রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮

অনামিকাস জার্নাল--চাই-ল্যাটে : অণ্ড ও গড-ফর্মূলা: বাইসাইকেল ও পবিত্র শুক্রকীট

অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় 

ভূমিকাঃ উৎসব- আনন্দের। ধর্মীয় উৎসব কখনও সার্বজনীন নয়। নিজ ধর্মের কিছু মানুষকে এখনও অন্ত্যজ করে রাখা, পরধর্মের, ধর্মহীন মানুষের প্রতি তীব্র অসহিষ্ণুতা.. নদীনালার দূষণ এই উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দেয়। ভালো ক্রেতা না হলে এই উৎসবের ভোক্তা হওয়াও বেশ অসম্ভব। তবুও উৎসব জাগে। আলোর চম্‌কাই, নতুন পরিচ্ছদ, উত্তম ভোজ, মানুষের রুজি-রোজগার, নান্দনিক কিম্বা উৎকট- এ উৎসবে সকলি আনন্দময় হোক।

আনসেফ গর্ভপাত জন্মসক্রান্ত মৃত্যুর অন্যতম বড় পরিসংখ্যান। অ্যান্টি-অ্যাবরশনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী করিতেই এই স্যাটাইয়ার।


অণ্ড ও গড-ফর্মূলা: বাইসাইকেল ও পবিত্র শুক্রকীট


দেশে শরত, এদেশে হেমন্ত। হিন্দু বাঙ্গালীর উৎসবের কাল। নারীর মূর্তি গড়িয়া ফুর্তি করিবার বর্ষ-স্ফূর্তির কার্নিভ্যাল কাল। ব্রাউন ব্যাগ আমার ছেলের সহিত হাগু করিতে গিয়াছে। মল-প্রক্ষালন পূর্বক তাহারা কিছু ফ্লরা সংগ্রহ করিবে। আমার ছেলের ইশকুল-প্রজেক্টে লাগিবে। সেই ফাঁকে আমি ফেইসবুকে কিছু বিলিয়ন রুপীর থীম-শোভার ভার্চুয়াল বীক্ষণ করিতেছি। তাহারা বলিয়া গিয়াছে, ফিরিয়াই কোলকাতা কার্নিভাল লইয়া বাক্যালাপ করিবে। তাই তুরন্ত এইসব ফীড দেখিয়া লইতেছি। নয়ত তাহাদের হ্যাজাইবার চান্স প্রবল। 

ফেবু-ফীড আহরণ পর দেখি বিবি আমার পুত্রের সহিত ক্যালাইত দন্তে প্রবেশ করিতেছে।

সামান্য পর আমার পুত্র অঙ্ক করিতে বসিলে,বিবি তাহার টেবিলে বসিয়া তীব্র হাস্যরোল শুরু করিয়া দিল । 

খিল্লির হেতু জিগাইলে তাহার খিল্লি বাড়িল বই কমিলনা।

যথারীতি ল্যাপটপে মাথা ঢুসাইয়া দেখিতে বাধ্য হই ঃ 

দেখি, সে মে মাসের একটি অ্যান্টি-অ্যাবরশন বিষয়ক আর্টিকেল খুলিয়া বসিয়াছে। তাহাতে একজায়গায় বলিতেছেঃ 'anti-abortion groups decided that masturbation was murder, because of the waste of sperm cells involved। ছবিতে একদল নারীকে দেখা যাইতেছে, যাহারা 'ইজাকুলেশন ইজ মার্ডার' লিখিয়া পথসভা করিতেছেন। প্রো-লাইফ মুভমেন্টের র‍্যাচেল স্ট্র্যাট লিখিতেছেন, 'ভগবান সিমেন সৃষ্টি করিয়াছেন এক উদ্দেশ্য লইয়া, যখন তখন আনন্দ লাভের নিমিত্তে তাহা নষ্ট করা চলেনা। প্রতিবার তুমি ইজাকুলেট কর আসলে তুমি হাজার হাজার শিশু কে হত্যা কর, সো ইজাকুলেশন ইস মার্ডার। '

-লাইফ অ্যাজ অ্যান এগ, তবে মুর্গির আণ্ডাতেও আত্মা, তবে পোপ বিশপদের কেক খাওয়া নিষিদ্ধ করা আবশ্যক। নো কেক, অমলেট, অণ্ড আর চপ-ডেভিল। অবশ্য কথা হইতেছে হিউম্যান রাইটস এর, মুরগী যখন হিউম্যান নহে… 

এই বলিয়া বিবি খ্যাঁক খুক হাস্য করিতে থাকে। 

(উফফফ, ফেবুতে ইহা অন্তত ১৫০০ বার দেখিয়াছি)

আমি বিবির দিকে তাকাই, ও সাইটের হোমপেজ দেখাইয়া কহিঃ কিন্তু ইহা স্পুফ, তাহা লক্ষ্য করিয়াছ কি ? 

বিবি তড়িঘড়ি স্ক্রিনে আঁচড় দিয়া পরখ করিয়া কহে, 

-জব্বর পাকড়াইয়াছ তো 

-আজ্ঞে, ইহারা পলিটিক্যাল স্যাটাইয়ার ছাপিয়া থাকে, 

(হুম, এইসব পড়িবে আর কফি ধ্বংস করিয়া আমার ডেটা প্ল্যান শেষ করিবে )

-স্যাটাইয়ার হইলেও, এই অ্যান্টি-অ্যাবরশন যে একটি শিশ্ন-বুদ্ধি আহাম্মক একথা তো … পোল্যান্ড এ তো দেখিলে, গত সপ্তাহে হাজারেরও বেশী মানুষ র‍্যালী করিয়া পোল্যান্ড অচল করিয়া দিয়াছে। প্রো-অ্যাবরশন আইনের দাবিতে। 

(জগতের সবকিছু গুগল অপেক্ষা ইহার মস্তিষ্কেই বেশী স্টোরড থাকে )

-হ্যাঁ ,অ্যান্টি-অ্যাবরশনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী করিতেই এই স্যাটাইয়ার। শুধু পোল্যান্ড কেন ? সারা পৃথিবীতেই। আয়ারল্যান্ডে Protection of Life During Pregnancy Act বলবত রহিয়াছে। সেখানকার চার্চ প্রভাবশালী। সরকারী আইন নিয়ন্ত্রণে তাহাদের জোর ভূমিকা। তাহার জেরে এমনকি ১০ বছরের মেয়ের ৩০ বছর জেল হইয়াছে। আয়ারল্যান্ডে মেয়েদেরকে তাহাদের রেপিস্ট-জাত ভ্রূণকে রাখিতে জবরদস্তি বাধ্য করা হয়। কোনও সংকট দেখা দিলে দেশের বাইরে যাইয়া অ্যাবরশন করাইতে হয়। একবার সবিতা হালাপ্পানাভার নামের এক রিফিউজি নারী কঠিন সংক্রমণে অসুস্থ হইয়া পড়েন ও অ্যাবরশনের অধিকার চাহেন, কারণ তাহার ক্ষেত্রে দেশের বাইরে যাওয়া আইনত সম্ভব নহে। নানান টালবাহানার পর শেষ পর্যন্ত তিনি সেপ্টিসেমিয়ায় মৃত হন। লাতিন আমেরিকায়- ব্রেজিল, চিলে, নিকারাগুয়া, এল সাল্ভাদোরে অ্যাবরশন বেআইনি। 

ধর্মের তরে যদি, ধর্মী নাহি কাঁদে 
চুতিয়া বলিয়া তারে ডাকিও ভীমনাদে 
-তোমাদের হিন্দুদিগের ও তাই লব্জ নিশ্চয় ? 

-হিন্দুদের মত হইল, অ্যাবরশন খুবই গুরুতর একপ্রকার পাপ। ইহাতে কঠিন কর্মা হইয়া থাকে। গর্ভে থাকা শিশু আসলে আত্মা। যেই মুহূর্ত থেকে গর্ভ সঞ্চার হয় সেই মুহূর্ত হইতেই তাহাতে আত্মা-কাম-প্রাণের শুরু ঃ 

শ্রী ভগবান উবাচ --

কর্মানা দৈব-নেত্রেন 
জন্তুঃ দেহপাপত্তয়ে 
স্ত্রীয়া প্রবিষ্ট উদারাম 
পুমসো রেত- কনাস্রাযা 

অর্থাৎ ভগবানের ডিরেক্ট সারভেইল্যান্সে সেই আত্মা গর্ভে প্রবেশ ক্রিয়া থাকেন ( শ্রীমদ ভাগবত পুরাণ)। 

গরুড় পুরাণ এর নিদান হইতেছে ঃ স্বেচ্ছায় অ্যাবরশন এবং স্বামীর প্রতি ঘৃণা নারীদের তরফে অত্যন্ত হীন টাইপ কাজ। 

আবার পদ্ম পুরাণ অনুযায়ী--
পূর্ব জন্মানি ইয়া নারী পরা বালক ঘাতনাম 
করোতি কপাটে নৈব বাল-হীনা ভবেদ ধ্রুবাম 

অর্থাৎ, কোন নারী যিনি বিগত জন্মে ভ্রূণ-হত্যা করিয়াছেন, তিনি নিশ্চয়ই পরবর্তী জন্মে বন্ধ্যা হইবেন ( পদ্ম পুরাণ, ব্রহ্মা কাণ্ড )। 

গীতায় গর্ভপাতকে সরাসরি 'ধর্মবিরুদ্ধ' বলা হইয়াছে। গীতা অনুযায়ী সেক্স কেবলমাত্র প্রজননের কারনে করা উচিত। আনন্দ লাভের উদ্দ্যেশ্যে কদাপি নহে। ইল্লিসিট সেক্স আর নেভার এক্সকিউড - গীতায় কনফার্ম করা রহিয়াছে। 

-কিন্তু তোমাদের শ্রীকৃষ্ণ শুনিয়াছি তো অনেক অনেক মেয়েদের সহিত ইয়ে-টিয়ে সেইসব শৃঙ্গার, রতি-ক্রিয়া এইসব করিতেন টরিতেন, তা তিনি আবার… ফ্রাষ্ট্রু কেস নয়ত পুরো, যাকগে যাকগে, তোমাদিগের ফেমাস মনু, তাহারটি একবার ঝাড়িয়া দাও

(বাঁচিলুম ! সেই ওভার ইনফ্লেটেড, স্টেল কৃষ্ণ-বিলা ক্লিশে হইতে মনু আপাতত অনেক ইন্টারেস্টিং, আমি গুজ গুজ করি) 

-মনুর কোড অনুযায়ী পাঁচটি পাতক অর্থাৎ পাপ ঃ 
-ব্রহ্ম হত্যা, গর্ভ হত্যা, সুরা পান, স্বর্ণ চুরি, গুরু-তল্প-গমন 
-বাকী গুলি বুঝিলাম, শেষ ক্যাটিগরি ছাড়া 
-মানে গুরুর বউ এর সহিত যৌন কর্ম করা 
-উফফ, মহাপাতক তো হইবেই। গুরুর এইরূপ ঝাঁট আর ইহার অধিক কিরূপে জ্বলিবে ? ( বিবি পুচ্ছ নাচাইতে থাকে ) 
-মডার্ন নিদান ও আছে। গান্ধী দিয়াছেন - 

"It seems to me clear as daylight that abortion would be a crime."

-ফাকিং ক্রডিবল, গান্ধী যখন। হইসে, প্যাকেজ কমপ্লিট। 

-আসলে কি জানিস বিবি, বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান এইসব ধর্ম গুরুদের প্রভাবে চাপা পড়িয়া থাকে চিরকাল, যেমন শল্য চিকিৎসক সুশ্রুত অনেক আগেই এর ঘাপলা গেস করিয়া ইহা কিছুটা হইলে শিথিল করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন,

অন্তত এই দুই ক্ষেত্রে- 
১। যখন গর্ভস্থ শিশু শারীরিক ত্রুটি লইয়া জন্মাইবার সম্ভাবনা
২। আর যখন মায়ের পক্ষে কোনভাবেই স্বাভাবিক জন্ম দেওয়ার পরস্থিতি অনুপস্থিত 
-এই সব গেরো টপকাইয়া তোমরা কিন্তু ভালোই সংস্কার করিয়াছ, এদেশের তুলনায় 

-ভারতে ১৯৭১ এ গর্ভপাত আইন চালু হয়। The Medical Termination of Pregnancy Act। ১৯৭১ এ বিশ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত আইনত চালু হয়। কিছুদিন পূর্বে সুপ্রিম কোর্ট তাহা ২৪ সপ্তাহ করিয়াছে। কিন্তু তাহা লইয়া কোনরূপ সচেতনতা তৈয়ারি করা হয় নাই, সরকার হইতে। ফলে এখনো অনেক মেয়ে জানেননা যে গর্ভপাত ভারতে আইনসম্মত। প্রচুর হাতুড়ে ডাক্তার দের হাতে তাই মেয়েদের প্রাণসংশয় হয়। কিন্তু তাহাদের হঠাইবার জন্যেও তেমন শক্ত নিয়ম নাই। সুতরাং আইন থাকিলেও, ট্যাবুও যেহেতু বর্তমান তাই আনসেফ গর্ভপাতও বর্তমান। মেয়েরা লজ্জায় প্রকাশ্যে গর্ভপাত করাইতে এমনকি ইহা লইয়া বাতচিৎ করিতে আশঙ্কিত হইয়া থাকে। 

-কি হুডিনিবাজি মাইরি ...
-তাই প্রাইভেট প্র্যাকটিসের রমরমা। আনসেফ গর্ভপাত জন্মসক্রান্ত মৃত্যুর অন্যতম বড় পরিসংখ্যান।
-হুম, তবে এদেশে তো আমি একবার দেখিয়াছিলাম, অ্যান্টি -অ্যাবরশনিস্টরা কিসব মহা-গোল পাকাইতেন। 

এই দেশে, ডাক্তারদের নাকি প্রচুর ক্যাল-ট্যাল খাইতে হইয়াছিল ? 
-ইয়েপ, মাত্র কুড়ি-বাইশ বৎসর পূর্বে 
-কি কহো ? ! 
--আজ্ঞে। তাও ব্রুকলিন ও বোস্টন এর মত জায়গায় 

-মানে ভয় দেখাইত ?
-দু'শর অধিক ক্লিনিকে বোমা মারা হইয়াছিল, ডাক্তারদের বাড়িতে তাণ্ডব করা হইয়াছিল ও তাহাদের নামে ওয়ান্টেড পোস্টার সাঁটানো হইয়াছিল। ৯২ এর পর অবস্থা আরও খারাপ হইল। দুইজন ডাক্তার খুন হইলেন। ডাক্তাররা বুলেট প্রুফ ভেস্ট পড়িয়া ঘুরিতে লাগিলেন। 

-কিন্তু গর্ভপাতের ক্যাচালটা কিরূপে ট্যাবু হইল ? 

-গর্ভপাত অনেক কারণে অপরাধ ও পাপ বলিয়া মান্যতা পায় আঠের শতকের আমেরিকায়। বাইবেলে রহিয়াছেঃ "Be fruitful and multiply" (জেনেসিস ঃ ১:২৮) 

তাছাড়া সে সময় অ্যাবরশনের পদ্ধতিও ছিল ক্রুড। ফলে মরটালিটী রেট অনেক বেশী ছিল। অথচ অন্য শারীরিক সমস্যায় কিন্তু চিকিৎসার ব্যবস্থা খারাপ ছিলনা। 

-মানে খারাপ পরিষেবা দিয়া ভয় দেখানো 
- কারেক্ট। 'মানসিক দাবাও' নির্মাণ। তাহা ছাড়াও আছিল মৃত্যুহার। আঠের'শ নাগাদ আমেরিকায় শাদাদের সংখ্যা বেশ কমিয়া গিয়াছিল। তাই মেয়েদের উপর দায় চাপিল আরও বাচ্চা করিবার। ফলে অ্যাবরশন ব্যান করা হইল। ইহা ছাড়া কেকের মাথায় চেরির মত গড-ফর্মুলা তো আছিলই। গড গর্ভপাতের বিরোধী। আরও আছিল। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপিটালিজম সবে কুঁড়ি ছাড়িয়া বাহির হইতেছে। লো-পেইড, বকলমে বিনা পারিশ্রমিকের পোটেনশিয়াল কর্মী হিসেবে ভাবিতে পারা যাইল মেয়েদের। গৃহকর্ম, বাচ্চা করা, পরের প্রজন্মের গৃহকর্মের জন্যে মেয়ে বাচ্চাদের তৈরি করা। এসব মেয়েরা খুব ভালো মতই সামলাইয়া লইতে থাকিলেন। অ্যাবরশন লিগ্যাল না হওয়ায় এই রোল হইতে বেরোনোর খুব একটা সুবিধে হইলনা। 

আর সর্বত্রই পাদ্রীদের তৈরি গড-ফর্মুলা তো কাজ করিতেছেই। 

বুকাওস্কি কে একবার জীবনের মানে সম্পর্কে প্রশ্ন করায় তিনি তাহার স্বভাব সুলভ কাষ্ঠ-দন্ত প্রদর্শন পূর্বক কহিয়াছিলেনঃ We are here to unlearn the teachings of the church, state and our educational system.

ব্রাউন ব্যাগ দু'পায়ে দাঁড়াইয়া হাস্য করে। তাহার ক্যনাইন দন্তে হেমন্তের রোদ আসিয়া লাগিয়াছে। 

-একসময় কিন্তু এমন খ্রিস্টানরাও আছিলেন, যাহারা আবার সিমেন সেবন করিতেন বলিয়া জানা যায় 
-বল কি ?? 

বিবি জিহ্বা ঝুলাইয়া কহে। 

-প্রি-ক্যাথলিক পর্বে, কিছুটা পেগ্যান আধারিত ইহারা Gnostic Christians বলিয়া পরিচিত আছিলেন। ইতিহাসের যীশু ইহা এন্ডোর্স করিতেন বলিয়া যদিও জানিতে পারা পুরাপুরি মুমকিন নহে, তবে অনেকে ইহার সহিত যীশুর লাস্ট সাপারের রিচুয়ালের সম্পর্ক খুঁজিয়া পাইয়া থাকেন। মানে সিমেন পানের সহিত যীশুর ব্লাড ও বডি রিচুয়ালের ইটারনাল আখ্যানের মিল রহিয়াছে বলিয়া তাহাদের দাবী। 

লাগ-ভাগ, গড-ফর্মুলার হ্যাল অনুযায়ী সবকিছু খাড়াইয়া রহিয়াছে, কখন গর্ভে প্রাণ সঞ্চার হয় এই তত্বের উপর 

-কখন হয় বলিয়া গড বলিতেছেন ? 
-নানা রূপ । কাহারো মতে অ্যাট দ্য মোমেন্ট অফ কন্সেপ্সন, কাহারো মতে গর্ভাধানের ২২ সপ্তাহের মাথায়... 
-ক্যালানে গপ-সপ যত । জীবন আসলে শুরু হয় ১৮ বছরে।। 
-কিরূপে ?
-লাইফ বিগিন্স উইথ ড্রাইভিং লাইসেন্স
-হম, রাস্তায় থাকা শিশুরা, মানে যাহারা আনওয়ান্টেড, তাহাদের লাইফ শুরু হইয়া যায় জন্মিবার পর পর।
- উফ, ইউ প্যাথেটিক সাউথ এশিয়ান। ইয়ে, যাকগে... এই দ্যাখো আমি ইটালো ক্যালভিনো তে কি পড়িতেছিলাম -

'Bringing a child into the world makes sense only if this child is wanted consciously and freely by its two parents. If it is not, then it is simply animal and criminal behavior. A human being becomes human not through the casual convergence of certain biological conditions, but through an act of will and love on the part of other people. If this is not the case, then humanity becomes — as it is already to a large extent — no more than a rabbit-warren.'

-হুম … প্রো-চয়েস আর প্রো-লাইফ এই নিয়ে যাবতীয় রাজনীতির ক্যাচাল
-মোটের উপর ঘোঁট পাকাইতেছে তবে পারসোনাল, মেডিক্যাল ও ইমোশানাল 

বিবির তারিফ না করিয়া পারিনা। নিখাদ সিনপসিস। 

-হ্যাঁ, আর তাহাদের দোসর হইল গিয়ে কিছু টক্সিক মিথ। 
-কিরূপ ?
-পরপর সাজানোই যায়। যেমন- এক নম্বর মিথঃ গর্ভপাত হইল বেবি-হত্যা 


দুই নম্বর মিথঃ গর্ভপাত করা হইয়া থাকে, বার্থ কনট্রোলের নিমিত্তে 


-কি আশ্চর্য, গর্ভপাত কন্ট্রাসেপ্সন নাকি ? রাবারের বা অন্য খরচ তো এরচে অনেক কম, ও ইহাদের তো আবার কন্ট্রাসেপ্সন না-পসন্দ, প্রিভেনশন ও নাই, কিওর ভি নাহি 
-এবং দৈহিক কষ্ট 
-ঢপ এতো সস্তা কেন, কৌন জানে। তাহার পর ? 
-তিন নম্বরঃ সেলফিশ ও 'স্লাট' নারীরা এইরূপ করিয়া থাকেন
আর চার নম্বরে ট্র্যান্সজেন্ডার প্রেগ্ন্যান্সি। এর দ্বিগুণ স্টিগমার মোকাবিলা করিতে হয় ট্র্যান্সজেন্ডারদের 
-প্রো-লাইফ রাও ইল্লিগ্যাল ঘোষণা করিবার জন্যে হেব্বি হ্যাপা পুইয়ে থাকেন 
-কারণ সহজ, গর্ভপাত কে ইললিগ্যাল ঘোষণা দিলে, তাহা বন্ধ হইয়া যাইবে। এবং অবশ্যই, যাবতীয় অ্যান্টি অ্যাবরশন বিল যেমন, Personhood Act ইত্যাদির পশ্চাতে মাল্টি মিলিওন ডলারের ননপ্রফিটরা কাজ করেন। 

কিন্ত এই ব্যান বা ট্যাবুর কারণে সমস্যা আসিয়া দাঁড়াইয়াছেঃ লিগ্যাল অধিকার না থাকায় তাহারা আনসেফ গর্ভপাতের দিকে ঝুঁকিতেছেন। সেটিই সব হইতে মারাত্মক। 

আর মারাত্মক হইল, প্রো-লাইফ দের চাপে পড়িয়া গর্ভপাত না করিতে পারা শত শত জন্মদান কারী / কারিণী , যাহারা শিশুর ভরন-পোষণে অক্ষম। এদের মধ্যে রেপ ভিক্টীম আছেন, যাহারা এই শিশুদের জন্ম দিতে বাধ্য হইয়া থাকেন। 

রাতের খাবারের সময় হইয়া গিয়াছে, আলোচনা মুলতুবি রাখিয়া আমরা কিচেনে ধাবিত হই। 

******** 

বিবি উৎসাহী হওয়ায়, খাওয়া-দাওয়ার পর্ব সারিয়া তাহাকে আমার তোলা ডেনমার্কের কিছু ছবি দেখাইয়াছিলাম। স্পার্ম-ব্যাঙ্ক, বাইসাইকেল ইত্যাদির। ইয়োরোপের সবচে বড় স্পার্ম-ব্যাঙ্ক খোঁজ করিতেছিল কিভাবে পরিবেশ-সম্মত ভাবে স্পারম ট্রান্সপোর্ট করিতে পারা যায়। স্পার্ম-ব্যাঙ্ক হইতে ফারটিলিটি ক্লিনিকে। এই ভাবিতে ভাবিতে তাহারা এক সাইকেল বানাইয়া ফেলিলেন, কুলিং-সিস্টেম সহ। যাহার আকৃতি একটি শুক্র-কীটের ন্যায়। আমি ২০১৩'তে ডেনমার্কে সেই বাইক দেখিয়াছি । রাস্তায় ইতিউতি শুধাইতে তাহারা জানাইয়াছিল যে কোম্পানির সি ই ও খোদ এই সাইকেল চড়িয়া যাতায়াত করিয়া থাকেন। 

******** 

হেমন্তের সকাল। পাশের স্টেটে সাইক্লোনের আগমন হেতু ঘন মেঘ সরাইয়া সূর্য উঠিতে পারে নাই। আমার ছেলে ইশকুলে চলিয়া গিয়াছে। ব্রাউন ব্যাগকে ইউনিভারসিটিতে নামাইয়া আমিও কাজে আসিয়াছি। কিন্তু এই রোদ-হীন, কুয়াশা-দিনে ইচ্ছা হইল, ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম করি। সেইমত বাড়ী চলিয়া আসিয়াছি। 

কফি হস্তে বিবির টেবিলের নিকট গিয়া দেখি, ব্রাউন ব্যাগ একটি কার্টুন-স্ট্রিপ অঙ্কন করিয়াছে- একটি শুক্রকীটাকৃতির বাইসাইকেল। পোপ স্বয়ং সেই বাইকে চড়িয়া আসিতেছেন। তাহার এক হস্তে প্রো-লাইফ বালু-ঘড়ি, অপর হস্তে খেলনা মেশিনগান। খুব হাল্লা মেচেছে। হই হই করিয়া শিশুদের এক সুসজ্জিত খোঁয়াড়ে ঢুকাইতেছেন। যাহাদের কেহ আশ্রয় দিবে না, যাহারা পরিত্যক্ত ও মা-বাপ-আশ্রয়হারা। আমি শুনিতে পাই- সেই ছবি হইতে ডম্‌ ডম্‌ বাদ্যের আওয়াজ আমার কানে আসিতেছে। 

সরাসরি মনে মনে পড়িয়া গেলো। করিতে চাহি নাই। যেহেতু, অভিযোজন মতে আমাদের বিস্মৃতি বাটন নাই। 

'সিবি এস ৬০ মিনিট' অনুষ্ঠানে দেখিয়াছিলাম। ব্রাজিলের রিও শহরে শিশুদের, যাহাদের আমরা পথ-শিশু নামে ডাকিয়া থাকি, তাহাদের ডেথ-স্কোয়াডে লইয়া যাওয়া হইতেছে। এই শতশত শিশুরা সেই সব পরিবারের সন্তান, যাহারা ফ্যামিলি প্ল্যানিং এ বিশ্বাস করেন নাই ও চার্চের চোখ রাঙ্গানি অস্বীকার করিয়া এক হপ্তা, দু'হপ্তা কি বাইশ হপ্তার অপরিণত ভ্রূণ টিকে হত্যা করিতে পারেন নাই। তাহাদের অপারগতাকে কমপ্লিমেন্ট করিতে ইহাদের রাষ্ট্রযন্ত্র তাহার চার্চ-মেধার তাম্বূল মুখে পুরিয়া এই সহজ সাইফন-সমাধান খুঁজিয়া পাইয়াছে। ইহারা রাস্তায় থাকিয়া হুলিগানি করিয়া থাকে বলিয়া রাষ্ট্র ইহাদের খতম করিয়া থাকেন। এ পদ্ধতির নাম- সোশ্যাল ক্লিনিং। পৃথিবীর আদিম সরলতম সমাধান। 

ফল এর পড়ন্ত বৈকাল। বাহিরে গাছে গাছে, দিকে দিকে, আগুণ লাগিয়া রহিয়াছে। আগুণ- লাল- মরচা-হলুদের । জানালার খড়খড়ি হইতে তাহাকে রায়ট-প্রায় ভ্রম হয়। জানালার পাশে গোলাকৃতি কাছের বয়ামে, আমার ছেলের পোষা একটি গোল্ডফিশ চক্রাকার ঘুরিতেছে। তাহার লেজে অনুরূপ আগুণ রং । যেন ফলিয়েজের সহিত অ্যানালোগাস। Plymouth University এক রিপোর্টে লিখিয়াছিলেন, গোল্ড ফিশের স্মৃতি মাত্র পাঁচ মাহিনার। জীবনের স্মৃতি লইয়া তাহারা কি করিবেন, কি করিতে হয়, তাহার সমাধান অভিযোজন মতে তাহারা কবেই করিয়া ফেলিয়াছেন। 









লেখক গুরুচণ্ডালীতে লেখেন। ব্রাউন ব্যাগ একটি সারমেয়। তিনি কথা কহিতে সক্ষম। 






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন