মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১

হোর্হে লুইস বর্হেসের সাক্ষাৎকার

 

অনুবাদঃ শুভ চক্রবর্তী 

হোর্হে লুইস বর্হেস ( Jorge Luis Borges) -এর জন্ম বুয়েনোস আইরেস-এ , ২৪ অগাস্ট , ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে । তাঁর বাবা-মা দু'জনেই স্প্যানিশ এবং ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারতেন । বর্হেসের ডাক নাম ছিল 'জর্জি', মা ও বাবা তাঁকে আদর করে এই নামেই ডাকতেন। তিনি তিনটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন । কেননা তাঁর শিশুকাল কাটে ইংরাজি, স্প্যানিশ ও ফরাসি বইয়ের সম্ভার বাবার লাইব্রেরিতে।

১৯১৪ সালে বর্হেস পরিবার চলে যান ইউরোপে---প্রথমে সুইজারল্যান্ডের, যেখানে তরুণ বর্হেস ও তাঁর বোন নোৱা শিক্ষাগ্রহণ করেন জেনিভার ক্যালভিন কলেজে, পরে স্পেনের বিভিন্ন শহরে। এবং স্থানীয় সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশ করেন। ১৯২১ সালে বর্হেস পরিবার চলে আসেন আর্জেন্টিনায় , সেখানে বর্হেস দুটি সাহিত্য পত্রিকা শুরু করেন ও প্রকাশিত হয় তাঁর দুটি কাব্যসংকলন , Fervor de Buenos Aires (1923)এবং Luna de Enfrente (2925) তিরিশের দশকের শুরুর দিকে বর্হেস প্রকাশ করতে শুরু করেন কয়েকটি প্ৰবন্ধ সংকলন, তারপর তাঁর আকস্মিক প্রবেশ ঘটে সেই সাহিত্য ধারায় যার জন্যই সম্ভবত তিনি সর্বাধিক পরিচিত এবং প্রসংশিত --অর্থাৎ ছোটো গল্প। তাঁর প্রথম দুটি গল্প সংকলন Historia Universal de la infamia (1935) এবং Ficciones (1944) তাঁকে আর্জেন্টিনার শ্রেষ্ঠ গল্পকারদের একজন হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৬১ সালে বর্হেস Ficciones এর জন্য আন্তর্জাতিক প্রকাশকদের পুরস্কার Prix's Formentor লাভ করেন। 
 

এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়েছিল ১৯৬৬ সালের জুলাইয়ে, বর্হেসের সঙ্গে আলাপটি চলছিল Biblioteca Nasional -এ তাঁর দপ্তরে, এটির আধিকারিক ছিলেন বর্হেস । সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন রোনাল্ড ক্রিস্ট ।  আমার শিক্ষক শিবাদিত্য সেন  প্যারিস রিভিউ -এর একটি কপি আমাকে দেন অনুবাদ করার জন্য । দীর্ঘদিন সেটি করা হয়ে ওঠেনি কারণ তখন পর্যন্ত আমার বর্হেসের একটিমাত্র গল্প পড়ার সুযোগ হয়েছিল, একবছর পর আমি এই অনুবাদে হাত দিই সেটা ১৯৯৯ সাল । এবং দীর্ঘ ছ'মাস ধরে অনুবাদটি সম্পূর্ণ করি। এই অনুবাদে যাঁরা আমাকে বিভিন্ন সময় কথা বলে সাহায্য করেছেন তাঁরা হলেন শিবাদিত্য সেন, কবিরুল ইসলাম, ভবতোষ দত্ত, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, উদয়ন ঘোষ, কৃষ্ণ গোপাল মল্লিক ।


আমাদের এই আলাপটুকু যদি আমি রেকর্ড করে রাখি তাহলে কি আপনি আপত্তি করবেন ?


না , এতে আপত্তি কিছু নেই । আপনি আপনার রেকর্ডার ঠিক করে নিতে পারেন। যদিও ওগুলো একটা বাধার সৃষ্টি করে, আমি নিজে এমনভাবে কথাগুলো বলতে চাই যে ওগুলোর কোনও অস্তিত্ব নেই । আচ্ছা আপনি কোথা থেকে এসেছেন ?


আমি নিউইয়র্ক থেকে ।


ও ! আচ্ছা নিউইয়র্ক... আমিও সেখানে ছিলাম ,খুবই ভালো লেগেছিল জায়গাটা---আমি নিজেকেই বলেছিলাম :'আহা , আমি এটা তৈরি করেছি এটা তো আমারই কাজ।'


আপনি যেটা বলতে চাইছেন সেটা কি ওই উঁচু উঁচু বাড়ির দেওয়ালগুলো, নাকি রাস্তার গোলকধাঁধা?


হ্যাঁ... ওইসব রাস্তায় আমি লক্ষহীন হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি ---ফিফথ এভিনিউ এবং আশ্চর্যভাবে হারিয়ে গিয়েছি কিন্তু লোকেরা সব সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি বেশ মনে করতে পারছি দীর্ঘদেহী ও লাজুক তরুণদের প্রশ্ন ছিল আমার কাজ নিয়ে এবং সেগুলোর উত্তর দিতে হয়েছে আমাকে। টেক্সাসে ওরা আমাকে শুধু শুধু নিউইয়র্ক সম্পর্কে ভয় দেখিয়েছিল , কিন্তু সত্যি আমার বেশ লাগত সে সময়টা । আচ্ছা , আপনি কি এখন প্ৰস্তুত ?

হ্যাঁ , যন্ত্র কিন্তু এর মধ্যে তার কাজ শুরু করে দিয়েছে।

শুরু করার আগে জানলে ভালো হয় ঠিক কী ধরনের প্রশ্ন আপনার আছে?


আসলে বিষয়টি আপনার রচনা বিষয়ে এবং ইংরাজি ভাষার লেখক সমন্ধে আপনার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুগুলো ।


আচ্ছা , সেটা ভালো । কারণ আপনি যদি অতি তরুণদের বা সমসাময়িক লেখকদের সমন্ধে প্রশ্ন করেন , সত্যি আমার ভয় হবে , আমি তাঁদের সমন্ধে খুব কমই জানি। কারণ বিগত সাত বছর ধরে আদি ইংরাজি এবং আদি নর্স ভাষা সমন্ধে কিছু কিছু জানার চেষ্টা করেছি। তাই , সেসব আর্জেন্টিনা ও আর্জেন্টিনীয় লেখকদের থেকে দেশ ও কালের হিসাবে অনেক দূরের পথ , তাই নয় কি? কিন্তু আমাকে যদি বলতে হয় ফিনসবার্গের অংশবিশেষ বা শোকগাথাগুলি অথবা ব্রুনানবার্গের যুদ্ধের ওপর ...


সত্যি কি আপনার এসব বলতে ভালো লাগবে?


না , বিশেষ করে কিছু নয় ।


কী কারণে আপনি Anglo Saxon এবং ওল্ড নর্স পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন ?


শুরুটা হয় পরোক্ষ উপমা বা রূপকালঙ্কার আগ্রহ থেকে । তারপর কোন কোন বইয়ে ----মনে হয় এন্ড্রু লাং -এর হিস্ট্রি অফ ইংলিশ লিটারেচার -এ ---আদি ইংরেজির যুগ্মপদ , রূপলঙ্কার সমন্ধে পড়ি এবং আরও জটিলতা-সমৃদ্ধ প্রাচীন নর্সভাষার কবিতায় । তারপরই আদি ইংরেজি কবিতার গভীর পাঠে মন দেব ঠিক করি। আমি আর তখন রূপলঙ্কার বিষয়ে আগ্রহী ছিলাম না, কারণ আমার মনে হয় তারা ছিল ওইসব কবিদের কাছেও সম্পূর্ণ দেহস্তরের অবসন্নতা ------অন্ততপক্ষে আদি ইংরাজি কবিদের পক্ষে ।


ওইসব যুগ্মপদ বারবার পুনরাবৃত্তি প্রসঙ্গে বলছেন কি?

ওগুলো পুনরাবৃত্তি করা, বারবার তাঁদের ব্যবহার করা এবং পরপর বলা অনার্ড , ওয়েলার্ড অথবা সমুদ্রের পরিবর্তে বলা ''তিমি-পথ'' ঐরকম জিনিস এবং ''সমুদ্র - কাঠ'' ও ''সমুদ্রের অশ্ব'' জাহাজের পরিবর্তে । তাই শেষপর্যন্ত এইসব পরোক্ষ রূপক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু এর মধ্যে ভাষাটা শিখতে শুরু করেছি এবং তাঁর গভীর প্রেমে পড়েছি। এখন আমরা একটা গোষ্ঠী তৈরি করেছি ----আমরা ছয় কি সাতজন ছাত্র এবং প্রতিদিন এর চর্চা করি। আমরা পড়েছি বেওউলফ এর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি , ফিনসবার্গ অংশটি , ''ক্রুশ দর্শন স্বপ্ন '' । এছাড়া আমরা পেয়েছি রাজা আলফ্রেডের গদ্য রচনা । এখন আমরা শিখতে আরম্ভ করেছি প্রাচীন নর্স, যার সঙ্গে আদি ইংরাজি বেশ আত্মীয়তা। অর্থাৎ , শব্দভাণ্ডারগুলো প্রকৃতপক্ষে একেবারে ভিন্ন নয় : আদি ইংরেজির স্থান হল লো জার্মান আর স্ক্যান্ডিনাভিয়ান -এর মাঝামাঝি জায়গায়।


ধ্রুপদী মহাকাব্যিক সাহিত্যে আপনার সবসময়ের আগ্রহ, তাই নয় কি?


হ্যাঁ , সবসময়ই । উদাহরণ হিসেবে বলা যায় অনেক মানুষ সিনেমা দেখতে দেখতে কাঁদেন। এরকমটা সবসময়ই হয় , আমারও হয়েছে। কিন্তু আমি ওইসব কাঁদুনি ব্যাপারে , অর্থাৎ দুঃখের ঘটনায় কাঁদিনি। কিন্তু উদাহরণ হিসেবে মনে পড়ে যখন স্ট্যানবার্গের দুর্বৃত্তদের সিনেমা প্রথম দেখি সে সময় যে কোনো মহাকাব্যিক ঝোঁক----যেমন শিকাগো দুর্বৃত্তদের নির্ভীক মৃত্যুবরণ --আমার চোখে জল এনে দিয়েছিল । মহাকাব্য আমাকে গীতিকাব্য বা শোকগাথার চেয়ে অনেক বেশি স্পর্শ করে।...এর কারণ এও হতে পারে আমি এক সৈনিক বংশ থেকে এসেছি । আমার পিতামহ কলোনেল বর্হেস , "ইন্ডিয়ান"-দের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং নিহত হয়েছিলেন কোনো এক বিদ্রোহে , আমার প্ৰপিতামহ কলোনেল সুয়ারেজ স্প্যানিয়ার্ডদের সঙ্গে শেষ দিকের এক ভয়াবহ যুদ্ধে পেরুভিয়ান অশ্বসেনা বাহিনির আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আমার প্ৰ-পিতামহি রোজাস --এর বোন ছিলেন । আমি অবশ্য এই সম্পর্কের জন্য গর্বিত নই, কারণ আমার ধারণা রোজাস তাঁর যুগে একালে পেরনের এক সংস্করণ ছিলেন, কিন্তু এসব আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করে আর সেই ধারণার সঙ্গে যে মানুষকে সাহসী হতে হবে।


কিন্তু আপনি যে চরিত্রগুলোকে আপনার লেখায় মহাকাব্যের নায়ক রূপে গ্রহণ করেছেন ---উদাহরণ স্বরূপ দুর্বৃত্তদের ---তাদের কিন্তু সচরাচর মহাকাব্যিক বলে ভাবা হয় না, হয় কি? তবুও আপনি তাঁদের মধ্যে মহাকাব্য খুঁজে পেয়েছেন।


আমার মনে হয় তাঁদের মধ্যে এক নীচুতলার মহাকাব্য আছে তাই না?


আপনি কি বলতে চাইছেন যেহেতু আজকের দিনে , স্পষ্টত , আর আগের সেই মহাকাব্য সম্ভব নয় , আমাদের নায়ক খুঁজে বেড়াতে হবে এইসব চরিত্রের মধ্যে?


মহাকাব্য সাহিত্য বলতে বা মহাকাব্যিক সাহিত্য বলতে যদি আমরা মনে করি এইসব সাহিত্যিকদের যেমন টি.ই. লরেন্স তাঁর ''সেভেন পিলার্স অফ উইসডম "-এ অথবা কিপিলিং এর মতো কবি , তাঁর হার্ফ সঙ অফ দি ডান ওমেন" -এ অথবা তাঁর ছোটো গল্পগুলো গ্রহণ করি ...আমার মনে হয় আজকের দিনে সাহিত্যিকরা যখন তাঁদের মহাকাব্যিক দায়িত্ব পালন করছেন না তখন আশ্চর্যভাবে আমাদের জন্য মহাকাব্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে পশ্চিমাঞ্চলের সাহিত্য ও (সিনেমা দ্য ওয়েস্টার্ন)* ....আমি বলতে চাই এই শতাব্দীতে সমস্ত বিশ্বের জন্য মহাকাব্যের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে---এত জায়গা থাকতে , হলিউড। আমি যখন পারীতে গিয়েছিলাম , আমি চেয়েছিলাম তাঁদের নাড়া দিতে; ওঁরা যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করল আমি কি ধরনের ছবি দেখতে পছন্দ করি, আমি উত্তর দিয়েছিলাম , ' খোলা মনে বলতে হলে আমি সবচেয়ে উপভোগ করি ওয়েস্টার্ন ছবিগুলো।" তারা সব ফরাসি , ওরা আমার সঙ্গে একমত হতে পারল।


যদি অনুমতি দেন তাহলে এবার আলোচনা বিষয়টি বদলে আপনার নিজের গল্প উপন্যাস সমন্ধে কিছু বলতে চাই। এ বিষয়ে আপনার নিজের সে বক্তব্য সমন্ধে প্রশ্ন করতে চাই যে ছোটোগল্প লেখা শুরু করতে আপনি খুব ভয় পেয়েছিলেন।


হ্যাঁ , ভীষণই ভয় পেয়েছিলাম , কারণ অল্প বয়সে আমি নিজেকে একজন কবি বলেই ভাবতাম। সেইজন্য আমি ভেবেছিলাম " যদি গল্প লিখি সকলেই ভেবে নেবেন যে আমি অন্য জগতের লোক, নিষিদ্ধক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারী ।" তারপর আমার একটা দুর্ঘটনা ঘটল। আপনি সেই ক্ষত স্থান এখনো অনুভব করতে পারবেন। মাথার এইখানে যদি হাত দেন বুঝতে পারবেন। ছোটো ছোটো পাহাড় ,উঁচু জায়গাগুলো অনুভব করতে পারছেন? এক পক্ষকাল আমাকে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল। রাত্রে ঘুম হতো না, নানা দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে আমি দিনগুলো কাটিয়েছি। পরে ওঁরা বলেছিলেন , আমার প্রাণ সংশয় হয়েছিল এবং খুবই আনন্দের ব্যাপার যে অপারেশনটা সফল হয়েছিল। ভয় হতে শুরু হলো আমার মানসিক ভারসাম্য থাকবে না----বললাম , "হয়ত আমি আর লিখতেই পারব না।" এর অর্থ আমার জীবন কার্যত শেষ হয়ে যাবে , কারণ সাহিত্য আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার কারণ এই নয় যে আমার লেখাগুলোকে আমি অসম্ভব কিছু মনে করি। বরং কারণটা হল, লেখা ছাড়া থাকতে পারব না। যদি না লিখি , আমি একধরনের মনস্তাপ অনুভব করি। তখন ভাবলাম একটা প্ৰবন্ধ বা কবিতা লিখতে চেষ্টা করি। কিন্তু পরে চিন্তা করলাম : " আমি শত শত প্ৰবন্ধ ও কবিতা লিখেছি । এখন যদি না লিখতে পারি তাহলে তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারব আমার সব শেষ হয়ে গেছে।" সেইজন্য আমি ঠিক করলাম এমন একটা কিছু করতে চেষ্টা করি যা কখনও করিনি: তা যদি করতে নাও পারি তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না, কারণ কেনই-বা আমি ছোটো গল্প লিখব ?---এইভাবে ধীরে ধীরে আমি নিজেকে প্রস্তুত করে তুলব দুঃসহ শেষ অধ্যায়টির জন্য: এই জেনে যে সর্বনাশের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। আমি একটা ছোটো গল্প লিখলাম ---দাঁড়ান আমি মনে করার চেষ্টা করছি " Hombre de la esquina rosada " এবং প্ৰত্যেকেই সেটা খুব উপভোগ করেছিলেন। আমার পক্ষে এটা ছিল একটা অসম্ভব উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাওয়া। যদি না মাথায় ওই আঘাতটা পেতাম আমি হয়ত কোনদিনই ছোটো গল্প লিখতাম না।


এবং হয়ত আপনার লেখার কখনও অনুবাদই হত না।


কেউ হয়ত আমার লেখা অনুবাদ করার কথা ভাবত না । এইজন্য বলা যায় যে আঘাতটা ছিল ছদ্মরূপে আশীর্বাদ। ওই গল্পগুলো যে করেই হোক একটা জায়গা করে নিল। সেগুলো ফরাসি ভাষায় অনূদিত হল একটা পুরস্কারও জুটে গেল ফর্মেন্টর প্রাইজ তারপর তো নানা ভাষায় আমার লেখার অনুবাদ হতে লাগল । প্রথম অনুবাদক ছিল ইবারা । সে আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল এবং আমার লেখা ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করে।


Caillois নয় , ইবারাই ছিলেন প্রথম অনুবাদক?


সে ও Roger Caillois । যথেষ্ট পরিণত বয়সে আমি জানতে শুরু করলাম সমস্ত পৃথিবী জুড়ে এত মানুষ আমার লেখার প্রতি আকৃষ্ট । খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার যে আমার লেখার অনুবাদ হয়েছে ইংরাজিতে , সুইডিশ , ফরাসি, ইটালিয়ান , জার্মান ,পর্তুগিজ এবং কিছু কিছু স্লাভ ও ড্যানিশ ভাষায়। আর এ ব্যাপারটা আমাকে খুব অবাক করে, কারণ মনে পড়ে আমি একটি বই প্রকাশ করেছিলাম ----অনেকদিন আগে, সম্ভবত 1932 -এ এবং বছরের শেষে আমি জানতে পারলাম স্নাইত্রিশ টি বই বিক্রি হয়েছে ?


সেটা কি Universal History of infamy?


না, না , History of Eternity । প্রথমে আমি ভেবেছিলাম বইয়ের প্রতিটি ক্রেতাকে খুঁজে বের করব, প্রত্যেকের কাছে মার্জনা চাইব বইটির জন্য এবং বইটি কেনার জন্য ধন্যবাদ জনাব। এর একটা ব্যাখ্যা আছে। যদি সাইত্রিশ জন ব্যক্তির কথা ভাবেন ---ওই লোকগুলোকে বাস্তব মনে হয় , আমি বলতে চাই ওই লোকগুলোর প্রত্যেকের একটা নিজস্ব অবয়ব আছে, একটি পরিবার আছে, একটা নিজস্ব ঠিকানায় তাঁরা বসবাস করেন। কিন্তু আপনার বইয়ের যদি দুহাজার কপি বিক্রি হয় , একদিক থেকে কিছুই বিক্রি না হওয়ার সমান , কারণ দুহাজার সংখ্যাটি অত্যন্ত বিশাল --- আমি বলতে চাই কল্পনায় ধরতে পারার পক্ষে । যেখানে সাইত্রিশ জন মানুষ ---বোধহয় সাইত্রিশ জনও বড়ো বেশি , হয়ত সতের হলে ভালো হতো কিংবা সাত ---- তবু সাইত্রিশ জন কল্পনার পক্ষে গ্রহণযোগ্য ।


সংখ্যার কথাই যখন এলো আমি আপনার গল্পগুলোর মধ্যে লক্ষ্য করেছি কিছু কিছু সংখ্যা বারবার ঘুরে ঘুরে আসে।


ও হ্যাঁ, আমি অসম্ভব কুসংস্কারগ্রস্ত । এ ব্যাপারে আমি লজ্জিত । আমি নিজেকে বলি, কুসংস্কার হল পাগলামিরই ক্ষুদ্র সংস্করন , তাই না?
 

অথবা ধর্মের ?
 

আচ্ছা ধর্ম কিন্তু .... আমার মনে হয় কেউ যদি একশ পঞ্চাশ বছর বাঁচে সে সত্যি সম্পূর্ণ পাগল হয়ে যাবে, তাই না? কারণ এইসব ছোটো ছোটো উপসর্গগুলো তখন বাড়তেই থাকবে। তবুও আমি আমার মাকে দেখি নব্বই বছর বয়স , কিন্তু তার কুসংস্কার আমার চেয়ে অনেক কম । সম্প্রতি যখন আমি বসওয়েলের "ড: জনসন " দশম বার পড়ছি , আমি দেখেছি তিনি অসম্ভব কুসংস্কারগ্রস্ত ছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার পাগলামির সমন্ধে ভীষণ একটা ভয় ছিল । ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে তিনি যে প্রার্থনা রচনা করেছেন , ঈশ্বরের কাছে অনেক কিছু প্রার্থনার মধ্যে তার একটা চাওয়া ছিল তিনি যেন পাগল না হন, এর অর্থ তিনি এই নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন।


আপনি লেখার মধ্যে বিশেষ কয়েকটি রঙ ব্যবহার করেন লাল , হলুদ , সবুজ -এও কি সেই কুসংস্কারের কারণেই ।


আমি কি সবুজ ব্যবহার করি?


অন্যগুলোর তুলনায় এত ঘনঘন নয় । তবু আমি একটা তুচ্ছ কাজ করেছি। আমি রঙগুলো গুণেছি...


না, না। একে বলে Estilistica । এখানে ওটার শিক্ষা করা হয় । না, আমার মনে হয় আপনি হলুদ রঙ পাবেন।


লাল রঙ প্রায় গতিময়, ফিকে হয়ে গোলাপি হয়ে যাচ্ছে।


সত্যি? আমি তো এটা খেয়াল করিনি !


আপনি একটি রূপকালঙ্কার ব্যবহার করেন ---আজকের দিন বিগত দিনের অগ্নির অঙ্গার । আপনি উদাহরণ স্বরূপ "লাল 

আদমের "কথা বলেছেন।


হিব্রু ভাষায় আদম কথাটির অর্থ হল লালমাটি । তাছাড়া এটা শুনতেও ভালো লাগে না রোগো আদন?


হ্যাঁ তা ঠিকই । কিন্তু এটা কি আপনার একটা উদ্দেশ্য নয় ---- রঙ এর রূপকের মোড়কে পৃথিবীর অবক্ষয়?


কিছুই দেখানো আমার উদ্দেশ্য নয় । 


আমায় কোনো অভিপ্রায় নেই।


শুধুই কি বর্ণনা করা ?


আমি বর্ণনা করি। আমি লিখি তবে হলুদ রঙ সম্পর্কে একটা শারীরিক ব্যাখ্যা আছে। যখন আমি দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করি, যে শেষ রঙটি আমি দেখতে পেতাম বা বলা যায় যে শেষ রঙটি নিজেকে প্রকাশ করত তা হল হলুদ রঙ , কারণ এটি সবচেয়ে প্রখর রঙগুলির একটি...আমি যখন বয়সে তরুণ ছিলাম আমি নানারকম রূপকালঙ্কার খুঁজে বেড়াতাম । পরে আমি আবিস্কার করলাম উৎকৃষ্ট রূপকগুলো একইরকম। আমি বলতে চাইছি সময়ের সঙ্গে রাস্তার তুলনা , মৃত্যুর সঙ্গে নিদ্রার , জীবন স্বপ্নের সঙ্গে, আর এগুলো সাহিত্যের প্রধান রূপক, কারণ এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে কিছু মূল সত্য। কিন্তু আপনি যদি রূপক আবিস্কার করেন সেগুলো হয়ত খুবই সামঞ্জস্য হবে , চমকে দেবে খুবই অল্প সময়ের জন্য , কিন্তু সেটা কোনো গভীর আবেগ বা অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত নয়।


শুধু কি শব্দের খেলা ?


শুধুমাত্র শব্দ। আমি ওগুলোকে প্রকৃত রূপকালঙ্কারই বলব না , কারণ প্রকৃত রূপকালঙ্কার-এ তুলনা দুটি অংশের মধ্যে প্রকৃত অর্থে যুক্ত থাকে। আমি একটিমাত্র ব্যতিক্রমের কথা জানি--- একটি অদ্ভুত, নতুন এবং সুন্দর রূপক প্রাচীন নর্স কবিতা তর্কে। আদি ইংরাজি কবিতায় যুদ্ধকে "তরোয়াল খেলা" অথবা "বর্শাদের মুখোমুখি হওয়া" বলেছে। কিন্তু নর্স
এবং আমার মনে হয় কেলটিক কবিতাতেও যুদ্ধকে বলা হয়েছে "মানুষের জাল"। এটা আশ্চর্যজনক, নয়কি? কারণ জালের মধ্যে একটা বিশেষ ছন্দ বা বিন্যাস থাকে , মানুষের দ্বারা একটি ছন্দ বিন্যাস । মনে হয় মধ্যযুগীয় যুদ্ধে এক ধরনের বিন্যাস ছিল , কারণ উভয়পক্ষেই ছিল অনেক তরোয়াল ও বর্শা।
 

সুতরাং এখানে আপনি পেয়ে গেলেন একটা নতুন রূপক, আর অবশ্যই তাকে ছুঁয়ে আছে একটা দুঃস্বপ্ন, তাই না? মানুষের নিজের হাত দিয়ে বোনা একটা জাল , জীবন্ত জিনিস দিয়ে ---এবং তা হয়ে উঠেছে একটা জাল , একই সঙ্গে নক্সা । আশ্চর্য একটি অন্তর দৃশ্য ,তাই না?
 

এর সঙ্গে , সাধারণ ভাবে , মিল আছে জর্জ এলিয়টের Middlemarch -এ ব্যবহৃত একটা রূপকের , যা সমাজকে তুলনা করা হয়েছে একটা জালের সঙ্গে যার একটি শিরা মুক্ত করা যাবে না অন্য সবগুলোকে স্পর্শ না করে।


কে বলেছেন এ কথা ?


জর্জ এলিয়ট , "মিডিলমার্চে"


ও, মিডিলমার্চ! আপনি বলতে চান সমস্ত বিশ্বের সবকিছুই পরস্পর সম্বন্ধ , সবকিছুই সংযুক্ত । এই একটা কারণ যার জন্য স্টোয়িক দার্শনিকরা পূর্বলক্ষণে বিশ্বাস রাখতে চান। De Quincey -র একটা আগ্রহোদ্দীপক লেখা আছে আধুনিক কুসংস্কারের ওপর , তাঁর অন্যসব রচনার মতোই চিত্তাকর্ষক এই লেখায় তিনি স্টোয়িকদের দর্শনের কথা বলেছেন । ভাবনাটা হল, যেহেতু সমস্ত বিশ্ব হল একটিই জীবন্ত সত্তা, সেইজন্য বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে গভীর যোগ , তাদের মধ্যে দূরত্ব অনন্ত মনে হলেও। উদাহরণ স্বরূপ ,: তেরো জন ব্যক্তি যদি একসঙ্গে নৈশভোজ খান , তাঁদের মধ্যে একজন বছর শেষ হবার আগেই মারা যেতে বাধ্য। শুধুমাত্র যীশুখ্রিস্ট এবং তাঁর শেষ নৈশভোজের জন্য নয়, কিন্তু সমস্ত জিনিস একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত সেই কারণেও। তিনি বলেছেন ---আমি আশ্চর্য হয়ে সেই বাক্যটির কথা ভাবি --- এই পৃথিবীর প্রত্যেক জিনিস হল একটি গোপন আয়না অথবা এই বিশ্বের নিগূঢ় দর্পণ।


ইংরাজি সাহিত্যে আপনার এত আগ্রহ আর ভালোবাসা নিয়ে....


একটা কথা শুনুন , আমি কথা বলছি একজন আমেরিকানের সঙ্গে ; একটা বইয়ের কথা আমাকে বলতেই হবে, এর মধ্যে অপ্রত্যাশিত কিছু নেই----বইটি হল Huckleberry Finn, আমি টম সয়ারকে সাংঘাতিক অপছন্দ করি। আমি মনে করি টম সয়ার "হাকলবেরি ফিন" বইটির শেষ পরিচ্ছেদগুলি সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছেন। ওই সব বোকা বোকা রসিকতা। ওগুলোর কোনো অর্থই নেই। কিন্তু মার্ক টোয়েন ভেবেছিলেন রসিকতা করা তাঁর কর্তব্য, যদিও তাঁর মেজাজ তখন সেরকম ছিল না।.... 

আমার মনে হয় মার্ক টোয়েন প্রকৃতই একজন মহান লেখক ছিলেন , কিন্ত সে বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন না। তবে এটাও ঠিক হয়তো , একটি সত্যিকারের মহৎ গ্রন্থ লিখতে গেলে এ বিষয়ে কিছুটা অনবহিত থাকতেই হয়। আপনি বইটা নিয়ে ক্রিতদাসের মতো খেটে যেতে পারেন, সমস্ত বিশেষণগুলো বদলে অন্য বিশেষণ জুড়ে যেতে পারেন, কিন্তু আপনি বোধহয় আরও ভালো লিখতে পারতেন যদি ভুলগুলো রেখে দিতেন। আমার মনে পড়ে বার্নার্ড শ স্টাইল প্রসঙ্গে বলেছিলেন , একজন লেখক ততটা স্টাইলই প্রয়োগ করতে পারেন যতটা তাঁর আত্মপ্রত্যয় তাঁকে দেয় , তার বেশি নয় । যেমন বানিয়ানকে তিনি মহান লেখক বলে মনে করতেন কারণ তিনি যে বিষয়ে বলেছেন তাতে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় আজকাল আমি যা লিখি সবসময়ই তার একটা স্তর থাকে এবং একে আরও বেশি ভালো করে তুলতে পারব না, খুব একটা খারাপও নয়। তাই , আমি ওটা যেমন হয়েছে তেমনই থাকতে দিই, ও বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুলে যাই, আর সে বিষয়ে যা করছি, সেটা নিয়েই ভাবি। শেষ আমি যা লিখেছিলাম তাকে বলে Milongas , জনপ্রিয় গান...


আপনি তো কৌতুক খুব পছন্দ করেন, তাই না?


হ্যাঁ , পছন্দ করি।


কিন্তু যেসব ব্যক্তি আপনার বই সমন্ধে লেখে , বিশেষত আপনার ছোটো গল্প উপন্যাস সমন্ধে....


না, না ---- বড়ো বেশি ভারি চলনে লেখেন।...


আপনি বলেছেন একজন লেখককে তাঁর ভাবনা দিয়ে কোনোভাবেই বিচার করা উচিত নয়।


না, আমি ভাবনাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না।


তাকে কীভাবে বিচার করা হবে তাহলে?
 

তাকে বিচার করতে হবে যে আনন্দ, যে তৃপ্তি আমরা তাঁর থেকে পাই, তা দিয়ে। আর ভাবনা বিষয়ে বলতে গেলে, এটা কোনোমতেই বিশেষ গুরুত্বের ব্যাপার নয় যে তাঁর কোনো একটা বা অন্য কোনো রাজনৈতিক মতবাদ আছে, কারণ ভালো লেখা খারাপ লেখা মতবাদকে অতিক্রম করে ঠিক তার জায়গায় পৌঁছাবে, যেমন কিপলিং-এর কিম এর ক্ষেত্রে হয়েছে।
 

মনে করুন আপনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে বিব্রত হচ্ছেন --- বেশ, কিম -এ কিন্তু যে চরিত্রগুলো আপনার মন কাড়ে তারা কেউই ইংরেজ নয়, তারা হল বহুল পরিমাণে ভারতীয়, মুসলমান চরিত্র । আমার মনে হয় তারা তুলনামূলকভাবে ভালো লোক --- না! না! পাঠক তাদের ভালো মনে করে বলে নয়---- কারণ হল, সে তাদের ভালো বলে অনুভব করে।


তাহলে অধিবিদ্যা বা তত্বজ্ঞান বিষয়ক ভাবনার কি হবে ?


ও , আচ্ছা তত্ত্বজ্ঞান বিষয়ক ভাবনা। ওসবকে প্যারাবল বা নীতিমূলক গল্পে রূপ দেওয়া যেতে পারে।


পাঠকরা প্রায়ই আপনার গল্পগুলোকে নীতিকথা মূলক বলে থাকেন। এটা অভিধা কি আপনার মতের সঙ্গে সামঞ্জস্য?


না, না। ওদের প্যারাবল বলে লেখা হয়নি। আমি বলতে চাই যদি সেগুলো প্যারাবল হয়....অর্থাৎ যদি তারা প্যারাবল হয়, তারা প্যারাবল হয়ে উঠেছে, কিন্তু আমার কখনও অভিপ্রায় ছিল না নীতিমূলক গল্প লেখার।


তাহলে কাফকার প্যারাবল এর মত নয় ?


কাফকা বিষয়ে আমরা খুবই কম জানি। আমরা শুধু তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে জানি, তিনি খুবই অতৃপ্ত ছিলেন । অবশ্য এটাও ঠিক তিনি তাঁর বন্ধু ম্যাক্স ব্রডকে বলেছিলেন তাঁর পাণ্ডুলিপিগুলো পুড়িয়ে ফেলতে, যেমন ভার্জিল চেয়েছিলেন , তিনি জানতেন তাঁর বন্ধু তা করবেন না। যদি কোনো মানুষ তাঁর নিজের কাজ ধ্বংস করতে চান, সে নিজেই তা আগুনে নিক্ষেপ করে এবং সেখানেই তার শেষ হয়ে যায়।


এ সব বড়ো বেশি জেমসীয় 


হ্যাঁ, ঠিক। আমি মনে করি কাফকার পুরো জগৎটা আরও অনেক জটিলভাবে পাওয়া যায় হেনরি জেমস -এর গল্পগুলোর মধ্যে। আমার ধারণা তাঁরা উভয়েই জগৎটাকে একইসঙ্গে জটিল ও অর্থহীন বলে মনে করতেন।


অর্থহীন?


আপনি কি তা মনে করেন না?


না, আমি সত্যিই তা ভাবি না। জেমস এর ক্ষেত্রে...


কিন্তু জেমসের ক্ষেত্রে , হ্যাঁ। জেমসের ক্ষেত্রে , হ্যাঁ। আমি মনে করি না, তিনি জগতের কোনো নৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে মানতেন। আমি মনে করি তিনি ঈশ্বরে অবিশ্বাস করতেন। সত্যিই, আমার মনে হয়....তাঁর মনস্তত্ত্ববিদ ভাই উইলিয়াম জেমসকে লেখা তাঁর একটা চিঠিতে তিনি লিখেছেন জগৎ হল একটা হীরের মিউজিয়াম, বলা যেতে পারে কিছু খাপছাড়া উদ্ভট জিনিসের সংগ্রহশালা। আমার মনে হয় তিনি এইটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন। তবে কাফকার ক্ষেত্রে আমার ধারণা , তিনি কিছু একটা খুঁজে পেতে চাইছিলেন।


কোনো অর্থ?


হ্যাঁ, কোনো অর্থ খুঁজছিলেন , সম্ভবত পাচ্ছিলেন না। তবে মনে হয় তাঁরা উভয়েই বাস করছিলেন একধরনের গোলকধাঁধায় , তাই না?


আমি এ বিষয়ে একমত । উদাহরণস্বরূপ The Secret Front এর মতো বই।


হ্যাঁ , The Secret Front ও আরও অনেক ছোটো গল্প যেমন "The Abasement of Northrmores" যেখানে সমস্ত গল্পটাই একটা চমৎকার প্রতিশোধ , কিন্তু এমন একটা প্রতিশোধ যা পাঠক জানে না সত্যিই ঘটবে কি না। মহিলাটি জানে তাঁর স্বামীর সৃষ্টি যা কেউ পড়ে না, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যার কোনো কদর নেই, তার প্রখ্যাত বন্ধুর লেখার চেয়ে তা অনেক ভালো। কিন্তু এও হতে পারে এ সবটাই ভুল। হয়ত সে তাঁর স্বামীর প্রতি ভালোবাসার দ্বারা চালিত হয়েছে। কেউ জানে না যখন সেই চিঠিগুলো প্রকাশিত হবে সত্যিই তার কোনো মূল্য থাকবে কি না। প্রকৃতপক্ষে জেমস একই সঙ্গে দুটি বা তিনটি গল্প লিখতে চেয়েছেন । এই কারণেই তিনি কখনো কোনো ব্যাখ্যা দিতে চাননি।
 

ব্যাখ্যা গল্পটিকে দুর্বল করে দেবে। তিনি বলেছেন : The Turn of the Screw হলো বাজারি লেখা ও নিয়ে মাথা ঘামিও না। আমি কিন্তু মনে করি না একথা সত্যি। তিনি যেমন বলেছেন "আচ্ছা আমি যদি কোনো ব্যাখ্যা দিই তাহলে গল্পটাতো দুর্বল হয়ে যাবে, কেননা অন্য ব্যাখাগুলো সব বাদ পড়ে যাবে।" আমার ধারণা তিনি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই এসব করেছিলেন।


আপনার নিজের গল্প সম্পর্কে কি বলবেন , তাদের উদ্ভট কি কোনো একটি অবস্থা বা ঘটনা থেকে, নাকি কোনো চরিত্র থেকে?
 

একটি পরিস্থিতি থেকে, ঠিকই । তবে সাহসিকতার ভাবনাটি ছাড়া, যার প্রতি আমি একান্ত আসক্ত । সম্ভবত , আমি নিজে খুব একটা সাহসী নই বলে।


এই কারণেই কি আপনার গল্পগুলোর মধ্যে এত ছোরা ও তলোয়ার আর বন্ধুকের ছড়াছড়ি?


তাই হবে হয়ত ? তবে , এক্ষেত্রে দুটি কারণের কথা বলতে হয় : প্রথম , তরোয়ালগুলো নিজেদের বাড়িতে দেখা , আমার পিতামহ , প্ৰপিতামহ ইত্যাদির ব্যবহারের জন্য । তারপরে আমি বেড়ে উঠেছিলাম পালেরমোতে ; সেটা তখন ছিল বস্তি অঞ্চল আর সেখানকার মানুষরা সবসময় ভাবত ---আমি বলছি না তা সত্যি ছিল কিন্তু তারা সবসময়ই নিজেদের ভাবত---শহরের অন্যদিকে যাঁরা থাকত তাদের চেয়ে অনেক ভালো। নিজেদের ভাবত ওদের চেয়ে ভালো যোদ্ধা, এই আর কি। অবশ্যই এসব ছিল খারাপ জিনিস । আমি মনে করি না তাঁরা বিশেষভাবে নির্ভীক ছিলেন। কোনো লোককে কাপুরুষ বলা বা ভাবা সেটাই ছিল চরম ব্যাপার, এ ধরণের জিনিস ছিল সহ্যের অতীত। আমি একটা লোকের কথা জানতাম যে শহরের দক্ষিণ দিকে এসেছিল একজনের সঙ্গে ঝগড়া বাধাতে, শহরের উত্তর দিকে ছুরি চালানোয় যার বিশেষ খ্যাতি ছিল এবং এতকষ্ট করে শেষপর্যন্ত তাঁকে প্রাণ দিতে হল। তাদের বিবাদের প্রকৃত কোনো কারণ ছিল না : তার আগে পরস্পরকে কখনো দেখেই নি, সেখানে অর্থ , নারী বা অন্য রকম কিছু লাভের ব্যাপারও ছিল না। আমার ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম অঞ্চলেও সেই একই ব্যাপার। এখানে শুধু বন্দুক নয় ছুরি চলে।


ছুরির ব্যবহার আমাদের একধরনের পুরনো আচার-আচরণের যুগে নিয়ে যায়?


হ্যাঁ এক পুরনো রূপ । তাছাড়া শোর্যের এ একটা ব্যক্তিগত ধারণা । কারণ বন্দুক ছোড়ায় কেউ পারদর্শী হতে পারে, অথচ যথেষ্ট সাহসী নয়। কিন্তু আপনাকে খুব কাছাকাছি গিয়ে কারও সঙ্গে লড়াই করতে হয় ছুরি হাতে...


এলিয়ট আর জয়েস এই দুজন লেখক সমন্ধে আপনাকে প্রশ্ন করতে চাই। আপনি জয়সের প্রথম পাঠকদের একজন ছিলেন এবং ইউলিসিস -এর অংশ বিশেষ স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদও করেছিলেন , তাই না?


হ্যাঁ , আমি ইউলিসিস এর শেষ পাতার একটি ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ করেছিলাম। আর এলিয়ট সম্পর্কে বলতে গেলে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম উনি যত ভালো কবি তার চেয়ে ভালো সমালোচক। এখন আমার মনে হয় কখনও কখনও তিনি খুব ভালো কবি হয়ে ওঠেন সমালোচক হিসাবে বড়ো বেশি তুচ্ছ খুঁটিনাটি নিয়ে মাথা ঘামান। যদি এমার্সন বা কোলরিজের মতো মহান কোনো সমালোচকের কথাই ধরুন তাঁরা সমালোচ্য লেখককে ভালো করে পড়েছেন আর সমালোচনা আসছে সেই লেখকের বিষয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত অনুভব থেকে । কিন্তু এলিয়ট , আপনি খেয়াল করবেন ---আমি অন্তত সবসময়ই সেরকমই বোধ করি ----যে তিনি হয় কোনো অধ্যাপকের সঙ্গে একমত হন অথবা অন্য কারও সঙ্গে তাঁর কোনো মতবিরোধ সৃষ্টি হয় । ফলে তিনি সৃষ্টিশীল নন। তিনি খুব বুদ্ধিমান ব্যক্তি সবসময় সুক্ষ সব পার্থক্য নির্দেশ করতে পারেন এবং মনে হয় তাঁর কথা ঠিকও কিন্তু যদি একটা অতি পরিচিত উদাহরণ নেওয়া যায় , যেমন ধরুন শেক্সপীয়ার বিষয়ে কোলরিজ, বিশেষত হ্যামলেট চরিত্রটির বিষয়ে , আপনার জন্য একজন নতুন হ্যামলেট সৃষ্টি হবে... কিন্তু এলিয়টের রচনায় এমন কোনো সৃষ্টি নেই। আপনি বুঝতে পারবেন সে বিষয়ে তিনি অনেক বই পড়েছেন --- তিনি কখনও কারও সঙ্গে একমত হচ্ছেন , কখনও বা কারও সঙ্গে মতভেদ ঘটছে----- কখনও আবার সামান্য কটু মন্তব্যও করছেন , তাই না?


হ্যাঁ , পরে আবার তিনি তা ফিরিয়েও নিয়েছেন।


তিনি এমন একজন কবি যাঁর কবিতার প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই। আমি ইয়েটসকে কবি হিসেবে তার চেয়ে অনেক উঁচুতে স্থান দেবো। সত্যি বলতে কি আমি ফ্রস্টকে এলিয়টের চেয়ে সুক্ষ স্তরের কবি বলে মনে করি । কিন্তু এলিয়ট তার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান লোক, তবে বুদ্ধির সঙ্গে কবিতার খুবই কম সম্পর্ক আছে। কবিতা জন্ম নেয় আরও গভীর উৎস থেকে, এ বুদ্ধির নাগালের বাইরে। এমন কি প্রজ্ঞার সঙ্গেও একে যুক্ত করা চলে না। এটা এমন একটা জিনিস যা নিজেতেই নিজে সম্পূর্ণ, এর একটা নিজস্ব চরিত্র আছে , যার কোনো সংজ্ঞা নেই। মনে আছে আমার তরুণ বয়সে তাঁর উপর ক্রুব্ধ হয়েছিলাম যখন তিনি স্যান্ডবার্গ সমন্ধে অশ্রদ্ধাময় মন্তব্য করেছিলেন । আমার মনে আছে তিনি বলেছিলেন ক্লাসিসিজম ভালো---আমি তাঁর কথা উদ্ধৃত করছি না তার মূল বক্তব্যের কথা বলছি---কারণ তা আমাদের Mister Carl Sandburg -এর মতো সাহিত্যিকের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সহায়তা করে। যখন কেউ একজন কবিকে "মহাশয়" বলে সম্বোধন করেন এ তাঁর ঔদ্ধত্যের প্রকাশ....


আপনি তাহলে স্যান্ডবার্গকে পছন্দ করেন?


হ্যাঁ , অবশ্যই করি। আমি মনে করি হুইটম্যান স্যান্ডবার্গের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আপনি যখন হুইটম্যানের লেখা পড়েন , মনে হবে তিনি সাহিত্য মনস্ক, হয় তো খুবই পণ্ডিত্যপূর্ণ নয়, যিনি তাঁর মাতৃভাষায় যতদূর সম্ভব ভালো করে লেখার চেষ্টা করছেন এবং তাঁর শক্তি অনুযায়ী অপভাষা ব্যবহারের চেষ্টা করছেন । স্যান্ডবার্গের ক্ষেত্রে নিচুতলার ভাষা আসে যেন স্বাভাবিকভাবে , এখন স্যান্ডবার্গের দুটি রকমফের আছে: এখানে আমরা পাই কর্কশকে , কিন্তু আবার এক অতি কমনীয় স্যান্ডবার্গ আছে, বিশেষত যখন তিনি কোনো ভু-দৃশ্যের ছবি আঁকেন । কখনও কখনও তিনি যখন কুয়াশার বর্ণনা দেন, মনে হয়, যেন চাইনিজ চিত্রকলা দেখছি। আবার অন্যান্য কবিতায় আপনাকেও গুন্ডা, দুর্বৃত্তদের, বা ওই ধরনের লোকেদের কথা ভাবতে হয়। কিন্তু আমার মনে হয় তিনি দু'রকমই হতে পারতেন , দু'ক্ষেত্রেই সমান আন্তরিক।


তাঁর সৃষ্টিতে অদ্ভুত-কল্পনার স্থান আছে , তাই আপনাকে অদ্ভুত-কল্পনার জগৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করি। আপনি এই শব্দটি আপনার লেখায় বহুবার ব্যবহার করেছেন এবং মনে পড়ছে আপনার Green Mansions -কে অদ্ভুত রসের উপন্যাস বলেছেন।


আমি একটু ধন্দে পড়েছি, একে আদৌ কোনো সংজ্ঞা দেওয়া যায় কি না। এ হলো লেখকের এক রকমের অভিপ্রায়। আমার মনে পড়ছে জোসেফ কনরাডের একটা গভীর মন্তব্যের কথা---তিনি আমার খুব প্রিয় একজন লেখক---- মনে হয় সেটা ছিল The Dark Lane বা অন্যকিছুর ভূমিকায়...


The Shadow line ?


The Shadow line -এর ভূমিকায় উনি বলেছেন, কিছু লোক এই কাহিনীকে অবাস্তব কল্পনা বলে মনে করেন কারণ ক্যাপ্টেনের প্রেতাত্মা জাহাজটিকে থামিয়েছিল। তিনি লিখলেন ----উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে উদ্ভট-কল্পনিক গল্প কেউ লিখলে এটা ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে সে সমস্ত বিশ্বকে অবাস্তব বা রহস্যময় মনে করে, আবার যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এরকম অদ্ভুত-রসের বই লেখেন তার অর্থ এই নয় যে তার সুক্ষ রসবোধ নেই। কনরাড মনে করতেন যদি কোনো লেখক জগৎ সমন্ধে বাস্তবধর্মী লেখা লেখেন, তখনও তিনি উদ্ভটরসের গল্পই লেখেন, কারণ এ জগতটাই অদ্ভুত, দুর্বোধ্য, রহস্যময়।


আমিও কি এই বিশ্বাসের অংশীদার?


হ্যাঁ , আমি দেখেছি উনি সঠিক। একবার আমার Bioy Casares-এর সঙ্গে কথা হয় ---তিনি নিজেও অতিকাল্পনিক গল্প লেখেন ---- খুব সুক্ষ, সুন্দর গল্পগুলো---সে বলেছিল, "আমি মনে করি কনরাডের কথা ঠিক। প্রকৃতই কেউ জানেন না এ জগৎটা বাস্তবিক না অতি-কাল্পনিক, তার মানে, এই জগৎটা বাস্তব গতিধারার দ্বারা চালিত, নাকি এ ধরনের স্বপ্ন, এ স্বপ্ন আমরা কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি, আবার নাও পারি।" 


আপনি , তাহলে , একধরনের ধ্রুপদী গদ্য লেখার দিকেই এগিয়েছেন ?


হ্যাঁ , এটা আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করি। যখনই কোনো একটি অন্যরকমের শব্দ এসে যায়, যে শব্দ হয়ত স্পেনের ধ্রুপদী সাহিত্য থেকে এসেছে অথবা এমন একটা শব্দ যা Buenos Aires -এর বস্তিতে ব্যবহৃত হয়, আমি তখনই সেটা কেটে সেখানে একটা অতি সাধারণ শব্দ প্রয়োগ করি। মনে পড়ে স্টিভেনশন একবার বলেছিলেন খুব ভালোভাবে লেখা একটি পৃষ্ঠায় সমস্ত শব্দগুলোই এক ধরনের হওয়া উচিত। আপনি যদি একটা ভিন্ন শব্দ বা একটা আশ্চর্যজনক বা অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহার করেন, তাহলে নিয়মের লঙ্ঘন হয়, আর যেটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, পাঠকের মনোযোগ শব্দটির দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। পাঠক যেন স্বচ্ছন্দভাবে পড়ে যেতে পারেন, এমনকি যদি আপনি অধিবিদ্যা , দর্শন বা যা কিছু বিষয়েই লেখেন না কেন।


ড: জনসন এইরকম কিছু একটা বলেছেন।


হ্যাঁ , তিনি নিশ্চয়ই এমন কিছু বলে থাকবেন; না হলেও এর সঙ্গে একমত হতেনই । দেখুন , তাঁর নিজের ইংরাজি ছিল যথেষ্ট কষ্টদায়ক , এবং যা আপনি প্রথমেই অনুভব করবেন তিনি পীড়াদায়ক ইংরাজি লিখছেন ---- সে লেখায় অত্যধিক পরিমাণে লাতিন শব্দ ছড়িয়ে আছে---কিন্তু আপনি যদি যা লেখা হয়েছে তা আবার পড়েন দেখবেন সেইসব জটিল বাক্যবন্ধের মধ্যেও একটা অর্থ, সাধারণ একটা চিত্তাকর্ষক এবং নতুন অর্থ আছে।
 

তা কি ব্যক্তিগত ?
 

হয়ত, ব্যক্তিগত। তাই যদিও তিনি লাতিন ভঙ্গিতে লিখেছেন, আমার মনে হয় তিনি ইংরেজ লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইংরেজ। আমি মনে করি ---যদিও এটা গর্হিত অধার্মিক কথার মতো শোনাবে---তিনি শেক্সপিয়ারের চেয়েও অনেক বেশি ইংরেজ লেখক। আমার কাছে যে বৈশিষ্টটি ইংরেজসুলভ মনে হয় তা হলো আন্ডারস্টেটমেন্ট । কিন্তু শেক্সপিয়ারের লেখায় কোথাও আন্ডারস্টেটমেন্ট বা ভাষণ নেই। তিনি খুব ভাঙা বেদনার ওপর বেদনা চালিয়ে যান। যেমন একজন আমেরিকান বলেছেন। আমার মনে হয় জনসন যিনি লাতিন-ঘেঁষা ইংরাজি লিখেছেন এবং ওয়ার্ডসওয়ার্থ , তিনি বেশি স্যাক্সন শব্দ ব্যবহার করেছেন---এবং তৃতীয় এক লেখকের কথা মনে পড়ছে না--- আচ্ছা ---বলা যাক জনসন , ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং কিপিলিং-ও বিশেষত্বের দিক দিয়ে তাঁরা শেক্সপিয়ারের চেয়ে অনেক বেশি ইংরেজ। জানি না কেন , আমি অনুভব করি শেক্সপিয়ারের মধ্যে কিছুটা ইতালীয়, কিছুটা ইহুদি বৈশিষ্ট্য আছে, আর হয়ত সেইজন্যই ইংরেজরা তাঁকে এত পছন্দ করে, তাঁদের সঙ্গে এই অমিলের জন্য।







লেখক পরিচিতি:

শুভ চক্রবর্তী 
সিউড়ি, পুরাতন ডাঙ্গাল পাড়া 
বীরভূম , পশ্চিমবঙ্গ 









                                       

1 টি মন্তব্য:

  1. আমার প্রিয় মানুষ শুভ তোমার কাজ আমার ভালো লেগেছে। ভালোবাসা রইল।

    উত্তরমুছুন