বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬

মনোজ বসু'র ‘নিশিকুটুম্ব’, ভালোর অভিশাপ

উপন্যাস পাঠপ্রতিক্রিয়া
রুমা মোদক

মনোজ বসু'র আকাদেমি পুরস্কার প্রাপ্ত দুখণ্ডের দীর্ঘ উপন্যাস' নিশিকুটম্ব’। প্রথম প্রকাশ ‘১৯৬০’। অনাহুত অবাঞ্চিত, অবরেণ্য এক পেশাজীবী, রাত্রিকালীন আগন্তুক, লোকচক্ষুর অন্তরালে গোপনে যাদের কর্মতৎপরতা, ধৃত হলে শাস্তি ভোগ যাদের অনিবার্য পরিণতি, আইনের হাতে, চাই কী জনতার হাতেও। কুটুম্বের মতো আদরনীয় নয় যারা মোটেই, তাদের নিশিকুটুম্ব নামকরণটাই ব্যাঙাত্মক। সেই নিশিকুটুম্বরা যখন সাহিত্য পদবাচ্য হয়ে উঠে, সে সাহিত্য পাঠকনন্দিত ও স্বীকৃত হয় পুরস্কারে, তখন পাঠক মাত্রই কৌতুহলাক্রান্ত হবে এতে বিস্ময়ের কিছু নেই।
বহুলশ্রুত এই উপন্যাসটি আমার প্রথম পাঠ্য। কেবলই মুগ্ধ পাঠ বলা যথেষ্ট নয়। কেননা বিশালায়তন উপন্যাসটির অধ্যায় থেকে অধ্যায়ান্তরে একের পর এক উন্মোচিত হতে থাকা নিশাচর কিছু মানুষের করুণ জীবনের ইতিবৃত্ত, ঘটনা-দুর্ঘটনা, অভিজ্ঞতার সমন্বয়-- পাঠ-অন্তে যে গভীর করুণায় দ্রবীভূত হয় পাঠক মন, তাই বোধকরি লেখকের অভিপ্রায় আর সার্থকতা। সাহেব-এর মতো নিশিকুটুম্বদের গড়ে উঠার করুণ নিষ্ঠুর ইতিবৃত্ত বলতে বলতে লেখক যেভাবে শেষতক পৌঁছে যান মানবাত্মার সুকুমার বৃত্তির উন্মেষের চিরন্তন উপলব্ধিতে, তা অভিনব। 

সাহেব, নিশিকুটুম্ব উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসের শুরুতে তার সাথে পাঠকের পরিচয় হয় চমৎকার ভঙ্গিতে। নবপরিনীতা এক নারীর সাথে শরীরী প্রেম বিনিময়ের ভাষায়। পাঠককে বিস্ময়াবিভূত করে সেই প্রেমময় বর্ণনা অপূর্ব ভঙ্গিমায় বাঁক নেয় ‘নিশিকুটুম্ব’ সিঁধেল চোর সাহেব এর জীবন বৃত্তান্তে। প্রাথমিকভাবে দৃশ্যপটে যে নারী আশালতা, পরবর্তীতে সাহেবের সিঁধেল কাঠি নিতে আসার সময় আবার ফিরে আশালতাকে একটি নজর দেখতে যাওয়ার বাসনা তাড়িত যাত্রায়, সরল পাঠকমন বুঝি এখানেই পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের প্রাথমিক কাজটি সেরে বসে কিন্তু না, তখনো জানা হয় না লেখকের গন্তব্য আরো অনেক দূরে, এ যাত্রা আরো বিস্তৃত। বরং যে মূহুর্তে প্রেমস্পর্শের আবেশ ভেঙে জেগে উঠে আশালতা, তার পিত্রালয়ের সমস্ত মানুষ, পুরো গ্রামবাসী, ঠিক সেভাবে জেগে উঠে পাঠকও। ধীরে ধীরে পরিচয় ঘটতে থাকে খ্যাতনামা চোর পচা বাইটার যোগ্য শিষ্য ‘সাহেব’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্ধকারের মানুষগুলোর সাথে। অতপর উপন্যাসের গভীরে প্রবেশ করতে করতে উন্মোচিত হতে থাকে এই নিশীথে সচল হয়ে উঠা অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষগুলোর অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার করুণ ইতিবৃত্ত। যে ইতিবৃত্ত ‘অন্ধকার’ কিংবা ‘অন্ধকারের মানুষগুলো’ নয় বরং অনিবার্য বাস্তবতার প্রতি ক্ষুব্ধ করে পাঠককে। পাঠক খুঁজে ফিরে আসল ‘অপরাধী’কে যা কোনোভাবেই এই ‘নিশিকুটুম্ব’ নামধারী মানুষগুলো নয়। বরং করুনায় ভালোবাসায় হৃদয় আর্দ্র হয় এই নিশিকুটুম্ব নামধারী মানুষগুলোর জন্য। বোধকরি লেখকের অভিপ্রায় ও উপন্যাসের বর্ণনায় তিনি ব্যঙ্গে-উপহাসে, প্রচলিত প্রবাদে, কথোপকথনে, প্রকৃতি পরিবেশের বনর্ণায় নির্মোহ বলে যান ‘নিশিকুটুম্ব’দের বৃত্তান্ত। যেন-বা তাদের প্রতি কোনোই পক্ষপাতিত্ব নেই লেখক সত্ত্বার। কিন্তু উপস্থাপন-ভঙ্গিতে পাঠক হৃদয় ঠিক করুণায় আর্দ্র হয় পরিস্থিতির অনিবার্য শিকার মানুষগুলির যাপিত জীবনের দুর্ভোগে দুর্দশায়।

কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘সাহেব’, গায়ের নামের জন্য যে নামেই প্রসিদ্ধ সে, কেতাবী নাম ‘গণেশ’, গণেশ পাল, যা মাঝে মাঝে নিজেই ভুলে যায় সে। নফরকে তার কথিত বাবা আর সুধাময়ী তার পালিত মা। সাহেব তার জন্মের ইতিবৃত্ত জানে না, সাহেব কেন, কেউ জানে না। বলধিকারী বলেন সয়ম্ভু। এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথাও নেই তার। তবে গায়ের রং সাক্ষ্য দেয়, বনেদী (?) রক্ত তার গায়ে। কি আসে যায় তাতে, জন্মমাত্র গঙ্গাঘাটে নবজাতককে ত্যাগ করে যারা, তাদের অবয়ব বয়ে নিয়ে চলাতে বরং কুণ্ঠিত সাহেব। নিষিদ্ধ পল্লীর যে সুধাময়ীর কাছে লালিত পালিত সে, তার সাথেই কিছু মানবিক সম্পর্ক তার। কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটিকে নিজের হারানো সন্তানসম বুকে তুলে নিয়ে ‘ভদ্রলোক’ করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখলেও, সুধাময়ীর সে স্বপ্ন পরাজিত হয় রূঢ় প্রয়োজনের কাছে। ক্ষুন্নিবৃত্তির নিষ্ঠুর প্রয়োজনে, রানীর কানের মাকড়ি চুরির মধ্য দিয়েই নিশিকুটুম্ব হয়ে উঠার যাত্রা শুরু সাহেবের। অগ্রাহ্যে অক্ষম প্রয়োজনই তাকে টেনে নেয় বাঁকা পথে, যা এড়ানো দুঃসাধ্য তার। এ যেন এক নিয়তির অদৃশ্য সুতো, সাহেব চাইলেও ছিঁড়তে পারে না, ছেঁড়া যায় না। কিন্তু প্রতিবার ‘চৌষট্টি কলার বড় কলা’, ‘চুরি বিদ্যা- বড় বিদ্যা’ সম্পাদনের পর তার মনে যে অনুশোচনা জাগে কিছু- ঠিক প্রথমদিন রানীর কানের মাকড়ি জোড়া ফিরিয়ে দেয়ার বাসনা থেকে যে বিপরীত বাসনার জন্ম, সাহেব প্রতিবার মনে প্রাণে অস্বীকার করতে চেয়েছে তার। আপাদমস্তক একজন সৎ ‘নিশিকুটুম্ব’ই হতে চেয়েছে সে। অলক্ষ্যে থাকা জৈবিক পিতামাতার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছে, কে জানে পিতা নাকি মাতা কার মানসিক দুর্বলতার উত্তরাধিকার বহন করছে সে? জীবনের ভার যারা নেয়নি, তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ভার বহন করতে হচ্ছে তার?

সাহেব’ এর সাথে জীবনের নানা বাঁকে জড়িয়ে যাওয়া মানুষগুলো ক্ষুদিরাম, বলাধিকারী, সুধাময়ী, নফরকেষ্ট, রানী পারুল, সুভদ্রা, পচা বাইটা, বংশী, সবাই নিজেদের দারুন করুন বঞ্চনাময় অতীত নিয়ে জীবন্ত চরিত্র একেকজন। জীবনের নিষ্ঠুরতম অভিজ্ঞতা পীড়িত তাদের বর্তমান। যে অভিজ্ঞতার ইতিবৃত্ত পড়তে পড়তে পাঠকমন বিভ্রান্ত নয়, সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। প্রচলিত ধারণাগুলো ভেঙে চুরে যায়। দোষ কী দেয়া যায় এই মানুষগুলোর, প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা যাদের দোষী সাব্যস্থ করে?

কেন সুধাময়ী বাধ্য হয় নিষিদ্ধ পল্লীর জীবন বেছে নিতে? কেন আত্মহত্যায় মুক্তি খুঁজে নিতে হয় ভুবনেশ্বরীর, কেনো সৎ দারোগা জ্যাদ্বন্ধু আত্মসমপর্নে বাধ্য হয় অন্ধকার জগতের কাছে, কেনো প্রথাবদ্ধ গার্হস্থ্য জীবনের স্বপ্ন নিয়ে রানীকে হারিয়ে যেতে হয় নিষিদ্ধ জীবনে, কেন সুপণ্ডিত হয়েও বদনাম ঘুচে না পচা-বাইটার ছেলে মুকুন্দর?

খুব কঠিন নয়, প্রশ্নগুলোর উত্তর। উপন্যাসে লেখকের কাংক্ষা মতোই প্রতিটি ঘটনা-উপঘটনা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর রেখে যায় নির্মোহ স্বাভাবিক বর্ণনায়। পাঠককে উত্তর খুজার জন্য হণ্যে হতে হয় না পাঠ্য অন্তরালের অন্য কোনো সত্যে।

যেমন ধরা যাক সুধাময়ীর কথা, “সত্যের বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল সুধামুখীর, বিশ বছরে সব ঢুকিয়ে বুকিয়ে বাপের বাড়ি উঠলো', তারপর বৈধব্যের কঠোর সংযমের ফাঁক গলে বয়সের স্বাভাবিকত্বে জীবনে যে পুরুষ আসে পিতৃত্বের দায় অস্বীকার করে পালায় সে। উপায়হীন জীবনে সুধামুখী তো সৎপথই খুঁজে নিতে চেয়েছিলো নবজাতক আত্মজার হত্যা মেনে নিয়ে, প্রেমিকের প্রতারণা ভুলে। কিন্তু সমাজ এমন কী নিজের পরিবার ওতো সহমর্মিতার হাত বাড়ায় নি তার দিকে। বরং তারাও ধিক্কারে ধিক্কারে জর্জরিত করেছে তার ব্যক্তিজীবন। লেখক যখন খুব নির্মোহ স্বাভাবিক সে বর্ণনা দিয়ে যান, সুধামুখীকে পৌঁছে দেন নিষিদ্ধ পল্লীতে, তখন আমরা পাঠক মোটেও আর সুধামুখীকে দোষী সাব্যস্থ করি না।“মানুষ হল মহিষের রকমফের, সবুজ মাঠে চরে চরে সুখ হয় না; এঁদো ডোবায় পচা পাঁকে গিয়ে পড়বে। পড়তেই হবে।” জীবনের সব প্রাপ্তি উপচে পড়া সত্ত্বেও রাজবাহাদুরের মতো যারা সন্ধ্যা হলেই নিষিদ্ধ পল্লীতে সুখ খোঁজার এ যুক্তি দেখায়, এ যেনো মানুষকেই উল্টে পাল্টে দেখার প্রয়াস লেখকের। খুঁজে দেখার প্রয়াস জৈবিক পাশবিক বৃত্তি আর অর্জিত মানবিক বৃত্তি যমজ দুসহোদর নিয়ে বাস করা মানুষ, প্রকৃতপক্ষে কতোটা কঠিন কুপ্রবৃত্তি দমন পূর্বক সুপ্রবৃত্তির অনুসারী হওয়া? এই যে ‘সাহেব’ নিশিকুটুম্বের কেন্দ্রীয় চরিত্র, ‘জন্মই যার আজন্ম পাপ’, চুরির মাল বিক্রি করতে গিয়ে না জেনে ‘জোচ্চুরি’তে ধরা পড়া স্যাকড়ার কাছে দু টাকা করুনা পেয়ে যার জীবন সংগ্রাম শুরু, নদীর পাড়ে ঘুমিয়ে যার রাত কাটে, শীত কাটে শশ্মানের আগুনের আঁচে, কী ভয়াবহ তার জীবন সংগ্রাম, খুঁজে পেতে, চুরি করে একসময় পুরো অন্ধকার নিশিতেই হারিয়ে যাবার জীবন সংগ্রাম, সে ও তো একবার ফিরে রানীর কাছে, কৈশোরের ভালোবাসার কাছে। সুধামুখীর স্মৃতির কাছে। কিন্তু রূঢ় বর্তমান আহত করে তাকে দ্বিগুণ রূঢ়তায়। সাহেব বুঝে নেয় চাইলেই ফেরা যায় না। তারজন্য মায়াময় ভালোবাসার আঁচল পাতা নেই কোথাও। সে আবার ফিরে যায় পুরানো জীবনে। এই পরিণতির জন্য কী কেবল সাহেবের প্রবৃত্তিই দায়ী? এককথায় কী পৌঁছা যায় এমনতর সরল সমাধানে? না, যায় না।

মূলত উপন্যাসটি এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু শুরু থেকেই লেখকের প্রবণতা বিস্তারিত বয়ানের। অনেক উপঘটনা, মূল কাহিনীর জন্য খুব প্রয়োজনীয় নয় এমন ঘটনার কিংবা চরিত্রের বর্ণনাও তিনি বিস্তারিত দিয়েছেন, যা হয়তো মূল কাহিনীর জন্য খুব প্রয়োজনীয় নয়, এমন ঘটনার কিংবা চরিত্রের বর্ণনাও তিনি বিস্তারিত দিয়েছেন, যা হয়তো প্রায়শই মূল কাহিনীর রসাস্বদনের ধারাবাহিকতায় বিঘ্ন ঘটায়। তবু এক অমোঘ কৌতুহল শেষ পর্যন্ত পাঠকে টেনে নিয়ে যায় সাহেবের বার্ধক্য। রানীর বর্তমান দেখে ফিরে এসে সাহেব অতপর অন্য মানুষ। জীবনের প্রতি পিছুটানহীন, পেশার প্রতি নিবেদিত প্রাণ এক বাউন্ডুলে। পরিণত বয়সে বার্ধক্যে তার স্মরণে আসে যৌবনে গুরু পচা-বাইটাকে, যার কাছে বিদ্যা শিক্ষার জন্য হন্যে হয়ে পড়েছিলো সাহেব একদা, মনে হয় এই পরিণতিগুলো যেনো পুনরাবৃত্তি কেবল। উপাপদ দারোগা বার্ধক্যে ন্যুব্জ। বৃদ্ধ সাহেবের কাছে যখন দারগাগিরি ফলায়- ‘আমি যদিন থানার উপর আছি, একলা তুই নোস, সব চোর ছ্যাঁচড়দের ও ধার্মিক হয়ে যেতে হবে’- তখন প্রাজ্ঞ চোখে দেখে যাওয়া জীবনের সব অভিজ্ঞতার নির্যাস টানে সে, এসব ধর্মের কথা ভালোই জানা আছে তার, ধর্মের জন্য নয়, মূলত সে গঙ্গায় যেতে চায়- জন্মসূত্রে যে গঙ্গার পুত্র সে, মরণেও সেখানে ভাসতে চায় বলে। চোর হিসাবে সাহেব তখন কিংবদন্তি। দারোগা, পুলিশ, প্রশাসনের মনোযোগের কেন্দ্রে সে। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে নিয়তি পর্যদুস্ত এক সহায় সম্বলহীন মানুষ বই কিছুই নয়। শেষ বয়সে ছোট দারগার হাতে ধরা পড়ার পর সে নিজের নিস্বতার কথা জানায় এভাবে- একটা সাকিন পাকা আছে হুজুর সেই মাত্র জানি, এখানে নয়, ওপারে গিয়ে। কুম্ভীপাক নরক। যে বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে সে, সেই বাড়ির কত্রী নমিতা যখন না খাইয়ে ছাড়েনা সাহেব-চোরকে, তখন চোখের সামনে সারিসারি মুখগুলো ভাসে সাহেব চোরের। মানব জীবনের দর্শন মূর্ত সত্য হয়ে উঠে- “মানুষ জাতটারই দোষরে, চেষ্টা যতই কর, মন্দ হবার জো নেই”। যেমন সুধামুখীর ঘরে ঠাণ্ডাবাবু বলতেন- অমৃতের পুত্র, মরতে সবাই গররাজি। চোরদের ‘নিশিকুটুম্ব’ দের জগত-সংসার ঘুরে অবশেষে লেখক জানান সাহেব-চোরের আত্মোপলব্ধি-ভালোর অভিশাপ বুঝি তার একার উপরই নয়। জীবনে বিস্তর ভালো দেখেছে সে। যাদের দেখেনি তাদের মধ্যেও না জানি কত রয়েছে। আর যাদের মন্দ দেখেছে, বোধ হয় সাহেবের-আজকে মনে হচ্ছে ঢং দেখিয়ে তারা মন্দ সেজে বেড়ায়। দায়ের মুখে ভালো মূর্তিটা বেরিয়ে পড়বে। কী বলতে চান তবে লেখক নিশিকুটুম্ব উপাখ্যান শেষ করে? হ্যাঁ শেষ পর্যন্ত মানুষ মানুষই। অমৃতের সন্তান। ভালো আর মন্দের সংঘাতে ভালো হয়ে উঠার বাসনাই তাঁর আজন্ম বাসনা। আর মন্দ যেটুকু, তার যতোটা দায় সহজাত প্রবৃত্তির, বুঝিবা তারচেয়ে বেশি বিভেদময় ব্যবস্থার। সমাজ প্রথা রীতি, শোষণ, আইন, নিয়ম ইত্যাদি বিচিত্র মুখোশে ব্যক্তিসত্ত্বাকে আক্রমণ করে সে। নিশিকুটুম্ব পাঠ শেষে সাহেবের জন্য একরাশ মমতা অতঃপর বোধ হয়- অমৃতের পুত্র মানুষের মানবিকতার জয়ই সভ্যতার শেষ কথা।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন