সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৮

বই নিয়ে আলাপ : অগ্নিগর্ভা চট্টগ্রামের গল্প

জয়দীপ দে 

...........................................................................................................................................................................
অগ্নিকোণ : উপন্যাস। আজাদ বুলবুল। প্রকাশক: আমরা ক’জন । পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৮। মূল্য: ৬০০ টাকা 
...........................................................................................................................................................................

আভিধানিক ভাবে দক্ষিণ-পূর্ব কোণকে অগ্নিকোণ বলা হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে চট্টগ্রাম ভারত উপমহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণেই অবস্থিত। তবে শাব্দিক অর্থ ছাড়িয়ে ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতবর্ষের সবচেয়ে অগ্নিগর্ভ ভূমি চট্টগ্রাম। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে পুরো পূর্ববঙ্গ (ঢাকা বাদে) যখন প্রায় নীরব ছিল, তখন চট্টগ্রামের বীর সিপাহীরা ৩০ ঘন্টার জন্য চট্টগ্রামকে স্বাধীন রেখেছিল। ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামের যুবকরা অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে ৩ দিনের জন্য ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করেছিল চট্টগ্রামকে। তাই মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, Chittagong is to the fore.

এই আগ্নেয়ভূখ-ের সবচেয়ে উত্তাল সময়ের ( ১৯২০ থেকে ১৯৩৪ সাল) ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘অগ্নিকোণ’। লেখক আজাদ বুলবুল। লেখক পরিচিতিতে যাকে ‘প্রতœ-সাহিত্যানুসন্ধানের অক্লান্ত পরিব্রাজক’ বলে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। প্রায় সাড়ে ৪ শ পৃষ্ঠার বিশাল এ উপন্যাসে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে চট্টগ্রামের মাটিতে যুব বিদ্রোহের বীজ উপ্ত হয়, তার প্রভাবে কিভাবে তৎকালীন বার্মায় (বর্তমানের মিয়ানমারে) জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বিকশিত হয় এবং সর্বশেষে সূর্যসেনের মৃত্যুর মাধ্যমে এর চূড়ান্ত পরিণতি লাভ। 

উপন্যাসটির শুরু হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ফতেয়াবাদ স্কুলের সবুজ প্রান্তর থেকে। সেখানে দেখতে পাই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করছেন। চট্টগ্রামে তখন যুবকদের মধ্যে দুটো ধারা। উপন্যাসের একটি চরিত্র রহম বলি। তার মুখেই শোনা যাক ধারা দু’টির কথা, ‘ইন্দু পোয়াঅল ডাকাতি গরি অস্ত্র কিনের। এ দেশত্তুন ব্রিটিশরে দুরাইবারলাই ইতারা অস্ত্রর ট্রেনিং দের। কুস্তি লড়ের। ব্যায়াম গরের। বোমা বানার। যুগান্তর অনুশীলন নামে সমিতি গরের। ... হেই পোয়াউন কিন্তু মাইয়াপোয়ার মিক্যা বদনজর ন দেয়। তারার লয় কু কাম গরনের কতা চিন্তাও ন গরে। আর আঁরার মোছলমান পোয়াঅল পইর ঘাডত একলা পাইয়ারে মাইয়াপোয়ারে বদমাইসি গরিবার লাই লেডাই পরে।’ 

প্রথম ধারায় জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত করার সংগ্রামে লিপ্ত। আরেক ধারা ভাগ্যান্বেষে রেঙ্গুনগামী জাহাজে করে বার্মা পাড়ি দিচ্ছে। তারা বার্মায় গিয়ে চাকরি-বাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য করে ছোটখাটো উপনিবেশ গড়ে তুলছে সেখানে। সেখানকার স্থানীয় নারীদের বিয়ে করে নিয়ে আসছে চট্টগ্রামে। এ নিয়ে আবার ফুঁসে উঠছে বার্মার স্থানীয় লোকজন। অং সানের নেতৃত্বে রেঙ্গুন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গড়ে তুলছে স্বাধিকারের আন্দোলন। 

এদিকে চট্টগ্রামে স্বাধীনতার আন্দোলনকে ভণ্ডুল করতে ব্রিটিশরা এক নোংরা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়কে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহকে হিন্দু ডাকাতদের কাজ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। মুসলিম পুলিশ অফিসারকে দেয়া হয়েছে সূর্যসেনকে ধরবার কাজ। বিভিন্ন স্থানে মুসলিমরা বিপ্লবীদের ধরিয়ে দিতে সাহায্য করছে। এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে বিপ্লবীদের হাতে নিহত হয় পুলিশ অফিসার আহসান উল্লাহ। এই মৃত্যুকে ঘিরে চট্টগ্রামে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়। এই দাঙ্গা নিরসনে এগিয়ে আসে চট্টগ্রাম কলেজের মুসলিম ছাত্ররাই। পৌরসভার চেয়ারম্যান নূর আহমদ ঘোষণা দেন, আমি যদি চেয়ারম্যান না হতাম সূর্যসেনের দলে নাম লিখাতাম। এদিকে বার্মার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য বারি চৌধুরীর নেতৃত্বে বার্মায় বাঙালিদের মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী জনমত গড়ে উঠছে। শামসুল আলম, রশিদ সিদ্দিক, সৈয়দ আহমদ- এদের মতো মহাপ্রাণরা ভারত থেকে পালিয়ে আসা বিপ্লবীদের আশ্রয় দিচ্ছেন। অম্বিকা চক্রবর্তীর মতো বিপ্লবী যাচ্ছেন বার্মায় তাদের সাহায্যের প্রত্যাশায়। সূর্যসেন গ্রেফতার হওয়ার পর বারি চৌধুরীর নেতৃত্বে সৈয়দ আহমদ, শামসুল আলম বার্মা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম নিয়ে আসেন মামলার ব্যয় নির্বাহের জন্য। 

উপন্যাসটি একেবারে সাদামাটা গদ্যভাষ্যে লেখা। আঙ্গিকেও তেমন চমক নেই। তবে উপন্যাসের পরতে পরতে যে ডিটেলিং আর তথ্যের প্রাচুর্য তা যে কোন পাঠককে বিমোহিত করে। গ্রন্থসূত্র দেখলেই বোঝা যায় কত অনুধ্যানের পর লেখক এই মহাকাব্যিক রচনাটি সৃষ্টিতে হাত দিয়েছেন। বিশেষ করে লেখকের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার উপর যে দক্ষতা দেখতে পাই তা সত্যি উপভোগ্য। সাথে লেখকের রসবোধেরও প্রশংসা করতে হয়। নিচে একটা ছোট্ট উদাহরণ দেয়ার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। 

সূর্য সেনকে গ্রেপ্তার করে গরুর গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তাকে দেখে খাতুনগঞ্জের কুলি সর্দার সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বলছে- 

‘চোদানির পোয়াঅর কারবারগান দেইক্কো না? ইতারা বিলে চাইর ঘন্টা বন্দুক চালাই ডাহাইত ধইয্যে। এনডইল্যা বাবু অল ধইত্তে যদি আধাবেলা লড়াই গরর পরে- তইলে চোর ধইত্তে ইতারার জনম যাইবো। ডাহাইত ধরিত পারিবো আঁর চনু।’ 

এ উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক যেন আমাদের মনোভূমিতে ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ ঘটিয়েছেন। যুব বিদ্রাহের উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ যেমন: রেলওয়ের অস্ত্রাগার লুট, দামপাড়া পুলিশ লাইনে আক্রমণ, জালালাবাদ, কালারপুল, ধলঘাটের যুদ্ধ- ইতিহাসের বিভিন্ন প্রমাণ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এতো নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন, মাঝে মাঝে ভ্রম হয় লেখক বুঝি নিজে দাঁড়িয়ে এসব দেখেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের গণিকাদের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধে যে একটা উজ্জ্বল ভূমিকা ছিল তা এ উপন্যাসে উঠে এসেছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন সেটাও জানা যায় এ উপন্যাসের মাধ্যমে। তিনি পুলিশের ধৃত এক বিপ্লবীর পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে অর্থ পাঠিয়েছিলেন। তিনি সূর্যসেনকে জাতীয় বীর আখ্যা দিয়ে তার মুক্তি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন ব্রিটিশ সরকারের কাছে। 

মূল ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি কিছু অমূল্য সম্পদের দেখা মেলে এ উপন্যাসে। পুরনো চট্টগ্রামের সমাজ ব্যবস্থা, সামাজিক রীতিনীতির একটা রূপরেখা মেলে এ উপন্যাসে। বিশেষ করে সুরত জামালের জন্য আহুত বিচারসভার বিবরণ বড়োই উপভোগ্য। বিচারের শুরুতে গোলতাজীর বাপের নিবেদনটি অকৃত্রিম আবেগে ভাস্বর। আমরা যেন দেখতে পাই রোগক্লিষ্ট এক দুর্বল মানুষ এসেছে সমাজের কাছে ফরিয়াদ। সকলের মনোযোগ পেতে অন্তর থেকে সবটুকু আবেগ ঢেলে দিচ্ছে। গোলতাজীর বাপ বলছে, ‘ইতার চনুরে কাডিয়েরে কুত্তার খাবন দরকার। বেয়াদপ, বেত্তমিজ। বদমাসি গরনের অউস অইলে গোয়াচি বাগান্ত যা। এডে ন ফাইলে রেয়াজুদ্দিন বাজারত্, নইলে সাআব পাড়াত যা। এত্তর সাহস, হানকির পোয়া বাড়ির বউর মিক্যা নজর দ্যায়! তারে ল্যাংটা গরি পোন্দের ভিৎওে জুম্মা মরিচ গল্লাই দঅন দরকার’। 

আগেই বলেছি এ লেখার মাধ্যমে লেখক যেন ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ করে গেছেন। প্যারেড ময়দানে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সভার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা এতোই চিত্তাকর্ষক, তার কিছু এখানে উপস্থাপনের লোভ সংবরণ করতে পররছি না। 

‘... মঞ্চের বেশ খানিকটা দূরত্বে মোটা বাঁশ বেঁধে বেষ্টনী দেয়া হয়েছে। কিন্তু সে বেষ্টনী মানুষের চাপে কতক্ষণ টিকবে বলা যাচ্ছে না। লোকজন স্বরাজ্য নেতাদের বক্তৃতা শুনতে উন্মুখ। হাইল্যা চাষী, শংখের মাঝি, খান হাটের কামার, মৃদনের হাটের তাঁতী, লালার হাটের কুমার, বকসির হাটের দরজি, স্কুল মাস্টার, টোলের পণ্ডিত, সাহেব পাড়ার গণিকা, আদালত পাড়ার দালাল; কে আসেনি এ সভায়! মানুষের ভিড় সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে খদ্দর পরা স্বেচ্ছাসেবক দল। টিনের চোঙ্গা ফুঁকে মানুষকে চুপ থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে মঞ্চ থেকে।’ 

উল্লেখ্য, এই মঞ্চেই চট্টগ্রাম কলেজের উপাধ্যক্ষ নৃপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিটিশ সরকারের চাকরি ছেড়ে দেন। তাকে অনুসরণ করে কলেজের পিয়ন সারদাও চাকরি ছাড়ার ঘোষণা দেন। এই দুই জনের চাকরি ছাড়ার ঘোষণা সারা ভারতবর্ষকে উদ্বেলিত করেছিল। 

লেখক কোনদিনও বার্মা যান নি। কিন্তু তার কল্পনাশক্তি দিয়ে কি দারুণ ভাবে উপস্থাপন করেছেন বার্মার একটি শহর এনানজাঁও-কে; পড়–ন- ‘ইরাবতীর পাড়ের আলোকোজ্জ্বল নগরে গ্যাস বাতির জোছনাভাসা আলোয় ফূর্তির ফোয়ারা ছোটে। পকেটে সাপ্তাহিক বেতনের টাকা। পরনে পরিষ্কার জামা কাপড়। যুবক, পৌঢ় সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে আনন্দ অন্বেষণে। রাস্তায় ভিড় বাড়ে নারী পুরুষের। বর্মী মেয়েরা নানা মুখরোচক খাবারের পশরা সাজিয়ে অবস্থান নেয় ফুটপাথে। আচার, পিঠা, মাছভাজা, মাংসের কাবাব রান্নায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। দেশি মদের আয়োজন চলে একই সাথে। চাইলেই গ্লাসভর্তি ধেনো মদ পাওয়া যায়। চুমুক চুমুক মদের সাথে ভাজা মাছ, হাঁসের মাংস, শুটকির চচ্চড়ি, ঝাল-মুড়ি অনায়াসে মেলে। রাতভর হাসি-ঠাট্টা, খানা-পিনার আনন্দে সময় কাটে তাদের।’ 

চট্টগ্রামের লোকজন বার্মায় গিয়ে কিভাবে বিয়ে করত। তারপর বর্মি নারীদের বাড়ি নিয়ে এলে কি প্রতিক্রিয়া তৈরি হতো, তা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। দেখিয়েছেন কিভাবে উপস্থিত বুদ্ধির জোরে বর্মি মেয়েরা স্থানীয় নারীদের মন জয় করে নিতেন। এসব অনুষঙ্গ দেখলেই বোঝা যায় লেখক এ রচনাটির জন্য বার্মা ও চট্টগ্রামের মানুষের সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে যথেষ্ট অনুসন্ধান ও পড়াশোনা করেছেন। 

অগ্নিকোণের শেষটা বড়ো মর্মস্পর্শী। সদরঘাটের জেটিতে এসে দাঁড়িয়েছেন বারি চৌধুরী। তার সঙ্গে সাহিত্যিক শামসুল হক ও রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ আহমদ। এরা বহু চেষ্টা করেছিলেন সূর্য সেনের ফাঁসিটা ঠেকাতে। সবচেষ্টা ব্যর্থ। রাতে ফাঁসি হয়ে গেছে সূর্য সেনের। একদল সৈনিক ক্যাপ্টেন হিকসের নেতৃত্বে সূর্য সেনের লাশ নিয়ে ক্রুজারে উঠছে। উদ্দেশ্য লাশটা বঙ্গোপসাগরের বুকে ছুঁড়ে মারা। লেখক বর্ণনা করছেন এভাবে- 

‘তিন জন লোক নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে জেটির রেলিং ধরে। এরা যুব বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কর্মী নয়। সূর্য সেনের সাথে গভীর চেনাজানা এদের নেই। যুব বিদ্রোহে এরা সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখেনি। বিপ্লবী দলের ছোট বড় কোনো অপারেশনে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়নি তাদের। তবু ভালোবাসার নীল পতাকা তলে স্বাধীন থাকা কয়েকটা দিনের কথা ভুলতে পারে না এরা। অগ্নিকালের দামাল যৌবনে একদল বিপ্লবীর অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, ট্রেজারি লুট তাদের অহংকারী গ্রীবাকে উন্নত করে। রেলপথ উপড়ানো, টেলিগ্রাফের লাইন কাটা, থানায় চড়াও হওয়ার সাহসী দৃশ্যাবলি তাদের মানস চক্ষে নতুন আলোর আহ্বান জাগায়। চাটগাঁ শহরের কয়েক বর্গমাইল এলাকায় কয়েকটি দিন স্বরাজ ঘোষণার অহংকারী দহনকাল তাদের চেতনাকে নাড়িয়ে দেয়। অগ্নিকোণে সূর্যোদয়ের সাহসী শপথ বুকে নিয়ে তারা সূর্য সংগ্রামের কথা ভাবে। তারা নিশ্চিত- ফাঁসির মঞ্চে জীবনের জয়গান গেয়ে গেলেন সূর্য সেন। সবার জন্য রেখে গেলেন তার সোনালী স্বপ্ন- ভারতের স্বাধীনতা’। 

তবে উপন্যাসটিতে আরো উৎকর্ষ সাধনের জায়গা আছে। যেহেতু এটি একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস, এর প্রতিটি পর্ব শুরু হওয়ার আগে সময় কাল ও স্থান উল্লেখ করে দিলে পাঠের সঙ্গে ঘটনাপ্রবাহের সংযোগসাধনে সুবিধা হয়। এছাড়া কিছু কিছু জায়গায় ভাষার ব্যবহার কেমন অসঙ্গত লেগেছে। যেমন সুরুত জামাল যখন বিনোদের সাথে প্রমিত ভাষায় কথা বলে, তখন বেশ খটকা লাগে। ৩৬ পৃষ্ঠায় দেশবন্ধুর চট্টগ্রাম আগমনের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তাতেও অসঙ্গতি চোখে পড়ে। লেখকের বর্ণনায়: ‘স্টেশন থেকে ঘোড়ার গাড়ি পাহাড়তলী, দেওয়ানহাট, কদমতলী আলকরণ, ফিরিঙ্গিবাজার, লালদিঘির পাড় হয়ে রহমতগঞ্জ আসে’। এই পথরেখা বাস্তবসম্মত নয়। আলকরণ থেকে বটতলি স্টেশন বেশি হলে পাঁচ শ মিটার। কিন্তু লেখক উল্লিখিত পথরেখা অনুসরণ করলে অন্তত ৫ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। 

সর্বোপরি এমন শ্রমসাধ্য ইতিহাসনির্ভর উপন্যাস লেখার জন্য লেখকে সাধুবাদ জানাতে হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন