রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮

গল্পকার রঞ্জনা ব্যানার্জীর সাক্ষাৎকার : গল্পে আমি প্রথমত একটি গল্পই বলতে চাই, শুধু শব্দ নিয়ে খেলে পাতা ভরানো নয়

গল্পপাঠ :  
গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
ঠিক কেন শুরু করলাম তার কোন সহজ উত্তর নেই। তবে আমার গল্প লেখার পেছনে তিন জন মানুষের ভূমিকা আছে। প্রথম জন আমার মা। তিনি আমার হাতে কল্পনার যাদুর কাঠি দিয়েছেন।


খুব ভালো গল্প বলতেন মা। গল্প বলা যে একটা আর্ট সেটা মায়ের কাছে জেনেছি। চাকরী করতেন কিন্তু খুব কম দিনই আমরা মায়ের মুখে গল্প না শুনে ঘুমিয়েছি। গল্প যে চোখ বুজলে দেখা যায় সেটা মা শিখিয়েছেন।

দ্বিতীয়জন আমার বাবা। তাঁর কাছ থেকে দুটো জিনিস আমি পেয়েছি, প্রথমটি তিনি আমার কান এবং রুচিবোধ তৈরি করেছেন। প্রচুর রেকর্ড ছিল তাঁর সংগ্রহে। কবিতা, গান, শ্রুতিনাটক, গীতিনাট্য গীতিনৃত্যনাট্য এইসব শুনে শুনে আমার কান তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয়টি হলো মেঘ দেখে দেখে গল্প বোনা শিখিয়েছেন আমাকে। আমাদের ছুটির দিনের এটি একটা মজার খেলা ছিল। নিজের অজান্তেই আমি অনেক গল্প মেঘের অক্ষরেই লিখে ফেলেছি।

তৃতীয় জন প্রয়াত কবি ত্রিদীব দস্তিদার। ‘যদি নির্বাসন দাও’ যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের তা আমি ক্লাস টু থ্রিতেই পড়ার সময়ই জেনেছি তাঁর কল্যাণে। কবি এবং কবিতার প্রতি মনোযোগ দেবার অভ্যেস তৈরি হয়েছে।

এই তিন জন আমার মধ্যে লেখালেখির বীজতলা তৈরি করেছেন।

আর গল্প লেখাটা হয়ে গেল আমার বড়দিদির ছেলের কল্যাণে। ওকে খাওয়ানো বেশ ঝামেলার ছিল, অবিরাম গল্প বলতে হতো। ওর তখন তিন কি সাড়ে তিন, ওকে মুখে মুখে বলা গল্পটাই আমি লিখে পাঠিয়ে দি আগামীদের আসরে। ‘পুতুল বিয়ে’ নামের সে গল্প ছাপা হওয়ার পরে মা বাবা বললেন বাহ্‌! আর আমি জানলাম আমি চাইলে গল্প লিখতে পারি। 


গল্পপাঠ :  
 শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
প্রথম গল্প লেখার প্রায় ত্রিশ বছরের বেশি সময় পরে আমি দ্বিতীয় গল্প লিখি। মাঝে হাতে গোনা কিছু কবিতা লিখেছি। তবে গল্পের বই পড়ায় ছেদ পড়েনি। প্রচুর ভালো লেখা পড়েছি, পড়ি সেই কারণেই হয়তোবা দীর্ঘ বিরতির পরে লিখলেও দ্বিতীয় গল্প ‘মাৎস্য’ বোদ্ধা পাঠকের মনোযোগ পেয়েছে। সংখ্যার হিসেবে এখনো আমি ‘শুরু’তেই আছি এবং ভালো লেখার চেষ্টাতেই আছি।

গল্পপাঠ :  
গল্প লেখার জন্যে কি প্রস্তুতি নিয়েছেন? নিলে সেগুলো কেমন? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
আমার পড়াশোনার বিষয় রসায়শাস্ত্র, সাহিত্য নয়। গল্প লিখবো বলে আঁটঘাট বেঁধেও নামিনি। সেইমতে তেমন কোন প্রস্তুতি নেই আমার। তবে যেহেতু আমি পড়তে ভালোবাসি, সেই পড়ার সূত্রেই ভালো লেখা খারাপ লেখা চিনতে শিখেছি। এভাবেই হয়তো আমার ভিত তৈরি হয়েছে।


গল্পপাঠ :  
আপনার গল্প লেখার কৌশল বা ক্রাফট কী? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
আমি বৈঠকি চালে গল্প বলতে ভালোবাসি। আমার তেমন কোন কৌশল নেই। যে কোন সৃষ্টিশীল কাজে চোখের বাইরে দেখতে জানাটা এবং কান পাততে জানাটা জরুরী। আমি যা দেখি দু’চোখ ভরে দেখি। অন্ধকারে শব্দ চেনাটাও আমার শখ। আর আমি ভাবতে ভালোবাসি। এসবই আমার গল্প লেখায় কাজে আসে। 


গল্পপাঠ :  
আপনার নিজের গল্প বিষয়ে আপনার নিজের বিবেচনা কি কি? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
আমি আমার আশে পাশে যা দেখি তা থেকেই গল্পের উপাদান সংগ্রহ করি। জীবনযাপনের নিত্যদিনের ঘটনা, কিংবা সমাজের ফাঁকফোকর গুলিতেই আলো ফেলি।


গল্পপাঠ :  
 গল্পের বীজ কীভাবে পান? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
ওই যে বললাম আমি চোখ মেলে দেখি, সেই দেখা থেকে বীজ আসে মাঝে মাঝে। নিজের জীবনের কোন ঘটনা থেকে গল্পের বীজ তুলি। ভিড়ে শোনা টুকরো কথাও বীজ হিসেবে কাজ করে। কখনও কিছু পড়তে পড়তেও গল্প ভাবনা আসে মনে। আবার একটা গল্প লিখতে লিখতেও নতুন গল্পের বীজ পেয়ে যাই।


গল্পপাঠ :   
গল্পের বীজটির বিস্তার কীভাবে ঘটান? শুরুতে কি থিম বা বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবেন? না, কাহিনী কাঠামো বা প্লট নিয়ে ভাবেন? 

রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
আমি থিম ভাবি আগে। পরে প্লটে বিস্তার করি। ছোট গল্পে যেটা হয় পরিসরের আন্দাজ রাখতে হয়, শেষ বিন্দুটার ধারণা থাকতে হয়। তাই প্লটের বিস্তারও সেই মতে হয়।


গল্পপাঠ :  
গল্পটির চরিত্রগুলো কীভাবে আনেন? শুরুতে কতটি চরিত্র আসে? তারা কি শেষ পর্যন্ত থাকে? আপনি কি বিশেষ কোন চরিত্রকে বিশেষ কোনো গুরুত্ব দিয়ে লেখেন? তাদের মধ্যে কি আপনার নিজের চেনা জানা কোনো চরিত্র এসেছে? অথবা নিজে কি কোনো চরিত্রের মধ্যে চলে আসেন?

রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
আগেই বললাম গল্পের থিম ভাবি আগে এবং পরিণতিও মাথায় রাখি। 

এর ভিত্তিতেই আমি প্লটের আউটলাইন করি। কাজেই চরিত্রের সংখ্যার প্রাথমিক আভাস মাথাতেই থাকেই। ছোট গল্পের বাঁধুনী আঁটসাঁট। খুব বেশি সংখ্যক চরিত্র নিয়ে কাজ করতে গেলে বাঁধন ঢিলে হয়ে যায়। সেই কারণেই শুরুর ভাবনায় এবং গল্প প্রাণ পাওয়ার পরে চরিত্র সংখ্যায় খুব বেশি হেরফের হয়না।

চরিত্রে মূখ্য গৌন ব্যাপারটা তো গল্পের চলেই ঠিক হয়। চরিত্র তৈরির সময় আমি ওদের প্রত্যেককেই দেখতে চাই, তাই সমান গুরুত্ব দিয়েই লিখি।

আমি আমার চারপাশ থেকেই লিখি তাই সেখানে চেনা জানাদের কোন বিশেষ চলন কিংবা বলন আমার চরিত্রে আসতেই পারে তবে সেই মানুষটি নয়। আগেই বলেছি আমি আমার চরিত্রদের প্রত্যেককে অনুভব করি। তাই আমি আমার গল্পের চরিত্রের পায়েই হাঁটি আমার চলনে ওরা হাঁটে না।


গল্পপাঠ :  
 এই গল্পগুলোর দ্বন্দ্ব সংঘাত কীভাবে নির্মাণ করেন? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
ঐ যে বললেন গল্পের বীজ, লিখতে লিখতেই সেই বীজের অঙ্কুরোদগম হয়। একসময় গল্পটা দাঁড়ায় অথবা পরিণতির দিকে যায় তখনই চরিত্রগুলির দ্বন্দ্ব বা একই চরিত্রে পরিবেশভেদে মননের দ্বন্দ্ব ক্রমশ স্পষ্ট করি।


গল্পপাঠ :  
 গল্পের পরিণতিটা নিয়ে কি আগেই ভেবে রাখেন? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
প্রাথমিক ভাবে থিমের সাথেই পরিণতিও ভাবনায় থাকে। মাঝে মাঝে অন্য ভাবনা চলে আসে তখন প্লট বাঁক পাল্টায় ফলে পরিণতিও পাল্টে যায়। তবে থিম থেকে না সরার চেষ্টা করি আমি।

আবার মাঝে মাঝে থিম ঠিক রাখতে গিয়ে গল্প স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, কিছুতেই এগোয় না, এমন ক্ষেত্রে আমি গল্পটাকে কদিন বিশ্রাম দি। ওটা নিয়ে কাজ করি না। এবং এই ধরণের পরিস্থিতি ঘটলে আমার খুব কষ্ট হয়। অস্থির লাগে। মাথার ভেতরে গল্পটা বেরোবার রাস্তা খুঁজতে থাকে।


গল্পপাঠ :  
 একটি গল্প ক’দিন ধরে লেখেন? এর ভাষা ভঙ্গিতে কী ধরণের শৈলি ব্যবহার করেন? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
গল্পলেখার ব্যাপারে আমার তেমন কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। সময় এবং পরিবেশ অনুকূলে থাকলেই আমি লিখতে পারি। ‘মেগান’ গল্পটা আমি একদিনে লিখেছি। আবার ‘মাৎস্য’ দশ বারোদিন ধরে লিখেছি, কেটেছি, লিখেছি।

গল্পে বৈঠকী শৈলী আমার পছন্দ। তাই সহজ নিত্যদিনের জীবনঘনিষ্ঠ ভাষাই আমার গল্পের প্রাণ।



গল্পপাঠ :  
 অনেক লেখকই রাইটার’স ব্লকে ভোগেন। আপনার ক্ষেত্রে কি এরকম ঘটনা ঘটেছে? ঘটলে আপনি কিভাবে দূর করেন?

রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
মায়া এঞ্জেলো’র একটা লেখায় পড়েছিলাম, ‘Writer’s Block is when writers give up.’ আমার বেলায় রাইটার্স ব্লক নয় লিখতে ইচ্ছে না হওয়ার তেমনই একটা ব্যাপার হয় মাঝে মাঝে। ভাবনা আছে কিন্তু কলম হাতে তুলতে ইচ্ছে হয় না। এটা অতিক্রম করার চেষ্টা করছি আমি।

বেশ বড় একটা বিরতির পরে লেখালেখিতে ফিরেছি। এই বিরতিতে যেটা কদাচিৎ বন্ধ রেখেছি তা হ’ল আমার পড়ার অভ্যেস। পড়তে পড়তে অনেক ভাবনা আসতো মনে। লিখে রাখতাম না। যখন লেখা শুরু করলাম তখনও মাঝে মাঝে হঠাৎ ঘাস ফড়িঙের মত হাল্কা পাখায় গল্পের বীজ আসতো মনে। আমি হয়তো অন্য কোন কাজে ব্যস্ত তখন। কাজ শেষে লিখতে বসে অবাক হয়ে আবিস্কার করতাম সেই ভাবনার কিছুই মনে নেই আমার। অনেক গল্প এভাবেই আমাকে ছুঁয়ে চলে গেছে, ধরা হয়নি। এখন তেমন অলৌকিক মুহূর্তের আভাস পেলেই নোট বুক রেডি রাখি। সেই সব হঠাৎ পাওয়া আশিস পরে সময় সুযোগ মত গল্পের গাছ হয়। 


গল্পপাঠ :  
 গল্পটিতে কি কিছু বলতে চান? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
গল্পে আমি প্রথমত একটি গল্পই বলতে চাই, শুধু শব্দ নিয়ে খেলে পাতা ভরানো নয় । এর পরে গল্পে আমি সিচ্যুয়েশন তৈরি করতে ভালোবাসি যার আবডালে চরিত্রদের বৈশিষ্ট্য বা ঘটনার ইঙ্গিত গোঁজা থাকে; এটা অনেকটা ধাঁধার মত। হেমিংওয়ের একটা গল্পের উদাহরণ দি, আয়নার সামনে বসে গল্পের মূখ্য নারী চরিত্র নিজের চুলের স্টাইল নিয়ে ভাবছে। স্বগতোক্তির মত ছোট ডায়ালগ, ‘আমি ভাবছি এবার চুল বড় করবো’ পাশে আধ শোয়া স্বামী বললো, ‘না না ছোট চুলেই মানায় তোমাকে!’ এই যে দৃশ্যকল্প এখান থেকেই স্বামীর চরিত্রের নিয়ন্ত্রণক ভাবটির আঁচ পাওয়া গেল। উত্তরের আগে অন্তত ‘আমার মনে হয়-’ জাতীয় ভূমিকা ছাড়াই সিদ্ধান্তের মত এই যে আরোপ করা এই উক্তি তা পাঠক খেয়াল নাও করতে পারেন। এমন ছোট ছোট চলন, বলন যা থেকে চরিত্রগুলোর অবয়ব টের পাওয়া যায় , যা গল্পের বিস্তারে পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয় - এমন প্রক্রিয়াটি আমিও অনুসরণ করি। তারপরেও গল্পের গল্পটাই মুখ্য।


গল্পপাঠ :  
 গল্পটি লেখার পরে কি আপনি সন্তুষ্ট থাকেন? আপনি কি মনে করেন -- আপনি যা লিখতে চেয়েছিলেন তা লিখতে পেরেছেন গল্পে?

রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
এখনো পর্যন্ত কোন গল্প লিখে যাকে বলে ‘তৃপ্ত হওয়া’ তেমনটি হয়নি আমার।

যা লিখতে চেয়েছি তা পেরেছি এমন মনে হয় না বরং সবসময় নিজের লেখা পড়ে মনে হয় আরও স্পষ্ট করা যেত বা এভাবে না বলে অন্যভাবে বলা যেত।


গল্পপাঠ :  
আপনার গল্প পাঠক কেন পছন্দ করে বলে আপনার মনে হয়? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
লেখক হিসেবে নিজেকে ‘তইয়ার’ করার বিষয়টিতেই আমি গুরুত্ব দি’। নিজের কমতিগুলো বোঝার চেষ্টা করি। পাঠকের পছন্দের বিষয়টা পাঠকের কাছেই থাকুক, ভালো লেখার চেষ্টা করাটাই আপাতত আমার লক্ষ্য। 

 
গল্পপাঠ :  
 আপনার প্রিয় গল্পকার কে কে? কেনো তাঁদেরকে আদর্শ বলে মনে করেন? 


রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
রবীন্দ্রনাথকে পড়ে, শুনে এবং তাঁর নৃত্যনাট্য দেখে এবং সরাসরি অংশগ্রহণ করে আমি বড় হয়েছি। সাহিত্যের সব শাখায় তাঁর অনায়াস চলাচল আমার কাছে অপার বিস্ময়। তাই আমার প্রিয় গল্পকারের তালিকার তিনি শীর্ষে।

এছাড়া বরাবর আমি হেমিংওয়ের মুগ্ধ পাঠক। তাঁর গল্পের প্লটের বিস্তার এবং ক্লাইমেক্স নির্মানের কৌশল আমার পছন্দ।

রাশান গল্পের প্রতি ছেলেবেলা থেকেই দূর্বলতা তাই রাশান লেখকেররাও আমার প্রিয়’র তালিকার অনেকটা জুড়ে আছেন। তাদের বিশাল কলেবরের প্লট, অসংখ্য চরিত্রের প্রত্যেককে পাঠকের কল্পনায় প্রাণ দেয়ার মুন্সিয়ানা আমাকে মুগ্ধ করে।

টলস্টয়ের ওয়ার এন্ড পিস, আন্না কারেনিনা, দস্তয়ভস্কির দ্য ইডিয়ট আমি অন্তত তিন বার পড়েছি। কখনও বিরক্ত হইনি। চেকভের সাথে ছেলেবেলায় ‘কাশতানকা’ দিয়ে আমার পরিচয়। এখনও মুগ্ধতা কাটেনি। এছাড়া শওকত আলী’র ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’, বিষয়, কাহিনী বিন্যাস এবং ভাষার শৈলী সব মিলিয়ে আমার প্রিয় উপন্যাসের তালিকায় এখনও শীর্ষে।


গল্পপাঠ :  
 কার জন্যে গল্প লেখেন ? আপনি কি পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখেন ?লিখলে কেন লেখেন? আর যদি পাঠকের কথা মমে না রেখে লেখেন তাহলে কেনো পাঠককে মনে রাখেন না লেখার সময়ে?

রঞ্জনা ব্যানার্জী : 
গল্প তো কাউকে না কাউকে শোনানোর জন্যেই লেখেন লেখকেরা। আমিও পাঠকের জন্যেই ‘আমার গল্প’ লিখি। বিষয়বস্তু, গল্পভাবনা সবই আমার নিজের এবং তা যতই অবিশ্বাস্য হোক তাকে শ্রোতার কাছে বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশন করার মাধ্যমে আমার ভাবনা তাদের ভাবনায় গুঁজে দেয়ার চেষ্টা করি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন