বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

চন্দন মণ্ডলের ছুটির লেখা: শেষ দেখা


Add caption
দুপুরে ফোনটা পেলাম। জেঠিমা আর নেই।গত আট দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন।কিন্ত আর পারলেন না। অবশেষে সুন্দর এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অনন্তলোকে পাড়ি জমালেন।

জানতাম এ রকম কিছু ঘটবে।তাঁর অসুস্থতার খবর শোনার পর থেকে মনটা এক রকম তৈরি হয়ে ছিল।ঝরে যে যাবেন সেটা শুধু সময়ের ব্যাপার।শেষ পর্যন্ত থেমে গেল ৭৩ বছরের দীর্ঘ জীবনের লেনাদেনা।এক সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়ে এবং বড় পরিবারের বৌ। এ বনস্পতির ছায়ায় আমি কিছুটা হলেও আশ্রয় পেয়েছিলাম।আমাকে ছেলের মতোই জানতেন।কিন্ত শেষবিদায়ের যাত্রাটা ভাল হল না।খেতে বসেছিলাম।খাওয়া ফেলে উঠে পড়লাম।মন খারাপের আসলে কোনো ওষুধ নেই।

সে সময় করোনার শুরুর দিকের ঘটনা।বুঝে উঠতে পারি না জেঠিমার মৃত্যুতে আমার যাওয়া উচিত কিনা।করোনা পরিস্হিতিতে আমি না গেলেও কেউ কিছু মনে করবে না।বিভিন্নভাবে বারংবার বলা হচ্ছে ভিড় এড়িয়ে চলুন,ঘরে থাকুন।সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখুন।শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে আমার পৈতৃক গ্রামের বাড়ি।এখন বাজে বেলা তিনটা।রোজার মাস।তার উপর শুক্রবার।এমনিতেই এদিন রাস্তায় যানচলাচল কম থাকে। রমজান বলে বিকেল চারটার পর কোনো ধরণের যানবাহন পাওয়া খুব কঠিন। ভাবি, শেষবারের মতো জেঠিমাকে দেখতে যাব যে, গিয়ে পাব তো? করোনার কারণে দূরের আত্মীয়স্বজন কেউ আসতে পারবে না।শুধু গ্রামের যারা আত্মীয়-জ্ঞাতিগোষ্ঠি তারাই শেষকৃত্য সম্পন্ন করবে।জেঠিমার বড় ছেলে রুপকদা আর বৌদি সেখানে আছেন।নাতি এবং নাতনীও আছে।জেঠিমার বড় মেয়ে কাজলদির কাছেই বিয়ে হয়েছে। তিনিও ছেলেসহ এসেছেন।

বড়জামাইবাবু আসেননি একলা বাড়ি খালি রেখে। অতএব আর কারও জন্য অপেক্ষা করার বিশেষ প্রয়োজন নেই।

আমাকে যেতে হবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে।কী করি কী করি, যাব কি যাব না সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে আরও খানিক সময় নষ্ট হল।তারপর একটা ঝোলায় লুঙ্গি,গেন্জি আর ট্রাউজারটা পুরে বেরিয়ে পড়লাম।ভাগ্য ভাল পথে কোনও দেরি হল না।

যখন পৌঁছালাম তখন বিকেল নামছে। জেঠিমার শব কাঁধে নিয়ে অন্তর্জলীযাত্রায় শশ্মানের উদ্দেশে সবাই বেরিয়ে পড়েছে।মুখে বোল,বলহরি, হরিবোল!পথে খই ছিটাতে ছিটাতে যেতে হয়।শেষযাত্রায় এটাই নিয়ম। দ্রুত বাড়িতে ঢুকে পোষাক পাল্টে গেন্জি আর ট্রাউজার পরে দলে ভিড়ে গেলাম।বোল ধরলাম,বলহরি, হরিবোল!মনে হলো,অস্তগামী সূর্যের বিদায়ী আভা জেঠিমাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে গাঢ় নিরবতায়!


শশ্মানে পৌঁছে একটুও ভাল লাগল না। জেঠিমাকে যথারীতি চান করানো হয়েছে।চন্দনের ফোঁটায় সাজনো মুখ। তুলসি পাতা দিয়ে চোখের পাতা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। নাকেও গোঁজা তুলসি পাতা।তবু দেখলাম জেঠিমার মুখে কষ্টের ছাপ লেগে আছে।মৃত্যুজনিত কষ্ট? নাকি আর কিছু?শশ্মানে বসে টু টা অনেক কথা শুনলাম।

রুপকদা নাকি ঠিক মতো মায়ের চিকিৎসা করাননি।বাঁচামরা সৃষ্টিকর্তার হাতে।কিন্ত চেষ্টা তো করে মানুষ।তিনি বা বৌদি সেভাবে কিছু করেননি।

জেঠাবাবু মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে।তিনি চলে যাবার পর বৌদি গ্রাম ছেড়ে শহরে বাসা ভাড়া করে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন।মেয়ে ভর্তি হয় স্কুলে। ছেলে কলেজে।কিন্ত ছেলের পড়াশুনায় একেবারেই মন নেই।রুপকদা দু'নৌকায় কখনো শহরে কখনো বাড়িতে।ওদিকে সংসারে আস্তে আস্তে কমেছে জেঠিমার অবস্হান। দিনকে দিন বৌদির অপমানজনক ব্যবহার, রুপকদার সেসব দেখেও না দেখা, মায়ের প্রতি ঔদাসীন্য জ্ঞাতিগোষ্ঠীরা দেখেছে কাছ থেকে।কখনো কিছু খেতে ইচ্ছা হলে বলতে সাহস পেতেন না।প্রতিবেশিরা কেউ যত্নআত্তি করতে চাইলে ভয় পেতেন। পাছে বাড়ি ফিরে এর জন্য বৌমার কথা শুনতে হয়।বৌমার কথার ধারও সেরকম।

অথচ জেঠাবাবু যথেষ্ট সম্পদ রেখে গেছেন এবং খুব সম্মানী লোক ছিলেন।গ্রামে বা আশপাশে তার উপরে কথা বলার মতো কেউ ছিল না।এত বড় ঘরের একজন সম্মানী মানুষের বৌ। অথচ স্বামী মারা যাবার পর অবস্হান শূন্যতে।চিতার আগুনে দাউ দাউ করে মিশে গেলেন ঊর্ধ্বাকাশে।কিন্ত রেখে গেলেন প্রশ্ন।


রুপকদারা তিন ভাই।তিনি সবার বড়।দুভাই বাইরে থাকে।কারোরই ছেলেপুলে নেই।তারা এ দেশে কোনোদিন আসবে না। জেঠাবাবুর সম্পত্তির ভবিষ্যত উত্তরাধিকারী রুপকদার একমাত্র ছেলে শিপন।রুপকদা সরকারি স্কুলে চাকরি করেন।

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক।মাইনেপত্র ভালই পান। বাড়ি থেকেই চাকরি করেন।খোরাকি কিছুই কেনা লাগে না তেল নুন ছাড়া।তিনি এবং ছেলে বাপবেটার দুখানা মোটরসাইকেল।টাকাপয়সার 

কোনও অভাব নেই।জায়গাজমি প্রচুর।সচ্ছল পরিবার।

ভাল চিকিৎসা করাতে পারতেন।কেন করলেন না কে জানে।

শশ্মান থেকে বাড়ি ফিরে স্নান করে শুচিশুদ্ধ হয়ে উঠোনে বসে গরম চায়ে গলা ভেজাচ্ছি।রান্নাঘরে নিরামিষের আয়োজন চলছে।মায়ের হাতের নিরামিষের স্বাদ বহুদিন খাওয়া হয় না।অনেকদিন পর বাড়িতে এসেছি।জেঠিমার মৃত্যুতে এগারো দিন নিরামিষ খেতে হবে রুপকদারাসহ জ্ঞাতিকুল সবাইকে। এই এগারোদিন রুপকদা মায়ের ছেলেসন্তান হিসেবে এককাপড়ে ধুতি পরে থাকবেন।স্নান করে ওই ভেজা কাপড়ই গায়ে পরে শুকিয়ে নিতে হবে।বসতে পারবেন কেবল মাটিতে আসন পেতে।আর কিছুতে বসা যাবে না।শুতে হবে খালি মাদুরে।শীতকাল হলে মাদুরের নিচে খড় বিছানো যাবে।মাটির মালশায় দিনে একবার ভাত ফুটিয়ে নিরামিষ খাবেন।আর ফলমূল।

নিজের রান্না নিজেরই করতে হবে।মানুষজন তাকে দেখে বুঝবে যে এ লোকটার বাবা-মা কেউ মারা গিয়েছে।মাথাও মুড়তে হবে।

বাবা-মার জন্যই পৃথিবীতে আসা।তারা বহু যত্ন করে আমাদের বড় করেছেন।বাবা-মা মারা গেলে তাদের জন্য এ কষ্টটুকু করা মানে কিছুটা হলেও জন্মের ঋণ শোধ করা--এরকম একটা ধারণা থেকে এসব আচারবিচার।আরও অনেক নিয়মকানুন আছে।তবে আজকাল আর তেমন কেউ অতসত করে না।

শেখরদা এলেন দেখা করতে।আরেক জেঠাতো দাদা।রুপকদার সমবয়সী।পাশাপাশি বাড়ি। দুজনের মধ্যে ড্যাম খাতির।একসাথে ওঠাবসা,

গ্রামের মাতব্বরি,দলাদলি,সালিশী সব তাতেই একে অন্যের জুড়ি।প্রাথমিক কুশলাদি,একথা 

সেকথার পর শেখরদাকে বললাম,আচ্ছা দাদা,জেঠিমার যে চিকিৎসা হয়েছে এখানে তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট?

শেখরদা সরলভাবে বললেন, হ্যাঁ সন্তুষ্টই তো।না হবার কী আছে?

আমি বললাম,না মানে বড়জেঠাবাবু, অর্থাৎ আপনার বাবা যখন মারাত্মক ষ্ট্রোক করলেন তখন ওই ধরণের রোগী সাধারণত আর ফেরে না জানা থাকা সত্বেও শহরে তাঁকে নিয়ে গিয়ে এ ক্লিনিক সে ক্লিনিক,মেডিকাল কলেজ হাসপাতালসহ সর্বত্র দেড়মাস ধরে আপনারা চেষ্টা করেছেন। বহু টাকা ব্যয় করেছেন।শুধু ঢাকায় বা ভারতে নিয়ে যাননি কারণ জেঠাবাবুর নেবার মতো অবস্হা ছিল না।বাঁচাতে পারেননি হয়ত। কিন্ত শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন।মানুষ ক্যান্সার হলেও যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে, না মরা পর্যন্ত চেষ্টা করে রোগীর নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও।বলতে চাইছি, জেঠিমার বেলায় কি অতখানি মানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল?

এবার শেখরদা নড়েচড়ে বসলেন। সম্ভবত বুঝতে পেরেছেন আমি কী বলতে চাইছি।বুদ্ধিমান মানুষ।

আমতা আমতা করে বললেন,আমরা তো যতদূর পারি এখানে চেষ্টা করেছি ভাই!

আমি বললাম,আটদিন ধরে শুধু স্যালাইন দিয়ে রেখে দিলেন।উনাকে তো শহরে নিয়ে যেতে পারতেন।একটা বিভাগীয় শহরে এর চেয়ে বেটার কিছু কি করা যেত না?শহরে দাদার বাসা আছে,আমরা ছিলাম,আরও আত্মীয়স্বজন ছিল।একটা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে নিয়ে যেতে পারতেন তো তাঁকে!

শেখরদা কোনও কথা বলতে পারলেন না।

মিন মিন করে শুধু বললেন,আমি কী করতে পারতাম বলো?

বোঝাতে চাইলেন, যার মা সে যদি না করে তো তিনি কী করবেন।

সেটা তো আমিও বুঝি। কিন্ত তিনি অন্তত কথাটা তো বলতে পারতেন।রুপকদার সঙ্গে তার এত গলায় গলায় ভাব তা কি শুধু এলাকায় নিজেদের আধিপত্য রক্ষার খাতিরে?না হয় হলোই বা তাই।

তাই বলে কি তাকে মানবিক ইস্যুতেও কিছু বলা যাবে না যতই নায্য কথা হোক না কেন?

এরই নাম বোধহয় ভিলেজ পলিটিক্স।


আমি শেখরদাকে বললাম,রুপকদা এবং বৌদিকে আপনি অন্তত বলতে পারতেন যে জেঠিমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরে নিয়ে যাওয়া উচিত তাদের।শুনত কী শুনত না সেটা তাদের ব্যাপার।কিন্ত একথা বললে কী খুব অসুবিধা হত আপনার?আপনি কি রুপকদার খান না সে আপনার খায়?

শেখরদা বয়সে অনেক বড় আমার। এর চেয়ে বেশি বলা যায় না।যা বলেছি যথেষ্ট বলেছি।

তিনি আর কোনো কথা বললেন না।অনেক রাত হয়ে গেছে।চুপ হয়ে আছি দুজনেই। 'ভাই আমি তাহলে বাড়ির দিকে যাই' বলে বিদায় নিলেন।

যে সব ধর্মে মেয়েদের পৈতৃক সম্পত্তির কোনও অধিকার নেই সনাতন ধর্ম তার মধ্যে অন্যতম। কুমারী অবস্হায় কোনো নারীর বাবা মারা গেলে কিংবা বিবাহিত জীবনে স্বামী মরে গেলে সংসারে তার কোনো মূল্য থাকে না।এর কারণও খুব স্পষ্ট।সে নারীর ঝুলিতে কাউকে দেবার মতো কিছু তো নেই।কাজেই পরিবার কিংবা সমাজ তার জন্য বরাদ্দ রেখেছে শুধু অনুকম্পা।ব্যতিক্রম যে নেই তা বলব না।কিন্ত মোটা দাগে বাস্তবতা এখনো সেটাই।

আইনগতভাবে নারীদের পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার দিতে গেলে পুরুষদের পক্ষে তা মেনে নেবার মতো মানসিকতা খুব কম জনের মধ্যে আছে।অধিকাংশই মনে করে এর ফলে তাদের সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যাবে।বিয়ের পর যেহেতু মেয়েরা পরের ঘরে যায় এটা করা হলে তারা তাদের ভাগের সম্পত্তিটাও নিয়ে যাবে।হয়ত সেটা ঠিক।কিন্ত বৌ হয়ে যিনি আসবেন বাপের ঘর থেকে তিনিও তো তার ভাগের সম্পত্তিটা স্বামীর জন্য বয়ে নিয়ে আসবেন।হিসাবটা তারা ভুলে যান কেন।

বস্তুত পিতা বা স্বামীর অবর্তমানে নারীর অসহায়ত্বের করুণ দিকটা পুরুষদের প্রায় চোখেই পড়ে না।তারা মনে করেন নারী হয়ে জন্মেছে কাজেই এটা তাদের ভাগ্য।আমাদের প্রতিবেশি দেশে আইন করে হিন্দু মেয়েদের পিতৃসম্পত্তির অধিকার দেয়া হয়েছে।কিন্ত এদেশে এখনো আমাদের ঘুম ভাঙেনি এবং জেগে ঘুমানোর লোকের অভাব নেই।

এক বন্ধুর কথা মনে পড়ে গেল। তিনি উচ্চশিক্ষিত এবং খুব বড় পদে চাকরি করেন।পর পর দুটি কন্যাসন্তান জন্মাবার পর বেচারার বড়ই মন খারাপ।নিজের পৈতৃক সম্পত্তি, রোজগারের টাকাপয়সা সবই যে বখাটে ভাইপোর ভোগে যাবে!কী হবে তাহলে!

ভেবে ভেবে বুড়ো বয়সে তাই তিনি আরেকবার বেলতলায় গেলেন। ছেলের আশায়।কিন্ত ওপরওয়ালার মর্জ্জি হল না।এবারেও কন্যাসন্তান।
সে দুঃখে এখন অফিসে লোকজনের সাথে অযথা খারাপ ব্যবহার করেন।শহরে একটা মাথাগোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত করে উঠতে পারেননি এই ভাবনায়, পাছে তিনি মরে গেলে তার বাড়ির মালিক হবে ভাইয়ের ছেলে।

ফুটফুটে তিনটি কন্যাসন্তান। কিন্ত মনে সুখ নেই।

বিষয়আশয় মেয়েদের নামেই হয়ত লিখে দেবেন। কিন্ত তাতেও তো সেই পরের হাতেই যাবে।যত কামাই খাবে জামাই।আর বংশরক্ষা?আরে বাবা মরে গেলে মর্তলোকে কার বংশের কী হবে না হবে, স্বর্গ কিংবা নরক যেটাই হোক সেখানে বসে দেখার কোনো ব্যবস্থা কি আছে?বন্ধু কথার উত্তর দিতে পারেন না।মুখ গোমড়া করে বসে থাকেন।

কিন্ত যদি উল্টোটা হতো? ছেলের বাবা হতেন যদি তাহলে পড়ে পাওয়া চৌদ্দআনার মতো ছেলের বৌয়ের সম্পত্তি ভোগ করতে নিশ্চয়ই আনন্দ বই কষ্ট হতো না!কারণ লাভ তো তখন তার!তাহলে কী দাঁড়ালো ব্যাপারটা? যোগবিয়োগে সেই তো একই। 

তাহলে কেন শুধু জন্মের কারণে বঞ্চিত করা নারীদের! তাদের অধিকার,নিরাপত্তা,সুখ-দুঃখের বোঝা কী সংসারে, কী সমাজে কিছু একটা প্রভাব ফেলে নিশ্চয়ই।আমাদের ভাবা উচিত যে সেসব দেখেশুনে আমরা কতকাল চোখ বুজে বসে থাকব।ভারী কোনও জিনিস উপরে তুলতে গেলে ওপর থেকে যেমন টেনে তুলতে হয় তেমনি নিচ থেকেও ঠেলা দিতে হয়।শিক্ষা টেনে তোলার কাজটি করে। নিচ থেকে ঠেলতে হয় সমাজের ভেতরের স্তরে।নতুবা দিনের পর দিন কেটে যায়--সময় বেশি লাগে।

বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ,সতীদাহ প্রথা বাতিল করা তো ওই নিচে থেকে ঠেলারই উদাহরণ।

সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে রাতে ভাল করে ঘুম হল না।ভোরবেলা একটা খুশির খবরে বাড়ির সবাই আনন্দিত হয়ে উঠল।আমাদের গাভীটা বাচ্চা বিইয়েছে।বকনা বাছুর।মানে কন্যাগরু।

সকলে খুব খুশি।গরুটার প্রথম বাচ্চাটা ছিল এঁড়ে বাছুর।কেউই সেদিন খুশি হতে পারেনি।এঁড়ে গরু কোনোই কাজে আসে না।শুধু খায়।না দেয় দুধ, না দেয় বাচ্চা।ভক্ষণ নিষিদ্ধ। তাই যত দ্রুত সম্ভব বিক্রি করে দিয়ে বাঁচোয়া। এবারে আশা পূরণ করেছে গাভীটা।তিন বছর পর এ বকনাটাও বাচ্চা দেবে।মা গাভীটা তো আছেই।

পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্মের চেয়ে গরুর বকনা বাছুরের জন্ম যেন বেশি আনন্দের।ব্যতিক্রম আছে বৈকি!কিন্ত তা দিয়ে তো সামগ্রিকের বিচার হয় না।জেঠিমার মৃত্যুদিনের এ শোকের মাঝে সাতসকালে এটা তাই মস্ত একটা খুশির খবর!





লেখক পরিচিতি
চন্দন মণ্ডল
খুলনা, বাংলাদেশে থাকেন।
কৃষিবিদ।
কবি। গীতিকার। গল্পকার। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন