বুধবার, ১৭ মে, ২০১৭

বিশ্বসাহিত্যে কল্পশহর ও সৈয়দ হকের জলেশ্বরী

মোজাফফর হোসেন

কবিতা-গল্প-উপন্যাস-নাটক-চিত্রনাট্য সবমিলে বাংলাদেশের প্রধানতম লেখক সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫-২০১৬)। সমগ্র বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও বুদ্ধদেব বসুর পরে তাঁর মতো সব্যসাচী লেখক আর কেউ আসেননি। সাহিত্যের বিচিত্র বিভাগে দুইশর বেশি বই লিখেছেন। একইসঙ্গে সিরিয়াস ধারা ও জনপ্রিয় ধারায় তিনি সমানভাবে সফল। তাঁর লেখা গান জনমানুষের মুখে মুখে এখনো শোনা যায়—এইসব বিবেচনায় তিনি অনেকের উর্ধ্বে উঠে গেছেন। আরো একটা বিশেষ বিবেচনায় তিনি সমগ্র বাংলা সাহিত্যেই একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বাংলা সাহিত্যে একটা কল্পিত চরিত্র (fictional character)-কে বিভিন্ন গল্প-উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হিসেবে দাঁড় করিয়ে বাস্তবের চরিত্রের মতোই প্রতিষ্ঠিত করেছেন অনেক লেখক। হুমায়ূন আহমেদের হিমু কিংবা মিশির আলীকে কার না চেনা? সাহিত্যের পাঠক-অপাঠক মাত্রেই ফেলুদার নাম জানেন। ফেলুদা নামে সত্যি সত্যি কেউ কোনোদিন ছিল বলে কেউ মনে করে থাকলে তাকে দোষ দেওয়া যাবে না। রোমেনা আফাজের দস্যু বনহুরের কথা একসময় পাঠকের মুখে মুখে ছিল। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ বক্সী, নীহাররঞ্জন গুপ্তের কিরীটি রায়, কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানার নাম আমরা ভুলতে পারিনি। এমন অনেক নির্মিত চরিত্র আছে যা আমাদের কাছে কোনো একসময় ছিল—এমন সত্য হিসেবে প্রশ্রয় পেয়েছে। কিন্তু বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ শামসুল হক ছাড়া কেউ সার্থকভাবে একটি অঞ্চলকে নির্মাণ করতে পারেননি। কে বলবে আজ যে রংপুরের কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা নদীর তীরবর্তী জলেশ্বরী বলে কোনো শহর নেই? সাহিত্যের মানচিত্রে জলেশ্বরী ভীষণ বাস্তব হয়ে আবির্ভুত হয়েছে। সৈয়দ হকের গল্প-উপন্যাস-নাটক যারা পড়েছেন তাদের কাছে এই শহরের বাসিন্দারাও অচেনা নয়। 

সৈয়দ হকের সাহিত্যে, বিশেষ করে ছোটগল্পে জলেশ্বরী নিয়ে বিশেষ আলোচনায় এগুনোর আগে প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় বিশ্বসাহিত্যের মানচিত্রে জলেশ্বরীর মতো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কল্প-অঞ্চল (fictional locations) সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোচনা করা যেতে পারে। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই চলে আসে প্রতিবেশি দেশ ভারতের একইসঙ্গে জনপ্রিয় ও সিরিয়াস ধারার লেখক আর কে নারায়ণের মালগুডি শহরের কথা। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের শহর মাদ্রাস—আরকে নারায়ণের জন্মশহর, এই শহর থেকে কিছুটা দূরে কল্প-নদী (fictional river) সারায়ুর তীরবর্তী মফস্বল শহর হল মালগুডি। একটু এগুলেই কল্প-বন মেমফি ফরেস্ট। গ্রামটির ভৌগলিক অবস্থান নিয়ে এর বেশি জানা যায় না। আরকে নারায়ণ নিজে এক সাক্ষাৎকারে ‘এটি দক্ষিণের শহর’-এর বেশি বলেননি। তবে গবেষকরা এই শহরকে তামিলের Coimbatore শহরের আদলে নির্মিত বলে মনে করেন। আরকে নারায়ণের ১৫টি উপন্যাসের ১৪টিতেই এই শহরের সেটিং কিংবা অনুষঙ্গ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে Malgudi Days শীর্ষক ছোটগল্প সংকলন। এ গ্রন্থে স্থান পাওয়া ৩২টি গল্পেই মালগুডি শহরের জন-জীবনের নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে। 

বিশ্বসাহিত্যে নোবেলজয়ী মার্কিন কথাসাহিত্যিক উইলিয়াম ফকনার মিসিসিপির একটি গ্রামদেশের আদলে Yoknapatawpha নামক অঞ্চলটি সৃষ্টি করেন। তিনি সেটিকে ‘আমার কল্পগ্রাম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ফকনার তাঁর ছোটগল্প ও বেশিরভাগ উপন্যাসে এই গ্রামটিকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ফকনার তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস Absalom, Absalom!-এর শেষে Yoknapatawpha অঞ্চলের একটি ম্যাপও ব্যবহার করেছেন। গবেষকরা এই ম্যাপের বিভিন্ন অঞ্চলে ফকনারের বিভিন্ন উপন্যাসের প্রেক্ষাভূমি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 

জনপ্রিয় ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক স্টিফেন কিংয়ের বেশ কিছু উপন্যাস, উপন্যাসিকা ও গল্পে ব্যবহৃত হয়েছে কল্প-শহর কাসল রকের (Castle Rock) পটভূমি। ভৌগলিকভাবে শহরটি নিউ ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। উইলিয়াম গোল্ডিংয়ের বিখ্যাত উপন্যাস Lord of the Flies (১৯৫৪)-এ বর্ণিত কল্প-দ্বীপের শিখরে অবস্থিত দূর্গের নাম ছিল ক্যাসল রক। সেখান থেকেই স্টিফেন কিং তাঁর The Dead Zone (১৯৭৯) উপন্যাসে প্রথম এই কল্প-শহরটি উপস্থাপন করেন। এরপর তার বেশিরভাগ লেখায় এই শহরটি পটভূমি বা অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 

পৃথিবীর সর্বাধিক বিক্রিত বই জেকে রাউলিংয়ের ফ্যান্টাসি উপন্যাস হ্যারি পটার সিরিজে কল্পশহর হিসেবে উঠে এসেছে বেশ কিছু স্থানের নাম। এর মধ্যে সবচেয়ে মজার স্থান হল হগসমিড গ্রাম (Hogsmeade Village)। এই গ্রামে আশ্চর্য জাদুকর, জাদুর বিচিত্র জীবযন্তু ও পেতিœদের (witch) বাস। 

মার্কিন কথাসাহিত্যিক কার্ট ভনগার্ট (Kurt Vonnegut), ১৯২২-২০০৭)-এর বেশকিছু উপন্যাসে কাল্পনিক শহর ইলুয়াম (Ilium)-এর পটভূমি উঠে এসেছে। প্রাচীন ট্রয় নগরীকে রোমানরা এই নামে ডাকত বলে জানা যায়। আরেক জনপ্রিয় মার্কিন কথাসাহিত্যিক জন গ্রিশাম (John Grisham) সৃষ্টি করেছেন ক্লান্টন মিসিসিপি (Clanton, Mississippi) শহরকে। গাবরিয়েল গারসিয়া মার্কেসের বিখ্যাত উপন্যাস ওয়ান হানড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড’র পটভূমি হল মাকন্দ গ্রাম। এটি মার্কেসের কল্পগ্রাম।

এভাবেই বিশ্বসাহিত্যে বিভিন্ন লেখকের হাত দিয়ে তৈরি হয়েছে সাহিত্যের একটা আলাদা মানচিত্র। সেই মানচিত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলছে সৈয়দ হকের জলেশ্বরী। সৈয়দ হক তাঁর বিখ্যাত ছোট উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবান’সহ বেশ কিছু উপন্যাস-গল্পে জলেশ্বরীর পটভূমি ব্যবহার করেছেন। এরকম আরো অনেক অঞ্চলকে তিনি সৃষ্টি করেছে। যেমন- বুড়িরচর, নবগ্রাম, শুকুনমারী, বলধারচর, মান্দারবাড়ি, হরিসার, হস্তিবাড়ি। নদীমাতৃক বাংলার কোনো অঞ্চল যেন নদীছাড়া অসম্পূর্ণ! এই কারণে তিনি এর সঙ্গে একটি নদীও তৈরি করেছেনÑ আধকোষা নদী। কুড়িগ্রামের ধরলা নদীকেই লেখকের এই আধকোষা নদী বলে আমরা ভেবে নিতে পারি। কাল্পনিক আধকোষা নদীর ওপরেই কল্পশহর জলেশ্বরী অবস্থিত। জলেশ্বরীতে একটি ট্রেন স্টেশন আছে, জলেশ্বরীভিত্তিক বিভিন্ন গল্প-উপন্যাসে সেই স্টেশনের কথা বারবার এসেছে। নিজের কল্পশহর সৃষ্টি নিয়ে সৈয়দ হক এক সাক্ষাৎকারে কৈফিয়ত দিয়েছেন এই বলে, ‘যারা বিশাল বাংলায় থাকেন (আমি মফস্বল শব্দটি পছন্দ করি না), তাদের নিয়ে যখন গল্প, কবিতা, নাটক লিখতে যাই, তো প্রতিবারই একটি নতুন শহর বা গ্রামের কথা ভাবাটা পণ্ডশ্রম। সেজন্য আমি একটি কল্পনার ভূগোল জগৎ তৈরি করে নিয়েছি। এটির শুরু ১৯৭৪ সালে, যখন আমি ‘দ্বিতীয় দিনের কাহিনী’ নামে উপন্যাসটি লিখি। আরেকটি কথা এখানে বলা দরকার, বিশেষ করে জলেশ্বরীর পটভূমিতে যেসব গল্প-উপন্যাস লিখেছি, তার কোনো কোনো চরিত্র এ-গল্প থেকে ও-গল্পে এসেছে। এ গল্পে যখন অপ্রধান চরিত্রটি আরেক গল্পে প্রধান চরিত্র হয়েছে; কিংবা কোনো উপন্যাসে আগের চার-পাঁচটি গল্পের তিন-চারটি চরিত্র এখানে প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ আমি একটি পরিম-ল গড়ে তুলতে চেয়েছি। সমালোচনার ভাষায় যাকে এপিক বলে শনাক্ত করা হচ্ছে।’



সৈয়দ শামসুল হকের অধিকাংশ গল্প জলেশ্বরীর গল্প—হয় জলেশ্বরীর প্রেক্ষাপটে লিখিত অথবা কোনো না কোনো ভাবে জলেশ্বরীর কথা এসেছে। গল্পগুলো একসঙ্গে করে জনতা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে গল্পংকলন ‘জলেশ্বরীর গল্পগুলো’। প্রকাশকাল ২০০৮। এই সংকলনে ২৩টি গল্প স্থান পেয়েছে। এর বাইরেও সৈয়দ হকের বেশ কিছু গল্প আছে যা জলেশ্বরীর প্রেক্ষাপটে লিখিত। লেখক অন্তীম সয্যায় থেকে বেশ কয়েকটি ছোটগল্প লিখে যান, যার অধিকাংশই জলেশ্বরীর প্রেক্ষাপটে লিখিত। 

জলেশ্বরীর গল্পগুলোর বেশিরভাগই ব্যক্তি-ক্রেন্দ্রিক হয়ে শুরু হলেও শেষে গিয়ে ঘটনা ক্রেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ ব্যক্তিপ্রধান গল্প ধীরে ধীরে ঘটনা প্রধান হয়ে উঠেছে। যেমন- নেয়ামত (নেয়ামতকে নিয়ে গল্প নয়), সলিম (জলেশ্বরীর দুই সলিম), মনোহর (মনোহরকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে), আজহার (আজহারের মাতৃশোক), শরবতি (শরবতির পাশ ফেরা), করিমন বেওয়া (কোথায় ঘুমোবে করিমন বেওয়া), সাহেবচান্দ (সাহেবচান্দের ঈদ-ভোজন), বর্গুনবিবি (সোনার মা বর্গুনবিবি), সমিরন (সমিরন), জমিরুদ্দিন (জমিরুদ্দিনের মৃত্যু বিবরণ) প্রভৃতি। 

সৈয়দ শামসুল হক নিজের নিরীক্ষাধর্মী গল্পগুলোকে ‘গল্পপ্রবন্ধ' নাম পড়িয়েছেন। এ ধরনের বেশ কিছু গল্প স্থান পেয়েছে ‘জলেশ্বরীর গল্পগুলো’ গ্রন্থে। আত্মকথা বলার রীতি অবলম্বন করে এগুলো লেখা। চরিত্রগুলো মনে হয় যেন সত্যি সত্যি লেখকের দেখা। গল্পের যিনি ন্যারেটর তিনি গল্পের একজন বেনামি চরিত্রও বটে। কোনো কোনো গল্পে মনে হয়েছে তিনি ঠিক একজন নন, সমষ্টির কণ্ঠস্বর। বর্ণনাকৌশলে প্রবন্ধের ঢং কিছুটা থাকলেও গল্পের আমেজ পুরোপুরি বিদ্যমান। গল্পগুলো উপস্থাপন শৈলিতে গল্পকার শুরুর দিকে একেবারে সিরিয়াস নন, পরে মৃদু সিরিয়াস হয়ে উঠেছেন। যেমন- ‘জলেশ্বরীর দুই সলিম’ গল্পের শুরুটা খুব সাদামাটা (casual)। শুরুটা হচ্ছে এভাবে- ‘একই নামের দুটি লোক, সলিম, আমাদের খুব অচেনা নয়, কে ভেবেছিল তাদের নিয়ে গল্প হবে? আমরা এখন তাদের গল্প বলবো।’ এক-প্যারা পরে লেখক বলছেন- ‘জলেশ্বরীতে আমরা সকলেই দুই সলিমকে চিনি, আমরা এটাও লক্ষ্য করেছি, নামের মিল ছাড়া তাদের আরো একটি মিল আছে। তারা দুজনেই বেকার। বাংলাদেশে পাঁচ-সাত বছরের বেকারকে গণাই হয় না। এই যে সলিম—কেউ মনেও করতে পারে না এরা কবে থেকে বেকার।’ এরপর লেখক একনামের একাধিক ব্যক্তি থাকলে যে মজার মজার কাণ্ড ঘটতে পারে তার দুয়েকটি উদাহরণ টেনেছেন। অর্থাৎ পাঠক ধরে নিতে পারেন এই গল্পেও তেমন মজার কোনো কাণ্ড ঘটবে। কাণ্ড একটা ঘটে বটে এবং সেটি নিয়ে কিঞ্চিৎ হাসি-ঠাট্টা হলেও শেষ পর্যন্ত আর তা নিয়ে মজা করা চলে না। জলেশ্বরীতে পাকিস্তানপন্থী এক রাজনৈতিক নেতা ভাষণের শেষে বলে বসলেন-‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’। সেই সভায় সবার মাঝখান থেকে একজন তেড়ে উঠে বলে বসেন- ‘ধর, শালারে ধর?’ পাশের জন বলেন, ‘ঐ সলিম, চুপ কর।’ এই উচ্চারণ থেকেই এই গল্পে সলিম দ্বয়ের প্রবেশ। জানা যায় না, এই সলিম কোন সলিম। এখন তাদের আলাদা করার চেষ্টা করা হয়। তখন ক্ষমতায় যেহেতু পাকিস্তানপন্থী সরকার, তাই তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় গাঁয়ের মানুষ। সৈয়দ হক হালকা মেজাজেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের দাঁড় করান। সেই সঙ্গে তিনি মুক্তির বার্তাও দিয়ে দেন। 

মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী বাস্তবতার আরেকটি গল্প ‘নেয়ামতকে নিয়ে গল্প নয়’। এটি জলেশ্বরীর ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নেয়ামতের গল্প। নেয়ামত গাঁয়ের তরুণ মোতাহারের ভবিষ্যৎবাণী করেছিল—সে লাল ইটের দালানের সামনের ফুলের বাগানে পানি দিবে। কয়েকবছর পর ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলে মোতাহার জলেশ্বরী থেকে তরুণদের নিয়ে শহরমুখী প্রতিবাদ মিছিল বের করে। এ জন্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়, জেল হয় তার। জেলখানার সুপারের পরিপাটি বাগানে পানি দিত মোতাহার। এভাবেই পরোক্ষভাবে নেয়ামতের ভবিষ্যৎবাণী ফলে যায়। সবার ভবিষ্যৎ বলা নেয়ামতকে স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তি মান্নান গ্রুপ অপমানিত করে নেয়ামতের ভবিষ্যৎ কি জানতে চাইলে নেয়ামত উত্তরে বলে ‘আমি মারা যাবো’। নেয়ামতকে শেষ পর্যন্ত খুন করা হয়।

এভাবে সৈয়দ শামসুল হকের সৃষ্ট-চরিত্রগুলো জলেশ্বরীর আলো-বাতাসে নানাভাবে বিকশিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সাড়া দিয়েছে। গল্পগুলো লেখকের একান্ত ব্যক্তিক বীক্ষণ থেকে বের হয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চালচিত্রের মুখপাত্র হয়ে ওঠে। জলেশ্বরী বাংলাদেশের কোনো এক প্রান্তের আর ছোট্ট শহর হয়ে থাকেনি। সমগ্র দেশেরই সারৎসার হয়ে উঠেছে যেন।





লেখক পরিচিতি
মজাফফর হোসেন
গল্পকার। প্রবন্ধকার। অনুবাদক। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন