রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮

২০১৯ সালের বইমেলায় গল্পপাঠের লেখকদের প্রকাশিত বই


মাহবুব লীলেনের বই--
--------------------------------------------
অভাজনের মহাভারত 

প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে নিজের পারিবারিক সংকটের ছোট এক সাদামাটা গল্প বয়ান শুরু করেছিলেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন। তারপর দ্বৈপায়নের ঘোরতর শত্রুপক্ষসহ হাজারো মানুষ বহু রঙে রাঙিয়ে নিজেদের কাহিনী ঢুকিয়ে দিয়েছে সেই গল্পের ভেতর। গল্পের সাথে গল্প জোড়া দিতে গিয়ে যেখানে তারা যুক্তি দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেনি; সেখানে অলৌকিকতার রং দিয়ে ঢেকে দিয়েছে বাস্তবতার ফাঁক। আর এভাবেই তৈরি হয়েছে আজকের বহু বৈচিত্র্যপূর্ণ মহাভারত… 

কৃষ্ণ দ্বৈপায়নের জন্মকাহিনী পরিচিত হলেও আজ পর্যন্ত কোথাও তাঁর কোনো মৃত্যুর বিবরণ নেই। যেন নিজের শুরু করা গল্পের বিবর্তন বয়ানের জন্য এখনো বর্তমান তিনি… 

মহাভারত বড়ো অদ্ভুত এক চলন্ত বর্তমানের গল্প। এখানে বিজয়ীরা বীর নয়; পরাজিতরা বীর্যহীনও নয়। এখানে ভীতরা বিজয়ী হয়ে কাঁদে; সাহসীরা পরাজিত হয়ে হাসে; যেন ঘটনার আরো কিছু বাকি আছে; যা দ্বৈপায়নই বলবেন অন্য কোনো সময়; অন্য কোনোভাবে… 

ফলে দ্বৈপায়নের নামেই যুগে যুগে নতুন করে মহাভারত রচিত হতে থাকে। প্রথম বাংলা মহাভারত রচিত হয়েছিল আজ থেকে তিনশো বছর আগে চট্টগ্রামে। আর বাংলা মহাভারতের সাম্প্রতিকতম সংযোজন অভাজনের মহাভারত; মৌখিক বাংলায় মহাভারতের অলৌকিকতাবিহীন আখ্যান… 

অভাজনের মহাভারত 
মাহবুব লীলেন 
বাতিঘর সংস্করণ: ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
প্রথম প্রকাশ: শুদ্ধস্বর, ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 

প্রকাশক: বাতিঘর 
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবন, ১৭ ময়মনসিংহ রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা 
মূল্য: ৬০০ টাকা 
প্রচ্ছদ: সব্যসাচী হাজরা।


মোজাফফর হোসেনের নতুন বই--
বাংলা সাহিত্যের নানাদিক
প্রবন্ধের সংকলন

বাংলাদেশের সমালোচনা সাহিত্যে তরুণ প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও অনুবাদক মোজাফ্ফর হোসেন ইতোমধ্যে স্বকীয়তার ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বিশ্বসাহিত্যের সর্বাধুনিক ধারা ও প্রবণতার সঙ্গে মিলিয়ে বাংলা সাহিত্যকে পাঠ ও বিশ্লেষণ করে যাচ্ছেন। তুলনা ও প্রতিতুলনার ভেতর দিয়ে একজন লেখক বা একটি গ্রন্থকে উপস্থাপন করেন; ফলে পাঠক সাহিত্যের বিচিত্র প্রসঙ্গ সম্পর্কে জানতে পারেন। গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধগুলো প্রকাশিত হয়েছে ‘কালি ও কলম’, ‘উত্তরাধিকার’, ‘শব্দঘর’ ও ‘দৈনিক প্রথম আলো’-সহ দেশের মানসচেতন পত্র-পত্রিকাতে। এখানে মোজাফ্ফর বাংলা সাহিত্যের বিচিত্র বিষয় নিয়ে যেমন লিখেছেন, তেমন আলো ফেলেছেন অনালোচিত নানা অধ্যায়ে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে বেশি লেখালেখি-গবেষণা হয়েছে। মোজাফ্ফর বইয়ের শুরুতে ‘রবীন্দ্রনাথ’ পাঠককে নতুন কিছু বিষয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। ‘বিশ্বে রবীন্দ্রচর্চা: গ্রহণ ও বর্জন’ শিরোনামে চমৎকার একটি গদ্য আছে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পৃথক পৃথক গদ্যে ডেরেক ওয়ালকোট, মারজরি কিনান রলিংস ও বব ডিলানের তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে। নারীমুক্তির প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রজীবনে মৃত্যু নিয়ে আলাদা দুটি গদ্য আছে।

‘উপন্যাস’ অংশে সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন, দিলারা হাশেম, ইমদাদুল হক মিলন ও আনিসুল হকের উপন্যাস ধরে আলোচনা করা হয়েছে। শিশুসাহিত্য নিয়ে বাংলাদেশে খুব বেশি লেখাজোখা হয় না। ‘শিশুসাহিত্য’ অংশে প্রাবন্ধিক বাংলাদেশের কয়েকজন খ্যাতিমান লেখক, যাঁরা মূলত বড়দের লেখক হিসেবে পরিচিত, তাঁদের শিশুসাহিত্যের প্রকৃতি ও প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। হাসান আজিজুল হক, শওকত আলী, মাহমুদুল হক ও সেলিনা হোসেনের শিশুসাহিত্য নিয়ে এই অংশে চারটি গদ্য আছে।

‘অন্যান্য’ শিরোনামে বইয়ের শেষ অংশে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী এবং হাসান আজিজুল হকের স্মৃতিকথা নিয়ে দুটি গদ্য আছে। বাংলাদেশের ছোটকাগজ চর্চার ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট এবং অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশীদ সম্পাদিত ‘নিউ ভ্যালুজ’ পত্রিকা নিয়ে বিশদাকারে আলোচনা করা হয়েছে দুটি গদ্যে। এই অংশে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো ‘ভাষার ব্যবহার ও গালি’ এবং ‘বিশ্বখ্যাত লেখকদের বিচিত্র অভ্যাস ও রসাত্মক কাহিনি’ শীর্ষক গদ্যদুটি।

বাংলা সাহিত্যের নানাদিক
মোজাফফর হোসেন
প্রচ্ছদ: নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
পৃষ্ঠা: ১৭৬, মূল্য: ৩২০টাকা
প্রকাশক: গ্রন্থ কুটির

সাগুফতা শারমীন তানিয়া'র বই
পাখিসব
‘পাখিসব’ পরবাসী মানুষকে নিয়ে লেখা, পরিযায়ী পাখিদের গল্পমালা। তিনটি নভেলা এসেছে এক মলাটে, একটিমাত্র গ্রন্থিযোগ হতে পারে প্রবাসজীবন, কিন্তু সেটি মূলসুর নয়। উপবেশনার্থে পাখিরা ফিরে এসেছে, তারপরে আবার দিয়েছে উড়াল, যার যার সময়ে, নিজ নিজ আকাশে। সোমার ঘুমের আড়ালে সুনেহ্‌রার জাগৃতি, প্রতুলের হাঁয়ের ভেতর বিশ্বরূপদর্শন, ওস্তাদ জমীরুদ্দিন খাঁ সাহেবের খুঁজে ফেরা যৌবনের হঠাৎ পাওয়া সন্ধিপ্রকাশ রাগ, রীনার ফাটা প্লাস্টিকের বাসনকোসন হয়ে থাকা সংসার, আশ্রয় খুঁজে ফেরা জ্যোতিষ্ক কিংবা পট্টশিষ্য, এইসব কিছুই বিসর্পিল গতি নিয়েছে এই নভেলাত্রয়ে। জলবিষুবে যেমন শাদা দিন আর কালো রাত দৈর্ঘ্যে সমান, উপন্যাসিকাগুলিতে তেমন সমান হয়ে এসেছে শঠতা আর সরলতার মাত্রা, প্রেমের সাথে মিশেছে নিরতিশয় বিতৃষ্ণা, ত্যাজ্য আবার হয়ে উঠেছে বরেণ্য- প্রার্থনীয়। গোপনীয়তার মালিকানা বদল হয়েছে, গুলিয়ে গেছে সীমানা, বারবার। মানবচরিত একরেখ নয়, তার বর্ণবিচিত্রাকে লেখক তুলে আনতে গিয়ে নিজেই তাঁর চরিত্র বনে যান, নিজের গভীর বিস্ময়ের দৃষ্টিটুকু চশমার পরকলার মতো পরিয়ে দেন পাঠকের চোখে, পাঠক পরিণত হন সমবেত দর্শকে। কাদের যেন গবাদিপশুর মতো সরল মন চাই, স্মৃতির তিক্ত শাকে মুখ দিলে অসুখ করবে, তবুও পাচনকাঠির ঘায়েও ফেরানো যায় না তাদের উন্মুখ হৃদয়। কারা যেন ঘুমের ভেতর পুরাতন নামে সাড়া দিয়ে ফ্যালে, নিদ্রায় সে ফিরে যায় আপন পরিচয়ে। কারা যেন প্রতিপাদস্থানের মতো দূরত্বে খুঁজে পায় মিতা, অথচ মিতালির বাকল ঝরিয়ে উঠে আসে হঠকারিতার দানো। সেই পাখিসব করে রব।

পাখিসব
সাগুফতা শারমীন তানিয়া
প্রকাশক: বাতিঘর 
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবন, ১৭ ময়মনসিংহ রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা 
প্রচ্ছদ: সব্যসাচী হাজরা।
স্বকৃত নোমানের উপন্যাস --
মায়ামুকুট’ 

এবারের বইমেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হচ্ছে স্বকৃত নোমানের উপন্যাস ‘মায়ামুকুট’।২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর―দীর্ঘ কুড়ি মাসে উপন্যাসটি রচিত। উপন্যাসটির বিষয়সংক্ষেপ এই : প্রেমিকা শিউলির সঙ্গে মিলনকালে সাবেক সেনাসদস্য মুলুকের মনে পড়ে যায় পিতৃশাপের কথা। মুহূর্তে উবে যায় তার যৌনশক্তি, নিস্তেজ হয়ে পড়ে তার পৌরুষ। ক্লীব ভেবে তাকে প্রত্যাখ্যান করে শিউলি। মুলুক জড়িয়ে পড়ে পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টির গুপ্ত রাজনীতিতে। হয়ে ওঠে দুর্ধর্ষ ডাকাত, ভয়ংকর খুনি। তিরাশিবার তাকে গ্রেপ্তারের ব্যর্থ চেষ্টা করে পুলিশ। তার অস্তিত্ব নিয়ে তৈরি হয় সংশয়। কারণ পুলিশ তো কখনো সরাসরি তাকে দেখেনি, দেখেছে সেনা সদর দপ্তর থেকে সংগৃহীত পাসপোর্ট সাইজের তার একটা সাদাকালো ছবি। ছবির মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে বাস্তবের মানুষটিকে গ্রেপ্তার করা তো দুষ্কর। ফলে মুলুক হয়ে ওঠে কিংবদন্তির মানুষ।

সাংবাদিকের অনুসন্ধানে একদিন বেরিয়ে আসে মুলুকের জীবিত থাকার প্রমাণ। অবশেষে সে গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে মুলুক আবার পালিয়ে যায় আদালত চত্বর থেকে। আশ্রয় নেয় উদারপন্থী প্রয়াত এক বাউলের মাজারে। উদার, বহুত্ববাদী ও সংগীতসাধক বাউল আর সাধু-সন্ন্যাসীদের সংস্পর্শে থেকে বদলে যায় মুলুক। দীক্ষা নেয় মরমীবাদের। যাকে গ্রেপ্তার করাটা গোটা পুলিশ বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, একদিন সেই মুলুক আত্মসমর্পণ করে থানায়। কিন্তু সে আদৌ মুলুক কি না নিশ্চিত হতে পারে না পুলিশ। তৈরি হয় নতুন জটিলতা। পরবর্তীকালে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আটষট্টিটি মামলায় এক শ তেতাল্লিশ বছরের কারাদণ্ড হয় তার। পৃথিবীর সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুলুক হয়ে ওঠে কারাগারের প্রধান জল্লাদ। একাত্তরের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী, পঁচাত্তরের খুনি এবং জঙ্গিসহ কার্যকর করে তেত্রিশজন কুখ্যাত গণশত্রুর ফাঁসি। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে তার নাম। তাকে ঘিরে তৈরি হয় নানা মিথ। তার জীবনকথা নিয়ে গাথা রচনা করেন সংগীতসাধক ভুবন সাধু। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ, শাপলায় হেফাজতের উত্থান, ২০১৩ পরবর্তী জঙ্গিদের ভয়াবহ সব হামলাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি রাজনৈতিক ঘটনাকে ধারণকারী প্রায় তিন শ পৃষ্ঠার উপন্যাস ‘মায়ামুকুট’। উপন্যাসের চরিত্র হয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চ সংশ্লিষ্ট অনেকে।

উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মুলুক আর কেউ নয়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহজাহান, যিনি জল্লাদ শাহজাহান নামে পরিচিত। তিনি দেশের প্রধান জল্লাদ। বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। ২০১৩ সালের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকে জল্লাদ শাহজাহানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনটি পড়ে ‘মায়ামুকুট’ উপন্যাসটির আইডিয়া পান স্বকৃত নোমান। প্রতিবেদনটির স্ক্রিনশর্ট ই-মেইলের ড্রাফটবক্সে রেখে দিয়েছিলেন এমন ভাবনা থেকে যে, কোনোদিন হয়ত কাজে লাগবে, কোনোদিন হয়ত শাহজাহানকে নিয়ে একটা উপন্যাস লিখতে পারবেন।

জল্লাদ শাহজাহানের বৈচিত্র্যময় জীবন উপন্যাসটির কাহিনিসূত্র মাত্র। শেষ পর্যন্ত উপন্যাসের কাহিনি সর্বাংশে শাহজাহানের বাস্তব জীবন সম্ভূত থাকেনি। শাহজাহান হয়ে উঠেছে লেখকের একটি কল্পিত চরিত্র। সেই চরিত্রের সঙ্গে বাস্তবের শাহজাহান জল্লাদের জীবনের মিল খোঁজার কোনো অবকাশ নেই।

উপন্যাসটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোমিন উদ্দীন খালেদ। দাম রাখা হয়েছে ৪ শ টাকা। বইমেলার শুরু থেকেই অন্যপ্রকাশের স্টলে উপন্যাসটি পাওয়া যাবে।

‘মায়ামুকুট’
স্বকৃত নোমান 
প্রকাশক : অন্যরকাশ


স্মৃতি ভদ্রের নতুন বই
 অলোকপুরীর ডাক 
পেন্সিল-জাগৃতি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় পুরষ্কারপ্রাপ্ত গল্পগ্রন্থ ' অলোকপুরীর ডাক' গল্পকার স্মৃতি ভদ্রে'র প্রথম বই। বইটি প্রকাশিত হয়েছিলো 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮' তে। দশটি গল্প সংকলিত হয়েছে বইটিতে। গল্পগুলোর নাম: জল জ্যোৎস্না, জলরং ছবি, মাটির মায়া, অলোকপুরীর ডাক, বেহাগ, বদলে যাওয়া, মুক্তির আলো, নিমফুল, শ্যাওলা জীবন, সূর্য সন্তান। 

'জল জ্যোৎস্না' গল্পটির ভাষায় আছে মাটিমাখা গন্ধ। ডিঙ্গিনৌকা বেয়ে বিলের পানি কেটে এগোনো গল্পটির বুকের ভিতর রয়েছে বৃষ্টিভভেজা গন্ধের আকুলতা।'মাটির মায়া' গল্পটি বীরাঙ্গনা হাস্নাবানুর লাল-সবুজ পতাকা জয়ের গল্প। 'জলরং ছবি' গল্পটি একটি অটিস্টিক শিশু আর তার মায়ের যুদ্ধ নিয়ে রচিত। এভাবেই গল্পকার স্মৃতি ভদ্রে'র ' অলোকপুরীর ডাক' বইটি হয়ে ওঠে দেশ, সমাজ বা সময়ের একটি বাঙময় পটচিত্র। 

জীবনের নকশীকাঁথায় থাকে হরেক রকম গল্প, হরেক রঙের বুনন। সেই হরেক রঙকে নিজের লেখায় বর্ণে বর্ণে ধারণ করতে লেখকের প্রচেষ্টা ছিল অবিরত। মানব সম্পর্কের নিঁখুত আঁকিয়ে হতে লেখকের চেষ্টা ছিল প্রাণান্তকর। আর এরসাথে প্রকৃতির সৌন্দর্য্যের আভা ঠিকঠাক অক্ষরে আনতে বদ্ধপরিকর। তাই এই বইয়ের গল্পগুলির অক্ষরে অক্ষরে লেখকের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, চিরায়ত মানব সম্পর্কের রূপের সাথে প্রকৃতির রূপের বিভিন্নতা এসেছে একসাথে। গল্পগুচ্ছের কোনো গল্পের বিষয় হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ আবার কখনো একাকী বীরাঙ্গনার জীবন। কোনো গল্পে জীবন একান্ত নিজের চাওয়ার প্রাধান্যে ধূসর রঙের ছলছাপ আবার কোনো গল্প অটিজমকে জয় করতে চাওয়া এক যোদ্ধা মায়ের গল্প। কোনোটা নিমফুলের শুভ্রতা আর শুভ্রাংশুর রূপালী মায়া জীবনে জড়াতে আকুল এক মেয়ের গল্প। প্রতিটা গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে আটপৌরে জীবন ছাপিয়ে অন্য এক আলোকিত ভুবনের প্রতি এগিয়ে যাবার অনড় সংকল্প। সেই অলোকপুরীর ডাক, যা চরিত্রগুলোকে যুগিয়ে গেছে জীবন জয়ের মন্ত্র, শিখিয়ে গেছে মুহূর্তই জীবন আর জীবন মুহূর্তের এক অসম্পাদিত রূপ। 

 অলোকপুরীর ডাক 
 স্মৃতি ভদ্র 
প্রকাশনী : জাগৃতি প্রকাশনী 
মূল্য: ২০০ টাকা 
প্রকাশকাল: ২০১৮ বইমেলা 
প্রাপ্তিস্থান: দীপনপুর 
অনলাইন পরিবেশক: রকমারি.কম 
স্মৃতি ভদ্রের দ্বিতীয় বই
অন্তর্গত নিষাদ ও পায়রা রঙের মেঘ 
অমর একুশে বইমেলা-২০১৯ এ আসছে স্মৃতি ভদ্রে'র দ্বিতীয় বই 'অন্তর্গত নিষাদ ও পায়রা রঙের মেঘ। দশটি ছোট গল্পের সংকলন বইটি। গল্পগুলোর নাম: আবর্তন, নিষাদ, খাঁচা, কাঁচের দেয়াল, কালপুরুষ, উত্তরালয়, চতুষ্কোণ, উত্তরাধিকার, বৃত্তের বাইরে, সমুখে কৃষ্ণপক্ষ।

কেন গেলাম জল ভরিবারে
যাইতে যমুনার ঘাটে
সেখানে ভুলিলো বাটে 

আঁধার গরাসিলো মোরে---- ব্রজহরী সম্প্রদায়ের লীলা কীর্তন শুনতে আসা রাধা, তার বাবা শিবু রোহিদাস, একটি সোনা রঙের জুতা আর স্কুলঘরের সাথে লেপ্টে থাকা কিছু ছায়ার গল্প 'সমুখে কৃষ্ণপক্ষ'।

' চারপাশে কয়েকটি গুলির খোসা, একটি দেশী পিস্তল আর কয়েক বোতল সিরাপ চারপাশে ছড়ানো থাকলেও রোকনের চোখ অনেকদূর একটি বাড়ির দিকে। সেই বাড়ির ষাট পাওয়ারের বাতির দিকে। সেই বাতির হলুদ আলো চোখে ঘোর ধরিয়ে দেয়। রঙ বদলে যেতে থাকে দ্রুত। লাল কমলা হয়ে নীল। সে নীল রোকনকে ছুঁয়ে আকাশে গিয়ে মেশে। আর তখনই রোকনের গা ঘেঁষে পাঁকের মধ্যে ফুটে ওঠে একটি পদ্ম। আলো ছড়ানো পদ্ম।' রোকন, বর্তমান সমাজের অবক্ষয় আর একটি পদ্ম ফুলের গল্প নিষাদ।

' গতকাল ঠিক এই সময় বা এর কয়েকমিনিট আগেপরে যখন বাথরুমে জলের কল একঘেয়ে সুর তুলছিলো, হাত পিছলে চন্দন সাবানটা দু'একবার পড়ে গিয়েছিলো। বাথরুমের বাতাসে চন্দন সুবাস মৌ মৌ করছিলো। তখন সুনয়না ব্যাপারটা নিয়ে খুব ভাবছিলো। এমনটা তো হবারই কথা ছিল। তবে কি খুব তাড়াতাড়ি নিয়ে হয়ে যাচ্ছে, নাকি সঠিক সময়েই তা নিয়েই মনের ভিতর একটা দ্বন্দ্ব কুটকুট করছিলো। এরপর পরই ঠান্ডা জলে গা ধুতে ধুতে সুনয়না সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলে' সময়ের অমোঘ নিয়ম পরিবর্তন। তবে সেই পরিবর্তনে যাপিত সময় বা একটি পেয়ারা গাছের ম্লান ছায়া কিভাবে মূখ্য হয়ে ওঠে তা নিয়েই গল্প 'উত্তরালয়'।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন