সোমবার, ৮ জুলাই, ২০১৯

খূয়ান রুলফো'র গোল্পঃ লগন চাঁদা

অনুবাদঃ জয়া চৌধুরী

নর্দমার পাশে বসে আছি, পাহারা দিচ্ছি যাতে ব্যাঙেরা বের হয়ে আসে। কাল রাতে আমরা যখন রাতের খাবার খাচ্ছিলাম, একটা বড় হইহল্লা জড় হতে শুরু করল। রাতভর সেটা চলল। ভোর হওয়া পর্যন্ত থামলই না। আমার সৎ মাও বলেছিল ব্যাঙগুলোর ডাক শুনে ঘুমের মধ্যেও চমকে উঠেছিল মা। এখন মার বেশ ভাল রকমের এক ঘুম দেবার ইচ্ছে।
তাই আমাকে বলল এখানে নর্দমার পাশে বসে থাকতে। এক হাতে একটা নামতার টেবিল ধরানো। দূরে লাফ দেবার জন্য যতগুলো ব্যাঙ বের হয় তার সংখ্যা হাতে গোনা। বড় গুণতির জন্য অ্যাবাকাসটাতে চাপ দিই। পা থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যাঙগুলো সবুজ, পেটের দিকটা একটু ফ্যাকাশে। আর কোলাব্যাঙগুলো কালো।

সৎ মার চোখগুলোও কালো। ব্যাঙগুলো খেতে ভাল। কোলাব্যাঙ খাওয়া হয় না বটে, কিন্তু আমি ওদেরও খেয়েছি। লোকজন ওদের খায় না যদিও জানে ওরাও ব্যাঙই। ফেলিপা হল সেই মেয়ে যে বলে “কোলাব্যাঙ খাওয়া খারাপ”। ফেলিপার চোখদুটো বেড়ালের চোখের মত সবুজ। ফেলিপা-ই হল সেই ব্যক্তি যে আমাকে রান্নাঘরে প্রতিবার খেতে দেয়। সে-ই আমায় বলে ব্যাঙগুলোকে জ্বালাতন না করতে। কিন্তু সৎ মা ততক্ষণে আমায় অন্য কোন কাজে পাঠিয়ে দেয়। সৎ মার চেয়ে ফেলিপাকে আমি বেশি ভালবাসি। কিন্তু মাও এমন মানুষ যে কি না রাগ হলেও টাকা বের করে ফেলিপাকে দেয় খাবারঘরের জিনিষপত্র কিনে আনতে। একমাত্র ফেলিপাই তিনজনের রান্না করে সেখানে। যতদিন ধরে তাকে আমি চিনি সে এ কাজটাই করে আসছে। আমার পালা আসে বাসন মাজার সময়। উনুনের জন্য কাঠ নিয়ে আসে ও তারপর আমাদের কাজের পালা। আর সৎ মাই হল সেই ব্যক্তি যার ওপর দুজনকে ভার খেতে দেবার। খাওয়ার পরে মা দুটো থালায় পাহাড়ের মত পরিমাণ বেড়ে দেয় আমাদের। কখনও কখনও ফেলিপার খিদে পায় না , তখন আমাকে ওরটাও খেতে হয়। তাই আমি ফেলিপাকে ভালবাসি। কারণ আমার তো সব সময়ই খিদে পায়। যতই খাই না কেন আমার কখনই খিদে মেটে না। এমনকী ওর খাবারখেতে খেতেও আমার খিদে মেটে না। যদিও লোকে বলে খেতে খেতেই তাদের পেট ভরে যায়, আমি কিন্তু ভালই জানি ওরা আমায় যে পরিমাণ খাবার দেয় সেটা পুরোটার চেয়ে বেশি খেলেও আমার পেট কখনই ভরবে না। আর ফেলিপাও একথা জানে। 

লোকজন পথেঘাটে আমায় পাগলে বলে। বলে তাই নাকি আমার খালি খিদে পায়। কখনই মেটেনা তা। আমার সৎ মা একথা শুনেছে লোকজনের কাছে। আমি শুনি নি। মা আমায় কখনও একলা ছাড়ে না পথে। কখনও যদিও বা আমায় বের করে সে শুধু গির্জায় প্রার্থনা সভায় যাবার জন্য। একদম নিজের গা ঘেঁষে আমায় বসায় আর আমার হাতদুটো তার জামার প্রান্ত দিয়ে বেঁধে রাখে। জানি না কেন মা আমায় বেঁধে রাখে। কিন্তু মা বলে বেঁধে না রাখলে আমি নাকি পরে পাগলামি করব। একদিন নাকি আমি অন্য আর একজনের হাত ধরে চলে যাচ্ছিলাম। এমনকী একজন মেয়ের হাত ধরে চলে যাচ্ছিলাম যে কি না বেদেনী ছাড়া আর কিছুই না! আমার অবশ্য মনে পড়ে না। কিন্তু এসব কিছুই আমার সৎ মা যা যা বলেছে সে সব সত্যি। কারণ মা তো কখনও মিথ্যে কথা বলে না। আমায় যখন খেতে ডাকে তখন আমার ভাগের খাবারটা দেবার জন্যই ডাকে। অন্য লোকজনের মত নয় যারা আমাকে খেতে ডাকে কিন্তু গেলে পরে খেতে না দিয়ে পাথর ছুঁড়ে মারে। নাঃ আমার সৎ মা এমনটা নয়। তাই তো মার বাড়িতে আমি সুখী। তার ওপর ফেলিপাও ওখানেই থাকে। আমার সঙ্গে সে খুব ভাল ব্যবহার করে। ওই জন্যই তো আমি ওকে ভালবাসি... ফেলিপার দুধ যেন সমাধিস্থলে থাকা ফুলের মত সাদা। আমি মাদীছাগলের দুধ খেয়েছি... কিন্তু নাঃ কোনোটাই ফেলিপার দুধের মত ভাল না... এখন অনেক দিন হল ও আমায় ওর মাই চুষতে দেয় না। সেখানে কেবল বুকের পাঁজর থাকে। সেখান থেকে কিভাবে টেনে বের করে আনব তা জানতে থাকি আমি । রোববারের দুপুরগুলোতে সৎ মা যখন আমাদের দুধ খেতে দেয় তার চেয়েও অনেক ভাল দুধ সেটা...

যে ঘরে আমি ঘুমোই আগে সে ঘরে ফেলিপাও ঘুমোত। প্রতি রাতে সে আমাকে আমার ওপর শুয়ে পড়তে পড়তে নয়ত আমাকে এক পাশে সরাতে সরাতে কাছে টেনে নিত। তারপর আমার মুখে বোঁটা গুঁজে দিত যাতে সেই মিষ্টি আর গরম দুধ আমি খেতে পারি। যেটা জিভ দিয়ে স্রোতের মত আসত... উপভোগ করে খিদে মেটানোর জন্য আমি সমাধিস্থলের ফুলও খেয়েছি। ফেলিপার দুধ এমন স্বাদের যে কেবল ওটাই আমি বেশি পছন্দ করতাম। কারণ সেই সময় আমার মনে হত আমি নেশা করছি। ফেলিপা আমায় সব দিক দিয়ে আনন্দ দিত। তারপর হত কি সব সময়েই সে আমার সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ত ভোর পর্যন্ত। এভাবেই সে আমার বহু সেবা করেছে। কেননা আমি ঠান্ডায় জমেও শেষ হতাম না কিংবা কোন নারকীয় ভয়ও আমায় পেয়ে বসত না। কোন রাতেই আমি ওখানে একা একা মরতাম না। 

অতখানি নারকীয় ভয়ও আমি ওকে সবসময় দেখাতাম না। অবশ্য কখনও কখনও... হ্যাঁ দেখাতাম। তারপর আমার পোষা ভয়টাকে দেখাতে ভালবাসতাম যে- কোন একদিন আমি নরকে ডুবে যাব। মাথাটা আমার খুব শক্ত হবার দরুন যার সঙ্গেই দেখা হোক না কেন প্রথমেই তাকে মাথা দিয়ে গুঁতিয়ে দিতাম। কিন্তু ফেলিপা আর আমার ভয়গুলোই আমাকে চমকে দিত। ও যেমন জানে তেমনি করেই হাত দিয়ে আমাকে কাতুকুতু দিত আর আমি “কোনদিন মরে যাব” এই ভাবনাটা থামিয়ে দিতাম। ফেলিপা বলত... ভুলে যাবার ঠিক আগমুহূর্তের জন্য ওর আমার সঙ্গে থাকতে ইচ্ছে করত। যাতে পাদ্রীকে আমার পাপ সম্বন্ধে সে জানায় যাতে তাঁর বাণী শুনে দ্রুত স্বর্গে যেতে পারি। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চায় যাতে তিনি আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত গিজগিজ করা সব পাপ ক্ষমা করে দেন। পাদ্রীমশাই যাতে ফেলিপাকে বলেন সে যেন এসবের জন্য আমায় বেশি উত্তেজিত না করে তোলে। সে কারণে ফেলিপা নিয়মিত গির্জায় কনফেশন বক্সে যায়। এমন নয় যে সে নিজে বাজে মেয়ে, বরং আমিই শয়তানি দিয়ে মোড়া। আসলে ফেলিপা চায় এইসব কনফেশনের মাধ্যমে সে আমার শরীর থেকে শয়তানকে বের করে দেবে। প্রতিদিন। প্রতিটা বিকেল। সারাজীবন ধরে ও আমার হয়ে এ কাজ করে যাবে। ফেলিপা এমনই বলে। এভাবেই বলে যায় ফেলিপা। একারণেই আমি ওকে এত ভালবাসি...

যাই হোক শক্ত মাথা থাকা একটা বিরাট ব্যাপার। গোটা সময়টা জুড়ে করিডোরের বিরাট থামগুলোর ওপরে ছাদ ঝুলে থাকে। আর মাথাটা কিছু না করে স্রেফ থামগুলোর গায়ে গুঁতো দেয়। পুরো সময় ধরে ধাক্কা দিতেই থাকে, আর ধাক্কা সয়ে যেতে থাকে। মাথাটা ফুলে যায় না। আর কেউ একজন মেঝেতে মাথা ঠুকতে থাকে। প্রথমে আস্তে আস্তে তারপর জোরে জোরে...।ঠুকতেই থাকে। শুনে মনে হয় যেন ঢোলের আওয়াজ। যেন বাঁশি হাতে হেঁটে যাওয়া ঢোল। প্রভু যখন তাঁর বাঁশি হাতে হেঁটে আসেন। তখন কেউ গির্জায় মার কাছ ঘেঁষে বসে থাকে। দূরে ঢোলের দুম দুম আওয়াজ...

সৎ মা বলত আমার ঘরটা আরশোলা, ছারপোকা, বিছায় ভর্তি থাকে বলে , মেঝেয় নিজের কায়দায় মাথা ঠেকিয়ে থাকি – এভাবেই আমি নরক জ্বালিয়ে রেখে দেব একদিন। কিন্তু যেটা ভালবাসি সেটা হল ঢোলের আওয়াজ। এটা তো মার জানা উচিৎ। ওটা শোনা একটা বিশেষ ব্যাপার। যেমন গির্জায় যখন থাকি মা বেরিয়ে দেখবার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, আর ভাবে পাদ্রীর কড়া নিষেধ সত্ত্বেও কিভাবে অতদূর থেকে সে ঢোলের আওয়াজ শুনতে পায় আর পায় পাদ্রীসাহেবের গলা ..“ভালো কাজের পথ আলোয় ভরা থাকে। খারাপ কাজের পথ অন্ধকার”।

আমি উঠে পড়ি, তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে যাই। আকাশ তখনো অন্ধকার থাকে। রাস্তা ঝাঁট দিই। আর একবার দিনের আলো তাকে গ্রাস করে নেবার আগেই আমার ঘরটার দিকে তাকাই। পথে নানান ঘটনা ঘটতে থাকে। কখন সখনো ওরা একে অন্যকে দেখবে বলে মাথা সরিয়ে দেয়। পাথরের বড় বড় চাঁই বয়ে আনে ওরা। তারপর প্রয়োজন হয়ে পড়ে জামা মেরামত করা। আর অপেক্ষা করে থাকা অনেক অনেক দিন পরে যদি ওরা মেরামত করে দেয় মুখের ফাটাফুটি কিংবা হাঁটুর ব্যামোদের। আর একবার সহ্য করে যাওয়া যাতে তারা একে অন্যের হাত বেঁধে রাখে। কারণ ওদুটোকে বেঁধে না রাখলে ওরা ঘায়ের মামড়ি টেনে তুলব, আর তারপর আবার গলগল করে রক্ত বেরোনো শুরু হবে। সে অবশ্য প্রার্থনা করতে থাকে রক্তেরও যেন অমনই স্বাদ হয়। যদিও তা ফেলিপার দুধের মত স্বাদু নয়...

যাতে ওরা পাথর না ছোড়ে তাই আমি সবসময় বাড়ি থাকি। ওরা আমায় খেতে দেবার পরই নিজেকে বন্দী করে ফেলি। ভালভাবে দরজাটাও বন্ধ করি যাতে অন্ধকারে আছি ভেবে বেচারা পাদ্রী আমার গায়ে পাপ না দেগে দিতে পারে। আরশোলারা কোথা দিয়ে ফরফর করে গায়ে হেঁটে ওঠে সেটা দেখবার জন্য নিজের পেটটাকেও খামচে ধরি না। এখন আমি খুবই শান্ত। আমার বস্তার ওপর শুই। যখনোই আমার দিকে এগিয়ে আসা কোন আরশোলার পায়ের আওয়াজ পাই হাত বাড়িয়ে এক থাবড়ায় চেপ্টে দিই। তবে পেট খামচে ধরি না। আমার কম্বলের নিচে যে সব আরশোলারা লুকিয়ে থাকে সেটা হঠাত করে দেখে পেট খামচে হাঁটার মত পাপ করি না আমি। 

আরশোলারা বাজীর মতই হঠাত ঝলসে ওঠে। ঝিঁঝিঁপোকারা তেমন ঝলসায় কি না জানি না। আমি ঝিঁঝিঁপোকাদের কক্ষনও মারি না। পবিত্র প্রাণেদের চিৎকারে দুনিয়া ভরে যাবে আর ভয়ে আমরা সবাই হাত পা ছুঁড়ে ছোটাছুটি করব। তার ওপর ঝিঁঝিঁপোকাদের ডাক কান খাড়া করে শুনতে খুব ভালবাসি আমি। আমার ঘরে অনেকগুলো আছে। যে বস্তাটার ওপর আমি শুই মনে সেটার ভাঁজে ভাঁজে আরশোলার চেয়ে ঝিঁঝিঁপোকাদের সংখ্যা বেশি। সেখানে বিছেরাও থাকে। ঘরের ছাদ থেকে প্রত্যেকটা ইঁদুর টপাটপ করে পড়তে থাকে আর লোকজনের অপেক্ষা করতে করতে কোন আওয়াজ না করে তারা অপেক্ষা করতে থাকে নিঃশব্দে। যদি কোন ভাবে হাত নড়ে যায় কিংবা কাঁপতে থাকে সঙ্গে সঙ্গে পিকেটিং এর মত জ্বালা টের পায় মানুষজন। ব্যাথা করতে থাকে। ফেলিপাকে একবার পাছায় কামড়েছিল। আমি সেখানে লালা লাগিয়ে দিয়েছিলাম। গোটা রাতটা লালা লাগাতে লাগাতে আর ওর জন্য প্রার্থনা করতে করতে কাটিয়েছিলাম। কিছু সময় পরে যখন দেখলাম আমার ওষুধে কাজ হচ্ছে না তখন আমিও ওর সঙ্গে যতটা পারি সমান তালে কেঁদে যাচ্ছিলাম। 

গণপিটুনি ভালবাসে এমন সব মানুষের দৃষ্টি যে কোন উপায়ে আকর্ষণ করতে চেয়ে রাস্তায় হাঁটার চেয়ে আমি ঘরে থাকাই বেশি পছন্দ করি। এখানে আমায় কেউ কিছু করে না। সমাধিস্থলের ওপর রাখা ফুলগুলো কিংবা মেদিগাছ বা ডালিমগাছগুলো খেতে দেখলেও সৎ মা আমায় বকে না। মা জানে আমি খিদের চোটেই ঢুকেছি ওখানে কারণ আমার সবসময় খিদে পায়। জানে যে আমার থলি ভরার জন্য কোন খাবারই যথেষ্ট নয়। যদিও আমায় এখান ওখান থেকে খাবার খেতে দেখলে প্রতি মুহূর্তে খোঁটা দেয় সৎ মা। জানে আমাকে শুকিয়ে যাওয়া গারবানসো স্যূপ , শুকনো মোটা মোটা ময়দার রুটি দেওয়া যায়, সেসব আমি খাই যা শুয়োরদের খেতে দেওয়া হয়। তাই সৎ মা এও জানে ভোর থেকে রাত অবধি কতখানি খিদে নিয়ে হাঁটি আমি। সেই ফাঁকে কখনও এ বাড়িতেও খেতে দেয় , জানে এখানেই রাতে থাকব। কেননা আমি বিশ্বাস করি যেদিন খাবার পাব না সেদিন আমি মরে যাব। আর তারপর নিশ্চিত অধিকারে জানি আমি নরকে যাব। সেখান থেকে কেউ আমায় বের করে আনতে পারবে না। ফেলিপাও না। যদিও আমার জন্য সেটা খুবই ভাল হবে। আমার জপের মালাটা যেটা সৎ মা আমায় উপহার দিয়েছিল সেটা গলায় চেপে বসেছিল...

এখন আমি নর্দমার পাশে বসে আছি ব্যাঙ বেরোনোর অপেক্ষায়। যতক্ষণ বকবক করছি এই গোটা সময়টা জুড়ে আরো দেরী হচ্ছে। এমনও হতে পারে ঘুমিয়ে পড়ব আমি। তারপরে আমার আর কোন উপায় থাকবে না ওদের মারবার। আর সৎ মা যদি স্বপ্নেও ওদের ডাক শোনে তাহলে তাকে তো কোনভাবেই নিয়ে যেতে পারব না। রেগে কাঁই হয়ে যাবে মা। আর তারপর ঘরে রাখা সবকটা ভগবান নামের কারোকাছে চাইবে যাতে শয়তান এসে আমায় নিয়ে যায়। যাতে অনন্ত নরকে আমায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। সোজাসুজি কোন কনফেশন বা স্বীকারোক্তি করেও রেহাই পাবার কোন উপায়ও থাকবে না। আর আমি আমার বাবাকেও দেখতে পাব না কিংবা মাকেও না যারা ওই ওখানেই আছে।

তার চেয়ে বকবক করতে থাকি।

আমার আরো বেশি করে ইচ্ছে করছে ফেলিপার দুধ ক’ফোঁটা টেস্ট করতে। সেই ভাল দুধ মিষ্টি মধুর মত দুধ যা সমাধির নিচ থেকে বের হয়।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন