মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১

মনিজা রহমান'এর গল্প : অলিম্পিক



১.

- তোমার ছেলে কোথায় গেছে মোয়াজ্জেমের মা?

মাদুর বিছিয়ে স্বামীর জন্য দুপুরের খাবার সাজিয়ে রাখছিলেন রাহেলা বেগম। খুব মনোযোগের সঙ্গে কাজটা করছিলেন বলে মমতাজ হোসেনের আগমন টের পাননি। আচমকা বাজখাই কণ্ঠের এই প্রশ্নে রীতিমত কেঁপে ওঠেন রাহেলা বেগম। তড়িঘড়ি করে দাঁড়িয়ে মাথায় কাপড় দেন।

- কথার উত্তর দাও না কেন? মা আর ছেলে মিলে আমাকে তো পথে বসাবে!

রাহেলা বেগম কোন সাড়াশব্দ না করে দ্রুত রান্না ঘরে ছোটেন ডালের বাটি আনতে। স্বামী যত দ্রুত মোয়াজ্জেমের প্রসঙ্গ ভুলে যান ততই মঙ্গল। কিন্তু তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ হয় না।

ঘরে এসে দেখেন চেয়ারে গুম মেরে বসে আছেন মমতাজ হোসেন। চোখ দুটি রাগে জ্বলছে। রাহেলা বেগমকে দেখে রীতিমত গর্জে ওঠেন, ‘দিনরাত খাটি। এত পরিশ্রম করে দোকানটা দাঁড় করিয়েছি, কার জন্য? আমার একার খাওয়ার জন্য? আড়তে মাল আনতে গেলে দোকানে বসার কেউ থাকে না। খেতে এসেছি তাও দোকান বন্ধ করে। এভাবে কি ব্যবসা চলে?”

সময়টা আশি সালের দিকে। জীবন যাপন তখন এখনকার মত কঠিন ছিল না। দেশের সীমান্তবর্তী একটি জেলা মেহেরপুর। খুব বেশী ধনী মানুষ নেই এখানে। আবার গরীব লোকজনেরও দেখা মিলবে কম। খেয়ে পরে ভালোই আছে এখানকার লোকজন। ভয় একটাই-চরমপন্থীরা। ছোট্ট শহরে গাংনিতেও তার আঁচ লেগেছে।

ছোট্ট শহর হলেও গাংনি বাজারে দোকানের আয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভালো থাকার কথা মমতাজ হোসেনের। নিজের বাড়ি, বাগানে ফলফলাদি হয় প্রচুর। ধানী জমি আছে কয়েক বিঘা। আমের বাগান আছে, ঢাকায় পাঠান বিক্রি করতে। ব্যবসায়িক বুদ্ধি তাঁর ষোল আনা। কিন্তু পুত্র ভাগ্য তার ভালো হল না। মোয়াজ্জেমের পরে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অবস্থাসম্পন্ন ঘরে। সবাই ভালো আছে। কিন্তু এই হারামজাদা মোয়াজ্জেম হয়েছে রাজ্যের সৃষ্টিছাড়া।

রাগে থমথমে মুখে খেতে বসেন মমতাজ হোসেন। কোন কথা বলেন না এরপর। অন্যদিন এটা-ওটা পাতে তুলে দেন রাহেলা বেগম। আজ মূর্তির মত বসে রইলেন। কিছু একটা করতে গেলে স্বামী না আবার ক্ষেপে ওঠেন। রাগ করার যথেষ্ঠ কারণও আছে তার। ছেলে মোয়াজ্জেম গতকাল সকালে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বের হয়েছে। আজ দুপুরের আগে আসবে বলেছিল। কিন্তু কই তার কোন হদিসই নেই!

মমতাজ হোসেন খেয়ে আর দেরি করেন না। দোকানের দিকে রওনা হন। থালা-বাটি গোছাতেই বাড়ির উঠানে মোয়াজ্জেমের গলা শুনতে পান রাহেলা বেগম। দাদীর সঙ্গে স্ফূর্তির স্বরে কথা বলছে। লাজুক, স্বল্পভাষী ছেলেটা নিশ্চয়ই বিরাট কিছু করে এসেছে। নয়ত এত জোরে তো সাধারণত ও কথা বলে না।

রাহেলা বেগম উঠানে নেমে দেখেন গলায় মেডেল ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুত্র মোয়াজ্জেম। মোয়াজ্জেমের দাদী, আশেপাশের ঘরের পাড়াপ্রতিবেশীরা সবাই ঘিরে আছে ওকে।

রাহেলা বেগমের চোখ আনন্দে ঝাপসা হয়ে আসে। তবে কি মোয়াজ্জেম অলিম্পিক থেকে মেডেল জিতে এসেছে!


২.

মোয়াজ্জেমের এই অলিম্পিক রোগ ধরেছে গত দেড় বছর হল। ওর এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন রাহেলা বেগমও। যে সময়ের কথা বলছি, ছোট্ট শহর গাংনিতে তখনও টিভি পৌছায়নি। রেডিওর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। দুপুর গড়ালে কম বয়সী মেয়েরা গোসল সেরে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে বিজ্ঞাপন কার্যক্রমে সিনেমার কাহিনী শোনে। রাতে সৈনিক ভাইদের দুর্বার অনুষ্ঠানে অনুরোধের গান শুনতে চেয়ে চিঠি লিখে পাঠায়। টেলিভিশন শব্দটা তখন ভুতের মত, সবাই শুনেছে কিন্তু কেউ দেখেনি।

মোয়াজ্জেম গাংনি শহরের বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন যে টিভি দেখেছে। তবে এটাকে সৌভাগ্য না বলে দুর্ভাগ্য বলা যায় এক অর্থে। ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে মিউনিখ অলিম্পিক গেমসের খেলা দেখেছে ও। এমনিতে ছোটবেলা থেকে খেলাধুলার দারুণ ভক্ত মোয়াজ্জেম। শারীরিক উচ্চতা বেশী না হলেও বেশায় শক্তপোক্ত। কুস্তিতে ওকে পরাস্ত করতে পারে এমন কেউ নেই পুরো এলাকায়।

মিউনিখ গেমসের ভারত্তোলন খেলাটা মোয়াজ্জেমের মনে ধরে যায়। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন আখড়ায় গিয়ে কয়েকবার ওজন তুলেছে ও। সবাই বলেছে লেগে থাকতে। ভবিষ্যতে ভালো করতে পারবে ও।

সত্যি কি পারবে মোয়াজ্জেম! পারবে বড় হতে, অলিম্পিকে যেতে!

আর মোয়াজ্জেম লেগে থাকবে কি করে? বাবার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সারা দিনে ঘন্টাখানেক সময় মেলেনা অনুশীলন করার। মোয়াজ্জেমের স্বপ্ন তবু মরে না। মাকে বলেছে নিজের ইচ্ছার কথা। রাহেলা বেগম স্পষ্ট করে বুঝতে পারেননি। তবু সন্তানের প্রবল আকাঙ্খা তার মনকে ব্যাকুল করেছে।

‘‘আমার সোনাদানা যা আছে সব কিছু বন্ধক রাখব। অলিম্পিকে যাবার জন্য টাকার চিন্তা করিস না বাবা।’’ রাহেলা বেগমের কথাগুলো মার্বেলের মধ্যে গেথে থাকা ফুলের মত গেথে আছে মোয়াজ্জেমের মনের গহীনে। মায়ের মত কে আছে পৃথিবীতে এভাবে উৎসাহ দেবার!

সেই মাকে দেখে ছুটে এসে মোয়াজ্জেম প্রথমে পা ধরে সালাম করে। তারপর জড়িয়ে ধরে মেডেল দেখায়।

‘‘অলিম্পিকে গেছিলি বাবা?’’ মায়ের সরলতায় মোয়াজ্জেম হাসে। কুষ্টিয়া শহরে গিয়েছিল ও এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। ভারত্তোলনের ৬২ কেজি ওজনে প্রথম হয়েছে। কোন টাকা পয়সা পায়নি। পেয়েছে কেবল সোনার মেডেল। আসল সোনার নয়। সোনালী রঙ করা।

মোয়াজ্জেম মেডেলটা মায়ের গলায় পরিয়ে দেয়। উঠোনে জড়ো হওয়া সবাই হা হা করে হেসে ওঠে।

মোয়াজ্জেমের দাদী ডেকে ওঠেন, ‘বৌ এসব হাসি-তামশা বাদ দিয়ে ছেলেকে তাড়াতাড়ি খাইয়ে দোকানে পাঠাও। মমতাজ হঠাৎ চলে এলে আর রক্ষা থাকবে না।’

মোয়াজ্জেমের আনন্দিত মুখ মুহূর্তে দপ করে নিভে যায়। জিনিষপত্র বিক্রি আর হিসাব নিকাশের কাজ একটুও ভালো লাগে না ওর।


৩.

কুষ্টিয়া শহরে ভারত্তোলনের চর্চা আছে বেশ। কিন্তু দোকান ফেলে বার বার কুষ্টিয়াতে যাওয়া সম্ভব নয়। মোয়াজ্জেমের নিজ শহর গাংনিতে ভারত্তোলনের কোন যন্ত্রপাতি নেই। অনুশীলন করার কোন সঙ্গীও নেই। শেষ পর্যন্ত একাই শুরু করল মোয়াজ্জেম।

কুষ্টিয়া শহরের কুস্তিগির বন্ধু প্রদীপের দেয়া বুদ্ধিতে মোটা বাঁশের দুই মাথায় বালির বস্তা বাধে মোয়াজ্জেম। আর সেটাকে দুই হাতে তুলতে থাকে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে। এভাবে একটু করে ওজন বাড়াতে লাগলো ও।

পথটা সহজ ছিল না। দিনের বেলা দোকানদারি করতে হয় বাবার সঙ্গে। রাতে গোয়ালঘরে হারিকেন জ্বালিয়ে চলত অনুশীলন। মাঝেমধ্যে পালিয়ে বড় শহরে গিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া। মমতাজ হোসেন জানতে পারলে বকাঝকা করতেন। তবু থামানো যায়নি মোয়াজ্জেমকে।

অবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবার সৌভাগ্য হল মোয়াজ্জেমের। ও ভাবল অলিম্পিকে যাবার এই তো প্রথম ধাপ। পদক জিতল ও। কিন্তু দেশসেরা হতে পারল না। বছরের পরে বছর গেল। একই জায়গায় রয়ে গেল মোয়াজ্জেম। ওদিকে বয়স বাড়তে লাগল। বাড়ি থেকে বিয়ে করানো হল মোয়াজ্জেমকে।

বছর গড়াতে লাগল। মোয়াজ্জেমের বড় হওযা হল না। ঘনায়মান ঝিঁঝিঁ ডাকা সন্ধ্যায় যখন একা বাড়ি ফিরত ও, মনের মধ্যে কে যেন হাউ হাউ করে কেঁদে উঠতো। পথেঘাটে চেনা মানুষদের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারেনা মোয়াজ্জেম! কেন যে সৃষ্টিকর্তা ওকে এমন সৃষ্টিছাড়া করে পাঠালো! প্রতি চার বছর অন্তর অলিম্পিক গেমস এলে মনের মধ্যে অতৃপ্ত বাসনা গুমড়ে মরে। আশেপাশে কারো বোঝার ক্ষমতা ছিল না মোয়াজ্জেমের মনের মধ্যে আসলে কি হচ্ছে!

প্রচন্ড উত্তেজনা নিয়ে মোয়াজ্জেম কখনও ছুটত মেহেরপুর শহরে। কখনও কুষ্টিয়ায় যেত। সেখানে পৌরসভা অফিসে গিয়ে খবরের কাগজে অলিম্পিক গেমসের সমস্ত সংবাদ খুটিয়ে খুটিযে পড়ত। সোনা জেতা ভারত্তোলকদের ছবি গোপনে কেটে নিয়ে আসতো। ঘরের টিনের দেয়ালে সেসব সেঁটে রাখতো। ছবিতে হাত ‍বুলাতো ও সময় পেলে। কারণ ওই ভারত্তোলকদের মুখে নিজের চেহারা দেখতে পায় মোয়াজ্জেম। বুকের মধ্যে খা-খা করে উঠে। এই জীবনে কি আর কোনদিন অলিম্পিকে যাওয়া হবেনা!

নিজের সম্ভাবনা ফুরিয়ে আসছে দেখে মোয়াজ্জেম এবার লাগল অন্য চেষ্টায়। আমি না পারি, আমার ছাত্রদের দিয়ে স্বপ্ন পূরণ করব। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছেলে ধরার কাজে লাগল ও। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের হাতে পায়ে ধরে। অনেকে বলা যায় একপ্রকার তাড়িয়ে দেয় ওকে। কোথাও আবার বাবা-মা রাজী হলেও ছেলেরা আসতে চায় না! মোয়াজ্জেম পকেটের টাকা খরচ করে ওদের জন্য নানা উপহার কেনে। পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করে। শক্তির খেলাতে ভালো খাবার না চলে চলবে না। কয়েকজন গরীব পরিবারের সন্তান পায় শুরুতে। তারা আসে ভালো খাবার আর নতুন পোষাকের লোভে। দারিদ্যের আগুন তাদের মনে প্রত্যয় সৃষ্টি করে অধ্যবসায়ের।

ততদিনে বাবা মমতাজ হোসেন পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। মাথার ওপর ছাতা হয়ে থাকা মানুষটিকে হারিয়ে মোয়াজ্জেম থমকে গেলেও চলা থামায়নি। দোকানে কাজের জন্য অন্য লোক রেখেছে। দিন নেই, রাত নেই নিজেকে উজাড় করে দিয়ে ছেলেদের শেখাতে লাগল নিজের সমস্তটুকু জ্ঞান।

একজন-দুইজন করে করে মোয়াজ্জেমের ছাত্র ঢাকায় খেলতে যায়। সঙ্গে কোচও যায়।

ষোল বছর ধরে এই ছেলে তাড়া করে বেড়ানোর ফল মোয়াজ্জেম পায় নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে এসে। সবাইকে চমকে দিয়ে জাতীয় ভারত্তোলনে শক্তিশালী সেনাবাহিনী দলকে হারিয়ে দিয়ে নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়- মেহেরপুর জেলা!


৪.

ছোট শহর গাংনিতে শোরগোল পড়ে গেল। এলাকার লোকজন বাহবা দিতে লাগল মোয়াজ্জেমকে। এতদিন যারা ওকে ‘পাগল’ বলে ক্ষেপাতো তারা সবাই মুখ লুকালো।

সবচেয়ে বেশী খুশী হলেন রাহেলা বেগম। সন্তানের অর্জন তো তারও।

‘‘দেখলি বাবা লেগে থাকলে একদিন না একদিন পুরস্কার পাওয়া যায়।’’ ছেলের সাফল্যে রোজা-নামাজ মানত করলেন তিনি।

মোয়াজ্জেমের স্ত্রী নাহার বানু বুঝল তার স্বামী নিশ্চয়ই সাংঘাতিক কিছু করেছে। এতদিন স্বামীর কথার মাথামুন্ডু কিছু বুঝতে পারত না। বিয়ের অনেক বছর চলে যাবার পরেও সন্তান জন্ম দিতে পারেনি নাহার বানু। এই নিয়ে বুকের মধ্যে দু:খ, কষ্ট, গ্লানি সব মিলে এক ধরনের হীনমন্যতাবোধ ছিল। স্বামী বা শ্বাশুড়ি অবশ্য কোনদিন এক মুহূর্তের জন্য এজন্য কোন কটু কথা বলেনি ওকে। তবু মা ডাক শুনতে না পারার আক্ষেপ তো ছিলই।

‘দেখ বৌ, আমাদের ছেলেমেয়ে নেই তো কি হয়েছে? আমার ছাত্ররা সন্তানের সমান। ওরা দেখ কত বড় সাফল্য নিয়ে এসেছে।’’ স্বামীর এই কথায় নাহার বানুর সব কষ্ট মুছে যায়।

চ্যাম্পিয়ন হবার কারণে ঢাকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে বেশ কিছু খেলোয়াড়ী সরঞ্জাম পেয়েছে মোয়াজ্জেম। গাংনি উপজেলা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে পরিত্যক্ত জেলখানায় জিমনেশিয়াম করার সুযোগ পায়। সুন্দর করে সবকিছু সাজায় সেখানে ও। ধান বেচার টাকা দিয়ে সম্পূর্ণ মেঝেতে ম্যাট বসায়। এক ছাত্র ভারত্তোলনের জাতীয় পর্যায়ে সেরা হয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরী পেয়েছে। ও একটা ফ্যান কিনে দেয়।

গাংনি শহরের প্রাণকেন্দ্রে জিমনেশিয়ামটি। চারপাশে সবুজ নিবিড় প্রকৃতি। শুরুতে উপজেলা কর্মকর্তার অফিস। তারপর স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি। কিছু দূর যাবার পরে সেই পরিত্যক্ত জেলখানায় মোয়াজ্জেমের ক্লাব। সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে- ‘মোয়াজ্জেম ভারত্তোলন ক্লাব’।

ছোট শহরে দূর-দূরান্ত থেকে ছেলেরা আসতে থাকে ক্লাবে। এলাকায় মোযাজ্জেমের গুরুত্ব বাড়ে। জাতীয় পর্যায়ে এখন ঢাকা থেকে বহু দূরের মফস্বলের এই ক্লাবের খেলোয়াড়দের আধিপত্য। আটটি ওজন শ্রেণীর মধ্যে অন্তত পাঁচটিতে সোনা থাকবে মোয়াজ্জেমের শিষ্যদের।

ঢাকায় জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকরা বিস্মিত হয়। ঘটনা কি? দেশের সেরা সব ভারত্তোলকরা কি মেহেরপুরে জন্মায়! তাদের সবার ঠিকানা কি মোয়াজ্জেম ভারত্তোলন ক্লাব!


৫.

ছেলের যখন নাম-ডাক হতে লাগল, তখন বলা নেই কওয়া নেই চলে গেলেন মোয়াজ্জেমের মা রাহেলা বেগম।

মোয়াজ্জেম বাড়িতে ছিল না। রাজশাহী শহরে গিয়েছিল এক ভারত্তোলন প্রতিযোগিতায়। বাড়িতে এসে দেখে সব শেষ। রোগে-শোকে ভুগে নয়, ঘুমের মধ্যে চলে গেছেন মা।

হঠাৎ সেদিন মায়ের মত দেখতে একজনের সাক্ষাৎ পেল মোয়াজ্জেম।

সাধারণত দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে মধ্যাহ্ন ভোজন করে মোয়াজ্জেম। খেলা ছেড়ে দিলেও কঠিন নিয়ম কানুনের মধ্যে থাকে ও।

খেতে বসলে মনে পড়ে মায়ের কথা। কত সুন্দর সাজিয়ে-গুছিয়ে খেতে দিতেন তিনি। তাওয়ায় আলু সেঁকে তাতে ভাজা মাছ মিশিয়ে পাটায় বেটে অসাধারণ এক ভর্তা বানাতেন মা। আর কলাপাতায় খুব ঝাল দিয়ে মরিচ খোলা। মায়ের মত এমন কেউ রাঁধতে পারে না। মায়ের মত এভাবে ভালোবাসতে বা কে পারে! খ্যাপাটে, অন্তর্মুখী মোয়াজ্জেমকে বোঝার মত ওই একজনই ছিলেন।

খাওয়ার সময় চোখের পানি ফেলা ঠিক না। মোয়াজ্জেম শার্টের কোনা দিয়ে চোখ মুছে তাড়াতাড়ি। ঘরের বারান্দা দিয়ে উঠানে তাকিয়ে চমকে ওঠে। ঘোমটা মাথায় দিয়ে এক মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। অবিকল মায়ের মত চেহারা। ডান দিকের চোখের নীচে একই রকম একটা আঁচিল।

‘দেখেন তো কে যেন এসেছে!’ নাহার বানু উঠান পার হয়ে বারান্দায় এসে ঢোকে। খাওয়ার সময়ে মায়ের মত পাশে থাকে না ও। কোথায় কোথায় ঘোরে। ছেলেপিলে না-থাকলে সংসারে কিই-বা কাজ! মোয়াজ্জেম তো সারাদিন বাইরেই থাকে।

‘ওনাদের বসার ঘরে নিয়ে যাও।’ বয়স্ক মহিলার সঙ্গে তরুণ বয়সী দুই ছেলে নজরে পড়ে মোয়াজ্জেমের। বুঝতে পারে ছেলেদের ওর ক্লাবে ভর্তি করাতে এসেছেন মা।

মোয়াজ্জেমের ভাবনা সঠিক।

‘‘বাবা, এই আমার দুই ছেলে। ছয় মাস আগে ওর বাবাকে চরমপন্থীরা ধরে নিয়ে যায়। পরে লাশ পাওয়া যায় বাড়ি থেকে দেড় মাইল দূরের এক বিলে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে ওর চাচাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিন থেকে খুব খারাপ।’’

এক সঙ্গে অনেক কথা বলে দম নেন মহিলা।

মোয়াজ্জেমের সব কথা কানে যায় না। এই এলাকায় খুনখারাবি ডালভাতের মত। খুন, রাহাজানি, মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনেকে বড় বড় কথা বলে। কাজের কাজ কিছুই করে না। মোয়াজ্জেম কোন কথা না বলে কাজে প্রমাণ দিয়েছে। ওর শিষ্যরা ভালো আছে চারদিকের এই ভয়ংকর সময়ের মধ্যে।

দুই ছেলেকে খুব পছন্দ হয় মোয়াজ্জেমের। পাকা জহুরী সে। দেখেই বুঝতে পারে কোনটা আসল হীরে। ওর ঘরের সেঁটে রাখা ছবির খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিল আছে ছেলেদের। বিশেষ করে বড় ছেলেটির। মোয়াজ্জেম ওদের নাম জিজ্ঞাসা করে।

বড় ছেলের নাম হামিদুল। ওর এক চোখে ছানি পড়া। বেটেখাটো গড়ন ওর। চওড়া কাঁধ। আদর্শ ভারত্তোলকের শরীর। ছোটজনের নাম একরামুল। ওর শরীর হালকাপাতলা।


৬.

হামিদুলের মা কিছু বলার আগে মোয়াজ্জেম ওনার দুই ছেলেকে ক্লাবে দেবার অনুরোধ করে। মহিলার চোখে স্বস্তির কান্না নামে। নতুন দুই ছেলেকে পেয়ে মোয়াজ্জেমের ভাবনায় অলিম্পিকের স্বপ্ন ফিরে আসতে শুরু করে।

সত্যিকারের শিষ্যকে চিনতে ভুল করেননি গুরু। হামিদুল আর একরামুল অনুশীলন শুরুর দশ মাসের মধ্যে সোনা জিতে নেয় জাতীয় পর্যায়ে। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে খেলার ডাক পায়। ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকাতে হবে এবারের সাফ গেমস।

হামিদুলের মা আবার ছুটে আসেন। ঘরে ভাজা মুড়ি আর হাতে বানানো পিঠা নিয়ে আসেন সঙ্গে। স্বামীর এমন বীভৎস মৃত্যুর পরে তিনি কি ভেবেছিলেন, সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন! অথচ এখন তার ছেলেরা বিদেশে যাবে বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য। জাতীয় দলের ব্লেজার থাকবে পরনে।

মোয়াজ্জেমের আনন্দে রাতে ঘুম আসতে চায় না। সাফ গেমস, তাই বা কম কি! দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার অলিম্পিক তো এটাই! একজন-দুইজন করে মোয়াজ্জেমের কম ছাত্র তো সেনাবাহিনীতে চাকরী পেল না! হামিদুল-একরামুলসহ সংখ্যাটা ডজনখানেক ছাড়িয়ে যাবে। পুলিশ আর আনসারেও আছে কয়েকজন। মোয়াজ্জেমের বুকটা গর্বে ভরে যায়। মাঝরাতে স্ত্রী নাহার বানুকে ঘুম থেকে তুলে সেই গর্বের কথা বলে।

‘‘কলম্বোতে সাফ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে হামিদুল-একরামুলকে দেখিয়েছিল এক ঝলক। আমার যে কি গর্ব আর আনন্দ হল! ভাবতেও পারবি না। নিজের সন্তান জন্মের সময়েও মনে হয় এত আনন্দ হত না!’’

অন্ধকার ঘরে মশারির মধ্যে কিছু দেখা যায় না। তবু নাহার বানু ‍বুঝতে পারে তার স্বামী কাঁদছে। হাত দিয়ে গরম নোনা জল মুছিয়ে দেয়।

কলম্বো সাফ গেমস কভার করতে যাওয়া সাংবাদকিদের রিপোর্ট গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ে মোয়াজ্জেম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরের দিন ভারত্তোলনের প্রতিযোগিতা। একরামুল সেখানে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ জেতে। হামিদুল সোনা জিততে জিততে শেষ পর্যন্ত রৌপ্য পায়। বিচারকদের পক্ষপাতিত্বে সোনা জেতা হয় না ওর। এই নিয়ে কলম্বো গেমসে যাওয়া সাংবাদিকরা রিপোর্ট পাঠায় ঢাকায় তাদের নিজ নিজ পত্রিকায়।

ঢাকা থেকে বহু দূরে এক মফস্বল শহরে বসে সেই খবর পড়ে সুখ ও দু:খের মিশ্র অনুভূতি হয় মোয়াজ্জেমের। হামিদুল সোনা না জেতায় দুঃখ হওয়াটা স্বাভাবিক। খুশী লাগে এই কারণে যে, তার এক শিষ্যকে নিয়ে দেশের সব জাতীয় দৈনিকের খেলায় পাতায় লিড রিপোর্ট হয়েছে। এদেশের কোন ভারত্তোলককে নিয়ে এভাবে লেখা হয়নি কখনও।

৭.

হামিদুল দেশে ফেরার পরে মোয়াজ্জেম ওকে একান্তে নিয়ে নানাভাবে বোঝাল। ভেঙ্গে না-পড়ে আবার অনুশীলন শুরু করতে বলল। ভারত্তোলন খেলাটা এমন যে ঈদে-পুজায় অনুশীলন বন্ধ করা যায় না। সারাবছর ট্রেনিংয়ের বিকল্প নেই। খাবার খেতে হয় নিয়ম মেনে। শরীরের ওজন বাড়ানো যাবে না, আবার কমানোও সম্ভব না। নিজের ওজন শ্রেণী ধরে রাখতে হবে।

নীরবে নিভৃতে তৈরি হতে থাকে মোয়াজ্জেমের ছেলেরা। প্রতি বছর জাতীয় পর্যায়ে নতুন নতুন ছেলে উপহার দেয় মোয়াজ্জেম ভারত্তোলন ক্লাব। ওখান থেকে ভালো জায়গায় চাকরী হয়ে যায়। এলাকাবাসী মোয়াজ্জেমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কত পথে বসা পরিবারকে যে ও সচ্ছলতা এনে দিয়েছে।

এবার ঢাকায় বসছে দক্ষিণ এশিয়ান গেমস। অন্যান্য বারের তুলনায় প্রস্তুতি শুরু হয় তাই আগেভাগে। নিজের দেশে সাফ গেমস হবে ষোল বছর পরে। ভালো ফল করতে না পারলে স্বাগতিক দেশের মর্যাদা থাকবে না। এক বছর আগে থেকে ক্যাম্প আরম্ভ হয়ে যায় বিভিন্ন খেলায়।

ভারত্তোলকরা এমনিতেই সারা বছর অনুশীলন করে। তবে সাফ গেমসের জন্য অনুশীলন বলে সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশী। ভারত্তোলক দলে অর্ধেকের বেশ খেলোয়াড় মোয়াজ্জেমের শিষ্য। ওরা এখন ঢাকাতে থাকে সারা বছর। সেনাবাহিনীতে চাকরী করে বেশীরভাগ। ছুটিছাটায় গাংনি এলে বাস স্টেশনে নেমে আগে ছোটে ওস্তাদের সঙ্গে দেখা করতে।

ঢাকা সাফ গেমসে শিষ্যদের খেলা দেখার জন্য গাংনি থেকে বাসে করে ঢাকায় আসে মোয়াজ্জেম। গুলিস্তানে এক সস্তার হোটেলে ওঠে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু হবে গেমস, পরের দিন সকাল থেকে আরম্ভ হবে পদকের লড়াই। হামিদুল ওর ওস্তাদকে একটা টিকেট জোগাড় করে দেয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখার জন্য।

স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভর্তি হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি শিহরিত করে মোয়াজ্জেমকে। হঠাৎ দেখে কাঁধে কার হাত। ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখে কুষ্টিয়ার বন্ধু প্রদীপ। কুস্তি দলের সঙ্গে এসেছে। ওদের কুশল বিনিময়ের মধ্যে ঘোষক জানায়, একটু পরে শুরু হবে আতশবাশির প্রদর্শনী।

কানফাটানো শব্দে এরপরে ফুটতে থাকে এক একটি আতশবাজি। পুরো ঢাকা শহর ‍যেন আলোকিত হয়ে যায় আলোকচ্ছটায়। রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে দেখে সব কিছু মোয়াজ্জেম।

গুলিস্থানের হোটেলে ফেরার সময় প্রদীপ বলে, ‘এই আতশবাজির পিছনে কত খরচ হয়েছে জানিস? ৫০ কোটি টাকা!’

৫০ কোটি টাকা! পাঁচের পরে কয়টা শুন্য যুক্ত করলে ৫০ কোটি টাকা হয় মোয়াজ্জেম ভেবে উঠতে পারেনা। এত টাকার আতশবাজি শুধু ক্ষনিকের আনন্দের জন্য! প্রদীপ আরো বলে, ‘সাংবাদিকরা লিখেছে, এত টাকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে যদি বাংলাদেশ সোনা না-পায়, তবে সব আয়োজন তামাদি হয়ে যাবে!’

কথাটা মোয়াজ্জেমকেও নাড়িয়ে দেয়। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে পর্যন্ত একটা প্রশ্ন শুধু ওর মাথায় ঘুরতে থাকে, ‘সোনা জিততে পারবে তো বাংলাদেশ?’


৮.

সাফ গেমস শুরুর সকাল বেলাটা স্বাগতিকদের জন্য ছিল চরম বিব্রতকর।

সাইক্লিংয়ে মেয়েদের খেলা ছিল। বাংলাদেশ সোনা জিততে যাচ্ছে এমন একটা খবর চাউর হয়ে যায় স্টেডিয়ামপাড়ায়। দুপুর গড়াতে সেই সোনা এল এক রাশ লজ্জা হয়ে। শোনা গেল, আলোচিত সাইক্লিষ্টকে সাইক্লিং ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা তার মোটরসাইকেলের সাহায্যে গতি বাড়াতে সাহায্য করেছে।

সোনা জেতার বদলে ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে গেল সেই সাইক্লিষ্ট। বিদেশী দলগুলো দুয়োধ্বনি দিতে লাগল সমস্বরে। কি লজ্জা.. কি লজ্জা!

স্বাগতিকদের মুখ লজ্জায় অবনত।

এমন সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেশিয়ামে বেজে উঠল বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ সবার ওপরে উঠল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।

মন্ত্রী, এমপি, ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে টিভি-প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা সবাই ছুটল সেদিকে। কি হয়েছে সেখানে? কি… কি?

হামিদুল সোনা জিতেছে! হামিদুল সোনা পেয়েছে!

আনন্দে-উল্লাসে সবার তখন দিগ্বিদিক অবস্থা। যে যাকে সামনে পাচ্ছে খুশীতে জড়িয়ে ধরছে। ষোল বছর পরে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম সাফ গেমস। সেখানে প্রথম সোনা হামিদুলের। বাংলাদেশের কোন ভারত্তোলক অতীতে কোন গেমসে সোনা জেতেনি। অভিনন্দনের বন্যায় ভেসে যেতে লাগল হামিদুল। চারদিকে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলতে লাগল উপচে পড়ার খুশীর মত।

এক চোখে ছানি পড়া হামিদুলকে সবাই মৌমাছির মত ঘিরে ধরল। সবাই তার সাফল্যের অনুভূতি শুনতে চায়। জানতে চায় কিভাবে এই জায়গায় এসেছে ও? কারো কোন উত্তর না দিয়ে হামিদুল ছুটে গিয়ে ধরে আনল একজনকে। পা ধরে সালাম করতে যাবার আগে লোকটি বুকে জড়িয়ে ধরলেন হামিদুলকে।

বিশাল ঘোষণা দেবার মত হামিদুল সবাইকে জানাল, ‘ইনি আমার ওস্তাদ। আমার এই সাফল্যের সমস্ত কৃতিত্ব ওনার।’

ভদ্রলোকের নাম মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। বাড়ি দেশের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরের গাংনিতে। কোচ বলতে যেরকম কেতাদূরস্ত, চৌকস কাউকে বোঝায় তেমন তিনি নন। দাড়িওয়ালা, মধ্যবয়স্ক একজন মানুষ। হাফশার্ট আর প্যান্ট পরা। ওস্তাদ শব্দটিই মনে হয় তাঁর জন্য মানানসই।

সবাই এবার শুনতে চায় হামিদুলের ওস্তাদের কথা। শিষ্যকে আবিস্কারের কাহিনী। আনন্দের কান্না শেষে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,‘হামিদুলকে প্রথম দেখে আমি বুঝেছিলাম ও অনেক দূর যাবে। নিজে খেলোয়াড় হয়ে যা করতে পারিনি, চেয়েছি শিষ্যকে দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে। আমার শিষ্য হামিদুল এসএ গেমসে দেশের হয়ে প্রথম সোনা জিতেছে, এই আনন্দ প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। শুনেছি আগামীতে এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে খেলার সুযোগ পাবে হামিদুল। … এখন একজন অলিম্পিকে গেলে হয়… আমার বড় স্বপ্ন আমার কোন ছাত্র সেখানে খেলতে যাবে!’

মোয়াজ্জেম হোসেনের শেষের কথাটা বেশীরভাগ সাংবাদিক নোট নিল না। যে দেশ এখনও ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি নিয়ে অলিম্পিক গেমসে খেলতে চায়, তাদের আকাশ কুসুম কল্পনার কথা লিখে লাভ কি!

আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা হামিদুল-একরামুলসহ মোয়াজ্জেমের শিষ্যরা অবশ্য বুঝতে পারল- ওস্তাদের সেই বড় হওয়া মানে অলিম্পিকে যাবার স্বপ্ন মরে যায়নি আজও।




লেখক পরিচিতি
মনিজা রহমান
কবি। গল্পকার। অনুবাদক। সাংবাদিক।
নিউ ইয়র্কে থাকেন।

২টি মন্তব্য:

  1. কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম আপনার রচিত গল্পে। লেখার একজন ভক্ত হিসেবে বলছি, মনে হচ্ছিল কোন মুভি দেখছি।
    আপনার জন্য শুভকামনা।

    উত্তর দিনমুছুন
  2. কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম আপনার রচিত গল্পে। লেখার একজন ভক্ত হিসেবে বলছি, মনে হচ্ছিল কোন মুভি দেখছি।
    আপনার জন্য শুভকামনা।

    উত্তর দিনমুছুন