শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০

বাসুদেব দাশগুপ্ত'র গল্প : রন্ধনশালা

বনের ধারে ভেড়ার বাচ্চাটাকে একা একা অসহায়ভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখে তখুনি আমি সেটাকে খপ করে ধরে ফেললুম। ভেড়ার বাচ্চাটা ওর ধূসর দুটো চোখ তুলে আমার দিকে করুণ ভাবে তাকাল। আমি বাঁহাতে ওর পশমি নরমগৱম শরীরটাকে ভালো করে পাকড়ে ধরে ডানহাত দিয়ে ওর ঘাড়টা মুচড়ে দিলুম ওকে একটা আওয়াজ করবার বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়েই। আমার মোচড়ের সঙ্গে সঙ্গে ওর ঘাড়ের কাছের ছোট ছোট কচি কচি হাড়গুলো ভেঙে যাবার শব্দ শুনতে পাই--মুট মুট মুড়মুড় মুড়; আর সেই সাথে খানিকটা রক্ত ছিটকে এসে লাগে আমার মুখে, ঠোঁটে, নাকের ডগায়। ঘাড়ের কাছের হলদে লোমগুলো লাল হয়ে ওঠে মুহূর্তের মধ্যেই।
মুণ্ডুটা ছিড়ে মাটিতে ফেলে দেবার পরও ওকে আমি জড়িয়ে ধরে বসে থাকি। কেননা তখনও ওর শরীরটা আমার আলিঙ্গনের মধ্যে থেকে থেকে ছটফট করে উঠছিল, ওর দেহে তাপ ছিল তখনও। রবীন শিউরে উঠে দু'হাত দিয়ে ওর চোখ ঢাকল যেন সেই বীভৎস দৃশ্য সহ্য করতে না পেরেই বিশাল বনভূমি, আমি ও মৃতপ্রায় ভেড়ার বাচ্চাটিকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ বাদে ও চোখ থেকে হাত দুটো সরিয়ে নিয়ে সামনের দিকে তাকালে আমিও সম্মুখে তাকাই। অদূরেই আমাদের ঘর দেখা যায়, সাতসকালের পাতলা রোদ্দুরে বরফের টুকরোগুলো শাণিত অস্ত্রের মতো ঝকঝক করতে থাকে। কোথাও একটু বাতাস নেই, নিথর গাছের পাতাগুলি সামান্য ফিসফাস করে কথা বলতেও বুঝি ভয় পায়। রবীন তখনো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে। আমি রবীনের দিকে তাকিয়ে বলি – ‘রবীন তুই সবই জানিস। তোকে আমি সমস্ত কথাই খুলে বলেছি। আমি ভয়ানক হিংস্র হয়ে গেছি, ভয়ানক নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছি। এতসব জেনেও তোর এ ধরনের ন্যাকামো করবার কোনো মানে হয় না।’ রবীন তবুও কোনো কথা বলে না, আমার দিকে পিছন ফিরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। এবার আমি উঠে দাঁড়াই, ওর কাছে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাই, শক্ত গলায় বলি – ‘ভেড়ার বাচ্চাটাকে ধর।’ রবীন আমার দিকে ঘুরে তাকায়, কোনো শব্দ করে না, ভেড়ার বাচ্চাটার ঠ্যাং ধরে ঝুলিয়ে নেয়, হেঁটে যেতে থাকে। ওর মুখখানাকে আমার পাথরে খোদাই করা বলে মনে হয়। রবীন এগিয়ে যেতে থাকে, আমি ওর পিছু পিছু যাই। ভেড়ার বাচ্চাটার গলা বেয়ে রক্ত ঝরে টপ টপ টপ টপ। ... 

ঘরটা আমি তৈরি করেছিলুম ছোট ছোট ইটের মতন বরফের চাঁই দিয়ে অনেকটা এস্কিমোদের ধরনের। একটিমাত্র ঢুকবার বা বেরোবার দরজা ছিল, কোনো জানালা ছিল না। ছাদটা মাটি থেকে উঁচু হয়ে উঠে গিয়েছিল অর্ধবৃত্তের মতো। ঘরটা ছিল ভীষণ অন্ধকার আর ভীষণ ঠান্ডা। এ তল্লাটের আশেপাশে কোনো লোকবসতি না থাকায় ঘর তৈরি করবার জন্য এই জায়গাটা আমার খুব পছন্দসই হয়েছিল। আমার ঘরের সামনে ছিল এক গহন বন, সেই বন পেরোলে ধু ধু বালির মাঠ তারপর বুঝি লোকালয়। ঘরের পিছনে ছিল এক নদী। সে নদীর কোথায় যে শুরু আর কোথায় যে শেষ তা আমার জানা ছিল না, জানতে চেষ্টা করিনি কোনোদিন। আমার ঘরের নিকট এক পাতাবিহীন গাছ শুকনো ডালপালা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত আর প্রায়ই একটা নাম না জানা বিকট চেহারাওয়ালা কিন্তু দুঃখী দুঃখী পাখি উড়ে এসে বসত সেখানে। বড় বড় ভাঁটার মতো চোখ নিয়ে গোল গোল করে ঘুরে ফিরে তাকাত চারিদিকে আর কাঁদত মাঝে মাঝে মানুষের কান্নার মতন। কী করুণ সেই কান্না, কী বেদনাদায়ক সেই সুর! ইনিয়ে বিনিয়ে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে, ভেউ ভেউ করে, ডাক পেড়ে, গলা ফাটিয়ে মড়াকান্না কাঁদত যেন সেই পাখি। আমি অবশ্য প্রথমে ওকে বিশেষ ভয় পাইনি। কিন্তু এক দিন থমথমে অন্ধকার রাত্রে পাইখানা করবার জন্য বাইরে বের হলে হঠাৎ সেই পাখি বাজখাঁই গলায় চেঁচিয়ে উঠল—‘এখন জরুরি অবস্থা, এখন জরুরি অবস্থা।’ আমি সাঙ্ঘাতিক ভয় পেয়ে গিয়ে একলাফে ঘরের ভিতর এসে দড়াম করে দরজাটা বন্ধ করে দিলুম। ভয়ে আমার সর্বশরীর থর থর করে কাঁপছিল; হাত, পা সব ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল আর ভয়ানক কাঁপছিলুম, হাড়ে হাড়ে লেগে শব্দ হচ্ছিল ঠকাঠক ঠক ঠক। কদিন পরে দেখলুম সেই পাখি আর আসে না। কোথায় যেন উড়ে চলে গেল সেই পাখি, গাছে এসে আর বসল না । গেল নিরুদ্দেশে। আহা, আমার সেদিন মহা আনন্দ হয়েছিল। হাত, পা তুলে ডিগবাজি খেয়েছিলুম দশটা বিশটা। ... 

কবে যেন সন্ধেবেলা নদীর পাড় দিয়ে একা একা ঘুরছিলুম। বাতাস বইছিল জোরে, আকাশ ছিল পরিস্কার, নদীতে ছোট ছোট ঢেউ ওঠানামা করছিল, দু'একটা তারা ফুটেছিল আকাশে। নির্জন নদীর ধার দিয়ে একা ঘুরছিলুম। সন্ধ্যার অন্ধকারে আমার বরফের ঘরটাকে একটা সাদা তাবুর মতন মনে হচ্ছিল। সমস্ত দিকের জানালাগুলো যেন খুলে যাচ্ছিল একটি একটি করে, যেন এক গভীর নিমগ্নতার মধ্যে ডুবে যাচ্ছিলুম আমি; সময় গিয়েছিল স্তব্ধ হয়ে। একা একা হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূর এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ আমি রবীনকে দেখতে পেলুম। প্রথমে আবছা আলোয় আমি ঠিক বুঝতে না পারলেও কাছাকাছি আসতেই তাকে চিনতে পারি। সমস্ত জামাকাপড় ভিজে, সর্বাঙ্গ বেয়ে জল ঝরছে, শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করি – ‘একী দশা হয়েছে তোর?’ ও কোনো কথা বলে না, হাঁপাতে হাঁপাতে দম নিতে থাকে। আমি এগিয়ে গিয়ে ওর হাত ধরে ঝাঁকুনি দি, মুখের দিকে তাকিয়ে বলি – ‘বল কী হয়েছে তোর?’ ও মাটিতে চোখ নামিয়ে পায়ের বুড়ো আঙুলের নখ দিয়ে মাটি খুঁড়তে থাকে, তারপর আস্তে আস্তে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে – ‘ওরা আমায় মেরে নদীর জলে ফেলে দিয়েছিল। বোধ হয় ভাসতে ভাসতে চলে এসেছি। এবার ফিরে যাব।’ এক নিমেষে আমার চোখের সামনে সব কিছুই যেন ওলটপালট হয়ে যায়। তাই নদী, মাঠ, বন, ঘর, বাড়ি সব কিছুই গড়াতে গড়াতে গড়াতে দ্রুত দৃষ্টির বাইরে অদৃশ্য হয়ে যেতে থাকে। বিরাট অন্ধকার এক গহ্বরের দিকে পায়ের নীচের মাটিটা যেন তলিয়ে যেতে চায় আমায় নিয়ে। একমাত্র রবীন ছাড়া আমার নিকটে আর কেউ নেই এটা বুঝতে পেরেই দুহাতে প্রচণ্ডভাবে ওকে বুকে জাপটে ধরি, কাতরস্বরে ওর কাঁধে মাথা গুঁজে বলতে থাকি, ‘তোকে আমি যেতে দেব না। তুই আমার কাছেই থাকবি, আমার কাছেই থাকবি। ... ।’ 

প্রবল উৎসাহে রবীনকে আমি আমার ঘর দেখাই। মস্ত বড় একটা মোমবাতি কাঠের টুলের উপরে জ্বলছিল। বরফের দেয়াল বলেই বোধহয় ঘরের দেয়ালে আদৌ আমাদের দুজনের কোনো ছায়াই পড়ে না। 

মোমবাতির নিষ্কম্প শিখায় ঘরের সব কিছুই অতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রবীন চারিদিকে তাকায়, আনন্দে ওর মুখ উদ্ভাসিত হয়। বলে - ‘করেছিস কী, এ যে এক এলাহি ব্যাপার?’ আমি সলজ্জ হাসি হেসে বলি – ‘হ্যাঁ এই আমার ঘর বা রন্ধনশালাও বলতে পারিস।’ রবীন তাকের কৌটোগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করে , জিজ্ঞেস করে – ‘এগুলো কেন?’ ‘ওগুলো মশলাপাতি রাখবার জন্য জোগাড় করে রেখেছি। ওই যে কাচের বয়মটা দেখছিস, ওটাতে ভালো গাওয়া ঘি রাখব। এর এই দ্যাখ’…আমি চৌকির তলা থেকে চকচকে ধারালো বটিটা বার করে দেখাই। রবীন হাত দিয়ে বটির ফলার ধার পরীক্ষা করে, ঘরের কোনার তাকায়, তারপরই বিস্মিত কণ্ঠে বলে ওঠে--,’ শিলনোড়াও এসে রেখেছিস?’ ‘হ্যাঁ ভাই,’ আমি বলি—‘মশলাবাটার অবশ্য হাঙ্গামা অনেক কিন্তু গুঁড়ো মশলায় রান্নার কোনো স্বাদই খোলে না। আসলে মসলাবাটার উপরই রান্নার স্বাদ নির্ভর করে, মানে মশলাটা তুই যত মিহি করে বাটতে পারবি তত তোর রান্না খোলতাই হবে।’ রবীন ঘুরে ঘুরে আমার হাড়ি, কড়াই, থালা, বাটি, হাতা, খুন্তিগুলো উলটে পালটে দেখতে থাকে। এখনও নতুন রয়েছে। ঝকমক করছে সবকিছু। রবীন আমার দিকে চোখ তুলে তাকায়, বোধ হয় আমি ওর মনের ভাব বুঝতে পেরেই বলে উঠি—‘রান্না একদিনও করিনি, করব। আপাতত ওই দেয়ালের শ্যাওলা খেয়েই কাটিয়ে দিচ্ছি।‘ রবীনকে আমি বরফের দেয়ালের গায়ে গজিয়ে ওঠা সবুজ শ্যাওলা দেখাই। ‘তবে তুই যখন এসে গেছিস তখন এবার আমি রাঁধব, ভালো করেই রাঁধব। তাছাড়া আমি এ সম্পর্কে ভেবেছি অনেক, লিখেও ফেলেছি অনেকটা। আসলে রান্নাটা হল গিয়ে একতা উঁচু দরের আর্ট, হেলাফেলার জিনিস নয়। এই যেমন, ধর তুই সরষেবাটা দিয়ে ইলিশ্মাছ রাঁধছিস কিন্তু জানিস কি মাথা পিছু একটা করে করমচা কেটে ঝোলের মধ্যে দিয়ে দিলে অপরূপ স্বাদ হয়? জানে না, অনেকেই জানে। আমি এইসব লিখে রেখেছি, এই সমস্ত রান্নার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে অনেকটা লিখে ফেলেছি। এই দ্যাখ…।‘ 

তাকে আমি সুটকেশ খুলে আমার বাঁধানো খাতাখানা বার করে দেখাই। খাতাখানা খুলে রবীন পাতা উলটে দেখে, কিছু কিছু অংশ পড়তেও থাকে। আমি ওকে বলি - ‘এসমস্ত জিনিস অতিশয় প্রয়োজনীয় কেননা এগুলো ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়ে যাবে। এখুনি ধরে রাখা দরকার, ধরে রাখা দরকার।' রবীন হয়ত আমার কথা শুনতে পায় না, নিবিষ্টমনে আমার খাতাখানা পড়তে থাকে। খানিকবাদে ও মুখ তুলে আমার দিকে তাকায়, খাতাখানা বন্ধ করে উচ্ছ্বসিত স্বরে বলে ওঠে – ‘তুই কবে রান্না করবি বল ? আমি আর লোভ সামলাতে পারছি না।' রবীনের এই প্রশংসাবাণীতে গর্বে আমার বুক ফুলে ওঠে ঠিক চার ইঞ্চি।...। 

আমরা দুজনে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলুম। আকাশে তখন আধখানা চাঁদ দেখা যায়। আবছা আলোয় আশেপাশের সবকিছুই মৃদু মৃদু বোঝা যায় বলে আমাদের কোনো কিছু চিনতে অসুবিধেই হয় না। সামনে গহন বন বিরাট এক অন্ধকারকে বুকে নিয়ে বিশাল এক দৈত্যের মতন দাঁড়িয়ে থাকে। রবীন বলে - ‘তুই সময় কাটাস কীভাবে?’ ‘কেন?’ – আমি অবাক হয়ে বলি – ‘সময় কাটাতে আর অসুবিধে কী? ঘুমোই বেশির ভাগ সময় আর রান্নাবান্না সম্পর্কে ভাবি, মাঝে মাঝে বাসনপত্রগুলো নদীর জলে ধুয়ে মেজে পরিস্কার করে রাখি। আর ... আর ...।’ 

হঠাৎ আমার মনে হয় আসলে আরো অনেক কিছু আমার করা উচিত ছিল, অথচ এ ছাড়া আমি তো আর কিছুই করিনি সুতরাং রবীনকে আমি আর কী বলব ভেবে পাইনে। এমন সময় আমার সেই আধ-ছেড়া লুডোবোর্ডটার কথা মনে পড়ে যাওয়াতে আমি বলি ‘আর-আর আমি মাঝে মাঝে লুডোও খেলে থাকি। লুডো কি একজনে খেলা যায়?’ রবীন প্রশ্ন করে। ‘কেন যাবে না’ – আমি রবীনকে বোঝাই –‘একাই আমি দুজনের চাল দি, মাঝে মাঝে চারজনেরও। খুব ইনটারেস্টিং খেলা। এবার তুই আর আমি দুজনে মিলে খেলব।' রবীন আমার কথার কোনো সাড়া দেয় না। অন্ধকার বনের দিকে বিষণ্ণভাবে তাকিয়ে কী যেন ভাবতে থাকে। এক সময় বলে – ‘আচ্ছা, বনের ওপারে কী আছে রে?’ 

‘বালির মাঠ'—আমি সংক্ষিপ্ত উত্তর দি। 

‘ওখানে যাসনি কোনোদিন?’ 

‘না’ রবীনকে আর কথা বাড়াতে দি না আমি। বনের ব্যাপারটা আমি ওর কাছ থেকে গোপন করতেই চাইছিলুম। রবীন এবার ঘরের পিছন দিকটায় এগোয়, আমিও ওর পাশে পাশে হেঁটে যেতে থাকি। তখন নদীর পাড় অন্ধকারে ডুবিয়া যায়, জলতল থেকে এক অজানিত রহস্যময়তা সমস্ত কিছুকেই যেন অতি 

অদ্ভুতভাবে সাজাইয়া তোলে। রবীন বলে—‘তোর নৌকা নেই?’ 

‘না, নৌকা থাকবে কী করে?’ 

‘কেন’ রবীন সহজ করে বলে—‘গাঁয়ের ডাল কেটে অনায়াসে নৌকা তৈরি করা যায়।‘ আমি চুপ করে যাই। নদীতে ছট ছোট ঢেউ ভাঙার শব্দ হয় ছলাৎচ্ছ্বল আর সেই শব্দ নিয়ে ধ্বনি দিয়ে অলক্ষ্যে কতো শত মালা গাঁথা হয়। কী করে এই বিষয়টা এড়িয়ে যাব বুঝতে পারিনে। তারপর কখন যেন বলি—‘ না বাবা, নৌকা ফৌকোতে আমার দরকার নেই। আমার বড় ভয় করে। আমি সাঁতার জানিনে…।’ 

কিছু দিনের মধ্যে রবীন গাছের ডাল ভেঙে একটা কাঠের নৌকা বানিয়ে ফেলল। সেটাতে চড়ে রবীন প্রায়ই দিনের বেলা এমণ করতে বেরুত—জল ভ্রমণ। এই ভ্রমণের ফলে রবীনের অগাধ খিদে হতে লাগল। সবুজ শ্যাওলায় রবীনের খিদে মিটত না কিছুই। তখন ও আমায় বারবার বলতে শুরু করল-- ‘এবার তুই রান্না কর, এবার তুই রান্না কর’। অথচ রান্না করবার মতন কোনো জিনিসই তখন আমি খুঁজে পাচ্ছিলুম না। ভোজ্যবস্তুর ভীষণ অভাব দেখা দিয়েছিল তখন।... 

ভেড়াটার ছাল, চামড়া, নাড়িভুঁড়ি ইত্যাদি সব ফেলে দিয়ে পরিষ্কার জল দিয়ে ওর চর্বিঅলা লালচে শরীরটাকে ভালো করে ধুয়ে ফেললুম। এবার ওটাকে একটা থালায় সাজিয়ে রাখি। অত্যন্ত সহজ এবং স্বাভাবিক হতে পেরেছে। থালার কাছে উবু হয়ে বসে লোলুপ দৃষ্টিতে ও ভেড়ার কাঁচা শরীরটা দেখতে থাকে। হাসতে হাসতে আমায় বলে -- ;কাঁচাই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে।’ আমি কিছু বলার আগে রবীন নিজেই বাসনগুলো নিয়ে নদীতে ধুতে যায়, বলে—‘খিদেটা আরো বাড়বে।' এতদিন বাদে রান্নার সংবাদে ওর যেন আর আনন্দের অবধি থাকে না। রবীন চলে গেলে হঠাৎ আমার খেয়াল হয় যে, ঘি তেল মশলাপাতি কিছুই আমার নেই। সবই এখন জোগাড় করতে হবে। কিন্তু কী করে করব? ভাবতে ভাবতে আমি প্রায় মাথায় হাত দিয়ে বসে ? আরও কি অপেক্ষা করতে হবে অনেক দিন ? সব কিছুই কি ব্যর্থ হবে শেষে! দেহের ভিতরে খিদেটা যেন চাগিয়ে ওঠে. খিদের চোটে মাথাটাথা ঝিমঝিম করতে থাকে আমার। কোনো ঙ্কূলকিনারাই খুঁজে পাইনে আমি। রবীন ফিরে এসে আমার অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করে -- 'হল কী তোর?' আমি সমস্ত কিছু খুলে বলি ওকে। ও বিন্দুমাত্র ঘাবড়ায় না। বলে—‘ চল, ব্যবস্থা একটা হবেই, নৌকোটা কি এমনি এমনি তৈরি করেছি?' রবীন নদীতে নৌকোটা নামায়। অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমাকে নৌকোয় চড়তে হয়। ভাসতে শুরু করে। কোথায় যে এই যাত্রা শেষ হবে আমাদের দুজনের একজনও হয়ত তা জানত না। তবুও আমরা নৌকো বেয়ে যাই।... 

নৌকো থেকে লাফিয়ে পড়ে নামতেই দেখি সকলে সারবন্দি হয়ে আমাদের প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। যেন ওরা জানত আমরা এই সময়েই এসে পৌঁছব। আমাদের দেখে ওরা চেঁচিয়ে ওঠে—‘এসেছে, অ্যাদ্দিনে এসেছে। একগাদা জোয়ান ছোকরার দল হাত গুটিয়ে গুটি গুটি এগিয়ে তত এইবার, বাছাধনরা যাবে কোথায় ?’ ভয়ে আমার বুক ধুকপুক করতে থাকে তবুও মুখে যথাসম্ভব হাসি টেনে পালাবার পথ খুঁজি। কিন্তু তখন সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আর কোনো উপায়ই নেই। রবীনের উপরেই ওদের আক্রোশটা যেন বেশি। দুএকটা বাচ্চাছেলে নদীর পাড় থেকে কাদা ছুঁড়তে শুরু করে রবীনের গায়ে। ইতিমধ্যে ভিড় ঠেলে ওদের সকলের উত্তেজনাকে ঠান্ডা করে এক বৃদ্ধ এগিয়ে আসেন। শান্তভাবে বলেন – ‘কী চাই?’ আমি বিনীতভাবে আমাদের দরকারের কথা বলি। ভদ্রলোক শোনেন। আর মুচকি মুচকি হাসেন -- 'সবই পাবে, সবই পাবে কিন্তু তার আগে ...’। ওর কথা শেষ হবার আগেই ছোকরার দল আবার গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ওঠে –‘ধোলাই হবে, আড়ং ধোলাই।’ ‘না-আ-আ-আ’ -- ভদ্রলোক মাথার উপরে দু’হাত তুলে জোরগলায় বলে ওঠেন –‘পুলিশি মার দেওয়া হবে বন্ধুগণ, 

রক্তপাত হবে না একফোঁটাও। বাঁধুন,ভালো করে ওদের বাঁধুন।’ বৃদ্ধের আদেশ পালন করতে ওরা আর বিন্দুমাত্র দেরি করে না। চটপট শক্ত দড়ি দিয়ে আমাদের দুজনের হাত পা মুড়ে বেঁধে ফ্যালে, তারপর শুরু হয় খেলা। আমাদের দুজনকে যেন ফুটবল বানিয়ে ও খেলতে থাকে। লাথি খেয়ে গুদিক যাই আবার লাথি খেয়ে এদিকে আসি। ওদিকে যাই, এদিকে আসি। এদিকে,আসি, ওদিকে যাই। কে যেন একজন গলায় হারমনিয়াম ঝুলিয়ে বাজাতে থাকে। একটা রিডই বোধহয় টিপে থাকে তাই একটানা একঘেয়ে আওয়াজ হয়ে চলে পোঁ-ও ও ও ও ও। ... 

খুব করে স্নান করে অনেকটা বিশ্রাম নেবার পরও আমাদের গায়ের ব্যথা যায় না। হাত পা সব টন টন করতে থাকে। তবুও উঠি, মশলা বাটি। রবীন স্তুপীকৃত শুকনো গাছের ডালপালায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন জ্বলতে থাকে দাউ দাউ করে। আমি ভেড়ার গায়ে মশলা মাখাই, পেটের ভিতরে মশলা পুরে সেলাই করে দি। অনেকটা মশলা উদ্বৃত্ত থেকে যায়। শরীরে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও উৎসাহে আমরা দুজনে টগবগ করে ফুটতে থাকি। একটা ডালের সঙ্গে ভেড়াটার হাত, পা বাঁধি, দুজনে ডালটার দু’দিক ধরে উলটে পালটে ভেড়াটাকে আগুনে পোড়াতে থাকি। একটু বাদে মশলা পুড়ে সুন্দর গন্ধ বের হয়। আমাদের জিভ দিয়ে জল গড়াতে থাকে। খিদের চোটে পাকস্থলীটা যেন মুচড়ে মুচড়ে ওঠে। বুঝিবা ওটা নিজেই হজম হয়ে যেতে চায়। ভেড়াটার গায়ে অল্প অল্প বাদামি রঙ ধরে। ... 

হঠাৎ দেখি আমাদের ঘর গলে যাচ্ছে। সূর্যের প্রখর তাপে যে ঘর গলেনি সেই ঘর, আমাদের সেই সাধের ঘর এই আগুনের হলকায় গলতে থাকে। বরফের টুকরোগুলো ধীরে ধীরে গলে যায় আর কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো ঘরটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল দেখেও আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত হই না। রবীনকে চিমটি কাটি, ও আমার দিকে তাকায়। আমি ওকে বলি – ‘বুঝতে পারছিস, এসব ওদের শয়তানি। এসব হচ্ছে আমাদের রান্নাটাকে পণ্ড করবার চেষ্টা’। ফাঁকা জায়গায় বাতাস পেয়ে আগুনের শিখাগুলি অসংলগ্নভাবে জ্বলতে থাকে, ছুটোছুটি করে বেড়ায় তবুও নিবিষ্টমনে আমরা আমাদের কাজ করে যাই। ভেড়াটাকে রোস্ট করতে আমাদের বেশ অসুবিধা হয়, তবুও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করতে থাকি। রান্নার গন্ধ পেয়ে বন থেকে পাখির দল ছুটে আসে, মাথার উপরে আকাশে দলবদ্ধ হয়ে উড়ে বেড়ায়। আমাদের দেখে সাহস পায় না নামতে। ঠিক সেই সময়েই অকস্মাৎ সেই নাম না জানা বিকট চেহারাঅলা কিন্তু দুঃখী দুঃখী পাখিটার ডাক শুনতে পাই। একটা বাচ্চা শিশুর মতো ওঁয়া ওঁয়া বলে কাঁদছে সেই পাখি, যেন সদ্য কোনো শিশুর জন্ম হয়েছে যার বাবা নেই মা নেই তাই একফোঁটা দুধের জন্য আকুল হয়ে হাত, পা ছুঁড়ে কেঁদে যায়। ভালো করে চোখ ফোটেনি, ডাক ফোটেনি যার গলায়, সেই অসহায় শিশুটির বুকফাটা কান্নাকেই নকল করে পাখিটা আমাদের শোনাতে থাকে। আমাদের ভীষণ অস্বস্তি শুরু হয়, দুজনেই গম্ভীর হয়ে পড়ি। কান্নার আওয়াজ আরো বাড়তে থাকে। পাখিটাকে আমরা দেখতে পাইনে। হয়ত আগুনের ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে লুকিয়ে ছিল বনের ভিতর, আমরা শুধু সেই অভিভূত করা কান্নাটাই শুনতে থাকি। আমি রবীনকে চিমটি কাটি। রবীন আমার দিকে তাকায়। আমি বলি – ‘বুঝতে পারছিস, এসব ওদের শয়তানি। আমাদের রান্নাটাকে পণ্ড করবার চেষ্টা করছে’। রবীন কোনো কথা বলে না। কী যেন ভেবে যায় আপন মনে। আমাদের রোস্ট করা শেষ হয়। রোস্টটাকে আমি একটা থালায় সাজাই, থালায় সাজিয়ে রাখবার সময় যেটুকু তেল মসলা আমার আঙুলে লেগেছিল তাই-ই আমি সন্তর্পণে জিভ দিয়ে চাটতে থাকি। পাখিটার কান্নার সুর আমাদের ভয়ানক বিমনা করে দেয়। রবীন চুপ করে কী যেন ভাবে। রান্না শেষ হলেও আমরা খেতে বসি না। ... একসময় রবীন হঠাৎ বলে ওঠে – ‘খাবারটা থাক।’ আমি সমস্তই বুঝতে পারি। এই ভয়ই আমি করছিলুম কিংবা এই কথাটাই হয়ত আমি রবীনের মুখ থেকে শুনতে চাইছিলুম। তবুও প্রশ্ন করি – ‘কেন?’ ‘খেতে ইচ্ছে করছে না আমার।’ 

রবীন অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নেয়। একটু থেমে বলে,-- পেরেছি,আমরা তবু তো শ্যাওলা খেয়ে কাটাতে পেরেছি, কিন্তু আমাদের ছেলেমেয়ে নাতিনাতনির জন্য সেটুকুও রইল না।’ গলে যাওয়া ঘরটার দিকে রবীন ছলোছলো চোখে তাকিয়ে থাকে। আমি প্রতিবাদ করবার কোনো সাহস পাই না। একটা অজানা আতঙ্কে শরীর মন ছেয়ে যায়। তবুও ক্ষীণ কণ্ঠে বলি 'ওটা তো মিথ্যে কান্না। ‘ হয়তো মিথ্যে,তবুও...।' রবীন ঘন ঘন মাথা নাড়াতে থাকে। পাখিটার একান্না তখনো বড় করুণ হয়ে বাজে, আকাশ বাতাস জুড়ে সেই কান্না গলে গলে পড়ে। আমি সম্মুখে সেই বিশাল বনভূমির প্রতি দৃষ্টিকে প্রসারিত করে রাখি। চোখ দুটি জ্বালা করতে থাকে, বুকের ভিতর কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা ঠেকে। অনেকক্ষণ বাদে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলি – ‘ঠিক আছে, তাই হোক।’ পাখিটার কান্না ধীর ধীরে মিলিয়ে যায়। চতুর্দিকে এক শান্ত নীরবতা বিরাজ করতে থাকে। শুধু আকাশে দু'একটা পাখি তখনো ওড়াউড়ি করে বেড়ায়। আমি একটা বড় থালা দিয়ে খাবারটা ঢাকা দিয়ে রাখি। ভীষণ ক্লান্ত বলে মনে হয় নিজেকে, মনে হয় এক লাফে বয়স বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। খিদের কোনো তাগিদ বোধ করি না। শুধু একটু শুতে পারলেই যেন বেঁচে যাই। কোনো কিছু করবারই ক্ষমতা নেই তখন। রবীন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়, কী যেন ভাবে আপনমনে, মাঝে মাঝে বিড় বিড় করে বকে। আমার ভয় হয় ওকে দেখে, ওকে যেন একটা পাগলের মতোই দেখায়। একবার গিয়ে খাবারের ঢাকনাতে হাত দেয়, কিন্তু খোলে না। কেননা তখুনি আবার শুরু হয় পাখিটার করুণ কান্না। রবীন ছটফট করতে থাকে। কী করবে কিছুই যেন ভেবে পায় না। আমি এবার নিঃশব্দে কাঁদতে শুরু করি, আমার চোখ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে, মাটি ভিজে যায়। এ কষ্টের ভার আমি আর যেন বইতে পারিনে। তারপর একসময় রবীন ছুটে যায় আস্তাকুঁড়ের দিকে যেখানে আমি ভেড়ার নাড়িভুঁড়িগুলো ফেলে দিয়েছিলুম। সেখানে গিয়ে ও গোগ্রাসে সমস্ত গিলতে থাকে। আমিও আর সামলাতে পারি না নিজেকে, শরীরটাকে টেনে হিচড়ে গিয়ে বসে পড়ি ওর পাশে। দুজনে মিলে খেতে থাকি ভেড়ার শিং, মাথা, নাড়িভুঁড়ি, চামড়া এইসব। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। দুজনে মুখ মুছে তারপর সেই ঢাকা দেওয়া খাবারের থালাটার কাছে উবু হয়ে বসি জরাগ্রস্ত বৃদ্ধের মতন। রোস্টের গন্ধ চারিদিক আমোদিত করে তোলে, সেই গন্ধের ঝাঁপটা এসে লাগে আমাদের নাকে। আর আমরা সেই গন্ধ নাকে নিতে নিতে কত দিনের যেন কত রাতের যেন কত বছরের বুঝি হাজার হাজার বছরের ক্ষিধয় শান দিতে থাকি। 




--------------
উপদ্রুত, ১৯৬২ 



লেখক পরিচিতি
বাসুদেব দাশগুপ্ত

(জন্ম ৩১শে ডিসেম্বর, ১৯৩৮, মৃত্যু ২০০৫ ) বাংলা সাহিত্যে হাংরি আন্দোলন-এর একজন বিশিষ্ট গল্পকার ও ঔপন্যাসিক । 
তার জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের মাদারিপুর শহরে ।

দেশ ভাগের কারণে ১৯৪৭ সালে তার পিতা ধীরেন্দ্রনাথ এবং মা সুরোবালা ছয়পুত্র ও এক কন্যাসহ উদ্বাস্তু পরিবাররূপে পশ্চিমবাংলায় আশ্রয় নেন । অন্যান্য উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তানদের ন্যায় বাসুদেব দাশগুপ্তও কম্যুনিষ্ট ছাত্র পরিষদে যোগ দেন । ১৯৬১ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে তিনি বাংলা ভাষায় সান্মানিক স্নাতক হন; ১৯৭০ সালে বি.এড পাশ করেন । ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত তিনি কল্যাণগড় বিদ্যামন্দিরে শিক্ষকতে করেন ও সেখান থেকে অবসর নেন । ১৯৭০ সালে তিনি বান্ধবী ইন্দিরা কুণ্ডুকে বিবাহ করেন ।

১৯৬৩ সালে রন্ধনশালা গল্প লিখে তিনি সাড়া ফেলে দেল । ১৯৬৪ সালে লেখেন রতনপুর এবং ১৯৬৫ সালে রিপুতাড়িত এই গল্পগুলির কারণে অন্যান্য হাংরি আন্দোলনকারীদের তুলনায় তিনি তখনই বিদ্যায়তনিক স্বীকৃতি পান । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (চতুরঙ্গ ১৩৭৭) উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উদয়শংকর ভর্মা (কবিতীর্থ ২০০৬) বাসুদেব দাশগুপ্তের গল্ল্পকে বলেছেন ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের ধারায় লেখা ম্যাজিক রিয়ালিস্ট রচনা । সবসুদ্ধ ১৩টি ছোটগল্প লিখেছেন বাসুদেব দাশগুপ্ত; উপন্যাস লিখেছেন তিনটি । ঔপন্যাসিক দেবেশ রায় বলেছেন (ক্ষুধার্ত ১৯৭২) বাসুদেব দাশগুপ্তের রচনায় 'শারীরিক ঘটনাই যেন আমাদের মানবিক, মানসিক সম্পর্কগুলোর নিয়ন্তা' ।


1 টি মন্তব্য:

  1. অসাধারণ গল্প। এই গল্প বা গদ্য-কে কোনও আন্দোলনের ছাতার তলায় না দেখে একেবারে নির্মেদ চাবুকের মতো একটা গল্প হিসেবেই পড়লাম এবং বেশ লাগল। এখনকার বাজারচলতি ন্যাকামোর চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা ভন্ডামি ঠাসা গল্প আর গদ্যের মুখে এই গল্প একেবারে সপাটে এক থাপ্পড়। বাসুদেব বাবুকে কুর্নিশ, তিনি থাপ্পড় মারার সাহস দেখিয়েছিলেন।

    উত্তর দিনমুছুন