রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮

হামিরউদ্দিন মিদ্যার সাক্ষাৎকার


রুখসানা কাজল--
এই তো আপনার বয়স, তা লেখালেখিতে এলেন কিভাবে?


হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
ছোট থেকেই আমার গল্প-উপন্যাসের বইপড়ার প্রচন্ড নেশা ছিল।মেলা দেখতে যেয়ে আর পাঁচটা ছোট ছেলেমেয়ে যেখানে খেলনা গাড়ি,বাঁশি,পুতুল কেনার জন্য বাবা-মায়ের কাছে বায়না করত,আমি বাবার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতাম বইবিক্রেতার কাছে।তিরপলে পাতা থাকত ঠাকুমার ঝুলি,মাছখেকো ভূত,বিক্রম-বেতাল,ছোটদের আরব্য রজনী নানারকম স্বল্পমূল্যের চটিবই।বাবা কিনে দিত দু-একটা।সেই বই হাতে পেয়ে কী ডগমগ খুশিই না হতাম।বাড়িতে এসেই গ্রোগাসে পড়ে ফেলতাম।ক্লাস ফাইভে হাতে পেলাম চাঁদের পাহাড়।উপন্যাসটা পড়ে পাগলের মতো অবস্থা।বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভূতের মতো চেপে বসল মাথায়।স্কুলের লাইব্রেরি থেকে একে একে আরণ্যক, পথের পাঁচালী, হে অরণ্য কথা কও শেষ করি।বন-জঙ্গল নিয়ে লেখাগুলো আমাকে কী ভীষণ টানত!মাধ্যমিক পর্যন্ত বুদ হয়ে ছিলাম বিভূতিভূষণের লেখায়।স্কুলের পাঠ্যবই এর গল্পগুলো খুব ভাল লাগত।স্যাররা যখন ক্লাসে গল্পগুলি পড়িয়ে আলোচনা করতেন,খুব ধ্যান দিয়ে শুনতাম।তখনই ছোট্ট কিশোরটির মনে একটি প্রশ্ন জেগেছিল,এমন ঘটনা তো রাস্তাঘাটে, আমার চারপাশে কত ঘটতে দেখি,সেগুলো নিয়ে আমি কী লিখতে পারব না?সেদিন কিশোরটি জানতেই পারল না যে তার ভেতর একটি বীজ বপন হল।উপযুক্ত আলো-হাওয়ায় সেই বীজ অঙ্কুরিত হল ২০১৫ সালে।উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষা দিয়ে ছুটির সময়টা খুব চুটিয়ে বই পড়ছি।সেই সময়েই একদিন কি খেয়াল হল,খাতা-পেন নিয়ে বসলাম।'বটতলার ঘটনা' নামে একটা গল্প লিখে ফেলি।বুকটা বেলুনের মতো ফুলে উঠল।লাইব্রেরিয়ানকে জানালাম ব্যাপারটা। উনি স্থানীয় একটি পত্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেন।গৌর কারক ও সায়ন্তন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত 'লগ্নউষা' পত্রিকার সাহিত্য সভায় গল্পটি নিয়ে হাজির হলাম।গল্পটি পাঠ করে শোনালাম।গল্প হয়নি,একটি গদ্য হয়েছিল।তবে উনারা আমাকে খুব উৎসাহ দেন। পিঠ চাপড়িয়ে বলেছিলেন, বাঃ এছেলেটার তো দারুণ দেখার চোখ আছে!গদ্যটাও খুব স্মার্ট। লেগে থাকো বাবা,লেগে থাকো।তারপর ২০১৬সালে জানুয়ারিতেই ওই 'লগ্নউষা' পত্রিকা 'লক্ষীর বাহন' নামে আমার প্রথম গল্প প্রকাশ করে।এইভাবেই লিখতে আসা।

রুখসানা কাজল--
গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন?

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
যখনই কোনো ভাল গল্প পড়েছি তখনই মনে হয়েছে একদিন আমিও লিখব।এই 'একদিন আমিও লিখব' চ্যালেঞ্জটাই আমাকে গল্প লেখা শুরু করাল। তাছাড়া মনের এমন কিছু আবেগ, ভাললাগার বিষয় থাকে। এমন কিছু ঘটতে দেখি যেগুলো অন্যকোন ভাবে কারও কাছে প্রকাশ করা আমার ক্ষেত্রে কঠিন ছিল। গল্পের মাধ্যমে সহজেই তা প্রকাশ করা যায়।

রুখসানা কাজল--
শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল?

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
সেটা আমার থেকে পাঠক ভাল বলতে পারবেন, যারা সেই সময়ের লেখা পড়েছেন,শুনেছেন। তবে আমার যেটা বৈশিষ্ট্য তা হল,আমার নিজের লেখা গল্প কিছুদিন পর আবার যখন পড়ি তখন মনে হয় আরে এটা আমি লিখেছিলাম! এখন এটা নিয়ে লিখলে আরও ভাল লিখতাম। শুরুর লেখাগুলো ছিল খুবই সহজ সরল। কোনমতে একটা গল্প দাঁড় করানোর চেষ্টা। ২০১৭ সালে লেখার ধরণটা চেঞ্জ করি।

রুখসানা কাজল--
গল্প লেখার জন্য কী কোনো প্রস্তুতি নিয়েছেন? নিলে সেগুলো কেমন?

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
গল্প লেখার জন্য আমি কোনো প্রস্তুতি নিইনি। দুম করেই লিখতে ঝাপিয়ে পড়া। তবে এটা স্বীকার করতে হয় আমি বেশ কিছু শ্রদ্ধেয় মানুষের সংস্পর্শে এসেছি। আমার গ্রাম থেকে ১০ কি.মি দূরে গল্পকার জয়দেব দত্ত ও সায়ন্তন মুখোপাধ্যায় এর বাড়ি।এছাড়াও আছেন শ্যামল মুখোপাধ্যায়, সুচন্দন রায়,অসিত বেড়ে। গল্প লিখে প্রথমে তাদের কাছে নিয়ে যাই শোনাতে। আমরা সপ্তাহে অন্তত একদিন দামোদরের ধারে কিংবা সোনামুখীর জঙ্গলে বসি।গল্পপাঠ,তার পুঙখানুপুঙখ আলোচনা, সাহিত্যের কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। ওখান থেকেই আমি অনেক শিক্ষা পেয়েছি, এখনও পাই।জয়দেবদা ও সায়ন্তনবাবুকে খুব কাছ থেকে পেয়েছি, আমাকে প্রচন্ড গাইড করে। কলকাতার অমর মিত্র ও অরিন্দম বসুর স্নেহ পেয়েছি। আমার গল্প পড়ে যে মতামত দেয় তাতে অনেক ভরসা পাই।তাদের কাছেও অনেক শিক্ষা পেয়েছি। তারপর বাকিটা পাঠভ্যাস থেকে।

রুখসানা কাজল--
আপনার গল্পলেখার কৌশল বা ক্রাফট কী?

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
প্রথম দিকের কিছু গল্প এখন বিভিন্ন বাণিজ্যিক পত্রপত্রিকায় যে ধরণের লেখা হচ্ছে সেইরকম চেষ্টা করতাম। তারপর বুঝলাম এই হাজার হাজার লেখকের ভিড়ে একই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলে আলাদা করে কেউ চিনবে না। যার জন্য নিজস্ব একটা কৌশল আনার চেষ্টা করলাম। ২০১৭ সালে জুন মাসে 'আরম্ভ' পত্রিকায় 'বককল' নামে একটা গল্প লিখলাম। যেটা আগের গল্পগুলোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।দক্ষিন বাঁকুড়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের যে আঞ্চলিক কথা,সেই ভাষাটি ব্যাবহার করলাম গল্পে।পাঠক ব্যাপক ভাবে গ্রহণ করল লেখাটা। সেই উৎসাহ পেয়েই ওই ধরনের লেখার প্রতি আগ্রহ বাড়লো। আমার গল্পে লক্ষ করবেন আমি বর্তমান সময়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিইনি।অনেকে বলে,আমার গল্পে আধুনিকতা থমকে গেছে।যা কিছু ঘটে গেছে,মানে অতীতকে ফ্ল্যাশব্যাকে এনে হাজির করি গল্পে।সেখানে যারা চরিত্র থাকে তাদের মধ্যে সেই সময়ের সাক্ষী মানুষটিকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করি।তারপর বর্তমানের সঙ্গে তুলনা টানি।পাঠককে এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন করি,মায়ায় ফেলে দিই।পাঠকই বিচার করে নেয় কোনটা উপযুক্ত।এটা সব গল্পের ক্ষেত্রেই নয়।গল্পে অনেক আঞ্চলিক শব্দ প্রয়োগ করি।প্রচন্ড ডিটেলিং-এর কাজ করি।এমন কিছু অলঙ্কারিক কাজ করার চেষ্টা করি যেটা অন্যদের থেকে আলাদা।'গাভীন মোষের বেঢপ পেটের মতো মেঘ।', 'ডিমের কুসুমের মতো চুইয়ে চুইয়ে জ্যোৎস্না পড়ছে', 'মানকচুর বনে হাওয়ার ঝাপটা লাগতেই কতকগুলো হয়ে গেল হরিণের শিং', 'অন্ধকারটা কেলে সাপের মতো ফনা তুলে আছে।' এরকম অনেক ছোট ছোট কাজ।আর অধিকাংশ গল্পেই উত্তম পুরুষ হিসেবে গল্পটা পাঠককে বলি।কখনো নিজেও একটি চরিত্র হয়ে যায়।রাম,শ্যাম,রহিম দিলে গল্পটা বলতে অসুবিধা হয় আমার।

রুখসানা কাজল--
আপনার প্রিয় গল্পকার কে কে?তাদেরকে কেন প্রিয় মনে করেন?

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
এখন বর্তমান সময়ে যারা লিখছেন তাদের মধ্যে প্রিয় গল্পকারের সংখ্যার তালিকা দীর্ঘ।বর্তমান সময় থাক।একটু পুরনো দিকে যায়।আমার প্রিয় গল্পকার বলতে গেলে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস,সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নাম চলে আসে।বিদেশিসাহিত্যের মধ্যে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ,ফ্রানজ কাফকার গল্প খুব ভাল লাগে।আরও অনেকে আছে।
আমি গ্রামের ছেলে। ছোট থেকেই গ্রামের জল-হাওয়ায় বড় হয়েছি।স্বাভাবিক ভাবেই শহরের প্রেক্ষাপটে লেখা,কিংবা ফ্লাটবাড়ির গল্প আমি সেভাবে বুঝতে পারি না। তাই আমাকে এতটা টানে না।গ্রামবাংলার প্রেক্ষাপটে যারা গল্প লিখেছেন,তাদের লেখায় আমাকে বেশি টানে। সমাজের সহজ-সরল নিম্নবিত্ত মানুষদের নিয়ে অনেক গল্প রচনা করেছেন শরৎচন্দ্র। তখনকার সমাজের,জমিদারি শাষনব্যাবস্থার চিত্র পাই শরৎচন্দ্রের গল্পে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট থেকেই গ্রামবাংলার সবুজ শ্যামলা প্রকৃতিকে ভালোবেসেছিলেন।উনার গল্পে প্রকৃতি-প্রেম খুব স্পষ্ট ভাবে লক্ষ করি।গ্রামীন জনজীবন ও প্রকৃতির শৈল্পিক রূপকার তিনি। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখায় মানুষের মহত্ব ফুটে ওঠেছে সাবলীল ভাবে।তারাশঙ্করের লেখা ভাল লাগার কারণ আঞ্চলিক জন-জীবন,তাদের ভাষা এমন নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যে পড়তে পড়তে মহুয়ার নেশার মতো বুদ হয়ে যায়।গ্রামীন লোককথা,উপকথা,কুসংস্কার, মিথগুলো এমনভাবে গল্পে কাজে লাগিয়েছে অন্য কারও গল্পে তেমনভাবে পাইনি।তারাশঙ্কর গ্রামজীবনের নিম্নবিত্ত ব্রাতজনদের সুখ-দুঃখ নিয়ে যেমন লিখেছেন তেমনি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও অনেক গল্প রচনা করেছেন।আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্প সংখ্যা ৩০ টির অনধিক।তিনি খুব অল্প লিখেছেন, তবুও ষাটের দশকের শক্তিশালী কথাশিল্পী। তিনি গল্পের অনুষঙ্গে খুঁজে নেন সমাজ,মানুষ, রাষ্ট্র,সময় আর তার যাবতীয় বিষয়-আশয় থেকে।সামাজিক মানুষের ভাবনাকে গল্পে রুপান্তরিত করার কৌশলটি খুব ভাল আগে আমার।তিনি আরবী, উর্দু,ফরাসি,ইংরেজি, গুজরাটি ভাষার শব্দ লাগানসই ঢুকিয়ে দিয়েছেন গল্পে,যার জন্য গদ্যে এক অন্যরকম স্বাদ পাই।কথন ভঙ্গিটিও আমাকে চমকিত করে।সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ গল্পের স্থানে স্থানে আশ্চর্য সব উপমা ব্যবহার করেন।তিনিও বেশি লেখেননি।৫৩টি গল্প লিখেছেন।উনার গল্পের সম্পদ পূর্ববঙ্গের বৈচিত্রময় উপভাষা।ধর্মীয় গন্ডি থেকে বেরিয়ে এসে কিভাবে নির্মহ দৃষ্টিতে জীবনকে দেখতে হয়,সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর গল্পে শিখেছি। 

বিদেশি সাহিত্যের মধ্যে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ ও ফ্রানজ কাফকার গল্প খুব ভাল লাগে।মার্কেজের ম্যাজিক রিয়েলজম আমাকে মুগ্ধ করে। কাফকার লেখার ঘরনাটিও আমার খুব প্রছন্দের।এই দুইজন সাহিত্যিকের গল্পে এমন এক জাদু করা থাকে,লেখা পড়তে শুরু করলে শেষ করিয়ে ছাড়ে।যদিও আমি বাংলা অনুবাদে পড়ি।

রুখসানা কাজল--
কার জন্য গল্প লেখেন? আপনি কী পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখেন? আর যদি পাঠকের কথা মাথায় না রেখে লেখেন তাহলে কেন পাঠককে মনে রাখেন না লেখার সময়?

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
দেখুন এই প্রশ্নটা খুবই একটি জটিল প্রশ্ন।এর যথপোযুক্ত উত্তর আমার জানা নেই।হ্যাঁ বা না বলেও উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।একটি লেখা যখন লিখতে বসি,তখন সবকিছু ভুলে লেখাটি নিয়েই বেশি ভাবি।চরিত্রগুলোর কথা চিন্তা করি।যখন লেখাটি সৃষ্টি হল,তখন সেটি আমার কাছেও নতুন।পাঠক গ্রহন করবে কি করবে না সেটাও প্রকাশ না হওয়া অবধি যেহেতু বোঝার উপায় থাকে না,তাই লিখতে বসে পাঠকের কথা চিন্তা করি না।
তবে একটি ক্ষেত্রে আমি খুব সচেতন। পাঠকের কথা ভাবতেও হয় সেক্ষেত্রে। গল্পটির ভাষা নিয়ে।আমি যে আঞ্চলিক শব্দটি গল্পে ব্যাবহার করছি,সংলাপ গুলো তুলছি সেগুলো সব পাঠকই বুঝতে পারবে তো?গল্পটি যেহেতু শুধুমাত্র গ্রামের পাঠকের জন্য লিখছি না,সেক্ষেত্রে ভাষা নিয়ে খুব ভাবতে হয়। এমন কোন প্রতিশব্দ ব্যবহার করার চেষ্টা করি,যাতে গল্পটা পড়ে সবার বোধগম্য হয়ে ওঠে। সংলাপগুলোও হেরফের করতে হয় পাঠকের কথা ভেবে।যেহেতু গল্পটা খাতায় বন্দী রাখার জন্যেই লিখি না,অনেক মানুষকে পড়ানোর জন্য লিখি।

রুখসানা কাজল--
এখন কি লিখছেন?

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
এখন গল্পই লিখছি।গল্প নিয়ে চর্চা করছি। বড় কিছু লেখার কথা ভাবিনি । আপনার কথায়, 'এই তো সবে বয়স।' ভবিষ্যৎতে উপন্যাসের প্লট মাথায় এলে লেখায় হাত দেব। তার আগে জোর করে কিছু লেখার চেষ্টা করব না।

রুখসানা কাজল--
লেখালেখির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন,কেমন লাগছে? 

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
এককথায় প্রচুর উৎসাহ পেয়েছি। পুরস্কারকে আমি সাহিত্যের মাপকাঠি বলে মনে করি না।লক্ষ্য করলে দেখা যায়,অনেক সাহিত্যিক ভাল সাহিত্য রচনা করেও তেমন পুরস্কার পাননি।আবার অনেকে তেমন না লিখেও রাশি রাশি পুরস্কার পেয়েছেন। অনেক নামী সাহিত্যিক পুরস্কার গ্রহণ করেননি।তাহলে প্রশ্ন ওঠে,যিনি পুরস্কার পাননি,বা গ্রহণ করেননি_তারা কি টিকেনি?তারা আজও টিকে আছে তাদের লেখার গুণে।পুরস্কারের ক্ষেত্রে নানারকম ব্যপার জড়িত আছে।আসল কথা হল লেখা,ভাল লিখলে লেখাটিই থাকে,পুরস্কার পেলেন কি পেলেন না তারওপর সাহিত্য নির্ভর করে না।এবার মূল প্রসঙ্গে ফিরি।এই যে বললেন,কেমন লাগছে?আসলে পুরস্কারের ভালো খারাপ দুটো দিকই আছে।কেউ পুরস্কার পেয়ে বিগড়ে যায়, আবার কেউ উৎসাহ পায়। আমি উৎসাহ পেয়েছি।নিজে যে সাধনায় মগ্ন হয়েছি,আমি তাতেই ডুবে থাকতে চাই।

রুখসানা কাজল--
লেখালেখির সাথে জুড়ে যাওয়া জীবন আলাদা বলে কিছু কি মনে হয়? 

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
অবশ্যই আলাদা। আমি যতদিন লিখতে এসেছি,ততদিন নিজেকে লেখালেখিতেই সপে দিয়েছি।দিনের কোনো একটি নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট সময়ে লিখতে বসি,বাকি সময়টা ধরলাম আমার আগের জীবন বা লেখালেখির বাইরের জীবন।লক্ষ্য করে দেখেছি আগের জীবন বলে আর কিছুই থাকে না।সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাত্রে শোবার সময় পর্যন্ত যে কর্মেই লিপ্ত থাকি না কেন,এমনকি ঘুমের ভেতরেও সেই লেখার কথায় চিন্তা হয়।মনে মনে কতকিছু লিখে চলি।এখন যা লিখছি বা পরে যা লিখব তারই অনুসন্ধান চলতে থাকে অনবরত। আর পাঁচটা মানুষের থেকে অবশ্যই চিন্তা,ভাবনার অনেক পরিবর্তন থাকে। 

রুখসানা কাজল--
প্রতিদিন লেখা যায়?বা প্রতিদিন অন্তত কিছু লেখালেখি করা উচিত বা দরকার বলে মনে করেননি? 

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
এটা সবার ব্যক্তিগত ব্যপার। আমি যেটা মনে করি,সাহিত্য, সংগীত, অভিনয়, সর্বক্ষেত্রেই যত রেওয়াজ, চর্চা হবে ততই ভাল। প্রতিদিন রেওয়াজে বসলে একজন শিল্পীর যেমন গলায় ভাল সুর ওঠে।তেমনি লিখতে লিখতেই লেখার হাত খুলে।এই মতে আমি বিশ্বাসী হলেও প্রতিদিন লিখতে বসা আমার হয়ে ওঠে না।


রুখসানা কাজল--
ভারতের মতো একটি বিশাল দেশে পূরণ অপূরণের প্রতিটি মুহূর্তে আপনি কি মনে করেন লেখালেখি একটি আশ্রয়? 

হামিরউদ্দিন মিদ্যা--
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আমাকে আরও সময় অতিক্রম করতে হবে। তবে এখনও পর্যন্ত আমার পূরণ অপূরণের কোনো অভিজ্ঞতায় হয়নি।এতকিছু ভেবে লিখিও না।লিখতে ভাল লাগে তাই লিখি।মনের আনন্দে লিখি। 

রুখসানা কাজল--
ধন্যবাদ আপনাকে । লেখালেখির জগতে আরো অগ্রগামী হয়ে উঠুন। 
গল্পপাঠের পক্ষ থেকে অনেক শুভকামনা রইল ।

৮টি মন্তব্য:

  1. খুব ভাল বলেছে হামিরউদ্দিন।

    উত্তরমুছুন
  2. খুব ভালো বলেছিস রে । ভালো লাগলো পড়ে 😊

    উত্তরমুছুন
  3. একদম ভেতর থেকে বলা কথা। কোনো ভনিতা নেই, শব্দের মারপ্যাঁচ নেই। সাবলীল ও সৎ উচ্চারণ। ধন্যবাদ ভাই। আর রুখসানা দিদির প্রশ্নও ভালো লাগল।

    উত্তরমুছুন
  4. torun ei lekhoker sommondhe koto koutuhol chilo. valo laglo sakkhatkar pore. ei lekhoker keu phone no Deben?

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আপনি ফেইসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করুন।বাংলায় নাম দিয়ে সার্চ করলেই পাবেন।ওখানে নাম্বার দিচ্ছি।ভাল লাগবে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ হলে।

      মুছুন