বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮

আফগানিস্তানের গল্প : তার বিশ্বস্ত চোখ

মূল: রয়া খোরশীদ
অনুবাদ: ফজল হাসান

সন্ধ্যের আবছা অন্ধকারের ছায়া ঘিরে আছে আনার গুলের কুঁড়েঘর । ঘরের ভেতরে সে তখন পুরনো তেলের বাতি জ্বালানোর চেষ্টা করছিল । বাতি জ্বালানোর পর সে নিজের জন্য ছোট্ট ইস্পাতের কেটলিতে চা তৈরি করে । চায়ের সঙ্গে খাওয়ার জন্য চিনি ও এক টুকরো রুটি নিয়ে বসে ।
এটাই তার রাতের খাবার । রুটির টুকরোয় কয়েক কামড় দেয়ার পর তাড়াতাড়ি সে কয়েকবার চায়ের কাপে চুমুক দেয় । শারীরিক এবং মানসিকভাবে সে আজ অত্যন্ত পরিশ্রান্ত, কেননা মির্জা হাবীবের পরিবারের জন্য পুরো সপ্তাহ কাপড় সেলাই করেছে ।

অনেকদিন ধরে আনার গুল মহিলাদের পোষাক তৈরি করে । আসলে কাপড় সেলাই করা তার পেশা । সারাটা জীবন সে কুঁড়েঘরের এক কোণে বসে হাতে কাপড় সেলাই করে আসছে । বয়সের ভারে এখন সে কুঁজো হয়ে গেছে । একটা সেলাই মেশিন কেনার স্বপ্ন ছিল তার । কিন্তু দারিদ্রতা সেই লালিত স্বপ্নকে কোনদিনই সত্যি হতে দেয়নি । যতই দিন যাচ্ছে, ততই যেন সে শক্তিহীন হচ্ছে এবং ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছে । তার হাতে এবং আঙুলে আগের মত শক্তি কিংবা সামর্থ্য নেই । সব সময় পিঠে ব্যথা এবং চোখের পাতায় ক্লান্তির গাঢ় সর লেগে আছে । তার কাছে অন্য কোন বিকল্প উপায় নেই । তাই জীবনের তাগিদে বসে বসে তাকে প্রতিদিন কাপড় সেলাই করতে হয় ।

আজ আনার গুল সত্যি ভীষণ ক্লান্ত । সে মনে মনে ভাবল, আজ বেশ ধীরেসুস্থে আয়েস করে রাতের খাবার খাবে । কিন্তু অকস্মাৎ তার মনে পড়ল, তিন দিন বাদে মির্জা পরিবারের কাপড় নিতে নওরোজ আসবে । নতুন কাপড়গুলো মির্জা পরিবারের ভীষণ দরকার । তাছাড়া খাবার-দাবার কেনার জন্য তারও টাকার প্রয়োজন । সে অসমাপ্ত খাবার পাশে সরিয়ে রেখে মির্জা হাবীবের স্ত্রী খানম গুলের সবুজ পোষাক সেলাই করতে শুরু করে । কাজের জন্য আলো পর্যাপ্ত না হওয়ায় সে আলোটা আরো বাড়িয়ে দেয় । যখন সে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিল, তখন হঠাৎ দেওয়ালের গায়ে তার নিজের ছায়ার উপর দৃষ্টি পড়ে । দেওয়ালের দিকে অপলক তাকিয়ে সে ছায়াটাকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং আপন মনে ভাবে, কেমন করে ছায়াটা সারা জীবন তার একমাত্র সঙ্গিনী হয়ে আছে । আশেপাশের লোকজন তার সঙ্গে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে । সে আজ অচেনা ভুবনের মাঝখানে একাকী, অসহায় । অথচ তার এই ছায়া সব সময় তার সঙ্গে আছে এবং জীবনের প্রতিটি সময় তাকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে অনুসরণ করেছে । শুধু এটুকুই পরিবর্তন হয়েছে যে ছায়াটা এখন দূর্বল, ক্ষয়িষ্ণু এবং কুঁজো । একদিন ছায়াটা ছিল আনার গুলের মতই ঋজু এবং শক্ত । কিন্তু এই দীর্ঘ জীবনে নানান ঝড়-ঝাপটা এসে তার ছায়া এবং তাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে ।

আনার গুলের জন্মের আগেই তার আব্বাজান ইন্তেকাল করেছেন । আব্বাজানের মৃত্যর পর তার আম্মাজানকে জোর করে দুলাভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি গ্রাম থেকে পালিয়ে যান । আনার গুলের আম্মাজান দূরের এক গ্রামে মির্জা হাবীবের ছেলে মির্জা কাইয়ুমের বাসায় ঝিয়ের কাজ পান । প্রথমে লোকজন তাকে বেশ ভাল ভাবেই গ্রহণ করেছিল । কিন্তু যখন সবাই বুঝতে পারল সে অন্তঃসত্ত্বা, তখন থেকেই বিপত্তির অশুভ মেঘ এসে জমা হতে থাকে তার জীবনে । কয়েক দিনের মধ্যে গ্রামের মুরুব্বীরা রটিয়ে দিল যে আনার গুল পেটে একটা জারজ সন্তান নিয়ে পালিয়ে এসেছে । গ্রামের দূর্নামের ভয়ে লোকজন তাকে তাড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু গ্রামের সমস্ত কর্মকান্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার শর্তে দয়ালু মির্জা কাইয়ুম তাকে আশ্রয় দিয়েছে।

আনার গুলের জন্ম হয়েছে তার আম্মাজানের নিঃসঙ্গ জীবনে, যে জীবন উত্তরাধিকার সূত্রে সে নিজেও বহন করে চলেছে । অন্য সব শিশুদের মত স্বাভাবিকভাবেই তার জন্ম হয়েছিল । জন্মের সময় তার স্বাস্থ্য ছিল নাদুস-নুদুস, ঘন কালো চুল, উন্নত নাক, সুন্দর মুখ এবং এক জোড়া অদ্বিতীয় চোখ । সেই চোখের আকৃতি নয়, বরং চোখের মনির রঙ অন্যদের বিমোহিত করে । আনার গুলের একটা চোখের মনি অমাবশ্যা রাতের মত ঘুটঘুটে কালো এবং অন্যটার রঙ গভীর মহাসমুদ্রের অথই পানির মতো গাঢ় নীল । তবে আনার গুলের আম্মাজানের কাছে মেয়ের চোখ দু’টো হল আল্লাহপাকের একধরনের বিশেষ নেয়ামত । কিন্তু গ্রামবাসীর কাছে আনার গুলের চোখ হল জারজ সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়ার অভিশাপ । আনার গুলের মনে হয়, এই অভিশাপ ছায়ার মত তাকে সারা জীবন অনুসরণ করেছে ।
একজন সমাজচ্যুত হিসেবে আনার গুল বড় হয়েছে, কেননা সমাজ তার সঙ্গে বৈরী ব্যবহার করেছে । যদিও তার আসল নাম আনার গুল এবং আম্মাজান তাকে আদর করে ‘আনারী’ বলে ডকে, অথচ অন্যান্য ছেলেমেয়েরা তাকে ‘শয়তানের বাচ্চা’, ‘অপয়া’, ‘জারজ’ এবং সবচেয়ে খারাপ বিশেষণ ‘ডাইনি চোখ’ বলে সম্ভোধন করত । তার সরলতার জন্য যুবতী হওয়া পর্য্যন্ত এ সব আজেবাজে সম্ভোধন আনার গুলকে তেমন বিচলিত করতে পারেনি । কিন্তু যুবতী হওয়ার পর অন্যদের এ ধরনের আজেবাজে এবং অরুচিকর মন্তব্য তার মোটেও ভালো লাগেনি । মাঝে মাঝে তার মনে প্রশ্ন জেগেছে, শুধু চোখের জন্য কেন সে ষড়যন্ত্রের শিকার এবং সমাজে অপাঙক্তেয় । এ বিষয়ে সে অনেকবার সরাসরি আম্মাজানকে জিজ্ঞেস করেছে । তার চোখে কি সমস্যা হয়েছিল ? চোখের জন্যই কি সবাই তাকে অপছন্দ করে ? কেন তার চোখের মনির রং ভিন্ন ? কেন সবার মত তার চোখ হয়নি ? জারজ হয়ে জন্মানোর জন্যই কি এরকম চোখ তার ?

মেয়ের প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে প্রতিবার আনার গুলের আম্মাজান একই কথা বলেছেন, ‘তোর সুন্দর চোখ দু’টো আমাদের জন্য আশির্বাদ, কখনই অভিশাপ নয় । লোকেরা যে যা বলে বলুক, আমার কাছে সে সব কথার কোন দাম নেই । আমি জানি, আমরা সম্পূর্ণ নিষ্পাপ । পরম করুণাময় আল্লাহপাক সাক্ষী ।’

শুরুর দিকে আম্মাজানের কথাগুলো আনার গুলের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল । কিন্তু এখন আল্লাহপাকের অজুহাতও কেন জানি তার কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না । কুঁড়েঘরের এক কোণে জানালার পাশে রোদে বসে যখন কাপড় সেলাই করে, তখন সে তার চোখের সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে । সে জানে, বছরের পর বছর ঘরের এক কোণে বসে বসে ভাবলেও সে কোনদিন তার প্রশ্নের সদুত্তর খুঁজে পাবে না, বরং একমাত্র কাপড় সেলাই করার চিন্তাটা তার মনের বিশাল আকাশে মেঘ হয়ে ভাসতে থাকবে ।

আনার গুলের অভিশপ্ত জীবনের মাঝেই একদিন হঠাৎ করে তার হতভাগিনী এবং বন্ধুতূল্য মায়ের মৃত্যু হয় । মৃত্যুর পর মায়ের জানাজা ও গোর দেওয়ার জন্য গ্রামের কেউ এগিয়ে আসেনি । একমাত্র মির্জা কাইয়ুম মহানূভবতার হাত বাড়িয়ে নিশ্চিত করেছে যে তার মা কবরের জন্য একটা ভাল জায়গা পায় । মায়ের মৃত্যুর পর আনার গুল নির্বান্ধব হয়ে পড়ে এবং একাকীত্ব তাকে চারপাশ থেকে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে । তার সমস্ত দুঃখকষ্ট মনের ভেতর ক্রমশ ঘনিভূত হতে থাকে । সে মায়ের পুরনো আয়নায় নিজের চেহারার দিকে নির্মিমেষ তাকিয়ে থাকে এবং সবকিছুর জন্য চোখ দু’টোকে দোষারূপ করে । দিন যতই যায়, তার মনের ভেতর একধরনের বিশ্বাস জন্মাতে থাকে যে আসলেই সে অভিশপ্ত, অপয়া । তাই সে জীবনের সবকিছু, এমনকি পরিবার, থেকে বঞ্চিত । তাই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে লোকজনের কাছ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ আড়াল করে একাকীত্বের জীবনযাপন করবে ।

আনার গুলের চোখ দেখে লোকজন ভয় পেলে তাদের কোনমতেই দোষ দেয়া যায় না, কেননা তার চোখই ডাইনির মত । তাই সে একাকী কুঁড়েঘরের এক কোণে বসে আপন মনে কাপড় সেলাই করে এবং মাঝে মাঝে ভাবনার অথই পানিতে হাবুডুবু খায় ।

কয়েক বছর বাদে মির্জা কাইয়ুম তার একজন কর্মচারীর সঙ্গে আনার গুলের বিয়ে ঠিক করে । লোকটির নাম শাহ আগা । কুড়ি মিনিটের কম সময়ের মধ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাদামাটা ভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় । আনার গুল বিয়ের আগে শাহ আগাকে কখনই দেখেনি, এমনকি নামও শোনেনি । বিয়ের পর শাহ আগা স্ত্রীকে তার কুঁড়েঘরে তোলে এবং সেখানে আনার গুল নতুন জীবন শুরু করে । যদিও নববিবাহিতা স্ত্রীর মুখের দিকে সরাসরি তাকাতে শাহ আগার কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে, তবে স্ত্রীর চলাফেরার প্রতিটি মুহূর্তকে সে দারুণ প্রশংসা করেছে । স্ত্রীর নীল এবং কালো চোখ তার কাছে প্রতিদিনই আরো বেশী আকর্ষণীয় হয়ে উঠে এবং সে রীতিমত মুগ্ধ হয় । বিয়র পর আনার গুলের অতীতের টানাপোড়েন জীবন কেটে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন শুরু হয় । তখন তার কাছে নিজেকে তামাম দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী নারী বলে মনে হয় । কিন্তু সেই সুখ তার কপালে বেশী দিন টেকেনি । মাত্র দু’ মাসের মাথায় তার মায়ের মত শাহ আগাও তাকে এই বিশ্ব সংসারে একা রেখে চলে যায় পরপারের অচিন দেশে । স্বামীর মৃত্যু তাকে এমনভাবে পর্যুদস্ত করে, যা অন্য কারোর পক্ষে অনুধাবন করা মোটেও সম্ভব নয় । কুঁড়েঘরের অন্ধকারে বসে সে ঘন্টার পর ঘন্টা কাঁদত । কখনো বা উন্মাদের মত হাসত। অনেক সময় মৃত স্বামীর কাপড়চোপড় বুকে জড়িয়ে ধরে প্রলাপ বকতো । কেউ একজন মির্জা কাইয়ুমকে এ-ও বলেছে যে, আনার গুল স্বামীর কবর খুঁড়ে লাশ তুলে নিয়ে আসবে । এ কথা শোনার পর আনার গুলকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য মির্জা কাইয়ুম তার স্ত্রীকে পাঠায় । আনার গুলের উন্মাদ হয়ে যাওয়ার কথাটা ফিরে এসে মির্জা কাইয়ুমের স্ত্রী স্বামীকে বলল । মধ্যরাতে আনার গুলের কান্নার শব্দে গ্রামবাসীরা রীতিমত ভয় পেয়ে অনুযোগ করেছে । কিন্তু আনার গুলের কাছে গিয়ে কান্না থামানোর কথা বলতে পারার মত তাদের মধ্যে সাহসী কেউ ছিল না, এমনকি কোনরকম উৎসাহও দেখায়নি ।

‘উফ !’ সুঁই দিয়ে নিজের চোখে খোঁচা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনার গুল চিৎকার করে উঠে এবং ব্যথাটা তার অতীতের ফেলে আসা জীবনটাকে টেনে বর্তমানে নিয়ে আসে । তার মনে হয় সে যেন সেই আগের অন্ধকার কুঁড়েঘরে বসে খানম গুলের সবুজ পোষাক তৈরী করছে এবং এখন সেই পোষাকের গায়ে কয়েক ফোটা রক্ত লেগে আছে । তার মুখ ভিজে গেছে অশ্রুবিন্দু আর ঘামে । সে চোখে ভীষণ ব্যথা অনুভব করে । তবে সে বেশীক্ষণ কাঁদেনি । বালিশের নীচ থেকে মায়ের পুরনো আয়নাটা বের করে অনেক বছর বাদে আবার সে নিজের মুখ দেখে । তার চোখেমুখে ক্লান্তির বিষণ্ণ ছায়া। অনেকদিনের সংগ্রামী কঠিন মুখটা দেখতে কেমন যেন ভাবলেশহীন । আসলে সমস্ত ব্যথার মূল উৎস হচ্ছে তার চোখ এবং সেই চোখ তার জীবনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে । সে বুঝতে পারে তার বিশ্বস্ত কালো চোখ, যেটা ছিল অমানিশা রাতের মত কালো, বদলে গিয়ে ছাই রং হয়েছে এবং যে চোখটা ছিল গভীর সমুদ্রের মত ঘন নীল, সেটার রং হয়েছে বৃষ্টিভেজা আকাশের মত ধূসর এবং মলিন । সেই রাতে সে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে চোখ দু’টোর দিকে তাকিয়ে থেকেছে । যতই সে তার চোখ দেখছিল, ততই যেন চোখের প্রতি তার মনের ভেতর প্রচন্ড ঘৃণা জমছিল । অবশেষে সে ভাবল, ঢের হয়েছে । একসময় সে আয়নাটা দেয়ালের গায়ে ছুড়ে মারে এবং তীব্র যন্ত্রণায় কাঁদতে থাকে । তারপর অভিশপ্ত জীবনের দুর্ভোগ মেটাতে সে চিরদিনের জন্য চোখ বন্ধ করে ।
লেখক পরিচিতিঃ রয়া খোরশীদ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে জন্মগ্রহন করেন । তিনি একজন কবি এবং ছোটগল্প লেখিকা । ১৯৯৭ সাল থেকে ‘আফগানম্যাগাজিন.কম’-এ নিয়মিত কবিতা ও ছোটগল্প লেখেন । তিনি ‘এসোসিয়েশন অফ আফগান রাইটার্স’-য়ের একজন সক্রিয় সদস্যা ।

গল্পসূত্রঃ ‘তার বিশ্বস্ত চোখ’ গল্পটি রয়া খোরশীদের ইংরেজীতে ‘হার ফেইথফুল আইস্’ গল্পের অনুবাদ । ইংরেজিতে গল্পটি ১৯৯৮ সালের জানুয়ারি-মার্চ সংখ্যা ‘আফগানম্যাগাজিন.কম’-এ প্রকাশিত হয় ।

গল্পটিতে লেখিকা একজন নিঃসঙ্গ নারীর নিজের দুর্বিসহ জীবনের প্রতি প্রচন্ড বিতৃষ্ণা, হতাশা এবং জিঘাংসার এক মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরেছেন ।

******

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন