখা দিল সবচেয়ে ভয়ানক সঙ্কট।’

ব্রহ্মপিতা আবার অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন। আনমনে বললেন, ‘কী হয়েছিল যেন!’

দূত বললেন, ‘প্রাণসৃষ্টির সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর লক্ষ্য করা গেল টুকরো টুকরো গ্রহাণু ঢুকে পড়ছে এই গ্রহের কক্ষপথে। তারপর একসময় আছড়ে পড়ছে এর ওপর। হঠাৎ ধ্বংস করে দিচ্ছে সবকিছু।’

ব্রহ্মপিতা বললেন, ‘আমার তো কিছু মনে পড়ছে না!’

দূত বললেন, ‘তখন তুমি অন্য ছায়াপথে বুদ্ধিমান প্রাণসৃষ্টি নিয়ে ব্যস্ত ছিলে, ওই যারা সভ্যতার শিখরে উঠে নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করে ফেলল! ব্রহ্মমাতা সেসময় এখানে এসে ব্যস্ত ছিলেন ওই সব গ্রহাণুদের আটকাতে যাতে তারা ঢুকে পড়তে না পারে এই গ্রহের কক্ষপথে।’

ব্রহ্মপিতা একটি বিষণœ নিশ^াস ফেললেন। বিড়বিড় করে বললেন, ‘আমার বুদ্ধিমান প্রাণীগুলো শেষ পর্যন্ত কেন যে এত বোকা হয়!’

দূত নিজের উৎসাহে বললেন, ‘ব্রহ্মমাতা তখন বেশ দূরে এই গ্রহের চেয়ে সহ¯্ররেও অধিক গুণ বৃহৎ আয়তনের একটি গ্রহ সৃষ্টি করলেন। গ্রহটির অতিমাত্রায় অভিকর্ষ বল সব বিপজ্জনক গ্রহাণুকে পথ ঘুরে অন্য দিকে চলে গেল।’

সামনে উচ্ছল সমুদ্র। দিগন্তে লাল নক্ষত্র। তাই দেখে ব্রহ্মপিতা হঠাৎ স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন। তিনি যখন অযুত আলোকবর্ষ দূরের অতি প্রিয় একটি গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী সৃষ্টি করলেন ধাপে ধাপে, অতি যতেœ, তখন তাঁরই কোনো ভুলে প্রাণীগুলো নিজেরাই নিজেদের সবকিছু ধ্বংস করে ফেলল। ভীষণ মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল ব্রহ্মপিতার। ব্রহ্মমাতা সে সময় এক রকম জোর করে ব্রহ্মপিতাকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন এই নীলগ্রহে। তখনই বিষাদাক্রান্ত ব্রহ্মপিতা বেশ মুগ্ধ হন এই নীলগ্রহটির আলু-থালু মহাসমুদ্র দেখে। প্রায় তিনশো কোটি বছর আগে, সে সময় দিন নেই রাত নেই পৃথিবীময় ছিল ঘোর অন্ধকার। আকাশজোড়া মেঘের পর মেঘ। খুব সামান্যই ছিল ডাঙার চিহ্ন। পৃথিবীজুড়ে মুহুর্মুহু বজ্রনিনাদ আর জলেভরা মহাসমুদ্রের উত্তালদশা দেখে ব্রহ্মমাতার আনন্দ আর ধরে না। সেই আনন্দ সংক্রমিত হয় ব্রহ্মপিতার ভেতরেও। তখনই দুজনে মিলে পৃথিবীর ভূভাগ ঘুরে ঘুরে নীলনকশা করেন প্রাণসৃষ্টির। সেই নকশা-অনুযায়ী সৃষ্টি হয় প্রথম প্রাণকোষের। তার পর যেভাবে যা হওয়া উচিত সেভাবেই, সব নির্ধারিত পথেই, এগিয়ে চলে প্রাণচক্র, প্রাণবিকাশ।

এরপর, আরও প্রায় দেড়শো কোটি বছর পর, ব্রহ্মমাতা একা-একা একটিবার এসে প্রাণের জোয়ার দেখে আত্মহারা হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু তখনই তাঁর চোখে পড়ে কিছু ভয়ানক ভুল। নীলনকশাকে নতুন করে সাজিয়ে তিনি ফিরে যান ব্রহ্মলোকে।

শেষবার, মাত্র কয়েক কোটি বছর আগে ব্রহ্মমাতা এক ঝলক এসে ঘুরে যান পৃথিবী। এরই অবসরে মহাকালের স্রোতে ভেসে গিয়েছে কত কিছু, জন্ম নিয়েছে কত গ্রহ-নক্ষত্র, আর মহাশূন্যগর্ভে বিলীন হয়েছে কত অগণন মহাবৈশ্বিক বস্তু। ব্রহ্মমাতা শেষবার এসে পৃথিবীতে প্রাণজোয়ারের লাগামহীন বাড়াবাড়ি দেখে অসম্ভব রেগে যান। সেই রোষের অনলে আকস্মিকভাবে পৃথিবীর তাবৎ-তাবৎ প্রাণী লহমায় প্রাণ হারাল। সৃষ্টি তখন যেন লয়ের প্রান্তে পৌঁছল। কোটি বছর লেগে গেল সেই প্রলয়ের প্রান্ত থেকে একটু একটু করে পুরনো রূপে ফিরে আসতে। তবে সিংহভাগ প্রাণই হারিয়ে গেল চিরতরে।

তারপর এবার এলেন ব্রহ্মপিতা, প্রথম পদক্ষেপের প্রায় তিনশো কোটি বছর পর। পৃথিবীতে আসার ঝাক্কিও কম নয়। কিন্তু গ্রহটির প্রতি তাঁরও জন্মে গিয়েছে গভীর অনুরাগ। তাঁর নির্দেশেই এখানে চলেছে সৃষ্টির সবচেয়ে জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কিন্তু নিরীক্ষায় বার বার দেখা গিয়েছে বেশ ভয়ানক কিছু ভুল।

ব্রহ্মপিতা মহাসমুদ্রের পাড়ে মেঘে-ঢাকা সূর্যের অস্ত দেখতে দেখতে দূতকে বললেন, ‘আকাশগঙ্গার এই পুচকে নক্ষত্রটা বেশ সুন্দর, তাই না?’

দূত বলল, ‘সুন্দর, তবে এর পেছনে আমাদের বাড়াবাড়ি রকমের সময় দিতে হয়েছে। এটি অতিমূল্যায়িত হয়েছে।’

ব্রহ্মপিতা অবাক হয়ে বললেন, ‘সূর্যের অতিমূল্যায়ন?’

দূত বলল, ‘ঠিক সূর্যের না, এর তিন নম্বর গ্রহটির অতিমূল্যায়ন হয়েছে, যার ওপর এখন আমরা বসে আছি।’

ব্রহ্মপিতা বললেন, ‘হোক। সব কিছু চেনা ছকে মিলিয়ে দিলে সৃষ্টির আনন্দ বড় ম্যাড়মেড়ে হয়। দেখেছিস, কেমন মিষ্টি ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে!’

দূত বিমর্ষে বলল, ‘এর জন্যই তো তোমাকে এত ঝামেলায় পড়তে হয়।’

ব্রহ্মপিতা হেসে বললেন, ‘আমি তো ঝামেলাতেই আনন্দ পাই। ওসব তুই বুঝবি না। আচ্ছা, মিষ্টি ঠান্ডা হাওয়ার এই সুন্দর অনুভূতি কি এখানকার প্রাণরা পায়?’

‘কেউ কেউ পায় পিতা।’

‘মানুষ পায়?’

‘না।’

‘পাওয়ার ব্যবস্থা কর। আমি যা যা কিছু অনুভব করতে পারি, তার অধিকাংশই মানুষের ভেতরে ঢুকিয়ে দে। আর দুয়েকটি ঢুকিয়ে দে অন্যসব প্রাণের ভেতর।’

দূত বলল, ‘মানুষের প্রতি তুমি কিন্তু একচক্ষু হয়ে যাচ্ছ। এর আগে বিপুল আকৃতির এক ধরনের সরীসৃপের প্রতি তুমি কিছুটা অনুকম্পা দেখিয়েছিলে। আর তাতেই ওরা এই গ্রহের সমস্ত প্রাণীকে নাকানিচুবানি খাওয়াত।’

ব্রহ্মপিতা অবাক হয়ে বললেন, ‘তাই নাকি? কিন্তু ওদের দেখছি না যে?’

‘ওরা সবংশে শেষ। ব্রহ্মমাতা শেষবার এসে আকাশ থেকে ভয়াল একখানা ব্রহ্মাস্ত্র ছুঁড়েছিলেন।’

‘বলিস কি? কবে ঘটল?’

দূত খসড়া হিসেবে জানাল, ‘তেমন আগের কথা নয়, এই ধরো প্রায় ছয় কোটি ষাট লাখ ছয় হাজার ছিয়ানবব্বই বছর আগে।’

‘যাক। সূর্য দিগন্তের আড়ালে চলে গেল, আয় আমরা মানুষটার কাণ্ড দেখি।’




২.

ঘন দুর্যোগ বলে কথা। আদি মানুষটি গুহার যতটা ভেতরে সম্ভব নিজেকে গুঁজে রাখল। বেশি ভেতরে গেল না। এর আগে এখানে নেকড়ের পাল এসে আশ্রয় নিয়েছিল। লাঠির মাথায় গাছের রস লাগিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিল সেসব নেকড়েদের। কিন্তু যদি আবার ফিরে আসে? কয়েক বছর ধরে খুব বেশি ঠান্ডা পড়ছে। এত ঠান্ডা আগে কখনও দেখা যায়নি। তার বয়স তো কম হলো না, প্রায় তিনশো বছর ছুঁই-ছুঁই। অবশ্য দেখলে তাকে পঁচিশ বছরের যুবকের চেয়ে বেশি বলে মনে হবে না। শৈশবে সে অনেক উষ্ণ বছর পার করেছে। বসন্ত তখন আসত কী মধুর অনুভূতি নিয়ে।

তবে এমন অদ্ভুত দুর্যোগ সে সুদীর্ঘ জীবনে আগে কখনও দেখেনি। গতকাল তারা দলবেঁধে বনে ঘুরে ঘুরে শিকার করছিল। হঠাৎ-ই পাহাড়-সমুদ্র ভয়ানকভাবে কাঁপতে লাগল। এটা কি কোনো অপদেবতার প্রকোপ? নাকি কূপিত হয়েছে তাদের ইষ্টদেবতা? ঠিক বুঝে উঠতে পারে না আদি মানুষগুলো। এক প্রহর ধরে এভাবে অল্প অল্প করে আরও কয়েকবার মাটির কাঁপন বুঝতে পারল তারা। প্রথমে ভয় পেলেও পরে সবকিছু খুব স্বাভাবিক ঠেকল। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরেই সমুদ্র হঠাৎ আকাশ সমান উঁচু হয়ে আছড়ে পড়ল উপকূলে। উপকূলের জলোচ্ছ্বাস, যেন তীরবর্তী নারকেল গাছের ডগা স্পর্শ করতে চায়, ভাসিয়ে নিল সবকিছু। তিনশো বছর ছুঁই-ছুঁই মানুষটি তখন পাহাড়ের একটি গর্তে আটকে গেল। কয়েক মুহূর্ত দমবন্ধ অবস্থায় সেই গর্তে আটকে থেকে জল সরতেই শরীরের যেন প্রাণ ফিরে এল। তারপর সমুদ্র সেই আগের অবস্থায় ফিরে এলেও শুরু হলো ঝোড়ো বাতাস। তারপর বৃষ্টি। এমন মুষলধারে বৃষ্টি ঝরতে লাগল যেন আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠবে ওই মহাসমুদ্র।

দলের কে কোথায় ভেসে গিয়েছে, কিছুই বুঝতে পারে না মানুষটি। পাহাড়ের নীচু গুহা থেকে বের হয়ে আরও উঁচু কোনো গুহা খুঁজতে লাগল। সূর্য ডুবে গিয়েছে, নিরাপদে রাতটা তার পার করতে হবে। একটি প্রশস্ত গুহা পেয়ে তার ভেতরে আরাম করে বসে সে। কিছু মানুষ হয়তো আগে থেকেই এখানে রাত পার করেছিল, তার নিদর্শন হিসেবে ঘাসের কিছু শুকনো আর আধপোড়া বিচুলি-খড় পড়ে আছে। শুকনো কাঠও আছে বেশ কিছু। দেখে চোখ চকচক করে ওঠে মানুষটির। কালক্ষেপণ না করে কোমরে গোজা চকমকি পাথর ঠুকে আগুন জ্বালায় ওই শুকনো কাঠ-খড়ে।

দূত বিরক্ত হয়ে বলে, ‘এসব দেখে তোমার কী লাভ পিতা?’

ব্রহ্মপিতা হেসে বলেন, ‘তুই এত অস্থির কেন? চুপচাপ দেখ।’

দূত বলল, ‘তোমার কত কাজ পড়ে আছে পিতেঃ।’

ব্রহ্মপিতা বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আমার কতোটা সময় নষ্ট হচ্ছে রে? আমি এক পলক চোখ বুঝলে পৃথিবীর নিযুত বছর পার হয়ে যায়। সেই সময়টা টেনে লম্বা করে আলস্য করছি। তুই কি আমাকে একটিবারের জন্য চোখের পলকও ফেলতে দিবি না? এই জন্যই তোকে সঙ্গে আনতে চাইনি।’

দূত ভয় পেয়ে কেঁপে কেঁপে বলল, ‘আমি বুঝতে পারিনি মহাপিতেঃ। ক্ষমা করো আমায়।’

ব্রহ্মপিতা হেসে ফেললেন, ‘আমায় দেখে কেউ ভয় পেলে খুব রাগ লাগে। খবরদার ভয় পাবি না। যে ভয় পায় সে আমাকে সঙ্গ দেওয়ার যোগ্য না।’

বিচক্ষণ দূত দ্রুত বলল, ‘তা হলে আমাকে তাড়িয়ে দাও।’

ব্রহ্মপিতা হেসে বললেন, ‘বেশ বুক চিতিয়ে বললি তো! দেখ, একটা দলছুট অল্পবয়সী মেয়ে ওই গুহার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আগুন আর ধোঁয়ার চিহ্ন দেখে। দেখ কী হয়।’

‘নিজের সৃষ্টি পুতুলের নৃত্য দেখে তুমি কী যে আমোদ পাও!’ দূত আবার বিরক্তি প্রকাশ শুরু করল।

‘এর ভেতরে যে গূঢ় রহস্য আছে তা বুঝতে হলে তোকে আমার দিব্যজ্ঞান পেতে হবে। সেটা তো এত সহজ নয় রে শূদ্র।’

‘শূদ্র’ বলায় দূত মন খারাপ করে।

তাই দেখে ঈশ্বর বললেন, ‘ওরে মূর্খ! তুই অপমান বোধ করছিস কেন? শূদ্র হলো উত্তরণের প্রথম সর্গ। উত্থানের আরম্ভ শূদ্র থেকেই। দেখ দেখ মেয়েটা কী করে।’

ষোড়শী তরুণীটি গুহায় ঢুকতেই অবাক হয়ে তাকায় তিনশো বছরের যুবার দিকে। তার পরনে গাছের ছোট্ট বল্কল। তরুণী পড়ে আছে বল্গাহরিণের মোটা চামড়া। সেটা শুধু কোমর অব্দি। কিন্তু তার পীনোন্নত বক্ষে রয়েছে রিক্ত বসন। যুবা তরুণীর দিকে তাকিয়ে কেমন বিবশ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ আগেও যে তাদের জীবন সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল, তা যেন সুদূর অতীতের গল্প।

একই স্থান-কালে ষোড়শী নারী ও পুরুষটির কাছাকাছি স্তূপ করা ঘাসের বিচুলির গাদায় আরাম করে শুয়ে আছে দুটো কাঁকড়া বিছা। তাদের একটি পুরুষ অন্যটি নারী। তারপরও যৌনতা যেন সয় না তাদের।

এদিকে তিনশো বছরের যুবা আর ষোড়শী নারী গভীর উš§াদনায় কামলিপ্ত হয়। অতি অভিজ্ঞ বয়স্ক-যুবার কামকলায় ষোড়শী যেন গভীর আবেশে বিবশ হয়ে পড়ে। কী চমৎকার সব কলায় যুবা চষে বেড়ায় অনূঢ়া ভূমির উর্বর খাঁজে খাঁজে।

অন্যদিকে বহুপদী অমেরুদণ্ডী কীট, দুটো কাঁকড়া বিছা, খড়ের গাদায় নির্লিপ্তভাবে দুপ্রান্তে পড়ে থাকে। বছরের কোনো একসময় তারা নিজেদের দু-টুকরো করে বংশবৃদ্ধি করে। কিন্তু যৌনতায় তাদের অভাবিত অনীহা। যৌনসংসর্গে দেহে যে ক্লেশ আর যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়, তার পরিবর্তে নিজেকে দ্বিখণ্ডিত করে বংশধারা রক্ষা করাই অনেক সহজ যেন।

আকাশে এক ফালি চাঁদ উঠেছে। ব্রহ্মপিতা বলেন, ‘একটা মাত্র চাঁদ এখানে? আরও দু-একটা জুড়ে দেব নাকি? এমন একটা চাঁদ বানিয়ে দিই যাতে দিনের মতো রাতেও এখানে বেশ আলোছায়া খেলে বেড়ায়।’

দূত বলে, ‘তুমি কি এসব নিযুত নিযুত প্রাণদের একটুখানি ক্লান্তি কাটানোর সময়টাও কেড়ে নিতে চাও? রাতের আঁধারে ওরা শরীরের ক্লান্তি জুড়ায়। যা আছে তা তো বেশ আছে। তবে ছোট্ট আরেকটা চাঁদ দিতে পারো। তাতে বর্তমান চাঁদ অমাবশ্যার দিন সূর্যের সঙ্গে উদয়-অস্তে গেলেও রাতের বেলা পৃথিবীর অর্ধেকটা পুরো অন্ধকারে ডুবে থাকবে না।’

ব্রহ্মপিতা বললেন, ‘না রে শূদ্র। অমাবশ্যারও দরকার আছে।’

‘তা বেশ, কিন্তু এই কাজটা কি ঠিক হলো?’

‘কোনটা?’

‘একটা সপ্তম প্রজšে§র মেয়ের সঙ্গে ওই বুড়ো লোকটা যে যৌনক্রিয়া করলÑএটা কেমন কথা? ওই তিনশো বছরের পুরুষের ছোট নাতির ঔরসজাত পুত্রের বড় নাতনী ওই ষোড়শী নারী। দুজনের মধ্যে ব্যবধান সাত পুরুষের। এমন নারীর সঙ্গে ওই পুরুষের যৌনতা মানায়? এতে কি মানসিক বৈকল্যের সৃষ্টি হয় না?’

ব্রহ্মপিতা হাসলেন, ‘আরে নির্বোধ, যৌনকর্মে কার সঙ্গে কাকে মানাবে কিংবা মানাবে নাÑএটা তো নির্ধারণেরই কোনো বিষয় না। ওরা কি আর শখ করে মিলন ঘটাল? তুই কি ভুলে গিয়েছিস ওদের শারীরবৃত্তিক-রহস্য? যদি নারী পুরুষ একে-অন্যের প্রতি তীব্র আকর্ষণই বোধ না করবে, যদি সঙ্গমের আকাক্সক্ষায় ওরা উš§ত্তই না-হয়ে উঠবে, তবে এসব প্রজাতির ধ্বংস প্রতিহত করবে কে? এ জন্যই যৌনতার কাছে বড় অসহায় ওরা। আর এটাই ওদের রক্ষা-কবচ। সব সংস্কার ভেঙে ওরা তাই সুযোগ পেলেই পাগলের মতো মেতে ওঠে উতাল যৌনতায়।’

‘কিন্তু...?’

বিধাতা তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তোকে সোমরস দিলে তুই সেদিকে ঝাঁপিয়ে পড়িস কেন? এটা কি সোমরসের গুণ? না। তোর মস্তিষ্কে সোমরস নিয়ে একটা সুখানুভূতি-আবহ সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য আছে। এটা নিমপাতার রসে থাকলে নিমরস খেতেও তুই সারাক্ষণ অস্থির হয়ে থাকতি। ওই যৌনতাও অসংখ্য প্রাণের একটি বিরাট মাদক। এটা পেতে সবাই তাই অস্থির থাকে। আগেই তো বলেছি, এই মাদকের আড়ালে আমি ওদের বংশধারা রক্ষার বীজমন্ত্র পুঁতে দিয়েছি। তাই ওদের আর কি দোষ বল?’

‘তা বটে। ওরা তো পুতুল মাত্র।’

‘কিন্তু দেখ, ওই বহুপদী অমেরুদণ্ডী কীট। এই যৌন মাদকতা ওদের ভেতরে খুব সামান্যই। আর কয়েক পলক পর (কয়েক কোটি বছর পর) ওদের মতো প্রাণ সমূলে শেষ হয়ে যেতে পারে। এখনই ওদের দেহনকশায় এই যৌনমাদকতা ঢোকানো দরকার। দেখ দেখ, ওই ষোড়শী আর যুবকটি কী করছে এখন।’

দূত দেখল বেহুশের মতো ওরা আবারও যৌনমাদকতায় ডুব দিয়েছে, আর দুটো কাঁকড়া বিছার একটি এগিয়ে আসছে ওদের মিলিত শরীরের দিকে। সাক্ষাৎ মৃত্যুদূতের মতো।

দূত বলল, ‘পৃথিবী খুব নৃশংস জায়গা। আমার খুব মন খারাপ লাগে।’ এই বলে দূত আলতো হাতে যেই না কাঁকড়া বিছাটিকে সরিয়ে দিতে গেল অমনি ব্রহ্মপিতা বললেন, ‘তুই এসবে নাক গলাচ্ছিস কেন? এটাই ওদের ভবিতব্য। তুই ঠেকানোর কে?’

‘কিন্তু আমার চোখের সামনে এসব সহ্য হয় না।’

‘তুই কি আমার চেয়েও বড় দয়ালু? আর তুই অন্ধ হলেও কি প্রলয় বন্ধ থাকবে? আমার সৃষ্টিরহস্য বুঝতে না পারলে আমার সঙ্গে থাকার দরকার নেই তোর।’

দূত এবার খুব ভয় পেয়ে গেল। বলল, ‘ঠিক আছে পিতেঃ। এবারের মতো ক্ষমা ভিক্ষা চাইছি। আরেকবার ভুল করলে তোমার সংসর্গের সুখ থেকে আমি নিজেই নিজেকে প্রত্যাখ্যান করব। কিন্তু তুমি কি শাস্তি হিসেবে ওদেরকে মারতে চাও?’

‘কীসের শাস্তি?’ ব্রহ্মপিতা খুব অবাক হলেন।

‘অসম বয়সের যৌনতার শাস্তি।’

‘এটা শাস্তি হবে কেন? একটু আগেই তো বললাম, এটাই ওদের শরীরের ধর্র্ম। সেই বৈশিষ্ট্য তো আমারই তৈরি করা।’

‘কিন্তু পিতেঃ। কীটপতঙ্গ যা ইচ্ছে তাই করুক, মানুষদের প্রতি তোমার তো একটা বিশেষ দৃষ্টি আছে। ওদের স্বেচ্ছাচারিভাবে এসব মানায়? কিছু নিয়ম থাকলে ভালো হয় না?’

‘ভেবে দেখতে হবে। চল আমরা পৃথিবীর আরেক প্রান্তে যাই। ঠিক উল্টো প্রান্তে।’

তাঁরা এবার যেখানে এলেন সেখানে সকাল হয়েছে মাত্র। স্থলভাগে চলছে প্রাণের নিরন্তর যুদ্ধ। এ এক ভয়ানক নিষ্ঠুর খেলা। হয় মরো, নয়তো মারো। দয়ার কোনো জায়গা নেই। তুলনামূলক শক্তিশালী প্রাণ নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করছে তার চেয়ে দুর্বল প্রাণকে, তারপর সেই মৃতদেহ ভক্ষণ করে বাঁচিয়ে রাখছে নিজেকে। একমাত্র বৃক্ষরাই দাঁড়িয়ে আছে স্থাণুর মতো। তাদের বেশির ভাগই এসব ঝামেলায় নেই। ব্রহ্মপিতা দূতকে নিয়ে এবার মহাসমুদ্রের গভীরে ঢুকলেন। স্থলভাগের চেয়েও কী চমৎকার প্রাণের সমারোহে ভরা এ জলজ জগৎ! সেখানেও একইভাবে চলছে বড় মাছের ছোট মাছকে ধরে খাওয়ার প্রতিযোগিতা।

এসব দেখে দূত খুব বিষণœভাবে বলল, ‘এ গ্রহটা যতটা সুন্দর ততোটাই অসুন্দর। এমন নিষ্ঠুর জগতে প্রাণ নিয়ে জন্মানোটাই পাপের সূচনা।’

‘কেন?’

‘এ জগৎ সকলকে হিংসা শেখায় শুধু। অন্যকে ধরো মারো, তবেই নিজে বাঁচো। আর কোনো পথ নেই। এ কেমন কথা?’

‘না হলে উপায় কি বল? কেউ যদি কাউকে না খায় তবে সবাই যে বেঁচে থাকবে, আর তাদের বংশবৃদ্ধির ফলে দুদিনেই পৃথিবী কিলবিল করবে লাখ লাখ প্রজাতির কোটি কোটি প্রাণীতে। সেটা কি ভালো হবে? তার ওপর অনেকেই বছরের পর বছর বেঁচে থাকে, ‘অমর’ই বলা চলে। তাই একে অন্যকে খেয়ে ভারসাম্য ঠিক রাখুক।’

এ কথা বলে ব্রহ্মপিতা কেমন উদাস হয়ে গেলেন। একটুখানি চুপ থেকে সুদূর আকাশপাণে তাকিয়ে বললেন, ‘তবে এবার আমি পাশা খেলব। প্রাণের সঙ্গে পাশা খেলব।’

দূত বলল, ‘তোমার সঙ্গে পাশায় কে জিতবে? সবই তো তোমার পুতুল।’

‘না। একটি ক্ষেত্রে অন্তত একটি প্রাণকে আমি শুধুই পুতুল রাখব না।’

এরপর দুজনে মিলে ঘুরে ঘুরে দেখলেন পৃথিবীর সব রকমের প্রাণবৈচিত্র্য। সব দেখেশুনে দূত বিস্ময়াপ্লুত হয়ে বলল, ‘মহাপিতেঃ! আমি তোমার যতগুলো স্বর্গ দেখেছি তার ভেতরে পৃথিবীই শ্রেষ্ঠ। এর রূপ এতই অপরূপ যে আমি মানুষের মতো রূপ ধারণ করে বছরের পর বছর এখানে, এই মহাসমুদ্রের বালুকাবেলায়, কুঁড়েঘর বানিয়ে খুব সুখেই দিন পার করতে পারব।’

তাঁরা আবার আগের জায়গায় ফিরে এলেন। গভীর রাত এখানে। সমুদ্র থেকে দমকা শীতল হাওয়া দূত ও ব্রহ্মপিতার শরীর জুড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁরা এখন মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছেন। ব্রহ্মপিতা বিমুগ্ধ হয়ে গেলেন। মানুষের শরীরে এত রকমের সুখানুভূতির ইন্দ্রিয় রয়েছে! তাঁর শরীরে শিহরণ খেলে গেল। তিনি পাশা খেলবেন, এই মানুষের সঙ্গেই পাশা খেলবেন।

দূত বলল, ‘তুমি কীভাবে পাশা খেলবে পিতেঃ?’

ব্রহ্মপিতা বললেন, ‘বোধের দিকে থেকে মানুষ হবে এ পৃথিবীর একমাত্র স্বাধীন প্রাণ। তারা একই সঙ্গে হবে ভয়ানক হিংস্র ও প্রেমময়। আর...।’

মহাপিতা উদাস হয়ে পড়েন। গভীর শ্বাস টেনে বলেন, ‘এ জগতের সব রহস্য একে একে ধরা দেবে মানুষের মস্তিষ্কে। মানুষের সঙ্গে এটাই আমার পাশা খেলা। ধাঁধা-আকারে আমার সৃষ্টিরহস্য ছড়িয়ে রয়েছে বিশ^জুড়ে। আর এবার আমি আমার ধীশক্তির গুরুত্বপূর্ণ বোধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলাম মানুষের মস্তিষ্কে, সঙ্গে দিলাম যুক্তিবিশ্লেষণের অসীম ক্ষমতা। দেখি কীভাবে মেলায় এই অসীম রহস্যের জটিল সমীকরণগুলি।’ দূতের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘খেলাটা কেমন?’

দূত বলল, ‘এ তো মানুষের জন্য সহজ খেলা।’

ব্রহ্মপিতা মাথা নেড়ে বললেন, ‘উহু। খুব কঠিন খেলা। পথে পথে কাঁটা বিছানো থাকবে। বিভ্রান্তি থাকবে, একেকটি সত্যের কাছে এসেও সংশয়ে পিছিয়ে যাবে। অযুক্তি আর কুযুক্তির ফাঁদে আটকে যাবে প্রকৃত যুক্তির সিঁড়ি। আর...’ চারদিকে চোখ বুলিয়ে বললেন, ‘তুই ঠিকই বলেছিস, পৃথিবীটা খুবই নান্দনিক, আমার প্রিয় স্বর্গগুলোর একটি হওয়ার যোগ্য। কিন্তু মানুষ এত সুখে থাকলে জগতের সৃষ্টিরহস্য উপলব্ধিই করতে পারবে না কোনোদিন। সুতরাং যতটা সম্ভব দুর্যোগে রাখতে হবে মানুষকে। নিষ্ঠুরসব দুর্যোগ। মানুষ নিজেই তার উত্তরণের পথ খুঁজুক।’

দূত বলল, ‘তুমি কি ভেবে দেখেছো মানুষ যদি এখনকার মতো অমর থাকে, তবে এ গ্রহে একদিন শুধু মানুষই থাকবে, আর সবাই হারিয়ে যাবে। কোটি কোটি মানুষ কিলবিল করবে, শুধু মানুষের নরক হয়ে উঠবে পুরো পৃথিবী। তারপর ধ্বংস ঘটবে পৃথিবীর প্রাণজগতের।’

ব্রহ্মপিতা বললেন, ‘ভেবেছি। এখন থেকে এ জগতে সব প্রাণের নির্দিষ্ট আয়ু হোক। ওদের কোষের ভেতরে এক্ষুণি এ তথ্য ঢুকিয়ে দাও। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জায়মান কোষের ক্ষয় ঘটুক, শরীরে দানা বাঁধুক ব্যাধি-বার্ধক্য। শুধু জনন-কোষ যেন ঠিক থাকে।’

দূত বলল, ‘তাই হবে মহাপিতেঃ।’

তারপর মানুষের ওপর আরোপিত সব বৈশিষ্ট্যের তালিকায় একটিবার চোখ বুলিয়ে চমকে উঠল দূত। ভয় পেয়ে বলল, ‘এটা তুমি কি করেছো মহাপিতেঃ? মানুষকে তুমি তোমার বোধ আর ধীশক্তির মূলসূত্র উপহার দিলে? এতবড় শক্তির চরম অপব্যবহার করলে কী হবে ভেবে দেখেছো? সামান্য আয়ুতেও মানুষই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুর প্রাণী।’

ব্রহ্মপিতা বললেন, ‘আমি পাশা খেলতে চাই। মানুষ যদি এ শক্তির অপব্যবহার করে তবে সে হেরে যাবে। আমি দেখতে চাই মানুষের বৌদ্ধিক উচ্চতা।’

দূত বলল, ‘কাজটা বোধহয় ভালো হলো না। মনে আছে, এমন কাজ এর আগে অন্য গ্রহে করে ভীষণ অনুশোচনা করেছিলে? মহাপিতেঃ, আবার সেই ভুল করলে?’

‘না রে। বড় একটা সংস্কার করেছি। খুব নিষ্ঠুরতার পাশাপাশি প্রেমময় করেছি মানুষকে। আয় না, আমরা কয়েক পলক (এই কয়েক পলকই মানুষের জন্য কয়েক লাখ বছর) অপেক্ষা করি।’

তারপর আকাশগঙ্গা ছায়াপথের মাঝ বরাবর তাকিয়ে বললেন, ‘চল একটুখানি ঘুরে আসি অশ্লেষা নক্ষত্রের কাছে। এই অবসরে মানুষ পাশার দান চালুক।’

যেতে যেতে দূত বলল, ‘তুমি কি হারলে কষ্ট পাবে?’

ব্রহ্মপিতা হেসে বললেন, ‘আমি তো হারতেই চাই। সেটাই আমার জয়।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন