মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

আমি সেই বই লেখার অপেক্ষায় যা আমার আয়ত্তাধীন থাকবে না ' - আউটলুক ইন্ডিয়া. কম'কে দেওয়া গীতাঞ্জলি শ্রী'র সাক্ষাৎকার



অনুবাদ : বিপ্লব বিশ্বাস

হিন্দি লেখক অবাক হয়ে ভাবছেন কেন তাঁর ' মাই '( Mai) উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনূদিত হওয়ার পর এক বছর না যেতেই তাঁর পর্যালোচনা, সাক্ষাৎকার, ছবি নেওয়ার ধুম পড়ে গেল যা হিন্দিতে বইটি বেরুনোর পর দশ বছর পেরিয়ে গেলেও হয়নি।

১৯৯১ সালে তাঁর প্রথম ছোটোগল্পের সংকলন ' অনুগুঞ্জ ' প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে গীতাঞ্জলি শ্রী হিন্দি সাহিত্যের আঙিনায় পা রাখলেন। তারপর তিনি দুটি উপন্যাস আর একটি গল্প সংকলন প্রকাশ করে হিন্দি সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছেন। লেখালিখি ছাড়াও তিনি সক্রিয়ভাবে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। এই সংযোগ ১৯৮৯ সাল থেকে যখন এক দল নাট্যশিল্পী, লেখক, সংগীতশিল্পী আর চিত্রকর একত্রে ' বিবাদী '( Vivadi) নামক সংস্থাটি গড়ে তুললেন। 

বিবাদী গঠিত হওয়ার বছরেই তিনি রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ' ঘরে বাইরে 'র নারীবাদী শক্তির নির্যাস নিংড়ে নিজস্ব ঢঙে নাট্যরূপ দিলেন যা নতুন দিল্লির কামানি প্রেক্ষাগৃহে মঞ্চস্থ হল। পরের বছর তিনি একটি পরীক্ষামূলক নাটক লিখলেন, ' নায়িকা ভেদা '( Nayika Bheda) নামে যা তৎকালিক বোম্বাইয়ের মর্যাদাপূর্ণ পৃথ্বী থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছিল। " বর্ধমান হিন্দু মৌলবাদ বিষয়ে উদ্বিগ্ন অবস্থায় তথা যে মুহূর্তে মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রশ্নে হিন্দু পরিচয় অপরিহার্যঢঙে আক্রমণাত্মক কলহে লিপ্ত হতে যাচ্ছে বলে বোধ করলেন" তখনই অর্থাৎ ১৯৯১ সালে তিনি রবীন্দ্রনাথেরই ' গোরা ' থেকে নাটক তৈরি করলেন যে উপন্যাস হিন্দুত্ববাদের বিপদ উপেক্ষা করে না এবং একই সময়ে দার্শনিক - অস্ত্বিত্বের স্তরে মহৎ সংবেদনশীলতার সঙ্গে হিন্দু পরিচয়ের প্রশ্নটিকেও অভিনিবেশ সহকারে নিরীক্ষা করে। 

তাঁর অতি বিখ্যাত অভিযোজিত স্ক্রিপ্টগুলির মধ্যে হাদি রুসোয়ার উনিশ শতকীয় ক্লাসিক ' উমরাও জান আদা ' যে উপন্যাসে এক রাজনর্তকীর জীবনকাহিনি বর্ণিত। মূল উপন্যাসের পুরুষ দৃষ্টিভঙ্গি উলটে দিয়ে বিষয়বস্তুর মৌলিক নারীবাদী পাঠ গঠনে তাঁর চেষ্টাকৃত নাট্যরূপ নিয়ে ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে শ্রীরাম সেন্টারে তা প্রথম মঞ্চস্থ হয়। হলভর্তি দর্শক নিয়ে এই নাটক দিল্লি, বোম্বাই, কলকাতায় অভিনীত হয়। ভারতীয় টিভির জন্য নির্মিত হওয়া ছাড়াও, এই নাটক নানান সেমিনার ও ম্যাগাজিনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। 
তাঁর কৃত এই উমরাও নাটকের ইংরেজি অনুবাদ আগামী জুন ও সেপ্টেম্বরের মাঝে কোনও এক সময়ে রসিক আর্টস দল কর্তৃক টরন্টোর টারাগন থিয়েটারে অভিনীত হবে। 

সম্প্রতি গীতাঞ্জলি লাও জিউ নিজের মতো করে লিখেছেন : কুয়ো পাও কুনের চীনা নাটক ' দ্য নাইন্থ বর্ন ' ভারতীয় আবহে হিন্দিতে লিখেছেন। টোকিয়োর নিউ ন্যাশনাল থিয়েটারে তা মঞ্চস্থ হয়েছে, নাট্যোৎসবের অঙ্গ হিসাবে যেখানে কুয়ো পাও কুনের তিনটি আলাদা নাটক জাপান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার নাট্যদল মঞ্চস্থ করে। যখন জাপানি দর্শকেরা তা দেখে প্রবল উৎসাহে ফেটে পড়ে তখন কুয়ো পাও কুন গীতাঞ্জলির এই পুনঃসৃজিত রূপ দারুণ পছন্দ করেন। 

এ সবের মাঝে তাঁর প্রথম উপন্যাস ' মাই ' যার ইংরেজি অনুবাদ সম্প্রতি ক্রসওয়ার্ড বুক অ্যাওয়ার্ড - এর জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং তা তাঁকে হিন্দি সাহিত্যবলয়ে প্রতিষ্ঠা পেতে সাহায্য করেছে। বর্তমান সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি শ্রী আমাদের বলেছেন কীভাবে তিনি ' মাই ' লিখতে শুরু করলেন আর তাঁর কাছে এটি লেখার অর্থই বা কী।
---------------------------------------------------------------------
প্র: আমরা কি আপনাকে দিয়ে শুরু করতে পারি? আপনার শৈশব, শিক্ষা এবং কীভাবে আপনি লেখক হলেন...
উ: উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী হিসাবে আমার বাবা যেহেতু উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন শহরে কর্মরত ছিলেন, আমার শৈশবকাল সেইহেতু ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অতিবাহিত হয়েছে। সে সব স্থানের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে আমার প্রাথমিক শিক্ষালাভ হয়। হিন্দি ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে আমার সংযোগ ছিল প্রথাবহির্ভূত তথা ব্যক্তিগত। আমার মা হিন্দিতেই কথা বলতেন প্রায়। উত্তরপ্রদেশের শহরগুলিতে হিন্দিরই রমরমা। আমরাও ছোটোতে শিশুতোষ হিন্দি পত্রপত্রিকাই পড়েছি। আজকের ইংরেজি মাধ্যমের শিশুদের মতো নয়। চাঁদমামা, পরাগ, নন্দন এইসব আর কি - যেখান থেকে আমরা বেছে নিতাম ভারতীয় লোককথা - রামায়ণ, মহাভারত, আরব্য রজনী, শেকচিল্লি, পঞ্চতন্ত্র, কথাসরিৎসাগর, ভূতনাথ, চন্দ্রকান্তা সন্ততি - এইসব কাহিনি। হয়তো আজকের দিনের মতো ইংরেজি শিশুতোষ বইয়ের অভাবের কারণেই এইসব পড়েছি। কিন্তু এটি প্রকারান্তরে আশীর্বাদস্বরূপ। এ ছাড়া ছিল বহু লোক- লশকর অর্থাৎ তথাকথিত চাকরবাকর যারা প্রাণবন্ত হিন্দি ও স্থানীয় উপভাষার জোগান দিত, আরও বলত গ্রামীণ গল্প, প্রবাদবাক্য ও কুসংস্কারের গল্পসল্প। 

প্র: আপনার শৈশবে এবং যে পরিবেশে আপনি বেড়ে উঠেছেন সেখানে এমন কি কিছু ছিল যা আপনাকে লেখালিখির পথে ঠেলে দেয়? 
উ: মুন্সি প্রেমচাঁদের পৌত্রীর সঙ্গে আমার নিবিড় সখ্য আর শৈশবকাল থেকে তাদের পুরো পরিবারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ - এ সবই মনে হয় আমার মধ্যে সংস্কৃতির সুবেদীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছিল। তাদের পরিবার ছিল ভারতীয় সংগীত ও সাহিত্যের পূর্ণ অনুশীলিত শিক্ষার্থী। 
প্র: আপনার মায়ের সম্পর্কে বলুন ও তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল? 

উ: আমাদের উভয়ের মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক ছিল। আমি মায়ের নামের প্রথমাংশ আমার নামের দ্বিতীয়াংশে জুড়ে নিয়েছি - শ্রী।
প্র: আপনার সামগ্রিক শিক্ষা তথা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কি কোনওভাবে আপনার লেখার সঙ্গে অন্বিত হয়েছে? 
উ: আমি দিল্লি গিয়ে এল এস আর কলেজের পড়াশোনা শেষ করে জে এন ইউতে ভর্তি হই। সেখান থেকে আধুনিক ভারতীয় ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করি যদিও তখন থেকেই হিন্দি সাহিত্যের প্রতি জোরাল টান অনুভব করতে থাকি। কিন্তু প্রথাগত হিন্দি শিক্ষা না থাকায় ইতিহাসই ছিল আমার অনুপায়ী পছন্দ। তা সত্বেও ইতিহাস এবং এই ধরনের বিষয় পাঠ করার জন্য আমি হিন্দি সাহিত্যকে ব্যবহার করে টিউটোরিয়ালে যোগ দিই। পি এইচ ডি করার জন্য আমি বরোদার এম এস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ইতিহাসবিদের সঙ্গে কাজ শুরু করি ; বিষয় ছিল বিংশ শতকের স্বদেশভক্ত বুদ্ধিশালী সম্প্রদায়ের এক সমৃদ্ধ প্রতিনিধি মুন্সি প্রেমচাঁদ। আমি তা নিয়ে একটি গবেষণা - সন্দর্ভ রচনা করি যদিও তার যোগ্যতা বিষয়ে আমি অতি- আস্থাশীল নই ; তবুও সেটাই ছিল হিন্দি জগতে আমার পরিপূর্ণ আকস্মিক হানা এবং নিঃসন্দেহে তা আমাকে হিন্দির সঙ্গে আলতো মেলামেশা থেকে তার গভীরে গিয়ে দীক্ষিত হওয়ার চেষ্টা পূর্ণ করতে অনুমোদন দিয়েছে। 

স্পষ্টতই এটা বলা যায়, এগুলোই ছিল আমার গড়ে ওঠার গুরুত্ববহ বছর এবং অবশ্যই তা আমার লেখালিখির ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার করেছে, ঠিক কীভাবে, তা বলতে পারব না ; আর এখনও অব্দি এ সম্পর্কে কোনও আখ্যান নির্মাণ করতে আমি যথেষ্ট আত্ম- তাড়না বোধ করিনি। সাধারণত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছুটা অনুচ্চারিত ঢঙে শৈশব থেকেই আমার মধ্যে একটি ধারণা বাসা বেঁধেছিল যে আমি একজন লেখক। স্কুলের প্রথম দিকে ইংরেজিতে অ্যাডভেঞ্চারমূলক কাহিনি লিখেছিলাম, সরাসরি ইনিড ব্লাইটনের স্মৃতি জাগানিয়া হিসাবে! তারপর আমার সন্দেহ হল, আমি ভাষাজালে আটকা পড়েছি এবং পরবর্তী বহু বছর আমার কাছে অস্পষ্ট ছিল যে হিন্দি ও ইংরেজির সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী আর এর মধ্যে কোনটি আমার সৃজনের মাধ্যম হবে। এ কথা যখন আপনাকে বলছি আমার মনে হচ্ছে যে ভাষা সন্ধানের ক্ষেত্রে আসলে আমি এক কুটিল যাত্রা করেছি, হিন্দি এবং ইংরেজি উভয় ক্ষেত্রেই কোথায় পা রাখব তা খুঁজে পেতে। কিন্তু স্বস্তি বিষয়ে আমি এ ব্যাপারে অতিরিক্ত বোঝা মাথায় নিতে চাই না - কার্যত উভয় ভাষার ক্ষেত্রে বা সঙ্গে কিছু সংঘাত, কে কার ওপরে তা নিয়ে কিছু উদ্বেগ আমার বোধকে জর্জরিত করে এবং আজও আমাকে পুরো চিন্তামুক্ত করতে পারেনি। 

প্র: আপনি কি গোগ্রাসী পাঠক? আপনার প্রিয় লেখক কারা? তারা কীভাবে আপনাকে প্রভাবিত করেছে?
উ: আমি মূলত সাহিত্যপ্রেমী। পড়াশোনা ছিল আমার প্রধান অবসরযাপনের হাতিয়ার। যদিও তা ছিল খুব এলোমেলো। প্রচুর রুশ মহান সাহিত্য, ভিক্টোরিয়ান লেখিকাদের লেখা, ফরাসি ক্লাসিকস, কখনও অদ্ভুত নুট হামসন তো কখনও ম্যাক্স হ্যাভলার, পরে ক্যালভিনো, কাফকা, কুন্দেরা, লাতিন আমেরিকি সাহিত্য, জাপানি সাহিত্য, বাংলা, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, কেরালা আর আমার সময় অব্দি হিন্দি লেখককুল যথা কৃষ্ণা সোবতি, নির্মল ভার্মা, শ্রীলাল শুক্ল, বিনোদ কুমার শুক্ল প্রমুখের রচনাদি। এই বিশাল বিচিত্র পাঠ আমার সামনে খুলে দেয় লিখনশৈলীর এক বিস্তৃত আঙিনা এবং পুনরায় যদিও আমার লেখার ওপরে প্রভাব বিষয়ে কিছু জানি না তবুও তাঁরা আমার মধ্যে বৈচিত্র‍্যের প্রতি আর শৈল্পিক প্রচেষ্টার বৈশাদৃশ্যের প্রতি ভালোবাসা গেঁথে দেন। আমি নিজে একদম আলাদা কিছু লিখতে পছন্দ করি এবং এটা চাই যে আমার পাঠক বলুক যে প্রতিটি লেখাই বিভিন্ন লেখকের সৃষ্টি। কিছু মাত্রায় আমি দাবি করতে পারি, যে তিনটি উপন্যাস লিখেছি তা এমন জবাব উসকে দেয়! 
প্র: আপনি কি ভারতের বাইরে থাকবেন বলেই ঠিক করেছেন ( বর্তমানে তিনি প্যারি, এডিনবরা ও লন্ডনের মধ্যে ঘোরাফেরা করছেন)? বিদেশেই স্থায়ী বাসস্থান খুঁজছেন...? 
উ: আমি বিদেশে বাস করি না। কিন্তু ঘুরতে ভালোবাসি আর আমি খুব ভাগ্যবান যে বিভিন্ন দেশে ঘোরার সুযোগ আমি পেয়েছি। এবারে আমি বাইরে এসেছি সবেমাত্র আমার সাম্প্রতিক উপন্যাস মগ্নতার সঙ্গে শেষ করে যা গত ফেব্রুয়ারিতে বেরিয়েছে আর আমি গ্যাস- বেলুনের ঢঙে ভেসে আছি - সবকিছু যেন হালকা আর সংযোগহীন যা কখনও আমাকে বিশ্রামে রাখে আবার কখনও মারাত্মকভাবে বিব্রত করে!
প্র: আমাদের প্রতি পশ্চিমের অনুভূতি কেমন বলে আপনার মনে হয়? পাশ্চাত্য মননে ভারতবর্ষ সম্পর্কে একটামাত্র ছবিই কি আছে?
উ: পাশ্চাত্যের মানুষের কাছে ভারতের ভাবমূর্তি? হা ঈশ্বর, সেখানে কি কোনও একটা ছবি থাকতে পারে! বোকাদের মনে ছাড়া। এখানেও যেমন অজস্র! কিন্তু বাস্তবরূপ পদ্ধতিতে বিচার করে বলা যায়, আমি যা তেজোদ্দীপক হিসাবে দেখি তা হল ভারতবর্ষ কর্তৃক পশিমকে আক্রমণ - টিভি, পোশাকআশাক, সাজসজ্জা, রন্ধনপ্রণালী, রাস্তাজুড়ে মানুষের চলাচল - সর্বত্রই আমাদের ব্যাপক উপস্থিতি! আমি যেহেতু পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই, আমি এটাকে খুব একটা সৃজনশীল মিথস্ক্রিয় সম্পর্ক বলে বিশ্বাস করি না যেখানে নব্য ' সংস্কৃতি ' সকলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে -এবং যেখানে ভারতবর্ষ সরলঢঙে এক অধস্তন অংশীদার নয়, এখনকার পশ্চিম আর পূর্বেকার ভারতবর্ষের মধ্যে অসাম্যের যে ইতিহাসই থাক না কেন, এবং উত্তরাধুনিক ও বিশ্বায়নের সময়ে এখন যাই হোক না কেন। 
প্র: আপনি কি কখনও সৃজনশীল লেখা বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন? তা যদি না হয় তবে নিজেকে গড়ে তুললেন কীভাবে? 
উ: না, আমি এ ব্যাপারে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিইনি। এটা কি বিশেষ আমেরিকি পদ্ধতি নয়? আমি ভীত, আমি আমেরিকার প্রশংসায় ফেটে পড়তে পারছি না! সেখানে এইসব বিষয়ে শিক্ষা নিয়ে কোনও উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্ট হচ্ছে কি? তাহলে আমি কীভাবে নিজেকে গড়ে তুলতাম? অন্য ভারতীয়র মতো! আমি একা একাই শিখেছি! আর উত্তরোত্তর উন্নতি করেছি। 
প্র: জনসাধারণের বিষয় - আশয়ে লেখকদের কতটা জড়ানো উচিত বলে আপনার মনে হয়? 
উ: জনবিষয় আর লেখক। এইসব বিষয়ে সংবেদনশীল ঢঙে জ্ঞাত ও মুখোমুখি হওয়া উচিত বলেই আমার ব্যক্তিগত পক্ষপাত। কিন্তু সেই লেখক বা লেখিকার সঙ্গে আমার কোনও বিবাদ নেই যিনি বলেন, তাঁরা এ সবে জড়াবেন না বা জড়াতে পারবেন না। সবচেয়ে গুরুত্ববহ হল, আমি বিশ্বাস করি, জনবিষয়ে যুক্ত থাকার অনেক রাস্তা আছে। সব সময় যে সরাসরি যুক্ত হতে হবে, তা নয়। শিল্প, থিয়েটার, সাহিত্যের যে বৃত্তাকার পথ তা এমন এক আবহ সৃষ্টি করতে সক্ষম যা অন্য কণ্ঠস্বর বা আইডিয়ার ধারণযোগ্য। আমাদের সময়ের জে এম কোয়েৎজির কথাই ধরুন। কিংবা আমাদের ঘরের কাছের বিতর্কিত তথা স্বঘোষিত অরাজনৈতিক ভূপেন খাখারের কথাই ধরুন। 
প্র: আপনি কি নিজেকে সামাজিক বিষয় - আশয়ে জড়িয়েছেন? কখন এবং এ ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতা কী?
উ: দুম করে রাস্তায় ঝাঁপিয়ে আগুন ছড়াতে লেগে যাব- আমি সেই জাতীয় মানুষ নই ; কিন্তু স্বেচ্ছায় এবং শান্তভাবে কোনও বিক্ষোভে যোগ দিই যেমন ' সহমত ' জাতীয় আন্দোলন। আমরা এক হতচকিত সময়ের মাঝ দিয়ে চলেছি যেখানে কদর্য ঘটনাসমূহ ঘটেই চলেছে যা থেকে আমি দৃষ্টি সরিয়ে রাখতে পারি না এমনকি যদি আমি নীরবে এবং বিরলঢঙে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিইও।
প্র: আপনার সাহিত্য প্রচেষ্টায় তার প্রভাব কতখানি? 
উ: হ্যাঁ, এ সবের কিছু কিছু তো আমার কাজের মাঝে ঢুকে পড়ে। আমার দ্বিতীয় উপন্যাস ' হামারা শহর উস বরস ' অযোধ্যার সেই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিষময় ফলের ক্ষেত্রে এক উড়ান এবং বলাই যায় যে তার বিষয় ছিল মানুষের অন্তরে লালিত মোহাবিষ্ট দাঙ্গা। এবং তা পুরোপুরি এবং সরাসরি সমাজ - রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লিখিত বলে তাকে তো উপন্যাস হিসাবে নস্যাৎ করে দেওয়া যায় না! 

প্র: আপনার সাহিত্য - সৃজিত ফসলে আপনি কি সন্তুষ্ট? 
উ: লেখালিখি নিয়ে সন্তুষ্টি? আপনি কি সিরিয়াস? কখনোই নয়! আমি এখনও সেই বই লেখার অপেক্ষায় আছি যা পুরোপুরি আমার হাত ফসকে বেরিয়ে নিজস্ব ডানা সৃষ্টি করে উড়বে, অনেক উঁচুতে, স্বেচ্ছায়, আর আমাকে তার সেই সুন্দর উড়ানপানে বিস্ময় সহকারে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করবে। তার ক্ষণাভাস কখনও কখনও পাই মাত্র, তার বেশি নয়!
প্র: কোনও সাহিত্যকৃত্যের ক্ষেত্রে অঙ্কুরোদগমের ব্যাপারে কিছু বলবেন? লিখতে বসে প্রথমেই কী মাথায় আসে? একটা সাধারণ ধারণা, কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, কোনও আখ্যান, না চরিত্র? 
উ: কীভাবে লিখন- গর্ভে তা ধারণ করি, এক অবিরল রহস্যের কণামাত্র। এমনকি আমার ক্ষেত্রে আবিষ্কারও বলা যায়। এ ব্যাপারে আমার কোনও নির্দিষ্ট ফরমুলা বা তেমন কিছু নেই - একটা সাধারণ আইডিয়া, কোথাও শোনা এক অদ্ভুত বাক্য, কোনও একক ছবি - যে কোনও একটি দিয়েই শুরু হয়ে যায়। এ বিষয়ে আমার সাম্প্রতিক উপন্যাস ধরা যায়। এক বিশাল উত্তর ভারতীয় ছাদ আর তার নিচের গাদাগাদা বাড়ির ছবি আমাকে এই উপন্যাস লিখতে প্রাণিত করেছিল। লিখতে শুরু করেই দেখলাম, যে সব মহিলারা সহজে ঘরের বাইরে পা রাখত না তারা চত্বরে এসে জড়ো হওয়ার অজুহাত খুঁজে নিয়ে এমন কারও সঙ্গে দেখা করে বন্ধুত্ব পাতাচ্ছে যারা অন্য কোনও বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে এসেছে। একটিবার যখন সকলে আঙিনায় জড়ো হচ্ছে তখন তাদের সামনে আকাশটাই সীমানা আর এভাবেই তারা নিষেধের বেড়া লঙ্ঘন করছে। 
প্র: আপনার আখ্যানের স্থান কোথায়? তা কি লিখনক্রিয়া চলাকালীন রূপ লাভ করে নাকি তা চরিত্রের অনুষঙ্গ বা আইডিয়া থেকে গড়ে ওঠে? 
উ: হ্যাঁ, কিছু একটা দিয়ে শুরু হয়, তারপর পাক খুলতে থাকে, আখ্যান, চরিত্র, এমনকি আখ্যানরীতিও নিজেদের বেছে নেয়। 
প্র: লেখালিখি কি আপনার কাছে সহজকৃত্য? বা তা কঠিন মনে হয়? 
উ: আমার কাছে লেখালিখি সহজ বা কঠিন কি না? বাস্তবিকই আমি তা বলতে পারব না। এমনকি তা গভীর যন্ত্রণাদায়ক হলেও আমি বাধ্যতামূলকভাবে লিখে যাই। কখনও কখনও তা আমাকে প্রকৃত ইন্দ্রিয়ানুগ উচ্চতায় নিয়ে যায়, কিন্তু কখনও কখনও আবার আত্মহত্যাপ্রবণ চাপ ও হতাশায় ডুবিয়ে দেয়। এটা খুব মেজাজি আর তা আমাকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যায় আবার নিম্নগামীও করে। আমি যা কিছু হাতে লিখি। যেখানেই অন্ততপক্ষে মাসখানেকের জন্য থাকি না কেন আমি অফিস - নিয়মে কাজ করি অর্থাৎ নিজেকে সারাদিন একটা ঘরে বন্দি রেখে পড়ি, লিখি ( কোনও নির্দিষ্ট কিছু যখন লিখছি না তখন দরকারি কিছু টুকে রাখি), ভাবলেশহীন বাইরে তাকিয়ে থাকি। আসলে এটি একটি ধ্যানমগ্ন ক্রিয়া, কিছুটা নাছোড়,শ্রমের ছলনাহীন গুণ! 
প্র: ' মাই ' কীভাবে গড়ে উঠল? 
উ: বেশ কিছুকাল আগের ঘটনা আর আমি এই প্রক্রিয়া লিখেও রাখিনি, সুতরাং বানিয়ে বানিয়েই তা বলতে হবে! কিন্তু এটা ঠিক যে আমার মায়ের প্রজন্মের মহিলাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকারের ইচ্ছা থেকেই এই উপন্যাসের জন্ম। এটি একটি ঘোরের মধ্যে জন্ম নেয় যদিও আমি কী করতে পারি সে ব্যাপারে অনিশ্চিত ছিলাম এবং এভাবেই এই উপন্যাস যা হওয়ার কথা ছিল তাই হয়েছে। এই ক্ষেত্র প্রদক্ষিণ করতে হত সামনের যে কোনও দিকে এগোনোর সক্ষমতা নিয়ে। সুতরাং এটা ছেলেমানুষী কাজ, প্রাথমিক কাজ হতে যাচ্ছে মনে হলেও আমাকে তা লিখতে হয়েছিল এবং এভাবেই অন্য দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জন্য নিজেকে মুক্ত করতে হয়েছিল। যখন লেখা চলছে, পরতে পরতে তা খুলে যাচ্ছে - তারা দুর্বল আমরা শক্তিশালী? তারা নিষ্ক্রিয় আমরা পরিবর্তনের শক্তি? আমি খসড়ার পর খসড়া করে গিয়েছি এবং থেমে গিয়েছি যা আমি সর্বদা করি না যখন আমি সন্তুষ্ট হলাম কিন্তু যখন মনে হল, এটাই আমার সামর্থ্যের শেষ সীমা, আমাকে এখন ছেড়ে দিতে হবে নইলে আমি এখানেই জীবনভর আটকে থাকব। 
প্র: ' মাই ' শেষ করার পর আপনার প্রথম অনুভূতি কেমন ছিল? 
উ: অর্থাৎ প্রাথমিক ভাবনাগুলো... আমাদের জন্য তা কি আপনি স্মরণে আনতে পারেন? আমার প্রথম অনুভূতি আমি মনে করতে পারি না কিন্তু আমার মনে হয় আমি বুঝেছিলাম যে কী হবে তা নিয়ে যতটা ভয় পেয়েছিলাম ততটা সহজ এবং মৌলিক তা ছিল না কারণ যা কিছু বলা বা করা হয়েছিল, আমার মন সেরকম সরল, অস্তরীভূত ও নড়বড়ে নয়। 
প্র: ' মাই ' শেষ করার পরপরই আপনি কী করেছিলেন? 
উ: ঠিক সঙ্গে সঙ্গে কী করেছিলাম, মনে করতে পারি না, কিন্তু হয়তো হঠকারীর মতো একটা থিয়েটার দলের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আমি প্রায়ই ওই দলের সঙ্গে স্ক্রিপ্ট - লেখকের কাজ করতাম। আমার মাসকয়েকের ভানসর্বস্ব সৃষ্টির জগৎ আমার মূল লেখালিখির জগতে ফিরে আসার ব্যাপারটি অবাস্তব করে তুলেছিল। 
প্র: গল্প বলা আর লেখার মধ্যে কোনও পার্থক্য আছে কী?
উ: আমি মনে করি সব সময় সেখানে একটা পার্থক্য আছে যদিও দুটোরই লক্ষ এক- গল্প ' বলা'। পৃথক শ্রোতা একটা বড়ো কারণ। একটি ক্ষেত্রে শ্রোতা পরিবর্তনশীল তথা দৃশ্যমান এবং সেখানে বক্তাকেও দেখা যায় যেখানে গল্প বলার কাজটি সামনাসামনি, পরিবর্তনীয় এবং এক তাৎক্ষণিক প্রদর্শন বা সম্পাদন। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে পাঠক অদৃশ্য, তাই শীঘ্রই, লেখক এবং তার ' বলা ' আপেক্ষিকভাবে নির্দিষ্ট ' বক্তব্য 'তে পরিণত হয়। সেখানে পরিবর্তনীয় কৃতকর্ম থাকে তথা থাকে পরিবর্তনশীল পাঠক যারা পড়বে / শুনবে/ নানান অর্থ / ধ্বনির উত্থান -পতন / দৃশ্য খুঁজে বের করবে কিন্তু মৌখিক ও লিখিত গল্পের মধ্যে যে হ্রাস- অসাধ্য পার্থক্য সেই জায়গাটি থেকেই যাবে। 
প্র: আপনার জীবন ও লেখালিখিতে হিন্দুস্থানি মার্গ সংগীতের একটি গুরুত্ববহ ভূমিকা আছে বলেই মনে হয়। আপনি কতটা এই জাতীয় গান শোনেন? 
উ: আমি হিন্দুস্থানি সংগীত ভালোবাসি এবং প্রায়ই তা শুনি। মল্লিকার্জুন মনসুর আর আমির খান আমার প্রিয় দুই শিল্পী। এ বিষয়ে আমার সংগ্রহে যা আছে তা একজন গানের সমঝদারকে হিংসুটে করে তুলতে যথেষ্ট!
প্র: আপনার সন্তোষজনক প্রচেষ্টা কী? কোনও একটি লেখা লিখে কি আপনার মনে হয়েছে যে তা ঠিক যথেষ্ট হল না? 
উ: আমার সমস্ত লেখার ক্ষেত্রেই একটি মিশ্র অনুভূতি কাজ করে। সবগুলিই মনে হয় প্রভূত শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় এবং অংশত ভালো। কিন্তু এখনও অব্দি আমার কাজ সম্পর্কে সেই বোধে জারিত হতে পারিনি যে শেষ পর্যন্ত তা সুন্দর একটা কিছু হয়ে উঠল। এটা যেন এইরকম যে আমি চূড়ান্ত সেরা লেখাটির প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাস করছি ; কিন্তু এমনকি আমার শেষ বইটিও কি সেই জায়গায় যাবে?!
প্র: এখন কী নিয়ে লিখছেন? 
উ: ঠিক এখন কী লিখছি? কিছুই না! এই মুহূর্তে আমি মৃতপ্রায় হয়ে ভাবছি যে লিখতে না পারলে আমি মরে যাচ্ছি না কেন! 
প্র: যেহেতু ' মাই ' ক্রসওয়ার্ড বুক অ্যাওয়ার্ড -এর জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়েছে, আমাদের বলুন এই পুরস্কার পাওয়া আর স্বীকৃতি লাভ করার বিষয়টি কতখানি গুরুত্ববহ? 
উ: পুরস্কার এবং স্বীকৃতি মজা, আনন্দ এবং প্রোৎসাহ লাভের মতোই বিরাট একটা কিছু; কিন্তু তাতে যদি ' রাজনীতি '- রং লাগে তাহলে আমি তা থেকে সতর্ক হয়ে যাই।
ক্রসওয়ার্ড। তা পাওয়া সম্মান এবং আনন্দের এবং আমি এই স্বীকৃতিকে মেনে নেব আর এতে পাঠক - সংখ্যাও তো বাড়বে। কিন্তু আমি না পেলেও আমার লেখকসত্তা নিস্তেজ হয়ে পড়বে না। 
প্র: হিন্দি সাহিত্যের বর্তমান অবস্থা কী? আপনি কি মনে করেন যে তা কিছুমাত্রায় অভিজাত ? 
উ: হিন্দি সাহিত্য নানান কিছুর মিশ্রণ। উত্তরভারতের একটা বিশাল অংশের কথা আর সেখানকার অসম সাক্ষরতার বিষয়টি নিয়ে আমরা বলাবলি করি। যাই হোক, তার মধ্যেও হিন্দি সাহিত্য অনুনাদময়, বৈচিত্র্যময় আর তা সাগ্রহে আত্মসাৎ করেছে অভিজাতরা, সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞজন এমনকি জনপ্রিয় বৃত্তের লোকজনও। 
প্র: বিস্তৃত পাঠকের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কী করা যায় বলে আপনি মনে করেন? 
উ: আপামর পাঠকের কাছে পৌঁছাতে হলে শিক্ষাই মূল চাবিকাঠি। এ ছাড়া আছে ভালো বাজারের নেটওয়ার্ক, ভালো প্রচার, আরও ভালো মানসম্পন্ন অনুবাদ এবং হিন্দি প্লাটফর্ম তৈরীতে যত রকমের সাহিত্যগত ফোরাম গড়ে তোলা যায় সেই ব্যাপারে সচেষ্টতা। 
নিশ্চিতভাবে আমার কাজ যা ইংরেজিতে হয়েছে তা অধিকতর পাঠকের কাছে পৌঁছেছে। ' মাই ' ইংরেজিতে অনূদিত হওয়ার পর এক বছর না যেতেই তার পর্যালোচনা হয়েছে, আমার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে নানান ছবি উঠেছে যা হিন্দিতে বইটি বেরুনোর পর দশ বছর পেরিয়ে গেলেও হয়নি! কিন্তু আমরা সেই ভাষাতেই লিখতে পারি যা আমার, যা আমি ভালোবাসি এবং ভালোবাসতে পারি। কিন্তু অনুবাদ যদি তাকে বিশাল পাঠকের কাছে নিয়ে যায় আর প্রভূত অর্থাগমও হয় তাহলে কে কী ভাববে?!
প্র: নীতা কুমারের করা আপনার বইয়ের অনুবাদ সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন? এটা কীভাবে হল?
উ: নীতার তরজমা খুবই সুন্দর এবং আমাকে এটাই বারবার বলেছিল সে হঠাৎই বইটি পড়ার সুযোগ পায়- তার এক সহকর্মী তাকে বইটি পড়তে দিয়েছিল এবং সে আমাকে লিখেছিল, বইটির তরজমা হয়েছে কি না, না হয়ে থাকলে সে করতে পারে কি না? এটা অনেকটা স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোনও আকস্মিক বস্তুর মতো! 
প্র: মূল লেখা বাদে এ ক্ষেত্রে আপনার অবদান কী?
উ: আমার অবদান? প্রায় নেই বললেই চলে। লেখাটির বেশির ভাগ অংশের খসড়া করার পর আমরা একবার এক সঙ্গে বসেছিলাম, প্রতিটি লাইন খুঁটিয়ে পড়েছিলাম এবং তা মূলত আমাদের বেদিতাকে একসূত্রে বাঁধার জন্য এবং এটিও জানার জন্য যে কে কীভাবে পড়েছি বা লিখেছি। একবার আমাদের মধ্যেকার ব্যবধান ঘুচে যাওয়ার পর আমি বিশ্বস্ততার সঙ্গে বইটি তার হাতে তুলে দিই। 
অবশ্যই, দুষ্টুমি করে আমি যদি খানিকটা জুড়ে দিতাম, কোনও লেখকই অনুভব করত না যে মূল লেখাটির চাইতে তরজমাটি ভালো। হিন্দির বাস্তবতা অন্য কোনও ভাষার বাস্তবতা নয় আর আমি তার সঙ্গে দারুণভাবে সম্পৃক্ত! 
কিন্তু ভালো অনুবাদে জাদু আছে। সে জাদু সৃজনের কিংবা বরং পুনঃসৃজনের, অপর হয়ে ওঠার জাদু, এবং পুনরায় ভিন্ন একটি হয়ে ওঠা।
প্র: আপনার লেখাপত্র পড়ে যেমনটি মনে হয় আপনি কি ততটাই শক্তিশালী নারীবাদী? 
উ: আমি জানি না, কীভাবে, কেন, এবং কোন ধরনের নারীবাদী তথ্য আমার বইয়ে পেয়েছেন। মহিলাদের ও তাদের অভিজ্ঞতার প্রতি আমি নিজেকে একজন সংবেদনশীল মানুষ বলেই মনে করি, কিন্তু অনমনীয় আদর্শযুক্ত নারীবাদী আমি নই। 
প্র: জীবনের প্রারম্ভেই কি জানতেন যে আপনি ' মাই ' লিখতে চলেছেন? 
উ: না, জানতাম না। 
প্র: নিশ্চিন্তি,নিরাপত্তা আর শ্বাসরোধী অবস্থার অন্তঃসলিলা মিশ্রণে আপনি আটকে গিয়েছেন বলে মনে করেন। এখনও কি তা আপনাকে বিব্রত করে কিংবা তাকে আঁকড়ে ধরতে পেরেছেন ; যদি পেরে থাকেন, কীভাবে? 
উ: আপনি কি এটাই বলতে চাইছেন যে ' মাই ' উপন্যাসের মূল চরিত্র আর আমি এক এবং অভিন্ন কি না!! এবং এর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে আপনার অভিমত যে ' মাই ' আত্মজীবনীমূলক কি না। আপনাকে কয়েকটি কথা বলি - যে পর্যন্ত আমার মনে হয়েছে যে উক্ত উপন্যাসের মূল চরিত্র ' নিশ্চিন্তি, নিরাপত্তা আর শ্বাসরোধী অবস্থার অন্তঃসলিলা মিশ্রণে আটকে গেছে ' তখন ভেবেছি, ' মাই ' লেখার আগেই আমি এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারব! এখন যা কিছু বলতে পারি যে ঘরে কিংবা বাইরে, সমর্থন বা বিরুদ্ধতা যাই থাক না কেন, আমার মধ্যে সব সময় এক প্রচণ্ড স্বাধীন উদ্দীপনা লালন করেছি এবং তা মিইয়ে যেতে অনেক দেরি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন