রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮

উম্মে মুসলিমা'র গল্প কাস্টিং কাউচ


খন এ বয়সে র‌্যাম্পে না হাঁটলেও র‌্যাম্প মডেলদের প্রশিক্ষক হিসেবে আনাইজা খুব জনপ্রিয়। বিভিন্ন পণ্যের মডেল হিসেবে বিজ্ঞাপন নির্মাতারা এখনও আনাইজাকে উঠতি মডেলদের চেয়ে বেশি মূল্য দেয়। যে বিজ্ঞাপনে আনাইজার মুখ, সে বিজ্ঞাপন সফল, পণ্যের কাটতি মাথা খারাপ করা।

আজ এদেশ, কাল ওদেশ করা লাগে বলে এগার বছরের ছেলে তানসেনকে দিল্লিতে ভালো আবাসিক স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। অরণ্য অবশ্য না করেনি। কারণ অফিসিয়াল কাজে অরণ্যকে প্রায়ই দিল্লি যেতে হয়। দিল্লিতে আনাইজারও প্রোগ্রাম থাকে। সুতরাং ছেলেকে বেশিদিন না দেখে থাকার কষ্ট করতে হয় না। কেবল দুজনেরই যখন ব্যস্ততা কম থাকে তখন তানসেন ছাড়া ওদের খুব একা লাগে। 

‘মার্চে একটা কাজ আছে দিল্লিতে। তুই একটা ম্যানেজ কর আনা। চল দুজন মিলে বাপিকে নিয়ে মানালি ঘুরে আসবো’ 

‘সেইসাথে যদি ডাক্তার দেখাস তাহলে কাজ না পড়লেও যাব’। 

অরণ্যের উচ্ছাসে অন্ধকার নামলো। কী যে হয়েছে অরণ্যের বছরখানেক হতে চললো কিছুতেই পারছে না। আগের চেয়ে একটু স্বাস্থ্য ভালো হয়েছে ওর। আর আনাইজা তো মেদহীন পানসি তরী। ক্যামেরায় একটু মোটা দেখায় বলে বাস্তবে মডেলদের প্রায় হাড্ডিসার হয়ে থাকতে হয়। 

আনাইজার বয়স প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি, অরণ্যেরও তাই। একই ব্যাচের ওরা। অরণ্য এমবিএ,আনাইজা চারুকলার। একযুগ হতে চললো ওদের বিয়ের। মানসিকতায় কোন টানাপোড়েন নেই। অরণ্য নির্ভেজাল জেন্ডার সংবেদনশীল মানুষ। একে অন্যের পেশাকে দুজনেই শ্রদ্ধা করে। কিন্তু প্রেমটা সেরকম জমে উঠছে না বেশ কিছুদিন হলো। এখন তো প্রেম বলতে রাতের বিশেষ সময়টুকু। আনাইজা পুরোপুরি নগ্নদেহে অরণ্যকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। কখনও কখনও নিরাবরণ হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়। অরণ্য লক্ষ করে কী নির্মেদ! যেন কাঠপেন্সিলে আঁকা কয়েকটি রেখার টান। আনাইজা মুখ বাড়িয়ে দিলে অরণ্য চুমোয় সাড়া দেয়। আগে যেমন চুমো খেতে গেলেই আনাইজার জিব চোষা ওর স্বভাব ছিল,এখন আর সেরকমটি করে না। একটু নাহয় মোটাই হয়েছে অরণ্য। তাই বলে ইচ্ছে টিচ্ছে বেমালুম উবে যাবে? বিশেষ করে ছেলেকে দিল্লি দেয়ার পর থেকে যেন আরও বেশি। দুটো ধাক্কাতেই খেল খতম। আনাইজা একটু বিরক্ত। 

‘দুশ্চিন্তা করিস নাকি বাপিকে নিয়ে? না কি কাজের প্রেশার বেশি? এত ডেটোরিয়েটেড করছে কেন?’ 

‘বুঝতে পারছি না। ইয়াবা টিয়াবা ধরবো নাকি?’ 

‘হ্যাঁ,ইয়াবা খেয়ে মরে পড়ে থাক। পরদিন সংবাদপত্রে ‘দেশের জনপ্রিয় মডেল আনাইজার কক্ষ থেকে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার। ক্রমাগত ইয়াবা সেবনেই মৃত্যু বলে প্রাথমিক ধারণা’ প্রকাশ পাক। বলে হি হি করে হেসে বিছানায় গড়িয়ে পড়ে আনা। কাত হয়ে শুয়ে পড়াতে ওর কাত হয়ে থাকা স্খলিত স্তন অরণ্যকে আরও বিমুখ করে তোলে। যা-ও বা একটু আসি আসি করছিল নিমিষে পান্তা। 

‘এই চল,পর্ন দেখি একটা। ওতে কিছু কাজ হবে আশাকরি’ বলে অনাবৃত সুতনুকা শরীর নিয়ে টিভির পেছনে দাঁড়ায় আনা। আনার ঈষৎ খাঁজকাটা সরু কোমর আর জলভরা ঘটের মত সুললিত নিতম্ব আবার জাগিয়ে দেয় অরণ্যকে। অরণ্য আনার পেছনে লেপটে দাঁড়ায়। আনা ঝড়ের পূর্বাভাস পায়। কঠিন স্পর্শে খানিক আশাবাদী হতেই পারে। আনা ঝুঁকে পড়ে সহযোগিতা করতে চায়। অরণ্য আবার ব্যর্থ হয়। 

‘নামেই অরণ্য। তুই একটুও বুনো নোস’। 

তাই বলে আনাইজা যে এ কারণে সার্বক্ষণিক অসুখি তা কিন্তু নয়। ওর এত সৃজনশীলতা,এত ব্যস্ততায় ওর যৌনতাও গৌন হয়ে পড়ছে দিনদিন। ওর বরং অরণ্যের জন্য মায়াই হয়। আহারে বেচারা! ওতো চেষ্টাই করে। মেয়েদেরকে তো আর কিছু দাঁড় করাতে হয় না। 

‘এটা কি শরীরের অন্য কোন অসুস্থতার প্রভাব? বা মোটা হওয়াতে মেদের কারণে হতে পারে? ইরেকশনের পারসেন্টেস প্রায় জিরো পর্যায়ে।’ দুজনেই ডাক্তারের সাথে দেখা করে প্রশ্ন করে আনাইজা। 

‘উনি যেটুকু মোটা সেটা খুব স্বাভাবিক। অতিরিক্ত কিছু নয়। কাজের স্ট্রেস থাকলে কমাতে হবে। একসাথে কদিনের জন্য অন্য কোথাও ঘুরে আসুন। একইঘর, একই পরিবেশ অনেকসময় মনোটোনাস হয়ে যায়। একইধরনের আসনও ব্যর্থতার কারণ’। 

‘চাঁদু,আমি যে কত আসন ট্রাই করি তা যদি জানতে?’ মনে মনে বলে আনাইজা। 

আনাইজার মতো সুন্দরী সেলেব্রিটির সাথে কথা আর শেষ করতে চায় না ডাক্তার। তার ওপরে এমন বিষয়! 

‘তাহলে বরং আমরা দেশের বাইরে একটু ঘুরে আসি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ’। নিজের অক্ষমতার কথা বসে বসে শুনতে কার আর ভালো লাগে? অরণ্য দ্রুত বেরিয়ে যেতে চায়। 

একসাথে দিল্লি যাবে বলে সিদ্ধান্ত নিলেও কেউ কারো সিডিউল মেলাতে পারলো না। অরণ্য মাসের তের তারিখে দিল্লি প্রোগ্রাম দাঁড় করালো। পাঁচদিনের তিনদিন অফিসিয়াল। দুদিন বাপিকে নিয়ে ঘোরা। কিন্তু আনাইজা ফ্রান্স থেকে ভালো একটা অফার পেল সতের তারিখের। দিন দশেকের। ঠিকাছে, দেয়ার ইজ ওলওয়েজ নেক্সট টাইম। অরণ্য একটু মন খারাপই করলো। বাপিকে নিয়ে কত প্রোগ্রাম সাজিয়েছিল। কিন্তু আনাইজার প্রশিক্ষণের বিষয় হলে অরণ্য কোনদিন আপত্তি করেনি। আনাইজার কাজকে অরণ্য যেমন মূল্য দেয় তেমনি ওর সৃজনশীলতার উত্তরণও আশা করে। একবার ফ্রান্সের একটা লোকাল ম্যাগাজিন আনাইজার ছবি কভার করেছিল। অরণ্যের পরিচিত এমন কেউ নেই যাকে অরণ্য ম্যাগাজিনটা দেখায়নি। আনার স্বামী হিসেবেও অরণ্যর খানিক গৌরব আছে বৈকি! 

অরণ্যকে বিদায় দিয়ে আনাইজা গোছগাছ শুরু করে দিল। এরই মধ্যে তিনটা মিটিং ও দুইটা র‌্যাম্প অর্গানাইজ করতে হবে দেশে তাকে। সন্ধ্যার পর ফিরে দেখে ফ্ল্যাটের কেন্দ্রিয় কমিটির মেম্বাররা মিটিং করছে। গতকাল নাকি এক চোর হাতেনাতে ধরা পড়েছে। সবাই যাতে বাসায় সিসি ক্যামেরা বসায় তারই মিটিং। সিসি ক্যামেরার এক কোম্পানি অনেকগুলি ক্যামেরা নিয়ে এসে বসেছে। এত ছোট ও হ্যান্ডি যে অনুসন্ধিৎসু চোখ ছাড়া অবস্থান নির্ণয় করাই কঠিন। আনাইজা ক্যামেরা কিনে নিল। একইসাথে সেটও করে নিল। ওরা স্বামী স্ত্রী দুজনেই হয়তো কখনও কখনও একই সময়ে বিদেশে থাকে। বাসা একদম খালি। এমন জায়গায় বসানো থাকবে যে টেরও পাওয়া যাবে না। আনাইজা দুটো কিনে নিল। ওর টিভি ফ্রিজ নিয়ে যাক চোরে। কিন্তু দেশ বিদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে আনা আনাইজার শখের প্রায় অমূল্য শোপিসগুলো চুরি হলে ও মরে যাবে। ওসব আর দ্বিতীয়বার কেনার কোন সামর্থ আর সুযোগ ওর নেই। 

সিসি ক্যামেরায় নিজের গতিবিধিও একবার পরখ করে নিল। তারপর বাসা ভালোমত লক করে আনা ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল। 

একটা সফল টুর শেষ করে ফিরলো আনাইজা সকালের ফ্লাইটে। আনা বিদেশ থেকে দুদিনের টুর শেষ করে এলেও অরণ্য ঢাকায় থাকলে এয়ারপোর্টে ওকে নিতে আসবেই। দুর্ভাগ্য, ঐদিন ভোরেই অরণ্য একদিনের জন্য চট্টগ্রাম গেছে। ফিরবে পরদিন। টানা দশদিন কাজ করেও যে ক্লান্তি আসেনি আনাইজার,অরণ্য নেই শুনে এক মুহূর্তে রাজ্যের ক্লান্তি ভর করলো। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বাপির খবর নেবে,নিজের প্রোগ্রামের খুঁটিনাটি জানাবে,অরণ্যের বুকের মধ্যে ভ্যাদা মাছের মত খলবল করবে, তা না..। 

চারটে খেয়ে গোসল সেরে টানা ঘুমালো আনাইজা। বিকেলে উঠে চা নিয়ে বসলো। একা একা কী আর করা? ইউটিউবে একটা মুভি দেখা যেতে পারে। টিভি অন করে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে সার্চ করতে লাগলো। দশদিনের পেপার সুন্দর করে গুছিয়ে রেখে গেছে অরণ্য। একটা পেপার নিয়ে বসেই মনে পড়ে গেল ফ্রান্সে যাওয়ার আগে সিসি ক্যামেরা সেট করে গিয়েছিল। অরণ্যকে জানানোই হয়নি। নাকি অরণ্য দেখেছে? ক্যামেরা নিয়ে বসে মোবাইল মনিটরে দেখতে চাইলো কেমন ছিল তার ঘরসংসার। 

দৃশ্যপট - ১ 

২১ তারিখ। সন্ধ্যা ৬.৪৪। অরণ্য দরজা খুলে দিচ্ছে। একটা মেয়ে খানিক দাঁড়িয়ে কথা বলে ফিরে যাচ্ছিল। অরণ্য তাকে বাসায় ঢুকতে কয়েকবার আহবান জানানোতে মেয়েটি এসে কাউচে বসলো। এ মেয়েটিকে আনাইজা চেনে। ওর কাছে বেশ কদিন এসেছে। মডেলিং করতে চায়। মেয়েটি সুন্দরী। যথেষ্ট লম্বাও। কিন্তু মডেল হবার পূর্বশর্ত যে অতিরিক্ত স্লিম ফিগার সেটা মেয়েটির ছিল না। বেশ মোটা ধাঁচের। আনাইজা ওকে জিমে ভর্তি হতে বলেছিল। ২০ কেজি ওজনও কমাতে বলেছিল। কিন্তু ক্যামেরায় মেয়েটিকে বেশ মোটা দেখাচ্ছে। কমাতে পারেনি মনে হচ্ছে। একটা শার্ট আর জিনস পরা। অরণ্য মেয়েটির সাথে খুব হেসে হেসে কথা বলছে। ম্যাগাজিন র‌্যাক থেকে বেশ কয়েকটা ম্যাগাজিন মেয়েটির হাতে ধরিয়ে দিয়ে অরণ্য কিচেনের দিকে গেল। একটু পরেই চা আর বিস্কুটের ট্রে হাতে মেয়েটির সামনে হাজির হলো। মেয়েটিকে সার্ভ করেই একেবারে গা ঘেষে বসলো। চা খেতে খেতে কী বলাতে মেয়েটি হেসে গড়িয়ে পড়ছে। অরণ্য মেয়েটির চিবুক ধরে নাড়াচ্ছে। মেয়েটি যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালো। অরণ্য মেয়েটির কোমর,পাছা,কাঁধ ছুঁয়ে ছুঁয়ে পরখ করছে আর হাত নেড়ে নেড়ে কী যেন বুঝাচ্ছে। বেশ অনেকক্ষণ চললো দৃশ্যটি। মেয়েটি বেশ আড়ষ্ট ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে। অরণ্য আরও কিছু বলার পর মেয়েটি দরজার দিকে এগোলো। অরণ্য হাত বাড়িয়ে দিলে মেয়েটিও হাত দিল। অরণ্য মেয়েটির হাতে একটা চুমো খেল। মেয়েটি বেরিয়ে গেলে দরজা বন্ধ হলো। 



দৃশ্যপট - ২ 

২৩ তারিখ। সন্ধ্যা ৭.৫৬। অরণ্য দরজা খুলছে। শাড়ি পরে মেয়েটি ঢুকলো। অরণ্য দুহাত প্রসারিত করে সংবর্ধনা জানালো। প্রশংসাসূচক কিছু বললো দেখে মেয়েটি লজ্জায় অধোবদন হলো। মেয়েটিকে দুবাহুর মধ্যে টেনে নিল অরণ্য। আনাইজা অফ করে দিল। ওর মাথা ঘুরছে। বুকের মধ্যে দুড়দাড় করছে। কিন্তু একটু পরেই আবার অন করলো। অরণ্য টেবিলের ওপর থেকে পিজ্জার প্যাকেট খুলছে। দুটো প্লেটে বেড়ে নিয়ে খাচ্ছে আর কথা বলছে। অরণ্য একাই বলছে। মেয়েটি উঠে দাঁড়িয়ে প্লেটটা টেবিলের ওপর রাখছে। অরণ্য পেছন থেকে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরলো। মেয়েটি ঘুরে দাঁড়াতেই অরণ্য তাকে বুকে চেপে চুম্বনে ভরিয়ে দিচ্ছে। অরণ্য দ্রুত হাতে একটা একটা করে মেয়েটির শাড়ির সেপ্টিপিন খুলছে। মেয়েটিকে পুরোপুরি নগ্ন দেখাচ্ছে। স্বাস্থ্যে টইটুম্বুর দেহবল্লরী! মেয়েটির সুগঠিত স্তনে আলতো করে হাত বুলিয়ে তাকে পাঁজাকোলা করে কাউচে শুইয়ে দিল। নিজে শার্টপ্যান্ট খুলে ফেলছে অরণ্য। ওর শিশ্ন চরমভাবে উত্থিত। হাত বাড়িয়ে লাইট অফ করে দিল। 

দৃশ্যপট - সেদিনের সন্ধ্যা 

কখন এতো অন্ধকার নামলো? বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এই জুনের সন্ধ্যা এত অন্ধকার কেন? কাউচে বসে থাকতে আনাইজার ঘেন্নায় গা রিরি করছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য আরেকটা মুভি শুরু হয়ে গিয়েছে। ও টিভি অফ করে দিল। মোবাইলে টুট টুট করে অরণ্যের ম্যাসেজ আসছে ‘বেবি, মিস ইউ। রওনা দিলাম। কাল সকালেই দেখা হবে হোপফুলি। ভাল থাকিস। কিস ইউ’। 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন