শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

ইন্দ্রাণী দত্তের গল্প: পুরুষোত্তম সিংহ


 
ইন্দ্রাণী দত্ত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। গল্পপাঠ ওয়েব ম্যাগাজিনে ‘সমরেশের জীবনদেবতা’ গল্পটি পড়ে তাঁর গল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম। গল্পের জন্মবৃত্তান্ত, লেখকের জীবনদর্শন, জীবনবোধ ও উপস্থাপনে তিনি এমন এক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন যা পরবর্তী গল্পের খোঁজে বাধ্য করেছিল। নারীদের লেখার একটি নির্দিষ্ট পরিসর আছে। সাংসারিক ঘেরাটোপের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ। ইন্দ্রাণী সে জগতে বিচরণ করেও স্বতন্ত্রভাবে বেরিয়ে এসেছেন।
 
দেশ-বিদেশ, ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড, গল্পের তত্ত্ব, গল্পের জন্মবৃত্তান্ত, নারী মনের বিবিধ প্রতিচ্ছবি, সময়ের যাপনচিত্র নিয়ে তিনি এমন এক বয়ান গড়ে তুলেছেন যা স্বতন্ত্রতার দাবি করে। এক সংশয়, অবিশ্বাস, কখনো ভাববাচ্যে তাঁর বেশিরভাগ গল্পের শুরু হতে দেখি। কখনো একটি নির্দিষ্ট বিবরণ দিয়ে শুরু করেন। আখ্যান শুরু হতেই তা ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে। সময় পরিসরের নির্দিষ্ট মাপকাঠিকে সামনে রেখে কখনো উপেক্ষা করে তিনি নিজেই একটি জগৎ গড়ে নিয়েছেন। তাঁর ‘পাড়াতুতো চাঁদ’ (২০১৯) গল্পগ্রন্থে দশটি গল্প স্থান পেয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকাংশ থেকে ইন্দ্রাণী দত্তের গল্প সম্পর্কে আরেক গল্পকারের (বিপুল দাস) মন্তব্য শুনে নেওয়া যাক—

“বেঁচে থাকার জন্য অবিরত আলো এবং অন্ধকারের যে সংঘর্ষ জারি থাকে, যার ফলে ক্রমাগত অসহায় রক্তক্ষরণে রক্তাক্ত হতে থাকে বুকের গভীরে, এক শীতল পৃথিবী ক্রমশ আমাদের স্পর্শ বোধহীন জড় করে দিচ্ছে—সেই সব আখ্যান নিয়ে ইন্দ্রাণীর এই অসামান্য সংকলন। শুধু বিষয়বৈচিত্র্যই নয়, তার কথন ভঙ্গিটিও আমাদের প্রচলিত রীতি থেকে পৃথক। সেখানেই ইন্দ্রাণী বাংলা ছোটগল্পের ভুবনে অন্য স্বর। প্রতিটি গল্পের আড়ালে থাকে আর একটি অনুচ্চারিত গল্প। বুঝ লোক, যে জান সন্ধান।“

‘পাড়াতুতো চাঁদ’ বাস্তব জীবনের সত্য ভুলে সিনেমার রঙিন সত্যে মজে থাকার গল্প। মধ্যবিত্ত বারবার বাস্তব জীবনের সত্য থেকে দূরে গিয়ে মিথ্যার স্বপ্নে ডুবে থাকতে ভালোবাসে। সেখানে মেকি বা পলায়নবাদী কোনো মানসিকতা নেই। যে সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের বেঁচে থাকা সেখানে প্রাপ্তির অংক শূন্য বললেই চলে। তবে স্বপ্ন দেখার বাসনা আছে। সেই বাসনা মনের মধ্যে লালিত হয় সিনেমার নায়ক-নায়িকার চরিত্রে। এ গল্প অশোক আর ললিতার। গল্প সূচনার পরেই লেখিকা পিছিয়ে গেছেন পঞ্চাশ বছর আগের পৃথিবীতে। অশোক বিবাহ করতে গিয়েছিল লতিকাকে। লতিকাদের পাড়ার গলিতে নানা জনের নানা নাম। সবই সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের সঙ্গে মিলিয়ে। কারো চুল তেমন, কারো দাঁত তেমন, কারো হাসি তেমন। এরা সবাই পাড়াতুতো চাঁদ। পাড়ার নায়ক। সেই মিথ্যের আনন্দ নিয়েই সবাই সবাইকে নানা সম্বোধন করে, এই মিথ্যের আনন্দ নিয়েই বেঁচে থাকা। লেখিকা তারপর এগিয়ে এসেছেন কুড়ি বছর পর। সিনেমার নায়ক নায়িকাদের স্থান বদল হয়েছে—“পাহাড়ী সান্যাল, কমল মিত্ররা আর কেউ নেই এপাড়ায়। কে জানে হয়ত দেব আছে, হয়ত অঙ্কুশ, আবীর কিম্বা প্রসেনজিত, ঋতুপর্ণা। লতিকা থাকলে ঠিক চিনে নিত।“ (পাড়াতুতো চাঁদ, প্রথম প্রকাশ ২০১৯, গুরুচণ্ডা৯, পৃ. ৭৪) আসলে সময় পাল্টে গেছে। লতিকাও বিদায় নিয়েছে। অশোকের জীবন আজ নিঃসঙ্গ। অবসরের পর সে শ্বশুরবাড়িতে নিজস্ব চেম্বার খুলেছে। আজ সেও ডুবে গেছে রোমান্সের জগতে। মনে হয়েছে দাঁত দেখাতে এসেছে সুপ্রিয়া দেবী। প্রতিটি মানুষেরই একজন করে আইডিয়াল নায়ক থাকে, আদর্শ দেশনেতা থাকে। একটা সময় পিতামাতারা সন্তানের নাম রাখতেন দেশনায়কের নাম অনুসারে, সে সত্য পাল্টে গেল স্বাধীনতার কিছুদিন পরে। তখন নাম রাখা হল সিনেমার নায়ক-নায়িকার অনুসারে। এই যে আদর্শবোধ পাল্টে যাওয়া, মূল্যবোধের ভাঙন ধরে যাওয়া সেই সময় পর্বটি এই গল্পের প্রেক্ষাপট। তবে গল্পে কোনো মূল্যবোধহীনতার চিত্র নেই। স্বাভাবিক ভাবেই পাড়ায় কেউ পাহাড়ী সান্যাল, রাজেশ খান্না হয়ে উঠেছে। মিথ্যার রঙিন স্বপ্নকে সামনে রেখে বাঁচতে চেয়েছে। গল্পটি সহজ সরল। আরোপিত বাস্তবতা প্রয়োগের চেষ্টা নেই। নেই কোনো সিনেমার নায়ক-নায়িকাকে সামনে রেখে যৌনতার চিত্র। সে চিত্র ছিল অলোক গোস্বামীর ‘অদ্ভুত আঁধার’ উপন্যাসে। আসলে সমাজজীবনের প্রেক্ষাপট আলাদা। সেটি ছিল উদ্বাস্তু কলোনির প্রেক্ষাপট আর গল্পটি শহরের সরু কানা গলির প্রেক্ষাপট। ফলে জীবনবোধ আলাদা।

‘রোব্বারের পরদিন’ গল্প স্বপ্না, নীলকমল, সুকুমার, রুফাসকে নিয়ে গড়ে উঠেছে। মধ্যবিত্ত বাঙালির রবিবার যেভাবে কাটে। স্বপ্না-নীলকমলের দাম্পত্য জীবন খুব বেশি সুখের না। নিজেদের জীবনের কাহিনি অপেক্ষা অন্যের কাহিনি নিয়েই তাঁরা মজে থাকতে চেয়েছে। তবে পি.এন.পি.সি (পরনিন্দা পরচর্চা) এর কোন বিষয় নেই। অন্যের জীবনচর্চাকে সামনে রেখেই সুখে দিন কাটাতে চেয়েছে। তবে গল্পের চোরা স্রোতে একটা বিষাদগাথা রয়েছে। সুকুমার ফুল, সবজির বাগান করেছে। স্বপ্নার হঠাৎ করে পিরিয়ড সমস্যা হয়েছে। প্রতি মাসেই যেমন ভ্রূণের জন্ম-মৃত্যু ঘটে তেমনি বৃক্ষের মধ্য দিয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটাতে চেয়েছে। তবে এই অনাবাদি ভূমিতে কী বৃক্ষের জন্ম সম্ভব? তবুও মানুষ চেষ্টা করে, স্বপ্ন দেখে। সুকুমাররা অনবরত সে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আখ্যানে আছে আলো-অন্ধকারের খেলা। স্বপ্না যতই সূর্যের আলো থেকে আড়াল চায়, নীলকমল ততই সূর্যের আলো ভালোবাসে। স্বপ্নার প্রেম কুকুর রুফাসের প্রতি। নীলকমল প্রথম প্রথম রুফাসকে অত পছন্দ না করলেও শেষে মেনে নিয়েছে। স্বপ্না নানা গল্প বললেও নিজের পূর্ব প্রেমের কথা বলেননি। নীলকমলের কোনো পূর্ব প্রেমের বৃত্তান্ত আমরা জানি না। দুজনেই দুজনকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চেয়েছে। নিজের জীবন বৃত্তান্ত অপেক্ষা নীলকমল সুকুমারের বৃত্তান্ত অধিক স্পষ্ট করেছে। আসলে সেখানে প্রাণ আছে, নতুন চেতনা আছে। লেখিকাও সূক্ষ্মভাবে প্রাণের সন্ধান করেছেন। সাংসারিক জীবনের দৈনন্দিন রোজনামচায় লেখিকা বড় জোর দিয়েছেন। আসলে লেখিকারা অন্দরমহলের খুঁটিনাটি সম্পর্কে বিশেষ ওয়াকিবহল। সেই পরিসর নিয়েই গল্পভুবন বুনে চলেন।

বিচ্ছিন্নতা, নিঃসঙ্গতা ইন্দ্রাণী দত্তের গল্পে বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। মধুর দাম্পত্য জীবন অপেক্ষা এলোমেলো বিচ্ছন্ন জীবনের দিকেই তাঁর ঝোঁক বেশি। তেমনি এদেশ ও বিদেশের মেলবন্ধন ঘটেছে তাঁর গল্পে। বিদেশের পটভূমিকায় গল্প শুরু করে দেশে প্রবেশ করেছেন। ‘কুপরিবাহী’ নিঃসঙ্গতার গল্প, বিচ্ছিন্নতার আখ্যান। লোহা কুপরিবাহী। তাই লোহার স্পর্শে আলো জ্বলে না। তেমনি মানব সমাজে বহু কুপরিবাহী মানুষ আছে। সেই অন্ধকারের জীবন নিয়ে লেখিকার আখ্যান বড় হয়ে ওঠে। পরিতোষের হাতের স্পর্শ পুতুল জ্বলে ওঠেনি। দোকানের কর্মচারী বলেছিল—“প্রব্যাবলি ইয়োর হ্যান্ডস আর টু ড্রাই।“ এর সঙ্গে যুক্ত আছে দাম্পত্য জীবনের কাহিনি। পরিতোষ ও সুপর্ণার দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছিন্নতার অন্ধকার বড় হয়ে উঠেছে। দুজন পৃথক জায়গায় থাকে। জীবনের তাপ, আলো সঞ্চার করতে ব্যর্থ পরিতোষ। তেমনি দেশে পিতামাতা অসুস্থ। নানা ছলাকলায় বাদ দিলেও শেষে এসেছে আবার বিদেশে ফিরে গেছে। এক উদ্ভ্রান্ত পথিকের মতো লেখিকা পরিতোষকে গড়ে তুলেছেন। সে যেন জীবনের মানে খুঁজে চলেছে। কখনো পুতুলের অনুষঙ্গ, কখনো বাঘের অনুষঙ্গ এনে লেখিকা জীবনের চোরাবালি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। পাতা ঝরা, বাতিঘর নানা ইমেজ এনে জীবনের অন্ধকার দিকগুলি বড় করে তোলেন। গল্পগুলি পরিসরগত দিক থেকে বৃহৎ নয়। তবে জটিলতায় বৃহৎ।

‘সমরেশের জীবনদেবতা’ (দেশ, ২০১৬) অনবদ্য গল্প। যে ক্যানভাসে ও বর্ণনায়, ভাষার জাদুতে, জীবনদর্শনের টানাপোড়েনে আখ্যান পরিকল্পনা করেছেন তা মুন্সিয়ানার দাবি করে। কাব্যগন্ধী ভাষার মায়াবলে তিনি পাঠককে এমন এক পরিসরে নিয়ে যান যেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ নেই। তেমনি একজন লেখকের জীবনদেবতা কী হতে পারে সেই সত্য জানিয়ে দেন। আছে বাংলা বাজারে লেখকদের চালবাজ নিয়ে নানা তথ্য, ভণ্ডামির চিত্র। গল্প শুরুর বাক্যটিই আমাদের বঙ্কিমচন্দ্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। সূচনা এমন—“সন চোদ্দোশো কুড়ির মাঘ মাসের গোড়ায়, এক শনিবারের দুপুরে সমরেশের নিজেকে অসম্ভব সংকটাপন্ন মনে হতে লাগল।“ (সমরেশের জীবনদেবতা, তদেব, পৃ ২৭) একজন লেখক হতে গেলে কীভাবে নিজেকে পোড়াতে হয়, জীবনের কোন চোরাস্রোতের সন্ধান জানতে হয় তা লেখিকা দেখিয়েছেন। লিখন প্রক্রিয়া এক সাধনা। যেনতেন প্রকারে যা কিছু লিখলেই লেখক হয় না। তেমনি বাংলা বাজারে ভুয়ো লেখকদের রমরমা। সমরেশরা লেখে না। সে পাঠক। কিন্তু যেদিন লেখা শুরু করল সেদিন থেকেই নিজের জীবনদর্শন, জীবনবোধ সে বুঝে নেয়। গল্প শুরুতে আপাতভাবে মনে হবে এটি একটি প্রেমের গল্প। সোহিনী ও সমরেশের অবৈধ প্রেমের গল্প। সোহিনী লেখক, সমরেশ পাঠক। সমরেশের লেখকসত্তা আবিষ্কার করে সোহিনী। লেখকসত্তা আবিষ্কারের পর থেকেই দূরত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। সোহিনী নিজেই বলেছিল—“অনেক পড়েছ সমরেশ, এবার তোমার লেখার সময় হয়েছে।“ ক্রমাগত পাঠের মধ্য দিয়েই জন্ম হয় লেখকের। অধিক পাঠ ছাড়া কখনোই বড় লেখকের জন্ম হতে পারেনা। তেমনি প্রয়োজন জীবনদর্শন। যা সমরেশ বারবার বলেছে, এমনকি বলেছে ঠাকুমা তা জানতো। প্রয়োজন লেখকের দিব্যদৃষ্টি, সমাজ জীবন বোঝার ক্ষমতা। মানুষের সঙ্গে মেশার ও মানুষের অন্তরের রহস্য জানার উপলব্ধি। তেমনি প্রয়োজন ক্ষেত্রসমীক্ষা। সময় পরিবেশের সংকট না বুঝতে পারলে লেখক হওয়া সম্ভব নয়। বিচ্ছেদ, নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়েই লেখকের প্রকৃত জয়যাত্রা। এইসব বর্ণমালা লেখিকা পর্বে পর্বে উপস্থাপন করেছেন। সমরেশ শেষে গেছে ইছাবটের গল্প শুনতে। এই এলাকার মানুষ পূর্বে আত্মহত্যা করত। আজ সে দৃষ্টান্ত কমেছে, কিন্তু প্রক্রিয়া চলছেই। লেখিকা জোর দিয়েছেন কানেকটেড আর কানেকশন শব্দের ওপর। গ্রাম আত্মহত্যার পথ থেকে বেরিয়ে এসেছে কিন্তু হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক। গ্রামের ছেলেরা কলেজে পড়ে, হাতে ফোন, তেমনি সিতাংশুর সন্তানরা ঠাকুমার কাছে রাতের অন্ধকারে গল্প শোনে। সিতাংশুও লেখক। তিনটি বই ছাপিয়েছিল, আজ আর ছেপে না। একটি বইও বিক্রি হয়নি। তবে সে কিন্তু লেখা ছাড়ানি। আজ সে গল্প লিখে অন্ধ ঘোড়াকে শোনায়। একজন পাঠকের লেখক হয়ে ওঠার জীবনসংগ্রামের আখ্যান শুনিয়েছেন লেখিকা। তেমনি একজন লেখক হতে গেলে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়, কত কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে নিজেকে নির্মাণ করতে হয় সেই চিত্রও দেখি। সিতাংশুর লেখা কেমন আমরা তা জানি না, তবে সে যে লেখা ছাড়েনি এটা সত্য। কোনো পুরস্কার, খ্যাতি নয় লিখন প্রক্রিয়াকে চলমান রাখাই লেখকের প্রকৃত কাজ। আমরা মনে করতে পারি জীবনানন্দ দাশের বাক্স ভর্তি পাণ্ডুলিপির কথা। অথচ সোহিনীর কোন দর্শন ছিল না, ভিসন ছিল না, জীবনবোধ ছিল না, ভারতবর্ষকে জানার আগ্রহ ছিল না। তবুও সে লেখক। দুজনের মধ্যে ব্যবধানের চিত্র স্পষ্ট করে প্রকৃত লেখকের সত্তা কীভাবে গড়ে ওঠে লেখিকা তাই আমাদের জানিয়ে যান। ‘চোদ্দোশো কুড়ি’ সালকে বারবার ব্যবহার করে লেখিকা গল্পের পরিসর পাল্টেছেন। বর্ণনায় এমন এক অভ্রভেদী দীপ্তময় হৃদয়গ্রাহী ভাষা ব্যবহার করেছেন যা গল্পকে দ্রুত থেকে দ্রুততর গতিতে এগিয়ে নিয়ে যায়। পাঠককে গদ্যের স্বাদ দেওয়া যাক—

“প্রবল ঝড়-জলের পরে রাতে চাঁদ উঠেছিল। সিতাংশু পালের উঠোন চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে। উঠোনে, ধানের মরাইতে, বকুলডালের আগায় জ্যোৎস্না। সিতাংশুর মার জানলা দিয়ে চাঁদ আর জোলো হাওয়া ঢুকছিল। জানলা বন্ধ করতে উঠে সিতাংশুর মা সুলতানকে দেখতে পেল। মাথা তুলে, চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে, কেশর ঝাঁকাচ্ছে সুলতান, শরীরে জোছনা পিছলে পড়ছে। আর এক মানুষ তার বাঁধন খুলে দিচ্ছে, তারপর পিঠে সওয়ার হচ্ছে। ঘরের দোর সামান্য খুলে মুখ বাড়ায় সিতাংশুর মা। দেখে, চাঁদের আলো মাখা উঠান, বকুলগাছ। দেখে অনন্ত মায়া।“ (তদেব, পৃ. ৩৮)

দশকে দশকে বাংলা গল্পের পরিসর কতটা বৃদ্ধি পেল তা বোঝার জন্য প্রয়োজন ইন্দ্রাণী দত্তের গল্পপাঠ। দেশ-বিদেশ ও অপর দেশকে আখ্যানে টেনে এনে এমন মুন্সিয়ানায় গল্প বুনন করে চলেন যেখানে অনুভূতির সঙ্গে পরিসরগত সত্য অতিক্রম করে এক মহাদেশের গল্প হয়ে দাঁড়ায়। গল্প আয়োতনের দিক থেকে নয়, ছোটো মানচিত্রে তিনি বৃহৎ জীবনবোধের চিত্র আঁকেন। জলরঙে এমন এক অনুভূতির দুঃখসাগর গড়ে তোলেন যা পাঠককে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তবে ডোবায় না। এক সীমারেখায় উত্তীর্ণ করে। বলা ভালো এক বোধের জগতে নিয়ে যায়। দুঃখের মধ্য দিয়েই জীবনের উত্তরণ, জীবনের প্রকৃত সত্য খোঁজা। সুখের সংসারে কীভাবে দুঃখ প্রবেশ করে, জীবনের পরতে পরতে সাপের ইমেজ প্রবেশ করে জীবনকে কীভাবে জটিল করে তোলে সে আখ্যান ‘নাইদার নাইট নর ডে’। নদীর বুকে দুঃখ ভেসে যাওয়ায় যে জীবনবোধ, দুঃখের বেচাকেনার মধ্যে যে যন্ত্রণার উত্তরণ তাই একজন মানুষকে লেখক করে তোলে। আসলে জীবনবীণার তারে অনুভূতির মালা সঞ্চারিত না হলে লেখক হওয়া যায় না। গল্পটিকে লেখিকা কয়েকটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন। গল্পটি বিদেশের পটভূমিকায় লেখা। প্রথম অংশে আছে রাজীব ও মায়ার জীবন ও সংসারের কথা। শান্ত সমাহিত বাঙালি জীবন। মায়া গৃহবধূ। বাড়ি, বাগান, সুইমিং পুল ও ফেসবুক নিয়ে তাঁর জীবন। বাড়ি পরিবর্তন করে তারা নাসরিনদের প্রতিবেশী হয়। যে বাড়ি রাজীবরা বর্তমানে কিনেছে সেটি ছিল প্যাট্রিকের বাড়ি। সে সাপ পুষত। এরপর থেকেই রাজীবদের শান্ত জীবন সাপের মতো জড়িয়ে যায়। নাসিরন পাকিস্তানের করাচির মেয়ে। তাঁর ঠাকুমা, ঠাকুরদা পাঞ্জাবের মানুষ। বোঝাই যায় পরিবারটি দেশভাগে বলি হয়েছে। শুধু দেশভাগে বলি হয়েই রেহাই পায়নি। পাকিস্তান বসবাসের অনুপযুক্ত বলে নাসরিনরা দেশ ছেড়েছে। বিগত দশ বছর ধরে তারা বিদেশে থাকে। নাসরিন গল্প লেখে। কিন্তু সব ছদ্মনামে লেখে। নাসরিনের গ্রন্থের নাম—‘নাইদার ডে, নর নাইট—থার্টিন স্টোরিজ বাই উইমেন ফ্রম পাকিস্তান’। বিভিন্ন নামে তেরোটি গল্প। মায়ার প্রশ্নে সে লিখেছিল—“হয় একটাও নয়, আবার হয় তো সব কটাই আমার।“ মায়ার প্রশ্ন নাসরিন কীভাবে লেখক হল? সে কেন লিখতে পারে না। এক জীবনবোধ, যন্ত্রণার চিত্র নাসরিনের কলমে অক্ষর সঞ্চার করে দিয়েছিল। সে নিজেই জানিয়েছে—“তুমিও হয়ত লিখবে একদিন। আসলে, একটা নদী আছে কোথাও, দেখা যায় না, তবে আছে। সেই নদীর ধারে, সন্ধ্যার পরে অদ্ভুত এক হাট বসে। সেখানে দুঃখের বেচাকেনা হয়। ঐ নদী যেদিন দেখতে পাবে, লেখা ছাড়া গতি থাকবে না।“ (নাইদার নাইট নর ডে, তদেব, পৃ. ২৩)

এরপরে আখ্যান আরও জটিল হয়েছে। ভারত পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা। মায়া, নাসরিন দুই দেশের সমর্থক। এক ঘরে বসেই খেলা দেখছে দুজন। মায়ার স্বামী রাজীব ও নাসরিনের স্বামী পারভেজ বাইরে বিশাল স্ক্রিনে খেলা দেখতে গেছে। পাকিস্তান হেরেছে। নাসরিনের কান্না ভেজা চোখ। কিন্তু বাইরে রাজীব, পারভেজরা খেলাকে সমর্থন করে মারামারি করেছে। রক্তাক্ত হয়েছে। বিচ্ছেদ ঘটে গেছে দুটি পরিবারের মধ্যে। রাজীবরা নাসরিনের সন্তানদের ‘টেররিস্টের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছে। রাজীব-মায়ার সুখের দাম্পত্য জীবনেও দুঃখের বন্যা নেমে এসেছে। শান্ত সমাহিত জীবনগুলি একটি খেলাকে সামনে রেখে কীভাবে বিচ্ছেদ হয়ে গেল, নাসরিনরা বহু বছর দেশ ত্যাগ করেও কীভাবে দেশের ধারণাকে মনে প্রাণে বহন করে চলেছে তা দেখিয়েছেন। তবে এখানেই শেষ নয়। ইন্দ্রাণী দত্ত গল্পকে ভিন্ন পরিসরে নিয়ে যান। মায়া দুঃখের জীবনবোধের বিস্তৃত পরিসরে উপস্থিত হয়। দেখে নেওয়া যাক গল্পের বয়ান—

“রাত গভীর হলে, মায়া উঠে পুলের দিকের দরজা খোলে। রাজীবের শখের নীল আলো পুলের জলে এখনও জ্বলছে। ইতস্ততঃ নীল ত্রিপল, পুলি, দড়ি, রাজীবের চপ্পল। দেখতে দেখতে মায়ার চোখের সামনে, লোনা জলের পুষ্করিণী অন্ধকার আকাশের নিচে নদী হয়ে বইতে থাকে। নদীর বুকে আলো জ্বলা নৌকোগুলি, নদী তীরে রাতের দুঃখবাজার। নাসরিন যেমন বলেছিল। নীল ত্রিপলের ছাউনি দেওয়া ছোট দোকান, কুপি জ্বলছে। তাকে ঘিরে ছায়াপিণ্ডের মত ক্রেতার দল। ওপারে যাওয়ার জন্য মায়া জলে নামে। প্রথমে পায়ের পাতা, তারপর কোমর তারপর গলা জলে দাঁড়িয়ে মায়া দেখতে থাকে দুঃখশোকের বিকিকিনি। কুপির আলোয় দাঁড়িপাল্লার একদিকে জগদ্দল দুঃখের বাটখারা বসিয়ে, দোকানী কাউকে পাঁচশো গ্রাম কাউকে দেড় কিলো দুঃখ বেদনা কেটে কেটে দিচ্ছে। যে যেমন চায়। ঘন নীল, সবুজ, বাদামি সেই সব দুঃখের রঙ ফোঁটায় ফোঁটায় ঘন রসের ধারা তৈরি করছে।“ (তদেব, পৃ. ২৬)

ইন্দ্রাণী দত্ত সহজ সরলভাবে গল্প শুরু করেন। গল্পের একটা পরিসর গড়ে তোলার পর কাহিনি পাল্টে ফেলেন। কাহিনির সঙ্গে সেমি কাহিনি বা উপ কাহিনি এসে যুক্ত হয়। এই উপকাহিনি ছাড়া তাঁর আখ্যান সম্পূর্ণ নয়। তবে তিনি সেই রহস্য গল্প শুরুর কিছুটা পরে উপস্থিত করেন। এই গল্পে আছে দুটি নারী—মায়া, নাসরিন। দুজনেই পৃথক জীবনচিত্রে বড় হয়েছেন। মায়ার জীবন রান্না, বাগান, সুইমিং, ফেসবুক। নাসরিনের আছে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা। যে অভিজ্ঞতা নাসরিনকে দিয়ে গল্প লিখিয়েছে। গল্পের শেষে দেখি মায়া এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে। যা হয়ত নাসরিনকে দিয়ে নতুন গল্প লিখিয়ে নেবে। মানুষ সৌন্দর্যের পিপাসু। তেমনি প্রতিটি মানুষ সুখে শান্তিতে দিন কাটাতে চায়। সৌন্দর্যের সন্ধানে, সুখের নিমিত্তে মানুষের সদা বিচরণ। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের মধ্যেই আছে নানা কদাচার। ‘মৃগদাব’ গল্পের সুপর্ণা সারাজীবন সুখে কেটেছে। কিন্তু সেই সুখ ভেঙে গেছে ট্যুরে গিয়ে। এক দায়বদ্ধতা থেকে সেই সুখ ভেঙে দিতে হয়েছে। এসেছে হরিণের ইমেজ। হরিণ তো বারবার নিজেকে বাঁচাতে চায়, অথচ হিংস্র প্রবৃত্তি তাঁকে আক্রমণ করে। তবে হরিণের থেকে মানুষের পার্থক্য আছে। সচেতন মানুষ দায়িত্ববোধ হারিয়ে নির্বিঘ্নে শান্তিতে বিরাজ করতে চায়। তাই চেয়েছিল অতনু। ট্যুরে গিয়ে রাস্তায় তারা দেখেছিল মহিষ চুরির অপরাধে একটি বাচ্চাকে পিটিয়ে মারা। সে ছবি আর তোলেনি অতনু। যা সুপর্ণার সমস্ত চেতনা নাড়িয়ে দিয়েছিল।

বাস্তবের মধ্যেই যে আরেক বাস্তব লুকিয়ে আছে তার সন্ধান করেন গল্পকার। সে বাস্তব আপাত দৃষ্টিতে উদ্ভট, অলীক মনে হতে পারে। বাস্তবের কদাচার থেকে পালাতে অনেক সময় তো অনেকেই এক আড়াল খোঁজে। কালো রঙে নিজেকে মুড়িয়ে নেয়। ‘পয়লা আষাঢ়’ গল্পে রুবি বাঘ পোষে। সে বাঘের নাম আবার শান্তনু। এই বাঘের জন্যই পারিপার্শ্বিক সমাজ থেকে সে কিছুটা বিচ্ছিন্ন। বিচ্ছিন্নতা খুঁজে নেওয়ার জন্যই কি এই বাঘ পোষা? বাঘকে কালো চাদরে ঢেকে রাখে। সুন্দরের মধ্যে যে অসুন্দর বোধ, অসুন্দরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য লেখককে খুঁজে বের করতে হয়। পরক্ষণেই লেখিকা ফিরে গিয়েছেন রুবির ব্যক্তিগত জীবনে। পরিবারের সবার জন্মদিন সে দুইদিন আগে বা পরে করে সুন্দর তারিখে ঘোষণা করেছে। এজন্য স্কুলের বন্ধুদের কাছে লজ্জিত হতে হয়েছে। সে ইতিবৃত্তের পর বহু বছর কেটে গেছে। বিবাহসূত্রে সবাই বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফিরিয়ে এনেছে ফেসবুক। আজ চলছে রুবির জন্মদিন পালন। আবহমান কাল ধরে চলা বাংলা গল্পের কাহিনিভূমি থেকে ইন্দ্রাণী দত্তের আখ্যানভূমি অনেকটাই পৃথক। বিদেশে বসবাসের ফলে আখ্যানভূমিতে তিনি এমন কিছু সচেতন বাস্তব, অলীক বাস্তব ব্যবহার করেন যা নতুন পরিসর নির্মাণ করে।

প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কিছু গল্প থাকে। তেমনি আবহমান কাল ধরে চলে আসা পারিবারিক কিছু ঐতিহ্য, গল্প থাকে। এই গল্পগুলি উত্তরাসূরীরা বহন করে চলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গল্পে পলি জমা হয়। কিছু মানুষ ভুলে যায়। নতুন সময় নতুন দাবি নিয়ে আবার কিছু গল্প রচনা করে। মানুষ যেহেতু অনুভূতি প্রবণ জীব তাই সত্য ঘটনার সঙ্গে কিছু কল্পনা মিশিয়ে দেয়। মনের মাধুরী মিশিয়ে তা বহন করে চলে। ইন্দ্রাণী দত্ত ‘কল্প’ গল্পে আমাদের গল্পের তত্ত্বের আভাস দেন। একটি বা একাধিক গল্পের জন্ম কীভাবে হতে পারে, গল্পের ভিতরে সমাজতত্ত্ব কীভাবে লুকিয়ে থাকে, সময় পরিবর্তনে নতুন গল্প কীভাবে নির্মিত হতে পারে সেসবের আভাস দেন। কিন্তু এই গল্প নির্মাণের জন্য চাই দেখার চোখ, যা অহনার থাকলেও স্বামী সমরের ছিল না। তাই অহনা গল্প খুঁজে পেলেও সময় পেত না। গল্প শুরুতেই লেখিকা সেই আভাস দেন—

“ফুলশয্যার রাত অবধি অহনার ধারণা ছিল, সব বাড়িরই নিজস্ব কিছু পুরোনো গল্প আছে। প্রাচীন বালাপোষ আর জরিপাড় শাড়ির সঙ্গে সেইসব কাহিনি মথবল দিয়ে তুলে রাখা থাকে। তারপর যেদিন আত্মীয় বন্ধু বহু বৎসর পরে একত্রিত—হয়ত বিবাহ, কিম্বা অন্নপ্রাশন, অথবা শ্রাদ্ধবাসর—সেই সব গল্পকথা আলমারির অগম সব কোণ থেকে আলগোছে বের করে এনে রোদে দেওয়া হয়। এমনকি করে, প্রপিতামহর খুল্লতাত অথবা অতিবৃদ্ধ মাতামহীর পিতৃশ্বসাপতির একটি দুটি আখ্যান, ব্রোকেন টেলিফোন খেলায় যেমন হয় আর কি—মুখে মুখে ফেরে আর একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে।“ (কল্প, তদেব, পৃ.৩৯)

কাহিনি বদলের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নতুন কাহিনি জমা হয়। নদীভূমিতে চরায় পলির ওপর প্রতিবছর আবার যেমন নতুন পলি জমা হয় তেমনি মানুষের কাহিনিও। নতুন সময় তার নতুন কাহিনি এনে পুরাতন সবকিছুকে ঢেকে দিতে চায়। অহনার জীবনেও তাই হয়েছে। সে দুটি কাহিনি মনে সঞ্চারিত করে রেখেছিল। কিন্তু বিবাহের পর মাসিশাশুড়ি বা শান্তিনিকেতনে খ্রিস্টোৎসব দেখে অন্য কাহিনি মনে সঞ্চারিত করতে পেরেছে। তাই হয়ত কিছুদিন বহন করে চলবে। অনবদ্য গল্প ‘আকর্ষ’। ভালোবাসা এক অনুভূতি। এই অনুভূতি যেকোন বিষয়কে সামনে রেখে যেকোন মুহূর্তেই হতে পারে। আবার একটি গাছ, পশু বা অন্যকিছু দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করলে ভালোবাসা জন্ম নেয়। সেই ভালোবাসারই গল্প ‘আকর্ষ’। ইন্দ্রাণী দত্ত এমন এক জীবনবোধ নিয়ে আখ্যান নির্মাণ করেন যা সহজেই পৃথক হয়ে যায়। এই গল্পের নারীটি দুইবার বিবাহ করে দুইবারই আপাত স্বামী সুখ, দাম্পত্য জীবন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বঞ্চনাই তাঁকে নতুন পরিসর গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। দ্বিতীয় বর সুপ্রকাশও ঘর ছেড়ে চলে যায়। আসতো শুধু জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকীতে। উপহার দিত বিভিন্ন গাছ, কখনো কুকুর। একবার একটি পথের ছেলে নিয়ে এসেছিল। এই গাছ, কুকুর, ছেলেটিকেই সে ভালোবাসার সত্তা হিসেবে, দোসর হিসেবে মেনে নিয়েছে। আসলে মানুষ বাঁচতে অবলম্বন চায়, সুপ্রকাশ সেই অবলম্বনই গড়ে দিতে চেয়েছিল। নারীটি কখনোই প্রতিবাদ করেনি। আপাত নারীবাদের ঘেরাটোপের থেকে ইন্দ্রাণী দত্তের নারীরা দূরে থাকে। এক শান্ত সমাহিত বিশ্বাস, জীবনবোধ নিয়েই তারা এগিয়ে যায়। কোনো ঈশ্বর বিশ্বাস নয়, জীবন যেন এমনি এমনি বয়ে যাবে। আছে রবীন্দ্রনাথের গান। বাঁচার প্রবল উদ্যোম ইন্দ্রাণী দত্তের গল্পপাঠে এক বেদনাতুর জগতে ভেসে যেতে হয়। জীবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা প্রতিবাদ-প্রতিরোধ নয় সবটাই পরিণতি বা নিয়তি ভেবে যেন এগিয়ে যাওয়া। ব্যথিত হলে যেন ‘হা জীবন’ বলে একবার মৃদু ক্রন্দন। কিন্তু পরক্ষণেই আবার নির্মল আকাশে আলো খোঁজা। স্বপ্ন দেখা।



লেখক পরিচিতি:
পুরুষোত্তম সিংহ
লেখক। শিক্ষক। গবেষক।
পশ্চিমবঙ্গে থাকেন।



২টি মন্তব্য: