বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

সাগরিকা রায়'এর গল্প : তিস্তায় জল নেই

সাগরিকা রায় 

শীতের দুপুরে দুটো মেয়ে শুকনো নদীর ওপর দিয়ে হেঁটে চলে গেল। বালির ওপর ওদের পায়ের ছাপ ইচ্ছে করলে দেখে আসা যায়। মেয়েদুটোকে এখনও দেখা যাচ্ছে। আসলে ঠিক মেয়েদুটোকে নয়। ওদের কমলা আর সবুজ শাড়িদুটো শীতের নরম রোদের মধ্যে যেন স্থির হয়ে আছে। আমি সুমনাকে বললাম, “চল,আরেকটু এগিয়ে যাই। জল নেই। হেঁটে দেখে আসি ওরা ওদিক দিয়ে কোথায় গেল। আজ আমরা কলম্বাস হব।”

সুমনা থমকে গেল, “ ওহ,মেয়েদুটোর পিছু নেবে আর কি ! যাও।দেখে এস।” সুমনার ঠোঁটের সামান্য কুঞ্চন আমার নজর এড়াল না। কথা না বাড়িয়ে দূরের রঙদুটো দেখার চেষ্টা করলাম। এখন আর রঙ দুটোর অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে না। বালির সঙ্গে মিশে গিয়েছে রঙ। অথবা বালি সব রঙ শুষে নিয়েছে। এখানে অনেকটা জায়গা নিয়ে চড়া পড়েছে। চড়ায় কিছু মানুষ নাকি বসতি গড়েছে। সেই অত্যাশ্চর্য ব্যাপারটা দেখার জন্যই আজ এখানে এসেছি। সুমনা বিরক্ত হয়েছে। চর সম্পর্কে খুব ভাল ধারনা নেই ওর। একটা জল বেষ্টিত স্থলভাগ দেখার মধ্যে কী এমন ব্যাপার আছে,সুমনা বুঝতে চায় না। এখনও ভ্রুর মধ্যে বিরক্তি আঠার মত লেপটে রয়েছে। সুমনাকে নিয়ে এলাম বা কেন ! ও না এলে আমি ঝাড়া হাত পা যাকে বলে,তাই থাকতাম। ভেবেছিলাম, একটা ছুটির দিন, একটু আউটিং হলে শীতের রোদ গায়ে মাখা যাবে। আমাদের টু বিএইচকে ফ্ল্যাটের মধ্যে শীত আস্তানা গেড়েছে। উত্তরমুখী জানলা দিয়ে কেবল হু হু হাওয়া। শরীরে এমন কাঁপুনি ধরে যায় ! আমি উঠে সকালে নীল চাদরটা গায়ে জড়িয়ে চা বানাই। ডাইনিং টেবিলে কাপ রেখে বিস্কুটের কৌটো খুলতে গিয়ে হাত ফসকে পড়েছে আজ। দস্তানা পরতে ভুল হয়ে যায়। শীত দস্তানাশূন্য হাতে “ক্যাক” করে কামড় বসিয়েছে। ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে কল খুলতে ভয় করে। গিজার শোঁ শোঁ শব্দ করতে থাকে সারাদিন। একটা সময় মনে হয় গিজারটা দ্রুত আয়ুক্ষয় করছে। একদিন আমাদের ফ্ল্যাটে গরম কিছু থাকবে না। সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। যেন কবরস্থান। 

“বেলা পড়ে আসার আগেই ফিরতে হবে। চর দেখতে হলে তাড়াতাড়ি দেখে উদ্ধার কর।” সুমনা বালির ওপর দিয়ে অনেকটা হেঁটে যাবে বলে যেন পা বাড়াল। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারবে না। নদীর সীমানা শুরু হয়ে গিয়েছে আর খানিকটা পরে। বালিচরের পরেই। এখনও জল রয়েছে নদীতে। তবে বর্ষার উথাল পাথাল নদী নয়। নিস্তেজ নদী। নিম্নগতিতে স্রোতের বেগ কমে এসেছে এই নদীতে। নদীর গতি অবধারিতভাবে কমে যাওয়ায় নদী এঁকেবেঁকে চলে। আর সঙ্গে করে বয়ে আনা বালি,পলি,কাদা নদী পেটের নীচে জমাতে থাকে। এভাবেই চড়া পড়ে নদীতে। সেটা আমি জানি।কিন্তু তাপস বলেছিল,এই নদীতে নাকি অনেকদিন ধরেই একটা চর রয়েছে। প্রায় একশো বছর হয়ে গেল। আশ্চর্যের বিষয় হল এই চরে মানুষ বসতি গড়েছে। নৌকোয় যাতায়াত করে। বাজার,হাট সব করতে হলে নৌকো নিয়ে নদীর বাইরে আসে। বোঝ ! মাঝনদীতে এই চরে নতুন জীবন জীবিকা গড়ে উঠেছে। ঘাটের কাছে সুরেন সাহার মুদির দোকান। সেখানেই খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম। সুরেন বয়স্ক লোক। বলল, “এই যে মুড়ি,গুড়, চাল নিচ্ছে দেখুন,এরা দুজনেই চরের বাসিন্দা। এদের সঙ্গে যান। সোজা চরে পৌঁছে যাবেন।” 

চমকে দেখি,এক বৃদ্ধা,সঙ্গে একটি যুবক মাল গুছিয়ে নিচ্ছে । মেঠো চেহারা। গায়ে নদীর জলের গন্। এরা নৌকো নিয়ে এসেছে। এই সুযোগ ছাড়া যায় না। সুমনা ফোন নিয়ে ব্যস্ত। এখন ডাকলে রেগে যাবে। আবার এই “মাইঠাল” মানুষদের সঙ্গে যেতে হবে শুনলে যাবে কিনা …! 

বৃদ্ধার হাতে একটা পাটের ব্যাগে বেশ কিছু মাল রয়েছে। যুবকের হাতে দুটো ব্যাগ। বেলা পরে আসছে। ওদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিল সুরেন মুদি। যুবক বলল, “ আসেন। নৌকা আছে।” বৃদ্ধা কুঞ্চিত চোখে সুমনাকে দেখল। সুমনা নৌকোয় ওঠার আগে নিজের জুতো দেখল। জল, কাদা লেগেছে। আমি না দেখার ভান করে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম। দাঁড় বাইতে বাইতে যুবক বৃদ্ধাকে বলল, “ মনসা আইজ আসবে ,শুনছো কিছু ?” 

বৃদ্ধা বিরক্তিতে ঠোঁটের ভঙ্গী করল। কে মনসা,জানি না।কিন্তু তাকে নিয়ে দুজনের একটা কথা চলছে মনে মনে। যুবক মনসার কথা ভাবছে মনে হয়। বৃদ্ধার মনসার প্রতি আগ্রহ নেই। সুমনার দিকে তাকিয়ে দেখি,ও জলের দিকে তাকিয়ে আছে। যুবক আমার দিকে তাকাল, “ এই প্রথমবার আসলেন এইখানে ?” 

“হ্যাঁ। চর দেখার ইচ্ছে হল।” আমি হাসলাম। 

“চরে দেখার কিছু নাই। নিজের মাটি নাই পায়ের নীচে। চর জায়গা দিল।যতদিন চর আছে,আমরাও আছি। যেদিন চর ডুববে,আমরাও ডুববো।” বৃদ্ধা আধময়লা আঁচলে অযথাই মুখ মোছে। চরে এই মানুষেরাই তো দেখার জিনিস। যাদের পায়ের নীচে মাটি নেই,তারা চরে গিয়ে উঠেছে। অনিশ্চিত এবং কষ্টের জীবন। টুকটাক কথা শুরু হতেই মনের কথা বেরিয়ে এল। এরা মা ছেলে। মনসা নামে ছেলের বৌ চরের এক যুবকের সঙ্গে পালিয়েছে। এখন ফিরতে চায়। 

“ ফিরে এলে ঘরে তুলবেন ?” আমার অদ্ভুত লাগছে যুবককে। আমার প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখে। মা যেন সেটা বুঝে আগেই মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে। যুবক মন দিয়ে দাঁড় টানে, “না তুললে যাবে কোথায় ?” 

“ ক্যান ? যার লগে গেছে, তার ঘরে যাউক।” বৃদ্ধা চিড়বিড়িয়ে উঠল। সুমনা চমকে বৃদ্ধার দিকে তাকাল। বৃদ্ধা রুষ্টমুখে কথা ছিটিয়ে দিচ্ছিল, “ নিজের ঘর,বর ছাইড়া যায় যখন,একবার ভাবে নাই । আমার ছেলেটা লজ্জায়,দুঃখে পাগল হয়া গেছিল। এখন ফুরতি শ্যাষ, সে আর মনসারে দিয়া করবে কী ? বাপের বাড়িতে কেউ নাই। যাবে কই ? রেন্ডিপাড়া ছাড়া গতি কোথায় ওর ?” 

“মা !” আর্তনাদ করে উঠেছে যুবকটি। বৃদ্ধা থতমত খেয়ে চুপ হয়ে গেল। এখন কেউ কোন কথা বলছি না। কেবল দাঁড়ের আর জলের শব্দ। আকাশ ক্রমে রোদ হারিয়ে ফেলছে। একটা মেদুর ভাব চারপাশে। মন খারাপের ছায়া চেপে ধরেছে চারজনকেই। এমনকি নৌকোটাও যেন বিষাদগ্রস্ত। বড্ড নিঃসঙ্গ যেন। একা। মনসার মত ! 

চরএ নেমে বেড়ার ঘর,মাটির দেওয়াল,খোড়ো চাল দেখতে দেখতে যাচ্ছি। যুবকের নাম বিদুর। সে আমাদের ঘরে নিয়ে মুড়ি চা খাওয়াতে চেয়েছে। সুমনা রেগে গুম হয়ে আছে জানি। ও এখনও জুতোর কাদা তুলতে সুযোগ পায়নি। জুতোটা দামি। ব্রান্ডেড ছাড়া কিছুই ইউজ করে না সুমনা। এখন বিদুরের ঘরে গিয়ে চা খাওয়ার কথা ভাবতে পারছে না।কিন্তু উপায় নেই। এদিকের কিছু জানা নেই ওর। চট করে পেছন ঘুরিয়ে ইচ্ছেমতো চলে যাওয়ার সুবিধেও সত্যি নেই। অগত্যা সহ্য করছে। পরে ঝাল ঝাড়বে। ইদানিং অবশ্য ঝাল ফাল ঝাড়ে না। কেমন একধরবের শৈত্য গ্রাস করেছে ওকে। ফলে আমিও সেই প্রবাহে রয়েছি। 

মাটির ঘরের টুকরো বারান্দায় চটের বস্তা পেতে বসতে দিল বিদুর। ওর মা উঠোনের উনুনে চায়ের জল চাপাল। কাচের গেলাস ধুয়ে রাখল একপাশে। সুমনার দিকে তাকানোর সাহস নেই আমার। ও উঠে চলে যে যায়নি, এটাই ভাগ্য। একটা প্ল্যাস্টিকের বালতির জল দিয়ে গ্লাসদুটো ধুয়ে নিচ্ছে বৃদ্ধা। প্ল্যাস্টিকের বালতির গায়ে সময়ের ছাপ দাগ রেখে গিয়েছে। সুমনা কি বালতিটা দেখছে ? আমি আলগা চোখে সুমনার দৃষ্টির অনুসরণ করতে গিয়ে চর দেখতে পেলাম। এই বাড়ির উঠোনের মাটিও চরের অংশ। সুমনা চোখ নামিয়ে চর দেখছে । কী দেখছে ও ? বা কী এমন ভাবছে ? ফিরে যাওয়ার কথা ? বেলা পড়ে আসছে ক্রমশ। এখন ফিরে যাওয়াই উচিত। তার আগে একটিবার চরটা ঘুরে দেখি। 

বেশ কয়েকঘর মানুষ রয়েছে। খড়ের চাল,এসবেসটসের চাল,টালিও রয়েছে কোথাও ।চালে লতিয়ে উঠেছে লাউগাছ। উঠোনের একধার ঘেঁষে লঙ্কাচারা লকলক করছে। সর্ষেশাক,ধনেপাতা…! বাঁশ পুতে দড়ি টাঙিয়ে জামা কাপড় মেলে রেখেছে গৃহস্থ। বিদুর সঙ্গেই ছিল। ওর মুখে শীতের রুক্ষভাব। কথা বলছিল না। চুপচাপ আমার পাশে হেঁটে যাচ্ছিল। আমরা নদীর কাছাকাছি চলে এসেছি। আমি সুমনার দিকে একবার তাকালাম। সুমনা ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক ওদিক দেখছে। নৌকোটা জলের সঙ্গে কথা বলছে। মাঝে মাঝে দুলে উঠছে। 

“নৌকো তোমার?” 

“ আমার একলার না। গেরামে চাইরখান নৌকা আছে। এইখানে নৌকো ছাড়া উপায় কী ? বাচ্চারা ছোট থিকাই নৌকা বাইবার শেখে। ইস্কুল,বাজার…সব নৌকায়।” 

বিদুর দূরের দিকে তাকিয়ে থাকে। অনেকদূরে যেখানে নদীর শেষ দেখা যায়,সেদিকে তাকিয়ে বিদুর কী দেখে কে জানে ! ও কি বৌএর কথা ভাবে ? 

“মনসা, মানে তোমার বৌকে ঘরে নেবে ?” 

“মনসা ! না নিলে যাবে কোথায় ? জলে ডুববে ? ” 

প্রশ্নটা নিজের দিকেই ছুঁড়ে দিল যেন । মনসার প্রেমিক ফেলে দিয়েছে মনসাকে। মনসা কি প্রেম চিনতে ভুল করেছিল ? ভুলই করেছে। এখন ফিরে আসতে চায়। 

“মাকে বলছি,আমি মনসাকে ডুবতে দিতে পারব না।” বিদুর মনে শক্তি জোগায় একা একাই। মনসার কি মনে পড়ে এই চরের সংসারের কথা ? অথৈ জলের ভেতর থেকে জেগে ওঠা চরে ওর জন্য আশ্রয়,প্রেম,সংসার সব রয়েছে। তাপ রয়েছে। ও ফিরবেই। 

সুমনা বলল, “বেলা পড়ে এসেছে। আর দেখার কী আছে ? আমার শীত করছে।” 

“শীত করছে ? বলেছিলাম হালকা চাদর সঙ্গে নিও। শুনলে না।” আমার বিরক্ত লাগল। একটা হালকা চাদর আনতে পারতো সুমনা। এখন শীতের বাতাস দুপুর গড়ালেই থাবা মারে। সুমনা কি বাচ্চা মেয়ে ? জানে না এসব ? কত শীত পার করেছে এই পর্যন্ত ! 

“এত কথা শুনিও না। চর দেখার জন্য হেদিয়ে পড়বে,জানতুম নাকি ? কবি টবিদের নিয়ে এই এক মুশকিল। ” 

আমি নিঃশব্দে হেঁটে যাচ্ছি। সুমনা আর কথা বাড়ায়নি।কিন্তু আমি জানি নিজের সঙ্গে কথা বলছে এখন একটানা। আমার মতই। আমার কথা বলা মানায়।সুমনার কি মানায় ? ও একটা সময় আমার কবিতার জন্য পাগল ছিল। ওর জন্মদিনে আমার লেখা কবিতা বলে আমাকে একইসঙ্গে চমকে ও মুগ্ধ করে দিয়ে ছিল। তন্ময় অব্দি আশ্চর্য চোখে তাকিয়ে হাততালি দিয়েছিল। এখন সুমনা বলছে কবি টবি …! রস ফুরিয়ে গেলে কঙ্কাল বেরিয়ে আসে। আমরা কি এখন সেই অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি ? নাকি বুঝতে পারছি না ? 

সুমনার সিল্কের শাড়ির আঁচল নদীর হাওয়ায় পতপত করে উড়ছে। বিদুর আমাদের পৌঁছে দেবে ডাঙায়। নদীতে ছায়া পড়েছে। সুমনা ঝুঁকে দেখছে জলের ভেতরে নিজের ছায়াকে। অনেকটা সময় আয়নায় দেখেনি নিজেকে। জলে নিজের রূপ দেখছে ? নাকি মনটাকে জলে নামিয়ে দিয়ে খুলে দেখছে ? অথবা ছায়ার সঙ্গে কথা বলছে লুকিয়ে ? আমাকে লুকিয়ে ? নাকি নিজের থেকে লুকিয়ে রাখছে নিজেকে ? 

নৌকো ঘাটে লাগিয়ে আমাদের নেমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেই ফিরল বিদুর। চর ওর জন্য অপেক্ষা করে আছে। মনসাও এল বলে। ফের ওরা শীতের দুপুরে রোদে পিঠ দিয়ে ভাপা পিঠে খাবে একসঙ্গে বসে। শীত কারও কারও জীবনে বড্ড আঠা হয়ে থাকে। বড় আন্তরিক। আবার কারও জীবনে কেবল শীতলতা দেয়। তাপহীন জীবন । একটু রোদের খুব অভাব সেখানে। উত্তরের জানলা দিয়ে শুধুই হু হু বাতাস খেলে যায়। আর কিচ্ছু না। 

হোটেলের ঘরে এসে ঢুকেছি। আজ থেকে কাল ফিরে যাব আমাদের ফ্ল্যাটে। কেন মনে হয় সেটা যেন সংসারই নয় ? কোনমতে জীবন কাটানোর কিছু উপকরণ রয়েছে। শখ আহ্লাদের কিচ্ছু নেই। একটা সন্তানও যদি...! সুমনা রাজি নয়। আমি বুঝি সুমনাকে। আস্তে আস্তে ও চর খুঁজছে। ওর জন্য কি এখনও অপেক্ষা করে আছে তন্ময় ? সুমনা কি মনসার মত করে নিজেকে ভেবেছে আজ সারাক্ষণ ? ও ফিরে যেতে চায় ? কোন চরএ ওর জন্য অপেক্ষা করে থাকবে তন্ময় ? বিদুর চরএ বসে মনসার জন্য অপেক্ষা করে আছে। তন্ময় কি চর খুঁজে পেয়েছে ? তিনবছর হয়ে গেল। তন্ময় কোন খোঁজ করেনি সুমনার। সুমনা ঘর ছেড়ে আমার সঙ্গে চলে আসার পরে তন্ময় নাকি হেসেছে, “ ছেড়ে যাওয়া গাড়ি আর ছেড়ে যাওয়া নারী,এদের কাউকে আটকাতে নেই। ছেড়ে দিতেই হয়।” সে কথা শুনেছিল সুমনা। এখন এই শীতকালে ওর কেন মনে হচ্ছে জলের ভেতর থেকে চর জেগে উঠবে ? 

সুমনা কি জানে না পুরো নদী জুড়ে চড়া পড়ে গিয়েছে ? তিস্তায় এখন জল নেই !


------------




লেখক পরিচিতি:
সাগরিকা রায়
কথাসাহিত্যিক
উত্তরবঙ্গে থাকেন।
                                                                               


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন