রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮

সুমী সিকানদারের সাক্ষাৎকার : আমি মনে করি গল্প হবে ওপেন এন্ডিং । সেখানে কোন যবনিকা নির্ধারণ করা ঠিক কিনা এটাও ভাবি।

গল্পপাঠ--
গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন? 

সুমী সিকানদার
লেখা জেনে বুঝে শুরু করা হয়ে ওঠেনি। বই পড়ার বাতিক ছিল। আপনা থেকেই লেখা ধরা দিতে শুরু করেছে যখন বুঝেছি, তখন তাকে তুমুল আঁকড়ে ধরেছি। নিজেকে, কোন ঘটনাকে বা কোন জায়গাকে অথবা চেনা অচেনা মানুষকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে চাইলে গল্প / গদ্য ছাড়া গতি নেই। আমি মূলত কবিতা লেখা দিয়ে শুরু করলেও গল্পে সহজ বোধ করছি। গল্পের মাধ্যমে পাঠককে অনায়াসে দেখানো যায় আমি যা দেখতে চাই, যা দেখাতে চাই। কথা সাহিত্যে স্পেস থাকে বিশাল। কবিতায় অনেক রুপক ধোয়াঁশা থাকে। গল্প খালি চোখে বা অন্তর চোখে পরিস্কার দেখতে পাওয়া জানালা। 


গল্পপাঠ --
শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল? 
সুমী সিকানদার
শুরুর গল্পগুলোতে কবিতার প্রভাব কাটিয়ে উঠেছি, চেষ্টা করেছি। যেহেতু কবিতা দিয়েই শুরু তাই মাধ্যম বদল করতে প্রথম দিকে কিছু বেগ পেতে হয়েছে। তবে তা কেটে গেছে নির্বিঘ্নে। গল্পের মধ্য দিয়ে নিরলস কথা বলাকে আমি উপভোগ করি। এক চরিত্র থেকে অনেক চরিত্রে ঢুকে ভিন্নভিন্ন স্বভাবের মানুষের সাথে পরিচিত হতে হতে পাঠকেও তাদের সাথে পরিচিত করা যায়। একটা জীবন বা জীবন বোধকে ওলোট পালোট করা যায় গল্পের অলিগলিতে। 


গল্পপাঠ 
গল্প লেখার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছেন? নিলে সেগুলো কেমন? 

সুমী সিকানদার
প্রস্তুতি শব্দটাই সতর্ক করে দেয়। লেখার সরঞ্জাম বলতে গেলে আমাকে বলতে হবে ছোটবেলা থেকে প্রচুর বই পড়া। বুঝে না বুঝে প্রচুর বই পড়েছি। রংচঙ্গে ছবিওয়ালা বই। রাশান উপকথা। উপেন্দ্রকিশোররায় চৌধুরী। লেবুমামার সপ্তকান্ড , কত কত নাম। বই ছাড়া সময় বলতে শুধু ঘুমানোর সময় কাটিয়েছি। মানুষের জীবন যাপন, কথা বলা, বন্ধুত্ব, দেশ বিদেশ ঘোরাফেরা ট্রেন, বাস, প্লেন জার্নি এই সব কিছুই আসলে লেখার প্রস্তুতি পর্ব। ছোটবেলার বেড়ে ওঠা ঘর উঠোন , টিনের চাল , কুমড়োবড়ি, বস্তি, ফুলটোক্কা, বন্ধুদের সাথে কাটানো দুরন্ত সময় স অ ব লিখতে লিখতে সব লিখে ফেলি। লেখাতে এসবের প্রভাব থেকে যায়। অন্যের কাছ থেকে সেই কবেকার শোনা ঘটনাও এত কাল পরে দেখি মনে আছে। সেটাও কিভাবে যেন লেখায় চলে এসেছে । ভাবনারা হেঁটে হেঁটে লেখায়।অনেক সময় অনেক আয়োজনেও লেখা আসে না আবার হঠাৎ করে হাটের মধ্যেও লেখা শুরু হয়ে যায় । 


গল্পপাঠ --
 আপনার গল্পলেখার কৌশল বা ক্রাফট কি? 

সুমী সিকানদার
আমার লেখার কৌশল আসলে সোজা করে কথা বলা, সরল ভাবে বলা। যা মুখে বলি সেই ভঙ্গিতেই লিখি, খুব ঘোরালো কো্ন দৃশ্য আঁকতে গেলেও পারি না, যা সহজ চোখে দেখা যায় না। আমি নিজে যখন পাঠক তখনও এধরনের সহজ করে বলা কথার সংলাপেরই আকৃষ্ট হই বেশি। অন্যর লেখার বিভিন্ন টেকনিক, ভাষা ভঙ্গিমা, ডাক, ভালো লাগে কিন্তু নিজের লেখাটা সম্পূর্ণ নিজের মতো করেই লেখার চেষ্টা করি। 


গল্পপাঠ--
গল্পটির বীজ কিভাবে পান? 

সুমী সিকানদার
আচমকা কোন ছবি থেকে হঠাৎ হয়তো পু্রো গল্পের খসড়া মাথায় চলে আসে, কোনও গান শুনতে শুনতে আসে, কিম্বা পড়তে গিয়েও। অনেকটা অপরিকল্পিত ভাবেই। কখনো কোন পুরানো ঘটনা বা কারো কাছ থেকে শোনা কোন বিষয়ও মাথায় লেখার অনুরণন তোলে। আবার বিষয় নির্বাচন করে যেসব লেখা লিখতে হয় তা ভাবনা চিন্তা করে নিয়ে লেখা হয় অনেকটা সময় নিয়ে। ফরমায়েসি লেখা এভাবেই লেখা হয়। দু’রকমেই দেখেছি মনোযোগ দেয়াটাই একটা সাধারণ গল্পের ভালো গল্প হয়ে ওঠার পূর্ব শর্ত। 


গল্পপাঠ--
গল্পের বীজটির বিস্তার কিভাবে ঘটান? শুরুতে কি থিম বা বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবেন? না, কাহিনীকাঠামো বা প্লট নিয়ে ভাবেন? 

সুমী সিকানদার
বিষয় বিস্তার অনেকটাই লেখার তাড়নার উপর নির্ভর করে। ফলে দেখা যায় কোন কোন লেখা একটানা বসেই লেখা হয়ে গেছে, আবার কোনো কোনো লেখাকে আয়ত্তে আনতে অনেকটা সময় দিতে হয় ভাবতে হয়। 

থিম নিয়ে ভেবে লিখি আবার কখনও থিমই আমাকে দিয়ে লেখায়। একবার এক মা মেয়ের গল্প লিখেছিলাম, যেখানে মেয়েটা মায়ের গায়ে গরম পানি ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যায় এবং মা এক পর্যায়ে যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সবাইকে বলে দেয় কে তার শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে পালিয়ে গেছে। এখানে বিষয়টা এতটাই স্পর্শকাতর যে তাকে সন্ধান করতে হয় না। বিষয় নিজেই লেখককে ঘটনা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে সন্ধান করে নিয়েছে। 


গল্পপাঠ--
গল্পটির চরিত্রগুলো কিভাবে আনেন? শুরুতে কতটি চরিত্র আসে? তারা কি শেষ পর্যন্ত থাকে? আপনি কি বিশেষ কোনো চরিত্রকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে লেখেন? তাদের মধ্যে কি আপনার নিজের চেনা জানা কোনো চরিত্র এসেছে? অথবা নিজে কি কোনো চরিত্রের মধ্যে চলে আসেন? 

সুমী সিকানদার
আমার লেখায় গল্পের চরিত্র পরিমিত। খুব বেশী চরিত্র বা সংলাপের আনাগোনা নেই। মাঝে মাঝে কেন্দ্রীয় চরিত্রকে গুরত্ব দিয়ে লেখা এসেছে। তাকে ঘিরেই আবার রচিত হয়েছে শাখা প্রশাখা ও বিস্তার। আমি নিজে যতটুকু না থেকেছি তার চাইতে অনেক বেশী থেকেছে আমার শোনা বা দেখা চরিত্র। নানা রঙের নানা বয়সের মানুষেরা যারা আমার জীবনের সাথে অল্প বিস্তর জড়িয়ে ছিল বা পরিচয় নেই শুধু চোখে দেখেছি, এরকম অনেক মানুষের বলা চলা টুকরো ঘটনা চরিত্র হয়ে এসেছে। পরাবাস্তবতা কম এসেছে আমার লেখায়। 


গল্পপাঠ--
এই গল্পগুলোর দ্বন্দ্ব-সংঘাত কিভাবে নির্মাণ করেন? 

সুমী সিকানদার
গল্পের দ্বন্দ্ব সঙ্ঘাত কাহিনীর প্রয়োজনে কখনো সৃষ্টি করতে হয়। বার বার পড়ে দেখতে হয় পাঠক হিসেবে সেটা কতটুকু আবেদন রাখতে পারছে বা বাস্তব সম্মত হচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে অনায়াসে কিছু দ্বন্দ্ব সংঘাত নির্মাণ হয়ে যায়। অনেকটা নিজস্ব গতিতেই। 


গল্পপাঠ--
গল্পের পরিণতিটা নিয়ে কি আগেই ভেবে রাখেন? 

সুমী সিকানদার
অধিকাংশ সময়ে পরিণতির দিকেই এগিয়ে যায় গল্প তার নিজস্ব ঢঙে অর্থাৎ পরিণতি নিয়ে নিজের একটা মানসিক গোপন প্রস্তুতি থাকে। সেটা উচিৎ না হয়তো। আবার কখনো লেখার শুরুতে ওরকম কোন গোছানো ভাবনা থাকে না। লিখতে লিখতে কোথায় যে চলে যায় ঘটনা প্রবাহ, যেন আমি লিখছি না। কেউ আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছে। 

আমি মনে করি গল্প হবে ওপেন এন্ডিং । সেখানে কোন যবনিকা নির্ধারণ করা ঠিক কিনা এটাও ভাবি। 


গল্পপাঠ--
একটি গল্প কদিন ধরে লেখেন? এর ভাষা ভঙ্গিতে কি ধরনের শৈলী ব্যবহার করেন? 

সুমী সিকানদার
নির্দিষ্ট কোন ধরা বাঁধা সময় থাকে না লেখার সময়। কখনো কিছু নোট নিয়ে রাখি খসড়া আকারে,ভাবি যে পরে লিখব আবার হয়তো কোন ফরমায়েসি লেখার ডেট লাইন ধরে লিখতে হয় যেন নির্দিষ্ট তারিখে জমা দিতে পারি। 
উপন্যাস এখনো লিখিনি। লিখলে বুঝতে পারব কেমন সময় লাগে। তবে লেখার প্রস্তুতিপর্বটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। 
শৈলী বা বর্ণন নিয়ে একটা নেপথ্য ভাবনা মাথায় থাকেই। চেষ্টা করি সহজ, মানুষের জন্য বোধগম্য ভাষায় লিখতে। 


গল্পপাঠ --
রাইটার্স ব্লকে পড়েন কখনো? পড়লে কিভাবে সেটা কাটিয়ে ওঠেন? 

সুমী সিকানদার
লেখক মাত্রই রাইটার্স ব্লকের স্বীকার হন। এই বন্ধ্যাত্ব কারো সাময়িক কারো দিনের পর দিন থেকে যায়। আমি দেখেছি কেউ কেউ ২০ বছরের বিরতি নিয়ে ফের লিখছেন। এটা লেখকের মন মানসিকতা, আস্থা , পরিবেশ , চাওয়া পাওয়া এসবের উপর নির্ভর করে। জীবন জীবিকার তাড়না অনেক লেখককেই তার প্রাপ্য লেখাটি লিখবার ফুরসত দেয় না। শুধু লেখাকে পেশা হিসেবে নেয়ার সময় এখনো বাংলাদেশে আসেনি। 

আমি নিজেও বেশ কিছু দিন কিছুই লিখতে পারছিলাম না। অনেক সময় লিখতে না ইচ্ছে করলে বা লেখা না এলে আমি পড়া বাড়িয়ে দেই। কিছুদিন আগেও আমার লেখা পড়া দুটো থেকেই মন উঠে গেছিল। না লিখতে ইচ্ছে হয়, না পড়তে। এই প্রবণতা অনেক সময় লেখকের জন্য আত্ম ধবংসী হয়। আমি জোর করেই পড়তে থাকি। ইচ্ছে অনিচ্ছাকে মুলতবি রাখা লেখকেরই আয়ত্তে থাকা উচিত। 
অনুবাদও নাকি ব্লক কাটাতে সাহায্য করে। 


গল্পপাঠ--
গল্পটিতে কি কিছু বলতে চান? 

সুমী সিকানদার
গল্পকে গল্পই রাখতে চাই। উপদেশ দিতে চাই না গল্প শেষে। সবাই সহজে শিখতে চান না শেখাতে চান। পাঠক চায় আত্মার খোরাক । কোন কোন গল্প স্বতস্ফূর্ত ভাবেই কিছু মেসেজ রেখে যায়। কোন ঘটনা সেভাবেই দাগ কাটে। সব লেখায় আবার নয়, কিছু কিছু লেখায়। ভ্রমণ কাহিনীগুলো আমার দেখা জায়গাগুলো অন্যকে পড়াতে বা দেখতে গাইড হিসেবে কাজ করে। 


গল্পপাঠ--
গল্পটি লেখার পরে কি আপনি সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন? আপনি কি মনে করেন--আপনি যা লিখতে চেয়েছিলেন, তা লিখতে পেরেছেন গল্পে? 

সুমী সিকানদার
গল্প পড়ার পর পাঠক হিসাবে তৃপ্তি পাই খুব কম। আমি নিজেই সমালোচনাপ্রবণ। নিজের গল্প অনেক কষ্টে ভালো লাগে। মনে হয় ঠিকঠাক বোঝানো গেলো না। কিম্বা অমুক অনেক ভাল লেখেন আমি পারলাম না। নানা এঙ্গেল থেকে নিজের লেখার ত্রুটি খুঁজে বেড়াই। 


গল্পপাঠ--
আপনার গল্প পাঠক কেনো পছন্দ করে বলে আপনার মনে হয়? 

সুমী সিকানদার
পাঠক গল্প উপভোগ করছেন কি না বোঝা যাবে অনেক ভালো লিখতে পারলে। সাধারণত পাঠকের তৃপ্তিই গল্পের বিজ্ঞাপন। 


গল্পপাঠ 
আপনার নিজের গল্প বিষয়ে আপনার নিজের বিবেচনা কি কি? 

সুমী সিকানদার
নগর জীবন কেন্দ্রিকতা একজন লেখককে পূর্ণতা দিতে পারে না। আমার লেখায় নগর কথা বলে বেশি। আবার খুব বেশি গ্রামভিত্তিক লেখা লিখলেই তা সব দিক থেকে সয়ংসম্পূর্ণ হবে তা কেউ বলেন না। গ্রামে থাকার অভিজ্ঞতা কম থাকায় আমার লেখার জন্য তা সীমাবদ্ধ দিক । তবে ডিজিটাল সুবিধা দূরকে যত কাছেই নিয়ে আসুক সরাসরি স্পর্শ করা বা থাকার অভিজ্ঞতা্র বর্ণনা বরাবর বেশী প্রাঞ্জল হবে, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরী করবে। কবিতা-গল্প একত্রে লেখা সহজ নয়। আমি সেই কঠিন সময়টাই পার করছি। বয়সও আমাকে সাহায্য করছে জীবনের বাঁকের নানা দিক বর্ণনের। 


গল্পপাঠ--
আপনার প্রিয় গল্পকার কে কে? কেনো তাঁদেরকে প্রিয় মনে করেন? 

সুমী সিকানদার
প্রিয় গল্পকার সঠিক কতজন তা গুনে বলা সম্ভব নয়। যার গল্প পড়তে যে সময়ে ভালো লাগে তিনিই প্রিয়। তিনি নামকরা হতে পারেন অথবা নতুন কেউ হতে পারেন। পুরোনো প্রতিথযশা দের পাশাপাশি নতুনদের লেখা পড়তে বেশী আনন্দ পাই। কারও লেখায় জীবন ভালো লাগে কারো লেখায় দর্শন। কারো কবিতা ভাবনা , কারো রম্যকথন। যে জীবন আমি অভ্যস্ত নই সে জীবন দেখার জন্য পড়ার জন্য অহরহ মন টানে। 
রবীন্দ্রনাথকে অপ্রতিদ্বন্দী বলা যায় কেননা একা তিনি বাঙ্গালির প্রায় সব কথা সব আবেগ, কষ্ট, দু:খ রোমান্টিকতা, উপেক্ষা, অপেক্ষা, দেশ মাতৃকা এক কথায় জীবনের সব কিছু নিয়ে লিখে গেছেন। হেন বিষয় নেই যা তার স্পর্শের বাইরে থেকে গেছে। তার কালজয়ী গানের বানী যেন মন নিংড়ানো কথা। শুনলে মনে হয় এই কথাটাই আমার। একথাটাই বলতে চেয়েছিলাম। 


গল্পপাঠ --
কার জন্য গল্প লেখেন? আপনি কি পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখেন? লিখলে কেনো লেখেন? আর যদি পাঠকের কথা মনে না রেখে লেখেন তাহলে কেনো পাঠককে মনে রাখেন না লেখার সময়ে?
 
সুমী সিকানদার
লেখা প্রথমতঃ নিজের জন্য, তারপর পাঠকের জন্য। লেখকই তো তো প্রথম পাঠক। তারপর যারা আমার লেখা ছড়িয়ে দেবেন তাদের জন্য। বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষি মানুষের জন্য। নিজে পড়ে যদি সত্যিকারের আনন্দ পাওয়া যায়, তবেই একটি লেখা অন্যকে পড়তে দেয়া যায়। নিজের সম্পর্কে ধারণা পোক্ত হয়। 

নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য লিখিনা। বিষয়ভিত্তিক লেখা লেখার চেষ্টা করি। লেখার সময় শতভাগ প্রভাব মুক্ত থাকার চেষ্টা করি। 

বিষয়ভিত্তিক লেখাগুলোতে হয়তো কেউ কেউ ছায়া কারিগর হয়। যখন কোন প্রতিবন্ধী শিশুকে কিছু লিখি তা আমার দেখা শিশুটি চোখের সামনে চলে আসে। তার কথা বলা না বলা, তার আনন্দ শব্দ, মুখভঙ্গিএসব আমার চোখের সামনে আসে। কেউ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আছে, কারো মানসিক প্রতিবন্ধিত্ব বেশি। এদের অনেক প্রতিভা থাকে যেগুলো সেভাবে হয়তো প্রকাশ পায় না। তাদের ছোটছোট কথা ,গান , নাচ এসব আচরণগুলো লেখার জন্য তাড়া করে ফেরে, আমি লিখি। আমার লেখায় তাদের ধারণ করি। 


গল্পপাঠ--
এখন কি লিখছেন? 

সুমী সিকানদার
এই মুহূর্তে কিছু বড় গল্প লেখার ভাবনা কাজ করছে। পরবর্তীতে বড় গল্প নিয়ে একটা গ্রন্থ করার ইচ্ছে আছে। 
একটা গল্পের আউটলাইনটা এরকম: সন্তানহীন দম্পতি। অনেক বছর একা থাকার পর তারা এক সময় সন্তান অ্যাডাপ্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। সন্তানটিকে নিয়ে নতুন স্বপ্নে মেতে ওঠেন দুইজন। একা হয়ে যাওয়া মানুষ যাদের নিজেদের মধ্যে শারীরি্ক সম্পর্ক অনেক দিন ধরেই নেই। বেঁচে থাকার এই অবলম্বন পেয়ে তাদের নিমেষেই বয়স কমে যায়, তারা একজন আরেক জনকে অনেক দিন পর কামনা করেন। এভাবে এগিয়ে যাবে গল্পটা । 

শেষটা ভাবছি।

৪টি মন্তব্য:

  1. বেশ বিস্তারিত আলোচনা। অনেক কিছু জানা হলো।

    উত্তরমুছুন
  2. প্রিয় সুমি, তোমার কবিতা আমাদের মন জয় করেছে বহু আগে, এখন তোমার গদ্যও। অসাধারন গল্পকার তুমি, মানুষের বর্তমান সময়ের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ফুটিয়ে তুলো যথাযথভাবে। লেখার আবেগ, অনুভূতি, সংলাপ সব খুব চেনা লাগে আমার। তোমার উপন্যাস পড়বার ইচ্ছা থাকলো, কেন জানি মনে হয় সেক্ষেত্রেও তুমি দারুন সফল হবে।

    উত্তরমুছুন