রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

অপরাহ্ণ সুসমিতো'র গল্প : মাঝি তোর নাম জানি না


রামপুর ভুঁইয়া বাড়ি এলাকায় আমার বান্ধবী মলি থাকে। ওদের বাসায় নোট আনতে গিয়েছিলাম। আম্মা প্রথমে ওদের বাসায় আসতে দিতে চাইছিলেন না। শ্রাবণ মাসের সংক্ষিপ্ত বিকাল। দুপুরের রোদ যেন সন্ধ্যার সাথে মোর্চা বেঁধে সন্ধ্যাকে ডেকে আনে এই সময়ে। সারাক্ষণ বৃষ্টির নাইয়র। বর্ষার রুমুঝুম তিথি ডোরে নূপুর।

মলিদের বাসায় এলে অন্যরকম মজা। অন্য সব বান্ধবীরা আসবে। এই বৃষ্টিতে খালা মানে মলির মা গামলা বোঝাই করে মুড়ি মাখিয়ে দেবে কুঁচি কুঁচি পেঁযাজে কাঁচা মরিচে। আমরা সবাই কুড়মুড় করে খাব। ঝাল খেয়ে আহা উহু করব। মলি খুব ভালো চা করে,আমিও। ধোঁয়া উড়বে,ফুঁ দিব চায়ের কাপে। জানালার পর্দা দুলে উঠবে বৃষ্টির আয় তব সহচরী’র সহজিয়া হারমোনিয়াম রিডে।

আমার ভালো নাম মেহনাজ। কলেজের স্যাররা ছাড়া কেউ এ নামে ডাকে না। সবাই ডাক নামে সুর করে ডাকে। নুমপিইইইইই।

বৃষ্টির শব্দ,পানি,ভেজা গাছে বসে থাকা চুপসে থাকা চড়ুই,বৃষ্টির ছাটে পাজামার নিচে পায়ের গোড়ালির কাছে ভিজে যাওয়া চুপচুপ সালোয়ার সব আমার প্রিয়। আসলে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় পানি দেখলেই আমার ভালো লাগে। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে সামনের বড় রাস্তা দেখি। শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার রোড ধরে পলিথিন মুড়ে দেয়া রিক্সা হুমহুম করে কোথায় যেন চলে যায়। বৃষ্টি- রিক্সার একটা ঝিম মেরে থাকা গতি সুন্দর আছে। কেবল আমার চোখেই তা ধরা পড়ে। বন্ধুদের এসবে মাথা ব্যথা নেই। এতো শ্রাবণ বৃষ্টির মাঝেও কতোগুলো ছেলে ছাতা মাথায় এক বাড়ির দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছে।

এক দফা এক দাবী এরশাদ তুই কবে যাবি?

আমরা সশস্ত্র হবো অজস্র মৃত্যুতে

পোস্টারের হাতের লেখাগুলো কী সুন্দর! আমার হাতের লেখা যাচ্ছেতাই। চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ঠোঁট এনে কাপের কার্নিশে ছোঁবার আগেই কোথায় যেন জোরে বাজ পড়ল। বাজকে আমরা ঠাডা বলি। মলি ঠাডার শব্দে মাথায় কাপড় দেয়। যেন আজান পড়ল। আচ্ছা আজান পড়লে শুধু মেয়েরা কেন মাথায় ওড়না বা আঁচল দেয়?

সন্ধ্যা নামছে। ঝাল মুড়ি শেষ। টিভিতে বিতর্ক প্রতিযোগীতা শুরু হবে। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ বনাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ। ছোটবেলায় কিছুদিন আমার কুমিল্লায় কেটেছিল। আজকে আমি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ার পক্ষে। কুমিল্লার কথা মনে পড়তে মনে পড়ল--

আমাদের একটা বিড়াল ছিল,খুব জ্বালাত। এমনকি আশে পাশের বাসা থেকেও খাবার টাবার খেয়ে ফেলত। সবার বাসা থেকে অভিযোগ বিড়ালটার বিরুদ্ধে। একদিন বড়দা বিড়ালটাকে বস্তায় ঢুকিয়ে মুখ বেঁধে কুমিল্লাগামী বাসের ছাদে তুলে দিয়েছিল। আমার সে কী মন খারাপ! বিড়ালটার জন্য নাওয়া খাওয়া বন্ধ প্রায়।

জানালার পর্দায় বৃষ্টির ছাট এসে আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে কোথায় যেন। খালাম্মা মনে হলো একবার আমাকে ডেকে গেছে। মনে হলো দূর থেকে কেউ আমার নাম ধরে ডাকছে।

তখন আমি অনেক ছোট। স্কুলে পড়ি কিনা মনে নেই। তবে একটা দিনের কথা স্পষ্ট মনে আছে। আমাদের ছাই রঙা বিল্লিটাকে বস্তায় ভরে লাইগেশন করাতে নিয়ে যায় ছোড়দা বাসার সামনেই মাঠের ওপারে ফেনী ভেটেরেনারি ক্লিনিক। আরেকদিন নিয়ে যায় সেলাই কাটাতে। ছোড়দা বস্তা রেখে ডাক্তারকে খুঁজতে যায় ভেতরে।

কোনভাবে মুখ খুলে বিল্লি উধাও। ভয় পেয়েছিল বোধহয় কাটাকাটিতে। ছোড়দা বিমর্ষ বাসায় ফেরে। আব্বা বাগান করছিল বাসার সামনে। আব্বা তো গাছ পাগল। নাস্তা খেলেন না। সারাদিন কিছু খেলেন না। ভাত ফিরিয়ে দিলেন। ছোড়দাকে বললেন বিল্লিটাকে খুঁজে না পেলে ওর স্কুলে যাওয়া বন্ধ।ছোড়দাকে হালচাষ করতে গ্রামে পাঠিয়ে দেবেন। ছোড়দা সারাদিন উত্তর ডাক্তার পাড়া চষেও বিল্লিকে পেলো না। সন্ধ্যায় আম্মা বললেন; বিড়াল গন্ধ চিনে চলে আসে শুনেছি। ... অনেক রাতে আমি ঘুমে, শুনি মিঁয়াও মিঁয়াও ডাক অনেক দূর থেকে। বিড়ালটা ফিরে এসেছে। অসুস্থ ভীত। আম্মা ডানো দিলেন। ও শুধু পাউডার দুধ চেটে খেত। গুলে দিলে খেতো না। আব্বা অত রাতে উঠে আনন্দে ভাত খেলেন। সেই বিল্লিটা একদিন সত্যি হারিয়ে গেল...তাও আমার জন্মদিনে। আর ফিরে এলো না..

এরপরই আমি অসুস্থ হয়ে যাই। একটা জায়গায় একটা চেয়ারে সারাদিন বসে থাকতাম,অমনোযোগী হতে লাগলাম প্রায়ই। ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলো। আমার এটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার ( এডিএইচডি) ধরা পড়লো।

বিল্লিটার যেদিন লাইগেশন হয় সেদিনই আমার কান ফুটো করা হয়। আমাদের উত্তর ডাক্তারপাড়ার এক প্রতিবেশী খালা করে দিলেন। সেই খালাও একদিন আমার জন্মদিনে সকালে মারা গেলেন মহীপালের সড়ক দুর্ঘটনায়।

*

মজিদ খানের শিক্ষা নীতি বাতিলের দাবীতে ঢাকায় তুমুল প্রতিবাদ। আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছে জাফর,জয়নাল,কাঞ্চন,দীপালী সাহা,মোজাম্মেল সহ আরো অনেকে। মন খারাপ সকাল থেকে। আমাদের কলেজে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে হরতাল। কলেজে যেতে পারছি না। আমার পাড়াতো বন্ধু প্রচেতা সহ কয়েকজন সিরাজ মিয়ার হোটেলে এসে চা খাচ্ছি। লোকজন আমাদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। মফস্বল শহরে মেয়েরা রেস্টুরেন্টে যায় না। সিরাজ মিয়ার হোটেল যদিও আমার বাসার কাছেই। অনেকেই আমাদেরকে ছোটবেলা থেকে চেনে। উত্তর ডাক্তারপাড়ার বিখ্যাত হোটেল।

চা খাচ্ছি ঠিকই মন বসছে না। বড় ভাইরা বলাবলি করছে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরো বাড়বে। রাস্তায় আর্মি নামবে। বিকালে সুবচন নাট্য গোষ্ঠীর রিহার্সেল হবে কিনা কে জানে। সীতুকে একবার পেলে হতো। সীতু সুবচনের সিরিয়াস কর্মী।

সাহস করে আমরা তিনজন একটা রিক্সা নেই। প্রচেতা,মুন্নী ও আমি। ওরা দুইপাশে,আমি মাঝে। রিক্সার ব্যাক সিটের উপর বসেছি। খানিকটা ভয়ও লাগছে যদি ট্রাফিক পুলিশ দেখে। শহীদ সেলিনা পারভীন রোড ধরে মিজান রোডে এসে দেখি সীতু হনহন করে হাঁটছে। ওকে দেখে আমার চেঁচিয়ে উঠি। মডেল থানা থেকে বড়দাকে বেরুতে দেখে আমরা ভয়ে টুপ করে রিক্সা থেকে নেমে যাই। চারজন একসাথে হাঁটতে থাকি।

*

আব্বা এমনিতে শান্ত মানুষ। কাজ আর বাসা। বাসায় এলেই তার গাছের বাগান। একদিন তাঁর বসের সাথে রাগ করে আচানক চাকরীটা ছেড়ে দেন। যেখানে আমার জন্ম। বেড়ে উঠেছিলাম খোলা হাওয়ার রোদ রঙে,আমি আর সেই বিল্লিটা। চাকরী ছাড়ার কারণে বাসাটা ছাড়তে হবে। সরকারী কোয়ার্টার। ডাক্তারপাড়া ছেড়ে মাস্টারপাড়া। একটু দূরেই থাকতেন আয়নাল হাজারী। যথারীতি আমার স্কুলও মুভ। শিশু নিকেতনে ভর্তি। ওকে আবার বস্তায় ভরা হলো। ততোদিনে সে বুড়ি হয়েছে। নতুন বাসায় গিয়ে বস্তার মুখ খুলে দেয়া হলো। ভয় বা আগের স্মৃতির কারণে হয়তো কলাপ্সিবল গেটের ফাঁক দিয়ে সেই যে বেরিয়ে গেল। আর এলো না তো এলোই না।

বিল্লিটা গন্ধ তো চেনেনি নতুন জায়গার,নতুন বাসার। আমি অসুস্থ হলাম। ছ’মাস স্কুলে গেলাম না। ডাক্তার বললেন বাঁচাতে হলে আগের পরিবেশে নিতে হবে। উত্তর ডাক্তারপাড়ায় আব্বার খানিকটা জায়গা কেনা ছিল। তাড়াতাড়ি দুটো রুম বাড়িয়ে আবার পুরানো গন্ধঅলা বাড়িতে ফেরা। প্রচেতা সহ আবার হৈ রৈ। সবার পেছনে আমার রোল নম্বর। কোন পরীক্ষা না দিয়েই বৃত্তি পরীক্ষা দিতে দিলো। ওমা পেয়ে গেলাম।

মাস্টারপাড়ার বাড়িটা বিক্রি হলো। ডাক্তারপাড়ার বাড়িটা আস্তে আস্তে বড় হলো। আমার বড়দা কবি। কী সুন্দর বাড়িটার নাম দিল ছায়ানীড়। মজার বিষয় হলো কর্মচারীদের চাপে আব্বাকে তাঁর বস আবার পুরানো পদে নিতে বাধ্য হলেন।

সব হলো। আমার একটা ছোট্ট প্রেমও হলো কিন্তু বিল্লিটা আর ফিরে এলো না ।

*

খুব বাস্তববাদী মানুষদের মত ভাবনা ভাবছি। ঘেমে যাচ্ছি। মুখ ভর্তি ব্রণ নিয়ে ফেনী ঘুরছি। শহরের কবিদের গালি দিতে দিতেও দিচ্ছি না। বড় আপার বিয়েতে একটা শাড়ি পেয়েছিলাম। সেটা ভাঁজ করে রেখেছিলাম। পরে ফেললাম আজ।ফল খাচ্ছি। পাকা আম। হাত মুখ মেখে একাকার। কদিন ঝাক্কাশ বৃষ্টির পর রোদ উঠছে এখন। সানগ্লাস পরেছি। সুন্দর দেখাচ্ছে আমাকে। আমার যেরকম দেখতে ইচ্ছা করে সেরকম। সেই লাল রঙের গামছাটা দিয়ে মুখ মুছলাম। ওকে দেখার ইচ্ছা আমি ঢেকে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। যত সাইকেল চালিয়ে ঘেমে যাব, যত হাঁপিয়ে উঠবো, তত সে ইচ্ছা ঢেকে ফেলা যাবে। ফেনীতে আসবে না ও কোনদিন? ফেনীর অসুখ আমার মতো।

আজকে আমি আর প্রচেতা সাইকেল চালাতে চালাতে মহীপাল পার হবার সময় যখন বাসগুলো আমাদের প্রায় চাপ দিচ্ছিল, আমি ভেবেছি, ও যে আমাকে আফজাল হোসেনের ‘পারলে না রুমকী’ দিলো, ওটা এখনো পড়া হয়নি। আরও ভাবনাটা নিষ্ঠুর করে ভেবেছি ওটা কাউকে দিয়ে দিব। এই ভাবনা সিনেমার মতো, হৃদয়হীন। কিন্তু ক্যাচি। এই দৃশ্য পর্দায় ভেসে উঠতেই সংবেদনশীল দর্শকের মন ভার হয়ে যাবে। নিরীহ, প্রেমাক্রান্ত নায়িকার জন্য বালতি বালতি সমব্যথা জেগে উঠবে। আচ্ছা আমি কি নায়িকা?! হবো না কেন? জীবন যদি নাটকের থেকেও নাটকীয় হয় সেখানে বোঁচা হোক, ভোতা হোক, সবাই-ই তো নায়িকা, তাই না?

প্রচেতা,মুন্নী,সীতু সহ আমরা রাজাঝি’র দিঘির কাছে এসে থামি। পানি দেখলেই আমার কেমন যেন করে। মনটা ভালো হতে শুরু করে। জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশু পার্কের পাশ দিয়ে একটা মাঝারি আকৃতির মিছিল তুমুল শ্লোগানে এগুতে থাকে। মিছিলের সামনে সুবচনের জসীম ভাইকে দেখা যায়। ঘেমে যাওয়া কালো মুখ।জসীম ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। চারুকলায় পড়ে। সেদিন রিহার্সেল শেষে আমাদেরকে একটা সুন্দর ঘটনার কথা বললেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহজালাল হলের সামনে সদ্য নির্মিত বাগান উদ্বোধনে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যার। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এক অসাধারণ লাইন বলেছিলেন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে;

বন্যেরা বনে সুন্দর/সৈন্যরা ব্যারাকে।

হেঁটে হেঁটে আমরা জহির রায়হান মিলনায়তনে হাজির হলাম। জিয়াউদ্দিন ভাই মুখ গোমড়া করে বসে আছেন। শ্রীরূপা একটা কেটলিতে চা গরম করছে। মলি আমাদের দেখেই ধমক। এতো দেরি করলাম কেন! সামনে আমাদের নাট্য উৎসব ‘চৈতি পরব’। বিশাল আয়োজন। ঢাকা থেকে নাগরিক নাট্য দল আসবে দর্পণ নিয়ে,ফেনী থিয়েটার তাদের নতুন প্রোডাকশন নিয়ে থাকবে। ঢাকা থিয়েটার আসবে মুনতাসীর ফ্যান্টাসি সহ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার শো করবে বিপ্লব গাথা।

চা পরিবেশন করতে করতে শ্রীরূপা মহড়ার জন্য রেডি হয়। আমরা গোল হয়ে বসে পড়ি। চৈতি পরব এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের জন্য এই কোলাজ। টুকরো টুকরো করে আমাদের আগের নাটকগুলোর অংশ পরিবেশিত হবে। হারমোনিয়াম নিয়ে রেডি জেসমিন। আমরা কোরাসে আর নাচবে শ্রীরূপা।

কান্দিয়া আকূল হইলাম ভব নদীর পাড়ে
মন তোরে কেবা পাড় করে
সময়ে দিন গুয়াইয়া ও মন অসময়ে আইলাম নদীর পাড়ে
মাঝি তোর নাম জানি না
আমি দিমু কারে/ ডাক দিমু কারে
মন তোরে কেবা পাড় করে...

জেসমিনের অপরূপ সুরের নীপবন ছড়িয়ে পড়ে মিলনায়তনে। আমি চোখ বন্ধ করে থাকি। মাথায় ঘুরে যায় মেঘে ঢাকা তারা’র সেই সাদা কালো দৃশ্যপট। ইদম শাহের দরাজ সুর আমার ভেতরে বৃষ্টির লাবণ্য খেলে যায়। হু হু করে ওঠে বুকের ভেতর খাঁ খাঁ শূন্যতা। সেই কোন ছোটবেলায় আব্বার হাত ধরে হয়রত শাহজালালের দরগায় গিয়েছিলাম। যেন ছবি আঁকছি বাউল ইদম শাহ দরগায় বসে চোখ মুদে গান গাইছেন।

আমার চোখ ভিজতে থাকে,চোখ ভিজতে থাকে।

*

একদিন জানালা দিয়ে আমাদের ছায়ানীড় বাসাটার শিউলিগাছটা দেখছিলাম। শিউলি ফুলের ঘ্রাণের এক বুনো সুন্দর থাকে। যেন ভিজে থাকে চারপাশ,বাসার সামনের রাস্তা ধরে রিক্সার আরোহী,মহিলা কলেজের সিঁদুর মাখা মোটুসুটু ম্যাডাম সবাই একবার এই ভরা শিউলি গাছটার দিকে তাকাবেই। সামনের বাসার কাজের মেয়েটা ওড়নাটা গলায় ঝুলিয়ে রাখে। ইচ্ছা করেই বুকে পরবে না সে। পাড়ার ছেলেগুলো শিস দেয়। শিসের শব্দটা খুব সুন্দর পাখির মতো হতে পারত। আশ্চর্যের বিষয় হলো আমাদের বয়সী মেয়েরা শিস বলতেই একটা বিরক্তিকর অনুভূতি ভাবে। মাঝে মাঝে মনে হয় যেন চিড়িয়াখানায় বাস করছি।

জানালা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ভুলে থাকি কটা বাজে। ঢাকায় আবার কি গোলাগুলি? মেজদার বিয়ের পাত্রী খোঁজা হচ্ছে। জিয়াউদ্দিন ভাই,জেসমিন পালিয়ে বিয়ে করেছে। রফিক আজাদের কবিতাটা ভাবছি।

আমাকে তুমি প্রতীক্ষা করতে বোলো
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবো অনড় বিশ্বাসে,
দাঁড়িয়ে থাকতে-থাকতে
আমার পায়ে শিকড় গজাবে…
আমার প্রতীক্ষা তবু ফুরোবে না…

এমন সময় সেই ছোট্ট প্রেম এসে শিউলি গাছ ধরে দাঁড়াল। আমার হাতে একটা চিঠি আর একটা বই ধরিয়ে সে হাওয়া। ঘটনার আচানক হামলায় বাস্তবে আসতে খানিক সময় লেগেছে। কী রকম যেন এক নিষিদ্ধ ডাক। যে রকম আমরা মেয়েরা নিজেদের অন্তর্বাস লুকিয়ে রাখি আলনার পেছনে,কামিজের ভাঁজে,ড্রয়ারে।

আফজাল সুবর্ণার সেই নাটকটা তাহলে বই হয়েছে। পারলে না রুমকী। মলাট ওল্টাতেই গোটা গোটা হাতের লেখা : নুমপিকে রুহিন।

পুরো বিকেল কেটে যায় চিঠি পড়তে পড়তে। এত বিশাল চিঠি লিখতে পারে কেউ? বাপরে ১৪ পৃষ্ঠা। আচ্ছা ওর কতো দিন লেগেছে এটা লিখতে? আমি মরে গেলেও পারতাম না। এত সাহিত্য আমার নেই।

তাপ্পর মলিদের বাসায় এক প্রাক সন্ধ্যায় রুহিনের সাথে আমার মুখোমুখি দেখা। সেই প্রথম চুমু। কেঁপে উঠেছিলাম। কোথাও ভেসে যাবার আগেই শহরময় ছড়িয়ে পড়ল রুহিন ড্রাগ এডিক্ট। আমার মা খুব গল্পের বই পড়তেন। একবার আমাকে গল্প শোনাচ্ছিলেন দুপুরে।

বাইরে ঝিম মেরে থাকা ৫৭০ সাবানের মতো দুপুর কিলবিল ফেনায়। মায়ের গল্প শুনতে শুনতে আমি মুহুরী প্রজেক্টের জমাট বাঁধা পানির মতো ভাসিয়ে কেঁদে ফেললাম। মা কী যেন বুঝলেন,কিছুই বললেন না আমাকে।

*
একজন অন্ধ ভিক্ষুক ছিল ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে,যাকে এক টাকা দিলে ক’টা বাজে বলে দিত। কতোদিন লোকটাকে এক টাকা দিয়েছি অবাক হবার জন্য । ফেনীতে সন্ধ্যা নামলে কোলাহল থেমে গেলে ভিক্ষুকটা তবু দাঁড়িয়ে থাকত।

সীতু আর আমি ভিক্ষুকটাকে বলতাম: বাড়ি যান মামা।

ভিক্ষুকটা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলত: বাড়ি নাই খালা।

অন্ধ লোকেরও এক শরীর সমান বিষণ্ণতা থাকে । নুয়ে পড়া থুতনিতে সন্ধ্যার বাতাস ছুঁয়ে যেত তার নাম না জানা একাকীত্বের কোল বালিশে ।

আমার বাবারও একটা কোলবালিশ ছিল । মা কতোদিন রেগেমেগে কোলবালিশটা বাইরে ছুঁড়ে ফেল দিত । বাবা হেসে বলতেন;

: নি:সঙ্গ মানুষের কোল বালিশ থাকে। অন্ধের যেমন লাঠি।

ঘরভর্তি গমগমে মানুষ। মায়ের ধুপধাপ সংসার।দুপুর বেলা কড়াইতে গরম তেলে মাছ ভাজার ফোঁসফোঁস শব্দ,বেলা পড়ে এলে মুন্সী বাড়িতে আমাদের উবু হয়ে সাপ লুডু খেলা,ঝপঝপ পানিতে ৫৭০ সাবানের অবারিত ফেনা,টিভিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি মায়ার বিজ্ঞাপন শুনে আমার একাকী লাজুক লাল সময়। টিভিতে সুবর্ণা আফজালকে ভালো লাগে। হুমায়ূন সুনীল শীর্ষেন্দু ভালো লাগে। শামীম আহমেদের সংবাদ পাঠ ভালো লাগে।

শোবার ঘরে বাবা উপুড় হয়ে কোমরে পিঠে হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে রাখতেন । আমি লুকিয়ে বাবাকে দেখতাম। কী সুন্দর ফর্সা বাবার পিঠ। আমার ইচ্ছা করত বাবার পিঠে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকি। এদিকে নতুন শেখা বীজগণিতের সূত্র মুখস্থ করি ।

এ প্লাস বি হোল স্কয়ার ইক্যুয়েল টু এ স্কয়ার প্লাস টু এবি প্লাস বি স্কয়ার।

মনে পড়ে একদিন অনেক আগে মেজো আপা আমার চোখের দিকে না তাকিয়ে নিউজপ্রিন্ট কাগজে মুড়ে কী একটা জিনিষ দিয়ে তড়িঘড়ি বললেন : এখন থেকে এটা পাজামার নিচে আর কামিজের নিচে পরবি।

মনে হচ্ছিল সেদিন আমি মিশে যাচ্ছি মাটিতে লজ্জার আঙ্গুর লতায় । বিজয় সেন দিঘির সবুজ ধোড়া সাপের মতো হিলহিল করে বড় হচ্ছি ।

মলিকে ভালো লাগে,বিএনসিসি ভালো লাগে,ববিতাকে ভালো লাগে,বুলবুল আহমেদকে ভালো লাগে। বড়দার কবিতা ভালো লাগে। নির্বাচনের সময় সারারাত ঘুম চোখে টিভি দেখতে ভালো লাগে। ছায়াছন্দ ভালো লাগে।

ঢালু পাহাড়ের ঢাল গলে হুড়মুড় বৃষ্টি নামলে মনে হয় বাবার ফর্সা পিঠের মতো বড় হচ্ছি। আমার খলবল শরীর বড় হচ্ছে । সিনেমার পোস্টারে লাল রঙের নায়িকারা মদিরা বড় হচ্ছে ।

কচকচ আমলকি,কুল বরই,বড় আপার শ্বশুর বাড়ি,সুরমা খালা,সুফিয়া ম্যাডাম,হজমির আচার সব আমার হাতে ধরে পাল্লা দিয়ে ভালোবাসতে থাকে পরষ্পরে।

আমার মায়ের অনেকগুলো মোরগ মুরগী ছিল । সন্ধ্যা নামলে মা খুদকুড়ো নিজ হাতে মেখে সুর করে ডাকতেন; আয় আয় তৈ তৈ...

হুড়মুড় করে মোরগ মুরগীর দল ছুটে আসত মায়ের পায়ের কাছে। স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম বড় হয়ে আমার একটা প্রাণিজ খামার থাকবে। আর থাকবে হানাহানিবিহীন পৃথিবী। মা হবেন সেই জগতজোড়া অধিপতি,আমি তার দুর্দান্ত সিপাহশালার।


মায়ের চোখর কোণায় এখন বয়সী ঈগল পায়ের ছাপ । সব কিছু ভুলে যায় দ্রুত। সেই অন্ধ ভিক্ষুকটাকে আর দেখিনি । হয়তো তার শরীর খেয়ে নিয়েছে ক্ষুধার্ত মাটি । হুম হুম করে সাঁওতাল শরীরে আমি বড় আপা মেজো আপাদের মতো বড় হয়ে গেলাম তরাসে।

মাঝে মাঝে শিউলি গাছটার নিচে বড়দা সুর করে পড়ছেন ;

ষোড়শ শতাব্দীর সময়ে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর পরাগলপুরের বর্ণনায় উল্লেখ করেন: "ফনী নদীতে বেষ্টিত চারিধার, পূর্বে মহাগিরি পার নাই তার।" সতের শতকে মির্জা নাথানের ফার্সী ভাষায় রচিত বাহরিস্তান-ই-গায়েবীতে ফনী শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ফেনী-তে পরিণত হয়।

আঠার শতকের শেষার্ধে কবি আলী রেজা প্রকাশ কানু ফকির তার পীরের বসতি হাজীগাওর অবস্থান সম্পর্কে লিখছেন, "ফেনীর দক্ষিণে এক ষর উপাম, হাজীগাও করিছিল সেই দেশের নাম।" কবি মোহাম্মদ মুকিম তার পৈতৃক বসতির বর্ণনাকালে বলেছেন, "ফেনীর পশ্চিমভাগে জুগিদিয়া দেশে।"

চোখ বন্ধ করলে দেখি বাবা ছাতা মাথায় আমাদের সব ভাই বোনকে ডাকছে; আয় আয় ছাতার নিচে আয়,ভিজে যাচ্ছিস তো। ভিজলে জ্বরের কাছে পরাজিত হবি। ভাইয়েরা ঠেলেঠুলে আমাকে ছাতার নিচে পাঠায়। আমি সবার ছোট তো।

একদিন বাবা কাজ থেকে ফিরে এসে মলিন মুখে বললেন যে তার শরীরে ব্যথা নেমেছে আন্ত:নগর ট্রেনের মতো। মা পাগলের মতো বাবার পিঠে গরম পানির স্যাক দিতে শুরু করলেন। ডাকাডাকি শুরু করলেন সবাইকে। ভাই বোন বড় বড় করে উঁকি দিয়ে দেখল ছাতা বিহীন একটা লোক বৃষ্টির অনন্ত সন্ত্রাস উপেক্ষা করে কোথায় যে যাত্রা শুরু করল। নিষ্ঠুর বাবাটা আমাদের সমস্ত বিলাপ ডলফিন সাঁতারে পাশ কেটে একাকী নিরুদ্দেশ যাত্রা শুরু করলেন।

ফর্সা পিঠ লোকটার কনে আঙ্গুল ধরে থাকলাম আমি জিপসী বালিকার মতো। বিড়বিড় করতে চাইলাম;

: বাবা আমি ছাতা ধরি? বাইরে বঙ্গবন্ধুর মতো দরাজ বৃষ্টি।

নিষ্ঠুর লোকটা কথাই শুনলো না ...। চলে গেলেন অনন্তে...।

ধরে বেঁধে একটা অচেনা লোকের সাথে আমার বিয়ে দেয়া হলো। ভাইয়েরা বোধ হয় বাঁচল। প্রথম যখন প্লেনে চড়েছি,আমার পাশের সিটে যে ছেলেটা বসেছিল,কী সুন্দর করে কথা বলে সে! বিদায় নেবার সময় দেখি ছেলেটা হুইল চেয়ারে করে যাচ্ছে। এতো মনটা খারাপ লাগছিল তখন।

*

চাঁদ মাখানো আমার কিছু একান্ত দৃশ্য আছে। এ দৃশ্যগুলো আমার বানানো। বাড়তে বাড়তে রাত যখন প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হয়,সহকারী থেকে সহযোগী তখন এই দৃশ্যগুলো নির্মাণ করি। পৃথিবীর নির্মাণ কাজগুলোর একটা প্রস্তুতিপর্ব আছে,কচকচ সৌন্দর্য আছে,স্বপ্ন দৃশ্যগুলোরও একটা মনোনীত অপরূপা পর্ব আছে। সঘন কোনো বনের ভেতর জ্যোৎস্না নামছে,বনের গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিক। একটা হরিণী তার শাবককে নিয়ে থমকে আছে পাতার আড়ালে,চোখ কাজল করে। আমি দেখতে পাই হরিণ স্নিগ্ধ চোখ,টলটল শাবক । কোথাও রয়েল বেঙ্গল টাইগার নেই। হরিণটা আমাকে দেখে পলক সরাচ্ছে না। হরিণের মতোই বুঝি আমি তৃণভোজী। আমি আর হরিণ শাবক পরষ্পর সিগন্যাল পাঠাই চোখে চোখে কেউ কাউকে ভয় পাচ্ছি না। নিরাপদ আমরা পরষ্পর।

কেউ গল্প করছে আমাকে লক্ষ্য করে,এক মুহূর্তে নিখোঁজ হয়ে যাই গল্পকারের সামনে থেকে। ডুব দেই কতো কতো জায়গায়। ঘুরে আসি এক পাক তামাম স্বপ্নদৃশ্য থেকে। প্রায়ই গল্পকার বিরক্ত হয় আমার অমনোযোগিতায়। কেউ জানে না আমার এই ডিসঅর্ডারটুকু। ড. আমার মনো:সংযোগ বাড়ানোর কিছু এক্সারসাইজ দিয়েছিলেন। প্রথম প্রথম মহা উৎসাহে আমি কাজে নেমে পড়ি। বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে শুরু করি; নিরানব্বই,আটানব্বই,সাতানব্বই,ছিয়ানব্বই...

কখন এক পর্যায়ে আমি ক্লাসরুমে ঢুকে যাই টের পাই না। এসএসসি এইচএসিতে মোটামুটি রেজাল্ট করার পরও আমি যখন ঢাকায় ভর্তি হলাম না,ফেনীতে ডিগ্রী পড়ব ঠিক করলাম,মামারা হা রে রে রে করে দৌড়ে এলো মায়ের কাছে যে এই মেয়ে পাশ করে রাস্তায় ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াবে,হাউজ ওয়াইফ জীবন যাবে । আমি দুই চোখ বন্ধ করে অড্রে হেপবার্নের মতো আলো ছায়া হাসি মুখে ঝুলিয়ে ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ি । তৌহিদুল করিম চৌধুরী স্যার একটা নীল রঙা জিন্স প্যান্টে পিয়ারসন্স স্ট্রাইপ শার্ট গুঁজে দিয়ে গ্রাফ আঁকছেন সাদা চক দিয়ে ব্লাকবোর্ডে,মাইক্রো ইকোনোমিক থিওরীর রেখাগুলো আমার কাছে কল্পদৃশ্য হয়ে নাচতে লাগল।

একদিন সন্ধ্যায় স্যার দাঁত ব্রাশ করতে গিয়ে দেখেন মুখ ভর্তি রক্ত,ভেবেছিলেন দাঁতের কোনো সমস্যা। ধরা পড়ল লাস্ট স্টেজ ক্যান্সার । একটা ঝকঝকে বয়সে আমার এই প্রিয় স্যার মারা গেলেন । কতোদিন দুপুর দুটার পর কলেজ ফাঁকা হয়ে গেলে স্যারের মতো নীল রঙা জিন্স পরে স্যারের রুমটার সামনে একাকী দাঁড়িয়ে থেকেছি ।

চোখ বন্ধ করে এটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডার কাটানোর ব্যায়াম শুরু করেছি ফিসফিসিয়ে;


: উমা বসু,দেবেশ রায়,মামুন হুসাইন,আউটসাইডার,মকবুল ফিদা হুসেন,ফ্রিডা,মুহাম্মদ আলী,বায়োনিক উওম্যান,অশান্ত ডি-মেল,সংযুক্তা পাণিগ্রাহী,সুনীল মনোহর গাভাস্কার,ইউলিসিস,দ্য স্যান্ডস অব ডি,শফিকুল হক হীরা,হুমায়ুন ফরিদী,তৌহিদুল করিম চৌধুরী,রুহিন...

চোখ ভিজতে থাকে বইয়ের পাতার মতো সুন্দর করবী বৃষ্টিতে। আমার আর এক্সারসাইজ করতে ভালো লাগে না। মাঝে মাঝেই ইচ্ছা করে এক বিকেলে দৌড়ে দৌড়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে চলে যাই । তাঁর সাথে কলকল কথা বলি । দুজনে সিদ্ধান্ত নেই কাল অমল রৌদ্র,কালকের দিন হোক বাউল আব্দুল করিম দিন । পরশু দিন ধবল গাঙ্গিনা জ্যোৎস্না,পরশু দিনের নাম হোক বীর শ্রেষ্ঠ জ্যোৎস্না। রবিনাথ ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে যেদিন প্রথম দেখেছিলেন,সেদিনটি হোক বঙ্গোপসাগর ডে।

গান গাইতে গাইতে যে অন্ধ ভিক্ষুকটা বিনা টিকেটে বিলোনিয়া চলে যায়,তার একতারায় আমার সমস্ত এটেনশন ঢেলে দেই। ইতিহাসের ম্যাডামের ক্লাস করতে করতে বাংলাদেশের ছবি আঁকি নন্দনে। কতো নিষ্ঠুর সময় চলে যায় আমার ডানে বামে বর্ষাতি গায়ে। কেউ কেউ শোনে কেউ কেউ না। ছায়া সকাল ছায়া সকালের মতোই বাড়তে থাকে আমার অমনোযোগ। যেন সেই ছায়ানীড়।

নিহত সভ্যতার মতো টুপটাপ টুপটাপ টুপটাপ...

1 টি মন্তব্য:

  1. দৃশ্যগুলো একের পর এক ভাবায় । ভাবনাগুলো আরো আবেগে বেঁধে ফেলে গল্পেই। শেষ করার আর গল্প থেকে বের হতে পারছিলাম না। বর্ণনার দক্ষতাই গল্পের প্রাণ।

    উত্তরমুছুন