রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

গোপা দত্ত ভৌমিক'এর প্রবন্ধ : জয়ন্ত দে-র গল্প


সেরা ৫০টি গল্প : জয়ন্ত দে। দে’জ পাবলিশিং, ২০১২।। ২৫০ টাকা

বেশ মনে পড়ে “দেশ’ পত্রিকায় ‘স্বস্তিচিহ্ন” গল্পটি পড়ে অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম। 'নষ্ট' শব্দটির ব্যবহার এমন নিদারুণ যে পাঠকের অনুভূতি জগতে তুমুল আলোড়ন তুলে দেয়। শহুরে উচ্চবিত্ত দম্পতির একমাত্ৰ সন্তান বাপ্পা বেসরকারি কলেজে হােটেল ম্যানেজমেন্ট পত্রে আর সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার বিদ্যার্থী দুলালের মতো কিছু নৈশবিদ্যা শেখে পৈতৃক পয়সায়—বাবা, মা কিঞ্চিৎ অস্বস্তি বোধ করে কিন্তু শাসনের ক্ষমতা তাদের নেই।

এই সংসারে হঠাৎ পুরুলিয়ার দেশের বাড়ির প্রতিবেশীর ইতিহাস পড়ুয়া মাধ্যমিকে থার্ড হওয়া সুজয় হাজির হয়। বাপ্পার বন্ধুদের ঠেকের যে বর্ণনা এই গল্পে উঠে এসেছে তাতে আধুনিক প্রজন্মের এক শ্রেণীর ছেলেমেয়ের চালচলন, অভ্যাস, কথাবার্তা যেন গ্রাফিক পুঙ্খতায় ধরা দেয়। মনে হয় লেখক মুভি-ক্যামেরায় মুহুর্তগুলি ধরে রেখেছেন। সুজয় এখানে দর্শক, আবার অন্যতম চরিত্র। সে এই চিত্ৰনাট্যের মধ্যে আছে আবার নেই।

“ঈশানী বলল, দাঁড়াও, দাঁড়াও, তুমি কি মাল রাজনীতি দেবে নাকি! সব্বোনাশ করেছে। এই ভর সন্ধেবেলায় রাজনীতির জ্ঞান শুনতে হবে ?”

সায়ন্তনী বলল, 'তুমি কি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন করো ? আমরা কিন্তু পলিটিকস দেখলে ঘেউ ঘেউ করি।'... রোহন বলল, 'আমাদের একটাই ধারণা খাও, পিও, মস্তি করে, জিও এই আমাদের ফিলোজফি'। ... দেবারতি বলল, 'ছোটবেলা থেকে এত জ্ঞান পেয়েছি, এত দেশ উদ্ধারের গপ্পো শুনেছি আর ভাল লাগে না। ...আপনি কি আমাদের পুরুলিয়ার ওই অঞ্চলের দারিদ্র্যের কথা শোনাবেন ? লোধাসুলি, আমলাশোল...আমাদের ভাল লাগে না।'

সুজয় যে মদ্যপান, নোংরা জোকস, ডিসকোথেকে যাওয়া এড়িয়ে যাচ্ছে তা বুঝতে বাপ্পার বন্ধুদের দেরি হয়নি। ওরা মনে করে পড়াশোনায় মেধাবী, তথাকথিত ভালো ছেলে সুজয় ওদের ‘খুব খারাপ নষ্ট' ভাবছে। সুজয় তা না ভাবলেও বাপ্পার বাবা-মা অখিল ও জয়িতা অবশ্য সেইরকমই ভাবে। নষ্ট বন্ধুদের পাল্লায় বাপ্পা গোল্লায় যাচ্ছে। বাপ্লাকে বঁচানোর জন্য সচ্চরিত্র সুজয়ের প্রভাবকে তারা কাজে লাগাতে চায়। 'এই বন্ধু-বান্ধব, নেশা করা থেকে সরিয়ে ওকে স্বাভাবিক জীবনে যদি ফেরানো যেত। জীবনের মানে কী যদি বোঝানো যেত।' হঠাৎ করেই উঠে যায় সুজয় আর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। জানা যায় সুজয় মাওবাদী কম্যান্ডার রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত। সদিচ্ছার আলগা মুখোশ সরে গিয়ে মধ্যবিত্তের ধূর্ত, ভীতু, নিরাপত্তালোভী মুখ উঁকি দেয়। সুজয় আবার বাপ্পার কচি মনে বিপ্লবের বীজ বুনে দিয়ে যায়নি তো ? ঘুমন্ত বাপ্পার মুখের কাছে নাক ডুবিয়ে প্রাণভরে মদের গন্ধ নেয় শঙ্কাতুর বাবা, মা। গল্পের শেষ বাক্যটি যেন নিঃশব্দ বিস্ফোরণ ঘটায়,

‘অখিল বলল, 'বাপ্পাকে নষ্ট করতে পারেনি। সব ঠিক আছে।'

'নষ্ট’ শব্দের 'লক্ষ্মণ’ ও ব্যঞ্জনা নিয়ে যেন বিদ্রুপের বন্যা বয়ে গেছে। মেধাবী সুজয় নিজের কেরিয়ার বিসর্জন দিয়ে উগ্ৰপন্থী রাজনীতি করে বলে হঠাৎ সে 'নষ্ট' বলে চিহ্নিত হয়। তার সংসর্গ ও পচাফলের মতো বাপ্লাকে নষ্ট করবে এই আশঙ্কা ছেলের মুখে মদের গন্ধ পেয়ে এক ফুঁয়ে উড়ে যায়। বড়োই স্বস্তি পায় বাপ্পার স্ট্যাটাস ও নিরাপত্তাকাতর বাবা, মা।

জয়ন্ত দে গল্পকার হিসেবে পাঠককে আরামে থাকতে দেবার জন্য কলম ধরেননি। তার চাঁদমারি শিক্ষিত শহুরে মধ্যবিত্তর কপটতা, দ্বিচারিতা, বিচিত্র ভান, মুখোশ ও খোলস ধরে যুগপৎ টান দিয়ে তিনি নির্মোক খসিয়ে দেখিয়ে দেন নগ্ন স্বার্থপরতা, অর্থগৃধ্রুতা, অর্থ ও রকমারি লালসার কদর্যরূপ। তাঁর কোনো কোনো গল্পে মোপাসাঁধর্মী প্রকৃতিবাদের ছোঁয়া অলক্ষ্য নয়। জীবনের কাঁচা মাটি ছেনে গল্পের অবয়ব গড়ে উঠেছে, বাস্তবতাকে দেখানোর ব্যাপারে জয়ন্ত কোনো আপস করেননি। এমনকি কোনো কোনো গল্পে দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত কোনো খবরের ঝাপসা স্মৃতি মনে ভেসে ওঠে। ছোটােগল্পের উপাদান হিসেবে প্রকৃত ঘটনাকে ব্যবহার করতে জয়ন্ত পিছিয়ে আসেননি। যদিও রীতি অনুসারে যেসব সাবধানতা নেবার কথা তা নিতে ভোলেননি।

‘বাইশে শ্রাবণ” বা ‘যেমন আছেন। সুতপা ঘোষাল’ হয়তাে এই ধরনের গল্প। কিন্তু শুধু বস্তুবাদ বা প্রকৃতিবাদ ইত্যাদি তকমা দিয়ে তার ছোটােগল্পকে ধরা যাবে না, কথাসাহিত্যিক হিসেবে তার আয়ত্তে আছে সেই অলৌকিক অভিজ্ঞতার সিঁড়ি—যা বেয়ে মানবজীবনের তলানিতে পৌঁছানো যায়, মনস্তত্ত্বের অন্ধকার খাদানে নেমে পড়া যায় আবার নীল আকাশের উন্মনা মেঘপুঞ্জে মাথা ঠেকিয়ে দেওয়া যায়।

ব্যক্তিগতভাবে আমার অসাধারণ মনে হয়েছে ‘পুণ্যতোয়া’ গল্পটি। এ গল্পের কেন্দ্রে অফিসছবি। অবশ্যই সরকারি অফিস। সেই অফিসে বড়সাহেব হয়ে এসেছিল ভবেশ সাউ।

'...হাইট মেরেকেটে হবে পাঁচ তিন। গায়ের রঙ ঠিক কালো নয়, অদ্ভুত ধর্নের ময়লা, তেলছোপ পড়া। আমি যখন তাকে দেখেছি তখনই মাথায় চুল বড় কম। তাও তেল হলে টিটচিটে হয়ে মাথার সঙ্গে সেঁটে থাকত। এ ধরনের মানুষকে বড়সাহেব বলে ঠিক মানায় না।'
গল্প যখন অরুণের মতো অফিসের অন্যরাও এই সাধারণ চেহারার ভবেশ সাউকে বাধ্য হয়ে 'স্যার স্যার' করত। ভবেশ সাউ আবার মেজাজে কড়া, নিয়ম শৃঙ্খলার ভক্ত, কোনো রকম ভুলচুক কিংবা অমনোযোগ, শিথিলতার মান ছিল না তার কাছে। সে ডিসিপ্লিন শেখাত, বনবাদাড়ে পোস্টিং-এর হুমকি দিত। সরকারি অফিসে এমন মনিব কি মেনে নেওয়া যায়! শুরু হল অধস্তনদের অবিরত র‍্যাগিং । ওর ব্যাগের মধ্যে মালিকের অগোচরে ঢুকিয়ে রাখা হত অকথ্য, নােংরা সব বস্তু। অরুণ এর নাম দিয়েছে 'চূড়ান্ত অসহযোগিতা”—যা প্রকৃতপক্ষে 'পোলিটিক্যালি কারেক্ট’ সংজ্ঞা। ভবেশ অবশ্য বলেছে, 'অসহযোগিতা নয়, বলুন অসভ্যতা করেছেন। আপনারা কুকুরের গু আমাকে খামে করে পাঠিয়েছেন!! কাটা মুরগির যাবতীয় ছাঁট আপনারা আমার নামে পার্সেল করেছেন। অফিসের হেন দেওয়াল নেই যে আমার নামে নোংরা কথা লেখেননি।'

গল্পটির পটভূমি অফিসের কদর্য বর্বরতা থেকে বারবার ঝাঁপ দিয়েছে কাশীর গঙ্গার কূলে কুলে, নানা ঘাট আর শ্মশানের বাঁকে বাঁকে। সেখানেই বেড়াতে গিয়ে ভাবেশের সঙ্গে একাদা অধস্তন অরুণের আকস্মিক সাক্ষাৎ। চমকটুকু লুকোনো ছিল গল্পের শেষের জন্য। ভবেশ জানিয়েছে তার স্ত্রী ইন্দ্ৰানী গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল, স্বামীকে সে বিশ্বাস করতে পারেনি।

'আমাকে কী করে বিশ্বাস করবে বলুন, কোনও স্ত্রী যদি দিনের পর দিন স্বামীর অফিস ব্যাগ থেকে ব্যবহার করা কন্ডোম পায় সে কি তার স্বামীকে বিশ্বাস করতে পারে? ... আমার কাছে খামে করে যদি কুকুরের গু আসতে পারে, কাটা মুরগির পালক নাড়িভূড়ি আসতে পারে, তাহলে কি আমার অফিস ব্যাগে ইউজ করা কন্ডোম আসতে পারে না? আপনি কী বলেন?'

'হুইপ ক্র্যাক এন্ডিং' হয়তো একেই বলে। চাবুকের অদৃশ্য আঘাত পড়েছে অরুণের সভ্য মুখোশের আড়ালে লুকোনো হিংস্র মুখে। একটু আগেও সে বলছিল ভবেশের আইন আর কাজের থিওরিতে তারা বিশ্বাস করে না । ‘কর্মসংস্কৃতি’ আর ‘কর্মচারী ঐক্যের বুলি কপচানো অরুণ এবার নিজের মুখোমুখি দাঁড়ায়, নিজের, নিজেদের দূষণ ক্ষমতার প্রসারণের সামনে, পালানোর পথ নেই।

ভোলা যায় না ‘পেন্ডুলাম’ গল্পটিও। কথকের বাড়ির একটি আকর্ষণীয় এবং অ্যান্টিক টেবিল ক্লকের বর্ণনা দিয়ে গল্প শুরু। বাড়িতে যে আসত সপ্ৰশংস দৃষ্টিতে ঘড়িটা দেখত আর ঘড়ির মালিক, কথকের বাবার বুক গর্বে ফুলে উঠত। শুধু পারিবারিক ঐতিহ্য আর সম্পদের গর্ব নয়, বাবা জানাত ঘড়িটা বেজাতের, তারপর উনিশশো ছেচল্লিশের বীরত্ব আর যৌবন এবং ঘড়ির গল্প শুরু হত। সবাই মুগ্ধ হয়ে শুনত, কোথাও কোনো অসুবিধা ছিল না ! ঘড়িটা বন্ধ হয়েই সমস্যা দেখা দিল। ঘড়িটার সঙ্গে বাবার যৌবনের 'হিস্ট্রি--ফাইট' জড়িত, তাই দোকানে দেওয়া যাবে না, বাড়িতে মেকানিক আনতে হবে । তারজন্য ছেলেকে অফিসে চেয়ারে ব্যাগ, ফাইলে পেপার ওয়েট, মাথার ওপর ফ্যান ঘুরিয়ে একটু ডুব মারতে হল। তাতে বিবেক দংশন তেমন হয়নি কারণ, কলেজে বামপন্থী রাজনীতি করা ছেলে 'এখনো মনেপ্ৰাণে বাম’ কিন্তু ঘুষ খেতে তেমন কোনো বাধা অনুভব করেনি। বাবাও কাঁধে হাত রেখে ছেলেকে নৈতিক সাহস দিয়েছে, ঘুষকে ভালোনামে ডেকেছে ‘উপরি’। যদিও বাবা বামপন্থী নয়। বাবার মতে, 'সবে ভারতবর্ষের মানুষ জাগছে। বাবরি ছিল বড় গাঁট। সেটা ধসেছে! এবার টপটপ হিন্দু এগোবে। এখনও অনেক কাজ ।' বামপন্থী হলেও নস্ট্রাদামুস জানা ছেলে মোহনও বিশ্বাস করে হি্নদু জাগরণের সূচনা হয়েছে।

এই গল্পে জয়ন্ত আস্তে আস্তে ঢাকনা খুলেছেন। গল্পের বুননে একটা রুদ্ধশ্বাস উৎকণ্ঠা পাঠককে টানটান করে রাখে। ঘড়ির গল্পট! কী ? সেটা প্লটের কৌশলে অসাধারণ ভাবে লুকিয়ে রাখা হয় গল্পের শেষে বিস্ফোরণের জন্য। রাধাবাজারে এক ঘড়ির দোকানের মালিকরূপে মোহন আবিষ্কার করে কলেজের সহপাঠী সামসুদ্দিনকে। চারপুরুষের বাস ওদের এই শহরে। তুবু ওর বড়ো ছেলে বোম্বে থেকে বিতাড়িত হয়েছে ৷ ‘নয়া গৰ্ভমেন্ট বাংলাদেশি বলে মুসলমান খেদাচ্ছে।' সামসুদ্দিন ঘড়িটা সারিয়ে দ্রুত সেই ছেলেকে দিয়েই গল্পকথকের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বলা যায় এখান থেকে গল্পটার দ্বিতীয় পর্ব শুরু। ঘড়িকে সচল রূপে পেয়ে বাবা সামসুদিনের ছেলেকে প্রাণভরা আশীর্বাদ করল, 'ভারত্তামার সুসন্তান হও' । ছেলেটির খাতিরে মিষ্টি আনার জন্য তাগাদাও বাবার। মোহন মিষ্টি আনতে যাওয়াতেই বিপত্তিটা ঘটিল। বাবা সামসুদ্দিনের বোম্বে থেকে তাড়া খাওয়া ছেলের কাছে ঘড়ির বিখ্যাত ইতিহাসের ডালা খুলে বসল । সময়টা উনিশশো ছেচল্লিশ, জিন্নার ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ডাক, সোহরাবর্দির প্রত্যক্ষ মদতে হিন্দুর সম্পত্তি লুট, হিন্দু খুন। বােমা, লাঠি, বন্দুক নিয়ে হিন্দুদের পাল্টা প্রতিরোধ, বাবার গলা উত্তেজনায় কম্পিত, 'বন্দেমাতরম! ফিয়ার্স লেনে, সাগর দত্ত লেনে প্রচুর হিন্দু মরছে। ঠিক হল একটা হিন্দুর লাশ দেখলে দশটা মুসলমানের লাশ ফেলতে হবে। একদিকে হিন্দুদের রেসকিউ করলাম, অন্যদিকে হিন্দুহওত্যার বদলা। লাশে লাশে ভরে গেল কলকাতা। আর এ সময়েই লুটে এনেছিলাম এ ঘড়ি। এক মুসলমান বাড়ির অন্দরমহল থেকে।' বাবাকে থামানোর জন্য নানাপ্রকারে মোহনের প্রাণপণ প্রচেষ্টা সবই ব্যর্থ হয়। বিষবৃক্ষের বীজ উড়ে পড়ে আরেকটি নবীন মৃত্তিকায়! ঘড়ি সারানোর জন্য দুশো টাকা চেয়ে নিয়ে দ্রুত স্থানত্যাগ করে সামুর ছেলে। পরদিন লজ্জিতভাবে টাকাটা ফেরত দিতে আসে সামসুদ্দিন! বন্ধুর কাছে কোনো টাকা নেবার কথা ছিল না। সামু বোঝেনি টাকা নেওয়াটা তার বড়ো ছেলের প্রতিবাদের ভাষা।

‘এখান থেকে ফিরে গিয়ে টাকাটা আমার কোলের ওপর ছুঁড়ে দিল। বলল ঘড়ির মেরামতির চার্জ। তারপর স্নান সেরে ছুটল মসজিদে। অথচ অন্য সময় বলে-বলে পাঠাতে হয়। কাল কেমন যেন... !

সামু জানে না কাল এক বৃদ্ধের অন্তরের সাম্প্রদায়িক ঘূণা তার ছেলের সতেজ মনকে বিষে নীল করে দিয়েছে। আর কোনো দিন সে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে মুক্তি পাবে না। বোম্বে থেকে বিতাড়িত হয়েও তার যা মনে হয়নি, ঘড়ির গল্প তা অনায়াসে করে ফেলতে পেরেছে। লক্ষণীয়, বাড়িতে সমাগত অতিথিদের বাবা চিরকালই এই বীরত্বের গল্প শুনিয়েছে। কেউ আপত্তি করেনি। বামপন্থী রাজনীতি করা ছেলেও এতে দোষের কিছু পায়নি। মোহনের মধ্যে চাপা আত্মধিক্কার, পাঠকের নজর এড়ায় না।

সাম্প্রদায়িক ঘৃণার পাশাপাশি এই গল্পে অন্য আরেকটি ইঙ্গিত আছে। মোহনের স্বধৰ্মনিষ্ঠ বাবা শীত-গ্রীষ্ম বর্ষা সব ঋতুতেই মর্নিং ওয়াক করে, ফেরার পর মোহনের বউ দরজার ছিটিকিনি খোলে কিন্তু ঘর থেকে বেরোয় না।

'বাবা সকলে মণির মুখ দেখেন। কখনও দেখে ফেললে খুব অসন্তুষ্ট হয়। আসলে মণির, মানে আমাদের কোনও সন্তান নেই। বাবা ভাবে ওটা মণির দোষ। আমিও ভাবি । ফলে আমার মানও বাধা নেই।”
আমাদের সমাজে থাবা গেড়ে বসা পিতৃতন্ত্রের জগদ্দল মূর্তি জয়ন্ত ভালোই চেনেন।

অভ্যাসে, সংস্কারে, কথাবার্তায়, শরীরী ভাষায় এই আধিপত্য কীভাবে কায়েমী হয়ে আছে অনেকগুলি গল্পে তার অনবদ্য উন্মোচন আছে।

হুতোম তাঁর নকশায় কলকাতা শহরে বিলাসীবাবুদের কীর্তির ধ্বজারূপে তাদের 'রাড়েদের' জন্য করে দেওয়া অট্টালিকাগুলির উল্লেখ করেছেন। ‘শ্রীময়ী’’ গল্পে আছে এমনই একটি বাড়ির দুই বাসিন্দার কথা। নবীন বাবুর দুই রক্ষিতা গৌরী আর উমা। দু’জনেই এখন বৃদ্ধ। নবীনবাবু গৌরীর মুখে জ্বলন্ত ধুনুচি ঢেলে দিয়েছিল, ফলে গৌরীর পোড়ামুখ জনসমক্ষে বার করা মুশকিল। তবে নবীনবাবুর মৃত্যুর পর ওরা অশৌচ নিয়েছিল, ঘাটকাজ, শ্রাদ্ধশান্তি সবই দুই স্ত্রীর মতো করেছে। তখন থেকে বৈধব্যও নিয়েছে, সবই বাড়িটার দখল পাবার জন্য। বাড়িতে ভাড়াটে বসাতে হয়েছে ওদের টাকার টানাটানিতে। নতুন ভাড়াটে তৃষিত আর শ্যামলী, স্বামী বিধবাদের প্রকৃত পরিচয় জানে, স্ত্রী জানে না। প্রথম দিন বাড়িওয়ালিদের ঘরে খেতে বসে পোস্তুর বড়া আর বেগুনভাজা ইত্যাদি দিয়ে পরম তৃপ্তি ভরে এমনভাবে খাচ্ছিল তৃষিত যে 'খাওয়ার তৃপ্তিতে যেন থালাতেই হাত ধুয়ে শুয়ে পড়ে।' সেই তৃষিতই অনায়াসে কিছুক্ষণ পরে কটুকাটব্য করে 'বুড়ি বেশ্যাদের'। বাড়িটা হাতানোই তার মতলব !

'লাল-খেরো খাতা’ গল্পটি মনে পড়িয়ে দিল উনিশ শতকীয় এক বৃদ্ধর আত্মকাহিনি— নিস্তারিনী দেবীর “সেকেলে কথা” । তিনি সম্পর্কে (ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়) ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায়ের পিসিমা | তাঁদের ছিল জাঁদরেল কুলীনের বংশ, পঁচিশ-ত্রিশ থেকে দুশো পর্যন্ত বিয়ে করে পুরুষদের জামিয়ে ব্যবসা চলত। নিস্তারিণী জানিয়েছেন তাই হয়তো পরের প্রজন্মে অনেকেই বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটিকে ঘূণা করে চিরকুমার থেকে গিয়েছিলেন। 'লাল খেরো খাতা'য় একদা স্ত্রীদের নাম, ঠিকানা, বংশ পরিচয় লেখা থাকত, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কথকের কোণে বাবা শুধু হিসেব লিখে রাখতেন। তবে সেখানেও মেয়েরাই বলি প্রদত্ত বিনা অপরাধে। হিসেবে এক আধ পয়সা কম পড়লে বাবা তা ঢুকিয়ে রাখতেন মার নামে।

'এক সময় দেখা যেত মায়ের নামে বেশ কিছু পয়সা খাতায় কলমে খরচ হয়ে গেছে। এত পয়সা খরচ করার জন্যে বাবা আবার এক-আধদিন মাকে মৃদু বকতেনও। মা মুখ বুজে। দোষ৷ স্বীকার করে নিতেন'।

এরপর বাবা রাখতেন তার স্কুল শিক্ষিকা কুমারী মেয়ের প্রতিটি দিনের ঘণ্টা মিনিটের হিসেব--সময় অপচয়ের তালিকা ৷ লক্ষণীয় ছেলের সময়ের হিসেব রাখতেন না। মেয়ের ঠিক সময়ে বিয়ে না দিতে পেরে বাবা অপরাধবোধে ভুগতেন। তাঁর মতে বিয়ে না হলে মেয়ের উদ্ধার নেই! সে দিক দিয়ে কৌলীন্য ও বহুবিবাহ তার কাছে নিন্দনীয় নয়, আইবুড়ো মেয়েগুলো তো উদ্ধার হত। জাত্যভিমান তাঁর তীব্র তাই আইবুড়ো নাম খণ্ডিয়ে মেয়ে কখন শিডিউল কাস্ট পাত্রকে বিয়ে করল--তিনি শেষ শয্যায় আশ্রয় নিলেন। এই গল্প যেন কলঙ্কময় সামাজিক ইতিহাস আর ধারাবাহিক অন্ধ সংস্কার-এর ইতিবৃত্ত। কৌলীন্যের পুরো ব্যবস্থাটাই কন্যাদান ও গ্রহণের ওপর নির্ভর করে ঘুরপাক খেত।

কখনো কখনো জয়ন্ত দে'র গল্পে জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর ঘরানা ঝিলিক দেয়। চারদিকে নিঃশব্দে মানবিক সম্পর্কগুলি ধসে পড়ছে, তুষের মতো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে মাটিতে মিশিয়ে যাচ্ছে, বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, বাস্তুর সেইসব খোঁদলগুলি ঢাকলে মধ্যবিত্ত প্রাণপণে জরিদার চাদর বিছোচ্ছে, উচ্চবিত্তরা অবশ্য এসব ভাঙচুর ততটা পরোয়া করে না--বিবর্ণ আলুনি জীবনযাপনের আড়ালে কেউ দপ্‌দপে যৌনতার লুকোনো আঁচে সেঁকে নিচ্ছে সম্পর্ক, কখনো ঢলে পড়ছে বিকৃতির দিকে, এইসব ছবি অনিবার্য বিষাদ ঘনিয়ে আনে। একটু একটু মন খারাপ নিয়ে আরো মন খারাপের দিকে দ্রুত এগোয় পাঠক--এমনি গল্পগুলির চৌম্বক শক্তি | বিষয় নির্বাচনের মৌলিকতা ছাড়াও টগবগে বর্ণনা ও সংলাপ আকর্ষণের একটি বড়ো দিক। ন্যারেটিভকে জয়ন্ত অবহেলা করেননি, না--গল্পের খোঁজে বুনো হাঁসের পেছনে ধাওয়া করেননি। কিন্তু বেশিরভাগ সময় ঘন বুনোটের গল্পগুলি পাঠককে মস্ত বড়ো 'না'-র শূন্যতায় ছুঁড়ে দেয়।

'নিহিত পাতাল' গল্পটি মনে পড়ছে! তুষারদের বাড়িতে কাজের মেয়ে ছিল, যৌবনবতী রত্না, তুষার লোভ সামলাতে পারেনি। রত্না গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তুষারের বাবাই শেষ পর্যন্ত বাঁচায়! নার্সিংহোমে গর্ভপাত করানোর পর রত্নাকে বাড়ি পাঠায় টাকা পয়সা ঘুষ দিয়ে। বিয়ের বেশ কয়েক বৎসর পরে তুষার আর তার স্ত্রী অনুরাধা সন্তান আকাঙক্ষায় ডাক্তারি পরীক্ষা করায়। জানা যায় তুষারের শারীরিক ব্যবস্থায় শুক্রাণু তৈরিই হয় না, কোনোদিন সে বাবা হতে পারবে না। এতদিন বন্ধ্যা অপবাদে ম্লান অনুরাধা গর্বিত গ্রীবা তোলে। দিশেহারা তুষার খোঁজে রত্বকে--তার ডাক্তারি রিপোর্ট ভুল প্রমাণ করতে পারে একমাত্র রত্নার সাক্ষ্য ! ভ্যানরিকশা চালক স্বামী আর বালক পুত্র নিয়ে রত্নার সংসার বহডুতে। সেখানে হাজির হওয়ার পর খুলে যায় পাতালের মুখ। তুষার জানতে পারে শুধু সে নয়, তার প্রৌঢ় বাবাও নির্বিচারে রত্নাকে ভোগ করেছে।

'তুষারের বুকের ভেতর হিম কালো স্রোত। সেই স্রোতে কিলবিল করে ওঠে, বলে, তুই আমায় যত পারিস অভিশাপ দে শুধু বল তোর সেই সর্বনাশটি আমিই করেছি। রত্না ধীর স্থির, কঠোর মুখ। তা আমি কী করে বুঝব--অত বোঝার ক্ষমতা কি আমার ছিল-- কে আগুন দিল, আর কে বাতাস করল।'

তুষারকে যেন ঘিরে ধরে অদৃশ্য লেলিহান শিখা। সে বোঝে রান্নার সময় কাপড়ে আগুন ধরে নয়, তার মা গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মৃত বাবার পাপ, নিজের পাপ যেন তার দমবন্ধ করে আনে ।

অণুপরিবারের জটিল মানসিকতা অতুলনীয়ভাবে উঠে এসেছে 'বিষাদ সরণি' গল্পে। কিশোর তিতাসের বাবার বয়ানে গল্পটি ধরা হয়েছে! তিতাসের মধ্যে আছে আত্মহত্যার প্রবণতা, মৃত্যু ভাবনার টান। বাবা-মা তার এই উৎকেন্দ্রিকতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে থাকে। বস্তুত তাদের পৃথিবী শুধু তিতাসকে কেন্দ্র করে পাক খায়। এই আত্যন্তিকতা ধরা পড়েছে ঠাকুর্দার দেহ মর্গ থেকে নিয়ে কাকাদের সঙ্গে তিতাস বাড়ি ফেরার পর।

'ম্যাটাডোর থেকে নামিয়ে তিতাসকে লীনা বলল, তুই কিছু খেয়েছিলি ? ঠিক এ সময় একথাটা আমার অশ্য মনে হল। আমি বিরক্ত চোখে লীনার দিকে তাকালাম। তিতাস বলল, মেজীকাকু কোল্ডড্রিংস খাইয়েছে। লীলার চোখেমুখে স্বস্তি ।

তিতাসের ঠাকুর্দা স্ট্রোক হয়ে বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন--আঘাত লেগেছিল তাঁর, হাসপাতালে যাবার পথে মৃত্যু হলে ও পোস্টমর্টেম অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষ মৃত্যু এবং ময়না তদন্ত

করা দেহের বীভৎসতাই হয়তো তিতাসের মুখ মৃত্যু থেকে জীবনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। কিন্তু বাবার দুশ্চিন্তা তাতে দূর হয় না—তিতাস কি জীবন-বিতৃষ্ণ ? না হলে সে বুদ্ধের জীবনী আর বই খোঁজে কেন ? বইতে সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগের নিচে লাল-কালির দাগ টানে কেন ? তবে কি সে সংসার ছেড়ে চলে যাবে কোনো দিন ? তিতাসের বাবার দুশ্চিন্তা আর ভয় কমে না। সে বোঝে অবশ্য এটা এক ধরনের বিকার,

'ভয়টা ক্রমশ যেন আমার অসুখ! আমি কি এখন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাব।'

তিতাসের বাবা-মার মধ্যে লেখক যুগের অসুখকে এঁকে দিয়েছেন। স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, সন্তান সর্বস্বতার অসুখ।

আগেই আলোচিত হয়েছে জয়ন্ত সমকালীন বা অনতিদূরের বাস্তব ঘটনা নিয়ে গল্প লিখতে ভালোবাসেন। এ ব্যাপারে সমরেশ বসুর সঙ্গে তাঁর মিল আছে। এমনি একটি গল্প ‘একটি না-হওয়া সিনেমা'। উত্তমকুমারের জীবনের একটি ঘটনা এখানে প্রকৃত নামধাম শুধুই উঠে এসেছে। ১৪২১ সালের পুজোসংখ্যা 'আজকাল’-এ নকশাল নেতা সরোজ দত্তের পুত্র কুণাল দত্ত 'আত্মত্যাগে মৃত্যুঞ্জয়ী' শীর্ষক রচনায় কিছু তথ্য উল্লেখ করেছেন। ৫ নভেম্বর ৭১ “বাংলাদেশ’ পত্রিকায় “জনৈক অভিনেতা’ নামের আড়ালে কালী ব্যানার্জী একটি চিঠি লেখেন, চিঠির অংশ উদ্ধৃত করছি।

... প্রতিদিন ভোরবেলা উত্তমকুমার গাড়ী করে ময়দানে হাওয়া থেকে যেতেন। এমনি একদিন ভোরবেলায় তিনি দেখলেন যে দুটি পুলিশের গাড়ী ময়দানে দাঁড়িয়ে আছে, অনেক পুলিশ অফিসার মত্ত অবস্থায় রাস্তার উপর দণ্ডায়মান। একজন অফিসার গাড়ী থেকে কাউকে নেমে আসার নির্দেশ দিচ্ছেন। একজন লোক গাড়ী থেকে নেমে আসার পর তাঁকে চলে যেতে বলা হোল। লোকটি কিছুদূর যাবার পর একজন পুলিশ অফিসার তাঁকে পেছন দিক থেকে গুলি করলেন। লোকটি রাস্তার ওপর পড়ে যাওয়ার পর একজন অফিসার টলতে টলতে গিয়ে তাঁর মুণ্ডখানি কেটে নিয়ে এলেন। একজন মত্ত অফিসার এই সময়ে আর একজন অফিসারকে বলেন যে, শা—আজকে সরোজ দত্তকে মেরে কলকাতার বুদ্ধিজীবী খতম করা আরম্ভ করলাম।'

উত্তমকুমার অবশ্য এই চিঠির সত্যতা অস্বীকার করে সংবাদপত্রে চিঠি দিয়েছিলেন ; কিন্তু আনন্দবাজার পত্রিকায় ২০১৩ সালে গৌতম ভট্টাচার্যকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুপ্রিয়া দেবী আবার ঘটনাটির উল্লেখ করেন ।

‘তারপরে উনি চোখের সামনে দেখলেন একটা খুন হতে। তখন নকশাল উত্তপ্ত সময়। রেড রোড দিয়ে স্পীডে আসা এটা কালো গাড়ি ওর সামনে থেমেছিল। রীতিমতো শাসনি দিয়ে বলেছিল, উত্তমদা আপনি কিছু দেখেননি। তারপর আর কখনও ময়দান চত্বরে যাননি!'

অগ্নিগর্ভ সেই আত্ম-ধ্বংসী সময়ের চূর্ণ বাস্তব দিয়ে জয়ন্ত গল্প নির্মাণ করেছেন। উত্তমকুমারের কাল্পনিক এক সহৃদর্শক এই গল্পের নির্মল। সে একজন নামী সাংবাদিক। ঘটনার অভিঘাতে তারপর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন। কিন্তু যে সমাজ এইসব বর্বরতা, পৈশাচিকতা হজম করে স্বর্ণমৃগের দিকে উদ্ধাহু হয়ে ধেয়ে যায়, সেই সমাজের মানসিক সুস্থতা আছে তো ? লেখক যেন গল্পের পর গল্পে এই তীব্র প্রশ্ন তুলতে থাকেন। 'বাইশে শ্রাবণ' গল্পে রবীন্দ্র প্রেমের 'পেডিগ্রি'ধারী, রবীন্দ্রপ্রেমিক বংশের ছেলে দীপাঞ্জনের জঘন্য কীর্তিকলাপ দেখে তাকে কব্জা করার জন্য টোপ হিসেবে আনা সুন্দরী বিদিশার বমি পেলেও শেষ পর্যন্ত সামলে যায়।

'ওরা দু'জন দুজনকে মানিয়ে নেবে। এ রাগ করবে না, ও যত ঘেন্না পাক বমি করবে না। দু'জনেরই যে অনেক পাওয়ার আছে, সামান্য রবীন্দ্রনাথের জন্য ওরা কেন এত লস করবে? ওসব মূল্যবোধের গল্প আগে হত।' পার্থ বন্দোপাধ্যায়কে গ্রন্থটি উৎসর্গ করে জয়ন্ত জানিয়েছেন, 'যার কাছে সহজ হওয়ার পাঠ নিয়েছি!' সহজভাবে এত কঠিন কথা বলার জন্য লেখককে অভিনন্দন । সময়ের সন্তান ও স্রষ্টা আমাদের হাতে তিনি 'আপনার মুখ আপনি' দেখার আরসি তুলে দিয়েছেন শিল্পের শর্ত সম্পূর্ণ রক্ষা করে সেই দর্পন বড় মার্জিত এবং স্পষ্ট।

সেরা ৫০টি গল্প : জয়ন্ত দে। দে’জ পাবলিশিং, ২০১২।। ২৫০ টাকা

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন