বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৮

পর্তুগালের লেখক হোসে সারামাগো'র সাক্ষাৎকার

হোসে সারামাগো পর্তুগালের লেখক; রাজধানী লিজবন থেকে উত্তর-পূর্বদিকের আজিনহাগা গ্রামের এক ভূমিহীন কৃষক পরিবারে, ১৯২২ সালের ১৬ নভেম্বর তাঁর জন্ম। লিজবনে কখনও তিনি মোটর মেকানিক, কখনও অনুবাদক, সাহিত্য সমালোচক, সাংবাদিক ইত্যাদি পরিচয়ে বেড়ে উঠেছেন। সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন ১৯৯৮-এ। ১৯৪৭-এ মাত্র ২৪ বছর বয়সে সারামাগোর প্রথম উপন্যাস 'ল্যান্ড এন্ড সীন' প্রকাশিত হয়।
'৭৭-এ বের হয় দ্বিতীয় উপন্যাস- 'ম্যানুয়াল অব পেইন্টিং অ্যান্ড ক্যালিগ্রাফি'। '৮২ সালে 'বালতাসার এন্ড ব্লিমুন্ডা' উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে হোসে সারামাগো আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর বহুল আলোচিত-সমালোচিত দুটি উপন্যাস- 'দি ইয়ার অব দ্য ডেথ অব রিকারদো রিয়েস', 'দ্য গসপেল অ্যাকোর্ডিং টু জেসাস ক্রাইস্ট'। সারামাগোর অন্য উপন্যাসগুলি হচ্ছে- 'অল দ্য নেইমস' 'দ্য স্টোন ক্রাফ্ট', 'ব্লাইন্ডনেস'। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত 'ব্লাইন্ডনেস' উপন্যাসটি তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে স্বীকৃত। আজীবন টাইপরাইটারে লিখেছেন নোবেল জয়ী সারামাগো। স্বেচ্ছানির্বাসনে, ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুন, ৮৭ বৎসর বয়সে মারা যান তিনি।


আনা ম্যাটকাফের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি 'ফাইনান্সিয়াল টাইমস'-এ প্রকাশিত হয়েছিল 'অল্প কথা'র আলাপ' হিসেবে, ২০০৯ সালের ৫ ডিসেম্বর।

ভাষান্তর : এমদাদ রহমান।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------


প্রশ্ন :
আপনার প্রকৃত পাঠক কারা?

হোসে সারামাগো :
সেইসব পাঠক- যারা যখন পড়েন তখন বদলে যেতে থাকেন, একটানা পড়ার আগে লেখার ওপর থেকে একটি মুহূর্তের জন্য হলেও চোখ ফিরিয়ে নেন।

প্রশ্ন :
খাটের পাশের টেবিলে এখন কোন বইগুলি আছে?

হোসে সারামাগো :
আমি এখন জেমস উডের 'হাও ফিকশন ওয়ার্কস' বইটি পড়ছি, এর সঙ্গে পড়ছি- 'ম্যাজিক মাউন্টেন'। টমাস মান কী যে এক আশ্চর্য লেখক ছিলেন!

প্রশ্ন :
আপনি লেখক হতে চলেছেন- ঠিক কখন ব্যাপারটি বুঝতে পেরেছিলেন?

হোসে সারামাগো :
আমারও কিছু পাঠক আছেন- এই ব্যাপারটি যখন বুঝতে পারলাম, তখন। পাঠকরাই লেখার পথটা দেখিয়ে দিলেন।

প্রশ্ন :
প্রতিদিনের লেখালেখির জন্য আপনার কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম আছে? 

হোসে সারামাগো :
প্রতিদিন দুই পৃষ্ঠা। আর তারপর- আমার শুধু পড়া, পড়া এবং পড়া। 


প্রশ্ন :
নিজের সেরা লেখাটি কোথায় বসে লেখেন? 

হোসে সারামাগো :
নিজের ঘরে। 


প্রশ্ন :
আপনার উপন্যাসের কোন চরিত্রটির সঙ্গে নিজের মিল আছে? 

হোসে সারামাগো :
আমার 'অল দ্য নেইম' উপন্যাসের 'সেনিওর হোসে' চরিত্রটির সঙ্গে। 


প্রশ্ন :
সাহিত্যিক প্রভাব সম্পর্কে কিছু বলুন।

হোসে সারামাগো :
কোনও না কোনওভাবে যা কিছু পড়েছি তাই আমার ওপর প্রভাব ফেলেছে। সাহিত্যিক প্রভাব সম্পর্কে যে-লেখকদের কথা বিশেষভাবে বলতে হবে তারা হলেন- কাফকা, বোর্হেস, গোগল, মন্তেনিয়ে এবং সেরভান্তেস; আর এরাই আমার চিরসঙ্গী।


প্রশ্ন :
কোনও ডিনার পার্টিতে পাশের আসনে কাকে আশা করেন? 

হোসে সারামাগো :
এমন একজন যে আমাকে দিয়ে বেশি কথা বলাবে না। 


প্রশ্ন :
আপনি কোনও পেইন্টিঙের অধিকারী হতে চাইলে কোন ছবিটিকে বেছে নিবেন? 

হোসে সারামাগো :
রেম্ব্রান্টের শেষের দিকের যেকোনও একটি আত্মপ্রতিকৃতি। 




প্রশ্ন :
নিজের জীবন ভূমিকায় আভিনয় করতে হলে কাকে বেছে নেবেন? 

হোসে সারামাগো :
কালো একজন অভিনয় শিল্পীকে, মরগ্যান ফ্রিম্যান, উদাহরণ স্বরূপ বলছি। 

প্রশ্ন :
রাতে আপনাকে জাগিয়ে রাখে কে? 

হোসে সারামাগো :
ইনসমনিয়ার সঙ্গে আমার গভীর প্রেম। ঘুমের অপেক্ষায় রাত আমার দীর্ঘ হতে থাকে। 


প্রশ্ন :
আপনি কি কখনও পিছু ফিরে তাকান,নিজেকে বদলে ফেলতে? 

হোসে সারামাগো :
আমি মনে করি সবকিছুর হুবহু পুনরাবৃত্তিই হবে, সেই এক ভুল একই বিভ্রান্তি!


প্রশ্ন :
কোন বইটিকে আপনি নিজে লিখতে চেয়েছিলেন? 

হোসে সারামাগো :
গনজালো তরেন্তে বালেস্তেরের- লা সাগা ফুগা দে জে.বি। এই বইটি স্বল্প পরিচিত এক মাস্টারপিস। 


প্রশ্ন :
লেখক হওয়ার মানে কী?

হোসে সারামাগো :
লেখকরা হলেন অনন্য সত্তার অধিকারী।

২টি মন্তব্য:

  1. খুবই সহজ সরল ভাবে বলা কিছু অসামান্য কথা। ধন্যবাদ।

    উত্তর দিনমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. সাক্ষাৎকারটি আরও বিস্তারিতভাবে বইয়ের হাটে অনুবাদ দিয়েছেন। খুবই ভালো লেগেছে।

      মুছুন