মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১

জেমস সল্টার : লেখা নিয়ে ভাবনা



ভাষান্তর সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত


লেখা নিয়ে লেখকের ভাবনাকে সাহিত্য বলা হত কোনও এক সময়। এখন কী বলে?

জীবনের মহোত্তম কাজ, সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যার ওপর নির্ভর করে যাবতীয় বাকি কাজ তা তিনটি শব্দে বর্ণনা করা যেতে পারে। খুব সহজভাবে বলতে গেলে ---কথা বলতে শেখা। ভাষা –--সে যে ভাষাই হোক না কেন, ইংরিজি, সোয়াহিলি, জাপানি, ---মানবজাতির প্রগতির জন্য প্রয়োজনীয়। জগতের সৌন্দর্য, বেঁচে থাকার সৌন্দর্য, অথবা ধরা যাক দুঃখ, যেটাই বলুন ভাষা ছাড়া তাকে প্রকাশ করা যায় না।

পশুরা আমাদের সঙ্গী, কিন্তু তারা কোনোভাবেই কথা বলতে পারে না। এমন কি তাদের মধ্যে যারা পশুরাজ বা বুদ্ধিমান পশু, যেমন তিমি, হাতি, সিংহ, তাদের মধ্যে ঈশ্বরের কোনো ধারণা নেই। আমাদের মনের মধ্যে যে ভয় বা আমাদের ঈশ্বরকে পুজো, এসবই কিন্তু পুরোপুরি ভাষার ওপর নির্ভরশীল। যেমন প্রার্থনা, উপদেশ, বাইবেল বা অন্যান্য গ্রন্থ। ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকতে পারে, কিন্তু ভাষা ছাড়া তা ব্যক্ত করা সম্ভব নয়।

ঐশ্বর্য, মাধুর্য, পরিসর, দক্ষতা, সবই ভাষার নিহিত শক্তি। খোলা গলায় সাহস আর বুদ্ধির সাথে কথা বলতে পারা ঠিক যেন বিদ্যুতের রড হাতে ধরে রাখার মতো ক্ষমতা। আমরা সেসব ব্যক্তির প্রতিই আকৃষ্ট হই যাঁদের অপরিসীম জ্ঞান, এবং তার প্রকাশে তাঁরা বিশেষ পারদর্শী, যেমন ডঃ জনসন, শেক্সপিয়ার। তাদের সৃষ্ট ভাষা, সুর ইত্যাদিই তো নায়ক ও কবির ভাষা ও সুর। জীবনের একটি নির্দিষ্ট স্তর, যা কিনা অনবদ্য, সে তো তাঁদের কাছ থেকেই পাওয়া।

ভাষা যদিও একমুখী নয়, দু’মুখী। কথিত ভাষা ও লিখিত ভাষা। কথিত যে রূপ, তা অনেকটা নিঃশ্বাসের মতো অনায়াস, নাগালের মধ্যে। লেখার রূপ ভিন্ন। পড়তে আর লিখতে শেখা হচ্ছে দ্বিতীয় স্তরের, কঠিন। তবে একবার রপ্ত করতে পারলে কিন্তু সামনে অসীম দিগন্ত। তোমাদের জন্য রয়েছে ‘বিবলিও’। কথাটা আমার তৈরি। এর অর্থ হচ্ছে লাইব্রেরি, আর্কাইভ, বিশাল এক সংগ্রহ। এদিক-ওদিক থেকে নতুন শব্দ তৈরি করা অসম্ভব কিছুই না। শেক্সপিয়ারের ব্যবহার করা মোট ২০,০০০ শব্দের মধ্যে প্রতি ১২টি শব্দের ১টি শব্দ তাঁরই সৃষ্টি। অন্তত তাঁর লেখায় আসার আগে এদের ব্যবহারের কথা শোনা যায়নি। সেখানে রাজা জেমস-এর বাইবেলে মাত্র ৮০০০ নতুন শব্দ পাওয়া যায়।

বিবলিও’তে বই, পান্ডুলিপি, সংবাদপত্র, ওয়েবসাইটের প্রিন্টআউট, চিঠি, সবধরণের জিনিস আছে। বইগুলোই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। বই পড়তে পড়তেই কারও লেখক হওয়ার ইচ্ছে চাগাড় দিয়ে ওঠে। প্রথম যে বই আমি নিজেই পুরোটা পড়েছি সেটা হচ্ছে –--‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’। অবশ্য এমন কথা বলতে পারব না যে এই বইটা পড়েই আমার লেখার ইচ্ছে শুরু হয় কি না, বা এটি পড়ার পরই আমার পড়ায় আগ্রহ জন্মায়। তবে একটা আত্মবিশ্বাসী ও সরল গদ্য মনে গভীর ছাপ তৈরি করতে পেরেছিল।

আজও আমার সেই গল্পের প্রতিটা ছত্র মনে আছে। ষাটটা বছর পার হয়ে গেছে। পরবর্তীকালে আমি শুনেছি যে, এরিক মারিয়া রেমার্ক একটি জার্মান ফ্যাশন-ম্যাগাজিনের সম্পাদক ছিলেন, পরে সে চাকরি ছেড়ে একটি উপন্যাস লেখার সিদ্ধান্ত নেন। সকলে ওঁকে ‘পাগল’ বলেছিলেন। কিন্তু ডাই ডেমের অনুকাহিনীগুলি, বা ধরা যাক দ্বিপ্রাহরিক আর নৈশভোজের বর্ণনা, অথবা মডেলদের কথা লোকে ভুলেই গেছে, কিন্তু উপন্যাসটি কিন্তু টিকে আছে।

এই ধারণা নিঃসন্দেহে ভ্রান্ত যে বেশি বেশি পড়লেই ঠিকঠাক শিক্ষিত হওয়া যায়। তবে প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাতের কাছে যা পেয়েছি, তা-ই পড়ে ফেলেছি। সময়টা আমার জীবনের খুব সুন্দর এক সময় ছিল, সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রে বিচরণ করে নতুন নতুন আবিষ্কার ও প্রতিষ্ঠা লাভের দিক থেকে। বইপড়া যাদের নেশা, হয়ত তাঁদের মতো শিখর ছুঁতে পারিনি, তবু অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছি।

আজকাল তেমন আর পড়া হয় না। হয়ত অরুচি চলছে। অল্পসল্প বইই পড়ি আজকাল –--তবু বই পড়া আমার কাছে আনন্দের। কাজেকর্মে ব্যস্ত থাকতে হয় ঠিকই, তবু বইয়ে আকর্ষণ কমেনি। আমার জীবনে বইয়ের যে মূল অবস্থান, সেটা থেকে সে কিন্তু সরেনি। একসময় খুব মৃত্যুর কথা ভাবতাম। তখন আমার বয়েস বড় জোর তিরিশ, নিজেকে বলতাম –--‘তোমার জীবনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি পেরিয়ে গেছে’। এখন অন্য এক কারণে আমি আবার ওরকম করে ভাবতে শুরু করেছি। প্রাচীনকালের নদী পারাপারের যেসব ধ্যানধারণা(ছবি) তা আমার কিন্তু বেশ লাগে। কখনও ভাবি, এমন কোনো একটা দিন হয়ত আসবে যেদিন আমি নির্দ্বিধায় বেরিয়ে পড়তে পারব। দামি ঘড়ি পরব না, দাড়ি কামাব না, টাকা-পয়সা টুথব্রাশ কিচ্ছু না নিয়েই বেরিয়ে পড়ব, তবে বিশেষ কয়েকটা বই সঙ্গে না নিয়ে কি বেরোতে পারব? বিশেষত আমার লেখাগুলো সঙ্গে না নিয়ে, যেগুলো এখনো প্রকাশ পায়নি?

সেদিন ডেবোরা আইজেনবার্গের একটা প্রবন্ধ পড়ছিলাম, দেখা তাঁর সাথে যদিও কখনও হয়নি। প্রবন্ধটির নাম ‘প্রতিরোধ’। দারুণ লেখা। ভার্জিনিয়া উলফের ঝরঝরে, সাবলীল ভাষার কথা মনে পড়ছিল। প্রবন্ধের মাঝামাঝি এসে বাক্যের শেষটা আমার নজর কাড়ল একটা কথা, ‘সেই এক বিপর্যয়ের অংশ যা আমাদের চাহিদা আর জটিল-অভিজ্ঞতাকে সাংস্কৃতিক গন্ডীর বাইরে টেনে নিয়ে যায়’।

ওখানেই আটকে গেলাম। মনের মধ্যে যেসব চিন্তাভাবনা ঘোরাঘুরি করতে শুরু করল, সেসবের মীমাংসা সেরেই এগোলাম। ‘সেই এক বিপর্যয়’ –--কাজানজাকি’র একটি পর্যবেক্ষণ মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক যুগে বিশ্বে অ্যাপোলোনীয় আবরণ ভেঙে গেছে, অজানা কোনো তল থেকে ডিওনিশীয় আবরণ উঁকি দিতে শুরু করে।

তারপর বাক্যের শেষ অংশ, ‘আমাদের সংস্কৃতির সীমারেখা’ লক্ষ্য করুন। ক্রমাগতই প্রশ্ন উঠছে আমাদের সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায় এবং তা কোন পথে? অভিধানের সংজ্ঞা অস্পষ্ট, ‘নির্দিষ্ট কোনও সময় বা জনগোষ্ঠীর ওপর অর্জিত সাফল্য এবং বৌদ্ধিক বিকাশের প্রভাব’। এর বদলে বরং এর উপাদানগুলো কী, তাঁর যদি একটা তালিকা প্রস্তুত করি আমি, আমার মতে দাঁড়াবে ---সংস্কৃতি, ভাষা, শিল্প, ইতিহাস এবং রীতিনীতি।

এটা আমরা জানি যে জনপ্রিয় সাহিত্য বলতে যা বোঝায়, তা চিরাচরিত সাহিত্যকে পেছনে ফেলে দিয়েছে এবং যার ফলাফল এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি। পপ-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক, তরুণ বা আগেকার তরুণবৃন্দ এটিকে বিপুল উৎসাহে গ্রহণ করেছে এবং আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জর্জ লুকাসের ‘স্টার ওয়ার্স’ ট্রিলজি বা পঞ্চক অত্যন্ত সমাদর পেয়েছে এবং রীতিমত আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে, চিরায়ত সাহিত্য বা কলাকৃতির মতোই সমান গুরুত্বের সঙ্গে। এতে কি রুচির অবক্ষয় হচ্ছে, না এ এক নতুন কিংবদন্তীর আগমন যা ট্রোজানের যুদ্ধের মতো সেকেলে কল্পকাহিনীর স্থান গ্রহণ করতে এসেছে? এ যেন লগ্নী করার সেকেলে চিন্তাধারা সরিয়ে নতুন ধারণার প্রবর্তন।

আজ আমরা যারা প্রবীণ, তাঁদের এইটি দেখার সুযোগ ঘটেছে। সেই সময় ছিল ‘ফ্ল্যাশ গর্ডন’, একইরকম পরিবেশ, ধাঁচ, এক নিষ্ঠুর এবং সর্বশক্তিমান খলনায়ক, তাঁর থাকবে একজন সুন্দর বান্ধবী, একজন প্রাজ্ঞ পরামর্শদাতা, উত্তর-আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র, মহাকাশযান, দূরবর্তী গ্রহে পাড়ি, আকাশ-রণতরী। তখন এটা শুধুই কমিক-স্ট্রিপ ছিল। স্কুলের ছেলে-মেয়েরাই পড়ত। ক্রমে এসব কল্পকাহিনী পরিবর্তিত রূপে চলচিত্রবিষয়ক অধ্যয়নের আদর্শ আকর হয়ে উঠেছে।

প্রায় ১৫ বছর আমি সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছি। মনে পড়ত গ্রাহাম গ্রিন আর স্টাইনবেকের কথা। এঁরা দুজনেই একাধারে লেখক ও চিত্রনাট্যকার ছিলেন। অনেকদিন অবধি ঠিকমতো লেখার কাজ শুরু করার প্রাথমিক কিন্তু আবশ্যিক কিছু গুরুত্ব সম্পর্কে আমার কোনো সম্যক ধারণা ছিল না।

আমি যা লিখতাম, আর সিনেমা তৈরি হবার পর সেটা গিয়ে যা দাঁড়াত, তার মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি থাকত। প্রত্যেক দৃশ্যের জন্য অন্তত চারটে করে চিত্রনাট্য তৈরি করতে হত, এবং শেষমেশ সবচাইতে ভালো স্ক্রিপ্টটাকেই হয়ত আবর্জনার বাক্সে ফেলে দেওয়া হত। এই অপচয় দেখে দেখে একদিন অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ি, আর অর্থের বিনিময়ে নিম্নমানের কাজ করার ব্যাপারটাও মেনে নেওয়া যেত না। যদিও সিনেমা-শিল্পের উত্থান অলঙ্ঘনীয়।

নাটকের মতোই জীবনমুখী যে কোনো উপন্যাসই অতীতের কথা বলে, কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও। এগুলি সীমিত সংখ্যক কিছু পাঠকের জন্যই। সেলিন, প্যারিস রিভিউয়ের একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘উপন্যাস সূক্ষ্ণ জালের তৈরি কাপড়ের মতো ...যা দেশাচারের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে’। সাহিত্যের মৃত্যু নেই –--ছাত্ররা এখনও দোস্তয়ভস্কি এবং হুইটম্যান পড়ে –--তবে সময়ের সাথে সাথে এঁদের গুরুত্ব কমেও এসেছে। সাহিত্য সৃষ্টির জোয়ার এখন এঁদেরকে পেছনে ফেলে সমানে এগিয়ে চলেছে।

বোদ্ধাদের বলতে শুনেছি যে বীটলস-এর গান নাকি আজ থেকে ৩০০ বছর পরেও বাজানো হবে, এবং এটাও বলেছেন যে রিচার্ড ওয়াগনার যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে একজন চিত্র-পরিচালক হতেন। কথাগুলো কি সত্যি হতে পারে? আমাদের জানার উপায় নেই। সাহিত্যসৃষ্টির মোড় কোন দিকে ঘুরতে পারে সে সম্বন্ধেও আমরা নিশ্চিত নই।

শুধু কয়েকটা জিনিসই নিশ্চিত মনে করা যেতে পারে। ডিলিলো’র কথায় ভবিষ্যৎ জনগণই ঠিক করে। দারিদ্র আর ঐশ্বর্যের চরম বিপরীত সমাবেশ নিয়ে মেগাসিটিগুলো ক্যান্সারের মত ছড়িয়ে পড়ছে। নদী, বন, শান্ত ভোর এবং রাতের প্রাকৃতিক জগৎ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। নতুন প্রজন্ম চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেট সম্বল করে কংক্রিটের জঙ্গলে বাস করবে। যা আমরা খাই, যা দেখি, যা শুনি, বা যা যা করি, তাই নিয়েই আমাদের জীবন, আর সেই জীবনটাই হল আমাদের পাওয়া একমাত্র এবং একটিমাত্র জীবন।

যত বেশি অভিজ্ঞতা হচ্ছে, ততই বুঝতে পারছি আমার চারপাশের সব দিক দিয়ে সফল মানুষদের মধ্যে না আছে শিল্পকলা সম্বন্ধে সংবেদনশীলতা, না ইতিহাসে আগ্রহ। ভাষার প্রয়োগে এরা চরম উদাসীন। ভাবতেও খারাপ লাগে যে, সন্তানের জন্ম দেওয়াই শুধু এদেরকে তুরীয় অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। আনন্দ এদের কাছে কেবল ইন্দ্রিয় নির্ভর। যদিও এদের আনন্দস্ফূর্তির কোনো খামতি দেখতে পাওয়া যায় না। এদের কাছে সংস্কৃতির কোনও মূল্য নেই, তবুও ওরা সিনেমা দেখতে যায়, গান শোনে এবং হয়ত মাঝেমাঝে একটা-দুটো সবচাইতে বিক্রি হওয়া উপন্যাস কিনেও ফেলে। তাহলে কি সংস্কৃতিমনস্কতার আলাদা করে কোনও প্রয়োজন আছে? পপ-সংস্কৃতির কথা বলছি না কিন্তু, এমন কিছুর কথাই বলছি যা তুলনামূলকভাবে উচ্চস্তরের, যা সময়ের প্রবাহের সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাবে না।

হয়ত নয়। মানবসভ্যতা বা জাতি এগোচ্ছে না পিছিয়ে পড়ছে, তা নিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের খুব একটা মাথাব্যথা নেই। সভ্যতার চূড়ান্ত উত্থান হল নাকি মুখ থুবড়ে পড়ল, সেটা আমাদের সকলের মাথাব্যথা, যদিও একা কেউই আমরা এ ব্যাপারে কিছু করতে পারব না।

তাছাড়া একটি চপল, নিস্প্রাণ, পপ-সংস্কৃতির কথা মনে আনাটাও ভীতিকর। এমন কিছু, যা অর্থহীন নয়, যা মুহুর্তের উন্মাদনা সৃষ্টি করে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে না, তার প্রতি আকাঙ্খা থাকারও প্রয়োজন আছে। অর্থাৎ অতীতে ঘটে যাওয়া জীবনের সাথে সংযুক্ত হওয়ার বাসনা, হারিয়ে যাওয়া স্থানকালপাত্রকে অনুভব করে তার অন্তর্নিহিত মানেটা জানবার একটা ইচ্ছে থাকবে। বলা হয়, শিল্প হল জাতির প্রকৃত ইতিহাস। আমরা যাকে সাহিত্য বলি, যা লেখা হয়েছে এবং যার পাঠ কখনও থেমে যাবে না। যদি এবার সে তার জায়গা ছেড়ে দেয়, তখন এর বিকল্প কি আছে কিছু?

মনে পড়ে, এডুইন আর্লিংটন রবিনসন যখন মৃত্যুশয্যায়, বলেছিলেন তাঁর শয্যা যেন নক্ষত্রের নিচে সরিয়ে আনা হয়। আসলে তিনি বলতে চেয়েছিলেন, তাঁকে যেন টিভির কমেডি-নাটক দেখতে দেখতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করতে হয়। তার চেয়ে যেন অসীম সেই ঐশ্বর্য পর্যবেক্ষণ করতে করতে মৃত্যুবরণ করতে পারেন তিনি, যা আসলে সকলের, সবারই কাম্য।


জেমস পরিচিতি
জেমস সল্টার
আমেরকার ঔপন্যাসিক। ছোট গল্পকার।
জন্ম ১৯২৫ খ্রি। মৃত্যু ২০১৫ খ্রি। 
প্রকাশিত বই :
  • The Hunters (novel, 1957; revised and reissued, 1997)
  • The Arm of Flesh (novel, 1961; republished as Cassada, 2000)
  • A Sport and a Pastime (novel, 1967)
  • Light Years (novel, 1975)
  • Solo Faces (novel, 1979)
  • Burning the Days (memoir, 1997)
  • All That Is (novel, 2013)




অনুবাদক পরিচিতি
সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত
কলকাতায় থাকেন।
গল্পকার। অনুবাদক। বাচিকশিল্পী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন