রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

কল্যাণী রমা'র ধারাবাহিক : দমবন্ধ


‘আহা, কী সুন্দর রাজপুত্রের মত ছবি।’ বাংলাদেশ থেকে দীপের ছবি এসেছে পোস্টে। আজকাল আর কেউ চিঠি লেখে না। ছবি পাঠানো তো দূরের কথা। ই-মেইল ও প্রায় উঠে যাচ্ছে। এখন শুধু ভাইবার, হোয়াটস্‌-এপ, টেক্সট।
কাজলমামার ছোট ছেলে দীপ। মাথায় মুকুট পড়িয়ে দিলে একদিন রাজ্য শাসন করতে পারবে ও । এত সুন্দর বাচ্চা দেখি নি।

আমরা কোলকাতার লেকটাউনে থাকি তখন। নীচেই ভি আই পি সুইটস। যখন খুশী কালাকান্দ কিনে খাই। লাল রঙের বাসা, সবুজ বারান্দা। বারান্দায় ঝুড়িতে ক’রে ফোর-ও-ক্লক ফুল ঝুলিয়েছি। বাঁশগাছ, বোগেনভিলিয়া জোগাড় করেছি। রোদ আসে না বারান্দায়। তবু আমার গাছ শুধু ভালোবাসার জোরে বেঁচে থাকে। ভালোবাসায় কি না হয়? মরাগাছে ফুল ফোটে।

দীপ যদিও বড় হ’য়ে রাজকুমার না হ’য়ে খেলোয়াড় হ’য়ে গেল। প্রফেশনাল খেলোয়াড় হলেই হয়ত ভালো হ’ত। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারে ওসব পারমিশন পাওয়া যায় না। আমাদের ভাই বোনরা সবাই খেলাধূলায় মোটামুটি লবডঙ্কা। শুধু শুভ, প্রীতম, দীপ, অমৃতা খুব ভালো। কি ভীষণ উতসাহ যে ওদের খেলাধূলায়। দীপ রাতের বাসে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে চলে যায় চট্টগ্রাম, সারাদিন খেলা দেখে আবার রাতের বাসে ফিরে আসে ঢাকা। বাপিমামা দীপকে স্বামী দীপানন্দ ব’লে ডাকে। প্রায়ই নানা ট্রফি আর মেডেল নিয়ে বাড়ি ফেরে দীপ। এই তো সেদিন । কাজলমামা লিখল, ‘দীপ ওদের ইউনিভার্সিটি টেবিল টেনিস টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ান। ট্রফি নিয়ে এইমাত্র বাসায় এল।’ সারা জীবনে কোনদিন খেলাধূলায় কোন ট্রফি না পাওয়া আমি খবর শুনে ভীষণ গর্বে মাটির চার ইঞ্চি উপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম।

লেকটাউনের বাসায় আমাদের শোওয়ার ঘরের ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে দীপের ছবি দেখেছিলাম এখনো তা আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। কবেকার কথা, তবু জ্বলজ্বলে স্মৃতি। কটের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে দীপ। কি একটা যেন হাতে ধরে আছে। বড় বড় চোখ। গভীর ছায়া ফেলে এমন চোখের পাপড়ি।

আর কাজলমামার ছোট মেয়ে অমৃতা? অমৃতাই বটে ও। ওর জন্মের ঠিক আগে আগে লিমন মামীর গায়ের উপর ফ্রীজ পড়ে যায়। জন্মের পর মামীর কত চিন্তা! মা’কে ডেকে বারবার বলে, ‘বড়দি, ওর হাত পা ঠিক আছে তো? সব ঠিক আছে?’ অমৃতা বিজয়ী।

এদিকে আমি যে ক্যাবলা কান্ত, ঢাকা বা রাজশাহীতে থাকবার সময় বাস বলতে চড়েছি শুধু ইউনিভার্সিটির বাসে আর ঢাকা রাজশাহীর বি আর টি সি-র বাসে। ঢাল তলোয়ারের মত বুকের কাছে বই বা ফাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে, কনুইটা বের ক’রে দাঁড়াতে শিখি নি। বাংলাদেশের পুরুষ সমাজ এখানে খোঁচা মারে, ওখানে গুঁতা মারে, ওড়না ধরে টান মারে। সবই ইচ্ছাকৃত। অসভ্যতার শেষ সীমা। কোথাও যেতে হ’লে রিক্সা, বেবীট্যাক্সি বা কুংকীমা, মনিমা, কাজলমামার গাড়িতে ক’রে যাই।

এভাবেই অভ্যাস। বিয়ের পরে কোলকাতাতে এসেও বাসে চড়তে পারি না আমি। মনে হয় বাসে ভীমরুলের চাকের মত সব লোক ছেঁকে ধরেছে। অপমানে আমার চোখ মুখ লাল হ’য়ে যায়, কাউকে কিছু বলতে পারি না, কিছু করতে পারি না। ভাবখানা আমার অপমান যেন আমারই দোষের ফল। বাংলাদেশে যেমন ছিল, কোলকাতাতেও তেমন। দিল্লী, মুম্বাই-তেও আলাদা কিছু নয়। আমেরিকায় এসে সবচেয়ে ভালো লেগেছিল এটাই আমার । মেয়েদের সুস্থভাবে রাস্তায় চলবার স্বাধীনতা।

সল্টলেকে নতুন চাকরি। এমন কোন টাকা পয়সা নেই। সল্টলেকের ভিতর করুণাময়ী পর্যন্ত তবু বাসে যেতে পারি। কিন্তু কোলকাতার বাকি রাস্তায় ট্যাক্সি ক’রে চলাফেরা ক’রি। কিছু কিছু ট্যাক্সির রঙ হলুদ । কিছু কিছুর নীচটা কালো, উপরটা হলুদ। এম্ব্যাসাডার গাড়ির ট্যাক্সি। আর কোনভাবে যে আমি চলতে পারি না। ট্রাম, বাস, ট্রেন - কোনটাতেই নয়।

সিনেমা দেখতে নন্দনে যাই। ভিক্টোরিয়ায় পরী দেখে আসি। রবীন্দ্র সরোবর, ইন্ডিয়ান মিউজিয়্যাম, সাইন্স সিটি, নেহেরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম, রাইটার্স বিল্ডিং, হাওড়া ব্রীজ, এসপ্ল্যানেড, বাঙ্গালী রেস্টুরেন্ট আহেলী...

পুরো কলেজ স্ট্রীট পর্যন্ত ট্যাক্সিতে যেতে পারি না। যতটুকু যাওয়া যায়, যাই। বাকিটা হেঁটে।

পার্ক স্ট্রীটে পিটার ক্যাট। মেনুতে ইন্দো-পারশিয়ান চেলো কাবাব। চিকেন, ক্যাপসিকাম, পিঁয়াজ একের পর এক দিয়ে শিকে গেঁথে দু’টো কাবাব। আর একটা খাসীর মাংসের কাবাব। উল্টানো ডিম পোচ। লেবু, শশা, পাশে চার টুকরো ক’রে কাটা সাঁতলানো টমেটো। বাসমতি চালের ভাতের উপর খানিকটা মাখন দেওয়া। স্বর্গীয়।

অথচ অমৃতা? ও নির্ভয়ে পাবলিক বাসে চেপে রাত নয়টার সময় ঢাকার মগবাজার থেকে কাঁকরাইল চলে আসে। ওর সব পিসীনিরা চিন্তায় অস্থির। তবু খুব সোজা হ’য়ে, মাথা উঁচু ক’রে পথ চলে ও। ঢাকার রাস্তায় সন্ধ্যার পর পাবলিক বাসে চেপে চলবার সাহস আমার পঞ্চাশ বছরে হয় নি। কিন্তু ও যে অমৃতা!





পদ্মফুলের মত দেখতে কি কোন মানুষ হয়? গোলাপি? আমার বড়মামী পদ্মফুলের মত দেখতে। নামও পদ্মাবতী। মামীর দাদু দিয়েছিলেন। কাজলমামা মামীকে ডাকে পদ্ম বলে।

কাজলমামার বিয়েতে অপেক্ষা করা হ’ল আমার ম্যাট্রিক পরীক্ষার টেস্টের জন্য। শেষ হ’লে তবে ধুমধাম হ’বে। রাজশাহী থেকে বৌ-ভাতে এসেছি। জিগাতলার বাসায় কুংকীমাদের ঘরে বিছানার উপর ঘোমটা দিয়ে মামী বসে আছে। কাজলমামা পরিচয় করিয়ে দিল। ‘এই হচ্ছে রমা।’ এমনভাবে বলল যে যেন আমি কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী। সবসময় বাড়িতে সকলের কাছে এত ভালোবাসা পেয়েছি যে আমার মাথা নষ্ট। আমি ভাবি পৃথিবীটা খুব ভালো জায়গা আর সবাই সেখানে একজন আরেকজনকে ভালোবাসে। মামীকে দেখে আমি চোখের পলক ফেলতে পারি না। দুধে আলতা রঙ। এক অদ্ভুত নিষ্পাপ মুখ। মানুষ যে দেখতে এমন হ’তে পারে তা আগে কখনো জানা ছিল না। লাল শাড়ী পড়ে বড় বেশী সুন্দর লাগছিলো মামীকে তখন। বৌভাতে মামী পড়েছিল চন্দন রঙের বেনারসী। লাল পাড়। রজনীগন্ধার মালা দিয়ে ফুলশয্যা সাজানো হয়েছিল। জীবনে কিছু কিছু সুন্দর ছবি থাকে যা মানুষ কোনদিন ভোলে না। আমিও সেই চন্দন রঙের বেনারসী আর রজনীগন্ধার ছবি কোনদিন ভুলতে পারি নি।

জামাই ষষ্ঠীতে কাজলমামার লেজ ধ’রে আমিও মামীদের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জে গিয়ে চব্য চোষ্য লেহ্য পেয় খেয়েছি। ম্যাট্রিক পরীক্ষার পর কয়েকমাস ইস্পাহানী কলোনীতে কাজলমামার বাসাতে ছিলাম। যখন সিমেন্সে ট্রেনিং করতাম তখনো কাজলমামার বাসাতেই আস্তানা। মামীর হাতে রান্না ক’রা পুঁটিমাছের চ্যাপা শুঁটকি আর খাসীর ঝাল ঝাল মাংসের তুলনা নেই।

তারপর বহু বছর কেটে গেছে। আমি জানতে পারিনি মামী আজকাল বিভিন্ন জায়গায় কবিতা আবৃতি ক’রে। বহুদিন পর ২০১৬ সালে বাংলাদেশে গেছি। কিন্তু যখন মামীর সাথে দেখা হ’ল, কথা হ’ল, কবিতা আবৃতির কথা মনে ছিল না আমার। পরদিন সকালে ফ্লাইট। কাজলমামার কথায় মামীকে ফোন করলাম। মামী তখন বাইরে রাস্তায়। একটা ল্যাম্পপোস্টের নীচে দাঁড়িয়ে জাফর ইকবালের লেখা থেকে নীচেরটুকু পুরো মুখস্থ বলে গেল মামী। শুনতে শুনতে আমার দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে থাকল।

“১৯৭১-এ এই দেশে পাকিস্তানী মিলিটারীরা লাখ লাখ মানুষকে মেরেছে। এদের ভিতর আমার বাবাও একজন। মৃতদেহটি নিজের চোখে দেখেন নি বলে আমার মা কখনো ঘটনাটি বিশ্বাস করেন নি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। বাবা ফিরে আসেন নি। বাবার মৃত্যুকে মেনে নেওয়া ছাড়া কিছুই করার নেই। তখনো মা শেষ চেষ্টা করলেন। আমাকে বললেন কবরটা খুঁড়ে দেখতে। সত্যি সত্যিই সেখানে বাবার দেহ আছে কি নেই। মাকে নিয়ে পিরোজপুরে যাচ্ছি। আমাদের বাসার ঠিক সামনে ডাক্তার সাহেবের বাসা। তিনি তাঁর বাসায় আমাদের তুললেন। নৌকা ক’রে মাইল খানিক যাওয়ার পর নদীতীরে খানিকটা ফাঁকা জায়গা পাওয়া গেল। এবং সেই ফাঁকা জায়গাটার ঠিক মাঝখানে একটা কবর। পাকিস্তানী মিলিটারীরা বাবাকে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল। গ্রামের মানুষ ইচ্ছে করলেই ঠেলে আবার নদীতে ভাসিয়ে দিতে পারত। এ দেশের লাখ লাখ মানুষের মত তার দেহটাও নদীর পানিতে মিশে যেত। কিন্তু ঠিক কি কারণ কে জানে তারা সেটা করেন নি। সুদীর্ঘ দশ মাসে শুধু হাড়গুলো আছে। পা দু’টো অল্প একটু ভাঁজ ক’রে কবরে অসহায় ভঙ্গীতে শুয়ে আছেন। দুই পায়ে গাঢ় সবুজ রঙ্গের নাইলনের দু’টো মোজা অবিকৃত র’য়ে গেছে। জীবনের শেষ দিনে তিনি যখন পায়ে মোজাগুলো পড়ছিলেন তখন আমি পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেই মোজাগুলো পড়ে এখন কবরে অসহায় ভঙ্গীতে শুয়ে আছেন।”





“লক্ষ মানুষ ভাত চেয়ে মরে

লক্ষ মানুষ শোকে ভেসে যায়

ঘরহীন ভাসে শত শত লোক

লক্ষ জননী পাগলের প্রায়।

রিফিউজি ঘরে খিদে পাওয়া শিশু

পেটগুলো সব ফুলে ফেঁপে ওঠে

এইটুকু শিশু, এতবড় চোখ

দিশেহারা মা কার কাছে ছোটে।



ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে

যুদ্ধে ছিন্ন ঘর-বাড়ী-দেশ

মাথার ভিতর বোমারু বিমান

এই কালো রাত কবে হবে শেষ।

শত শত মুখ হায় একাত্তুর

যশোর রোড যে কত কথা বলে

এত মরা মুখ আধ মরা পায়ে

পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে ।।”

আমরাও চলেছি। মা এক শাড়িতে, বাবা লুঙ্গি পড়ে, আমি বাবার ঘাড়ে পা ঝুলিয়ে, শ্যামা মার্ কোলে। এক কাপড়ে বেরিয়ে পড়েছি আমরা। মা'র পেটিকোটে বিয়ের গয়না বাঁধা। বড় সুন্দর সে গয়না। ঝলমল ক'রে। দাদুভাই সোনার বার কিনে তা দিয়ে বড় মেয়ের গয়না গড়িয়েছিল।

আমাদের আর ঘর নেই। আমরা বাচঁতে চাই। পাকিস্তানিরা ছুটে আসছে পিছনে। গ্রামে কিছু ঘরে আমাদের আশ্রয় দিল। অজানা মানুষের ভালোবাসা আমাদের বাঁচিয়ে রাখল । মাও শ্যামাকে বাঁচিয়ে রাখতে গুঁড়া দুধে জল মিশিয়ে মিশিয়ে খাইয়ে গেল । ওর চেহারা হয়েছে বায়েফ্রার বাচ্চাদের মত। বড় বড় চোখ, বিরাট মাথা, হাত পা কাঠি কাঠি। আরো পথ যেতে হ'বে।

গ্রামের মানুষ বেত কাঁটা ছড়িয়ে রেখেছে ফসলের মাঠে। কি করবে তা না হ'লে? লক্ষ লক্ষ মানুষ ফসলের মাঠ মাড়িয়ে, মৃত্যু মাড়িয়ে ভারতে চলেছে।

নিজ দেশ আর ভারতের বিভিন্ন গ্রামে নানা অজানা, অচেনা বাড়িতে থেকে অবশেষে আমরা গিয়ে পৌঁছালাম জলপাইগুঁড়ির মালবাজারে।। মার পিসির বাড়ি। দাদুভাই-এর একমাত্র বোন। বড় আদরের ছোটবোন। আমাদের চারজনকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন দিদা। দাদু, দিদা, সাধনা মাসি, কল্যাণী মাসি, ভবানী মাসি, শিবানী মাসি, শংকর মামা আমাদের জন্য কি করবে ভেবে পায় না। পাঁচ মাস কাটিয়ে দিলাম ওনাদের বাড়িতে আমরা। আমাদের কিছু নেই। আমাদের গায়ের জামা বাদে অন্য জামা-কাপড় নেই। পয়সা নেই। দাদু দিদা সবকিছুর ভার নিলেন। এইসব মানুষের ঋণ কিভাবে শোধ ক'রা যায়? মৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে যারা আশ্ৰয় দেয়? সব দায়িত্ব নেয়? আমাদের জন্য ওদের ঘরে কিংবা মনে জায়গার অভাব হয়নি।

যুদ্ধর বোমারু বিমানের কথা মনে পড়ছে, মৃত্যুর কথা মনে পড়ছে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা মনে পড়ছে, ব্ল্যাক-আউট -এর কথা মনে পড়ছে। সেই সাথে আমার একটা শ্রাদ্ধ বাড়ির কথাও বড় মনে পড়ছে । বহুদিন কোন উৎসবে যাইনি। ভবানী মাসিদের প্রতিবেশীর বাড়িতে শ্রাদ্ধ। আমার তো উৎসব বলে মনে হ'ল। চার বছর বয়সের যে জীবনে যুদ্ধ দাগ কেটে যায় সেখানে খাওয়া দাওয়া মানেই উৎসব, তা সে শ্রাদ্ধের খাওয়াই হোক বা না কেন। কলাপাতা পেতে খেতে বসেছি। শেষপাতে রসগোল্লা দিয়েছে। সাথে দই।

শ্যামাটা এত আস্তে খায়। কিছুই খেয়ে উঠতে পারে না। মা তাড়া দিয়ে যাচ্ছে। ‘তাড়াতাড়ি মাছ টা খাও’। এক বয়স্ক মহিলা বললেন, 'বাচ্চা মানুষ, যতটুকু পেটে ধরে, ততটুকুই তো খাবে।' অপমানে মা'র ফর্সা মুখ লাল হ'য়ে উঠল।

'৭১ এর এই ঘটনাটার কথা যখনই ভাবি মা'কে আমার "সর্বজয়া" ব'লে মনে হ'য়।





ক্লাশ থ্রী তে পড়ি। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেছি। দেখি রাজশাহী বাসার খাওয়ার টেবিলের উপর একটা ছোট কার্ড। টেবিল ক্লথটা হলুদ কাপড়ের। তাতে মেরুন সূতা দিয়ে মণিমা শংখের ছবি সেলাই করেছে। হলুদ রঙের চেয়ারের কাভারেও মেরুন শংখ। তিনটা ক’রে শংখ একদিকে মুখ ক’রে আছে।

কার্ডটা সবুজ রঙের শক্ত কাগজে। উপরে সাদা চকের মত রঙ দিয়ে এক বাউলের ছবি আঁকা। খালি পা। চেক চেক লুঙি গোড়ালির উপর পড়া। গায়ে পাঞ্জাবি। কোমরে গামছা বাঁধা। কাঁধ পর্যন্ত চুল। হাতে দোতারা। পুরোটাই যেন তুলির একটানে আঁকা। এত সুন্দর রেখাচিত্র খুব কম দেখেছি। ভিতরে সাদা চক রঙেই লেখা, "এসো হে বৈশাখ।" কাজলমামা কার্ডটা বানিয়ে পাঠিয়েছে।

যখন কাজলমামা রাজশাহী আসত, নেমেই প্রথম খোঁজ রমা শ্যামা কোথায়। আমরা হয়ত স্কুল থেকে ফিরছি। কাঁকনদের বাসার কালভার্ট পর্যন্ত পৌঁছে গেছে ততক্ষণে কাজলমামা। আমরা ছুটে যেতেই বুকে জড়িয়ে ধরত আমাদের।

ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেব। টেস্টের পর পড়াশোনা তেমন করছি না। মা কাজলমামার শরণাপন্ন। আমাকে নিয়ে হাঁটতে বের হ’ল কাজলমামা। টিয়াজদের বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। রাত হ’য়ে গেছে। রাস্তায় খুব আলো নেই বলে একটু ভুতুড়ে মত চারপাশ। কাজলমামা বলে চলেছে, ‘হ্যাঁ, তোমার অবস্থাটা এখন প্লেন টেক অফ করবার আগের মত। রানওয়ে দিয়ে খুব জোরে ছুটে চলবার আগে প্লেন বেশ আস্তে আস্তে চলে। তারপর স্পীড তোলে। তুমি এখন আস্তে আস্তে চলছ, তারপর হাই স্পীডে যাবে। সব ঠিক আছে। চিন্তার কিছু নেই।’ আমি পড়াশোনায় আসলে ফাঁকি মারছি, কিন্তু আমার উপর কাজলমামার অগাধ বিশ্বাস দেখে মনটা ভালো হ’য়ে গেল।

গান শোনা যাচ্ছে পাশের ঘর থেকে। কাজলমামা গলা ছেড়ে গাইছে,

‘বড়ো আশা ক'রে এসেছি গো, কাছে ডেকে লও,

ফিরায়ো না জননী।।

দীনহীনে কেহ চাহে না, তুমি তারে রাখিবে জানি গো।

আর আমি-যে কিছু চাহি নে, চরণতলে বসে থাকিব।

আর আমি-যে কিছু চাহি নে, জননী ব’লে শুধু ডাকিব।

তুমি না রাখিলে, গৃহ আর পাইব কোথা, কেঁদে কেঁদে কোথা বেড়াব–

ওই-যে হেরি তমসঘনঘোরা গহন রজনী।।’

মা’দের ভাইবোনদের মধ্যে সবচেয়ে সংস্কৃতিমনা কাজলমামা। ভারী সুন্দর গলা । একসময় সিলেট আর ঢাকা বেতারে গিটার বাজাত। কি জানি এখনো গিটারটা আছে কিনা। বহু বছর কাজলমামাকে গিটার বাজাতে দেখি নি।

আমার বাবা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মারা গেছেন। কিন্তু আমি আর শ্যামা খুব ছোট, আমরা খুব কষ্ট পাব ভেবে বাড়ির সবাই সেই সত্যটা আমাদের জানায় নি। অনেক বড় হয়ে গেছি। তবু মুখ ফুটে প্রশ্ন করতে পারি না। ক্লাশ এইটে পড়ি। ঢাকায় কাজলমামার লাল গাড়িটা চেপে যাচ্ছিলাম। সেদিন অনেক সাহস ক’রে অবশেষে কাজলমামাকে বলেই ফেললাম, ‘বাবা কিভাবে মারা গেছে?’ কাজলমামা বলল, ‘তখন দেশের অবস্থা ভালো ছিল না। জহির রায়হান নিখোঁজ হ’য়ে যান ৩০শে জানুয়ারি। তার পর পরই ৩রা ফেব্রুয়ারি দাদাবাবুকে মেরে ফেলে। আমরা ডেডবডি পাই।’ এই প্রথম বাড়ির বড় কেউ বাবার চলে যাওয়ার কথা আমাকে বলল। তখন বিকেল হ’য়ে আসছিল। ঢাকার রাস্তায় অনেক ট্র্যাফিক জ্যাম ছিল।

কাজলমামা চিরদিনই সমাজসেবায় দুই পা এগিয়ে। কার কিসে টাকা লাগবে, গ্রামে কার কোথায় বাড়ি ভেঙ্গে গেছে, কার হসপিটালে রক্ত লাগবে, কার ছেলে মারা গেছে...কাজলমামা সবখানে। দাদুভাই তো বলত, ‘কাজলকে খুঁজে পাচ্ছ না? দেখ গিয়ে হসপিটালে, শ্মশানে, ভাঙ্গা মন্দিরে।’

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ কাজলমামার প্রাণ। যে কোন দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজ দেশেই পরবাসী হ’য়ে দিন কাটায়। বাংলাদেশও তার ব্যাতিক্রম নয়। বাবরি মসজিদ-এর ঘটনায় যখন দাঙ্গা লাগানো হয়েছিল, ঢাকায় মরণ চাঁদের মিষ্টির দোকান ভেঙেচুড়ে খান খান। কালিবাড়ি, ঢাকেশ্বরী বাড়িতে আক্রমণ নতুন কিছু নয়। গ্রামের হিন্দু মেয়েদের আর ঘরে রাখতে না পারা, ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া, বাড়ি ঘর ভেঙে ফেলা, মন্দির ভেঙ্গে ফেলা – সবই সভ্যতার অপমান। আজ শুনি কাজলমামা চিটাগাং-এ, কাল শুনি রংপুর, দিনাজপুরের গ্রামে। শুনতে পাই, হিন্দুরা তো এক পা ইন্ডিয়া তে দিয়েই রেখেছে। না দিয়ে রাখে নি। বাংলাদেশ যেমন মুসলমানদের দেশ, বাংলাদেশ হিন্দুদের দেশ, বৌদ্ধদের দেশ, খ্রীষ্টানদের দেশ। বাংলাদেশ সবার দেশ। এ দেশ ছেড়ে হিন্দুরা যাবে না।

“লুণ্ঠিত মন্দির, আর অগ্নিদগ্ধ বাস্তুভিটা থেকে

একটি বিবাগী স্বর সুধাংশুকে ছুঁলো

‘আখেরে কি তুমি চলে যাবে?’ বেলা শেষে

সুধাংশু ভস্মের মাঝে খুঁজে

বেড়ায় দলিল, ভাঙা চুড়ি, সিঁদুরের স্তব্ধ কৌটা,

স্মৃতির বিক্ষিপ্ত পুঁতিমালা।

স্বর বলে, ‘লুটেরা তোমাকে জব্দ ক’রে

ফেলে আশে পাশে

তোমার জীবনে নিত্যদিন লেপ্টে থাকে

পশুর চেহারা সহ ঘাতকের ছায়া,

আতঙ্কের বাদুড় পাখার নিচে কাটাচ্ছ প্রহর,

তবু তুমি যেও না সুধাংশু।’

আকাশের নীলিমা এখনো

হয়নি ফেরারি, শুদ্ধাচারী গাছপালা

আজও সবুজের

পতাকা ওড়ায়, ভরা নদী

কোমর বাঁকায় তন্বী বেদিনীর মতো।

এ পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনো কোথাও

পরাজিত সৈনিকের মতো

সুধাংশু যাবে না।”





কাল সারারাত ঘুমাই নি। রবিঠাকুরের ‘যোগাযোগ’ পড়েছি আর কেঁদেছি। এখন বাইরের আকাশে ভোর হচ্ছে। “কুমুর পালাবার একটিমাত্র জায়গা আছে, এ বাড়ির ছাদ। ... বেলা হয়েছে, প্রখর রৌদ্রে ছাদ ভরে গেছে, কেবল প্রাচীরের গায়ে এক জায়গায় একটুখানি ছায়া। সেইখানে গিয়ে বসল। একটি গান মনে পড়ল, তার সুরটি আশাবরী। সে গানের আরম্ভটি হচ্ছে, ‘বাঁশরী হমারি রে’ - ...... ‘ও আমার বাঁশি, তোমাতে সুর ভরে উঠছে না কেন? অন্ধকার পেরিয়ে পৌঁচচ্ছে না কেন যেখানে দুয়ার রুদ্ধ, যেখানে ঘুম ভাঙল না? বাঁশরী হমারি রে, বাঁশরী হমারি রে!’”

চ্যাটার্জী পরিবার আর ঘোষাল পরিবার দুই মেরুর বাসিন্দা। মধুসূদন ঘোষাল নতুন পয়সা হওয়া, উদ্ধত এক মানুষ। এদিকে সম্ভ্রান্ত চ্যাটার্জী পরিবারের বিপ্রদাস আর ছোটবোন কুমুদিনী এক অন্য পৃথিবীতে বাস ক’রে। একেবারেই আলাদা ওদের মূল্যবোধ। কুমুদিনীর সাথে বিয়ে হয় মধুসূদনের। কুমুর প্রতি মধুসূদনের হিংস্রতা ক্রমেই বাড়তে থাকে। প্রতিনিয়ত দাদা বিপ্রদাসকে কটাক্ষ ক’রে চলে। একজন মানুষের পক্ষে যতটুকু নীচে নামা সম্ভব তার থেকেও নীচুতে নামে মধুসূদন। বিপ্রদাস মধুসূদনের বাড়ি এসে সহজভাবে কুমুকে দেখে পর্যন্ত যেতে পারে না। কুমুর বাড়িতে তার নিজের দাদা আসতে পারবে না? এ নির্মমতার উত্তর নেই। কুমুর প্রাণ পোড়ে দাদার জন্য। কিছুই ক’রার নেই। এক পর্যায়ে কুমু আর পারে না। ফিরে যায় দাদার কাছে, বাবার বাড়িতে। কিন্তু মুক্তি নেই। কুমু অন্তঃস্বত্তা। শুধুমাত্র সন্তানের জন্য ফিরে যেতে হ’বে মধুসূদনের প্রাসাদে?

আমি ভাবি সেই সব জীবনের কথা যেখানে মুক্তি নেই। কাদার ভিতর দু’টো পা গেঁথে গেছে। নড়াচড়া করবার উপায় নেই। পানা পুকুরের লতায় পা পেঁচিয়ে গেছে। ধীরে ধীরে কাদার ভিতর পুরো শরীরটাই তলিয়ে যাবে। আঁকড়ে ধরবার মত হাতের কাছে কিছু নেই। নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছে না। দমবন্ধ হ’য়ে আসছে।

আমার দু’চোখ বেয়ে জলের ধারা নামছে। সূর্য উঠে গেছে। আমি বারবার ক’রে শুধু পড়ে চলেছি,

“পরদিন ভোরে বিপ্রদাস কুমুকে ডেকে পাঠালে। কুমু এসে দেখে বিপ্রদাস বিছানায় বসে, একটি এসরাজ আছে কোলের উপর, আর একটি পাশে শোওয়ানো। কুমুকে বললে, ‘নে যন্ত্রটা, আমরা দু’জনে মিলে বাজাই।’ তখনো অল্প অল্প অন্ধকার, সমস্ত রাত্রির পরে বাতাস একটু ঠান্ডা হ’য়ে অশথপাতার মধ্যে ঝির্‌ ঝির্‌ করছে, কাকগুলো ডাকতে শুরু করেছে। দুজনে ভৈরোঁ রাগিণীতে আলাপ শুরু করলে, গম্ভীর, শান্ত, সকরুণ...বাজাতে বাজাতে পুষ্পিত কৃষ্ণচূড়ার ডালের ভিতর দিয়ে অরুণ-আভা উজ্জলতর হয়ে উঠল, সূর্য দেখা দিল বাগানের পাঁচিলের উপরে।...

অবশেষে বাজনা বন্ধ ক’রে বিপ্রদাস বললে, ‘...তুই আজ চলে যাচ্ছিস কুমু, আর হয়তো দেখা হবে না, আজ সকালে তোকে সেই সকল বেসুরের সকল অমিলের পরপারে এগিয়ে দিতে এলুম। শকুন্তলা পড়েছিস-দুষ্মন্তের ঘরে যখন শকুন্তলা যাত্রা করে বেরিয়েছিল, কণ্ব কিছুদূর পর্যন্ত তাকে পৌঁছিয়ে দিলেন। যে লোকে তাকে উত্তীর্ণ করতে তিনি বেরিয়েছিলেন, তার মাঝখানে ছিল দুঃখ-অপমান। কিন্তু সেইখানেই থামল না, তাও পেরিয়ে শকুন্তলা পৌঁচেছিল অচঞ্চল শান্তিতে। আজ সকালের ভৈরোঁর মধ্যে সেই শান্তির সুর, আমার সমস্ত অন্তঃকরণের আশীর্বাদ তোকে সেই নির্মল পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে দিক; সেই পরিপূর্ণতা তোর অন্তরে তোর বাহিরে, তোর সব দুঃখ তোর সব অপমানকে প্লাবিত করুক।’”





সেদিন দেখেছিলাম ছোট ছোট গাছের ডালপালা দিয়ে উঁচু সিলভার বার্চ গাছের মাথায় একটা পাখির বাসা, আজ গিয়ে দেখি সে বাসা ভেঙ্গে গেছে। বাসা ভেঙ্গে গেলে মা পাখি বাচ্চাগুলোকে কোথায় রাখবে ভেবে পাচ্ছে না। চরকির মত শুধু আকাশে ঘুরছে। আমার ঈশ্বর রবীন্দ্রনাথ। ছটফট করছি। রবীন্দ্র রচনাবলীর সব খন্ড নামিয়ে বসেছি। আমি আকাশের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি। পায়ের নীচে কিছু নেই। আমার পাশে হাত দিয়ে ধরে দাঁড়ানোর মত দেওয়াল নেই। সাহস জোগাড় করছি। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। মাটিতে এলিয়ে পড়ে থাকবার জন্য মৃণালদের জন্ম নয়। কুমু-র জন্ম নয়।

‘স্ত্রীর পত্র’-র প্রতিটা লাইন পড়ছি। মুখস্থ করছি।

“আমি আর তোমাদের সেই সাতাশ নম্বর মাখন বড়ালের গলিতে ফিরব না।

…আমার সম্মুখে আজ নীল সমুদ্র, আমার মাথার উপরে আষাঢ়ের মেঘপুঞ্জ।

...কোথায় রে রাজমিস্ত্রির গড়া দেয়াল, কোথায় রে তোমাদের ঘোরো আইন দিয়ে গড়া কাঁটার বেড়া; কোন্‌ দুঃখে কোন্‌ অপমানে মানুষকে বন্দী করে রেখে দিতে পারে! ঐ তো মৃত্যুর হাতে জীবনের জয়পতাকা উড়ছে!

…তুমি ভাবছ আমি মরতে যাচ্ছি– ভয় নেই, অমন পুরোনো ঠাট্টা তোমাদের সঙ্গে আমি করব না। মীরাবাঈও তো আমারই মতো মেয়েমানুষ ছিল– তার শিকলও তো কম ভারী ছিল না, তাকে তো বাঁচবার জন্যে মরতে হয় নি। মীরাবাঈ তার গানে বলেছিল,’ছাড়ুক বাপ, ছাড়ুক মা, ছাড়ুক যে যেখানে আছে, মীরা কিন্তু লেগেই রইল, প্রভু– তাতে তার যা হবার তা হোক।’ এই লেগে থাকাই তো বেঁচে থাকা। আমিও বাঁচব। আমি বাঁচলুম।

তোমাদের চরণতলাশ্রয়ছিন্ন–

মৃণাল।”





প্রাণের বন্ধু সুস্মি সেদিন বলছিল খবরের কাগজে নাকি পড়েছে ছেলে তার নিজের মা’কে ঘরে থাকতে দেয়নি। গোয়ালঘরে রেখেছে। শিয়াল এসে কামড়ে গেছে মা’র পা। এটা গল্প নয়, সত্যি ঘটনা। মানুষ অমানুষ হয়।

বিশাল বাড়ি, তবু একজন লোক এসে কিছুদিন থাকলে ‘ক্রাউডেড ফীল’ হয়। নিজ নিজ ঘরে দরজা বন্ধ ক’রে একা একা থাকবার সভ্যতা এটা। মানুষ আজ দ্বীপের মত। তার চারপাশে জল। কেউ সেখানে ভেসে আসে না। কেউ হাত ধরে না। মানুষ একা থাকতে চায়। মানুষ একা। ভীষণরকম একা।

সুস্মি আরো বলছিল যখন আলী আনোয়ার মেসো হসপিটালে ছিলেন তখনকার কথা। পাশের ঘরে এক অনেক বয়স্ক মহিলা ছিলেন। নব্বই-এর ঘরে বয়স। হসপিটালেই থাকেন। কেউ কোনদিন দেখতে আসে না। জানালার কার্নিশে অনেকগুলো কার্ড। হয়ত ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন বছরে ক্রীসমাস বা জন্মদিনে কার্ড পাঠিয়েছে, কিছু ফেলে দেন নি উনি। সব জমিয়ে রেখেছেন, সব কার্নিশের উপর। হৃদয়ে যে রক্ত ঝরে, তা লাল রঙের স্ফটিকবিন্দু হ’য়ে জানালার কার্নিশে ঝুলে থাকে।




সন্ধ্যার অপসৃয়মান সূর্যের আলোর মত যৌথ পরিবার আজ এ পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে।




নিঃশ্বাসের মত ঘন হয়ে মানুষ আমাকে পুরো জীবন ধরে ঘিরে থেকেছে। বন্ধু, আত্নীয়। তাই হয়ত যখন দমবন্ধ হয়ে যায় , দম আমার কিছুতেই বন্ধ হয়ে যায় না ।





তথ্যসূত্রঃ

http://legomenon.com/dreamcatcher-meaning-legend-history-origins.html

https://en.wikipedia.org/wiki/University_of_Rajshahi

http://www.dailyjanakantha.us/details/article/110780/ক্যাম্পাসে-শহীদ-মিনার

https://bn.wikipedia.org/wiki/রাজশাহী_বিশ্ববিদ্যালয়

http://murshidabad.net/history/history-topic-siraj-ud-daulla.htm

https://en.wikipedia.org/wiki/Diwan_Mohanlal

https://en.wikipedia.org/wiki/Siraj_ud-Daulah

https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_genocides_by_death_toll

http://www.bbc.com/bengali/news-38311721

https://bn.wikipedia.org/wiki/হবিবুর_রহমান

http://www.gunijan.org.bd/GjProfDetails_action.php?GjProfId=180

https://bn.wikipedia.org/wiki/মোহাম্মদ_শামসুজ্জোহা

https://bn.wikipedia.org/s/7buu

http://www.dailyjanakantha.com/details/article/217679/শহীদ-স্মৃতি-সংগ্রহশালা-ইতিহাসের-পাতায়-’৫২

http://www.thefinancialexpress-bd.com/2016/03/18/21845

http://gobengal.com/traditional-bengal-games/

http://en.banglapedia.org/index.php?title=Folk_Games

https://www.surfexcel.com.bd/activities-for-kids/traditional-bangladeshi-games/

https://en.wikipedia.org/wiki/Rajshahi_College

http://bonikbarta.net/bangla/news/2017-07-08/123493/সংকটে-থেকেও-সেরা-রাজশাহী-কলেজ--/

https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=1547323495556015&id=1541857766102588

যোগাযোগ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

স্ত্রীর পত্র – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন