মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১

নিকোলাস ডেলব্যাঙ্কো : প্রতিধ্বনিই মৌলিক ধ্বনির উন্মেষ ঘটায়


লেখা নিয়ে লেখকের ভাবনা 
ভাষান্তরঃ সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত 

সম্প্রতি হেমন্ত সেমেস্টারের জন্য আমি একটা পাঠক্রম তৈরি করছিলাম, “গদ্য রচনার শৈলী”। আমার কথা-সাহিত্য লিখিয়ে ছাত্ররা মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এফ এ পাঠক্রমে “দ্য গুড সোলজার”, “টু দ্য লাইটহাউস”, “অ্যাজ় আই লে ডায়িং”, “অ্যা ফেয়ারওয়েল টু আর্মস” এবং “ইউলিসিস”-এর মত বিশিষ্ট আধুনিক রচনা অধ্যয়ন করবে। পাঠক হিসেবে আমরা বিভিন্ন রচনাশৈলীর ওপর মনোনিবেশ করব, এবং সেই সব শৈলী অনুসরণ এবং অনুকরণ করে নিজস্ব রচনা প্রস্তুত করাই আমাদের উদ্দেশ্য হবে। 

এই প্রথা অবলম্বন করে আমি আগেও পড়িয়েছি – প্রাক-স্নাতক এবং স্নাতক পর্যায়ের, দু’ধরনের ছাত্রই ছিল তাদের মধ্যে - উল্লেখযোগ্য ফলও পেয়েছি। অনুকরণ করতে করতেই এক সময় মৌলিক ভাবনা বলতে কী বোঝায় সেটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

ফোর্ড কিংবা উল্‌ফ যে সব অনুচ্ছেদের খসড়া তৈরি করেও হয়ত বাতিল করে দিয়েছেন, আমি জয়েস বা ফক্‌নারের ধাঁচে সেখানে ভিন্নধর্মী ভাষার প্রয়োগ দেখার আশা করি। হেমিংওয়ে পড়ার সময় “অ্যা ফেয়ারওয়েল টু আর্মস”-এর বৃষ্টিভেজা সেই শেষ দৃশ্যের কথাটাই ধরা যাক না। যদি সেদিনের আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল হত, তাহলে মানসিক অবস্থান কেমন হত সেটা কল্পনা করা যেতে পারে। অথবা ধরে নেওয়া যাক, সেদিন যদি তুষারপাত হত, তাহলে? উলফ্‌-এর সৃষ্ট র‍্যামসে পরিবারের নৈশাহারের দৃশ্যটা কেমন হত যদি ওদের টেবিলে সেদিন “অনন্তের ইঙ্গিতবাহী” ব্যফ অ্যঁ দ্যুব-এর বদলে মোম কাগজের ওপর শূকরের ট্রটারস বা সদ্য শিকার করা ট্রাউট থাকত? 

আমরা প্রকাশভঙ্গির রদবদল ঘটাব, যাতে করে জয়েসের স্টিফেন ডিডেলাসকে দক্ষিণতম প্রান্তের মানুষ বলে মনে হয়; ফক্‌নারের অ্যানসে বান্ড্রেনের মুখে আমরা লিওপোল্ড ব্লুম-এর আইরিশ বাচনভঙ্গি বসিয়ে দেব। ফোর্ডের এডওয়ার্ড অ্যাশবারনামকে উলফ্‌-এর লিলি ব্রিস্কো’র সঙ্গে পায়চারি করতে পাঠাব এবং দেখব কে কাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবশ্যই এগুলো অনুকরণ হবে, এবং সেই অনুকরণ পরিহাসের মত শোনানোটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমার উদ্দেশ্য হল তরুণ লেখকদের লেখায় স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠা করতেই হবে এই ধরনের পূর্বকল্পিত ধারণার থেকে মুক্ত করা। আমি চাই বিষয়বস্তু নয়, ওরা লেখনভঙ্গির ওপর বেশি জোর দিক, আমাদের মহান পূর্বসূরিদের রচনা পাঠ করে রচনার বিষয় নয়, বরং তাঁদের লেখনশৈলীর বিশ্লেষণ করুক। 

তা ছাড়া এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে এই দুইয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক অলঙ্ঘনীয়। যেমন হেমিংওয়ের ছোট ছোট বাক্যবন্ধ আর ফক্‌নারের দীর্ঘায়িত বাক্যসমষ্টি শৈলীগত বিরোধের চেয়েও আরও কিছুর ইঙ্গিত বহন করে। প্রথম জনের ক্ষেত্রে বিষয়গুলির বিভাজন করা যায় আর দ্বিতীয়জনের ক্ষেত্রে বিষয়গুলি সংপৃক্ত। লেখার মধ্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের প্রয়োগ অথবা মূল বাক্য সম্পূর্ণ করবার প্রয়োজনে লেখক যে ধরণের অধীনস্থ বাক্যাংশ ব্যবহার করা পছন্দ করেন, তা থেকে লেখকের চিন্তাভাবনার গতিপ্রকৃতির আন্দাজ পাওয়া যায়। 

শৈলীর সঙ্গে মূল্যবোধের এক অন্তর্নিহিত সম্পর্ক রয়েছে। যেমন ধরা যাক, “টু দ্য লাইটহাউস” উপন্যাসের মূল চরিত্রের আকস্মিক মৃত্যু হয়, কিন্তু মূলপাঠ থেকে মিসেজ় র‍্যামসের চরিত্রটি অবলোপের ধরন নিয়ে ভার্জিনিয়া উলফের সিদ্ধান্ত তাঁর শব্দবিন্যাসের রীতিনীতির ওপর যতটা নির্ভরশীল ঠিক ততটাই নির্ভরশীল মরণশীলতা নিয়ে তাঁর অনুভূতির ওপর। 

ফোর্ড ম্যাডক্স ফোর্ডের যতিচিহ্ন ব্যবহারের একটা বৈশিষ্ট হল শব্দ ঊহ্য রাখার চিহ্নের (এলিপ্সিস) প্রয়োগ। এর থেকে লেখক কি বলতে চান না বা কি বলা হল না, পাঠক সেটা সম্বন্ধে একটা ধারণা করে নিতে পারেন। সংযোগ স্থাপন বা অবান্তর প্রসঙ্গ উত্থাপনের মাধ্যমে বাক্যাংশকে নীরবতার দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া (…) আর অসমাপ্ত বাক্যাংশের পরিসমাপ্তি বিস্ময়বোধক চিহ্নের (!) দ্বারা করা – এই দুইয়ের মধ্যে নিঃসন্দেহে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। 

যদি ধরে নিই কলা অনুকরণযোগ্য একটা প্রক্রিয়া – আয়নায় প্রকৃতির ছায়া – তাহলে আমরা যাই লিখি না কেন, তা হল ২৬টা বর্ণ ব্যবহার করে কৌশলে ‘বাস্তব’কে নকল করবার প্রয়াস; শব্দের মালা গেঁথে নিজস্ব ভাবনাচিন্তাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করি নিজের অজান্তেই, তবে কখনও করি জেনেশুনেই। যুগ যুগ ধরে সামনের দিকে চলতে চলতে, অবশেষে হয়ত আমরা জানুসের মত পেছনে ঘুরে তাকানোর অভ্যেসটাও রপ্ত করে ফেলি। 

মাইকেল কানিংহ্যামের পুরষ্কারবিজয়ী বই “দ্য আওয়ার্স” অনুকরণের এক বর্ধিত প্রয়াস, চাটুকারিতার আন্তরিকতম নিদর্শন; ক্ল্যারিসা ড্যালোওয়ের চরিত্র এবং সেই চরিত্রের স্রষ্টা, উলফ্‌ - উভয়ের জগতেই তাঁর প্রবেশ। “শেক্সপিয়ার ইন লাভ” যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ, এলিজ়াবেথের সমকালীন ইংল্যান্ডের ভাষা নিয়ে হাস্যরস উৎপাদনকারী নকশা; “রোমিও অ্যান্ড এথেল অ্যান্ড দ্য পাইরেট’স্‌ ডটার” বুঝে ওঠার জন্য “রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট” আগে থেকে পড়ে নেওয়া দরকার। প্যাট্রিক ও’ব্রায়ানের অব্রে ও ম্যাটুরিন সিরিজ়ের উপন্যাসগুলি দুশো বছর আগের বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ের মনগড়া ইতিবৃত্তে নিরবচ্ছিন্ন পদচারণা, গল্পগুলির সিংহভাগ জেন অস্টেনকে স্বীকৃতি জানিয়ে কিংবা নৌযুদ্ধের পটভূমিকা ধার করে রচিত। এগুলো তো কেবল হিমশৈল’র চূড়া, এরকম উদাহরণ অগুণতি। 

কোনো কোনো উপস্থাপনায় পুনরাবৃত্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক, ব্যক্তিগত ভাবপ্রকাশ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। যেমন একটা নাচের দলের উচিত কোরিওগ্রাফারের পরিকল্পনা মত প্রশিক্ষিত ঐক্যে শরীর সঞ্চালনা করা। বেহালায় ছড় টেনে ব্যতিক্রমী কোনও সুর তোলা হলে পুরো অর্কেস্ট্রাটাই মাটি হয়ে যায়। 

শিল্পীর কর্মশালায় শিক্ষার্থী বছরের পর বছর ধরে রঙ মিশিয়ে চলেছেন, কিংবা তক্তা জোড়া লাগাতে শিখছেন। তাঁর মনে হতেই পারে যে এই কাজ তিনি অনন্তকাল ধরে করে চলেছেন। তবে নৈপুণ্য অর্জন হয় খুবই ধীরগতিতে এবং অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ শিল্পীর তত্ত্বাবধানে। তারের বাদ্যযন্ত্র নির্মাতা জে বি ভিলিওঁ তাঁর বাদ্যযন্ত্রে উচ্চপ্রশংসিত পূর্বসূরী ট্রাডিভারিযাস বাদ্যযন্ত্রের নকশা লাজলজ্জার তোয়াক্কা না করেই নকল করেছিলেন। এটাকে জালিয়াতি বলা যায় না, বরং অনুকরণ বলাই ভাল, অগ্রপথিকদের দেখানো পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারোক্তি। 

সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অন্যতম অঙ্গ হিসেবে অনুকরণের ভূমিকা সুদূরপ্রসারিত; পুরোনো গল্পগুলোই আমরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলতে থাকি। শিশিক্ষু চারণদের, আবৃত্তি করবার কিংবা গাইবার জন্য, প্রচলিত সুদীর্ঘ গাথা পঙ্‌তি ধরে ধরে মুখস্ত করে ফেলতে হত। গৎবাঁধা শ্রুতির পরম্পরায়, মনে রাখবার ক্ষমতার ওপরেই সব থেকে বেশি জোর দেওয়া হত, অভিব্যক্তির স্বাতন্ত্র প্রকাশের প্রচেষ্টা একেবারেই সাম্প্রতিক ঝোঁক, এবং সম্ভবত এক বিপথগামী সংযোজন। 

আগেকার দিনের লেখকদের কাছে অন্তত ব্যাপারটা অনেক সহজবোধ্য ছিল, সংশয়ও ছিল কম। নির্ধারিত বিষয়বস্তু অথবা ‘আমি’ সর্বনাম এড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে ওঁরা লজ্জাজনক কিছু দেখতে পাননি। যেহেতু মহাকাব্যের মূলকাহিনী অপরিবর্তনশীল, শিক্ষানবিস তাই অনায়াসে শৈলীর প্রতি মনযোগ দিতে পারে। কলমচীকে আত্মস্থ করতে হবে একজন নকলনবিসের কারিকুরি। রসোত্তীর্ণ শিল্পের পর্যায়ে ফেলা না গেলেও, প্রচেষ্টা সফল হলে কৌশলে যে ত্রুটি ছিল না সেটা প্রমাণ হয়েই যায়। 

সোজা কথায় বলতে গেলে, সমস্যাটা কী লিখব সেটা নিয়ে নয় বরং কীভাবে লিখব সেটা নিয়ে। তাই লেখার বিষয়বস্তু যদি পূর্বনির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে নবীন লেখকদের বিষয়বস্তু উদ্ভাবন করবার দায় থেকে মুক্তি দেওয়া যায়। 

স্বাক্ষর স্বীকৃতিও জরুরি নয়। আমাদের কালজয়ী সাহিত্য অনেকাংশেই বহু অজ্ঞাতনামা লেখকের রচনার সংকলন। “দ্য বাইবেল”, “রামায়ণ” কিংবা “বেউলফ্‌” এদের রচয়িতা কে, সেটা হলফ নিয়ে কে বলতে পারে? সত্যি বলতে কি, কার এসে যায়? “ইলিয়াড” এবং “ওডিসি” কোনও অজ্ঞাতনামা কবির রচনা, আর সেভাবে দেখতে গেলে, শেকসপিয়ারের সমস্ত নাটকই তাই। তা বলে এই সব রচনায় কোনও নিজস্বতার ছাপ নেই, এরকম কিছু বলা হচ্ছে না – বরং উল্টোটাই সত্যি। জরুরি হল ব্যক্তিপূজার অবলোপ। এটাও আধুনিক ঝোঁক, এবং আমার মতে, বিপথগামী। লেখালেখির প্রয়াসের সঙ্গে সেভাবে এর কোনও সম্পর্ক নেই। 

এর সব কিছুই শেষ পর্যন্ত ভাষার স্বরূপ আর স্বাক্ষরতার সাম্ভাব্য স্তরের সঙ্গে মিশে যায়ঃ ভাষার স্থানীয় রূপের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য অনেক ক্ষেত্রেই তাচ্ছিল্যের কারণ হয়ে পড়ে। নৃত্যকলার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ না করেই কেউ নৃত্যানুষ্ঠানে যোগদান করেন না, সরগমের ধারণা ছাড়াই কেউ মোৎজ়ার্ত পরিবেশন করতে পারেন না, পূর্বাভ্যাস ছাড়াই কেউ ভারোত্তলন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন না। পাঁচ বছর বয়সে পড়তে শিখেছি মানে নির্দ্বিধায় এই ধরে নেওয়া নয় যে আমরা সব কিছুই পড়ে ফেলতে সক্ষম; ছ’বছর বয়সে নিজের নাম লিখতে পারলেও সাহিত্য রচনা সম্ভব নয়। 

তাই শিক্ষকের অন্যতম কর্তব্য হল পূর্বগামীদের কাজের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা। “টম, এই প্লটটা নিয়ে ডিক কিভাবে এগিয়েছে, সেটা লক্ষ্য করলে বোধহয় ভাল করতে; হ্যারিয়েট, তুমি ক-এর উপন্যাসটা আবার করে পড়তে পার, যেটা তোমার খ অনুসরণ করছে বলে বোঝা যাচ্ছে।” এরকম প্রচেষ্টা যে আগেও হয়েছে, বেশিরভাগ ছাত্রেরই এ ব্যাপারে কোনও ধারণা নেই। এরকমও দেখা গেছে যে শিক্ষানবিসরা যে মডেল নকল করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, সেটার কোনও দৃষ্টান্ত তার নজরে আসেনি। একদিক থেকে দেখতে গেলে এই অজ্ঞতা আশীর্বাদস্বরূপ, কল্পনাশক্তির ব্যবহার করার পূর্বশর্ত। তবুও এজ়রা পাউন্ডের নিষেধাজ্ঞা “মেক ইট নিউ”, এর মধ্যে যা গতকালের বিচারে নতুন করে তৈরি করার প্রয়াস ছিল, তার সম্যক ধারণা থাকার প্রয়োজনটাও নির্দেশ করা হয়েছে। 

অতএব, আমার সেপ্টেম্বরের ছাত্ররা অবিচ্ছিন্ন পুনরাবৃত্তির প্রয়োগের ব্যাপারে নজর দেবে; “দ্য ডেড”-এর তুষারঝড়ের অর্থ খোঁজার ব্যাপারে নয়। ভার্জিনিয়া উলফ্‌-এ চিত্রকল্পগুচ্ছ নিয়ে আমরা আলোচনা করব, আর করব লাইটহাউসের দিকে তাকিয়ে বিভিন্ন চরিত্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে। এটাও বোঝার চেষ্টা করব বাক্যে কমা থাকলে কিংবা না থাকলে, অনুভূতির কেমন তারতম্য ঘটতে পারে। সেমেস্টারের শেষে এই সব লেখকরা ডাবলিনের ম্যাপ বা ইয়াকনাপাটোফা কাউন্টির জনসংখ্যা নাও জানতে পারে, কিন্তু ওরা জেনে যাবে হেমিংওয়ের “গুড সোলজারের” বাচনভঙ্গির সঙ্গে ফোর্ড বর্ণিত চরিত্রের তফাতটা কোথায়। আর সেটা না পারা মানে এই পাঠক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। 

উদ্ভাবনশীলতা বাস্তবিকই দুর্লভ, হাতে কলমে শেখানো যায় না। “গদ্য রচনার শৈলী” পাঠক্রমের উদ্দেশ্যও নয়। তবুও আমি আশা করি, এই সব প্রতিধ্বনীর অধ্যয়ন এবং আত্মীকরণ করতে পারা গেলে মৌলিক ধ্বনীর উন্মেষ আপনা থেকেই হতে থাকবে। 

নীচে যে পংক্তিগুলো দেওয়া হল, তার প্রথম বাক্যাংশ “দ্য গুড সোলজার” থেকে নেওয়া, শেষের বাক্যাংশ “ইউলিসিস” থেকে। দ্বিতীয় বাক্যাংশের বক্তা ফক্‌নারের বিক্ষুব্ধ ওয়ার্দমানের। তৃতীয় বাক্যাংশে জেক বার্নসের তিক্ততা প্রকাশ পাচ্ছে। লাতিনীয় নয় অ্যাংলো-স্যাক্সন উৎপত্তি প্রতিটা শব্দের; দীর্ঘতম শব্দে দুটো পদ; তবু প্রথম থেকে শেষ অবধি, লেখকদের অভিপ্রায় আর স্বরভঙ্গি একেবারে ভিন্নঃ 

এটি আমার শোনা করুণতম কাহিনী, 
আমার মা একটি মাছ, 
এভাবে চিন্তা করাটাই ভাল নয় কি। 

হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ 





অনুবাদক পরিচিতি
সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত
গল্পকার। অনুবাদক। বাচিক শিল্পী।
কোলকাতায় থাকেন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন