মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১

কথা সাহিত্যিক শাহীন আখতারের সাক্ষাৎকার



তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ সমূহ হলো তালাশ, সখী রঙ্গমালা, ময়ূর সিংহাসন, সতী ও সতন্তরা, অসুখী দিন। উপন্যাস ছাড়াও তিনি অনেক ছোটো গল্প লিখেছেন। তাঁর ছোটো গল্প গ্রন্থের মধ্যে, শিস ও অন্যান গল্প, শ্রীমতীর জীবনদর্শন, আবারও প্রেম আসছে, উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শাহীন আখতার কিছু সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সখী রঙ্গমালা উপন্যাস অনুদিত হয়েছে ইংরেজিতে Beloved Rongomala নামে। অনুবাদ করেছেন শবনম নাদিয়া। তালাশের ইংরেজি অনুবাদ হয়েছে The Search নামে- অনুবাদ করেছেন Ella Dutta। ‘জেনানা মহল’ ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে Women in Concert-An Anthology of Bengali Muslim Women’s Writings, শিরোনামে।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য শাহীন আখতার ইতিমধ্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ(২০১৬) বাংলার পাঠশালা আখতারুজ্জামান কথাসহিত্য পুরস্কার ২০১৫, আই এফ আই সি ব্যাংক পুরস্কার ২০১৫, ভারতের আনন্দবাজার গ্রুফের টিভি চ্যানেল এবিপি আনন্দ কর্তৃক সাহিত্যে ‘সেরা বাঙালি’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর সাহিত্য বাংলাদেশের সীমানা ছাড়াতে শুরু করেছে ২০১১ সাল থেকে। ২০১১ সালে ভারতের দিল্লি­র জুবান বুকস থেকে প্রকাশিত হয় তালাশ-এর ইংরেজি অনুবাদ। কয়েক বছর পর তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাস ‘সখী রঙ্গমালা’ ইংরেজী অনুবাদ করেন শবনম নাদিয়া। সম্প্রতি তালাশ-এর কোরিয়ান অনুবাদ করেছেনসিয়ং-হি-জিওন(Seung-Hee Jeon)। গোয়াংজুতে এশিয়া কালচার সেন্টার (ACC) আয়োজিত তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব "দ্বিতীয় এশিয়ান সাহিত্য উৎসব ২০১৮" এ যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ৬-৯ নভেম্বর, ২০১৮ গোয়াংজু, কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই উৎসবে তাঁর কোরিয়ান ভাষায় অনুদিত উপন্যাসটি আলোচিত হয়।


তৃতীয় এশিয়া লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে শাহীন আখতারের ‘তালাশ’ উপন্যাসটি পুরস্কৃত হয়। এবারের সাহিত্য উৎসবে ২৯জন লেখক অংশ গ্রহণ করেন। ম্যান বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত কোরিয়ান লেখক হান কাংও এতে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে এশিয়া লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সাহিত্যিক শাহীন আখতার তৃতীয়তম লেখক যিনি এই সম্মানে সম্মানিত হলেন। প্রথম এবং দ্বিতীয় পুরস্কৃত লেখকেরা হলেন, মঙ্গোলিয়ার ইউরিয়ানখাই ডামডিনসুরেন এবং ভিয়েতনামের লেখক বাউ নিন। কোভিড -১৯ আক্রান্ত পরিবর্তিত পরিস্হিতির কারণে ২০২০ এর এই সাহিত্য উৎসব অফলাইন ও অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। শাহীন আখতারের এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে গল্পপাঠের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁর এই পুরস্কারপ্রাপ্তি কে কেন্দ্র করে যেহেতু এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে, তাই সঙ্গত কারণে 'তালাশ' উপন্যাসটিকে ঘিরে আমাদের অধিকাংশ প্রশ্ন সাজানো হয়েছে।

     







‘বোনের সঙ্গে অমরলোকে’ শিরোনামে গল্পগ্রন্থ এবং ‘পালাবার পথ নেই’ উপন্যাসটি দিয়ে সাহিত্য জগতে পদার্পণ করেন শাহীন আখতার। দ্বিতীয় উপন্যাস ‘তালাশ’ লিখেই তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রচলিত ধারার উপন্যাসের বিপরীতে নতুন একটি ধারার জন্ম দেন। সেই ধারাটি অনুসরণ করবেন ভবিষ্যতের আরো অনেক লেখক। তালাশপর্ব থেকে শুরু হওয়া ধারাটি ছিল প্রবলভাবে নিরীক্ষাধর্মী। তিনি গড়পড়তা লেখকদের মতো বছর বছর নতুন উপন্যাস প্রকাশ করেন না। তাঁর লেখক জীবন দুই দশক অতিক্রান্ত হলেও তিনি প্রকাশ করেছেন মাত্র পাঁচটি উপন্যাস। প্রায় সবকটি উপন্যাস যুগোত্তীর্ণ। তাঁর গদ্যের সহজবোধ্যতা সাধারণ পড়ুয়াকে যেমন আকৃষ্ট করে, আবার বোদ্ধা পাঠকদের চিন্তার খোরাকও যোগান দেয়। বিষয়বস্তুর বিচারে তিনি সার্বজনীন।


গল্পপাঠ: 

আপনার লেখালিখির শুরুটা সর্ম্পকে পাঠকদের কিছু জানাবেন ? লেখালেখিতে অনুপ্ররেণা কি খুব জরুরি ? এ অণুপ্রেরণা একজন লেখকের অন্তর থেকে উৎসারতি হয় নাকি বন্ধু বান্ধব, নিকটজন, মিডিয়া, পুরস্কার ইত্যাদি থেকে উৎপন্ন হয়ে লেখককে তাড়িত করে বলে মনে করেন ?

শাহীন আখতার:

 আমার লেখালিখির শুরুটা নিয়ে উল্লেখ করার মতো গল্প নেই। বাড়িতে সাহিত্য পড়া আর লেখার একটা পরিবেশ ছিল। আমার মা ছিলেন বইয়ের পোকা। বড় দু ভাই, ছোট মামা, মেজো খালা লিখতেন। আমিও স্কুলে পড়ার সময় তাদের দেখাদেখি একটু-আধটু লিখতে শুরু করি। তখন রুল-টানা খাতায় হাবিজাবি লিখতাম, নিজের সঙ্গে কথা বলার মতো। ছাপানোর কথা ঘুণাক্ষরেও ভাবতাম না। সে ছিল দুরাশা। আমার প্রথম গল্প ছাপা হয় কুমিল্লার ‘আমোদ’ পত্রিকায়, যখন আমি ইন্টারমেডিয়েটে পড়ি।

আমার মনে হয়, লেখালেখিতে অনুপ্রেরণার সর্বজনীন কোনো উৎস বা ক্ষেত্র নেই। যে যেখান থেকে পান। ডরিস লেসিং সম্ভবত কোনো এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, ‘অসুখী কৈশোর’ ছিল তাঁর লেখার অনুপ্রেরণা। আমি কিশোরকালের বেশ পরে, আমার জীবনের এক অসুখী সময়ে নতুন করে আবার লিখতে শুরু করি। এখন এটা অভ্যাস। লেখার টেবিল আছে, কম্পিউটার আছে - ডাকাডাকি করে। আমি প্রার্থনার মতো বলি - আজ আমি যেন একটু লিখতে পারি!

গল্পপাঠ:  

‘তালাশ’ আর দশটি উপন্যাসের চেয়ে বেশ আলাদা। তালাশের বৈশিষ্ট্যি বাংলাদেশের প্রচলতি উপন্যাসের ফরমটেরের সাথে মেলে না। এটা কি আপনার পরিকল্পনাতেই ছিল যে এমন ভিন্ন ধরনের একটা উপন্যাস আপনি লিখবেন নাকি লিখতে লিখতেই র্ফমটি দাঁড়িয়ে গেছে?

শাহীন আখতার: 

বেশ। তালাশের ফরমেট আলাদা বাংলাদেশের প্রচলিত উপন্যাস থেকে...

তালাশ লেখার আগে আমি একটা ছোট উপন্যাস আর কিছু ছোট গল্প লিখেছি। মানে তখনো নবিশ। প্লটটা এতো বিশাল! রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলাম। কয়েকবার মনে হয় ফরমেট বদলেছি। তার মানে বলতে পারেন, লিখতে লিখতে বর্তমান ফর্মটি দাঁড়িয়েছে।

গল্পপাঠ: 

কোন ঘটনাটি আপনাকে ‘তালাশ’ লিখতে অনুপ্রেরণা যোগায়। সেরকম কোন ঘটনা আদৌ আছে কিনা। এমন একটি উপন্যাস লেখার সিদ্ধান্তটা ঠিক কীভাবে আসে?

শাহীন আখতার: 

তালাশ লেখার পেছনে কিছু ঘটনা আছে। যেমন ৭১-এর ওরাল হিস্ট্রি প্রজেক্টে কাজ করতে যেয়ে বীরাঙ্গনাদের সংস্পর্শে আসা। তাঁদের সাক্ষাৎকারগুলি ছিল চোখ খুলে দেওয়ার মতো। তাঁরা শুধু যুদ্ধের নয় মাসের নির্যাতনের কাহিনি বলতেন না, তার পরের কষ্টের কথা বরং বেশি করে বলতেন। কখনো কখনো তা যুদ্ধের ভয়াল অভিজ্ঞতাকে ঢেকে দিত। এটা ছিল সত্যিকারে আঘাত পাওয়ার মতো একটা ব্যাপার, যা তালাশ লিখতে আমাকে অনুপ্রাণিত বা তাড়িত করে।

গল্পপাঠ: 

মহৎ উপন্যাস লেখার জন্য একজন লেখকের রাজনৈতিক সচেতনতা কতটা জরুরী? তালাশে রাজনীতি নেই, কিন্তু রাজনীতির র্পাশ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো খুব স্পষ্ট ভাবেই আছে। লেখক হিসেবে রাজনৈতিক বিষয়ে আপনি কতটা দায়বদ্ধ মনে করেন?

শাহীন আখতার: 

আমার উপন্যাসের গায়েই সম্ভবত রাজনীতি মিশে থাকে। আলাদা করে নিজেকে দায়বদ্ধ মনে করি না। বা ওপর ওপর রাজনীতি আরোপ করার চেষ্টা করি না। যা ভাবছি, তা লিখতে পারাটাই আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাহিত্যের ইতিহাসে মহৎ উপন্যাসগুলির দিকে তাকালে আমরা নিজেরাই বুঝতে পারব - ‘একজন লেখকের রাজনৈতিক সচেতনতা কতটা জরুরি’ বা আদৌ জরুরি কি না।

গল্পপাঠ: 

‘তালাশ’ পড়তে গিয়ে পাঠককে ব্যাপক মানসিক যন্ত্রণাময় সময় পার করতে হয়। এক নাগাড়ে উপন্যাসটি পড়া খুব কষ্টকর কাজ। উপন্যাসটি লেখার সময় লেখক কতটা ক্ষতবক্ষিত হয়েছিলেন?

শাহীন আখতার: 

আমার মানসিক যন্ত্রণাটা পাঠকের মতোই ছিল মনে হয়। আমাকেও খুব কষ্ট করে এগোতে হচ্ছিল। তা বলে পাঠক কষ্ট পাক, তা কাম্য ছিল না।

গল্পপাঠ: 

আপনি খুব বেশী লেখেন না কিন্তু যখনই লেখেন খুব পরিশ্রমী উপন্যাস লেখেন। আপনার প্রতিটি উপন্যাসে সেই পরিশ্রমের ছাপ। আপনি কোন উপন্যাসের জন্য সবচয়ে বেশী শ্রম ও সময় দিয়েছেন?

শাহীন আখতার: 

আমার উপন্যাসে পরিশ্রমের ছাপ থাকাটা সত্যি দুঃখজনক। আমি ভীষণ পরিশ্রম-বিমুখ লেখক। লিখতে বসে কয়েক লাইন লিখে কষ্ট লাগলে উঠে পড়ি। অপেক্ষা করি - যখন লিখতে ইচ্ছা করে, তখন বসি। আমার তো মনে হয় তাঁরাই পরিশ্রমী, যারা বছরে এক বা একাধিক বই লিখেন। লেখাটা একটা আনন্দদায়ক জার্নি - এভাবেই ভাবতে চাই। লেখার ছুতোয় এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করি, বই পড়ি, গুন গুন করি, আধাআধি ঘোরের মধ্যে থাকি। এভাবে সিংহভাগ সময় চলে যায়। এটাই আমার কম লেখার ‘গোপন খবর’। তালাশসহ পরের ৪টি উপন্যাস লিখতে প্রায় একই সময় লেগেছে। শ্রম না বলে বিশ্রামই বলি - সেটাও প্রায় সমান সমান।

গল্পপাঠ: 

তালাশের জন্য আপনি সবচেয়ে বেশী পুরস্কৃত হয়েছেন। প্রথম উপন্যাস হিসেবে ‘তালাশ’নিশ্চয়ই আপনার প্রিয় তালিকার র্শীষে থাকবে। কিন্তু একজন লেখক সবসময় নিজেকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে যায় ক্রমাগত। আপনার পরর্বতী কোন উপন্যাসে আপনি তালাশকে অতিক্রম করে গিয়েছেন বলে মনে করেন?

শাহীন আখতার: 

‘ময়ুর সিংহাসন’ উপন্যাসের জন্যও ২টি পুরস্কার পেয়েছি। যদিও ২টিই দেশী। তালাশকে অতিক্রম করে গেছি কি না জানি না, আমার প্রত্যেকটা উপন্যাসই আলাদা - বিষয় ও আঙ্গিকের দিক থেকে। তার মানে তালাশ আমার শ্রেষ্ঠ লেখা - এ রকম কিছু ভেবে তালাশকে আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকিনি।

গল্পপাঠ: 

 তালাশের সবচেয়ে আর্শ্চযজনক চরিত্র ভীষণ বৈপরীত্যে ভরপুর রমিজ শেখ। এই চরিত্রটি আপনার নিজস্ব কল্পনার সৃষ্টি নাকি বাস্তব কোন ঘটনা থেকে রমিজ শেখকে আবিষ্কার করেছেন?

শাহীন আখতার: 

পত্রিকা স্ক্যান করতে গিয়ে দেখেছিলাম - ৭১ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে সম্ভবত ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের তালা ভেঙে কয়েদিরা বেরিয়ে গেছে। যে লোক পাকিস্তানের জন্ম দেখে জেলে ঢুকেছে, বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের উত্তাল সময়টায় কারা প্রকোষ্ঠে, সে তো বাইরে এসে মার্চের লীলা দেখে ভিরমি খাবে। তার জাতীয়তাবাদী দীক্ষাটা কী রকম হতে পারে। রমিজ শেখ কিছু বুঝে না উঠতেই যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। তার সবচেয়ে কাছের আর উপকারী লোকটাই আবার পাকিস্তানি দালাল। এই বিভ্রমে থাকতেই সে পাকিস্তানি সৈন্যের গুলি খায়। তুমি রাজনীতি বোঝো আর না বোঝো, যুদ্ধ তোমাকে রেয়াত করবে না। মাঝখানে ছোটবেলায় দেখা ‘সিরাজদ্দৌলা’ যাত্রার দেশপ্রেমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সে। নিজেকে ভাবে বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব, দেশকে ভালোবেসে বিদেশি শত্রুর হাতে যে জান কোরবান করেছিল।

গল্পপাঠ: 

তালাশ প্রকাশের ১৬ বছর পার হয়ে গেছে। এই র্পযায়ে এসে তালাশের কোন অংশ নতুন করে লিখতে বলা হয়, আপনি কোন অংশকে বদলাতে চাইবনে?

শাহীন আখতার: 

উপন্যাসের কোনো অংশ নতুন করে লিখতে বা বদলাতে মনে হয় চাইব না। তবে হ্যাঁ বাজারে এখন ‘তালাশ’-এর যে সংস্করণ আছে, তা ২০১৬ সালের সম্পাদিত এডিশান।

গল্পপাঠ:  

বাংলা উপন্যাসের আর্ন্তজাতিক প্রচার কিংবা প্রকাশ খুব কম। অনেক বিখ্যাত উপন্যাস বিদেশী পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।সেক্ষেত্রে তালাশ আর্ন্তজাতিক বাজারে প্রচার পেয়েছে, পুরস্কৃত হয়েছে। এই প্রাপ্তিটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন। লেখক হিসেবে এই প্রাপ্তিটা আপনাকে কতটা তৃপ্তি দিয়েছে।

শাহীন আখতার: 

তালাশ-এর এ প্রাপ্তি তৃপ্তি না দিলেও দুঃখ দেয়নি, আনন্দ দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রচার বা প্রকাশ সেরা সাহিত্যের একমাত্র মানদণ্ড নয়। তালাশ বাংলা সাহিত্যের সেরা উপন্যাস হিসেবে পুরস্কৃত হয়নি যে, এর ফলে বাংলাসাহিত্যের বিখ্যাত উপন্যাসগুলির শ্রেষ্ঠত্ব ক্ষুণ্ন হবে। জুরি বোর্ডের শংসাবচনের কোথাও বলা হয়নি সে কথা। এখানে সেই তুলনাই আসে না। তারা বইটাকে এশিয়ান লিটারেরি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করেছেন, কারণ, তারা বলেছেন যে, ‘আমরা বিশ্বাস করি উপন্যাসটি আমাদের সময়ের এশীয় লেখকের অন্যতম সেরা নারীবাদী ও যুদ্ধবিরোধী ডকু-উপন্যাস। আমাদের সময়ের যন্ত্রণা ও সাহসের দলিল।’ তারা তালাশকে সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচের ‘দ্য আনওম্যানলি ফেইস অব দ্য ওয়ার’, রুথ ক্লাগারের ‘স্টিল অ্যালাইভ’ বা মার্থা হিলারের ‘আ ওম্যান ইন বার্লিন’ - এমন কয়েকটা যুদ্ধবিরোধী উপন্যাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

গল্পপাঠ: 

তালাশের প্রশংসা শুনেছি অনেক। বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে ‘তালাশ’। তা সত্ত্বেও জানতে চাইবো র্বতমান সময়ে এসে তালাশের মধ্যে সমালোচনার কোনো অংশ কী দেখতে পান লেখক হিসেবে?

শাহীন আখতার: 

কাঠামোটা আরো আঁটসাঁট করা যেত বা ভাষার ক্ষেত্রে বা বাক্য গঠনে আরো যত্নশীল হওয়া যেত। তবে এর ছাড়া ছাড়া ভাব আর নিরাভরন চেহারাই হয়তো যন্ত্রণা, দ্রোহ ধারণে বেশি সক্ষম, যা পরিমার্জনায় বা ঋজুতায় হারিয়ে যেত।

গল্পপাঠ: 

  আপনি আপনার প্রায় সব লেখাতেইে প্রচুর রূপকের ব্যবহার ঘটান। তালাশেও সেটা আছে।বিশেষ করে কাহিনির শেষটায় নৌকায় নদীপথে মরিয়ম-টুকির যে যাত্রা, সেখানে রূপকের চমৎকার বিস্তার ঘটিয়ে উপন্যাসের জাল টানা হয়েছে। কাহিনির সমাপ্তি টানতে রূপকের আশ্রয় নেওয়াকে আপনি কীভাবে ব্যাখা করবেন?

শাহীন আখতার: 

আসলে কোনো ব্যাখ্যা করতে পারব না। এ অংশটা আমার স্বপ্নে পাওয়া.. হা-হা। আমাকে যদি তালাশ একাধিকবার লিখতে বলা হয়, আমি শেষ অধ্যায়টা এভাবেই লিখব।

গল্পপাঠ: 

‘তালাশ’ উপন্যাসের প্রথম পুরস্কার প্রথম আলো র্বষসেরা উপন্যাস ২০০৪। এই পুরস্কারটি লেখক শাহীন আখতারের লেখালেখির ক্ষেত্রে কতটা অনুপ্ররেণা যুগিয়েছিল? সে বিষয়ে একটু বলুন।

শাহীন আখতার: 

খুব আনন্দলাভ করেছিলাম। আমি অনুপ্রেরণার বিষয়টা ঠিক বুঝি না। তার পরই ‘সতী ও স্বতন্তরা’ নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনায় জড়িয়ে পড়ি। ওখানে ৩-৪ বছর কাবার। তালাশের ৬ বছর পর সখী রঙ্গমালা বের হয় ২০১০ সালে।

গল্পপাঠ: 

তালাশের পটভূমিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া একরকম অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল। র্বতমানে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো সেই অসম্ভব ঘটনাটিও দেখে ফেলেছি। এরকম একটা ঐতিহাসিক সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তালাশের চরিত্রগুলোর প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে বলে আপনার ধারণা?

শাহীন আখতার: 

হ্যাঁ, তখন অসম্ভব মনে হয়েছিল। জাহানারা ইমামের উদ্যোগে গঠিত যুদ্ধাপরাধের প্রতীকী বিচারসভায় মরিয়ম হাজির হয়েছিল কিছুটা ছদ্মবেশে, জনসমক্ষে আসা চিত্রতারকাদের মতো সানগ্লাস চোখে। ভাবছিল তার পরিচিত কোনো বীরাঙ্গনার যদি সাক্ষাৎ মেলে।

আমার মনে হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার দেখে তাঁরা আধাআধি খুশি হতেন। কারণ নয় মাসের খুন-ধর্ষণ-নির্যাতনের জন্য পাকিস্তান আর্মির এখনো তো বিচার হয়নি।

গল্পপাঠ: 

‘তালাশ’ আপনাকে সাহিত্যিক হিসেবে জমিন দিয়েছে। ডেইলি স্টার (নভেম্বর ২৯, ২০২০) সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছেন, তালাশের সাথে আপনার দূরত্ব বেড়ে গিয়েছে। দূরত্ব বাড়ুক- আপনিও সেটা চাইছিলেন। সে কী ‘অসুখী দিন’ এর জন্যে ? সফল হতে তবে কি লেখকদের চরবৈতি অনস্বীর্কায ?

শাহীন আখতার: 

 সাহিত্যিক হিসেবে জমিন দিয়েছে নাকি! আমি তো ভাবছি - তালাশ লেখার ১৬ বছর পরও আমার পায়ের তলায় মাটি নেই, সব কাঁটা - কণ্টক।

আমি ডেইলি স্টারে বলেছি - ‘সত্যিকারে তালাশ-এর সঙ্গে আমার একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। ১৬ বছর আগে, ২০০৪ সালে বইটা ছাপা হয়েছে। তারও আগে আমি লেখা শেষ করেছি। তাছাড়া আমার মনে হয়, তালাশের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হোক আমি মনেপ্রাণে চাইছিলাম। ২০০৪ সালের পর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমি আর কিছু লিখিনি। তালাশ লিখতে লিখতে আমাকেও ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল। মন থেকে মুছে ফেলতে চাইছিলাম বিষয়টা।’

তাছাড়া তালাশ আর অসুখী দিন-এর মাঝখানে আমার সখী রঙ্গমালা, ময়ূর সিংহাসন উপন্যাস। বিষয় যতই মহৎ হোক, একটা উপন্যাসের হ্যাঙওভার নিয়ে আরেকটা লেখা সম্ভব নয় - যেখানে আমার একটা উপন্যাসের বিষয় ও আঙ্গিক আরেকটার চেয়ে ভীষণ ভীষণ আলাদা।

‘সফল’ শব্দটা শুনলে ব্যবসায়ী সফল, তারকা সফল... এসব মনে আসে বা চোখে ভাসে।

লেখক-কলাকারদের জন্য তা কতটা প্রাসঙ্গিক, যারা সবসময় একটা টানাপোড়েনে থাকেন! বিশেষ করে আমি তো থাকি। আমার লেখক সত্তাটা খুবই নাজুক, ভঙ্গুর। উপন্যাসের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছেও বুক ধড়ফড় করে - লেখাটা বুঝি শেষ হবে না।

গল্পপাঠ: 

 আপনার প্রায় সব উপন্যাস ঐতিহাসিক উপাদানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। উপন্যাসের মাধ্যমে আপনি ইতিহাসবিমুখ পাঠকের ঐতিহাসিক ঘটনার বিষয়ে আকৃষ্ট করতে পেরেছেন। আপনার এই ইতিহাস চেতনার মূল অনুপ্রেরণা কোথা থেকে উদ্ভুত?

শাহীন আখতার: 

আমার মা। ছোটবেলার পায়ে দুলিয়ে ঘুম পাড়ানোর সময় থেকে এখনো ইতিহাসের গল্প শোনান।

গল্পপাঠ: 

অসুখী দিনের সাবিনার চরিত্রটি সৃষ্টির পেছনে তালাশের মুক্তি চরিত্রটির কোন ভূমিকা ছিল কী? দুটো চরিত্রের মধ্যে অনেক র্পাথক্য সত্ত্বেও নাছোড় অনুসন্ধানী চরিত্রের ক্ষেত্রে খানিকটা মিল আছে।

শাহীন আখতার: 

কারো ক্ষেত্রে কারো ভূমিকা নেই মনে হয়। মুক্তি প্রায়-অদৃশ্য একটি চরিত্র, যে বীরাঙ্গনাদের খোঁজে। সাবিনা ‘পারিবারিক সোনালী ইতিহাস’এর নামে খোঁজে নিজের ইতিহাস, নিজের পরিচয়। তার উপস্থিতি জাজ্বল্যমান, সরব।

গল্পপাঠ: 

অসুখী দিনের মোজাম্মেল হক কী সর্ম্পূণ লেখক কল্পনা থেকে সৃষ্টি নাকি বাস্তব কোন ইতিহাস থেকে জন্ম তাঁর?

শাহীন আখতার: 

মোয়াজ্জেম হক, তাঁর গ্রাম, প্রতিবেশি, জহর বকশি, জহর বকশির পরিবার - ভীষণভাবে বাস্তব। এখনো সেই গাঁয়ের লোকের মুখে তাঁদের গল্প শোনা যায়। দেশভাগে প্রতিবেশি হারানোর বেদনা তারা অনুভব করে, অতীতে সে প্রতিবেশির ভয়ে কেঁচো হয়ে থাকলেও। প্রতিহিংসা নয়, ভালোবেসে স্মরণ করে। গ্রামটা নিদারুণ নস্টালজিয়ায় ভোগে। মোয়াজ্জেম হকের আজাদ হিন্দে যোগদান, আপনার ভাষায় বলি - ‘বাস্তব কোনো ইতিহাস থেকে জন্ম’।

গল্পপাঠ: 

যতটুকু শুনেছি সখী রঙ্গমালা লেখার জন্য আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে।সেই অভিজ্ঞতাটি সংক্ষেপে জানতে চাই।

শাহীন আখতার: 

কোম্পানী আমলের শুরুর দিকের কাহিনি, সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে তথ্য সংগ্রহের বিশেষ সুযোগ নেই। আমি ‘চৌধুরীর লড়াই’ নামের একটি পালাগান দীনেশ চন্দ্র সেনের পূর্ববঙ্গ গীতিকায় পাই, তারপর এর আরো দুটি ভার্সান, যা উপজীব্য করে এই উপন্যাস রচনা। আগেই বলেছি, লেখার ছুতোয় ঘোরাঘুরি করি। তখন আমার নোয়াখালী, লক্ষীপুর যাওয়া-আসাটা, সে রকমই লেখা থেকে পালিয়ে বেড়ানোর কৌশল বা কসরত। তবে একেবারে খালি হাতে ফেরা হয়নি। একবার চৌধুরীর ভিটা থেকে বেরিয়ে দিঘির পাড়ের খোয়া বিছানো রাস্তা দিয়ে ফিরছি। ছায়া-ঢাকা, পাখি-ডাকা পথ। কেমন ভেজা ভেজা। হঠাৎ করে বিজলি চমকের মতো রাজবাড়ির পাখি-পোষা দুঃখী বউটির কথা মনে এলো, যে মানুষের কহন-কথা, গল্পগাছা কোথাও নেই। ‘হাউস করি করাইছি বিয়া ফুলেশ্বরী রাই’- জমিদার রাজেন্দ্র নারায়ণের জবানে প্রাচীন পূর্ববঙ্গ গীতিকায় এটুকুই শুধু। এই উটকো ভ্রমণ থেকেই ফুলেশ্বরী রাই চরিত্রটির জন্ম ও বিস্তার।

আরেকটা কথা। আমি উপন্যাস লেখার সময়টায় সিনেমা দেখি খুব। উপন্যাসের বিষয়ের সঙ্গে যায়, মনে মনে সে ধরনের ছবি খুঁজতে থাকি। যেমন সখী রঙ্গমালা লেখাকালীন জর্জিয়ান ফিল্মমেকার পারাতজানভের সিনেমা দেখেছি। ফোকটেইল নিয়ে করা জাপানি ফিল্মমেকার মিজুগুচির ছবিগুলি দেখতাম ঘুরেফিরে। বলা যায় এসব সিনেমা আমার লেখালেখিতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

গল্পপাঠ: 

সাধারণত গল্প বা উপন্যাসে লেখকদের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতার ছায়া থাকে। আপনি কি এটা বিশ্বাস করেন?

শাহীন আখতার: 

 আমার তো মনে হয় লেখকের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতার ছায়া শুধু নয়, গল্প ও উপন্যাসে লেখক সত্তাটিও হাজির থাকে কোনো না কোনো ভাবে। চরিত্রের সঙ্গে লেখকের পুরো সত্তা না হলেও কিছু তো মিশে থাকেই। এমনকি চারশ বছরের আগের কোনো চরিত্রের সঙ্গেও লেখকের সত্তা জাগ্রত বা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকতে পারে। যেমন আমার ‘ময়ূর সিংহাসন’ উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্রের কথা বলা যায়।

গল্পপাঠ: 

প্রতিদিন কিছুটা অন্তত লেখা উচিত। র্অথাৎ শৈশবে হাতের লেখা ভাল করার জন্যে যেমন লিখতে হতো আর কি ! আপনি কি প্রতিদিন লিখেন ?

শাহীন আখতার: 

অনেক বিখ্যাত, সেলিব্রেটি লেখকদের সাক্ষাৎকারে পড়ি, তাঁরা প্রতিদিন ঘড়ি ধরে লেখেন। বিশেষ করে ঔপন্যাসিকেরা। না, আমি প্রতিদিন লিখতে পারি না।

গল্পপাঠ: 

লেখক এবং পাঠকের কাছে ই বুক গ্রহণযোগ্য হয়েছে এটা সত্য। কিন্তু অতটা আদরণীয় হয়েছে বলে ভাবেন?

শাহীন আখতার: 

আমার মনে হয় প্রবাসী লেখক ও পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে বেশি। বাংলা বই পেতে সমস্যা আর টেকলজি ব্যবহারে অভ্যস্ততার কারণে হয়তো। আমি কাগুজে বইয়ে কমফোর্ট ফিল করি। ঠেকলে কিন্ডেলে। চোখের সমস্যার কারণে কম্পিউটার বা মোবাইলে একদমই না।

গল্পপাঠ: 

নতুন প্রজন্মের লেখা গল্প উপন্যাস পড়ার সুযোগ হয়েছে কী আপনার ? কেমন লাগে অন্যদের লেখা পাঠ করতে ?

শাহীন আখতার: 

নতুন প্রজন্মের গল্প-উপন্যাসে ভাষা নিয়ে খেলাটা আমার ভালো লাগে।

গল্পপাঠ: 

বাংলাদেশের র্বতমানে অনেকেই গল্প উপন্যাস লিখছেন। তাদের লেখা গল্প উপন্যাস বা কবিতায় কোন বিষয় বৈচিত্র্য কী খুঁজে পান ?

শাহীন আখতার: 

এ অরাজক সময়, এর ক্রুয়েল্টি, অ্যাবসারডিটি, হেঁয়ালিপনা যখন বর্তমানের লেখকদের সাহিত্যে আঁচড় কাটতে দেখি, তখন বৈচিত্রের স্বাদ পাই।

গল্পপাঠ: 

লেখালিখির মন ও মননে আপনি কতখানি মুক্ত বা স্বাধীন?

শাহীন আখতার: 

কিছু বিষয় নিয়ে লিখব ভাবলে মনে হয় হাত-পা বাঁধা। কখনো লিখতে বসে মনে হয় এর সঙ্গে আমি পাখির মতো উড়তে পারি।

গল্পপাঠ: 

সাহিত্য কী র্ধমাশ্রয়ী ? নাকি র্ধম এসে সাহিত্যকে ঘেরাও করে ফেলে? শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির জগতে ঈশ্বর কতটা জাগ্রত ?

শাহীন আখতার: 

সাহিত্য-সংস্কৃতি-উৎসবাদি সবই মোটাদাগে ধর্মাশ্রয়ী। গোড়াটা ধর্মে প্রোথিত। বর্জনের মধ্যেও এর ছায়াটা থেকে যায়। ঘেরাও হতে দিতে চাইলে আজকের দুনিয়ায় মুহূর্তের ব্যাপার। প্রশ্ন হলো, ধর্ম বা ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে লিখে আপনি কি দাঙ্গা বাঁধাতে চান, নাকি এর অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য উপহার দিতে চান? দ্বিতীয় কাজটি করেন ওরহান পামুকের মতো লেখকেরা। তাতে আমার সায় আছে। সে রকম চেষ্টাও থাকে কখনো কখনো। আমার কাপ্তাই বাঁধ নিয়ে লেখা গল্পে পানি বাড়তে বাড়তে জনপদ ডুবে যাওয়ার একটা দৃশ্য আছে, বাইবেল ও কোরান শরিফ বর্ণিত নূহ নবির সময়কার মহাপ্লাবনের মতো। এ উপমা লিখেও বাদ দিতে হয়েছে, কারণ গল্পের চরিত্র দিবাকর এ ধর্মীয়-সংস্কৃতির ধারক নয়। তার গোত্রের লোকের ভাবনায়, কল্পনায় এ ইমেজারি খেলা করে না। আমি লিখলে আরোপ করা হতো। একই গল্পে জন্মান্তরবাদের উল্লেখ আছে বরং আরেক জায়গায়।

গল্পপাঠ: 

র্বতমানে নতুন কোনো উপন্যাস লেখার কাজ করছেন কি? যদি করে থাকেন তাহলে সেটাও কি ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস হবে?

শাহীন আখতার: 

 ২০১৯-এ লিখতে শুরু করেছিলাম। তারপর আমার ছোট ভাইয়ের ক্যানসার ডায়াগনোসিস, ওর চলে যাওয়া - আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃসময়। ২০২০ সালে লিখতে পারিনি।

উপন্যাসের বিষয় ভীষণভাবে বর্তমান সময়। কিন্তু অনেক কিছুই আজকাল আমার মনে হয় অতীতের পুনরাবৃত্তি। পোশাক-আশাকের ফ্যাশনের মতো ঘুরে-ফিরে আসে।


 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:  ANTONYM ওয়েবম্যাগ।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: রুখসানা কাজল- নাহার তৃণা

1 টি মন্তব্য:

  1. শাহীন আমার বন্ধু মানুষ। শেষের বইগুলো ছাড়া সব আছে আমার কাছে। স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসার মত করে আমি ওর বইগুলো বয়ে এনেছি। বাকিগুলো দেশে গেলে নিব। ভালবাসা তোমার জন্য। মন খারাপ হলে আমি শাহীনের বইয়ে আশ্রয় খুঁজি।

    উত্তরমুছুন