মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১

রঞ্জনা ব্যানার্জী : গল্পের কাছে কী চাই



গল্পের কাছে পাঠক হিসেবে প্রথমত আমি একটি টানটান গল্পই চাই যে গল্প , আমার ঔৎসুক্য ধরে রাখবে এবং পাঠ শেষেও তার রেশ রয়ে যাবে। স্থান-কাল-পাত্র কেবল কালো অক্ষরেই জমে থাকবে না, লেখক তাদের প্রাণ দেবেন। এর ভাষাটি হবে মনোরম; সহজ, কাব্যিক বা বঙ্কিমীয় যাই হোক না কেন আমি সেই ভাষায় আঁকা ছবিটির বর্ণ গন্ধ স্বাদ অনুভব যেন করতে পারি। আবার মাইলের পর মেইল সর্ষে ক্ষেতের হলুদ মেখেও যদি গল্প না পাই সেটিও আমার কাছে গল্প নয়। চেখভের বন্দুক তত্ত্বের সুরে বলি গল্প অনাবশ্যক উপাদানে ভারী হবে না। আমি গল্পে বাগাড়ম্বর চাই না , আবার উদোম গল্পও পছন্দ নয়। একটা গল্পে অসংখ্য জীবনযাপনের হাতছানি থাকে সেই হাতছানিতেই আমি জীবন দেখি নতুন চোখে। সবশেষে গল্পটি আমার ভাবনার দরজায় ধাক্কা না-দিক, জানালায় অন্তত মৃদু টোকা দেবে এমনটি প্রত্যাশা করি। 

আমি নিজে যখন লেখক তখন আমি পাঠকের পছন্দের বিষয়টি নিয়ে কিন্তু ভাবি না। বরং আমি নিজেকে পাঠকের জায়গায় বসিয়ে আমার পছন্দের গল্পটি নির্মাণ করি। কেবল শব্দের ভিড় নয় গল্পের গল্পটি খুঁজে তাকে মূর্ত করার জন্যে উপযুক্ত শব্দের বুননের কাজটি সহজ নয়। পাঠক হিসেবে গল্পে স্বাতন্ত্র্য খুঁজি আমি, লেখক হিসেবেও তাই। গল্পে একটা ফিনফিনে আড়াল ভালোবাসি যা ক্রমশ নিবিড় পাঠে সরে, এই আড়াল নির্মাণে আমি রূপকের পর্দা চড়াই। গল্পে টানাপোড়েন থাকতেই হবে নইলে গল্প মুখ থুবড়ে পড়ে হাঁটে না। তাই চরিত্রদের পারস্পরিক কিংবা একই চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ গল্পে থাকতেই হয় সেটির জন্য প্লট নিয়ে ভাবি। সহজ ভাষায় কঠিন বিষয়টি পরিবেশনের ঝোঁক আছে আমার তবে তা প্ত্রিকার সংবাদ পরিবেশনের মতো খটখটে যেন না হয় তারও চেষ্টা থাকে। ছেলেবেলায় অনেক পড়া গল্পও আমি মায়ের মুখে শুনতে ভালোবাসতাম আমার মা অসাধারণ গল্প বলিয়ে ছিলেন। অবচেতনে সেটি কাজ করে কিনা জানি না তবে গল্প আমার কাছে বৈঠকি ঢঙেই আসে। গল্পের ভেতর গল্প বুনতে আমার ভালো লাগে তবে ক্লান্তিকর বা অনাবশ্যক না-করার জন্য লাগামও টানি। 

লেখক হিসেবে আমি চাই আমার গল্পটি পাঠ শেষেও পাঠকের মনে জেগে থাকুক; পাঠকের ভাবনার জমিতে ফের বাড়ুক ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন