সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১

ওয়াসি আহমেদের 'টিকিটাকা'র গুপ্তধন: নাহার তৃণা


একজন দক্ষ সাহিত্যিক যখন কোনো গল্প বা উপন্যাসের আখ্যান বর্ণনা করেন তখন জাদুকরের মতো আড়ালে থেকে তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলোকে কাঁদান- হাসান। নানামুখী টানাপোড়েনের অভিঘাতে আখ্যান বুনে যান। পাঠক, বর্ণিত কাহিনি বা আখ্যানের ভেতর লেখকের বয়ানের বৃত্তান্তটুকু পান- লেখক এখানে নেপথ্যে থাকা কারিগর মাত্র। কাহিনি ছাপিয়ে নিজেকে প্রকাশের বিন্দুমাত্র আগ্রহ লেখকের মধ্যে দেখা যায় না, সেটি দস্তুরও নয়। তিনি কেবল আড়ালে থেকে পাঠকের মনের গহীণে তাঁর জাদুর রুমাল নেড়ে নেড়ে আয়নার সীমাবদ্ধ প্রতিবিম্বের অধিক কিছু পাঠককে দেখতে উৎসাহিত করেন। এ কাজে যে লেখক যতটা দক্ষ, পাঠককে তিনি ততটা উস্কে দেবার সামর্থ্য রাখেন। জাদুকরের মতো আড়ালের এই মুদ্রা সব লেখকের করতলগত তা মোটেও বলা যাবে না। কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদ নেপথ্যে থাকা সেরকম এক জাদুকর লেখক। যিনি তাঁর পাঠককে গল্পের আয়নায় প্রতিফলিত প্রতিবিম্বটি ছাড়াও বাইরের গল্প খুঁজতে উৎসাহী করতে যথেষ্টভাবে সক্ষম।

ওয়াসি আহমেদের লেখনী পাঠককে ভাবতে উৎসহ জাগায়। তাঁর “তলকুঠুরির গান” বইয়ের বরাদ্দকৃত পৃষ্ঠার বাইরে গিয়েও পাঠক প্রাচীন সিলেট অঞ্চলের নানকারদের বঞ্চনা আর লাঞ্ছনার গাঢ় বেদনার ইতিবৃত্ত জানতে আগ্রহী হন। "বরফকল" উপন্যাসের বিরঙ্গনা শিফালি বেগমকে কেন পলায়নপর জীবনে সম্পৃক্ত হতে হয়, একই নিয়তি কেন শেফালি বেগমের কন্যা চম্পার উপরও চড়াও হয়-- এমন প্রশ্নের জবাবদিহির জন্য শুধুমাত্র রাষ্ট্র বা সমাজকে প্রশ্ন বিদ্ধ না করে নিজের দিকে আঙুল তুলতেও পাঠক দ্বিধা করেন না। পাঠককে প্রশ্নবিদ্ধ হতে কিংবা পরবর্তী অনুসন্ধানে নেমে পড়ার উৎসাহ সব সাহিত্যের পক্ষে যোগান দেওয়ার নজির খুব বেশি ঘটে না। সাহিত্যিক হিসেবে এক্ষেত্রে ওয়াসি আহমেদ সার্থক একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

গল্প কিংবা উপন্যাসে প্রিয় লেখকের তৈরি কাহিনিটুকু জেনেই পাঠককে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে লেখকের লেখন শৈলী, গল্প বলার দক্ষতা ইত্যাদি ভিন্ন আলাদা করে লেখক সত্তার নানামুখী ভাবনা, ভালোলাগা-মন্দলাগা; তাঁর পঠন পাঠনের অজানা গালগপ্পো ইত্যাদি ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। কিছুই জানার উপায় থাকে না। আবার চাইলেই সাধারণ পাঠকের পক্ষে লেখকদের আড্ডায় সটান গিয়ে উপস্হিত হওয়া সম্ভব হয় না। সেরকম আড্ডা আজকাল হয় কিনা সেটাও প্রশ্ন। এক্ষেত্রে একজন লেখককে চেনা-জানার একমাত্র উৎস লেখকের লেখালেখি। পাঠক লেখকের লেখালেখির সেই চৌহদ্দিতে দাঁড়িয়ে প্রিয় সাহিত্যিক সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে আগ্রহী হন। পাঠকের এই আগ্রহের অনেকটা মেটে যদি পছন্দের লেখক আড্ডার ছলে প্রবন্ধ বা তাঁর ভাবনাচিন্তা নিয়ে বৈঠকী মেজাজের কোনো লেখা লিখেন। নবনীতা দেব সেনের "স্বজনসকাশে" পূর্ণেন্দু পত্রী'র "কিছু মানুষ কিছু বই", সত্যজিৎ রায়ের "যখন ছোট ছিলাম" হুমায়ূন আহমেদের "কিছু শৈশব", জয়গোস্বামীর "গোঁসাইবাগান", শ্রী পান্থের "পড়ার বইয়ের বাইরের পড়া" সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের "অর্ধেক জীবন", ইত্যাদি বইগুলোতে পাঠক তাদের প্রিয় লেখকদের একেবারে অন্য মেজাজে পেয়েছেন। একজন গল্পকার বা ঔপন্যাসিককে অন্যভাবে চেনার বা দেখতে পাওয়ার দারুণ এক সুযোগ করে দেয় এ ধরনের বইগুলো। শুধু সংশ্লিষ্ট লেখকের ভাবনাই নয়, নানা আলোচনার হাত ধরে উঠে আসে আরো কত বিচিত্র অভিজ্ঞতার বয়ান। কত অজানা ভাবনার দিগন্ত খুলে যায় এধরনের বইগুলো থেকে। গল্প উপন্যাসের পাশাপাশি আড্ডার ভঙ্গিতে লেখা বই যে কারণে বিশেষ আগ্রহ নিয়ে পড়ি।

ওয়াসি আহমেদের "টিকিটাকা" বইটা পেয়ে অতি উৎসাহে পড়ে ফেলতে তাই দেরী হয়নি। যশস্বী লেখকদের প্রবন্ধ পড়বার একটা বাড়তি লাভ হলো তাঁরা এক আলোচনা থেকে মাঝে মধ্যেই দলছুট মেঘের মত সরে গিয়ে অন্য কোথাও অন্য কোনোখানে টেনে নিয়ে যান পাঠককে। এতে পাঠকেরই বাড়তি লাভ। "টিকিটাকা" তার ব্যতিক্রম নয়। যদিও লেখক বিনয়ের সাথে বইটির ভূমিকায় বলেছেন-

“এই খুদে লেখাগুলো দৈনিক প্রথম আলোর শিল্প ও সাহিত্য সাময়িকীতে 'শাখা-প্রশাখা' শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়ে ছিল। শুরুতে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই একটা-দুটো লেখা ছাপা হতে সাময়িকী সম্পাদকের অটল জেদের কাছে হার মেনে লেখা না চালিয়ে উপায় ছিল না। বই আকারে প্রকাশের প্রয়োজনে কয়েকটা নতুন লেখা জুড়তে হয়েছে। বলা প্রয়োজন, এ রচনাগুলি প্রায় সব কটাই লেখালেখি, লেখক ও বইপত্র নিয়ে খুচরো গালগপ্পো, এর বেশি কিছু নয়।”

কিছুটা এমন বয়ানের প্রতিধ্বনি শ্রী পান্থের “পড়ার বইয়ের বাইরের পড়া” বইতেও পেয়েছি-

"কাজের পড়া'র ফাঁকে ফাঁকে সুযোগ পেলেই হাতে তুলে নিয়েছি আপাত 'অকাজ' এর কোনও বই। সে পড়া শুধু পড়ার আনন্দেই। এক অর্থে, নিছক ছুটির পড়া। সেই আনন্দ পাঠের যৎসামান্য নিয়ে এই বই। এ বইয়ের কোনও মূল পরিকল্পনা নেই। নেই কোনও বিষয় কেন্দ্রিকতা। এখানে পুস্পিত উদ্যানে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে শুধু উড়ে বেড়ানো।"

উপরের বই দুটো যে বা যাঁরা পড়েছেন সেইসব পাঠক মাত্রই জানেন “খুচরো গালগপ্পো” আর “নিছক ছুটির পড়া”র ভেতর দিয়ে “গুপ্তধনের পেতলের ঘড়ায় হাত ঠেকার মতো” কত কত গুপ্তধনের সন্ধান তারা পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা এমন বৈঠকী মেজাজে লেখা বইয়ের হাত ধরে সাহিত্য বিষয়ক নানা আলাপে রত মানুষটি তাঁর পাঠকের কাছে একেবারে অন্যভাবে ধরা দিয়েছেন। গল্পকার বা ঔপন্যাসিকের ধরাচূড়া বিনা ঘরোয়া মেজাজে অন্য এক ওয়াসি আহমেদের দেখা পাওয়াটা নিঃসন্দেহে অন্য মাত্রার আনন্দের।

টিকিটাকা বইটিতে সাতাশটি ছোটো ছোটো পর্বে লেখকের নানা অভিজ্ঞতা, ভাবনা এসেছে মনকাড়া সব শিরোনামে। পুরনো বই সংগ্রহের স্মৃতিমাখা জমাটি বয়ান দিয়ে টিকিটাকা’র যাত্রা শুরু। “পুরনো বইয়ের ডেরায়” সূচনা পর্বের শিরোনাম। এই পর্বটি পড়ে লেখকের বই সংগ্রহ সম্পর্কে প্রারম্ভিক একটা ধারণা পাবেন পাঠক। একই সাথে মূল্যবান কিছু বইয়ের নাম তালিকাভুক্তির সুযোগও জুটে যাবে।

সেই সত্তর দশকের গোড়ার দিকের নীলক্ষেতের পরিবেশ, কমদামে দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সন্ধান লাভের বয়ানের ভেতর দিয়ে একজন অনুসন্ধিৎসু এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ওয়াসি আহমেদের দেখা পাওয়া যাবে। সত্তর দশক উজিয়ে দুইহাজার বিশে টিকিটাকা বই হিসেবে প্রকাশের আগ পর্যন্ত প্রথম আলো পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে যে লেখাটি প্রকাশিত হচ্ছিল; সে লেখার লেখক ততদিনে পেশাগত এবং সাহিত্য জগতে একই সঙ্গে একজন কৃতীমান এবং খ্যাতনামা মানুষ। এই পর্বে সেই মানুষটা পুরনো বইয়ের সামান্য এক বইবিক্রেতা সানোয়ার মিয়ার স্মৃতি কতটা আন্তরিক ভাবে মনে রেখেছেন তার পরিচয় পাবেন। আন্তরিকতা আর উইটের মিশেলে সেস্মৃতি উপস্হাপন করেই তিনি ক্ষ্যান্ত হননি, পুরনো বইয়ের প্রতি আসক্তি তৈরিতে ‘সানোয়ার মিয়া’ নামের লোকটির হাত ছিল সেকথাও বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করেছেন। বিদ্বান এবং খ্যাতিমান মাত্রই বিনয়ী নন। যাঁর ভেতর এই গুণের বসত দেখতে পাই তাঁর প্রতি অজান্তেই বাড়তি শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। সূচনা পর্বে লেখক ওয়াসি আহমেদের ব্যক্তিসত্তার এই পরিচয় পাঠকের সমীহ আদায় করে নেবে সন্দেহ নাই।

লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার প্রথম শর্ত ভালো পাঠক হওয়া। ওয়াসি আহমেদের বই সংগ্রহের বৃত্তান্তে এটা স্পষ্ট, পাঠক হিসেবে তিনি প্রথম সারির একজন। একনিষ্ঠ পাঠক হিসেবে নতুন পুরনো বই সংগ্রহের রয়েছে তাঁর সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। যা কিছু ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয়ও বটে। ওরহাম পামুকের মতো লেখকের মুখোমুখি হওয়ার সময় বর্তমানে বাজারে পাওয়া বিরল পামুকের প্রথমদিকের লেখা উপন্যাস “হোয়াইট ক্যাসেল” বইটি তাঁর সংগ্রহে আছে জেনে স্বয়ং ওরহান পামুকও বিস্মিত হয়েছেন। পাঠক হিসেবে দুই লেখকের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঘটার বিষয়টি জ্ঞাত হওয়াটাও কম আনন্দের নয়।

পড়ুয়া ওয়াসি আহমেদের বই সংগ্রহের আগ্রহ শুধু দেশের বুকস্টল গুলোতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও তিনি বইয়ের খোঁজে সময় ব্যয় করতে কার্পণ্য দেখাননি। বিভিন্ন জায়গার নানা বুকশপে গিয়েছেন তিনি। নীলক্ষেত, চট্টগ্রামের অমর বইঘর, দিল্লি, বার্মিংহাম, শিকাগো, এবং খুব পরিচিত আয়ওয়া সিটির বিশেষ একটি বইয়ের দোকান তার মধ্যে উল্লেযোগ্য। আয়ওয়া সিটির ‘হন্টেড বুকশপ’ লেখক ওয়াসি আহমেদের পদধুলি পেয়েছে, এই তথ্যটা পরের বার দোকানটিতে ঢুঁ মারার সময় মনে বাড়তি আনন্দ গুঁজে দেবে তাতে সন্দেহ নাই। বই সংগ্রহের সুলুক সন্ধানের পাশাপাশি দোকানগুলো পর্যবেক্ষণপূর্বক কিছু মজার অভিজ্ঞতাও পাঠকদের সাথে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। যেমন অধিকাংশ দোকানের বিক্রেতাই নারী, আর পাঁজা পাঁজা বইয়ের ভিড়ে স্বাস্থ্যবান বিড়ালের সাক্ষাৎলাভ বই সংগ্রহকদের বাড়তি পাওনা। অনেক দোকানে আবার বই বিক্রির আড়ালে চলে নানামুখী শিল্পচর্চা। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটা অজানা স্বভাবের কথাও জানা যায়। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কুয়েতটুলির এক চেনা লোকের বাতিল কাগজপত্রের গুদাম থেকে সের দরে পুঁথি কিনতেন। “খোয়াবনামা” উপন্যাসে ব্যবহৃত শ্লোকগুলো সৃষ্টির পেছনে ওইসব ক্রয়কৃত পুঁথির প্রভাব থাকতে পারে বলে লেখকের অনুমান।

পরের পর্বটি “বই বনাম ঘোড়দৌড়ের ময়দান”। শিরোনাম পড়ে চট করে বোঝার উপায় নেই ঠিক কোন বিষয়ে আলাপের আয়োজন। এটি আসলে দ্রুতপাঠ নিয়ে লেখকের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের আলাপচারিতা। দ্রুতপাঠ অর্থাৎ ‘স্পীড রিডিং’ এর কায়দা কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং এই ব্যাপারটি যে লেখকের পছন্দের নয় সেটাও এখানে সপাটে স্বীকার করেছেন। ঘোড়ার মুখে লাগাম দিয়ে বই পাঠে অনভ্যস্ত পাঠক মাত্রই লেখকের সাথে সহমত জানিয়ে আলাপি ভঙ্গিতে লেখা বিশ্লেষণধর্মী পর্বটি দারুণভাবে উপভোগ করবেন। আলোচনায় দ্রুত পঠনে পারদর্শীদের তথ্য তালাশসহ কয়েকজন অতিপাঠ প্রিয় ব্যক্তিত্বের নাম জানা যায়।

বেশ পুরনো একটি বিষয় সাহিত্য জগতের অনেককে নতুন করে হতাশা কিংবা ভাবনায় জড়ানোর প্রেক্ষাপট নিয়ে সাজানো তৃতীয় পর্ব “উপন্যাসের মৃত্যু”। ছিয়ানব্বই বছর আগে ১৯২৫ সালে একই বিষয় নিয়ে আলোচনা, হতাশার ঝড় উঠেছিল ইউরোপ-আমেরিকার সাহিত্য জগতে। স্পেনীয় দার্শনিক ওর্তেগা গ্যাসেত( Gasset) সেই ঝড়ের বুকে লিখেছিলেন উপন্যাসের মৃত্যুর পরোয়ানা। তিনি অবশ্য উপন্যাসের উপযোগিতা বা প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে বির্তকের জন্ম দিয়েছিলেন। হরেদরে যা একই বলা যায়। দুই মহাদেশের তাবড় কিছু লেখক-সাহিত্যিক সেই তর্কের পক্ষে বিপক্ষে মতামত রেখেছিলেন। তারপর বহু বছর কেটেছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে উপন্যাস রচনা কিন্তু থেমে থাকেনি। হালে প্রযুক্তির আগ্রাসনের তীব্রতায় সস্তা বিনোদনের রমরমা বাতাবরণ সৃষ্টি হওয়ায় সিরিয়াস উপন্যাস অতটা হালে পানি পাচ্ছে না, যতটা পাচ্ছে হালকা বা চটুল ধরনের উপন্যাস-লেখাজোকা। এমন অভিমতের উপর ভিত্তি করে অভিমান- হতাশা থেকে ইংরেজ ঔপন্যাসিক উইল সেলফ ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার এক নিবন্ধে উচ্চারণ করেন-“The novels is dead, this time it’s for real”। এই বিষয় নিয়ে বির্তক বা আলোচনা সমালোচনা আগেও যেমন হয়েছে ভবিষ্যতেও হবে বলেই ধারণা। প্রযুক্তির কারণে ইবুক, ওয়েব পত্র-পত্রিকার ব্যাপক প্রচার প্রসার ঘটেছে এটা সত্যি। তাতে এখনই কাগজের প্রকাশনার মৃত্যুঘন্টা বেজে গেছে বলে যেমন আতঙ্কিত হবার কিছু নেই একইভাবে সস্তা চটুল লেখালেখির দিকে বিপুল সংখ্যক পাঠকের আগ্রহের নিরিখে উপন্যাসের মৃত্যু হয়েছে ভেবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলেই মনে করি। “এমন ভাবনা মানব অস্তিত্বের সৃষ্টিশীল ভিতকে গুঁড়িয়ে দেয়ার সামিল” এই বক্তব্যের মাধ্যমে লেখকও আশাবাদী থাকার মন্ত্রণা দিয়েছেন।

“কলমের নোঙর” শিরোনামে লেখক সাহিত্যিকদের কাছে আতঙ্কের নাম ‘রাইটার্সব্লক’ নিয়ে মনোগ্রাহী আলোচনা এসেছে। বিদেশি লেখকদের পাশাপাশি সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় বিচরণকারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাইটার্সব্লক বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন এবং সে সমস্যায় পড়লে রবিকবির উত্তরণের পথও যে খুঁজে নেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ ছিল, সেটা নিয়ে লেখকের ভাবনা জানা যাবে এ অংশে। তবে অন্যদের 'কলমের নোঙর' বিষয়ে তথ্য তালাশ দিলেও ওয়াসি আহমেদ নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনার বিষয়টা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন।

“প্রকাশকের না” পর্বে রয়েছে লেখক জীবনে কোনো না কোনো একটা সময় প্রকাশক মারফত লেখকদের প্রত্যাখ্যাত হওয়ার গালগপ্পো। সাহিত্যের ইতিহাসে খ্যাতির শিখরে থাকা এমন প্রচুর সাহিত্য সৃষ্টিকে প্রকাশনার প্রথম দিকে প্রকাশকের ‘না’ শুনতে হয়েছে। কোন কোন বিখ্যাত সাহিত্যের কপালে কতবার ‘না’ এর টিপ পড়েছে তার একটা ছোটোখাটো তালিকা রয়েছে আগ্রহী পাঠকের জন্য।

পাঠকের মৃত্যু ঘটে-- আবার একই সাথে পাঠক নতুনভাবে পুনর্জন্ম লাভ করেন। সময়, বয়স ইত্যাদির সাথে সাথে পাঠাভ্যাসের বদল ঘটে। বদলে যায় পাঠেররুচি- চিন্তাভাবনা- দৃষ্টি বদল ইত্যাদি নিয়ে একটি পর্ব- “পাঠ বদলে যায়।” এই পর্বটির সাথে অনেক পাঠকই একাত্মবোধ করবেন সন্দেহ নাই।

সত্তর দশকের বিস্মৃত একজন লেখক বিপ্লব দাশ কে নিয়ে সযত্নে লিখেছেন “পাঠকের বিস্মৃতি- একজন বিপ্লব দাশ।” বাংলা সাহিত্যে একটি মাত্র গল্প সংকলন,'কিমপুরুষ' একমাত্র উপন্যাস এবং 'সদাশিবের সাঙ্গোপাঙ্গ' নামে একটি কিশোর উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে বিপ্লব দাশ তাঁর জাত চিনিয়েছিলেন। সাহিত্যিক বিপ্লব দাশ কে লেখক-পাঠকের ভুলে যাওয়া নিয়ে চাপা ক্ষোভ আর ব্যথার অনুরণন আছে এখানে।

নিজের লেখা দীর্ঘজীবি হওয়া নিয়ে লেখক আগেভাগে কতটা জানতে সক্ষম হন? '১৪০০ সাল' কবিতাটি বহু বছর উজিয়েও যে টিকে থাকবে, সে সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ নিজে কতটা জ্ঞাত ছিলেন? শুধু মেধাবী হলেই যে সবাই পাঠকের মনে আসন করে নেন তাও তো না-- ওয়াডর্স ওয়ার্থ এরকম উদাহরণ -- কলরিজ তার চেয়েও বেশি প্রতিভা নিয়ে অতটা পাঠকপ্রিয়তা পাননি-- লেখকের অকপট ভাবনা নিয়ে স্বল্প দৈর্ঘ্যের একটি চমৎকার আলোচনা পর্ব - “অমরতার পূর্বাভাস।”

গল্প, উপন্যাস পাশাপাশি ওয়াসি আহমেদ যে একজন দক্ষ সাহিত্য সমালোচক “রবীন্দ্রনাথের হারিয়ে যাওয়া মানুষেরা”, “সিরাজের উড়ো চিঠি”, চিকিৎসক লেখক ম্যানবুকার প্রাপ্ত জন মারে এবং তার গল্পসংকলন : ‘অ্যা ফিউ শর্ট নোটস অন ট্রপিক্যাল বাটারফ্লাইজ' নিয়ে আলাপ “জন মারে: উষ্ণমণ্ডলীয় প্রজাপতির গপ্পো”, মঈনুস সুলতানের “কাবুলের ক্যারাভান সরাই” ইত্যাদি পর্বগুলো তার উদাহরণ।

কবিতা নিয়েও বইটিতে লেখকের নিজস্ব ভাবনা পাওয়া যাবে। বিশেষত কবি শহীদ কাদরীর “উত্তরাধিকার” কবিতা গ্রন্থের পর লেখকের যেন মনে হয়েছে কবিতা কবি কে ছেড়ে গেয়েছিল। কারণ উত্তরাধিকারের যে বাকভঙ্গিমা, সেটা পরের দিকে আরো সংহত আরো বিস্তৃত হওয়ার কথা ছিল-- বাস্তবে সেরকমটা মনে হয়নি--- এমন সৎ ভাষ্য অকপটে বলতে লেখক মোটেও কুণ্ঠিত হননি।

“মিনিমাগনার চুমকুড়ি” পর্বটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। এই বিষয়ে আরো আলোচনা এবং ভাবনায় ভুক্তভোগী লেখকেরা যত সরব হবেন তাতে হয়ত একটা সুষ্ঠু সুরাহার পথ পাওয়া যাবে। অধিকাংশ পত্রিকার সম্পাদকেরা অনেক লেখকের লেখা পারিশ্রমিক না দিয়ে ছাপিয়ে এমন ভাব করেন যেন সাহিত্যের প্রতি বিশাল দায়িত্ব পালন করলেন। এখানে লেখক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছেন-- "বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ ওয়েবসাইটগুলো বিনা সম্মানীতে লেখা ছেপে কি প্রকাশনা জগতে পেশাদারী লেখকদের আনাগোনা বন্ধ করে দিচ্ছে, না কি মিনিমাগনায় লিখতে আগ্রহী সব ধরনের লেখকদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে?”

“ভূত লেখক”, “বই চোর” কেও ছেড়ে কথা বলেননি ওয়াসি আহমেদ। প্রাণবন্ত এই পর্বগুলো থেকে পাঠক অনেক অজানা তথ্যের সন্ধান পেতে পারেন।

লেখকদের লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ঘনিষ্ঠ সহচর্যে যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন ওয়াসি আহমেদ। তাঁর সাথে যাপিত সময়ের টুকরো স্মৃতিকথা নিয়ে আলাপে পাঠকের মন যেন ভরে না। আরো কিছু শোনার-জানার আগ্রহ জেগে থাকে। একই সঙ্গে শ্রদ্ধেয় প্রিয় লেখকের অপূর্ণ সাধ নিয়ে লেখকের হৃদয়ক্ষরণ পাঠকের বুকেও ব্যথা হয়ে বেজে ওঠে।

পুরস্কারের যৌক্তিকতা নিয়েও অল্পসল্প আলোপ আছে বইটিতে। পুরস্কার ও পুরস্কৃত লেখক বা বই যে সব সময় একে অন্যের পরিপূরক তা ভাববার খুব সঙ্গত কারণ রয়েছে বলে ভাবেন না লেখক-- তাঁর ভাবনা খুব একটা অযৌক্তিক হয়ত না। তাঁর মতে ধ্রুব সত্যের মতো শেষ কথা এটাই-- পুরস্কার ও লেখালেখি একে অন্য কে ছাড়ে না।

“ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না” পর্বে মায়াবী ভাষায় লেখকের বক্তব্য পাঠককে ভাবতে বাধ্য করবে-

“মানুষকে তার সামাজিক জীবনচর্চার বাস্তবতার মধ্যে, হট্টগোল, চেঁচামেচি ও বিরতিহীন বেঁচে থাকবার মধ্যে একটুখানি স্বাধীন শ্বাস টানার প্রয়োজনে যেমন একা হতে হয়, তেমনি অনিশ্চিত আগমনীর অপেক্ষায় নির্ঘুম জেগেও থাকতে হয়...."

“মরিবার হলো তার সাধ” পংক্তির হাত ধরে অবধারিতভাবে বিপন্ন বিস্ময়ের কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুটা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু নাকি আত্মহত্যা- বহুচর্চিত প্রশ্নটা নতুন মাত্রায় উঁকি দিয়ে গেছে। সাহিত্য জগতে আত্মহননকারী লেখক-সাহিত্যিক অনেকের কথা এসেছে এই আলাপচারিতায়।

“লেখালেখির ইশকুল”, “বইমেলা”, তুরস্কের সাহিত্যিক নোবেল বিজয়ী ওরহান পামুকের লেখক জীবন, তাঁর সংগ্রাম, তাঁর সাথে লেখকের দেখা হওয়ার টুকরো আলাপগুলো পাঠককে দারুণ প্রাপ্তির আনন্দ দেবে সেটা বলাই বাহুল্য। আসলে এই বইয়ের সবগুলো পর্ব নিয়ে বিশদে লিখতে বসলে ১২৫ পাতার “টিকিটাকা”কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সব পর্ব নিয়ে না লিখে তাই কিছু কিছু শিরোনামে বুড়ি ছুঁয়ে যাওয়া।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়ওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিভাগের সুদীর্ঘ ৮০ বছরের ইতিহাসে হাতে গোনা যে কয়েকজন বাঙালি কবি- সাহিত্যিক রাইটার্স ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেন তাঁদের মধ্যে শঙ্খ ঘোষ অন্যতম। ১৯৬০ সালে শঙ্খ ঘোষ আয়ওয়ার রাইটার্স ওয়ার্কশপে অংশ গ্রহণ করেন। পরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও আয়ওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী লাভ করেন। বাংলাদেশের সাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদ ২০১৬ সালে এমন একটি তিন মাসের রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আগত আরো চৌত্রিশজনের সাথে অংশগ্রহণ করেন। আয়ওয়ার এই রাইটার্স রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার স্মৃতিকথা নিয়ে এই বইতে তিনটি পর্বে এসেছে “আয়ওয়া কচড়া” শিরোনামে। নিঃসন্দেহে এই বিষয়ে জানতে আগ্রহীদের জন্য পর্বগুলো দারুণ উপভোগ্য এবং বাড়তি পাওয়ার আনন্দ।

রাইটার্স প্রোগ্রামের রেসিডেন্সি পরিচালক খ্যাতনামা কবি ও অনুবাদক ক্রিস্টোফার মেরিল, লাইব্রেরিয়ান স্টিভেনসনসহ তাঁর সঙ্গে অংশ নেওয়া বাকি সতীর্থদের পরিচয়, তাঁদের স্ব স্ব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ পরিচয় দিয়েছেন। যাঁদের মধ্যে বর্তমানে কয়েকজন নিজ দেশের সাহিত্যাঙ্গনে খ্যাতি লাভ করেছেন। আয়ওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইটিং প্রোগ্রামে ২০১৬ পর্যন্ত ১৪০টি দেশের দেড় হাজারের ওপর লেখক অংশ নিয়েছেন। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ পেয়েছেন বিশ্বজোড়া খ্যাতি। এতে অংশগ্রহণকারী হিসেবে নোবেল প্রাপ্ত লেখক যেমন আছেন, তেমন আছেন পুলিৎজার, ম্যানবুকার পুরস্কার বিজয়ীরা। নোবেল প্রাপ্ত ওরহাম পামুক আশির দশকে এই প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। পামুক নিজের লেখালেখি নিয়ে ঘরবন্দী থাকতেই পছন্দ করতেন। আর এই কারণে ওখানে ‘পামুকিং’ শব্দটি বেশ প্রচলিত। লেখকের ভাষ্য “আমাদের কাউকে যদি এক বেলা দেখা না যেত, ধরে নেয়া হতো সে হয়ত পামুকিংয়ে ব্যস্ত।”

রেসিডেন্সিতে অবস্হানকারী ছাত্রদের দেখভালে রত মানুষটির সযত্ন পরিচিতিও “আয়ওয়া কচড়া”য় বাদ যায়নি।

আরো আছে “ফার্স্ট ফোলিও” নিয়ে মোটামুটি বিস্তারিত আলাপ। শেক্সপিয়ারের সাহিত্য নিয়ে লেখকের নিজের ভাবনা। ফির্স্ট ফোলিওর গুরুত্বটা হলো জীবনদ্দশায় শেক্সপিয়ারের যে ১৮টি রচনা গ্রন্থিত হয়নি এতে সেই ১৮টি নাটক প্রথমবারের মতো পুস্তকারে মুদ্রিত হয়েছিল। সেগুলো প্রদর্শনীর ব্যবস্থা আছে।

এই পর্বগুলোতে লেখালেখির নানা কলা কৌশল বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা না থাকলেও প্রোগ্রাম সম্পর্কে আগ্রহী পাঠক অনেক প্রশ্ন এবং কৌতূহলের উত্তর পাবেন আশা করা যায়। আয়ওয়া কচড়ার আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য- অনেকের মতো লেখকেরও ধারণা ছিল এই প্রোগ্রামে অনুবাদ প্রকল্পে ফরাসি, জার্মান ও স্প্যানিশ লেখকদের রচনা প্রাধান্য পেয়ে থাকে-- কিন্তু তিনি অবাক হন এটা জেনে যে অধিকাংশের আগ্রহ আরবি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের প্রতি। এমন নানা চিত্তার্ষক আলাপি বয়ানে সমৃদ্ধ আয়ওয়া কচড়ার তিনটি পর্ব। তবে ব্যক্তিগতভাবে এই ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়ার পর লেখক ওয়াসি আহমেদের লেখালেখির ক্ষেত্রে কতটা বাঁকবদল ঘটলো-- তিনি কতটা লাভবান হলেন সে বিষয়ে জানার কৌতূহলটা অপূর্ণই থেকে গেল। এই পর্বের আলাপচারিতায় বিষয়টা উঠে এলে মন্দ হতো না।

টিকিটাকার শেষপর্বটি একটি বইয়ের পাঠপ্রতিক্রিয়া হলেও আদতে সেটি আর দশটা সাধারণ বইয়ের পাঠভাবনার মতো নয়। এই বই পাঠের বিষয়টাতে রয়েছে চমকদার এক বিশেষত্ব। মিলোরাড প্যাভিচ এর “ডিকশনারি অফ দ্য খাজার্স” সম্পর্কে পাঠকের উদ্দেশ্যে প্যাভিচের নিজের বক্তব্যটা হলো -- “আমরা সব সময় মেধাবী লেখকদের কথা বলে আসছি। মেধাবী পাঠকদের কথাও আমাদের বলা উচিত। এই বই সব পাঠকের জন্য নয় শুধুমাত্র মেধাবী পাঠকই পারবেন এই বইয়ের আসল কাহিনি উদ্ধার করতে।”

এমন এক আশ্চর্য বই এবং তার পাঠকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে ওয়াসি আহমেদ এটাই প্রমাণ করেছেন মিলোরাড প্যাভিচ যেসব যোগ্য পাঠকের জন্য বইটি রচনা করেছেন তিনি তাঁদের একজন। নইলে এই বইটি পাঠ পূর্বক বিস্তারিত আলাপ জমানো লেখকের পক্ষে সম্ভব হতো না।

‘টিকিটাকা’ ফুটবলের একটা কৌশলের নাম। ফুটবলে মাঠ দখলের এক বিশেষ মারণাস্ত্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বইয়ের এমন শিরোনাম কেন দিলেন লেখক? ছোটো ছোটো অধ্যায়ের ‘পাস’ দিয়ে বই-মজলিসের আড্ডায় পাঠকের মনোযোগ দখলের মহত উদ্দেশে হয়ত শিরোনামটি দেওয়া। সেরকমটা হলে ওয়াসি আহমেদ যে তাতে একশ ভাগ সফল হয়েছেন বলতেই হয়। মাত্র ১২৫ পৃষ্ঠার ছোট্ট এই বইয়ের ভিতরে কী গুপ্তধন পাঠকের জন্য লুকানো আছে, তার হদিশ অনুসন্ধানী পাঠক মাত্রই পাবেন। ‘টিকিটাকার’ পাঠ ভ্রমণে একজন পাঠক শুধু সমৃদ্ধই হবেন না, একই সঙ্গে লেখকের নির্মেদ অথচ মনোগ্রাহী, সরস, বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ বর্ণনার জৌলুশে পাঠক চিত্ত ঝলমল করে উঠবে। আড্ডার মেজাজে এভাবে প্রিয় লেখকের সাক্ষাৎ লাভ যে কোনো পাঠকের জন্য নিঃসন্দেহে দারুণ এক পাওয়া।
 -----------------






আলোচক পরিচিতি:
নাহার তৃণা
গল্পকার। অনুবাদক।
শিকাগোতে থাকেন।




৪টি মন্তব্য:

  1. তুমি পারোও বাবা! এত বিস্তারিত আলোচনা! এত পরিশ্রম করতে পারো!

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. সুবিশাল লেখাটি ধৈর্যসহকারে পড়বার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

      মুছুন