মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

হাসান আজিজুল হকের ভালবাসার গল্প - উত্তরবসন্তে


অন্ধকার বাড়িটাকে আঁকড়ে ধরে থাকে আর শেষ ভাদ্রে গোটা আকাশটার বৃষ্টি বায়ুতাড়িত হয়ে এই বাড়িটার ওপরেই মুষলধারে বর্ষণ শুরু করে দেয়। হাওয়ায় হাওয়ায় ঠোকাঠুকি আরম্ভ হয়, নিরন্ধ অন্ধকারে প্রতিদ্বন্দ্বী ঝড়ো হাওয়াগুলো প্রতিপক্ষকে খুঁজে না পেয়ে একটানা গর্জন করতে থাকে, জনবসতিহীন এলাকাটার আম, কাঁঠাল, নারকেল, সুপারি এবং হিংস্র ভালুকের মতো কালো ঝোপগুলোর মধ্যে দাঁড়িয়ে-থাকা এই প্রায়-শূন্য পুরনো বাড়িটাকে লক্ষ করে রোষে ফুসতে থাকে।
তারপর হয় সকাল, বৃষ্টি ধরে আসে, এই বাড়ির ভেঙেপড়া ছাঁদ থেকে দেখা যায় এক মাইল দূরের গঞ্জের মতো বাজারটার ওপর বাদলা সকালের ফ্যাকাশে আলো
পড়েছে এবং দুটি জেলা শহরের যোগাযোগের কংক্রিটের রাস্তার উপর দিয়ে একটার পর একটা মোটর বাস উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলেছে। কিন্তু তখনও এ বাড়ির শূন্য অভিশপ্ত ঘরগুলোর কোণে কোণে, দৈত্যের মতো গাছগুলোর গোড়ায় রাতের অন্ধকার জমে রয়েছে।

মায়ের ভিজে ভিজে অসন্তুষ্ট বিমর্ষ গলা কানে আসে, সকাল কি এ বাড়িতে হবে না? ছি ছি, এই জঙ্গলে মানুষ বাস করে?

বাণী তখনও বিছানায় শুয়ে। চাদরটা গলা পর্যন্ত টেনে নিয়ে আর একবার ঘুমোবে কি না চিন্তা করে সে। মা বোধহয় রাতের এটো বাসনগুলো বের করছেন। ওগুলো নিয়ে তিনি বাড়ির সঙ্গে লাগাও নোংরা পানাওয়ালা পুকুরটায় যাবেন। একঘেয়ে বিমর্ষ ভেজা গলায় মৃদুস্বরে তিনি বকবক করবেন আর কাজ করতে থাকবেন, এই জঙ্গলে মানুষ বাস করে, ছি! বুড়ো বয়সে এত নাকাল আমার ছিল? মরণ আমার হবে না। কেন আমার মরণ হয় না?

বাণী তখনও শুয়ে। মায়ের অবস্থাটা সে কল্পনা করবার চেষ্টা করে। মায়ের কি কষ্টই না হচ্ছে? চাকর এ বাড়িতে থাকবে না। কেন? এ বাড়িটা দোষ করল কি? এ বড়িটার অপরাধ কি? বাণী চেষ্টা করে ভাবতে। হঠাৎ তার মনে হয় এক্ষুনি কিছু একটা না ভাবতে পারলে সে মরে যাবে। আলাদা একটা বিছানায় গলাগলি করে শুয়ে আছে তার দুই ছোট ভাই, রন্তু আর টুকু। রন্তুটা কি বিড়ি ধরেছে নাকি? ঠোঁট দুটো কালো দেখা যাচ্ছে। একদিন ধরতে হবে । ধরতে পারলে জ্যান্ত রাখব না আমি। এই বয়সে— কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সে কথাটা বাদ দিয়ে বাণী চিন্তা করে, এ বাড়িটাতে বাধ্য না হলে কেউ থাকতে চায় না কেন? কোনো চাকরের সঙ্গেই তো বেতন নিয়ে গোলমাল করা হয় নি। তবে ।

অন্ধকার জমে আছে বাড়িটাতে। আশপাশে আম, জাম, কাঁঠাল বাগানের মধ্যে হতাশ অন্ধকার দলা পাকিয়ে আছে। মাত্র দুটো ঘরের ব্যবহার হয়। এই ঘরটা এত বড় যে হারিকেনের আলো এর একটা কোণের অন্ধকারের আক্রমণও ঠেকাতে পারে না। আর ঐ ঘরটায়, যেটায় মা আর আব্বা থাকেন, সকাল হলেও দেখা যায় হারিকেন জুলছে। কাচটা কালিতে ভরে গিয়েছে আর তার ভিতরে লাল মৃদু আলো যেন—বাণী শিউরে ওঠে। কি দিনে কি রাতে ওর একটাও জানালা খোলেন না আব্বা। দিনের বেলাতেও মশারির ভিতর হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে পাথরের মতো বসে থাকেন আব্বা আর মাঝে মাঝে দাঁত খিচিয়ে চিৎকার করে ওঠেন কারণে অকারণে। আব্বাকে ভাবতে গেলেই তাকে আর আলোর জীব বলে মনে হয় না, অস্পষ্ট অন্ধকারে তাকে যেন জীবন্ত বলেই মনে হয় না। শুধু সেই স্তব্ধ ঘরটার ভিতর থেকে তার বৃদ্ধ রুগ্ন গলা শোনা যায়, মহাপাপ করেছি জীবনে, মহাপাপ করেছি, না হলে এত কষ্ট হয় আমার আর আমার ভাগ্যেই যত সব অপদার্থ জন্মায়?

টুকু আর রন্তু আরামে ঘুমোয়। বাণী গলা পর্যন্ত চাদরটা টেনে নিয়ে আর একবার চিন্তা করে, মাকে সাহায্য করব নাকি একটু? বুড়ো মা!

এদিকের এই দুটো বাদ দিয়ে বাকি ঘরগুলো সব (গোটা চারেক হবে) বন্ধ। মা তার বেঁকে পড়া কোমর নিয়ে থপথপ করে হাঁটতে হাঁটতে রান্নাঘরে গেলেন বাণী টের পায় ।

তিনি তখন বলছেন, সকাল হলো, না, বেলা হলো বোঝবার যো নাই বাবা! আবার পোড়া বাদলা আরম্ভ হয়েছে। বাদলা হলেই-বা কি আর না হলেই-বা কি? ঐ জঙ্গলের জ্বালায় কিছু বোঝবার উপায় আছে? জনমনিষ্যি নেই—ছি ছি ছি, এমন দেশ ভূভারতে দেখি নাই—

তীক্ষ্ণকণ্ঠে ধমকে উঠলেন আব্বা, বকবক করছে কে? খবরদার বলছি, সকালবেলায় ঘ্যান ঘ্যান করবে না। খবরদার কিন্তু—নিজের কাজ করো!

মা জবাব দেন, ওমা, তোমাকে কে কি বলেছে? তোমাকে তো কথা বলি নি, তুমি চ্যাঁচাচ্ছ কেন?

আমাকে কিছু বলার দরকার নেই। কাউকে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। কাজ করো, খবরদার বকবক করবে না।

মা বিড়বিড় করতে থাকেন, একে বকবক করা বলে! আমার তো আর মরণ হয় না |

আবার!

মা একেবারে চুপ করে যান।

আব্বা যেন এই বাড়িটাকে চুপ করিয়ে রাখার ভার নিয়েছেন। হঠাৎ যদি একটা কাক ডেকে ওঠে, নিজের ঘর থেকে তিনি চিৎকার করে উঠবেন, তাড়িয়ে দাও, তাড়িয়ে দাও, শনিটাকে তাড়িয়ে দাও ।

ঐটুকু ছেলে রন্তুর ফোলা ফোলা মুখটা গম্ভীর আর টুকু যদি কোনো কারণে উচ্ছসিত হয়ে ওঠে, সেজন্য তাকে এমনি ধমক খেতে হয় যে, নিজের পছন্দ-অপছন্দ, ভালো-লাগা, মন্দ-লাগা আবেগ—উচ্ছাস এমন কি ভালোবাসা-ঘৃণা পর্যন্ত সে প্রকাশ না করতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছে না থাকলেও বাণী উঠে পড়ে। মা ইতোমধ্যে উনুন ধরিয়েছেন। সকালের খাবার তৈরি হবে। প্রত্যেকে পাবে তিনটি করে শুকনো রুটি আর একটুকরো গুড় । তারপর এক কাপ চা। সাড়ে নটার বাস যাবার আগে পর্যন্ত বাণী একটু পড়বে, তারপর স্নান করবে, গতরাতের বাসি তরকারির সাথে ডাল দিয়ে গরম ভাত খেয়ে প্রস্তুত হয়ে নেবে। মা রান্না করতে করতে বলবেন, টুকু এক বালতি পানি নিয়ে আয় পুকুর থেকে। টুকু চুপচাপ দাঁড়াবে মায়ের কাছে, তারপর বলবে, দাও ।

তুই নিজে নিতে পারছিস না? বড় বালতিটা নিয়ে যা।

আমি অত বড় বালতিতে পানি আনতে পারি না।

খাবার বেলায় তো ঠিক আছিস! যা ছোটটাই নিয়ে যা। দাঁড়িয়ে রইলি কেন? বাণী তরকারিগুলো একটু কুটে দিতে কি হয় তোমার? একটু উপকার করলে কি তোমার হবে?

কাজ রয়েছে যে মা!

কাজ? সব সময়েই কাজ ।

টুকু তার দশ বছরের ছোট্ট শরীরটাকে বাঁকিয়ে চুরিয়ে এক বালতি পানি নিয়ে আসে। তারপর না হাফাবার ভান করে। বাণী তরকারিগুলো নিয়ে শেষ পর্যন্ত বসেই যায় ।

জানো মা?

কি?

আর একটা বছর । আমি বি.এ. পাস করব অনার্স নিয়ে । তখন আর আমাদের কোনো কষ্ট থাকবে না।

মায়ের চোখ দুটি যেমন স্তিমিত তেমনি নিস্পৃহ। তার ঘোলাটে দৃষ্টি একবারও চকচক করে না। বেঁচে থাকার যন্ত্রণাটা ভোগ করা ছাড়া তার যেন বেঁচে থাকার আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। - এর মধ্যে একদিন টুকু গম্ভীর মুখে এসে বাণীর হাতে এক টুকরো কাগজ গুঁজে দিলI

কি?

এইটা তোমাকে দিয়েছে।

আমাকে দিয়েছে? কে?

গনি । -

গনি কে? দেখি—কাগজটা খুলে পড়ে বাণী। বলে, বাঁদর।

তাকেই বলল না গনিকে, বুঝতে না পারলেও টুকু চুপ করে দাঁড়িযে থাকে।

চিঠি নিলি কেন?

আমাকে দিয়েছে।

তুমি নিয়েছ কেন? তারপর বাণী হঠাৎ প্রশ্ন করে, গনি কে রে? কেমন ছেলেটা?

তুমি তাকে দেখেছ বুবু। ঐ-যে প্যান্ট পরে মুখে সিগারেট নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বাজারে ।

কি করে সে?

জানি না।

নিশ্চয় জানিস । বল কি করে?

জানি না। বাসের ড্রাইভাররা যে দোকানে বসে চা খায়, সেখানে বসে তাদের সঙ্গে গল্প করে ।

তুই থাকিস সেখানে?

না ।

না? মিথ্যা বলছিস?

টুকু চুপ করে থাকে।

চিঠিটা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে পা দিয়ে মাড়াতে মাড়াতে বাণী গর্জন করে ওঠে, বাদর, ইতর, শুয়ার, স্যান্ডেলে তোমার দাঁত ভেঙে দেব আমি। এই গাধা, আর কোনোদিন যদি তার কাছ থেকে চিঠি নিবি কি তার সঙ্গে কথা বলবি, আমি তোমায় আস্ত রাখব না ।

বাণী নিজের স্যান্ডেলটার দিকে চায়। ওটা দিয়ে সে যদি কাউকে এক ঘা দেয়, স্যান্ডেলটা আর থাকবে না। কাউকে পেটানোর জন্য নতুন স্যান্ডেল কিনবে এমন- এমন-

বাণীর হাসি পেল এই অদ্ভুত চিন্তায় । ছেলেটাকে চিনতে পেরেছে সে। বাসস্ট্যান্ডে সে সাড়ে নটার সময় প্রত্যেকদিন থাকে। আশপাশে ঘুর ঘুর করে। মাতব্বর চালে এর ওর সঙ্গে কথা বলে, সিগারেট টানে। বিশ্রী উটমুখো ছেলেটা।

তুমি আমার মধ্যে যে কি এনে দিয়েছ—বাণীর মুখটা রাগে অপরূপ হয়ে ওঠে, দাঁড়াও তোমার মধ্যে আমি কি এনে দিয়েছি দেখাবো, উলুক। ভালোবাসা জানানো বের করছি তোমার।

ভালোবাসা? কথাটা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটা ভীষণ ধাক্কা খেল বাণী । সেটা কি জিনিস?

কয়েকদিন আগের পুরনো ভাবনাগুলোকে ঠেলে উঠে পড়ে সে। সাড়ে নটার বাস আসার সময় হয়ে গেল। বাঁধানো খাতাটা হাতে নিয়ে, কলমটা বুকে গুজে, স্যান্ডেল চটাস চটাস করতে করতে সে বেরিয়ে আসে। লম্বা বারান্দা শেষ হতে চায় না। আব্বার গলা কানে আসে, সকালবেলায় ওঠে এই লোহার মতো শক্ত রুটি আমি কোনোদিন খাই? কেন নিয়ে আসা হয় আমার সামনে?

মৃদুকণ্ঠে মা বলেন, তাহলে কি খাবে বল?

বিষ খাব, বিষ খাব । যাও, নিয়ে এসো।

মা আবার শান্তকণ্ঠে বলেন, বিষ তুমি খাবে কেন? আমি খাব।

যাও যাও, সামনে থেকে যাও—মশারির ভিতর থেকে আব্বা চিৎকার করে ওঠেন। মুড়ি নিয়ে আসি?

খানিকটা যেন পছন্দ করেন আব্বা, বলেন, না।

মা মুড়ি আনাবার জন্যে রন্তুর খোঁজ করেন।

বারান্দা থেকে নামবার পরেই বাণীর সঙ্গে রন্তুর দেখা হয়। বাণী বলল, আব্বার মুড়ি এনে দিতে হবে। মা ডাকছেন, যা।

না, আমি পারব না।

আব্বা তাহলে খাবেন কি?

জানি না। যখন বাজারে গেলাম তখন বলতে কি হয়েছিল?

ঐটুকু ছেলের মুখে কি আশ্চর্য নিষ্ঠুরতা।

বাণী রাস্তায় উঠতেই সাড়ে নটার বাস এসে গেল। হু হু করে হাওয়া বইছে, তারই প্রচণ্ড প্রতিকূলতার মধ্যে বাসটা এসে দাঁড়ালো। চেনা ছেলেটা পান খাওয়া ময়লা দাঁত বের করে একটু হেসে চেঁচিয়ে উঠল, লেডিজ, সিট ছেড়ে দেন। বাণী পিছনে মেয়েদের সিটে বসে পড়ল। আগাগোড়া থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বাসটা তীব্রবেগে বাঁক নিয়ে বাজারটার শেষ প্রান্তে বাসস্ট্যান্ডে এসে থামল ।

হ্যাঁ আছে, সেই ছেলেটা আছে। পরনে খাটো প্যান্ট। শার্টটার বোতামগুলো খুলে দিয়ে কলারটা ঘাড়ের দিকে চিতিয়ে দিয়েছে। বাণীর মুখের পেশিগুলো কঠিন হয়ে উঠল। স্যান্ডেলটার দিকে তাকায় সে। একটা স্ট্র্যাপ ছিঁড়ব ছিঁড়ব করছে।

ছেলেটা বারকতক ঘোরাফেরা করল বাণীর আশপাশে । সোজাসুজি তাকালও দু একবার। আড়চোখে একবার ওর দিকে চেয়ে নিল বাণী । ঐ তো উটমুখো ছেলেটা, বেশ সিগারেট খাচ্ছে, এর-ওর সঙ্গে কথা বলছে। সে আবার চিঠি দেয় একটি মেয়েকে! লেখে, আমার মধ্যে তুমি কি যে এনে দিয়েছ। তোমাকে আমি দেখব, আজ নয় আর একদিন দেখব ।

হুইসেল পড়ল, হকারটা নেমে গেল এবং একটু পরেই বাসটা ছেড়ে দিল । ঠিক পনেরো মিনিট লাগবে কলেজে পৌঁছুতে।

বাণী বাইরে চেয়ে রইল, ভালোবাসা কথাটা আর একবার মনে হতেই চমকে উঠল, ভাবল, নেই, কথাটা কোথাও নেই, ঝড়ো হাওয়া উদাম হয়ে উঠল, বাণী ভাবল, গনি আমাকে চিঠি লেখার সাহস পায় কোথা থেকে, বাতাস ভীষণ এলোমেলো হয়ে উঠল, কন্ডাক্টর ঝগড়া শুরু করল এক যাত্রীর সঙ্গে। পনেরো মিনিটের মাথায় বাসটা বাণীর গন্তব্যস্থানে এসে পৌছুল। সে যখন ঝড়ো বাতাসটার হাত থেকে প্রাণপণে আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করতে করতে কমনরুমে এসে পৌছুল, তখন ইতিহাসের ক্লাস আরম্ভ হতে আর দেরি নেই। ওর সহপাঠী মেয়েরা ক্লাসে যাওয়ায় উদ্যোগ করছে। ওকে দেখে কলরব করে উঠল মেয়েগুলো। ডলি বলল, ইশ, যে-রকম আবহাওয়া, ভাবলাম আজ আর বুঝি আসতেই পারলে না।

বাণী মৃদু হাসল। আঃ, সেই বাড়িটা থেকে, তার কোণে কোণে জমা অন্ধকার থেকে, ঐ বাগানটার জমাট জনহীন স্তব্ধতা থেকে, মায়ের বিমর্ষ বকবকানি আর আব্বার ভীষণ চিৎকারের কাছ থেকে পালিয়ে এখানে আসা কতটা আরামের!

ইতিহাসের নতুন অধ্যাপকের পিছনে পিছনে ওরা দোতলার ঘরে এসে ঢুকল। গতকাল কাজে যোগ দিয়েছেন ভদ্রলোক, কালকের ক্লাসে বাণী আসতে পারে নি। ভদ্রলোক ধীরে-সুস্থে রোল ডাকতে শুরু করলেন, রোল নাম্বার ওয়ান।

বাণী ওর মুখের দিকে চাইল। আস্তে আস্তে কুঁচকে উঠল তার ভুরু । অধ্যাপক ডেকে চললেন। তার পর রোল ডাকা শেষ হলে একটুখানির জন্যে দু হাতের মধ্যে মাথা গুঁজলেন। যেন কি বলবেন মনে মনে ঠিক করছেন। যতক্ষণ তিনি নাম ডেকে গেলেন, বাণীর কপালের মাঝখানে একটার পর একটা রেখা পড়তে লাগল এবং তিনি যখন রোলকল শেষ করে এনেছেন, তখন বাণী প্রায় অসুস্থ। একটা অদম্য আবেগ যেন ফেটে পড়তে চাইছে আর সেটাকে চেপে রাখতে তার মুখ লাল হয়ে উঠেছে। কানের পাশে চূর্ণ কুন্তলগুলো এই ভিজে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার মধ্যেও ঘেমে-ওঠা কপালে লেপ্টে লেগে গিয়েছে। তারপর পাতলা ছিপছিপে অল্পবয়স্ক ফর্সা অধ্যাপকটি যখন বক্তৃতা দেওয়ার জন্যে উঠে দাঁড়িয়েছেন, তখন কি একটা দেখতে পেয়ে বাণী যেন চিৎকার করে উঠবে। বক্তৃতা শুরু করার আগে ক্লাসটার দিকে একনজর চেয়ে নিতে গিয়ে অধ্যাপকের চোখ একটুক্ষণের জন্যে বাণীর ওপর আটকে থাকে। চিকচিক করে ওঠে দৃষ্টি, তারপর স্বাভাবিক কণ্ঠে তিনি পড়াতে শুরু করে দেন।

বর্ধমানের পুরনো জেলা শহরটার লাল রোদের কথা মনে পড়ে। শহরের সে দিকটা নাকি এখন নতুন করে গড়ে উঠেছে। চেনবার উপায় নেই। কিন্তু তখন সেই ভাঙা বিশাল বাড়িগুলোর ওপর, লাল সুরকি ঢালা সরু রাস্তাগুলোতে আর একটু পশ্চিমে জনবিরল দিঘিটার কালো পানিতে কি আশ্চর্যভাবেই না লাল রোদ পড়ত। সেই রোদ আর কোনোদিন দেখবে না বাণী ।

বাসায় থেকে বাণী আর তার বড় বোন পড়ত। বাণী স্কুলে আর লিপি কলেজে। বাণী হেঁটে হেঁটে যেত স্কুলে, শহরের পুবদিকে আর লিপি যেত কলেজে মাটির পাহাড়ের মতো উচু পাড়ওয়ালা প্রায় জনহীন দিঘিটার দক্ষিণ পাড় ঘেষে, ঘন ঝোপ আর জঙ্গলের পাশ দিয়ে, লাল সুরকি ঢালা রাস্তা ধরে, শরতের বেলা দশটার লাল রোদের মধ্যে পুরনো ধ্বংসাবশিষ্ট নিথর বাড়িগুলোর পাশ দিয়ে যেতে যেতে লিপি নিজেকে ভাবত রাজকন্যা। নির্জন, ভেঙে-পড়া, ঝোপ-জঙ্গলে ভরা বাড়িগুলো সত্যিই পরিত্যক্ত রাজপ্রাসাদের মতোই মনে হতো। আর সেই সময়ে লিপি রাজকন্যাই হয়ে গিয়েছিল। একদিন বিকেলে সে বাণীকে বলল, বেড়াতে যাবি?

কোথায়?

আমার এক বন্ধুর বাড়ি। একটা দরকারি বই আনতে যাব । যাবি?

চল যাই ।

ওরা সেই সুরকি ঢালা লাল রঙের রাস্তাটা ধরে স্যান্ডেল হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে পৌছেছিল দিঘিটার পূর্বকোণে। আর সেখানে সেই বিরাট দেবদারুর নিচে গাছটার দীর্ঘশ্বাস শুনতে শুনতে আনমনে বাদাম খাচ্ছিল ছিপছিপে শিশুর মতো-মুখ একটি ছেলে। বাতাস এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল তার চুল আর লিপির শাড়ির আঁচল পৎ পৎ করে উড়ছিল। সে কিছুতেই সামলাতে পারছিল না।

ছেলেটি হাসল।

লিপি বলল, কতক্ষণ এসেছ?

অনেকক্ষণ। তোমার এত দেরি হলো! একলা আসতে সাহস হচ্ছিল না বুঝি? লিপি হাসল। সূর্যের যে রোদ পশ্চিমের কয়েক খণ্ড মেঘকে আবীরের মতো রাঙা করে দিয়েছিলো সেই রোদ প্রতিফলিত হলো তার ঠোঁটে।

সে বলল, ঠিক। একলা আসতে সাহস হচ্ছিল না। আমার বোনকে সঙ্গে এনেছি। ৰণীর একটা হাত ধরে আবার বলল, আমার বোন আর আমার বন্ধু, বুঝলে?

বুঝেছি।

আশ্চর্য, আশ্চর্য ছিল লিপি বাণীর সখীর মতোই ছিল সে। একটু বেশি বয়সে বাণী তখন স্কুলের গণ্ডি পার হবার পরীক্ষা দিয়েছে। লিপির দিকে চেয়ে বাণী বলল, তুই কোন বন্ধুর বাড়ি যাবি বললি না?

না, আজ আর যাব না।

এখানে এলি কি জন্যে?

হো হো করে হেসে উঠেছিল ওরা দুজনে ।

আঃ, সেই হাসিটা মনে পড়লে এখনও আমাকে চমকে দেয়। আমাদের বাড়ির বন্ধ ছোট ঘরের অন্ধকারের ভেতর থেকে হাসিটা যেন ঠা ঠা করে বেজে ওঠে । লিপি আমাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল কেন? বোধহয় আমার সাহায্য চেয়েছিল, বোধহয় আমাকে গোপন করতে চায় নি কিছু। সে তো কোনোদিন কিছুই গোপন করে নি আমার কছে। বোধহয় এত বড় ব্যাপার একা করতে সাহস হয় নি, আমাকে দেখাতে চেয়েছিল যে সে সত্যি করেই রাজকন্যা হয়ে গিয়েছিল। নিষ্ঠুর স্বার্থপর, তার ভালোবাসার সাক্ষী রেখেছিল আমাকে। ।

সে সময় প্রায় প্রত্যেকদিন বিকেলবেলায় দেখা হতো কবীরের সঙ্গে । তারা তিনজনে বাদাম খেত আর দেবদারু গাছটার নিচে বসে বসে গল্প করত। হু হু করে দীর্ঘশ্বাস ফেলত গাছটা। দিঘিটার কালো পানিতে পড়ন্ত সূর্যের আলো পড়ত। বাড়ি এসে এক বিছানায় শুয়ে বাণীর গলা জড়িয়ে ধরে লিপি একটানা কথা বলে যেত, কবীরকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। এবারই তো সে অনার্স নিয়ে বি.এ. পাস করবে। তারপর আর দু বছর মাত্র।

তুই ওকে বিয়ে করবি? -

নিশ্চয়, বিয়ে করব না তো এমনি! আমাকে সাহায্য করবি না তুই?

হ্যা, করব না কেন?

বাণীর গলা জড়িয়ে ধরে কথা বলতে বলতে লিপি ঘুমিয়ে পড়ত। দিন দিন ওর ঠোঁট আর গাল রক্তিম হয়ে উঠল। ওর সুঠাম গ্রীবা দৃপ্ত আর গর্বিত। ঘুমের মধ্যে হাসি লেগে থাকত তার মুখে।

কোনো কোনোদিন ওরা গল্প করত আর বাণী ঘুরে বেড়াতো। তারপর সন্ধ্যা হয়ে এলে ওদের কাছে যেতে যেতে অস্পষ্ট কথা কানে আসত, আঃ, আঃ, লক্ষ্মী, লক্ষ্মী!

হঠাৎ হেসে উঠত কবীর আর চেঁচিয়ে বলত, এখন এদিকে এসো না, এই বাণী ।

না, যাব—লম্বা লম্বা পা ফেলে বাণী এগিয়ে যেত আর লিপি ধড়মড় করে উঠে বসত। সন্ধ্যার ধূসর অন্ধকার তখন নেমে এসেছে, হেমন্তের আরম্ভে শীত শীত করছে বাতাস। কবীর বলত, তুমি ভীষণ দুষ্টু, বুঝলে?

বাণী কমনরুমের এককোণে একা বসে তার কপাল টিপে ধরল। ওদের ভালোবাসা জন্মাতে দিয়েছি আমি! আমি স্রেফ দর্শক ছিলাম। আমি কিছুই জানি না। না, আমি আর কিছুই জানি না। শেষের দিকে কবীর আমাকে পীড়াপীড়ি করেছিল, যেন আমি তাকে তুমি বলি। সে হঠাৎ স্থিরভাবে চাইত আমার চোখে । কিন্তু আমি আর কোনো কিছু জানি না |

সেবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আর ফিরে আসা হলো না। সব বন্ধ করে দিতে হলো। ঢাকা থেকে বড় ভাই সমস্ত ব্যবস্থা করে ফেললেন আর তার নিপুণ ব্যবস্থায় আমরা বিনিময় করে পাকিস্তানে আসতে পারলাম মাস তিনেকের মধ্যে। কবীরের খবর জানি না। আমরা তো বেশ রয়েছি। বড় ভাই থাকতে চিন্তার কারণ নেই। স্বাচ্ছন্দ্য না থাকলেও যাকে অভাব বলে তাতো নেই। কিন্তু অত বড় বাড়িটা অন্ধকার। আর বাপমায়ের কাছে জীবনটা জীর্ণ ন্যাকড়ার মতো বাতাসে উড়ছে। কোনোকিছুই তাদের পরিচিত আর প্রিয় নয়, ছোট ভাই দুটি নিরানন্দ । আমরা রিফুজি, উদ্বাস্তু।

বাপ-মায়ের কাছে মনে হয় জীবনটা জীর্ণ ন্যাকড়ার মতো বাতাসে উড়ছে। ওদিকের ঐ বন্ধ ছোট ঘরটায় লিপি যে থার্ড ইয়ারে পড়তে পড়তে একদিন তার সমস্ত ভালোবাসা নিয়ে মরে যাবে তা আমি জানতাম না। আর আজ লিপি যে গিয়েছে সে কথা প্রায় যখন ভুলতে বসেছি, এতদিন পরে, ভালো করে বাচবার আকুল চেষ্টায় এই পঁচিশ বছর বয়সে যখন লেখাপড়ার আর একটা উদ্যম চলছে, যখন ভালোবাসা কথাটা উচ্চারণ করলেই আমার বুকটা ধক করে ওঠে, তখন ইতিহাসের নতুন অধ্যাপক কবীর সাহেব আমাকে সেই লাল রোদের কথা আবার মনে করিয়ে দিল ।

আশ্চর্য ।

তার পরদিন ক্লাসে মাথা নিচু করে রইল বাণী আর অনুভব করল কবীরের দৃষ্টি ঘুরতে ঘুরতে যখন তার উপরে এসে স্থির হচ্ছে তখন হঠাৎ কথা আটকে সে কেমন এলোমেলো ও বিব্রত হয়ে পড়ছে। ক্লাসের শেষে করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যখন মেয়েগুলো এগিয়ে গিয়েছে, ছেলেরা দৌড় দিয়েছে আর একটা ক্লাস করার জন্যে আর বাণী একেবারে আনমনা হয়ে পড়েছে, তখন হঠাৎ কবীর দাঁড়িয়ে গিয়ে ওর দিকে চেয়ে চাপা গলায় ফিসফিস করে বলল, আমি তোমাকে চিনতে পেরেছি!

বাণী কবীরের চোখের দিকে সোজা চেয়ে বলল, আমিও।

তবু পরিচয় দাও নি?

কি হবে পরিচয় দিয়ে? অত্যন্ত ক্লান্ত শোনালো বাণীর কণ্ঠস্বর।

কেন বলছ একথা?

যদি তুমি চিনতে না পারো, কিংবা চিনতে না চাও?

অত্যন্ত আঘাত পেল কবীর, তুমি বলছ একথা?

এখানে কথা হয় না, পরে হবে—বাণী মন্থর পায়ে এগিয়ে গেল আর শেষ ভাদ্রের জলো ঝড়ো উদ্দাম বাতাসে, নির্জন লম্বা কড়িডোরে হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে রইল কবীর।

মেয়েদের কমনরুমের পাশে ফাঁকা নির্জন জায়গাটায় কবীর ইতিহাসের অনার্সের ছাত্রীটিকে ডেকে পাঠালো। বাণী আসতেই যেন ব্যাকুল হয়ে উঠল, সে কোথায়? জানো ওখান থেকে বি.এ. পাস করার পর হঠাৎ এখানে চলে এসেছি সকলের সঙ্গে । এখানে ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে ঘুরতে ঘুরতে এই মফস্বলে। আমি তাকে কত খুঁজেছি।

একদিন আমাদের বাড়ি আসবে?

লিপির কথা বলছ না কেন?

নিষ্ঠুর হাসি ফুটল বাণীর ঠোঁটে, আমাদের বাড়ি এসো একদিন ।

বাণী চলে এলো কমনরুমে।

তারপর একদিন বিকেল পাঁচটায় বাসটা ধিকিয়ে ধিকিয়ে এসে গঞ্জের মতো বাজারটায় এসে থামল। ভাদ্রের সন্ধ্যা আসন্ন হয়ে উঠেছে, পুবদিক থেকে বাতাস বইছে প্রবল, কংক্রিটের রাস্তা থেকে নেমে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে সঙ্কীর্ণ অন্ধকার রাস্তাটা ধরে চলতে চলতে বাণীর পাতলা ঠোঁট দৃঢ়বদ্ধ হলো। কবীর বলল, এঃ, তোমাদের বাড়িটা কোথায়? বাণী যখন বলল, এই যে, এসো আমার সঙ্গে, তখন তারা আম-কাঁঠালের জটলার মধ্যে বিরাট, ভাঙা, খাঁখাঁ করা, ভৌতিক, বিমর্ষ, অসন্তুষ্ট বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কবীর যেন কথা বলার শক্তি হারালো ।

রন্তু আর টুকু কোথায় গিয়েছে। মা রান্নাঘরে। আব্বা নিজের ঘরে মশারির মধ্যে। কবীরকে দাঁড়াতে বলে ভিতরে গিয়ে নিজের ঘরটা খুলে দিল বাণী। বলল, ভেতরে এসে ৰসো। চেয়ার নেই, বিছানায় বসো। মাকে বলে আসি একটু চা করতে।

না না, আমি চা খাব না।

কটুকণ্ঠে বলে উঠল বাণী, একটু চা-ই তো খাবে।

চাপা বিমর্ষ অন্ধকারে ভূতের মতো বসে রইল কবীর।

বাণী মায়ের কাছে পুরনো চাবিগুলো চাইল ।

চাবি নিয়ে কি করবি?

আমার এক প্রফেসর এসেছেন, বাড়িটা একটু ঘুরে ঘুরে দেখাই।

আঁতকে উঠলেন মা, খবরদার, ঘরগুলো খুলিস না, খুলিস না বাণী?

কেন মা?

না, না, খুলিস না মা! মা ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন।

মা, মাগো—চোখ ভরে পানি নিয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরল বাণী, খোলা যে দরকার মা!

চাবি নিয়ে কবীরকে ডাকল সে, ছোট্ট ঘরটার দরজার সামনে দাঁড়ালো, চাবি খুলল, তারপর ধাক্কা দিতেই জমাট দরজা খুলে হা হয়ে গেল, উদাম বাতাস ঘরে ঢুকল, অপর্যাপ্ত দুরন্ত হাওয়া আর আসন্ন সন্ধ্যার আকাশ থেকে তীব্র, চাপা, নিষ্ঠুর একটা আলো ঘরটাকে বীভৎস করে তুলল।

লিপির হাস্যস্ফুরিত বড় ছবিটা হাওয়ায় দুলছে।

বাণী থেমে থেমে বলল, লিপি ।

বিশ্রী গুমোট ঘরটার মাঝখানে দু হাতে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে রইল কবীর। আব্বা চিৎকার করে উঠলেন তার ঘর থেকে, ও ঘরটা খুলল কে? কে খুলল ঘরটা? অ্যা?

বাণী বলল, এখন তোমাকে যেতে হবে কবীর। এ-বাড়ির সবকটি মানুষ অসুস্থ।

বাণীর ঘরে এসে বিস্বাদ কটু চা-টা কোনো রকমে খেয়ে কবীর বলল, আমি আজ আসি ।

চল, তোমাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসব।

ওরা চলতে চলতে যখন রাস্তার পাশে বড় বটগাছটার নিচে এসেছে, কবীর ডাকল, বাণী ।

সে ডাকটা শুনে প্রথমে ভীষণ চমকে উঠল বাণী, তারপর শিউরে উঠল সর্বাঙ্গে । আর কবীর আস্তে আস্তে টেনে নিল ওর হাতটা নিজের হাতের মধ্যে। ফিসফিস করে বলবার চেষ্টা করল, তুমি আমাকে কোনোদিন বুঝতে পারলে না বাণী, কোনোদিন চেষ্টা করলে না ।

ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল বাণী, না, আমাকে লোভী করে তুলো না। আমরা সবাই অসুস্থ । আমাদের লোভী করতে নেই। আমাদের কোনো অধিকার নেই জীবনে।

দ্রুত ফিরে এলো সে। বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে কানে এলো আব্বার চিৎকার, অ্যা, বন্ধু আসছে আজকাল? বন্ধু নিয়ে আসা হচ্ছে? বাঃ, চমৎকার! তাহলে পাখা গজিয়েছে, উড়ল বলে!

কবীর কি এখনও অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রয়েছে? বাস পেলেও কি সে বাসটায় ওঠে নি?


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন