বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮

অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জার্নাল- কন্সেন্ট ও নীরবতার আখ্যান : নাট-চেক ও প্যান্ডোরার বয়াম

মাদার টেরিজা ভ্যাটিকানে সন্ত হইয়াছেন। নিউইয়র্কে ইহুদী কন্সারভেটিভ গণ বীর্য-কে ( পুং ) পবিত্র জমজমের ন্যায় তকমা দিতে উঠিয়া পড়িয়াছেন। তাহারা গর্ভপাতের বিপক্ষে সেক্রেড-স্পার্ম আন্দোলন করিয়া খবরে আসিয়াছেন। কলিকাতা'র মাত্র একটিদিনের খবরে জানিতে পারিয়াছি - একটি ১২ বছরের শিশু ধর্ষিত ও খুন হইয়া গিয়াছেন।
নেটে সার্চ করিয়া ছ-দিনের পুরনো খবর ব্যতিত কিছুই ভাসিয়া উঠিতেছেনা। তরঙ্গ মিলায়ে যায়, তরঙ্গ উঠে। এমন তো কতই ঘটে- বঙ্গীয়, কাল্টীয় অরণ্য প্রবাদ আমাদের লিগাসিতে। ফাটল ধরিবেনা। 

এদিকে মার্কিন মুলুকে দিবা ক্রমে ছোট হইয়া আসিতেছে। বাহিরে 'ফল' লাগিয়া গিয়াছে। গাছের পাতা ঈষৎ হলুদ ও রক্তিম। লঙ লেবার-ডে উইকেন্ড । আমি কফি হস্তে প্রবেশ করিয়া দেখি ব্রাউন ব্যাগ হাফ-স্বর্গীয় পশ্চারে বিস্তর ল্যাদ-পূর্বক, ল্যাপটপে চোখ রাখিয়া নিজমনে গুজ-গুজাইতেছে।

কিসের আহ্লাদ জিগাইতে সে আমার সামনে আইপ্যাড মেলিয়া ধরিল। বছর বিশের এক স্মার্ট তরুণী লিখিতেছেন - 

'I'm gonna start going home with random very drunk guys and stealing all of their shit. Everything they own. It won't be my fault though... they were drunk. I wasn't sure if he meant it when he said 'no don't steal my Audi.' I just wasn't sure if he meant it. I said 'Can I please steal your Gucci watch?' He said 'no' but I just wasn't sure if he meant it. He was drunk.'


বিবি খুঁজিয়াও পায়। 

খাসা লিখিয়াছে কি বল ? 

হুম

আমোদ আমিও পাইয়াছি। স্বীকার করিতেছিলামনা। বুঝিয়া বিবি চটিয়া গেলো । 

আরে তুমিও তো ঝাড়িয়া বলিতেছনা উহাদের মত, ইয়েস মানে ইয়েস, নো মানে নো । সর্বত্রই একই ঝঞ্ঝাট দেখি। 

আমি আমল না-প্রদর্শন করিয়া কহি ,

২০১৩ তে, বুঝিলি বিবি, Robin Thicke ‘Blurred Lines,’ বলিয়া এক গান তৈরি করিয়াছিলেন। ব্লারড লাইন্স- কন্সেন্সুয়াল সেক্স আর রেপের মধ্যবর্তী ধূসর সীমানা নিয়ে এই গান লইয়া বিস্তর ক্যাঁচাল হইয়াছিল। 

কেন কেন ? 

লিরিকে একটি লাইন আছিল- ‘I know you want it’ যা বারবার গানটিতে ব্যবহৃত হইয়াছিল। যা মানে করাইতেছিল- তুমি মুখে যতই 'না' বলনা কেন, আমি জানি যে ইহা আসলে 'হ্যাঁ'। গানটি লইয়া তুমুল ক্যাচালের পর গানটি অনেক জায়গায় ব্যানড হইয়া যায়

উত্তম 

কিন্তু নহে। ধৈর্যং। ইহা হইতে গুরুত্বপূর্ণ হইল- ইহাকে ওভার-রিয়্যাকশন তকমা প্রদান

মানে নর্ম্যালাইজ করা হইল

এক্কেরে। মিসজিনি ও রেপ-কালচারের গোড়ার কথাই হইল এই মানসিকতা। কসেন্টকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। 

কন্সেন্ট ইজ সেক্সি। 

না, কস্নেন্ট ইজ নেসেসারি । আমার ছেলে তখন এলেমেন্টারি ইশকুলে পড়িত, একদিন আসিয়া কহিল : আমাদের সেফ-ওয়ার্ডের ক্লাসে, ইশকুলে শিখাইয়াছে, যে কন্সেন্ট কথোপকথনের প্রথম দুই ফ্রেজ হইল What’s your Yes? আর “What’s your No? 'ডেভেলপ এ সেফ-ওয়ার্ডে'র প্রথম শিক্ষণ

মানে?

রেস্পেক্ট বাউন্ডারি

বুঝিয়াছি। হপাত করিয়া হামি খাওয়া চলিবেনা 

এবং শিশু কি সুন্দর বলিয়া ঝপাৎ করিয়া চটকাইয়া ফেলা। তাও চলিবেনা এবং শিশুকে তা করিতে বাধ্যও করা যাইবেনা। শিশু যদি না স্বাভাবিক ভাবে অনুভব করিয়া থাকে। একি কথা উঠিয়া আসে তাহাদের সম্পর্কেও, যাহারা কারুর রেভ্লন-আমোদিত-ঠোঁট বা ক্লিভেজ-উদ্ভাসিত ডীপ নেক্লাইন দেখিয়া খামোখা ভাবিয়া বসেন ঃ আমিতো তবে ধাবিত হইতে পারি। যৌন বিজ্ঞান নিয়ে ব্লগ লিখিতেন আমার এক মেয়ে-বন্ধু, তাহা পড়িয়া কিছু হাফ-সিদ্ধ মস্তিষ্কের ধারণা জন্মায়, তিনি সেক্স করিতে সদাই উন্মুখ। ওয়াইনের বোতলের মত একটি কন্ডোম ক্রয় করিয়া লইয়া যাইলেই হয়। 

মানে আমি কুস্তি দেখিতে ভালবাসি বলিয়া আমার উপর কুস্তি-প্রয়োগ-আক্রমণ হইতে পারে বলিতেছ? 

এক: এক্কেরে তাই, আর দুইঃ আক্রমণ হইবে তোমারে এই কথা না জিগাইয়া যে - আপনি কি আমার সহিত কুস্তি করিতে ইচ্ছুক ? 

মানে ঝাপাইয়া পড়িতে পারে… অর্থাৎ নো কন্সেন্ট

কারেক্ট… the word

হেটেরো-নর্ম্যাটিভ প্যাট্রিয়ার্কিতে কন্সেন্ট আসলে ধরিয়া লইবার ব্যাপার। কখনো আলোচিত হইবেনা। পুরুষের অরগ্যাজম হইয়া গেলেই, সেক্স ওভার। সে কন্সেন্টের ধার ধারিবেনা ও দুই - তাহার বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠিলে সিস্টেম তাহাকে নিস্তব্ধ করিবে

নট আ গ্রেট প্ল্যাটফরম ফ্রম হুইচ টু লার্ন অ্যান্ড প্র্যাকটিস কন্সেন্ট। তোমাদিগের তো চেঞ্জ দেখি অতি আবশ্যক
বিবি তাহার ল্যাজ বাঁকাইয়া স্বভাবানুরুপ খ্যাঁক শব্দে হাস্য করে। 

চেঞ্জ হইল কদাপি এক স্ট্রেট ফরোয়ার্ড জিনিশ। প্রায় কেওয়াস তত্বের মতই জটিল ও ইভল্যুশন-দুর্বল এক বাওয়াল, বুঝিলি বিবি 

এই বলিয়া আমি বিবিকে হাগু করাইতে বাহির হইয়া যাই । আকাশে ছিটছিট মেঘ। বৃষ্টি হইলেও হইতে পারে। 


****** 

ওই একদিনের খবরটিতে দেখা যাইতেছে- পুলিশ বলিতেছেন - আসামীগণ ফুর্তি করিবার তরে রাত্রি সফরে বাহির হইয়াছিলেন। 

কিন্তু রেপের সহিত সেক্স বা তাদের ভাষায় ফুরতি'র কি সম্পর্ক রে ভাই ?

বিবি কহে 

সম্পর্ক নাহি। কারণ - রেপ ইজ নট আবাউট সেক্স; ইহা ক্ষমতার বিষয়। ক্ষমতার প্রদর্শনীর বিষয়। অ্যান্ড পাওয়ার থ্রাইভস বাই সাইলেন্সিং অপজিশন। যুদ্ধ এই নীরবতার নির্মাণের সহিত, ভিক্টিম শেমিং এর বিপক্ষে 

তোমাদের ওই স্লাট-শেমিং এর কেস কিন্তু ঘোড়েল, ক্যাচালটা যেন কি ভাবে পাকাইতে চাহে ?

স্লাট বলিয়া কিছুর অস্তিত্ব নাহি, বিবি । 

সেতো তোমাদের ফেমিনিস্ট'দের মত। কিন্তু এইসব শব্দ তো তোমাদের হিউম্যান সভ্যতা হইতেই আসিয়াছে । 

ইহা অধঃ শব্দ। ইহার প্রয়োগ করা হইয়া থাকে নারীর যৌনতাকে অপমান করিবার নিমিত্তে । কাহার যৌন আবেদন কম থাকিবে বা কাহার বেশী, ইহা কোন নীতির বিষয় নহে। ঠিক একিভাবে কাহার যৌন আসক্তি থাকিবেনা, তাহাও নীতির বিষয় নহে। 


তোমরা ইন্ডিয়ানরা খিল্লি উড়াইবে কিন্তু সাফ-রসিকতা বুঝিবেনা, তোমাদের হিউমার সেন্স কেন এতো যে পুয়ার। ইহাতে রেসিজম খুঁজিয়ো না, হ্যাঁ কি বলিতেছিলে 


বলিতেছিলাম, আসলে রেপের সহিত সেক্স বা তাদের ভাষায় ফুরতি'র কোন সম্পর্ক নাই যুদ্ধ নীরবতার সহিত, মিসজিনির সহিত ! নীরবতার নিরমানের সহিত। যাহা লইয়া মনুর অবতাররা যুগে যুগে ব্রেনওয়াশ করিয়া আসিয়াছেন।


মনুবাদ সে আজাদি, তোমাদের জে এন ইউ এর স্লোগান দেখিতেছিলাম 

জে এন ইউ কেন, সারা পৃথিবীরই 

সেকি ? মনু ইম্পোরটেড ?? লাইক ইয়ে … না থাক 

মনুর অবতাররা অদ্ভুত ভাবেই সারা পৃথিবীতে একই প্রকারের। 

যেমন, যেমন ? 

যেমন গ্রেকো- রোমান রা। 

a woman served no other purpose than to produce children- এ কথা রহিয়াছে, 'মিথ অফ প্যান্ডোরা' তে, আট শতকের কবি হেসিওড এর লেখায়। প্যান্ডোরাকে মর্ত্যে ঈভিল আমদানীর জন্য দায়ী করিয়া দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হেসিওড বলিতেছেন - নারী হইলেন ভগবানের প্রেরিত অভিশাপ। খৃস্ট-পূর্ব দ্বিতীয় শতকের নারী- রোগ বিশেষজ্ঞ সোরানুস বলিতেছেন - পাপী নারীরা বিবাহ করেন সন্তান লাভের জন্য। অ্যারিস্টটল ও বাদ যাইতেছেন না। সোরানুস ও হিপক্রেটিস মনে করিতেন- নারী অঙ্গের জরায়ু হইল সব নষ্টের মুল। তাহাদের দাওয়াই আছিল- গেট দ্য গার্ল ম্যারেড এন্ড প্রেগন্যান্ট। অর্থাৎ বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানে ভরতি করাইয়া দাও, কোন একজন পুরুষ তাহাকে যৌন সঙ্গ দিবে যাহাতে সে তার সন্তানকে ধারণ করিতে পারে। অর্থাৎ পুরুষের প্রয়োজনের সর্বার্থ সাধন। ক্ষমতার দোলনায় পা দোলানো পুরুষতন্ত্রের 'দ্বিতীয় -লিঙ্গের' জন্যে সামাজিক চিন্তাভাবনা। এবং আমাদের মনু ঃ স্বভাব এষ নারীণাং নরাণামিহ দূষণম ( ২১৩ নম্বর শ্লোক, মনু সংহিতা, দ্বিতীয় অধ্যায় )। মানে হইল- নারীদের স্বভাবই পুরুষদের দূষিত করা। এই হইল পিতৃতন্ত্রের সারাৎসার টক্সিন। এই মিসোজিনির ধারনাই ক্রমাগত রেপ কালচার কে পুষ্ট করিতেছে। । 


কি সাংঘাতিক ! ব্যান মনু। 

হ্যাঁ ১৯২৭ সালেই বাবাসাহেব আম্বেদকার মনু-স্মৃতির কপি পুড়াইয়াছিলেন। 

মিসজিনির সহিত কন্সেন্ট তাহলে কিভাবে জুড়িয়া যাইতেছে ?

যাইতেছে। কারণ, হেটেরোনরমাটিভ সমাজ-বোধের তৈরি ডি.এন.এ একপ্রকার অ্যাগ্রেসিভ পৌরুষ এর ধারনা তৈয়ারি করে যাহার বিপরীতে থাকিবে একইসঙ্গে আপাত দুর্বল, লাজুক ও পপুলার অর্থে সেক্সি-নারী। যাহার মিনিস্কার্ট ও ডীপ নেকলাইন তাহাদের কাছে মানে করিতেছে- দে আর আস্কিং ফর ইট। অর্থাৎ কন্সেন্ট ইজ অ্যাজিউমড। ধরিয়া লইতেছে, এই নারীরা তাহাদের যৌন-সঙ্গী হইতে আগাম ফর্ম ভরিয়া রাখিতেছেন। সেক্ষেত্রে তারা কন্সেন্ট নেওয়ার চেষ্টাই করিবেন না এবং ব্যক্তিত্বের কোনরকম আপাত 'দুর্বলতা' লক্ষ্য করিয়া কন্সেন্ট তৈয়ারি করিয়া নিবেন। 

একজন তথাকথিত 'এম্পাওয়ার্ড' নারী তো কন্সেন্ট এর জায়গা হইতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের জায়গায় থাকিবেন, নয় কি ? 

এক শোনা আখ্যান হইতে উদাহরণ দিতেছি - এক নারী, তাহার পরিচিত এক পুরুষের সহিত মদ্যপান করিতে গিয়াছিলেন। পুরুষটি দুই- চারি পেগের পর, বাংলা অধুনা সিরিয়ালের কায়দায় 'হামি তুমাকে হামি খাইতে পারি' বলিয়াই উত্তরের অপেক্ষায় না থাকিয়াই চুমু খাইয়া ফেলিলেন। তিনি কন্সেন্টের অপেক্ষা করিলেননা। এক্ষেত্রে তিনি কখনোই বুঝিতে চাহিবেননা, যে সেই নারী তাহার চুমু আদৌ উপভোগ করিবেন কিনা। তিনি স্থির করিয়া রাখিয়াছেন, তিনি ওই শরীর হইতে কি কি উপভোগ করিবেন। 

তাহার মুখে গন্ধ থাকিতে পারিত । তিনি প্রতিবাদ করিয়াছিলেন ? তোমাদের পাড়ার মুন্নি হইলে নির্ঘাত তোমাদের ধর্মতলায় লইয়া গিয়া দাঁত মাজাইত। মুন্নি সুপার। 

( আবার শুরু হইল )

তিনি ভোকাল হইয়াছিলেন। কিন্তু তাহার এই প্রতিবাদকে 'ভিক্টিমপনা'র লক্ষণ দর্শাইয়া মস্করা করিতেও শুনিয়াছি। অর্থাৎ তাহার দুর্বলতাকে হাইলাইট করা। ইহা “asking for it,” মডেলে ভায়োলেন্স ও অপ্রেসনের এক আদর্শ রেফারেন্স, দেশ ও নেশন ভেদে। চাহিলেই মস্করাও করা যায়। আবার 'দুর্বল' তকমা লাগাইয়া আধিপত্যের মডেলটিও খাড়া রাখিতে পারা যায়। 

বিবি'র হাই উঠিতেছে। ঘুমাইতে যাওয়াই সঠিক। 

পিতৃতন্ত্রের টক্সিন সর্বদাই কন্সেন্টের এই মিথ - কে ফিচার করিতে চাহে - যে - চাহিলেই 'করিতে' পারা যায়, কোন কিছুই ভুল নহে। আমার এক ভার্জিনিয়ার বন্ধু একবার কহিয়াছিল- তাহাদের হাইস্কুলে ছেলেরা একপ্রকারের খেলা খেলিত। তাহার এক কোডনাম আছিল- নাট-চেক । ছেলেরা একে অপরের গ্রয়েন লক্ষ্য করিয়া হস্ত সঞ্চালন করিত। ইহা ছিল এক আবশ্যক রুটিন অধ্যায়। অনেক লাজুক, নরম ছেলে তাহাতে ইশকুল পরিবর্তন করিয়াছিল। কে চাহে, কে চাহেনা তাহা কেহ জানিতে চাহে নাই। তাহারা এই পিতৃতন্ত্রের ধারণায় বাড়িয়া উঠিয়াছে, যাহা তাহাদের এই ঔদ্ধত্য প্রদান করিয়াছে যে তাহারা ভাবিতে শিখিয়াছে - চাহিলেই সব 'করিতে' পারা যায়, কোন কিছুই ভুল নহে। 

**************
দিন পনের কাটিয়া গিয়াছে। আরেকবার নেটের সম্মুখে সার্চ মারিয়া দেখিতেছি, কোন রিপোর্ট পাওয়া যাইতেছে কিনা। নতুন কোন খবর ভাসিয়া উঠিলনা। 

পুরানো রিপোর্ট হইতেই জানিলাম - পুলিশ জানাইয়াছে খুনী ও ধর্ষণকারীরা 'সফট টার্গেট' এর খোঁজে বাহির হইয়াছিলেন। এক আত্মীয় জানাইতেছেন, বালিকাটি বয়স-সুলভ চালাকচতুর ছিলেননা। বাস করা একটি তথাকথিত হাবা-গোবা বালিকার চাইতে উত্তম সফট টার্গেট আর কিবা হইতে পারে ? এখানে গায়ত্রী প্রণীত সাব-অ ল্টার্ণ তত্ব একপ্রকার মিলিয়া যাইতেছে- সে কথা তেমন কহিতে পারেনা ইহাই শুধু নহে, তাহার কথা রোধও করা সম্ভব হইতেছে। পাতি-ভারতের মহা-আখ্যানে এমন ভয়াবহ রূপক বাস্তবে আমি বহুকাল খুঁজিয়া পাই নাই। এই হল নিস্তব্ধকরনের নির্মাণ। এটিই পাতি- ভারতের মেজর ন্যারেটিভ যা কখনোই কন্সেন্টের ধারনা হইতে শুরু হইবেনা। সেখানে রাস্তায় শয়নের জন্যে গাড়ী চাপা পড়া যেরূপ লেজিটিমেট, রাস্তায় শয়নের কারণেই সেইরূপ রেপ হইতে বাঁচিতে চাওয়াও ইল্লেজিটিমেট। তবে খুন,রোগ,ছাদ,খুধা হইতে বাঁচিতে চাওয়া নাকি বিস্তর সেমিনার সম্ভব । তবে তাহা অনেক শতাব্দীর হারামির কাজ। 

রোদ্দুর-হীন শহরে ডিপ্রেশনের আদলে আমি আবছা দেখিতে পাই- ভাষাতত্বের ব্যাখ্যান পশমের গোলার মত ছড়াইয়া পড়িতেছে। অচেতনের আখ্যান এক থেসরাস তৈয়ারি করিতেছে । তাহাতে ভাসিয়া উঠিয়াছে অচেতন অরুনা শনবাগের হাসপাতাল শয্যা। একটি বালিকা সেখানে অচেতনে আছেন। আধা-জাগ্রত এক মেয়ে। তিনি তাহার অচেতনতার সুযোগে ধর্ষিত হইয়া যাইতেছেন। তাহার অব্যবহিত পরেই ধর্ষিত সেই মেয়ে তার অপরাধের বিরুদ্ধে চেঁচাইয়া উঠিতেছেন । আর তখনি তিনি খুন হইয়া যাইতেছেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্যান্ডোরা তার বয়াম হইতে উজাড় করিয়া ঢালিয়া দিতেছেন দ্বেষ। জিউসের শঠতায় নির্মিত- এক বয়াম দ্বেষ। এক মুহূর্তকাল চরাচর নিস্তব্ধ হয়। জিউসের গ্রয়েন লক্ষ্য করিয়া পলিফনি উঠিল: নাটচেক ! 

******** 
[ ব্রাউন-ব্যাগ এক সারমেয়। সে কথা কহিতে সক্ষম। পুর্বে প্রকাশিত। 'ব্রাউন-ব্যাগ' সিরিজ হইতে পুনঃ প্রকাশ করা হইল। মুল রচনাকাল - ২০১৬ 

লেখক দীর্ঘকাল গুরু-চণ্ডালীতে গদ্য লেখেন। ইহা সাধু-ভাষা নহে।]


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন