সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৮

দীপেন ভট্টাচার্যের ধারাবাহিক উপন্যাস : আন্তারেস--তৃতীয় অধ্যায়

আন্তারেস পর্ব ২ -এর লিঙ্ক  

এর মধ্যে আমি যে কত বই পড়লাম। একটা বই ছিল আমার খুব প্রিয়, প্রথম প্রথম যখন পৃথিবী থেকে বিভিন্ন গ্রহে মানুষ যাওয়া শুরু করল সেই সময়ে এই বইটা লিখেছিলেন তখনকার এক বিখ্যাত নভোচারী। সেই বইয়ের এই লাইনক’টি আমার মাথায় সবসময় ঘুরত - “অনেকে মনে করে মহাকাশ যাত্রার মত বড় অ্যাডভেঞ্চার আর হতে পারে না। তারা মনে করে নিকষ কালো অন্ধকারে অভিযানের সাথে সবসময় একটা রোমাঞ্চকর সঙ্গীত বাজতে থাকে যা কিনা সেই যাত্রাকে অর্থময় করে, তাকে প্রাণপূর্ণ করে।
কিন্তু অনন্ত অসীম মহাকাশের নিঃসঙ্গতা নিতান্তই অনুর্বর, সেই প্রকৃতি ক্ষমাহীন, সে সঙ্গীত বুঝতে অক্ষম। দিকহীন আঁধারে যে দু-একটা নক্ষত্র টিমটিম করে সেগুলো মানুষের প্রাণকে প্রজ্জ্বলিত করতে পারে না।
তখন এই ছোট মহাকাশযানে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে কোটি কোটি বছরের বিবর্তনে উদ্ভূত তার অদম্য ধৈর্য।” 

মা’কে আমি লাইনগুলো দেখালে মা বলল, “এসব পড়ে তোর যেন আবার মন খারাপ না হয়।” 

আসলে মন আমার খারাপ হত না। পৃথিবীকে আমি দেখিনি, পৃথিবীর মাটিতে আমি কোনোদিন পা ফেলি নি, যদিও মহাকাশযানে যে বিষুবীয় অরণ্য আছে সেটার মাটি নাকি পৃথিবী থেকে আনা। সেই অরণ্যের ঘরে আকাশ-ছোঁয়া গাছ ছিল যার নাম হল সেইবা। আকাশ-ছোঁয়া বলছি, মহাকাশযানের বাইরে অনন্ত আকাশ, ভেতর তো বদ্ধ, তবু হলোগ্রামের যাদুতে মনে হত গাছগুলো অনেক উঁচু, তাদের ওপর মেঘ ভাসছে, তার ওপরে নীল নীল আকাশ। অনেক সময় মেঘ থেকে বৃষ্টি হত। মা বলত ঐ ঘরটা তাকে আমাজনের জঙ্গলের কথা মনে করিয়ে দেয়, তবে সেখানে নাকি বৃষ্টি পড়ে অঝোর ধারায়, ঐ ঘরে যেরকম টিপিটিপি বৃষ্টি পড়ে সেরকম নয়। এই বলে মা বৃষ্টির গান গাইতেন, বৃষ্টির কবিতা পড়তেন, “বাদলের ধারা ঝরে ঝরোঝরো…” 

এরকমভাবেই চলছিল। একদিন স্কুলে যেয়ে দেখি কি কারণে সিয়েনা আসে নি। সিয়েনার তিন মেয়ে লাহে, এমা আর ইলিয়াল এসে বলল তাদের মা’কে নাকি ড্রেগলস কি একটা জরুরী কাজে ডেকে নিয়ে গেছে। স্কুল হবে না, আমরা তো খুব খুশী। মালাই বলল, “চল সবাই সমুদ্রের তীরে যাই।” মহাকাশযানের একটা অংশে একটা বিরাট ঘরের একাংশ বিষুবীয় অরণ্য, আর তার পাশেই একটা ছোট জলাশয়, আমরা তার নাম দিয়েছিলাম সমুদ্র। আমাদের মধ্যে কেউই সমুদ্র দেখে নি, ছবিতে যা দেখেছি তার সঙ্গে এই ছোট জলাশয়ের তুলনা হয় না, তবু দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে আমরা তার নাম দিয়েছিলাম প্রশান্ত মহাসাগর। তবে ঐ জলাশয়ে নেমে সাঁতার কাটা যেত। সেখানে ঢেউও থাকত। আর ঐ ঘরের পাশেই ছিল বিষুবীয় অরণ্য। আমরা মালাইয়ের প্রস্তাবে রাজী হলাম। ঘরে গিয়ে সাঁতাড়ের পোষাক নিয়ে আসব বলে আমরা স্কুল ছেড়ে করিডর দিয়ে যে যার ঘরের দিকে রওনা দিলাম। 

আমাদের ঘরের সামনে আসতেই দরজা খুলে গেল। এ'সময়ে বাসায় কেউই থাকে না, মা থাকেন মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষে, বাবা ইঞ্জিনের ঘরে। কিন্তু দেখলাম মা-বাবার ঘরটার দরজা খোলা। ভাবলাম মা কোনো কারণে ঘরে এসেছেন। আমি করিডর দিয়ে এগোই, দেখি মা’র পা-দুটো দেখা যাচ্ছে। হালকা কাপড়ের জুতো মায়ের পায়ের পাতা ধরে রেখেছে, একটা ঘন নীল স্কার্ট হাঁটু ছাড়িয়ে মিলিয়ে গেছে হাঁটুর নিচে। দেখলাম মায়ের দুটো হাত কী যেন একটা ধরে রেখেছে। কোনো কিছু ধরে থাকার মধ্যেও মা’র একটা শৈলী আছে, পেলব আঙুলগুলো আলতো করে ধরে রেখেছে গোলাকার একটা কিছু। গোলাকার, আর এক পা এগোতেই বুঝলাম সেটা হল একটা মাথা। মাথা? মাথার পেছন দিক - লম্বা কালো চুল খোপা করা, অনেকটা মা’র মতই। আর এক পা এগোতেই মা’র পুরো শরীরটা দেখা গেল। কিন্তু মা’র ধরের ওপর কোনো মাথা ছিল না। মা’র মাথাহীন দেহ তার দুটি হাত দিয়ে একটা মাথা ধরে বসেছিল। শরীরের শীতলতা মস্তিষ্কে প্রবেশ করে, “মা আ আ আ আ আ আ আ আ আ,’ আমার চিৎকারে এক অসামান্য আতঙ্ক বাড়ে সহস্র গুণ। খাটে বসা মুণ্ডুহীন দেহটি দাঁড়িয়ে যায়, তার হাতে ধরা থাকে মা’র মাথা। কিন্তু সেই দেহ তো আমার মা’রই। নাকি না? আমি কিছু বুঝতে পারি না। আমি চিৎকার করি, পেছনে হটি। আমি দেখি পেলব দুটি হাত মাথাটাকে ঘুরিয়ে দেয়, মাথার সামনে বসানো মা’র সুন্দর দুটি চোখ, তাতে পলক পড়ে, আতঙ্কে বিস্ময়ে বিস্ফারিত ছিল চোখদুটি। কিন্তু তবু তা ছিল কমনীয়। মা’র চোখকে কি আমি ভুলতে পারি? চোখের নিচে খাড়া নাকের নাসারন্ধ্রদুটি নিশ্বাসে প্রশ্বাসে কমছিল ফুলছিল। যে মাথা দেহের সঙ্গে যুক্ত নয় সে কেমন করে শ্বাস নেয় - সেই আতঙ্কেও ক্ষণিকের জন্য হলেও এই চিন্তা আমার মাথা এসেছিল। নাকের নিচে লাল লিপস্টিকের ঠোঁট। দেখলাম ঠোঁটদুটি খুলে গেল। সেখান থেকে ভেসে এল যেন আর্তনাদ, “শোগি, মা আমার! শোগি, ভয় পেও না মা!” 

আমি দুহাত দিয়ে আমার মাথা চেপে ধরি। আমার মুখ দিয়ে শুধু ‘আ আ’ ধরণের একটা গোঙানি বের হয়। আমি দেখি দেহটির দুটি হাত মা’র মাথাকে দেহের ওপর বসাচ্ছে। আমি পেছন হটতে থাকি, হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই। পালাতে হবে, এখান থেকে পালাতে হবে। কিন্তু কোথায়, মা’র কাছে? কিন্তু মা কোথায়? এই ভীষণ দানব তো আমার মা নয়। কোনরকমে উঠে আমাদের বাসা থেকে করিডরে বের হয়ে আসি। পেছনে মা’র গলা যেন শুনি, “শোগি দাঁড়া, শোগি কোথাও যাস না, শোগি আমাকে ভুল বুঝিস না। শোগি আমি তোর মা।” 

ততক্ষণে আমি করিডর দিয়ে দৌড়াচ্ছি। ইঞ্জিনঘরে বাবার কাছে যেতে হবে ভাবি। কিন্তু ইঞ্জিনঘরে যাওয়া সহজ নয়, সেটা মহাকাশযানের আবাসিক অঞ্চলের বাইরে, সেখানে কৃত্রিম মহাকর্ষ নেই, সেখান ঢুকতে হলে বিশেষ অনুমতি লাগবে। কিন্তু বাবাকে তো এই খবরটা দিতে হবে। মা কোথায় গেল আমার? দৌড়াতে দৌড়াতে কাঁদতে কাঁদতে “হ্যালো হ্যালো” বলি দুবার, এতে বুকে লাগানো ফোন সক্রিয় হয়। “বাবা, বাবা” বলতেই বাবা ফোনে উত্তর দেন, “শোগি?” “বাবা,” হাঁপাতে হাঁপাতে বলি, “বাবা, মা’র যেন কি হয়েছে। বাবা, মা’র মাথা দেহ থেকে আলাদা হয়ে গেছে, কিন্তু সেই মাথা কথা বলছে। বাবা, আমি বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে।” 

আমি কোনো উত্তর পাই না। মনে হল বাবা যেন কী ভাবছে, হয়তো আমাকে বিশ্বাস করছে না। তারপর তার গলা শুনি, “শোগি, তুমি কি ঠিক দেখেছ, এটা তোমার মনের ভুল নয়তো।” “না, বাবা, আমি ঠিক দেখেছি,” কাঁদতে কাঁদতে বলি। আর একটু থেমে বাবা বলে, ‘শোগি তুমি ঘরে ফিরে যাও, আমি এখনই আসছি।’ 

“আমি ঘরে ফিরতে পারব না, বাবা। তুমি তাড়াতাড়ি এস, আমি সমুদ্রতীরে যাচ্ছি,” কেঁদে বলি আমি। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি করিডরের অন্যপ্রান্তে মা দৌড়ে আসছে আমার দিকে। তার দেহের ওপর মাথা ঠিকই আছে। 

আমি দৌড়ে সমুদ্রতীরের ঘরটায় ঢুকি। ঢোকামাত্র সমুদ্রের গর্জন আর গাঙচিলের ডাক আমার কানে আছড়ে পড়ে। দূরে বালির ওপর লাহে, এমা আর মালাই বসে আছে। ইলিয়াল জলে, তিলাইকে দেখলাম না। বালির ওপর দৌড়াতে আমার অসুবিধা হচ্ছিল। লাহেদের কাছে পৌঁছে আমি নিচে পড়ে গেলাম, সারা মুখে বালি লাগল। আমি ততক্ষণে চিৎকার করে কাঁদছিলাম, বলছিলাম, “আমার মা’র যেন কি হয়েছে। আমার মা আর মা নেই।” ওরা তো কিছুই বুঝল না। বোঝার কথাও নয়। আমি বালি থেকে মাথাটা তুলে পেছনের দরজাটা দেখলাম। সেটা এখনো বন্ধ, মা তাহলে আমাকে অনুসরণ করে নি। না, সেই জিনিসটাকে আমি মা কেন বলছি। আমার মা কোথায় গেল? 

আমার ফোন বেজে উঠল। বাবার ফোন। বাবা বলল, “শোগি, তুই সমুদ্রতীরেই থাক, আমি আসছি। ভয় পাস না।” এর মধ্যেই বেলক ঢুকল ঘরে। সবাই একসাথে চিৎকার করে তাকে বলল, “শোগির মা’র যেন কি হয়েছে।” বেলক এসে আমার পাশে বসে। বলে, “কি হয়েছে ইন্দল সানের?” আমি প্রায় মিনিটখানেক কিছু বলতে পারি না। ফুঁপিয়ে কাঁদি। ওদের সব বলি, কিন্তু বুঝি ওরা কেউই আমার কথা বিশ্বাস করছে না। বেলক বলল, “এ সব তোমার মনের ভুল, শোগি। হ্যালুসিনেশন। তোমার মা’কে আমি ডাকছি বেতারে। তাকে দেখলেই তোমার ভুল বুঝতে পারবে।” 

আমি বেলকের হাত চেপে ধরি। “না, কোনোভাবেই নয়। তাকে ডেকো না এখন। বাবা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর।” 

কিন্তু বাবা আর এলেন না। তার বদলে মিনিট দশেক পরে সমুদ্রের ঘরে ঢুকল নেনা আর তমাল। বেলকের মা নেনা হল এই জাহাজের সহঅধিনায়ক আর তমাল জাহাজের প্রতিরক্ষা সুরক্ষা এইসব ব্যাপার দেখে। ওরা এসে আমাকে ছাড়া সবাইকে যে যার ঘরে চলে যেতে বলল। বেলক বলল, “কেন আমরা ঘরে যাব কেন। শোগির মনের ওপর অনেক চাপ। আমরা এখানেই থাকব।” নেনা বলল, “বেলক, এটা আমাদের মহাকাশযানের প্রটোকল। শোগির বাবা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। শোগির হ্যালুসিনেশন হয়েছে। অনন্ত মহাকাশে এরকম হয়ে থাকে। তার মনস্তাত্বিক পরীক্ষা হওয়া দরকার।” 

আমার মাথা ঠিক ছিল না, কিন্তু নেনার ‘অনন্ত মহাকাশ’ কথাটা শুনে খটকা লাগল। অনন্ত মহাকাশে কি সব মা’ই হারিয়ে যান? 

বেলক গজগজ করল, কিন্তু নিজের মা’র কথার ওপর কিছু বলতে পারল না। 

আমাকে নেনা বালি থেকে তুলে জড়িয়ে ধরল। বলল, “তুমি ঘাবড়িও না, শোগি। আমরা এই যাত্রায় যে কত কিছু দেখেছি, সবই মনের ভুল।” আমি কান্না-জড়ানো গলায় বললাম, “আমার মা কোথায়?” নেনা বলল, “তোমার মা’কে আমরা আসতে নিষেধ করেছি। তুমি কী দেখতে কী দেখেছ? তোমার মা’কে আবার এখন কীভাবে দেখবে কে জানে। আগে তোর শান্ত হওয়া প্রয়োজন।” 

আমি নেনার কথা বুঝলাম না, কিন্তু নেনা এমনই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ যে তাঁর কথার ওপর কথা বলার সাহস কারুর হয় না। তমাল আমাকে পাঁজা করে তুলে সমুদ্রঘরের বাইরে নিয়ে এল। করিডর দিয়ে ওরা হাঁটছে, সেই হাঁটা আর শেষ হয় না। আমি ভাবছি ওরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। অবশেষে হাসপাতাল পার হয়ে ‘খেলাঘর’ নামে একটা ছোট ঘরে আমরা ঢুকলাম। এই ঘরটা ‘খেলাঘর’ নাম হলেও আমার এখানে কখনো খেলতে আসি নি। কেন জানি এই ঘরটা সম্বন্ধে আমাদের তেমন কৌতূহলও হয় নি। ঘরে ঢুকে দেখি আমার সব প্রিয় খেলনা সেখানে। দেয়ালে একটা পাহাড়ের ছবি। আমি বললাম, “বাবা কোথায়। বাবাকে ডাক।” নেনা বলল, “তোমার বাবা একটু পরেই আসবে।” 

ওরা আমাকে ঘরের একদিকে একটা বড় বিছানায় শুইয়ে দিল। বিছানাটা যে কি আরামের! সেখানে শোয়া মাত্রই আমার চোখ জড়িয়ে এল ঘুমে। কিন্তু আমি তো ঘুমাতে চাইছিলাম না। “বাবা কোথায়?” বলার চেষ্টা করলাম। মুখ থেকে ‘বাব্বা’ এরকম কিছু একটা বের হল। দেখলাম নেনা আর তমাল আমার ওপর মুখমণ্ডলের কাছে এসে কী যেন দেখতে চাইছে, তাদের সাথে মনে হল আরো একজন। আমার মা? তারপর তারা ঘরের কোনায় চলে গেল। তাদের সাথে আরো একজন যোগ দিল। কে - বাবা? কিন্তু ওরা ফিসফিস করে কথা বলছে কেন? আমি চিৎকার করে সেটাই জিজ্ঞেস করতে চাইলাম, কিন্তু আমার গলা দিয়ে স্বর বের হল না। আমি একটা স্বপ্নে তলিয়ে যেতে থাকলাম। স্বপ্ন নয় দুঃস্বপ্ন। স্কন্ধকাটা মা আন্তারসের করিডরে আমার পেছনে ঘুরছে, আমাকে ডাকছে - ‘শোগি, শোগি’। আমি পালাতে চাইছি, কিন্তু আমার পা’র মাংসপেশী বিদ্রোহ ঘোষণা করছে। আমি খোঁড়াতে খোঁড়াতে এক করিডর থেকে আর এক করিডরে লুকাতে চাইছি। অবশেষে একটা অন্ধগলি করিডরের শেষ প্রান্তে আটকা পড়লাম। সেখানে ছিল একটা প্রকাণ্ড কাচের জানালা, তাই দিয়ে মহাশূন্যের কালো দেখা যাচ্ছিল। সেই কালোতে আমি দেখলাম একটা আলোর বিন্দু, জ্বলছে আর নিভছে। আর একটি মহাকাশযান? স্বপ্নের মধ্যেও বুঝলাম আউরেরগথরা আমাদের পিছু ছাড়ে নি। এই ভাবতে ভাবতেই আমার স্কন্ধকাটা মা’র হাত পিঠে অনুভব করলাম। (ক্রমশ)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন