বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

সেন্সরশিপ

সোমেশ্বর ভৌমিক

সেন্সরশিপ-এর উদ্দেশ্য মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত চিন্তাভাবনা, মতপ্রকাশ, মতের আদানপ্রদান, সংযোগের আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা। বলা হয়, এই নিয়ন্ত্রণ না-থাকলে নানা অবাঞ্ছিত, অপকারী মতামতের পথ ধরে সমাজ দূষিত হবে। সমাজপতি, ধর্মীয় নেতা আর প্রশাসনিক কর্তাদের এই স্পর্শকাতরতার ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। 

যুগে যুগে মানুষ নিজের কথা অন্যকে বোঝাতে চেয়েছে। তার ভাবপ্রকাশের সীমানা আত্মীয়, বন্ধু আর পরিচিতের ছােট্ট গণ্ডি ছাড়িয়ে ক্রমশ প্রসারিত হয়েছে অপরিচিতের মহলেও । আদানপ্রদান আর সংযোগের এই ব্যাপক ক্ষেত্রটিকে ঘিরে তৈরি হয় তাৎপর্যের নানা ছক, বিভিন্ন বৃত্ত। কারণ, সমাজ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত; আর শ্রেণিতে শ্রেণিতে আছে চাহিদা আর স্বার্থের তারতম্য, এমনকী সংঘাত। ইতিহাসের নানা যুগে মতপ্রকাশের মতো বিষয়ও এসে পড়েছে এই সংঘাতের বলয়ে। মতেমতান্তরে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়েছে। তৈরি হয়েছে জটিলতা। এইসব জটিলতার পথে তৈরি হয়েছে সেন্সরশিপের বিচিত্র ইতিহাস ।

প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যে অভিজাত ধন্যবান সম্প্রদায় প্যাট্রিশিয়ানদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার নিষ্কণ্টক রাখার জন্যে একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু ছিল। প্রত্যেক শহরে একজন রাজকর্মচারী অধিবাসীদের ব্যক্তিগত এবং সম্পত্তিগত যাবতীয় বিবরণ নথিবদ্ধ করতেন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে। নগর-সমাজের নৈতিক স্বাস্থ্যের তদারকিও ছিল এই রাজকর্মচারীদের এক্তিয়ার। ওপরে ওপরে এটা আদমশুমারি হলেও, বকলমে এটি একধরনের গোয়েন্দাগিরি। এর খপ্পর থেকে বাঁচতেই যিশুর বাবা-মা-কে (জোসেফ আর মারি) যিশুর জন্মের ঠিক আগে গালিলি প্রদেশের নাজারেথ শহর থেকে পালিয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল তাদের জন্মভূমি জুদাইয়া প্রদেশের বেথলেহেম-এ। পেশায় কাঠের মিস্ত্রি জোসেফ-এর পক্ষে অন্য প্রদেশে বাস করা ছিল বেআইনি। লাতিন এই প্রথার নাম ছিল 'সেন্সাস । বিশেষ্যটি ক্রিয়াপদে রূপান্তরিত হয়ে দাঁড়াত “সেন্সের'-এ, যার অর্থ গণনা করা।

খ্রিষ্টোত্তর যুগের প্রথম দেড় হাজার বছর ইউরোপের সমাজ আর রাজনীতিতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছে খ্রিষ্টধর্মের বিভিন্ন অনুশাসন। এর মধ্যে মিশে ছিল গ্রিক, রোমান আর ইহুদি সভ্যতার নানা উপাদান। সেই সুবাদে সেন্সরশিপও ঢুকে পড় খ্রিষ্টীয় পরিমণ্ডলে। এর প্রত্যক্ষ অভিঘাতে অধাৰ্মিক, অবিশ্বাসীদের ওপর নেমে এল নিয়ন্ত্রণের, এমনকী চরম নির্যাতনেরও, খড়গ । কেড়ে নেওয়া হল তাদের মতপ্রকাশের অধিকার। বাজেয়াপ্ত হল, নিষিদ্ধ হল, পােড়ানাে হল তাদের লেখাপত্র আর বই। ডাইন বা ডাইনি নাম দিয়ে তাদের বন্দি করা হল, শূলে চড়ানাে হল অথবা পুড়িয়ে মারা হল। ধর্মের নামে তৈরি করা হল বর্বরতার নতুন মাত্ৰা! স্পেন-এ ইনকুইজিশন-এর তাণ্ডব আর জোন অব আর্ক-এর হত্যাকাণ্ড এরই ফল। আদমশুমারির সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ‘সেন্সর’ শব্দটি এখন নির্যাতনের হাতিয়ার। 

ষোলোর শতকে সেন্সরশিপ পেল নতুন তাৎপর্য । রাজনৈতিক প্রশাসনিক পরিকাঠামােয় এই পদ্ধতি স্বীকৃতি পেল। সারা ইউরোপ জুড়েই তখন চলছে সামন্ততন্ত্রের সঙ্গে পুঁজিবাদের মতাদর্শগত লড়াই। শাসক অভিজাত শ্রেণির মূল্যবােধ আর ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে উঠতি বুর্জোয়ারা। এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সেন্সরশিপই হল অভিজাতদের অবলম্বন। ইংল্যান্ডে টমাস মাের-এর কুখ্যাত বিচার-এর উদাহরণ। অবশ্য সেন্সরশিপ-এর ধর্মীয় অনুষঙ্গ তখনাে সমান কার্যকর। এই শতকেরই উল্লেখযোগ্য ঘটনা, গালিলেও-র নির্যাতন আর জিওর্দানাে ব্রুনাে-কে আগুনে পুড়িয়ে মারা । 

সেন্সরশিপকে আরো সংগঠিত করা হল সতেরো শতকে। পালাবদলের ঢেউয়ে, প্রশাসনিক সঙ্কট ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ-এর দেশে-বিদেশে। সবচেয়ে ক্ষতি হল ইংল্যান্ডের। স্টুয়ার্ট বংশীয় রাজাদের অপদার্থতায় বিক্ষোভে উত্তাল হল সমাজ। এরই মােকাবিলা করতে সে দেশের কোনাে-কোনাে কাউন্টিতে ‘সেন্সর’ নামে একটি পদ তৈরি করা হল। বলা হল, “এই সরকারি কর্মচারীর কাজ হবে প্রকাশের আগেই বই, পত্রিকা নাটক ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা আর এটা সুনিশ্চিত করা যে, সেগুলিতে নীতিবিগৰ্হিত বা প্রতিষ্ঠিত রীতিপদ্ধতির পক্ষে অমর্যাদাসূচক অথবা রাষ্ট্রের পক্ষে ক্ষতিকর কিছু নেই।’ এটা ১৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দের ঘটনা। 

প্রশাসনের এই তৎপরতা থেকেই বােঝা যায়, সমাজে তখন প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার হাওয়া প্রবল হয়ে উঠেছে। রেনেশাঁস আর এনলাইটেনমেন্ট-এর প্রভাবে বহু মানুষ মুক্ত চিন্তার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। সমাজ, ধর্মপ্রতিষ্ঠান আর রাষ্ট্র অনুমােদিত, বলা ভালো আরোপিত, চিন্তার গণ্ডিকে তারা মানতে অস্বীকার করেছেন। রাষ্ট্র আর প্রশাসনের পক্ষে সে বড়ো সুখের সময় নয়। ঘটনাচক্রে ১৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দেই কবি জন মিল্টন তার অ্যারিওপ্যাগিাটিকা (Areopagatica) বইতে দাবি জানালেন ‘সর্বোত্তম সেই স্বাধীনতা'- র যা মানুষকে দেবে "সব কিছু জানার অধিকার, অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার এবং বিবেকের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ করার অধিকার’। প্রতিষ্ঠানবিরোধীদের এইসব দাবির প্রত্যুত্তরে ১৬৬২ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে পাস হল “অনুমোদন আইন' (Licensing Act) । মুদ্রিত পত্র-পত্রিকায় কুরুচিপূর্ণ, সরকারি বা ধর্মমতে আপত্তিকর এবং রাষ্ট্রস্বার্থের পরিপন্থী কোনােকিছু যাতে জনসাধারণের সামনে প্রকাশিত হতে না পারে, সেজন্যে প্রকাশের আগেই সরকারি অনুমোদনের বিধান দেওয়া হলো এই আইনে। এই আইনের আওতায় এল নাটক এবং নাট্যাভিনয়ও। 

‘অনুমোদন আইন’ অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ আধুনিক এই প্রথার ঝোঁকটা প্রাক্‌-নিয়ন্ত্রণের ওপর, যার পোষাকি নাম pre-censorship। কণ্ঠরোধের নতুন আয়োজন প্রতিষ্ঠানবিরোধীদের হত শক্ত করল। এতদিন ," মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আটকে ছিল দার্শনিক তত্ত্বের গণ্ডিতে। নতুন প্রেক্ষিতে তা রুপান্তরিত হল মতাদর্শগত হাতিয়ারে। সমাজকরমীদের তীব্র আন্দোলনে \র চাপে ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে তৈরি হল ‘বিল অব রাইটস’ বা ‘অধিকারের সনদ’। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বীকৃতি পেল। শেষ পর্যন্ত ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে ইংলয়ান্ডের পার্লামেন্ট বাতিক করল কুখ্যাত ‘অনুমোদন আইন’। 

কিন্তু আধুনিক সেন্সরশিপের ইতিহাস এখানে শেষ নয়। বরং এখানেই তার শুরু। আঠারো শতকে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের সূত্রে পূঁজিবাদীরা সামন্তবাদীদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিল প্রাধান্যের পতাকা। একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি হল ইউরোপ-এর অন্যান্য দেশেও। এই লরাইয়ে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের সময় ঘোষিত মানবাধিকার সনদ এবং ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে আমেকায় রচিত ‘বিল অব রাইটস্‌’। এইভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়ে বুর্জোয়ারা প্রমাণ করতে চাইল তারা প্রগতির ধ্বজাধারী। বিশেষত প্রকাশিত রচনা, বই, নাটক, খবর বা পত্রপত্রিকা এমনকী পাঠানাে চিঠিপত্র পরীক্ষা করে দেখার জন্যে নানারকম আইন তখনাে ছিল। মূলত সামন্তবাদী, অভিজাত শ্রেণীর সুবিধার্থে। সুবিধা পেয়েছিল ধর্মগুরুরাও। 

উনিশ শতকেই অবস্থা আমূল বদলে গেল। পৃথিবী জুড়ে পুঁজিবাদের প্রাধান্য নিরঙ্কুশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুঁজিবাদীরা তাদের ভূমিকা পরিবর্তন করল। তাদেরই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের ওপর নতুন করে খবরদারি শুরু হয়ে গেল। এ ব্যাপারে তারা পাশে পেল সমাজের রক্ষণশীল অংশ এবং ধর্মীয় অংশ। এদের সম্মিলিত উদ্যোগে তৈরি হল সেন্সরশিপ-এর চারটি উপাদান==

১. অভিভাবকত্ব বা প্রাধান্য বজায় রাখার তাগিদ।
২. সামাজিক স্বাস্থ্যরক্ষার তাগিদ।
৩. ধর্মীয় অনুশাসনের চাপ
৪. রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখার তাগিদ।

তবে সেন্সরের পুঁজিবাদী কায়দা একটু সূক্ষ্ম । পুঁজিবাদীরা খাতায় কলমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মেনে নিয়েছে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে । এটা উদারতার মুখোশ। পাশাপাশি তারা এটাও বলে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ হতে পারে না; স্বাধীনতা চালিত করবে কিছু ‘ যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ’ (Reasonable Restraint)। পুঁজিবাদী সমাজে সেন্সরশিপ হল এই যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ’-এরই অংশ। তবে এখানে প্রকাশমাধ্যম অনুযায়ী সেন্সরশিপ-এর তীব্রতায় তারতম্য হয়। খবরের কাগজ, বই বা পত্রপত্রিকা সাধারণভাবে এর আওতায় পড়ে না। ক্ষেত্রবিশেষে নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হয় নাটক এবং সিনেমায়। তাছাড়া সেন্সরশিপকে পুঁজিবাদীরা বলে নিছকই এক আপৎকালীন ব্যবস্থা। জরুরি প্রয়োজনের উপাদান। কাকে বলা হবে আপৎকালীন অবস্থা বা জরুরি প্রয়োজন তার খুব স্পষ্ট ব্যাখ্যা কোনাে দেশের আইনেই নেই। তা নির্ভর করে সমাজপতি, ধর্মপ্রতিষ্ঠান বা শাসকশ্রেণির স্বার্থের ওপর। তাদের বিচারের ওপর। আর যদি উপস্থিত হয় সেই জরুরি প্রয়ােজন (Emergency), তখন ছাপাখানা, নাটক, সিনেমা, টেলিভিশন এমনকী চিঠিপত্রের ওপরেও আরোপিত হয় নিয়ন্ত্রণ। সবই আইন মেনে । 

কিন্তু দেশে যখন কোনো জরুরি অবস্থা থাকে না, সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কী হয়? আমেরিকান সাংবাদিক রিশার্ড কাপুসিন্‌স্কি লিখেছিলেন, জনমতকে প্রভাবিত করার জন্যে একনায়কতন্ত্র প্রয়োগ করে সেন্সরশিপ আর গণতন্ত্রে ব্যবহার করা হয় আরো সূক্ষ্ম কৌশল বা ছল। ইংরেজিতে ম্যানিপুলেশন বললে ব্যাপারটাকে এককথায় চেনা যায়। আমেরিকান ভাষাবিজ্ঞানী ও সমাজতান্ত্রিক নােয়াম চমস্কি অবশ্য একে ম্যানিপুলেশনের বদলে বলছেন প্রোপাগান্ডা—উদ্দেশ্যমূলক প্রচার। তাঁর কথায়, গণতন্ত্রে এই প্রচারের ভূমিকাটা একনায়কতন্ত্রে ব্যবহৃত মুণ্ডরেরই (bludgeon) মতো। এডওয়ার্ড এস. হেরম্যান-এর সঙ্গে লেখা ‘ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট : দ্য পলিটিক্যাল ইকনমি অব মাস মিডিয়া’ বইতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রের ম্যানিপুলেশনের চেহারাটা বিশদ বর্ণনা করেছেন চমস্কি। তাদের বক্তব্য, পুঁজিবাদের বর্তমান পীঠস্থান আমেরিকা যুক্তরাশট্রের ব্যক্তিপুঁজি- নির্ভর গণমাধ্যমগুলো প্রশাসনের নানা কৌশলে প্রভাবিত হয়ে রাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলির সমর্থক বা সরাসরি প্রবক্তা হিসেবেই কাজ করে। ইউরোপের উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলোতেও এভাবেই রাষ্ট্রলালিত মিথ্যা বা ছলনা বৈধতা পায় । পুঁজিবাদপ্রভাবিত তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোর চরিত্র অবশ্য গণতন্ত্র আর একনায়কতন্ত্রের মাঝামাঝি। শান্তি-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন বা নৈতিকতার অজুহাতে সেখানেও নানাভাবেই চাপিয়ে দেওয়া হয় সেন্সরশিপ। আর কখনো-কখনো ব্যবহারিক কৌশলে রাষ্ট্র আদায় করে নেয় নাগরিক সম্মতিও—যেমন হয়েছে স্বাধীন ভারতে ফিল্ম সেন্সরশিপ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে।

বিশ শতকে সেন্সরশিপের চরম রূপ দেখা গেছে একনায়কশাসিত, সামরিক বাহিনী বা কমিউনিজম-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন রাষ্ট্রে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাহ্য করেই সেখানে রাষ্ট্রশক্তি তার ক্ষমতা জাহির করেছে। সেন্সরশিপ হয়ে উঠেছে রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য শর্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন