বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮

চাইনিজ-আমেরিকান গল্পকার অ্যামি তানের সাক্ষাৎকার

অনুবাদক : মোজাফফর হোসেন

চীনা বংশোদ্ভূত আমেরিকান কথাসাহিত্যিক অ্যামি তানের জন্ম ১৯৫২ সালে, আমেরিকার ওকল্যান্ড শহরে। বাবা জন তান ছিলেন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, পরবর্তীকালে ব্যাপটিস্ট মন্ত্রী হন। তিনি চীনা গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে পরিবার নিয়ে আমেরিকায় চলে আসেন। প্রথম উপন্যাস ‘দ্য জয় লাক ক্লাব’ এক চীনা পরিবারের গল্পকে উপজীব্য করে লেখা। উপন্যাসটি প্রকাশের পরপরই অ্যামি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন।

বেস্টসেলার বইয়ের খেতাবও পায়। এরপর তিনি আরো ৫টি উপন্যাস লেখেন যেগুলো বিশ্বজুড়ে পাঠকনন্দিত হয়। সর্বশেষ উপন্যাস ‘দ্য ভ্যালি অ্যামেজমেন্ট’ প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে। এই উপন্যাসেরও বিষয়বস্তু অভিবাসী জীবনের মা-মেয়ের সম্পর্ক। এর বাইরে প্রকাশিত হয় অ্যামির একটি প্রবন্ধের বই ও দুটি শিশুতোষ গ্রন্থ। লেখালেখির জন্য অ্যামি তান বিশটির বেশি আমেরিকান ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।  অ্যামি তানের দুটি সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হলো। প্রথম সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয় ২০০৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় লেখকের বাসভবনে। অ্যামির প্রথম উপন্যাস ‘দ্য জয় লাক ক্লাব’ নিয়ে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন মার্কিন কবি ও লেখক ডানা জিওয়া। লেখকের সর্বশেষ উপন্যাস ‘দ্য ভ্যালি অ্যামেজমেন্ট’ নিয়ে দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয় গুডরিডস থেকে, ২০১৩ সালে।
------------------------------------------------------------------------------------------------------
‘আমাকে যেমন মানুষের উপলব্ধি নিয়ে ভাবতে হয় তেমন এটাও মনে রাখতে হয় মানুষকে জ্ঞান দেয়া আমার কাজ না’

প্রথম অংশ
প্রশ্ন--
আপনি ওকল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। আপনার বাবা-মা চীনা। আপনি কি দ্বিভাষিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন?
অ্যামি তান--
পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত আমার বাবা-মা আমার সঙ্গে চীনা ভাষায় (মান্দারিন) কিংবা চীনা এবং ইংরেজির মিশ্রণে কথা বলেছেন। তবে তারা আমাকে মান্দারিন ভাষায় কথা বলতে কখনো জোর করেননি। অতীতের কথা ভেবে, এটা দুঃখজনক, কারণ তারা মনে করেছিলেন আমেরিকাতে আমার সফল হওয়া ইংরেজি জানার ওপর নির্ভর করছে। পরে, পরিণত বয়সে আমি চীনা ভাষা শিখতে শুরু করি। এখন আমি আমার বোনদের সাথে যখন থাকি তখন চীনা ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করি, ওরা আবার ভালো ইংরেজি বলতে পারে না। আমার ভেতর অন্য একটা আমি ফিরে আসছে, ঐ ভাষা শিক্ষার ভেতর দিয়ে।

প্রশ্ন--
শৈশবে কোন ধরনের বই পাঠ করতেন আপনি?

অ্যামি তান--
পাবলিক লাইব্রেরিতে আমার চোখের সামনে যে সকল লোকগল্পের বা রূপকথার বই এসেছে সবই পড়েছি। বাস্তব থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য আশ্চর্যরকমের সুন্দর এক জগত সেটা। আমি ‘পলায়ন’ শব্দটি সচেতনভাবে ব্যবহার করছি, কারণ পেছনে তাকালে আমি দেখতে পাই, আমাদের পরিবারে নানা সংকট-উৎকণ্ঠা ছিল সবসময়; ফলে আমি আশ্রয় নিতে চাইতাম বিপরীত এক পরিস্থিতির ভেতর। এইসব গল্পের নিজস্ব উৎকণ্ঠা ও সমস্যা ছিল, তবে সেগুলো আমার না। এবং সেগুলো সাধারণত শেষদিকে এসে সমাধানের পথ খুঁজে পেত। এটা বেশ তৃপ্তিকর। আপনি এসবের ভেতর দিয়ে যেতে পারেন এবং অকস্মাৎ একধরনের সমাপ্তি ঘটবে। যদিও এটি ঐন্দ্রজালিক, তবে আপনি একটা সমাধান পাবেন। আমি মনে করি যে, প্রতিটা নিঃসঙ্গ শিশু-কিশোর রূপকথার গল্পের জগতে পালিয়ে যেতে চায়। তাছাড়া কোন শিশুটা জীবনের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে এসে নিজেকে একাকী মনে করেনি?

‘দ্য জয় লাক ক্লাব’ উপন্যাসটি ভীষণভাবে আধুনিক চীনা ইতিহাস আশ্রিত। এটা কি সম্পূর্ণরূপে আপনার পারিবারিক ইতিহাস, নাকি আপনার কল্পনা-প্রসূত ঘটনার সমাহার?

অ্যামি তান--
অনেকে মনে করেন আমি বুঝি চীনের ইতিহাস খুব ভালো করে জানি। যখন বেড়ে উঠছিলাম, তখন আমি জানতামই না যে চীনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটেছিল-- চীন সম্পর্কে আমার ইতিহাস-জ্ঞানের দৌড় এমনই। আমার বাবা-মাও এসব নিয়ে কথা বলতেন না, কারণ তখন ছিল ম্যাককার্থির সময়, যখন চীনা হওয়া মানেই আপনি কমুনিস্ট কি-না সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া। বোনদের সাথে দেখা করার জন্য এক কিশোরীর প্রথমবারের মতো চীনে যাওয়ার গল্পটি লিখেছিলাম আমি নিজে প্রথমবারের মতো বোনদের সাথে দেখা করতে চীনে যাওয়ার পরপরই। আমি বলবো, গল্পটির কিছু কিছু অংশ, বিশেষত আবেগটা আমার ব্যক্তিজীবন থেকে এসেছে।

প্রশ্ন--
আপনার উপন্যাসের ‘জয় লাক ক্লাব’টি একইসঙ্গে বিনিয়োগ এবং জুয়া খেলার ক্লাব। আপনি শিশুকালে না কিশোর বয়সে এ ধরনের ক্লাব সম্পর্কে জানতে পারেন?

অ্যামি তান--
আমি বেড়ে উঠেছি এই ক্লাবের সঙ্গেই। আমার পরিবারের লোকজন বন্ধুদের সাথে দেখা করত। তারা সব চীনা ছিল। সকলেই অভিবাসী। তারা আশা করতো তারা একদিন আমেরিকান ড্রিমের নিজেদের একটা ভার্সন খুঁজে পাবে। আমেরিকান ড্রিমগুলোর একটি ছিল-- সৌভাগ্য এবং শ্রমের সহায়তা নিয়ে আপনি সফল হতে পারবেন, আর সফলতা মানেই হল আনন্দ। আনন্দ এবং সৌভাগ্য এমন একটা বিষয় যা সকলে বুজতে পারত।

প্রশ্ন--
আপনার উপন্যাসের এই শিরোনামের প্রতীকী অর্থটা কি?

অ্যামি তান--
আমি মনে করি না, সৌভাগ্য এবং আনন্দ চীনা সংস্কৃতিতে আলাদা কিছু। সকলেই সৌভাগ্য এবং আনন্দ চান। এবং সৌভাগ্য কোথা থেকে আসে সে বিষয়ে আমাদের সকলের আলাদা একটা বোধ আছে। আপনি লটারির দিকে তাকান। আপনি দেখবেন কোটি কোটি মানুষ নিয়তিতে বিশ্বাস করে। চীনের সবখানেই এই বিশ্বাসটা আছে। চীনের অসংখ্য দোকান ও হোটেলের নামে সৌভাগ্য শব্দটি আছে। পরিকল্পনাটা হল বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সৌভাগ্য শব্দটা সংযুক্ত করে আবেদন তৈরি করা। আমি মনে করি সেটা আমার জীবনেও সত্যি। আপনি সৌভাগ্যের প্রতি আকৃষ্ট হন, কারণ আপনি এটার পেছনে ছোটেন। আমি নিজেও মনে করি, আমাদের নিয়তিতে বিশ্বাস হলো প্রত্যাশা করার মতো। কোনো কোনো মানুষ যখন কোনো পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ আশা হারিয়ে বসেন তখনও তাকে নিয়তির দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।

প্রশ্ন--
আপনার মা নাকি চাননি আপনি লেখালেখি করেন-- আপনি কি এ বিষয়ে কিছু বলবেন?

অ্যামি তান--
আমার মা এবং বাবা ছিলেন প্রবাসজীবনে। তারা বাস্তবজ্ঞান-সম্পূর্ণ মানুষ। তারা চেয়েছিলেন সন্তানরা নতুন দেশে উন্নতি করুক। তারা চাননি আমরা দরিদ্র শিল্পী হয়ে বেঁচে থাকি। শিল্পচর্চা মনে করা হতো বিত্তশালীদের কাজ এটা আপনি করতে পারবেন যদি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম হয় আপনার। যখন আমার মা দেখলেন যে আমি মেডিকেলের প্রস্তুতিপাঠ ছেড়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেছি, তিনি ভেবে নিয়েছিলেন আমি গরীবী জীবনযাপন করতে চলেছি; এটা এমন একটা স্বপ্ন যা শেষ পর্যন্ত আমাকে কোনো গন্তব্যে পৌঁছে দেবে না। আমি নিজেও জানতাম না শেষ পর্যন্ত আমাকে এটা কোথায় নিয়ে যাবে। হঠাত করেই আমাকে লেখক হওয়ার সিদ্ধান্তটি নিতে হয়েছে। আমার ছয় বছর বয়স থাকতেই বাবা-মা চেয়েছেন আমাকে ডাক্তার করে গড়ে তুলতে; আমি তাদের সব পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছি।

প্রশ্ন--
‘দ্য জয় লাক ক্লাব’ উপন্যাসটি নিয়ে আপনার মায়ের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

অ্যামি তান--
যখন আমি উপন্যাসটি লিখছি ততদিনে আমার লেখালেখি-বিষয়ক তার ধারণার পরিবর্তন এসেছে। এর অংশত কারণ আমি অর্থনৈতিকভাবে সফল লেখক। শুরুটা হয়েছিল ‘বিজনেস রাইটার’ হিসেবে। ভালোই আয় হচ্ছিলো। তাকে নতুন একটা বাড়ি কিনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমাকে ডাক্তার করে মায়ের সেটাই উদ্দেশ্য ছিল--পর্যাপ্ত টাকা আয় করে বৃদ্ধবয়সে তার দেখভাল করা। যেহেতু আমি সেটা লেখক হিসেবে করতে পারছি, তাই তিনি খুশিই ছিলেন। যখন আমি ঠিক করলাম উপন্যাস লিখবো এবং তাকে বললাম, তার অতীত-জীবন জানার জন্য তার সাক্ষাৎকার নেবো, তখন তিনি আরো খুশি হলেন। তারপর যখন সেটি প্রকাশিত হল এবং ভালোই চললো তখন তিনি বললেন, ‘আমি সবসময় জানতাম ও লেখকই হবে, কারণ ওর কল্পনাশক্তি প্রখর ও অনিঃশেষ!’ আমরা ইতিহাসের পুনপাঠ করছিলাম। আমার ধারণা নিজের স্বপ্ন-প্রত্যাশার কথা স্মরণ করা মায়ের জন্য ভালো হয়েছিল।

প্রশ্ন--
একটা একান্ত প্রশ্ন করি-- আপনি কিশোরী বয়সে আপনার বাবা ও ভাইকে হারান। এই ঘটনার প্রভাব আপনার জীবনে কিভাবে পড়েছিল?

অ্যামি তান--
সেটা এমন একটা সময় ছিল যখন আমি আমার পুরানো সব বিশ্বাস ঝেড়ে ফেলেছিলাম। আমার বাবা মন্ত্রী ছিলেন। তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন। আংশিক নয়, পরিপূর্ণ বিশ্বাস। তিনি মনে করতেন, আমাদের জীবনে ভালো-মন্দ যা কিছু ঘটুক না কেন, সবই ঈশ্বরের ইচ্ছাতে ঘটে। আমিও তখন সেটাই মনে করতাম। নিয়োমিত চার্চে যেতাম। আমি লক্ষ্মী মেয়ে হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি বিস্মিত হতাম ভেবে কেন ঈশ্বর আমার সঙ্গে কথা বলছেন না; কারণ আমি খারাপ কিছু করতাম না। যখন বাবা ও ভাই অসুস্থ হলেন এবং ছয়মাসের ব্যবধানে চলেও গেলেন, আমি ঈশ্বরের ওপর খুব চটে গেলাম। আমি কারো সঙ্গে কথা বলতে পারছিলাম না, কারণ সকলের ভাষ্য ছিল, ‘যা হয়েছে ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই হয়েছে’, অথবা, ‘এমনটা হয়েছে কারণ হয়ত তোমার বাবা অন্যায় কিছু করেছেন এবং ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিয়েছেন’। আমি অল্পবয়সে এতসব বুঝিনি। পরে আমাকে আমার মতো করে সবকিছু ভাবতে শিখতে হয়েছে। আমার বিশ্বাসের জায়গাটা নতুন করে তৈরি করতে হয়েছে।

আমি এখন বলছি না যে, আমি আমার বাকিটা জীবন ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করবো অথবা আমাদের ব্যাখ্যার বাইরে যে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটে সেটা উড়িয়ে দেবো। আমার বিশ্বাসটা হলো, ঐশ্বরিক শক্তি আমার নিজের ভেতর থেকে আসবে। এবং সেটা আমার নিজের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ, সে আমি লেখক হই বা না হই। সবসময় তুমি তোমার সত্যটা কিভাবে উদঘাটন করবে সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা হতে পারে সৎলোকের নিকট থেকে অথবা খুব বাজে কোনো অভিজ্ঞতা থেকে; তবে তোমাকে আপন শক্তির ওপর আস্থা রাখতে হবে। আমাকে আমার নিজের জিজ্ঞাসাগুলো খুঁজে নিতে হয়েছে। এবং আমাকে আত্মস্বীকারক্তি দিয়ে শুরু করতে হয়েছে। এখন একজন লেখক হিসেবে আমার মনে হয়, কোনো গল্পের সূচনা হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত হলো ‘বিভ্রান্তি’।

মার্কিন সাহিত্যে ‘দ্য জয় লাক ক্লাব’ উপন্যাসটির ব্যাপক ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে, কারণ এর মধ্য দিয়ে আমেরিকার মূলধারার সাহিত্যে চীনা মার্কিনী অভিবাসনের জটিল ইতিহাস উঠে এসেছে। লেখার সময় কি আপনার একবারো মনে হয়েছিল যে আপনি নতুন একটি জগত উন্মোচন করতে চলেছেন?
আমার কাছে এটি আজব এক পরিবারের আজব এক গল্প ছাড়া মোটেও কিছু মনে হয়নি। আমার কল্পনাশক্তি যথেষ্ট প্রখর হওয়া সত্ত্বেও আমি ভাবিনি যে এই গল্প অন্য কোনো পরিবারের সাথে মিলে যাবে বা মিলিয়ে চিন্তা করা হবে। আমি বইটি লিখতে চেয়েছি একান্ত ব্যক্তিগত কারণে। এর মধ্য অন্যতম হলো লেখার কৌশলটা রপ্ত করা। আমি সবসময় গল্প লিখতে পছন্দ করেছি, আর সবচেয়ে পছন্দ করেছি পড়তে। আরেকটি কারণ হলো নিজেকে বোঝার চেষ্টা করা, আমি কে সেটা অনুধাবন করা। অনেক লেখকই লিখে থাকেন তাঁদের বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে পেতে। তাঁরা তুলে ধরতে চান বিশ্ব সম্পর্কে তাঁদের ভাবনাগুলো। আমি একধরনের হযবরল এবং ব্যক্তিগত ইতিহাস ধরে লিখেছি, সেটা যে কারো জীবনের অর্থ উদ্ধারে কাজে আসবে ভাবতে পারিনি।


প্রশ্ন--
আমেরিকার অভিবাসন অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখিত এটি একটি মহান কাজ। আপনি কি লেখার সময় সচেতন ছিলেন সে ব্যাপারে?

অ্যামি তান--
আমি যদি সেটা আদৌ ভাবতাম তবে আমি আমার মা এবং বাবার অভিবাসন অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখতাম। কিন্তু আমি সেটা গ্রহণ বর্জনের ভেতর দিয়ে করেছি।  আমেরিকা সম্পর্কে আমার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি হলো আপনি আপনার মতো করে নিজের পরিচিতি এখানে তৈরি করতে পারবেন। আপনার সেই স্বাধীনতা আছে। তবে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নেই, কারণ আমাদের কতগুলো সীমাবদ্ধতা থাকে যেটা আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা বা অন্ধবিশ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তবে এটা থেকে লেখক হিসেবে বিস্ময়কর স্বাধীনতা পাওয়া যায়। কারণ স্বাধীনতার আরেক রূপ সৃজনশীলতাও বটে। আপনি আপনার পরিচিতি তৈরি করছেন। লেখক হিসেবে আপনি যা চাইবেন তাই-ই সৃষ্টি করতে পারবেন।

প্রশ্ন--
আপনার লেখালেখির ক্ষেত্রে কি কোনো আদর্শ ছিল নাকি আত্মপ্রবণতা থেকে লিখতেন?

অ্যামি তান--
আমি পেছনে তাকালে বুঝতে পারি অবচেতনে কিছু কিছু বই বা কোনো কোনো লেখক আদর্শ হিসেবে কাজ করেছে। যেমন রূপকথার গল্প, বাইবেল, বিশেষ করে বাইবেলের যে সুরের ধারা। লরা ইনগালস ওয়াইল্ডারের ‘লিটল হাউস ইন দ্য বিগ উডস’ বইটির কথাও বলতে পারি। এখানে বর্ণিত বাড়িটি আমার খুবই প্রিয় হয়ে ওঠে। ওয়াইল্ডার নিজের শৈশবের একাকীত্ব জীবনকে উপজীব্য করেই এই কল্পিত গল্পটি ফেঁদেছেন। তিনি একশবছর আগে বেঁচে গেছেন, কিন্তু তাঁর জীবনটা যেন আমারই জীবন। বালিকা জেন আয়ারকেও সবকিছু থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং তাকে নিজের জীবনের পরিণতি নিজে নির্ণয় করতে হয়েছে। কেউ তাকে বুঝে উঠতে পারে না। পঠনপাঠনের বাইরে যাদের প্রভাব ভীষণভাবে ছিল তারা হলেন আমার বাবা-মা। বাবা নীতিবাণী লিখে আমাদের জোরে জোরে পড়ে শোনাতেন। সেগুলো ঠিক ধর্মীয় না, নিজের জীবন-সম্পর্কিত উপলব্দি। এরপর অবশ্যই আমার মায়ের কথা বলতে হবে। তিনি এমন করে আমাকে গল্প শোনাতেন যেন সবকিছু তার সামনেই ঘটছে। গল্পবলার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট শিল্পশৈলী জানা ছিল তার। অধিকাংশ গল্প তার নিজের জীবন থেকে নেয়া, তাই যে আবেগ ফুটে উঠত সেটা তৈরি করা ছিল না। আমি মনে করি, এটা এমন একটা শক্তি যা সকল লেখক অর্জন করতে চান-- সত্য, প্রকৃত আবেগ, এবং সেই আবেগটা আবিষ্কার করা, একইভাবে ক্রোধ, বিস্ময় এবং হতাশাকে উপস্থাপন করা। আমার মা আমাকে আবেগপ্রবণ সত্যকে চিনিয়েছেন, যেটি আপনি বইয়ে খুঁজে পাবেন না। আপনাকে এমন কারো সঙ্গে থাকতে হবে যিনি এটা উপলব্দি করেছেন নিজের জীবনে এবং তার জীবনটাই একরকম এর উপর প্রতিষ্ঠিত।

প্রশ্ন--
আপনি কি আরো কিছু বলতে চান?

অ্যামি তান--
আমি যে মনে করি পড়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, তার পেছনে অনেক কারণ আছে। এটা আমাকে আশ্রয় দেয়, বিশেষ করে জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে। পাঠ থেকে আমার মনে হয়েছে, আমার সঙ্গে যা ঘটছে তার ভিন্ন একটা পরিণতি আমি দাঁড় করাতে পারি। পড়ার সঙ্গে কল্পনাশক্তি নির্মাণেরও সম্পর্ক আছে। আপনি যখন একটা বই পড়বেন তখন কতগুলো অপরিচিত চরিত্রের সঙ্গে মিশে তাদের দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ সবকিছু ভাগ করে নিতে পারবেন। আপনিও তাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠবেন। এভাবে ভাবলে পাঠের গুরুত্বটা আমরা বুঝতে পারবো। এখন যখন এক সংস্কৃতির মানুষ অন্য সংস্কৃতির মানুষকে বুঝতে পারছে না, এমনকি একটি গোষ্ঠীর ভেতরেও বোঝাপড়ার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, তখন পাঠের বিকল্প আছে বলে আমি মনে করি না।

হতে পারে আমার লেখার প্রধান বিষয় মা-মেয়ের সম্পর্ক। সাথে গল্পগুলো এমনকিছু বিষয় নিয়ে যা আমি বিশ্বাস করি। আমার মায়ের কাছ থেকে এটা পেয়েছি-- বিশ্বকে প্রশ্ন করার প্রবণতা এবং পরিবর্তন করার ইচ্ছা।

প্রশ্ন--
আপনার আলোচ্য বইটি পড়ার সময় রূপকথার অনেক উপকরণ পেয়েছি। বাস্তবতা এবং কল্পনার একটা মাঝামাঝি জায়গা-- স্বপ্নে ঠাসা, কুসংস্কার এবং পৌরণিক কাহিনি। আপনি কি লেখার সময় বইটির উপকরণগুলোকে বাস্তবসম্মত হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

অ্যামি তান--
আমার মা আমাকে সবধরনের সম্ভাব্যতার বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান দিয়েছেন। আমি মনে করি আমরা যাকে জাদুবাস্তবতা বলি, সেটাই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের বিশ্বাস থেকে অনেক সময় নির্ধারিত হয় কি ঘটবে, কারণ আমরা সেটা ঘটাই অথবা আমরা দেখি যে সেভাবেই ঘটে।

মন্ত্রী হিসেবে আমার বাবা আমাকে বাইবেল থেকে অনেক কাহিনি পড়ে শুনিয়েছেন যেগুলো রূপকথার গল্পের মতো। একটা বালক চাম-গুলতি দিয়েই বিশাল দৈত্যকে মেরে ফেলছে। কেউ হয়ত কয়েকদিন মৃত থাকার পর জেগে উঠছে। কেউ হয়ত ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য হাজার হাজার রুটি তৈরি করে ফেলছে। এই কাহিনিগুলো থেকে খ্রিস্টধর্মের বিশ্বাস সম্পর্কে বোঝা যায়, সেটা আমরা জানি, তবে এটা থেকে এও বোঝা যায় রূপকথা বিষয়েও অসাধারণ দখল আছে।

জীবন আমরা যা ভাবি তার চেয়ে অনেক বড়। কিছু কিছু ঘটনা ঘটতে পারে যার কার্যকারণ আমরা বুঝে উঠতে পারি না। আমরা এটাকে বিশ্বাস বা কুসংস্কার কিংবা রূপকথা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারি। আমরা কিভাবে দেখবো সেই সম্ভাবনাটা অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। আমি আমার নিজের জীবনে যা ঘটেছে সেটাকে আমি লেখকের দৃষ্টি দিয়ে দেখি এবং কখনো কখনো আমি মনে করি সেগুলো কোনো রূপকথার অংশবিশেষ। 
   

দ্বিতীয় অংশ

প্রশ্ন--
‘দ্য ভ্যালি অ্যামেজমেন্ট’ উপন্যাসের মূল বিষয় হলো বেইমানি। বা বিশ্বাসঘাতকতা। আপনি কি এই বিষয়ে অনেক ভাবেন?


অ্যামি তান--

আমি নিজে বেইমানির ভেতর নিক্ষিপ্ত হয়েছি। নিক্ষিপ্ত হওয়া মানেই বেইমানির শিকার হওয়া। এবং আপনি তাদের আর আপনার জীবনে ফিরে দেবেন না যারা আপনাকে পরিত্যাগ করেছে। আপনার বিশ্বাসকে পরিত্যাগ করা কিংবা আপনাকে শারীরিকভাবে পরিত্যাগ করা। আমার বাবার মৃত্যুও আমার কাছে বেইমানির মতো মনে হয়েছে। ‘কিভাবে তুমি পারলে ছেড়ে যেতে এবং আমাকে ও মাকে এভাবে অসহায় অবস্থার ভেতর রেখে যেতে?’ যদিও তার চলে যাওয়াটা দুর্ঘটনা মাত্র। আমার মা তার আগের পক্ষের তিন কন্যাকে চীনে ফেলে এসেছে। যখন তাদের সুখী করার জন্য তাকে প্রয়োজন ছিল তখনই তিনি আরো অসুখীর কারণ হয়ে চলে এসেছেন। আমি মনে করি বেইমানির বিষয়টি আমাদের পরিবারের ভেতরেই ছিল। আমার মা তার মাকে হারিয়েছেন যখন তার বয়স মাত্র ন’বছর। তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। সেটিও একরকমের বেইমানি। স্বেচ্ছায় ছেড়ে যাওয়া। কাজেই এটা আমাদের পরিবারের ইতিহাসে আছে। বারবার পুনরাবৃত্তি ঘঠেছে। আমার মাকে তার মা করেছেন, আমার মা তার মেয়েদের সাথে করেছেন। আমার অবশ্য কোনো সন্তান নেই যার সঙ্গে আমি এইরকম আচরন করতে পারি।

শিশুদের সঙ্গে আরো একভাবে বেইমানি করা যায়, তাদের একটা পরিচয় দিয়ে সেটি কেড়ে নেয়ার ভেতর দিয়ে। এই উপন্যাসে ভায়োলেট, যে আধা আমেরিকান আধা চাইনিজ, সেই সংগ্রামটা করে যাচ্ছে।

ভায়োলেটের পরিচয় সে না চাওয়া সত্ত্বেও বদলে যাচ্ছে, প্রতিনিয়ত। সে মনে করছে সে আমেরিকার সুবিধাভোগী মেয়ে, এরপর সে হতাশ হচ্ছে, আবার সে আধা চাইনিজ হয়ে উঠছে, এবং সবশেষে তার অবস্থান হচ্ছে হতচ্ছাড়া এক নারী। সে পরবর্তীকালে নিজেকে প্রথম শ্রেণির যৌনদাস হিসেবে আবিষ্কার করছে। একসময় এই জগতে সে তার জনপ্রিয়তাও হারাচ্ছে। জীবনের এসব নানাক্ষেত্রে হয় আপনাকে ধরে রাখতে হবে অথবা চালনা করতে হবে-- চালনা করতে হবে আত্মসম্মান তৈরির দিকে, অথবা তা টিকিয়ে রাখতে। আমাকে সেটা করতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আমি লক্ষ্য করেছি যখন আমরা সুইজারল্যান্ডে ছিলাম। লোকজন সেখানে আমাকে অন্যদৃষ্টি দিয়ে দেখত। আমি হঠাৎ করেই যেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠলাম। আমার মনে হলো, দারুণ ব্যাপার, এখানে আমাকে সকলে আবেদনময়ী মনে করছে। তবে একইসঙ্গে যখন আপনাকে তারা ধর্ষণ করতে চাইবে সেটা নিশ্চয় কাঙ্খিত বিষয় হবে না। আবারো সেই অস্তিত্বের সংকট চলে আসে। ভায়োলেট চরিত্রটি সৃষ্টির ভেতর দিয়ে আমি সেই খেলাটি কিছুটা খেলেছি।

প্রশ্ন--
আপনার মা একবার বলেছিলেন, আপনি যে গল্পগুলো লিখছেন সেটা খুব ভালো বিষয়। কারণ যখন আপনি আপনার অতীত পুনলেখন করেন তখন আপনি চাইলে কিছুটা পরিবর্তনও করতে পারেন। আপনি কি সেটা করেছেন বা পেরেছেন করতে?

অ্যামি তান--
তিনি মনে করতেন পুনলেখনের ভেতর দিয়ে অতীতটা পরিবর্তন করা যায়। আর আমার জিজ্ঞাসা হলো, তার কি কোনো প্রয়োজন আছে? তিনি মনে করতেন তার অতীতটা গ্লানিকর, সে কারণে এটা আড়াল করতে চাইতেন। আমি মনে করি, কেউ মনে রাখবে না তিনি এবং তার মা কি পরিমাণ কষ্ট ও ব না সহ্য করেছেন। প্রকাশ করার ভেতর দিয়ে মানুষ জানতে পারছে। একাত্ম হচ্ছে। গল্পগুলো মোটাদাগে বানানো হলেও মানুষজন পড়তে পড়তে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হচ্ছে।

নিজের অতীতটা খোলাখুলিভাবে উপস্থাপন করতে পারা সাহসী কাজ বটে।
আমি আমার মা সম্পর্কে যা কিছু লিখেছি তা আমি তার চোখে চোখ রেখেও বলতে পারি। মা নিজেও তার যৌনজীবন নিয়ে খোলামেলা আলাপ করতেন, খুব পুঙ্খানুপুঙ্খ না হলেও। তিনি যা বলতেন-- এই লোকটি তাকে বিছানায় নিতে চেয়েছে, লোকটি তখন তাকে দাঁড় করিয়ে অন্য মেয়েদের সঙ্গে বিছানায় কি করেছে, সে তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে রাজি করাতে চেয়েছে; মা তখন ডাইরিয়ার ভান করে কেটে পড়েছে। এইসব অদ্ভুত ও মজার কা-। যখন তিনি সত্তরে, তখন তিনি একজনের সাথে ডেটিং করছিলেন। তিনি বললেন, ‘লোকটি আমাকে স্পর্শ করে বলল, খুব কোমল, তরুণীদের মতো। আমি নিজের মায়ের মুখ থেকে এসব কথা শুনতে চাইতাম না। তিনি বলতেন, তোর ভাইয়ের কারণে তোর বাবার সাথে একমাস কিছু করতে পারিনি। এসব কথা আমার বইতে এসেছে। আমি চাইলেও কারো কাছে এসব বলতে পারতাম না-- আমার নিজের যৌনজীবনের কথা, স্বামীর সঙ্গে আমার বিছানায় সম্পর্কের কথা। কিছু কিছু দৃশ্য এই উপন্যাসে আনতে হয়েছে। আমি আগে কখনো লিখিনি কারণ পাঠক ভাববে এসব বুঝি আমার নিজের জীবনের কথা।

প্রশ্ন--
লোকজন যদি ভাবেও যে আপনার তৃপ্ত যৌনজীবন আছে, সমস্যা কোথায়?

অ্যামি তান--
না, সবটা তৃপ্ত না (হেসে)।  আসলে আমি চাইনি পাঠক মনে করুক, এটা আমি। কোনো পাঠক কোনো যৌনদৃশ্যে লেখককে বসিয়ে কল্পনা করুক, সেটা আমি চাইনি। তাছাড়া আমি যৌনদৃশ্যের ভালো বর্ণনাকারীও নই।  আমি আমার সম্পাদককে বলেছি, আমাকে গতানুগতিক যৌনদৃশ্য লিখতে বলো না।

প্রশ্ন--
আপনি এই লেখাটি শুরু করার আগে যৌনদাসদের জীবন নিয়ে খুব বেশি কি জানতেন?

অ্যামি তান--
আমি মনে করতাম, এই বিষয়ে নতুন করে কিছু লেখা খুব সহজ কাজ না, কারণ এত বেশি লেখা হয়েছে যে বিষয়টা একঘেয়ে হয়ে গেছে। এরপর আমি পারিবারিক অ্যালবামে দাদির একটি ছবি পাই যেটি দেখে বোঝা যায় তিনি যৌনদাস ছিলেন। এটা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য আবিষ্কার ছিল না, কারণ আমরা তাকে পরিবারের আইকন হিসেবে জানতাম। তিনি আমাদের কাছে মিথের চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন। দেখা গেল তার সম্পর্কে এতদিন যা জেনে এসেছি-- নম্র-ভদ্র-সংসারী-ঘরকুনো--ঠিক তার উল্টো ছিলেন তিনি। 

প্রশ্ন--
ছবিটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল? ধাক্কা খেয়েছিলেন নিশ্চয়?

অ্যামি তান--
হুম। ভীষণ ধাক্কা খেয়েছিলাম। এরপর আমি কল্পনা করার চেষ্টা করলাম, তিনি কেমন জীবন কাটিয়েছেন। তিনি কেমন বোধ করতেন। একটা বিষয় ভেবে আমি আনন্দিত হলাম যে তিনি সংসারী-ঘরবন্দি নারী ছিলেন না।

প্রশ্ন--
আপনি বলেছেন যে আপনি যৌনদাসদের নিয়ে লিখতে চাননি কারণ এটা প্রাচ্যদেশীয় বিষয় হয়ে উঠতে পারত। এখানে অনেক মানুষ আছেন যাদের চীন সম্পর্কে জ্ঞান হলো আপনার বই পর্যন্ত। এই কারণে কি আলাদা কোনো দায়িত্ববোধ কাজ করে আপনার ভেতরে?

অ্যামি তান--
আমাকে যেমন মানুষের উপলব্ধি নিয়ে ভাবতে হয় তেমন এটাও মনে রাখতে হয় যে মানুষকে জ্ঞানী করে তোলা আমার কাজ না। কেউ কেউ আছেন যারা মনে করেন আপনি তাদের শিক্ষাদান করছেন। আমি মোটেও তা করছি না। আমি নিজে নিজে কিছু শিখছি। অতীতে এমন কিছু লোক দেখেছি যারা আমার উপন্যাসের মা চরিত্রদের ভাঙা ভাঙা ইংরেজি কথোপকথনের কারণে আমার সমালোচনা করেছে। আমি মনে করি এটা মনে করা মিথের মতোই যে যারা অল্পবয়সে অন্যদেশ থেকে এখানে এসেছে শুদ্ধ ইংরেজি বলবে। লোকজনের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমি কোনো আদর্শ চরিত্র সৃষ্টি করিনি। কাজেই এই যুদ্ধের ভেতর দিয়ে আমাকে শুরু থেকেই যেতে হয়েছে। তবে আমি মনে করি, পাঠকদের নিজস্ব বিবেচনা আছে বা থাকা উচিত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন