মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১

নাহার তৃণা : গল্পের কাছে কী চাই



আমাদের চারপাশে প্রতিদিন নানা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। প্রতিদিনের কথোপকথনে কি গল্প থাকে? খুব থাকে। পড়শি ‘দবির সাহেব ছোটো ভাই কবির সাহেবের সাথে অমুকদিন তমুক কাজটা ঠিক করেননি’র মতো হাজারো গালগপ্পো খুচরো পয়সার মতো গড়িয়ে পড়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনের পকেট গলে। 
পত্রিকা পড়ে জেনে যাই কোনো এক ধর্ষিতা নারীর সাথে খোদ ধর্ষকের বিয়ের অনাসৃষ্টি ঘটনা ঘটেছে আদালত চত্বরে। এগুলো বাস্তব জীবনের গল্প হলেও প্রতিবেদন মাত্র। যা শিল্প-সাহিত্যের স্তরে পড়ে না। গল্পকে শিল্পের স্তরে পৌঁছানোর জন্য কয়েকটা ধাপ পেরোতে হয়। এই ধাপগুলোর উপস্হিতি বা অনুপস্হিতি-নিয়ে একটা সময় পর্যন্ত যে লেখা তৈরি হতে থাকে, তার একচ্ছত্র অধিকার লেখকের। পাঠক তখন স্রেফ বাহিরি(outsider)। গল্পটি নিয়ে যার তখন পর্যন্ত কিছু বলার অধিকার জন্মায়নি। গল্পটা তৈরি হয়ে প্রকাশের স্তর পেরোবার সঙ্গে সঙ্গে লেখকের লেখায় পাঠকেরও অধিকার জন্মায়। গ্রহণ কিংবা বর্জনের অধিকার। ভালো গল্প বা খারাপ গল্প বিচারের অধিকার। 
 
সাহিত্যের কাছে পাঠক কি চায়? পাঠক চায় মনের খোরাক। যদিও পাঠক রুচি ভেদে এ মতের ভিন্নতা আছে, যা খুব স্বাভাবিক। প্রাচীন সংস্কৃত পণ্ডিতেরা শিল্পের প্রধান এবং প্রথম গুণ সম্পর্কে বলেছেন,‘সহৃদয় হৃদয় সংবাদী’, যার অর্থ পাঠক হৃদয়ে সংবেদনশীলতা জাগানোর ক্ষমতা, যা শিল্পের ভিতর না থাকলেই নয়। সাহিত্য সম্পর্কেও এটি প্রযোজ্য। কিন্তু এই সংবেদনশীলতা জাগানোর কাজে লেখক যেন তাঁর আবেগের রাশ টেনে ধরেন; পাঠক হিসেবে এটা চাওয়া। কথা সাহিত্যিক কুলদা রায়ের কথার প্রতিধ্বনি তুলে বলা যায়- ‘গল্পকার কোনো আবেগ প্রকাশ করবেন না। তিনি আবেগ শূন্য মানুষ। গীতায় যেরকম ঈশ্বরের বর্ণনা আছে-লেখক হল তাই।’ 
 
লেখকের সাহিত্যকর্মে তাঁর পর্যবেক্ষণের ভঙ্গি, প্রকাশরীতি ও অনুসন্ধান পদ্ধতির জালটা যেন পাঠক হিসেবে আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলতে পারে। জাল কেটে বেরোবার জন্য আমার পাঠক মন যেন আনচানের সুযোগ না পায়- একটা ঠাসবুনোট গল্পের জট খুলতে খুলতে গল্পটার হৃপিণ্ড স্পর্শের মধ্যে দিয়ে যেন পাঠ যাত্রার আপাত ইতি ঘটে। পাঠক হিসেবে যেন মনে হয়- গল্প শেষ, কিন্তু কোথাও কী একটা ব্যাপার বুঝি থেকে গেছে। কমলকুমার মজুমদারের ভাষায় বললে, ‘কোথাও এখনও মায়া রহিয়া গেল।’ গল্পের এই মায়া’র টানে পাঠক গল্পটি আবারও পড়বার আকাঙ্ক্ষা পুষে রাখবেন। একটি গল্প থেকে আরো দু-পাঁচটা গল্পের ইশারা পাঠকের কাছে এসে উপস্হিত হবে, এমন আশাও পাঠক হিসেবে পোষণ করি। 
 
লেখক সমাজসংস্কারক নন, পুরোহিত মোল্লাদের ফতোয়ায় জর্জরিত সাহিত্য সৃষ্টি তাঁর কাজ নয়। ‘ইউটোপিয়ান’ সমাজের গল্প তিনি লিখুন ক্ষতি নেই। একই সাথে যে সমাজে তিনি বসবাস করছেন, সে সমাজের হারানো ঐতিহ্য, পারিবারিক সম্পর্ক, মানবিক প্রেম-অপ্রেম, ন্যায়-অন্যায়, রাজনীতি-দুর্নীতি ইত্যাদির প্রকাশও যেন তাঁর সাহিত্য বা গল্প ধারণ করে। বাস্তব বঞ্চিত সাহিত্য, আমার ধারণায় এক ধরনের পলায়নপর মনোভাব। একজন লেখক বাস্তবতা এড়িয়ে থাকতে পারেন না। পরিবার- রাষ্ট্র-সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা থাকে। সেই দায়বদ্ধতাকে লেখক অস্বীকার করতে পারেন না বা তার গল্প সে বাস্তবতাকে এড়িয়ে রচিত হতে পারে না। 
 
আমাদের সমাজে নানামুখী অনাচারে নিশ্চুপ প্রতিবাদহীন মানুষের সংখ্যাই বেশি। পাঠক হিসেবে আমরা অনেকেই সেই কাতারের-- লেখক যদি, পাঠকের ভেতর সূক্ষ্ণভাবে গ্লানিবোধ তৈরির আন্তরিক ইচ্ছায় সেরকম বিষয় নিয়ে গল্প লিখেন যা পাঠের পর পাঠক হিসেবে মনে সত্যি গ্লানি জন্মায়, অস্বস্তিতে ভেতরটা ছেয়ে যায়- পাঠক হিসেবে সে গল্পকে সাদরে নেবো। কে বলতে পারে, হয়ত সাহিত্য পাঠের অভিজ্ঞতায় জন্ম নেওয়া অস্বস্তি কিংবা গ্লানিবোধ থেকে সমাজ বদলের উৎসাহে নিশ্চুপ কণ্ঠে স্বর ফুটবে! তাই বলে রাজনৈতিক কিংবা এক্টিভিস্টের জ্বালাময়ী ভাষ্য চাইছি না- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, শহীদুল জহীর, টনি মরিসন, চিমামান্দা নগুজি আদিচি, এলিজাবেথ জয় সেরানো কুইজানো প্রমুখেরা যেমন স্রেফ গল্পটা লিখেছেন, নিজস্ব বিশ্বাসের ঝাণ্ডা পাঠকের হাতে তুলে দেবার জন্য মরিয়া হননি। সেই ধারার গল্প চাই। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ ও রমাপদ চৌধুরীর একই শিরোনামের গল্প ‘ভারতবর্ষ’ সপাটে যেভাবে সভ্যতার নামে দৈন্যদশা, আর নিজেদের অন্তঃসারশূন্যতার ছবিটা পাঠকের সামনে তুলে ধরে। এমন গল্পের কাছে হাত পেতে দাঁড়াতে চাই।
 
ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে উপমহাদেশ জুড়ে যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত(প্রসঙ্গটি অপ্রাসঙ্গিক হবে না আশা করছি) , সঙ্গত কারণে তারা এক ধরনের হীনম্মন্যতার শিকার। এইসব মানুষেরা ক্ষেত্র বিশেষে কোথাও না কোথাও ‘মানুষ’ হিসেবে নাম ধারণের যোগ্যতাটাও হারিয়ে ফেলেছেন বা ফেলতে বসেছেন। এই বাস্তবতা নিয়ে যদি কোনো লেখক কলম ধরেন, তবে যেন তিনি সত্যিটাকে সততার সাথে তাঁর গল্পে প্রকাশের সাহস দেখান। কাহিনির চাঁছাছোলা সততা পাঠককে অস্বস্তিতে ফেলতে বাধ্য, যদি সে সাহিত্য শিল্পের শর্ত মেনে লেখা হয়-- পাঠক এমন গল্পকে সার্থক গল্প হিসেবে দু’হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করেন। সাদাত হাসান মান্টোর ‘টোবা টেক সিং’,’ঠাণ্ডা গোস্ত’,‘কালো শালওয়ার,’ সোমেন চন্দের ‘দাঙ্গা’, হাসান আজিজুল হকের’ আত্মজা ও একটি করবী গাছ’, ‘আগুন পাখি’, ইত্যাদি এমন অজস্র গল্প আছে। এসব গল্পের সত্য গোষ্ঠী স্বার্থ-ব্যক্তি স্বার্থ বা রাজনীতির নামে অমানবিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অস্বস্তি আর বিষণ্নতা উজিয়ে এমন গল্পের কাছে নতমস্তকে পাঠক হিসেবে দাঁড়াতে চাই।
 
একটি নিখাঁদ সাদামাটা গল্পও পাঠকমনে চিরদিনের জন্য জায়গা করে নেয় বলে আমার ধারণা। বাংলা সাহিত্যে এমন গল্পের তালিকা সুবিশাল। তার মধ্যে এমুহূর্তে মনে পড়ছে- সৈয়দ মুজতবা আলীর, 'পাদটীকা', বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের 'তুচ্ছ', অবনী ধরের 'ভাতের জন্য শ্বশুর বাড়ি’, সোমেন চন্দের ‘ইঁদুর’, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘চন্দনেশ্বরের মাচানতলা’, বিমল করের ‘জননী’, ইত্যাদি। উল্লেখিত গল্পগুলোতে শিল্পের শর্ত পূরণের পাশাপাশি, লেখকদের সততার গুণে গল্পগুলো নিপাট গল্পই হয়ে উঠেছে; সস্তা কেচ্ছাকাহিনির দিকে গড়ায়নি। কারণ এসব গল্পের লেখকেরা গল্প বলতে গিয়ে ইচ্ছাপূরণের বানোয়াট কথার পথ অনায়াসে এড়াতে পেরেছেন। এমন গল্প তো নিকষিত হেমের মতোই আরাধ্য- পাঠক হিসেবে সে মায়ার খেলা এড়াই কীভাবে!
 
এ প্রসঙ্গে মার্গারেট এ্যাটউডের ‘রিডিং ব্লাইন্ড’ প্রবন্ধ থেকে একটু বলবার লোভ হচ্ছে- “প্রতিটি গল্পের একটা কন্ঠ আছে যেমন প্রতিটি সঙ্গীতের সুর থাকে। এটা শুধু একটি পৃষ্ঠার কিছু কালো শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, কখনো কখনো এটা সময়কেও অতিক্রম করে যায়। চুড়ান্ত বিচারে সব গল্পেরই একটা কন্ঠস্বর থাকে, কাগজের পৃষ্ঠার কালো অক্ষরগুলো যদি শব্দে অনুদিত হয়ে কর্ণকুহরকে স্পর্শ না করে তাহলে সেই গল্প অর্থহীন। এমনকি আমরা যখন নিঃশব্দে যদি কোনো ভালো গল্প পাঠ করি তখনও আমাদের কানে সেই শব্দ বেজে যায় যদি না সেটা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জাতীয় কিছু হয়।”-- পাঠক হিসেবে গল্পের সেই কণ্ঠস্বর শোনার জন্য ‘আমি কান পেতে রই।’
 
গল্প হুড়মুড় করে যেন পাঠকের কাছে পৌঁছাতে না চায়। পাঠককে আবিষ্কারের একটা সুযোগ দিতে হবে। শব্দের ভাঁজ খুলে গল্প কে আবিষ্কারের আনন্দ পুরোপুরি পাওয়ার পরিবেশ তৈরি থাকতে হবে। নরেন্দ্রমিত্রের খুব সাদামাটা ভাবে লেখা গল্প 'আলমারি'র উদাহরণ এখানে টানা যেতে পারে। স্বল্প উপার্জনের এক নবীন দম্পতির একটা আলমারি কেনার গল্প এটি। এদের জীবনের সবটা গল্পকার সপাটে পাঠকের সামনে তুলে ধরেননি। গল্পের ভাঁজে ভাজে গুঁজে দিয়েছেন তাদের জীবন ঘিরে থাকা বৃত্তান্ত। আবার সবটাই বলে দিয়েছেন তাও নয়। কিছুটা ভাবনা পাঠককেও ভেবে নেবার সুযোগ রেখে দিয়েছেন। তার খোঁজে পাঠককেই গল্পের অন্দরমহলে ঢুকে পড়তে হয়। গল্পকার এখানে লেখার ভূমিকাটুকু পালন করে সরে গেছেন। কারণ তিনি গল্পকার, পইপই করে তথ্য তালাশের সন্ধান দেবার জোগানদার নন। গল্প আবিষ্কারের দায়িত্ব পাঠকের। গল্পের সুতো ধরে গল্পটার ভেতর বাড়িতে প্রবেশ করে হাঁড়ির সবটা খবর পেয়ে যাওয়া বা আবিষ্কার করাটা পাঠকের জন্য দারুণ প্রাপ্তি। যেরকম প্রাপ্তি ঘটে রোয়াল্ড ডালের গল্প পয়জন( Poison)’ গল্পটা পড়ে। আপাত একটা কাল্পনিক কালকেউটে নিয়ে গল্পের আখ্যান গড়ালেও সেটি যে আদতে জাতিগত বিদ্বেষের বিষ পুষে রাখার গল্প, এই সত্যিটা আবিষ্কার পাঠকের জন্য রীতিমত চমকেরই ব্যাপার। এমনসব আনন্দ কিংবা চমকের সন্ধান পাঠক যে গল্পে পান সে গল্প বার বার পড়তে পাঠক ক্লান্তিবোধ করেন না। 
 
গল্পের কাছে গল্পই চাই। যে গল্প পাঠ শেষে মনে হয় এমন গল্প একা উপভোগের জন্য নয়, অন্যদেরও এই ভালোর অংশীদার করি। যে গল্প পাঠে, আনন্দ পূর্ণতা পায় এমন লেখার কাছে ঘন নিবিষ্টতা নিয়ে পৌঁছাতে চাই। এমন গল্প পড়তে চাই, পাঠ শেষে যেন মনে হয়, হ্যাঁ এতক্ষণ কাটানো সময়ের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা গেছে। গল্প পাঠ শেষে চাই যথার্থ তৃপ্তি। পুনরাবৃত্তি’র চক্করে পড়ে বিরক্তও হতে চাই না। 
 
একটা গল্প পাঠককে শব্দের আড়াল থেকেও অনেক কিছু দেখানোর ক্ষমতা ধারণ করে। সেটা হতে পারে জীবন বিষয়ক, হতে পারে জাতি-রাষ্ট্র কিংবা পৃথিবী বিষয়ে, পাঠক হিসেবে সেটুকু পাওয়ার কাঙ্ক্ষা করি।
 
সাহিত্য বা গল্প, পাঠক আনন্দের জন্যেই পাঠ করেন। গল্পের বইটা তার কাছে ইচ্ছেপূরণের জাদুর কাঠি হলেও হতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই সেটা বেতহাতে রাগী মাস্টার মশাইয়ের ক্লাসঘর নয়। পাঠের সময় আনন্দ কুড়িয়ে নেবার, বিস্মিত বা অভিভূত হওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও লেখক কর্তৃক চাপিয়ে দেবার প্রবণতার ঘেরাটপে কোনোভাবেই পাঠক হিসেবে পড়তে রাজী নই। লেখককে এখানে একজন জাদুকর হিসেবে দেখতে চাই। ইন্দ্রজাল তৈরি করা যার কাজ। সেকাজ করে তিনি আড়ালে চলে যাবেন। পাঠক মুগ্ধ বিস্ময়ে ইন্দ্রজাল ছিঁড়ে ছিঁড়ে একের পর এক গল্পের কলকব্জা, শৈলীকলা দেখতে দেখতে পাঠ এগিয়ে নিয়ে যাবে। গল্পের বাতাবরণেই পাঠক মগ্ন থাকবে, উটকো বিষয় তাকে যেন ছুঁয়ে দিয়ে তার মনোযোগের ঘন জাল ছিঁড়ে ফেলতে না পারে জাদুকর লেখকের সেদিকেও খেয়াল থাকবে। পাঠক ভুলে যাবে জাদুকরের অস্তিত্ব। তার কাছে জাদুময় এই সময়, কাহিনিতে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনাই তখন সত্যি। সেসব ছাপিয়ে কোনোভাবেই লেখকের প্রকট হওয়া চলবে না। তবে পুরোটাই মাঠে মারা যাবার সম্ভাবনা। পাঠক যেন বিস্ময় আর মায়া নিয়ে বির্মূত কে মূর্তিমান করার খেলায় অন্তরালে থাকা জাদুকরের অবাক কারসাজি আবিষ্কারের তৃপ্তি নিয়ে বলে ওঠে--


“জামার ভিতর থিকা যাদুমন্ত্রে বারায় ডাহুক,

চুলের ভিতর থিকা আকবর বাদশার মোহর,

মানুষ বেবাক চুপ, হাটবারে সকলে দেখুক

কেমন মোচর দিয়া টাকা নিয়া যায় বাজিকর।

চক্ষের ভিতর থিকা সোহাগের পাখিরে উড়াও,

বুকের ভিতর থিকা পিরীতের পুন্নিমার চান,

নিজেই তাজ্জব তুমি একদিকে যাইবার চাও

অথচ আরেক দিকে খুব জোরে দেয় কেউ টান।

সে তোমার পাওনার এতটুকু পরোয়া করে না,

খেলা যে দেখায় তার দ্যাখানের ইচ্ছায় দেখায়,

ডাহুক উড়াইয়া দিয়া তারপর আবার ধরে না,

সোনার মোহর তার পড়ে থাকে পথের ধুলায়।

এ বড় দারুণ বাজি, তারে কই বড় বাজিকর

যে তার রুমাল নাড়ে পরানের গহীন ভিতর।” 
 
 
 
 
লেখক পরিচিতি:
নাহার তৃণা
গল্পকার। অনুবাদ। প্রাবন্ধিক
শিকাগোতে থাকেন

১৭টি মন্তব্য:

  1. সর্বনাশ ধর্ষিতা নারী সম্পর্কে কথা আছে, মিডিয়া আর মানুষ নিজের মতো ব্যাখ্যা করে।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. মিডিয়া সত্যনিষ্ঠ খবর প্রকাশ না করলে আইন প্রয়োগের সুযোগ নাই? কেন ব্যবস্হা নেওয়া হয়না যথাযথ? লেখকও কিন্তু একজন সাধারন মানুষ, তারপক্ষে সব খবরের সত্যি-মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব না সব সময়। আর আমার মতো প্রবাসীর পক্ষে তো আরো অসম্ভব।

      মুছুন
  2. এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. এমন নিখুত,এমন যুক্তিযুক্ত,এমন এক অসামান্য লেখা! নাহার তৃণাকে উষ্ণ আলিঙ্গন। হ্যাঁ গল্পের কাছে এই ই তো চাই যেখানে গল্পকার এক বড় বাজিকর যে তার রুমাল নাড়ে পরানের গহীন ভিতর।

      মুছুন
    2. অসম্ভব রকমের আপ্লুত হলাম আপু! এমন আলিঙ্গনের আন্তরিকতায় যেন থাকতে পারি। তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসা।

      মুছুন
  3. চমৎকার করে লিখেছো। যা চাই যা ভাবি তা যেন নিঙড়ে নিয়ে এলে...ভালোবাসা

    উত্তরমুছুন
  4. গল্পের কাছে আমাদের চাওয়া গুলোতে মিল আছে কিন্তু। কত কত চাওয়া একজন পাঠকের। ব্যস্ততার ভেতরেও তুমি পড়েছো, অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালোবাসা জেনো।

    উত্তরমুছুন
  5. তোমার এই চাওয়াগুলোর সাথে আমার কত কত চাওয়া মেলে! আর লেখাটা, কোথাও মায়া রহিয়া গেল...

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. পাঠক হিসেবে আমাদের মনের গড়নে মিল আছে নিশ্চয়। পড়বার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভালোবাসা জেনো।

      মুছুন
  6. মারজানা সাবিহা শুচি১৫ জানুয়ারী, ২০২১ ৬:১১ AM

    ঠিক। এইই তো চাই। পাঠক হিসাবে যখন একটা গল্প পড়তে শুরু করি, এমন কিছু প্রত্যাশাই থাকে। আবার যখন ইচ্ছা করে লেখক হতে, যখন হাতে কলম নেই, তখনও মাথায় এই ভাবনাটা থাকে, গল্পটা পাঠকের কাছে কী আবেদন নিয়ে পৌঁছাবে? একটা দাগ রেখে যেতে চাই, এই তো! নাহার তৃণা আপুকে শুভেচ্ছা জানাই, এমন গোছানো ভাবনাগুলি তুলে ধরার জন্য।

    উত্তরমুছুন
  7. আপনার গল্প-পাঠের দিগন্ত এতই বিস্তৃত,যে মন্তব্যের সুবাদে সেখানে পা-রাখার সাহস পাই না। তবে আপনার আলোচনার মূল সুরের সঙ্গে দ্বিমত হওয়ার কোন কারণ দেখছি না। আপনার উল্লেখিত গল্পগুলোর অনেকগুলোই আমার পড়ার সৌভাগ্য হয় নি। গল্প গড়ে উঠে দুটো মেটিরিয়াল দিয়ে-ঘটনা ও চরিত্রের মেলবন্ধনে এক গল্পকারের সৃষ্টি পাঠকের মনে লেখকের অনুভূতিতে অনুররণ ঘটায়।এক সফল গল্প-পাঠের সময় পাঠক গল্পকার হয়ে যান। এই একত্বতা-বোধটাই হল গল্পের সাফল্যের কষ্টিপাথর।
    অন্ততঃ আমি এভাবেই দেখি।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. পাঠক হিসেবে আপনার সোজা-সাপ্টা ভাবনার কথা জানানোর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জয়ন্তদা।

      মুছুন
  8. ‘সহৃদয় হৃদয় সংবেদী’-কি চমৎকার করেই না বললেন লেখক তাঁর চাওয়ার কথা। যেন হিমহিম সকালে মিষ্টি রোদের মত। ভীষনরকমভাবে আপ্লুত হলাম লেখাটা পড়ে। ভালোবাসা জানবেন।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আপনিও কিন্তু দারুণভাবে বললেন জয়শ্রী! অনেক অনেক ধন্যবাদ।

      মুছুন
  9. গল্প লেখকদের জন্য খুবই মূল্যবান একটি আলোচনা, তথ্যসমৃদ্ধ, সহজবোধ্য ও সুপাঠ্য।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. পড়ে মন্তব্য রাখবার জন্য সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ শাহাব ভাই।

      মুছুন