শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

ফ্রানজ কাফকা'র গল্প : শকুনি



অনুবাদ : শুভ চক্রবর্তী

শকুনটা আমার পা দুটোকে চিরে ফেলেছিল । কিছু আগে ও আমার জুতো এবং মোজা কেটে ফেলেছে । আর এখন, আমার পায়ের পাতাদুটো কেটে যাচ্ছে। ঘন ঘন সে পা দুটোকে তার বাঁকানো ঠোঁট দিয়ে ঠুকরে যাচ্ছে এবং অস্বাভাবিকভাবে অস্থিরতা তাকে পেয়ে বসেছে আর সে আমার চারপাশে ঘুরছে । কয়েকবার সে আমাকে কেন্দ্র করে পাক খেয়েছে। এবং পাক খাওয়ার শেষে তার বাঁকানো ঠোঁট দিয়ে আমার পায়ের পাতায় ঠোকরানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

একজন ভদ্রলোক আমাকে পেরিয়ে গেলেন । কিছুক্ষণ এই দৃশ্য দেখার পর । এবং জানতে চাইলেন যে কেন আমি ওই শকুনিটাকে এরকম করে এত কষ্ট দিচ্ছি।
 'আমি যে অসহায়' আমি উত্তর দিলাম তাঁকে। 
যখন শকুনিটা এসে আমাকে আক্রমন শুরু করল তখন আমি তাকে তাড়িয়ে দেবার চেষ্টা করি। এমনকি এটাও চেষ্টা করি যে তার গলা চেপে ধরে তাকে হত্যা করার, কিন্তু এরা এতটাই শক্তিশালী এবং হিংস্র হয়ে থাকে ; ও একরকমের প্রায় আমার মুখের ওপর লাফিয়ে এসে পড়েছিল। আর তাই আমার মুখ বাঁচাতে পা দুটোকেই দান করে দেওয়া আমার মনে হয়েছিল শ্রেষ্ঠ কাজ। এখন দেখা যাচ্ছে সেই পা দুটোকেই ও চিরে ফালা ফালা করে দিয়েছে।

'আপনি এমন অস্বাভাবিকভাবে নিজেকে ওর অত্যাচার সহ্য করছেন।' লোকটি বললেন , 'গুলি করুন,
একটা গুলিই ওর জন্য যথেষ্ট।' 
'সত্যি?' আমি বললাম।
 ' এই কাজটি কি তাহলে আপনি করতে পারবেন ? '
 'অবশ্যই , এটা আমি খুবই আনন্দের সঙ্গে করতে পারি।' 
লোকটি বললেন , ' তবে , আমি একবারের জন্য বাড়ি যাবো আর আমার বন্দুকটি আনতে, আপনি আধঘন্টা'র মতো আর অপেক্ষা করতে পারবেন?
 ' আমি ঠিক করে বলতে পারব না কিছু ' লোকটিকে বললাম এবং অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম, এবং তারপর বললাম : ' আপনি দয়া করে একবার চেষ্টা করে দেখুন।' 
'আচ্ছা , ঠিক আছে , আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চেষ্টা করছি।' লোকটি বললেন। 

আমাদের দুজনের এই কথার মাঝে শকুনিটা স্থির হয়ে সব শুনছিল । তার ওই চোখ আমার আর লোকটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আমার বিশ্বাস যে ও আমাদের সব কথা বুঝতে পেরেছে। ও ডানা ছড়িয়ে দিল। আকাশে নিজেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য কিছুটা ছুটে গেল ।এবং বর্ষার ফলার মতো সে তার বাঁকানো ঠোঁট নিয়ে আমার মুখের উপর দিয়ে , শরীরের ভেতর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গেল। আমি চিৎ হয়ে পড়ে গেলাম মাটিতে। আমার মনে হলো সে আমার রক্তের উপর এবং রক্তের আরও ভেতরে নিজেকে এমনভাবে ডুবিয়ে দিচ্ছে যেন তাকে আর কোনোদিনই রক্তের স্রোত থেকে সরানো যাবে না। আর এটা ভেবে আমি কিছুটা স্বস্তি অনুভব করলাম।

২টি মন্তব্য: