শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭

অমর মিত্র'র গল্প : শ্রাবণে ফাগুনে শ্রাবণে

চম্পাকলির নাম কুসুমকুমারী দিয়েছিল দাদু। কবি জীবনানন্দ দাশের মায়ের নামে নামের এই স্নিগ্ধতা, সুগন্ধ। দাদু নাকি কবিতা লিখতেন। জিজ্ঞেস করলে লজ্জা পান, ও কিছু না। রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে জোড়াসাঁকো থেকে তাঁর শবযাত্রায় সঙ্গী হয়েছিলেন একটি স্বর্ণচাঁপা তাঁর পায়ের কাছে রাখবেন বলে। শ্রাবণ মাস ছিল তো। কিন্তু তিনি পারেননি। ঠাকুরদা বলেন, খুব ভীড় আর বিশৃঙ্খলা, রবি ঠাকুরের নাগালই পাননি। আশ্চর্য, সেই স্বর্ণচাঁপা গাছটি রবিবাবুর প্রয়াণের পর শুকিয়ে গিয়েছিল আপনা আপনি। দাদুর কথা শুনে কুসুমের চোখে জল। তারপর কুসুম জন্মালো পঞ্চাশ বছরেরও তিন বছর পরে। দাদু একটা স্বর্ণচাঁপা আবার নিয়ে এসে তাদের বাড়ির সমুখে পুতেছিলেন। সেই গাছও শুকিয়ে গেছে। স্বর্ণচাঁপা ফুল নিয়ে কুসুম কতদিন কৌশিককে দিয়েছে, এই ফুলের গন্ধ নাও, ফুরোয় না।

কতদিন আগের কথা তা। এখন এই দম আঁটা অফিসে বসে মনেও করতে পারে না তা কতদিনের। কুসুম যে কারণে ছেড়েছে কৌশিককে, অফিস তা ঘটিয়ে দিচ্ছে। আমার একদম ভাল লাগে না বাবা, আমার সমস্ত স্বপ্ন শেষ করে দেবে এরা। 

জয়েন করার আগে বলেছিল,১০টা থেকে ৬টা, আট ঘন্টা ডিউটি। শনি রবি ছুটি। অফিস ক্যামাক স্ট্রিটে। তাহলে তার রিহার্সালে কোনো অসুবিধে হবে না। আর শো-এর দিনে সে একটু আগে বেরোবে, পরের দিন সেই সময়টা পুষিয়ে দেবে বেশিক্ষণ থেকে। কিন্তু আটটা- সাড়ে আটটার আগে অফিস শেষই হয় না। সাড়ে পাঁচটা থেকেই যেন কাজের পাহাড় এসে জমা হয়। নিউ অ্যারাইভাল ডাটা এনট্রি কমপ্লিট করো, নেটে দেখে নাও ফলতা রায়পুরে হোটেল র‍্যাসিডন- এর রিভার ফেসিং এক্সিকিউটিভ রুম, টু রুমস, বুক করে দাও মিঃ এস কুলকারনির নামে, ১৫ আর ১৬-ই ফেব্রুয়ারি। আহমেদাবাদের একটা মেইল ছিল, রিপ্লাই করো। ড্রাফট আমার কাছে প্লেস করো। বড় একটা অর্ডার আসবে রামমোহন ফাউন্ডেশন থেকে, খোঁজ নাও অনলাইন…... এমনি কত কাজ। আর ক্যালকুলেশন তো আছেই। কুসুমের একদম ভাল লাগে না। কিন্তু ছেড়ে দেওয়াও কঠিন। ছমাস বাদে কনফারম হলে কুড়ি হাজার হয়ে যাবে স্যালারি। এরা ইংরেজি বইয়ের ব্যবসা করে। শো-রুম বন্ধ হয় রাত আটটায়। আটটা অবধি তাই ছলে বলে আটকে রাখে অফিসে। বুক শপ এবং পাবলিশিং বলে চাকরিতে ঢুকে দেখছে বস কেন অফিসের বাকি দশজনেরও বই নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। বই নয়, সিনেমা নয়, নাটক তো নয়ই। সকলেই চেষ্টা করে যাচ্ছে একে অন্যকে ঝামেলায় ফেলতে। কেউ যদি ভুল করে, বিশেষত কুসুম যদি ভুল করে তখন নন্দিতা, সৃজনী, বলাকারা তাই নিয়ে ঘোঁট পাকিয়ে দেয়। কুসুম নাটক করে, অভিনেত্রী, তা শুনে সকলেই বলেছে, এখানে কাজ করে অভিনয় হবে না। ওসব ছেড়ে দাও। ধুর, অভিনয় করে কী করবি তুই, মধুবালা হবি, নাকি রিয়া সেন হবি। ইস, থিয়েটার বলে যে অভিনয়ের আর একটা জায়গা আছে, তা ওরা জানেই না। থিয়েটার করিস, পাড়ায় কি থিয়েটার হয় আজকাল। উঠেই গেছে। শখের থিয়েটার করে তোর কী হবে, কাজ কর মন দিয়ে আর মস্তি কর। চ ডায়মড হারবার ঘুরে আসি, হুইস্কি খেয়েছিস কোনোদিন? 

অটো বায়োগ্রাফি অফ অ্যান আননোন অ্যাক্ট্রেস, মারাঠী থিয়েটারের এক অভিনেত্রীর আত্মকথা, সে বসকে বলেছিল, স্যার, বইটা আমি কতয় পাবো?

বই, এই বই, কেন, কী করবে?

নিজের কাছে রাখব। কুসুম বলেছিল।

নিজের কাছে রেখে কী হবে? স্যার জিজ্ঞেস করেছিল, অফিসে বসে বই পড়বে?

নো, নো স্যার, তা কেন, বাড়িতে, আমি তো অভিনয় করি।

স্যার, দিবাকর ভট্টাচার্য চুপ করে ছিলেন। আর কোনো কথা জিজ্ঞেস করেননি। তাঁর মুখ দেখে মনে হয়েছিল খুব সন্তুষ্ট হননি। অভিনয় ! বই সে অফিসে পড়বে কেন? পড়বে না। কিন্তু নেটে পড়লে স্যার কি বুঝতে পারবেন? নেটে সৃজনী, নন্দিতারা বসে বসে পানু পড়ে। হি হি করে হাসে। আরে বাংলা পানু, ইংলিশ সেক্স স্টোরিজ, এই তুই কি মেরিলিন মনরো হতে পারবি? 

ওরা কিছুই জানে না। জানে কি মেরিলিনের মৃত্যুর কথা? মৃত্যু না হত্যা। হত্যা না আত্মহত্যা? বোকার মতো কথা বলে। হ্যাঁরে, থিয়েটার করে তুই কত রোজগার করবি? 

হি হি করে হেসেছিল সৃজনী। সে এই চাকরি ছেড়ে দেবে। নন্দিতা বেশি তাচ্ছিল্য দেখায় তার অভিনয়ের কথায়। বসের কানে তুলেছে। তারপর থেকে ছটার আগে থেকে স্রোতের মতো কাজ আসে। বাইরে বুক শপ। বই বই আর বই। বইয়ের আলো। আরো বাইরে পার্ক স্ট্রিট। ঝলমলে আলো। হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে মেট্রো। গিরিশ পার্ক। সেখান থেকে অটো বা বাসে করে মানিকতলা পেরিয়ে খালপোলের আগে নেমে এক বন্ধ হয়ে যাওয়া থিয়েটার হল, কাশী বিশ্বনাথ মঞ্চ। অনেক বছর আগে ওই মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করতেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সেখানে রিহার্সাল। তারপর রাত নটায় অটোয় উঠে আবার গিরিশ পার্ক। সেখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে বিডন স্ট্রিট ক্রসিং। আবার অটো। শীতলাতলা। তারপর কুসুমের গলি। নিজেই গলিটার নাম দিয়েছে সে ওই রকম। তারপর শীতলা লেন। সাইরেন পিসির বাড়ি। পিসিকে সে দ্যাখেনি। বাবা বলে অতি বড় সুন্দরী ছিল পিসি। তার মতো রূপ কুসুমেরও নয়। এখন বাড়িটা যেন প্রেতের মতো দাঁড়িয়ে। কোন প্রমোটার নিয়েছে, কিন্তু শরিকি গোলমালে ভাঙতে পারছে না। সাইরেন পিসি, সাইরেন পিসি, আমি অফিস ছেড়ে দেব।

প্রেতের বাড়ি থেকে সুরেলা কন্ঠস্বর ভেসে এল, অভিনয় করবি তো? 

এই অফিস করতে দেবে না।

আমাদের কেউ কিছুই করতে দেয় না, আমি তাই বাপের বাড়ি ফিরে এসেছিলাম।

জানি তো।

কিন্তু বাবা বলল, না আমাকে ওখানেই ফিরে যেতে হবে।

তাও জানি, সাইরেন পিসি, আমার বাড়ি থেকে কিছুতেই মত দেবে না, চাকরি ছাড়তে দেবে না। 

বাড়িটাকে পেছনে রেখে সে বাড়িতে ঢুকে পড়ল। আসলে এই কথোপকথন তার বানানো। সাইরেন পিসি আর পিসেমশায় এই বাড়িতেই থাকতেন। ঘর জামাই হয়ে পিসে মশায় সাইরেন পিসির মনোঃপীড়ার কারণ হয়েছিলেন। বাবা তাই বলে। কিন্তু দাদু বলেছিল অন্য গল্প। সাইরেন বাপের বাড়ি ফিরে এসে এক মাস বাদে গায়ে আগুন দেয়। 

অফিস সে ছেড়ে দেবে। কৌশিককে ছেড়েছে যে কারণে, অফিস ছাড়বে সেই একই কারণে। অফিস তার অভিনয় বন্ধ করে দেবে। কৌশিকও চাইত না সে অভিনয় করে। বাড়ির বউ অভিনেত্রী, তা হয় নাকি? বাড়ি পৌঁছে কুসুম শুনল, কৌশিকের বাবা ফোন করেছিল। কী সাঙ্ঘাতিক! কেন মা? 

মা ইন্দ্রাণী বলল, কথা বলতে আসবে। 

আমার সঙ্গে ওর কোনো সম্পর্ক নেই মা। কুসুম বলল। 

আমি জানি না, তোরা বুঝে নে।

কুসুম বলল, আমি কী বুঝব, আমি আর জড়াতে চাই না।

ওর বাবা বলল, তোদের রেজিস্ট্রি করা আছে। ইন্দ্রাণী বলল।

লায়ার, রেজিস্ট্রি কে করেছে, আমি? কুসুম রেগে গেল। 

আমি তো অবাক, আমাদের না বলে তুই এতটা করলি! 

কুসুম বলল, একদম মিথ্যে মা, আমার চাকরির খবর পেয়ে গেছে কৌশিক, বাবা কাকাকে বলবে বাড়িতে না ঢুকতে দিতে। আমি সানডে সকালেই রিহার্সাল দিতে চলে যাব, সারাদিন হবে, নতুন নাটক নামছে। ফিরতে সাত-সাড়ে সাত। কী লোভী কৌশিক! 

শীত এখন যাওয়ার মুখে। বসন্তের আবির্ভাব এই শহরে ধরা যায় না তাপমাত্রার পরিবর্তন ব্যতীত। এই শহরে পলাশ নেই, মাদার নেই, শিমুল নেই। কুসুম চেঞ্জ করে টেলিভিশনের সামনে বসে। সে কয়েকটা সিরিয়াল করেছে। তখনই খুব আপত্তি করেছিল কৌশিক, রবি ঠাকুরের মানভঞ্জন। সে ছিল দাসীর ভূমিকায়। কাঁধ অনাবৃত ছিল। উনিশ শতকে তো দাসীর ব্লাউজ থাকত না। প্রথম দিন দেখেই কৌশিক ফোনে বলেছিল, ছিহ ! মঞ্চের কথা শুনে বলেছিল অপচয়, সমস্তটাই অপচয়। কম্পিটিটিভ এগজামের জন্য তৈরি হতে পারে কুসুম। কুসুম কী করবে তা বলে দেবে তার প্রেমিক। প্রেমিকের এত অধিকার বোধ থাকলে কি প্রেম বেঁচে থাকে? সে তার অ্যানড্রয়েড ফোনে নেট অন করল। চুপ করে বসে থাকল অনলাইন হয়ে। যদি রুহিতন এসে হাই করে? রুহিতন শর্মা। সে ছিল তার ভারচুয়াল ফ্রেন্ড। এখন আর আসে না। আসে না, কেন না সে হয়তো…...। কুসুম জানে রুহিতন নেই। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পড়েই আছে একা একা। মৃতের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তো পড়েই থাকে। অন্য কারণেও পড়ে থাকতে পারে। হয় সে তো ফেসবুকে আগ্রহ হারিয়েছে। কুসুম জানে, এক জোছনা রাতে হলদি নদীর তীরে একা বসে রুহিতন যখন মোবাইলে অনলাইন হয়ে তার সঙ্গে কথা বলছিল, ঘাতকের দল এসে তাকে শেষ করে দিয়ে গেছে। একটা অমন ঘটনা ঘটেছিল, তার নাম রুহিতন ছিল না। রুহিতনও নিশ্চয় নাম লুকোন নাম। ভারচুয়াল জগতে এমনি হয়। বাবা সুমিত্রভূষণ কাকা সুচিত্রভূষণ এক সঙ্গে এল তার ঘরে, কী বলছিস তুই, রেজিস্ট্রি করিসনি? 

না বাবা না।

ওর বাবা যে বলল, করেছিস?

মিথ্যে, কৌশিক এখন এক বছর বাদে আবার আমাকে মেসেজ করছে, আমি ওকে ব্লক করে দিয়েছি, আমি কিছুই করিনি, বিয়ের জন্য ও খুব চাপ দিচ্ছিল, আমি সরে এসেছি, বই আর অভিনয়, ও কোনোটাই পছন্দ করে না, একবার আমাকে দখল করতে পারলেই সব বন্ধ করে দেবে, ইস, আমি যে কী করি, অফিসও আমাকে পিষে দিচ্ছে, মনে হয় ও অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, বইয়ের কোম্পানি, অথচ আমার বই পড়া পছন্দ করে না, কেন বলো দেখি।

কাকা সুচিত্রভূষণ বলল, আমি ফোন করে বলে দিচ্ছি আসতে হবে না, মিথ্যে কথা বলে বাড়ির মেয়েটাকে নিয়ে যাবে, ওই পরিবারে আমরা মেয়ে দেব না, মেয়ে শান্তিতে থাকবে না।

কুসুমের সামনে দাঁড়িয়েই কাকা সুচিত্রভূষণ ফোন করল কৌশিকের বাবাকে, আমি কুসুমকুমারীর কাকা বলছি, আপনারা আসবেন না, আমরা মেয়ের বিয়ের কথা ভাবছিই না, আর আমাদের মেয়েও চায় না বিয়ে করতে, সে কোনো রেজিস্ট্রি করেনি।

কৌশিকই জবাব দিল, কথা হয়েছিল রেজিস্ট্রির, আমি তখন ট্রেনিঙে তিন মাস ইউ,এস, গেলাম। 

কথা হওয়া আর কাজটা হয়ে যাওয়া কি এক হলো? 

আঙ্কেল, আই লাভ হার, ওকে ফোনটা দিন।

কুসুম ফোন ধরে না, বলল, বলে দাও কুসুম অভিনেত্রী, অভিনয় করেছিল। 

কৌশিক বলল, আঙ্কেল প্লিজ। 

ও কথা বলতে চায় না, ডোন্ট ডিস্টারব হার। 

কৌশিক বলল, আমার মা বাবা কথা বলুন আপনাদের সঙ্গে।

নো, আসতে হবে না। বলল সুচিত্রভূষণ। 

কথা শেষ হলো। কাকা নিচে চলে যেতে বাবা বলল, যা করবি ভেবে করবি, এই সময়ের এক একটা সিদ্ধান্ত তোর সমস্ত জীবনে ছায়া রেখে দেয় না যেন।

কুসুম বলল, আমি ওকে প্রত্যাখ্যান করেছি বাবা, আমি পারি, আমার মনে সেই জোর আছে। 

সুমিত্রভূষণ অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। এতটা জীবনে কোনো মেয়েকে প্রত্যাখ্যানের কথা বলতে শোনেনি সে। প্রত্যাখ্যান করে বাড়ি ফিরে এসেছিল সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া সাইরেন দিদি। মুখুজ্জ্যে বাড়ির বিজয়া সান্যাল। তারপর গায়ে আগুন দিয়ে মরেছিল। গায়ে আগুনের কথাই সত্য। মেয়েকে সে বানিয়ে অন্য কথা বলেছিল। আত্মজাকে কি বলা যায় সামনের বাড়ির সুন্দরী মেয়েটি শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে এসেছিল বাপের বাড়ি। কিন্তু বাড়িতে সায় না পেয়ে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়েছিল। মেয়েদের প্রত্যাখ্যান কে সহ্য করতে পারে। গা ছমছম করে ওঠে সুমিত্রর। খবরের কাগজে কত খবর বের হয়, প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক অ্যাসিড দিয়ে প্রেমিকার মুখ পুড়িয়ে দিয়েছে। লোক পাঠিয়ে রেপ করিয়ে দিয়েছে। সময় খুব খারাপ রে কুসুম। কুসুম তো জানে না, সাইরেনদিদির বাবা মেয়ের ‘না’ শুনে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে দিয়েছিল। এখনো রাতে মানুষ পোড়া গন্ধ পাওয়া যায় যেন। সুমিত্র বলল, সাবধানে থাকিস।

অফিস, রিহার্সাল আর বাড়ি। এর বাইরে কোনো জগত নেই কুসুমের যেন। ঘুমের আগে রাতে সে অন লাইন হলো আবার। কৌশিককে ব্লক করা আছে। নানা নোটিফিকেশন আর কবিতার ভিতরে ঘুরছিল কুসুম। কে গিয়েছিল আঙ্কোরভাট। ছবি দিয়েছে প্রাচীন সভ্যতার। ছবি দেখতে দেখতে কুসুমের চোখ জড়িয়ে আসছিল, কৌশিকের কথা মনে পড়ল একবার। বিরক্তি এল। তারপর আবার ছবি, নায়াগ্রা ফলস-এর। ক্সুমের চোখ জড়িয়ে এল জল্প্রপাতের শব্দে। মেসেজ এল, কে?

হ্যাপি ভালেনটাইন ডে, হাই কুসুম, কুসুমকুমারী।

কুসুমকুমারী নামটাও জানে, ইস! কী করে জানল, কে তুমি? আমি তো ২২শে শ্রাবণ। কুসুমের ফেসবুক পরিচয় ২২শে শ্রাবণ। সেই আইডিতে এসে কুসুমকুমারী বলে ডাক দিল কে? রুহিতন শর্মা? রুহিতন তুমি ফিরে এলে? তুমি আস না বলে আমি খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি রুহিতন, কিছুই ভালো লাগে না, অফিস আমাকে শেষ করে দেবে, আর সেই লোভী কৌশিক, আমি চাকরি পেয়েছি শুনে ছুটে এসেছে আবার, রুহিতন রুহিতন।

ভালবাসা নাও কুসুম। রক্ত গোলাপ দিল রুহিতন।

এত মন খারাপ ছিল আমার রুহিতন, এই নাও স্বর্ণচাঁপা। কুসুম হাত বাড়িয়ে দিল সুগন্ধ।

রুহিতন বলল, ফাগুন মাস পড়ছে, আজ মাঘের সংক্রান্তি, এখন সাধু ভ্যালেন্টাইনের জন্মদিন শুরু হলো কুসুম, এই সময় স্বর্ণচাঁপা তো ফোটে না। 

কুসুম বলল, হাত ভরে নাও রুহিতন, ছ’মাস বাদে শ্রাবণে ফুটবে, ২২শে শ্রাবণ ফুটবে রুহিতন, ভালোবাসা ফুটে উঠতে সময় তো দিতে হয়। 

বাহ কুসুম, ফুটলে আমি আবার মেঘের নিচে বাঁশি নিয়ে বসব, কুসুম কুসুম।


ঘুমের ভিতরে ডুবে যেতে যেতে কুসুমকুমারী স্বর্ণ চাঁপার গন্ধ পায়। তাদের বাড়ির গাছটি মরে গেছে বটে, কিন্তু গন্ধটি রেখে গেছে। রাতে পাওয়া যায় সারা বছর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন