বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮

স্মৃতি ভদ্র'এর গল্প : বিহান

ভোরের আযানের সুর অরুণাময়ী'য় খুব ভাল লাগে। এই সুর যেন ভোরের নিঃস্তব্ধতা খানখান করে না উল্টো নৈশব্দের সুর আতস্থ করতে সাহায্য করে। এই সুরের রেশ কানে লেগে থাকতেই একটি নতুন দিন শুরু হয়ে যায় অরুণাময়ী'র।
এত বড় সংসারের সব কাজ একা সারার জন্য দিনের জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের সাথে ভোরের দু'ঘন্টাও যোগ করে নিতে হয়। আজ অরুনাময়ী যখন কপাটের কাঠের খিল খুলে উঠোনে নামে তখনো আকাশে ভোরের আলোর খেলা শুরু হয় নি। উঠোন পেরিয়ে বৈঠক খানা পার হয়ে বারবাড়িতে এসে সদর খিড়কি টার আগল খুলে দেন।

এরপর চৌবাচ্চায় ধরে রাখা আগের দিনের পাথর ঠান্ডা জলে স্নান করতে করতেই উঠোনে কারো পায়ের শব্দ। এর সাথে গোবরজল ছিটানো উঠোনে শুকনো পেয়ারা পাতার সাথে ঝাঁটার ঘষায় খসখসে শব্দেই অরুণাময়ী বুঝে যায় রসু'র মা চলে এসেছে। রসু'র মা; এ বাড়ির প্রথম নিয়ম ভাঙার নাম। বারো বছর বয়সে যখন ভূপতি বাবু'র দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে এ বাড়ির দুয়ারে নববধূ অরুণাময়ী'র পালকি থামলো, তখন এ তল্লাটের একমাত্র বাবু বাড়ির সকল হর্তাকর্তা বাবু বিপিন চৌধুরী, অরুণাময়ীর শ্বশুর। কলকাতা থেকে পাশ করা বাবু বিপিন চৌধুরী তাঁর বাবার একমাত্র ছেলে হিসেবে গ্রামে এসে বাবার ব্যবসার হাল ধরেছেন। সোনার মতো গায়ের রঙ, টিকালো নাক আর উচ্চতায় প্রায় সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়া বিপিন চৌধুরী'র আঠারো তে পড়তে না পড়তেই পাশের গ্রামের সদ্য আটে পড়া হিরন্ময়ী দেবীর সাথে বিয়ে দিয়ে দেন তাঁর বাবা। বিয়ের পর পড়াশোনার ক্ষতি হবে ভেবে দুই বছর নাকি বাড়িমুখো হননি বাবু বিপিন চৌধুরী। অসম্ভব সংযম আর নিয়মে বাঁধা ছিল তাঁর জীবন। হিরন্ময়ী দেবী যেদিন থেকে "বালিকা" শব্দটি পিছনে ফেলে সংসারে মনোনিবেশ করলেন সেদিন থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর সাথের মানুষটি আর সবার থেকে পৃথক। হেঁশেলের নুন থেকে আড়তের কর্মচারীর বেতন সবকিছুতেই ছিল বিপিন চৌধুরীর কর্তৃত্ব। তাই হিরন্ময়ী দেবী শুধু সেই সংসারে কাঠের পুতুল হয়ে থেকে গেছেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান ভূপতি চৌধুরী। বাবার কঠিন শাষণের সাথে মায়ের অসহায় সময়ের প্রভাব তার মন আর চিন্তা জগতে স্পষ্ট ছাপ রেখে যায়। এজন্যই মনে হয় বাবার ঠিক বিপরীত ছবি হয়ে বেড়ে ওঠেন ভূপতি বাবু। নিয়ম ভাঙতেই বেশি যেন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন রক্ষা করার চেয়ে। আর তা যদি বাবার তৈরী করা নিয়ম হয় তো কথাই নেই।

অরুণাময়ী যদিও ভূপতি বাবুর দ্বিতীয় পক্ষ, তবে প্রথম পক্ষের সাথে চারচোখের সত্যিকার মিল হবার আগেই আগের পক্ষ কলেরায় মারা যায়। আগের পক্ষের বয়স খুব কম থাকায় বাপের বাড়িতেই অধিকাংশ সময় থাকতো, এমনকি পৃথিবী ছেড়ে চলেও যায় বাপের ঘর থেকে। তাই অরুণাময়ী যেন সত্যিকারের সাথী হয়েই এলো ভূপতি বাবুর জীবনে। সামান্য অক্ষর জ্ঞান ছিল অরুণাময়ীর। আর তাতে শান দেবার আগ্রহ টা ভূপতি বাবুর ভিতরেই আগে আসে। নিজের চেষ্টাতেই স্ত্রীকে যুক্তাক্ষর আর পত্র লেখা শেখান। তবে পত্র কোনদিন ভূপতি বাবুকে লেখা হয় নি অরুণাময়ীর, যত পত্র লেখা হয়েছে তাঁর বিয়ে হয়ে যাওয়া মেয়েদের। তিন মেয়ে আর এক ছেলের মা অরুণাময়ী। আরাধনা, বিথীকা, স্বাতীলেখা আর বিজন গালভরা এইসব নাম দেখলেই বোঝা যায় ভূপতি বাবু কতটা স্নেহপ্রবণ ছিলেন। স্বাতীলেখার বিয়ের অল্প কিছুদিন আগে বিপিন চৌধুরী মানে অরুণাময়ীর শ্বশুর খুব অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হন। অসুস্থ শ্বশুর, আড়তের ৭ জন কর্মচারী আর মেয়ের বিয়ের কাজে যখন অরুণাময়ী দিশেহারা তখন দীর্ঘদিনের বাঁধা কাজের মেয়েটা একটা তুচ্ছ ছুতোয় কাজ ছেড়ে চলে যায়। এখানে বলে রাখা ভাল ততদিনের বাবুবাড়ির বাবুয়ানা অনেকটাই থিতিয়ে এসেছে। সারা গ্রাম খুঁজেও যখন একটি হিন্দু কাজের মেয়ে যোগার করতে পারলো না ভূপতি বাবু তখন উপায়ান্তর না দেখে এই রসু'র মা কে নিয়ে আসে। যে বাড়ির আমিষ আর নিরামিষের রান্নাঘর পর্যন্ত আলাদা সেই বিপিন চৌধুরীর বাড়ির চৌকাঠ ডিঙ্গালো প্রথম মুসলমান। জোরবিহীন হয়েছে শরীর মন তো নয়। তাই শয্যাশায়ী বিপিন চৌধুরী দুইদিন এর প্রতিবাদে জল ছাড়া কিছু মুখে দেননি। শেষে অরুণাময়ীর অনেক অনুরোধে একটু দুধসাগুতে সেই প্রতিবাদ ভঙ্গ করেন।

এরপর থেকে প্রতিদিন এ বাড়ির প্রকাণ্ড বরই গাছের ফোঁকর গলে আসা সূর্যের প্রথম আলো কিন্তু রসু'র মাকেই ছোঁয়। আর তা হবেই বা না কেন। অরশীত হোক বা গ্রীস্ম স্নানঘর থেকে বের হয়ে ভেজা কাপড়েই অরুণাময়ী নিরামিষ রান্নাঘর লেপ্টে দাঁড়িয়ে থাকা টগর গাছটার নীচে গিয়ে দাঁড়ান ঠিক তখন যখন একটা দু'টো পাখি ডেকে উঠলেও তারা ঘর ছাড়া শুরু করে নি। অন্ধকার হালকা হয়ে পুবের আকাশ সবে লাল রঙের সাথে মিতালি করছে। হাতের নাগালে আসা সব সাদা ফুলগুলো নিয়ে তড়িঘড়ি করে ঠাকুর ঘরে যেতেই বাড়ির বনেদি সময়ের একমাত্র স্বাক্ষর জার্মানি থেকে আনা ঢাউস লিমটন ফোর দেয়াল ঘড়িটি ঢং ঢং করে জানিয়ে দেয় সময় ভোর পাঁচটা। এই শব্দেই সকাল হবার বেশ বাকি আছে এটা নিশ্চিত হয়ে ভূপতি বাবু আর বিজন আয়েশ করে পাশ ফিরে শোয়। 

গোপাল নিত্যপূজা পেলেও গৌর নিতাই অরুণাময়ীর কাছে বড় আপন। সাদা টগর ফুলে তাদের সাজিয়ে ধূপধূনোয় আরতি করতে করতেই বাইরে টগর ফুলের মতো দিন এসে যায়। এরপর কিছুক্ষণ ধর্মকথা পড়ে যখন উঠোনের পেয়ারা গাছের নীচে তুলসীমঞ্চে জল দিতে আসেন ততক্ষণে সূর্যের আলো এ বাড়ির আনাচেকানাচে পৌছে গেছে। পেয়ারা গাছের পাতাগুলো সকালের নরম রোদে হেলেদূলে খেলা করে তা দেখে খুব বিথীকা মানে মেজো মেয়েটার কথা মনে পড়ে অরুণাময়ীর। কি দুরন্তই না ছিল মেয়েটা। সারাদিন এই পেয়েরা গেছে চড়ে বসে থাকতো। বাইরে টকটকে সবুজ আর ভিতরে আবির লাল মিষ্টি পেয়ারাগুলো ঠিকমতো পাকতেও পারতো না ওর জ্বালায়। বিথীকার কথা মনে পড়তেই অরুণাময়ীর মনে পড়লো কাল ইন্ডিয়া থেকে আসা চিঠিটার কথা। কাঁচা হলুদ গায়ের রঙ আর মাথাভরা কালো চুল নিয়ে এ বাড়ির সবচেয়ে সুকন্যা বিথীকার বিয়ে হয় বয়সে বেশ বড় ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের সাথে। পাত্রের বাড়ি বাবা-মা ইন্ডিয়া থেকে আত্মিয়ের বাড়ি এসেছিলেন, যা এই বাবুবাড়ি লাগোয়া। তারা এক দেখাতেই বিথীকাকে বাড়ির বউ করে নিলো। এই বাড়ির সাথে বিথীকা দেশ ছাড়াও হলো। দু'চার বছরে একবার দেশে আসে খুব অল্পদিনের জন্য। কাল পাওয়া চিঠিতে ও জানিয়েছে জামাইয়ের শরীর ভাল নেই, ডায়াবেটিস টা নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। তেলাকুচা পাতার রস খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, মেয়েকে চিঠি লিখে জানাতে হবে। বিথীকা অন্যদেশে থাকলেও মাসে একটা করে চিঠি তবুও আসে। কিন্তু সাত সমুদ্র পাড় হওয়া স্বাতীর খবর আসে অনেকদিন বাদে বাদে। ছ'মাসে একটি চিঠি তাই অরুণাময়ী বারবার বের করে পড়ে; আচ্ছা শেষ কবে এসেছিল চিঠি? মনে পড়ছে না তো। কয়েকমাস হলো অরুণাময়ী অনেক কিছুই ভুলে যায়। এই তো সেদিন তিনি তাঁর কানু মামার গল্প করছিলেন কিন্তু আমি কিছুতেই মনে করতে পারছিলাম না সে কান মামাকে। যাগ গে, কোলের মেয়ে স্বাতী খুব ন্যাওটা ছিল তার। বিয়ের আগের দিন পর্যন্ত রাতে মার পেট জড়িয়ে ঘুমাতো। এখন না জানি কেমন কাটে স্বাতীর দিন।

শ্বশুরঘরে মেয়েদের আর দিন কাটা! অরুণাময়ী ছিল বাবার একমাত্র মেয়ে। ছয় ভায়ের একমাত্র বোন। পরপর ছয় ছেলে হওয়াতে বাবা নাকি খুব বিরক্ত হয়েছিল যা ছেলেদের নাম শুনলেই বোঝা যায়। চিনি, মিশ্রী, জগা, টেপা এসব চরম অবজ্ঞার নাম ছিল তাদের। অথচ ছয় ছেলের পর বাড়ি আলো করে মেয়ে এসেছিলো বলে কত শখ করে মেয়ের নাম রেখেছিল অরুণাময়ী; আদর করে ডাকতো অরুণ। অরুণকে নিয়ে বাবার সব পাগলামিকে মা আদিখ্যেতা নাম দিত। অরুণকে মেলা থেকে হাত ভরে চুড়ি কিনে দেওয়া, ঘাড়ে চড়িয়ে লাল দিঘীতে নিয়ে সাঁতার শেখানো, কালিবাড়ির নাটমন্দিরের অষ্টপ্রহর সংকীর্তনে রাধা সাজিয়ে দেওয়া বাবার এ সবকিছুতেই মা বাড়াবাড়ি খুঁজে পেতো। তবে বাবার মনে এরচেয়েও বড় আর যুগবিরোধী যে ভাবনা ছিল তা যেদিন প্রত্যক্ষ হয়, সেদিন মা মূর্ছা গিয়েছিল। বাবা ছিলেন টোলের পন্ডিত, দাদারা সব যেত সেই টোলে। না, বাবা আমাকে সাথে করে টোলে নিয়ে যায় নি, সরস্বতী পুজোয় হাতেখড়ি দেবার সময় খাগের কলমের প্রতি আমার আগ্রহ দেখে ঘরেই স্লেট আর খড়িমাটি এনে দিয়েছিলেন। আর সেদিনের পর থেকে বাবা দুপুরের খাবারের পর নিয়ম করে আমাকে অক্ষর জ্ঞান দিতেন। সে যুগে মেয়েদের পড়াশুনো ছিল শাস্ত্রবিরোধী; মেয়ের অক্ষরজ্ঞান হলে অকালবৈধব্য হবে তা ভেবেই আমার মা বারকয়েক মূর্ছা গিয়েছিলেন। 

নাটোরের অরুণাময়ীর নিজের অজান্তেই কিন্তু এখন পৌছে গেছে ছেলেবেলায়। সেই নাটোরে; সেই বাড়ি, সেই দিঘী, সেই রাণী ভবানীর রাজবাড়ি, কালিবাড়ি, নাটমন্দির সব একইরকম আছে। রাঙাপিসি দাওয়ায় বসে পায়ে আলতা পড়ছে, আজ বৃহস্পতিবার একটু পড়েই লক্ষ্মীর ঘট বসবে। অরুণাময়ী স্নান করে আমের পল্লব হাতে পিসির পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। দাদারা আরেকটু পরেই টোল থেকে ফিরবে। রাঙাপিসি বাড়িতে এলেই ঠাকুরঘরের দায়িত্ব তাকে দিয়ে মা হেঁশেলেই অধিকাংশ সময় পড়ে থাকে। অরুণাময়ী পিসির সাথে সাথে থেকে পুজোর সব নিয়ম শিখে নেয়।

" বুঝলি অরুণ ঘট বসানোর আগে আল্পনার উপর তিল, আতপচাল আর দূর্বা দিয়ে নিবি। এরপর ঘট রেখে তার উপর একটা গোটা ফল। আর এই দেখ নৈবদ্যতে সব ফল একটু একটু করে দিবি, জানিস তো মা লক্ষ্মীর পূজোয় কিন্তু এই নৈবদ্য লাগবেই। মন দিয়ে দেখ, শ্বশুরঘরে গেলে যেন আমাদের নিন্দে না হয়।"

"শ্বশুরঘর" শব্দটাতে কেমন যেন ভীতি মিশে থাকে অরুণাময়ী। কেমন সে ঘর, কেমন সে ঘরের মানুষগুলো সে দেশই বা কেমন ভেবে কূলকিনারা পায় না। আবার ভাবে বাবা তো তখন আমাকে সবসময় দেখতে পাবে না, তাহলে বাবাকে বলে দিবো সেই শ্বশুরদেশে একটি বাড়ি বানিয়ে নিতে। তাহলে ইচ্ছে হলেই বাবা তাঁর অরুণকে দেখতে পাবে। তবে মা আর পিসিদের আড়াল হলেই এই শ্বশুরঘরের গল্পও আড়াল হয়ে যায়। তাই তাড়াহুড়ো করে মা লক্ষ্মীকে ফুলজল দিতেই তপ, মীরা, ঝুমুরদের হুল্লোর কানে আসে। রাঙ্গাপিসি নৈবদ্য মেখে হাতে দিতেই আমি একছুটে সইদের কাছে আমবাগানে। ঠাকুরবাড়ির আমবাগান আমাদের খেলার জায়গা। সেখানে আমরা রান্নাবাটি খেলি। বোশেখ মাসে সেই বাগানের কাঁচা আমে সরিষার তেল, কাঁচামরিচ আর লেবুপাতা মেখে খাই। 

অরূণাময়ী বিভোর হয়ে আছে সইদের সাথে খেলায়। হঠাৎ "কর্তা মা" ডাকে সে বিভোরতা কাটে তাঁর। কিন্তু কেমন ঘোলা চোখে তাকায় রাসুর মায়ের দিকে। কর্তা মায়ের এই ঘোলা চোখ খুব অচেনা রাসুর মা'র কাছে যেমন অচেনা এখন রাসুর মা অরূণাময়ীর কাছে। রাসু'র মা সেই ঘোলা চোখ উপেক্ষা করে রাতের এঁটো বাসন ধোয়ার ফিরিস্তি দিতে থাকে। কর্তা মা এবার ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশ এমনভাবে দেখতে থাকে যেন এ জায়গাতে সে বড় নতুন। রাসুর মা এগিয়ে আসে," কর্তা মা শরীর কি খারাপ নাগে?" উত্তর নেই; শুধুই ঘোলাটে চাহনি। এবার রাসু'র মা এবার চিৎকার করে কর্তা বাবুকে ডাকতে থাকে।

ভূপতি বাবু আর বিজনকে দেখেও সেই ঘোলাটে চাহনি ছাড়া আর কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না অরূণাময়ী। বিজনকে অনবরত মা ডাকতে দেখে অরূণাময়ী ভাবে দাদাদের চেয়েও বড় মানুষটি তাঁকে মা কেন ডাকছে? নিজের মানুষগুলোকে অপরিচিত করে দেবার এই ক্ষণ যে অরূণাময়ীকে জীবনের শেষক্ষণ পর্যন্ত আঁকড়ে রাখবে তা তখন পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারে নি। তবে শুধু অপরিচিত নয়, যে কাউকে নতুন পরিচয়ে জড়িয়ে নেওয়াও যেন সেদিন থেকেই শুরু হয়ে গেলো। বাড়ির পাশের নাতনি সম্পর্কের কিশোরী প্রতিবেশী হয়ে উঠলো অরূণাময়ীর সই তপ বা ঠাকুর বাড়ির দীপেন চক্রোবর্তী হয়ে উঠলো টোলের পন্ডিতমশাই তাঁর কাছে। এ বড় অদ্ভুত বিড়ম্বনা! কি অবলীলায় সেই ক্ষণ থেকে মননে তিনি বাস করা শুরু করলেন নাটোরে তাঁর জন্মস্থানে,অরূণ হয়ে। অনেক ডাক্তার বদ্যি করেও তাঁকে বর্তমানে ফেরানো যায় না।

অরূণাময়ী দেবী বর্তমান বিসর্জন দিয়ে আঁকড়ে ধরেলেন তাঁর শৈশব আর কৈশোর কালকে। 
অরূণাময়ী দেবী আর কখনো ফিরলেন না বর্তমানে; একদিন টগর ফুলের মতো সকালে অনন্ত যাত্রায় চলে গেলেন সেই নাটোরের অরূণ হয়েই। 

আচ্ছা,একমুখী গতির জীবনকে নিজের মনের প্রবল ইচ্ছে দিয়ে কি তার গতিপথ বদলে দেওয়া যায়? ফিরে যাওয়া যায় মনের কুঠুরিতে সঞ্চিত মণিমুক্তোর মতো যত্নে রাখা সেই সময়ে? না কি সেই অমৃতকুন্ডের সন্ধান শুধু অরূণাময়ী দেবীরাই পেয়ে থাকেন! নাকি অরূণেরাই কেবল ফিরে পায় সূর্যের প্রথম কিরণ বিহান কে?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন