বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

অমর মিত্রের অশ্বচরিত নিয়ে অণুচিন্তন

অমিয় দেব 


‘অশ্বচরিত’ অমর মিত্রের প্রথম নিরুদ্দিষ্টের উপাখ্যান, দ্বিতীয়টি স্বনামধন্য। যে অশ্ব এক বৈশাখী পূর্ণিমাতে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল সে কি একদা কপিলাবস্তুবাসী ছিল, নাম কন্থক, সারথী ছন্দকের সঙ্গে কুমার গৌতমকে অরণ্যপ্রান্তে রেখে শূন্য পৃষ্ঠে ফিরে এসেছিল? দীঘার সমুদ্রপাখি’ হােটেলের সত্ত্বাধিকারী শ্রীপতি মাইতির পক্ষীরাজের সহিস ভানুচরণের তাে তা-ই মনে হয়, নিজেকে ছন্দক বলতে তাই তার বাধে না। আর লেখকও তাঁর উপন্যাসের শীর্ষে উৎকীর্ণ করেছেন বুদ্ধচরিত’এর সেই শ্লোক যাতে কুমারকে

প্রত্যাবৃত দেখতে পাবার আশায় পুরাঙ্গনাদের গবাক্ষবর্তী হওয়া এবং অশ্বকে বিবিক্তপৃষ্ঠ দেখে গবাক্ষ রােধ করা ও বিলাপমান হওয়ার কথা আছে। কুমার গেছেন মানষের মুক্তির খোঁজে। ‘বুদ্ধের হাসি’ নাম দিয়ে চব্বিশ বছর আগে পরে রাজস্থানের মরুভূমিতে যে অণুবিদারণ ঘটেছিল, প্রথমবার ছােটো মাপের, দ্বিতীয়বার রীতিমত বড়াে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বুদ্ধচরিত’-এরই এক অনুবর্তন রচনা করেছেন অমর মিত্র, তাই ‘অশ্বচরিত’ নাম নেহাত কাকতাল নয়, সযত্নসাধিত। হ্যা, এক অশ্বের চরিত তাে বটেই, তার সওয়ারির জানলার বাইরে সে বাঁধা থাকত, আশ্বিনে আশ্বিনে দড়ি ছিড়ে পালিয়ে যেত, উদ্দাম রমণােৎসুক, আর, ঋতুর শেষে আবার ফিরেও আসত, এক বাধ্য মনুষ্যবাহী চতুষ্পদ, সহিসের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এবার সে দড়ি ছিড়ে পালিয়েছে বৈশাখে যখন বাতাস উত্তপ্ত, শিশিরের নামগন্ধও নেই পায়ের নিচের বালিতে। ওই তাপ বেড়ে বেড়েই তাে মরুভূমি, ঘরের কাছের মীরগােদার পরিত্যক্ত জাহাজঘাটা, দূরের চাঁদবালি - বালিমুণ্ডা, ভীমাপুর, দেপাল, কুসমাড় যেখানে মিলিটারির কাঁটাতারের পরিধি ক্রমেই বেড়ে চলেছে আর রাত হলেই বিকট আওয়াজ করতে করতে আগুন উড়ে যায় আকাশে, আরও দূরের পােখরান যেখানে মাটির তলায় কেবল আগুন আর আগুন। সেই তাপক্রম সইতে না পেরেই কি অশ্ব পালাল? কোকিলাবধুর মদরঞ্চিতে যে-ধাবমান ঘােড়া ফুটে উঠেছে সে কি পক্ষীরাজ তথা 

কন্থক? একে কি ফিরিয়ে আনা যাবে না? কন্থকহীন ছন্দক তবে কোথায় যায়! 

অথচ ভানুদাসের তাে একটা নিজের গল্প আছে— বজবজ জুটমিলে লকআউট, ফুলরানি ও তার কোলের ছেলে, ঝুমঝুমির আওয়াজে মুগ্ধ, ফুলরানির মা-বাবার সঙ্গে তাদের ভােজপুরে নিরুদ্দেশ গমন। গল্প তাে আছে মীরগােদার মদরঞ্চিওয়ালি কোকিলা বধূরও, যাকে কুহকিনী ভাবতে কারাের কারাের ভালাে লাগতে পারে - আর সেই গল্পে আছে নিজেকে নবকুমার ঠাওরানাে শিবরাম, কোকিলার স্বামী গৌরমােহন মদরঞ্চিওয়ালার বােনাই, যার কাছে কোকিলা একি অপ্রতিরােধ্য মৃন্ময়ী। এবং হােটেলিয়া শ্রীপতি মাইতির গল্প তাে চিরচেনা, পিতৃপিতামহের দৌলতে অঢেল জমির মালিক, অলস, কর্তৃত্বপরায়ণ, বিলাসপ্রবণ, অন্য নারীতে আসক্ত, নিরুদ্দিষ্ট ঘােড়ার শােকে কাতর না হয়েও কিঞ্চিৎ বিস্রস্ত। সেই সঙ্গে আছে ভারতী চৌধুরী নার্সের গল্প, যে তার অনাথ আশ্রমের কিশােরী প্রেমের দুঃসহ স্মৃতি চাপা দিয়ে প্রেমে-ভালােবাসায় আঁকড়ে ধরেছিল বিবাহিত পুরুষ শ্রীপতিকে, যাকে সামাজিকভাবে প্রায় উলঙ্গ করে দেবার জোগাড় করে শ্রীপতির স্ত্রী ও তার সকল সেবার ঋণ বিস্মৃত হয়ে শ্রীপতির মা। আরও গল্প আছে অশ্বের আশেপাশের এই মানুষজনের। আছে কুন্তী কিশােরীর গল্প, যে নারীমাংস হয়ে বিক্রি হয়ে যায় আর যাকে না জেনে-শুনে টাকার লােভে বিক্রি করে দেয় তার বাবা-ই, প্রায়-ভিখিরি নুনমারা অনন্ত সার, এবং যার বিচ্ছেদে কাতর হয়েও তার মা-বাবা শেষ পর্যন্ত টাকার ওমেই ধাতস্থ হয়ে ওঠে। এমনকী নতুন গর্ভও ধারণ করে বসে মা সরস্বতী। আছে গল্প দেপালের ধর্ষিতা বধূ সুভদ্রার, যাকে নষ্ট করে দিয়ে যায় মিলিটারির জমি অধিগ্রহণের ডামাডােলে এক ঠিকাদার এবং যার স্বামী অর্থলােভে তাকেই অচ্ছুৎ বলে চোখ রাঙায়, পরিত্যাগ করে। গল্প বালিমুণ্ডা ভীমাপুরে অধিষ্ঠিত শ্রীপতির কাছারিবাড়ির নায়েব রামচন্দ্রেরও যে সপ্রেমে আশ্রয় দেয় ভীত-আর্ত সুভদ্রাকে, অথচ সে এমনই অবােধ প্রভুভক্ত যে শ্রীপতির হুকুমে সুভদ্রা বধূকে তার হেফাজতে ফেলে যায়। এবং গল্প কৃষ্ণভক্ত সায়েব ফ্রেদরিক, তার পরকীয়া রাধিকা পরী ও আয়ান ঘােষ বেঙা জেলের, যে-ত্রিভুজের তেলনুন আসে শ্বেতাঙ্গের প্যাটরা থেকে এবং যার পরিণতি একদিকে বেঙার নৌকাডুবিতে মৃত্যু অথবা নিরুদ্দেশযাত্রায় আর অন্য দিকে সায়েবের আকস্মিক অন্তর্ধানে। আবার গল্প কি নেই উদার স্বভাব নগেন গিরিরও যার ঘোটকীর সঙ্গে পক্ষীরাজের প্রণয় হয়েছিল-- ওই তাে সেই অশ্বচরিতের শারদ অধ্যায়, এবং যাঁর অশ্বশালায় এখন তাদের প্রণয়জাত সন্তান ঘােটন, এবং যিনি ভানুদাসকে ছন্দক বলেই ডাকেন আর শুধু শূন্যপৃষ্ঠ অশ্বের কথা নয় আমুদরিয়া-সিরদরিয়ার আদিম অশ্বযুথের কথাও জানেন, যাঁর হাফপ্যান্ট পরা সিড়িঙ্গে ছেলে সতীশ গিরি তার সম্পূর্ণ বিপরীত পােখরান-গর্বে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, উন্মাদ ও নিষ্ঠুর, ঘােটনের একমাত্র স্বভাব-সওয়ারি হয়েও বাবাকে সমঝে দেবার জন্য ঘােটনের মাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে? গিরিগৃহে যে-কথা হয় ভানুদাসের, প্রথমে পিতার পরে পুত্রের সঙ্গে, তাতে পক্ষীরাজ তথা কন্থকের নিষ্ক্রমণের দুটি গল্প শােনা যায়। যেমন ছন্দক-ভানুদাসের, তেমনি নগেন গিরিরও বিশ্বাস যে, অশ্ব বৈশাখী পূর্ণিমায় পোখরান-বিস্ফোরণে কাতর হয়ে অন্তর্ধান করেছে; আর সতীশ গিরির বিশ্বাস ঠিক উল্টো-পােখরানের গৌরবে অশ্বের ডানা ফুটে বেরােয় এবং সেই ডানায় ভর দিয়ে সত্যিকারের পক্ষীরাজ অশ্ব, ঘােটনের বাপ, উড়ে চলে গেছে। একটা গল্প আর্তির, বিষাদের, অন্য গল্প ফুর্তির, উল্লাসের। একটা গল্প বুদ্ধের করুণাঘন; অন্য গল্প ‘বুদ্ধের হাসি’ নামক ভয়ানক অকরুণার অনুবর্তী। একটা গল্প কোকিলা বধূর দ্বিতীয় মদরঞ্চিতে প্রস্ফূটিত—আগুন, ধোঁয়া ও বিস্ফোরণ জোড়া পটে আর্ত-ত্রস্ত অশ্বের পলায়ন; অন্য গল্প যুদ্ধোন্মাদ সতীশ গিরির বিবেকহীন ঘােটকী হত্যায় প্রতিফলিত। 

এই দুই গল্প ছাড়া নিরুদ্দিষ্ট অশ্বেরও হয়তাে একটি গল্প আছে—সে কী করে বৈশাখেই আশ্বিনের স্বপ্ন দেখে গিরিমশায়ের ঘােটকীর উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছিল এবং কী করে কাউকে না পেয়ে তাপে দগ্ধ হতে হতে সে এক মরুভূমিতে এসে পৌছল, তারপর এক অরণ্যে ও জনপদে, আর তার পিছন পিছন কিছু যুদ্ধবাজ লােক ছুটতে লাগল যাদের চোখে সে হয় অশ্বমেধের ঘোড়া নয় যবনের ঘােড়া যদিও উভয়তই যুদ্ধের কারণ এবং বলিদানসাপেক্ষ, এবং কী করে ছুটতে ছুটতে পালাতে পালাতে তাপ বাড়তে বাড়তে সে অন্ধ হয়ে গেল, কিন্তু প্রলয় বন্ধ থাকল না, তার রােম দগ্ধ হতে লাগল, কেশর ঝরে গেল, মুখ থুবড়ে পড়ল সে, চতুর্দিক কালাে হয়ে এল, তেজস্ক্রিয়তায় না মরেও বিকলাঙ্গ হয়ে গেল সে, কিন্তু তার মাথায় জেগে রইল তার আশ্বিনের প্রণয়স্মৃতি ও সেই কুমারের অবয়ব, যাঁকে পিঠে করে সে আলােয় পৌছে দিয়েছিল। 

এই তৃতীয় গল্প যে-মায়ায় রচিত তার সঙ্গে হয়তাে দ্বিতীয় মদরঞ্চির কোনাে বৃহৎ অমিল নেই, কেবল এইটুকুই যে মদরঞ্চির অবলম্বন কোকিলা বধূর পােখরান-সংবাদ শােনার প্রতিক্রিয়া। প্রথম মদরঞ্চিতে শুধু অশ্বটিই ছিল, সেই দুর্দম নিষ্ক্রান্ত কন্থক-পক্ষীরাজ, যাকে ঘরে টানিয়ে রাখলে যেন অশ্বটিকেই ফিরে পাওয়া যেত। কিন্তু সেই ছবির অশ্ব তাে কলকাতা চলে গেল, যেমন গেল ষােলােবছরের কুন্তী, বিক্রি হয়ে। এক আদর্শ রূপ ছিল সেই ছবির অশ্বের, সাধারণীকৃত। দ্বিতীয় ছবিতে কোনাে সাধারণীকরণের প্রয়াসই নেই, আছে অভিজ্ঞাতার তীব্রতা—আছে ভাইদার নাৎসি-অধিকৃত ভারসাও বিষয়ক ফিল্ম ‘কানাল’ যেমন তার শেষে সকল ইচ্ছাপূরণ চৌচির করে আমাদের পর্দা থেকে অভিজ্ঞতার পৃথিবীতে নিক্ষেপ করে, যেন তেমনি। কোকিলাকে নিয়ে যে কুহক তৈরি হয়েছিল শ্রীপতি মাইতির ইন্দ্রিয়মূলে, তা দ্বিতীয় ছবির সঙ্গে সঙ্গে কেটে গেল, পােখরানের পরাবাস্তবে সে অস্পৃষ্ট, যেমন বালিমুণ্ডা-ভীমাপুরে তার জমিদারি যে রকেট উৎক্ষেপণের বলি হতে চলেছে সেই খবরেও সে নয় বিচলিত। ক্ষতি মাটির, ক্ষতি চাষীর, কিন্তু দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ পাবে সে—অলস জমিদার তার কী ক্ষতি! ভানুদাস-কোকিলা-নগেন গিরি যে-তারে বাঁধা তাতে বাঁধা নয় শ্রীপতি—তার এখন ভারতীর প্রেমে ক্লান্তি, কোকিলার কাছেও অন্তর্হিত, তবে আছে রামচন্দ্রের ইপ্সিতা সুভদ্রাবধূ-মন্দ কী! কুন্তীটা থাকলেও পারত! যখন ভানুদাস হয়ে ওঠে ছন্দক তখন সে শ্রীপতির অবােধ্য, বুদ্ধচরিতের ওই শূন্যপৃষ্ঠের কাহিনিতে সে নিঃসাড়। কল্যাণীর এক নাট্যদল তাদের ‘অশ্বচরিত’ মঞ্চায়নে যে-শ্রীপতিকেহাজির করেছিল, কিঞ্চিৎ অমর গঙ্গোপাধ্যায়ের রক্তকরবী’-খ্যাত সর্দারের স্মৃতি-উদ্রেকী, তাতে তার ত্রিমাত্রিকতাই ধরা পড়েছিল, কোনাে চতুর্থ মাত্রার আভাসও তাতে ছিল না। তুলনায় ভানুদাসের মাঝে মাঝেই মাত্রাবদল ঘটছিল। একই সঙ্গে ভানুদাস ও ছন্দক হবার মাত্রান্তরতা যেন খানিক বাস্তব-অবাস্তবের মিশ্রণ। বাস্তবের নানান অঙ্ক রচনা করেও অমর মিত্র যে পরাবাস্তবের দ্বারস্থ হচ্ছেন তার একটা মানে হতে পারে, সত্যকে পুরাে বুঝে উঠতে খালি বাস্তবে কুলােয় না, বাস্তবের অন্তরালে যে-তরঙ্গদোল ওঠে আমাদের মনে, লৌকিকের ফাঁকে ফাঁকে যে-আপাত অলৌকিক উঁকি মারে আমাদের চিদাকাশে, তারও দরকার হয়। সত্য এই যে আমরা মাটির ভেতরে সেঁধিয়ে গিয়ে তেজস্ক্রিয়তার আগুন জ্বালিয়েছি—সেই আগুন কি সহজে নেভে ? সত্য এই যে চাষের জমি পুড়িয়ে পুড়িয়ে আমরা আগুন উৎক্ষেপণের মহড়া দিচ্ছি। সত্য এই যে আমরা অনেকে ওই বিধ্বংসী আগুন নিয়ে গর্ব করছি এবং থেকে থেকেই যুদ্ধের জিগির তুলছি। এক মনুষত্বের (নাকি মনুষ্যোত্তর?) প্রাণী যদি তার নাসারন্ধ্রে রােমকূপে এই ঘনায়মান অগ্নির আঁচ পেয়ে যায়, তাকে কি আমরা আষাঢ়ে গল্প বলে পাশ কাটিয়ে যাব—আমরা, শ্রীপতি মাইতিরা, যারা নিতান্তই মােটা তারে বাঁধা, অর্থ ও কামই যাদের মোক্ষ? ভানুদাসের কন্থক-ছন্দক -সংবাদ কি নেহাতই গালগল্প হয়ে থাকবে আমাদের কাছে। তাে সত্যিই ছিল যেমন ছিল এক কন্থক এবং সত্যিই তাে তারা কপিলাবস্তুর কুমারকে বোধির পথে নামিয়ে দিয়ে ধীরপদে ফিরে এসেছিল। ভানুদাসের আর্তি তথা তার দ্বিস্তর অস্তিত্বকে না বুঝে উঠবার কোনও অবকাশ নেই। বুদ্ধের জগজ্জয়ী করুণা ও স্মিত অভয়কে আমরা স্পর্ধাভরে লঙ্ঘন করেছি ও আমাদের অগ্নুৎসবের গােপন নামাঙ্কন করেছি ‘বুদ্ধের হাসি', যেমন ১৯৭৪-এ তেমনি ১৯৯৮-তেও। কী ক্ষমা আছে আমাদের! পােখরান গিয়ে আরও জাকুস’ না লিখে অমর মিত্র রচনা করেছেন বেদনা, দেখিয়েছেন অশ্বের অন্তর্ধান মানে বুদ্ধের অপনােদন। বামিয়ানে মূর্তি ভাঙার অকরুণার চাইতে কোনাে অংশে কম নয় বুদ্ধের হাসি’র এই প্রায় অশ্লীল প্রয়ােগ। আর সেই অশ্লীলতারই মূর্তিমান প্রতিভূ নয় কি আমাদের নতুন প্রজন্মের একাংশ, যাদের হাত কাঁপে না এক নিরপরাধ অবােধ প্রাণীকে বিষ দিয়ে মারতে, তার ভবিষ্যৎ গর্ভের হন্তারক হতে, যাদের অশ্বদমন এক যুদ্ধোন্মাদনারই নামান্তর, যাদের কণ্ঠে খালি ফুটে বেরােয় দ্বেষ ও হননেচ্ছা—গােধরাউত্তর গুজরাতের ত্রিশূলবাহিনী থেকে কি খুব দূরে এই অবস্থান? ‘অশ্বচরিত’ যখন লিখেছিলেন অমর মিত্র তখন গুজরাত ঘটেনি, কিন্তু বুদ্ধের হাসি’র ওই পুনরাবৃত্তিতেই কি গুজরাতের বীজ বােনা হয়ে যাচ্ছিল না? অমর মিত্রকে সাধুবাদ, অশ্বচরিত শােনাতে গিয়ে তিনি শুধু বুদ্ধচরিত শােনাননি, অ-বুদ্ধচরিতও খানিক শুনিয়েছেন। আরেকটা ‘জাকুস’ লিখলে তিনি হয়তাে এই অ-বুদ্ধবাদীদের বিষবৎ পরিহার করতেন, জগৎটাকে দেখতেন কালোয় সাদায়-কালােয়, কিন্তু উপন্যাস লিখছেন বলেই বােধ করি তা করেননি, এই অমানুষদেরও তাঁর বহুস্বর কাহিনিতে তিনি জায়গা দিয়েছেন। আশা করি তার পরের কোনাে কাহিনিতে তিনি হননেচ্ছার উৎস সন্ধান করবেন, দেখতে চাইবেন যে—অন্ধতা থেকে যুবকেরা হাতে ত্রিশূল' তুলে নেয় তার কারণ কী। ততদিন আমরা বারবার ‘অশ্বচরিত’ পড়ব।




                                                                               

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন