দময়ন্তী'র গল্প : দুষ্কালের পদধ্বনি



১)

কটনমিলের পুকুরে সদ্য স্নান করে এসে কার্নিশে বসে পাখনা ছড়িয়ে ঠোঁট দিয়ে পালকের মধ্যে থেকে কুটোকাটা , বালির দানা পরিস্কার করতে করতে সামনের জানলার পাল্লার দিকে নজর রাখছিল কমলেকামিনী। ওদিকে সামনের লোহার গেটখুলে গাড়ি থেকে বড় লাল স্যুটকেসটা নামিয়ে বারান্দায় রাখছিল ঝরোখা। সুমনা ফিল্টারে জল ভরছিল জানলার পাশে দাঁড়িয়ে। গেটের আওয়াজ শুনে এসে শোবার ঘরের দরজা খোলে, স্যুটকেসটা গড়িয়ে এনে খাট আর দরজার মাঝের ফাঁকটায় খাটের মাথা ঘেঁষে রাখে। ঝরোখা গাড়ির ভাড়া মিটিয়ে মস্ত ব্যাকপ্যাক আর কাঁধে তেরচা করে ঝোলানো ব্যাগটা নিয়ে ঘরে ঢোকে। শোবার ঘরে পরে যাবে, আগে ছ্যাঁচাভারী ব্যাকপ্যাকটা রেখে ঘড়িটড়িগুলো খোলা যাক। সুমনা আবার ফেরত যায় ফিল্টারের সামনে, জানলার পর্দাটা সরায় একটু। কমলেকামিনী ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এদিক ওদিক দেখে। কার্ণিশের নীচের দরজাটায় আওয়াজ হয় ক্যাঁঅ্যাঁচ খটাশ। দীপাবৌদি উঠে কলতলায় যাচ্ছে। সুমনা আবার পর্দাটা টেনে দেয়, বাড়িগুলো এত ঘেঁষাঘেষি! কমলেকামিনী ডানা ছড়িয়ে কটনমিলের ফ্ল্যাটগুলোর দিকে উড়াল দেয়, এখন আর এখানে বসে থেকে লাভ নেই।

“কী থেকে কী হয়? কী থেকে কীঈ হয়? কীই থেকে কীঈঈ হয়?” ঝরোখা চমকে ওঠে, মা’র গলা ক্রমশ চড়ছে, শোবারঘরে উঁকি মেরে দেখে খাটে পা ঝুলিয়ে বসে মাথা ঝুঁকিয়ে মা বলে যাচ্ছে প্রায় একশ্বাসে। কী বলবে, কিছু বলবে কিনা ভাবতে ভাবতে ঘরে ঢুকে আলনার নীচের তাক থেকে থেকে বাড়িতে পরার চটিটা বের করতে যেতেই মা চমকে সোজা হয়ে জিগ্যেস করে ‘রুখু এলি? রুখুউ?”

“হ্যাঁ। কী বলছ তুমি?’

“ওমা কি মজা কি মজা রুখু এসেছে কি মজা”

এবার প্রায় দশ মাস বাদে বাড়ি এলো, মা’য়ের চেহারাটা ভাল করে খেয়াল করে দ্যাখে হাত গাল মুখ সব খুব ফোলা, চোখদুটো প্রায় ঢেকে গেছে, একটু জোর দিয়েই আবার জিগ্যেস করে “কী বলছিলে?” “ওই যে কী থেকে কী হয় বলতো? কী থেকে কীইই হয়”? রুখু আর কথা খুঁজে পায় না, গত ফেব্রুয়ারীতে বেশ স্বাভাবিকই দেখে গেছিল। বুকের মধ্যে হালকা চাপ চাপ লাগে, আস্তে আস্তে জামাকাপড় সাবান গামছা নিয়ে বাথরুমে ঢুকে যায়।

পতাকা এসে গেটের সামনে খানিক বসে। গা মোড়ামুড়ি দিয়ে পা’গুলো টান করে আড়মোড়া ভাঙে তারপর উঠে আসে স্ল্যাবের উপর, দুইপাক ঘুরে শুয়ে পড়ে। কমলেকামিনী উড়ে এসে সামনের ল্যাম্পপোস্টে বসে দুবার পাখনা ঝাড়ে, পতাকা বিরক্ত হয়ে নীচে থেকে ধমক দেয়। ‘আবার বকচে দ্যাখো! তুই ওকে ধরতে পারবি? দেখি সর একন গেটটা ছাড়” বলে গজগজ করতে করতে চঞ্চলাদি গেট খুলে ঢোকে। চঞ্চলাদি বারান্দা দিয়ে ঢোকে না, পাঁচিল আর বসার ঘরের মাঝের সরু ফাঁক দিয়ে ঘুরে গিয়ে কলতলার দিকের দরজা দিয়ে ঢোকে। রুখু বাথরুম থেকে বেরিয়ে চঞ্চলাদির সাথে একটু কথা বলে। অনেকদিনের পুরানো লোক, বাড়ির রান্নাবান্না থেকে ছাদ ঝাঁট দেওয়া, তুলসীতলা পরিস্কার থেকে পুজোর আগে পর্দাকাচা, বিছানা বালিশ রোদ্দুরে দেওয়া, ঝাড়পোঁছ কাচাকাচি সবই একাহাতে করে। আসে সেই দিয়ারা থেকে, তারকেশ্বর লাইনের ট্রেনের গন্ডগোল থাকে প্রায়ই, তা সত্ত্বেও চঞ্চলাদি ছুটি খুব কম নেয়। কী করে যেন ঠিক পৌঁছে যায় রোজ। কাজেকর্মে যেমন চৌকশ, তেমনি হাজিরজবাব। মা’র ভাষায় “চঞ্চলা আমাদের চোপায় খোঁপায়।“

সুমু ইতিমধ্যে চা করে মা’কে দিয়েছে, সঙ্গে দুটো থিন অ্যারারুট বিস্কুট। খাটের সামনে একটা প্ল্যাস্টিকের টুল রেখে তাতেই খাবার চা সব দেওয়া হয়। ডাইনিঙ স্পেসের জানলার পর্দাটা টেনে সরিয়ে দেয় সুমু, একটা বোতল নিয়ে ফিল্টার থেকে জল ভরে। কমলেকামিনী এসে দীপাবৌদিদের কার্ণিশে বসে আবার ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘরের ভেতরটা দেখার চেষ্টা করে। চা খাওয়া হলে সুমু পড়ে থাকা বিস্কুটের টুকরোগুলো কুড়িয়ে এনে ফিল্টারের পাশের জানলার বাইরে রেখে দেয়। কমলেকামিনী তুড়ুক করে নামে, মুখে করে নিয়ে নিয়ে কার্ণিশে জমা করে। কোত্থেকে যেন দুটো বেপাড়ার শালিখ এসে বিস্কুটে ভাগ বসানোর চেষ্টা করে ভীষণ কাঁইকাঁই করতে থাকে। কামিনী বিরক্ত হয়ে ঠোঁটে দুটো বড় টুকরো ধরে কোথায় যেন উড়ে চলে যায়। রুখু বলে ‘দ্যাখ ঠিক মোটার মত।” সুমু হাসে, “হ্যাঁ বোধহয় মোটা আর সরুর বংশেরই হবে।“ রুখুরা যখন স্কুলে পড়ত, মোটা আর সরু ওদের নারকেলগাছে থাকত। সুমু বলে “মনে আছে তোর মোটা কেমন ফুচকা নিয়ে আসত সরুর জন্য।” রুখু হেসে ওঠে “হ্যাঁ সেগুলো দিব্বি খেয়ে নিত। কিন্তু সোনালী চুড়িটা দেখে সরু খুব রেগে গেছিল। বারবার ওর বাসা থেকে পা দিয়ে ঠেলে ফেলে দিচ্ছিল আর মোটা আবার তুলে এনে রাখার চেষ্টা করছিল। শেষে লেজভাঙা ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গেল।” দুই বোনে একসাথে জোরে হেসে ওঠে।

পেছনের বাড়ির ভুতো এইবার উঠে মিউজিক সিস্টেমে কি একটা গান চালায় গাঁক গাঁক করে, রুখু শোনে খালি ‘বম বম ববম বম বম ববম বম বম”। কি অত্যাচার! ওদের ছোটবেলায় আকাশবাণী কলকাতা ক’এ সুগম সঙ্গীতের আসর হত এইসময়। সুমু চানে ঢুকেছে, খেয়ে অফিস যাবে। চঞ্চলাদি তাড়াহুড়ো করে মাছ, তরকারি পাশাপাশি দুটো গ্যাসে বসিয়ে হাত চালাতে চালাতে বলে ‘তুমি এসে পড়েছ, পিসিমণিকে একবার ভাল করে ডাক্তার দেখাও দিকি, কি ফোলাটা ফুলেছে”। ঘাড় নেড়ে দোতলায় উঠে যায় রুখু। সুমু ওর বিছানা করে রেখেছে, একটু গড়িয়ে নিয়ে তারপর দিন শুরু করবেখন। রাস্তায় পতাকা বাকী কুকুরদের সাথে মিশে খুব চেঁচামেচি করছে, মেথরপট্টি থেকে শুয়োর এসেছে হয়ত। শুয়োর দেখলে পতাকারা খুব রেগে যায়। চোখটা একটু লেগেই এসেছিল, ঘুম যখন ভাঙল তখন বেশ বেলা। সূর্য্য একেবারে জ্যাঠাদের বাড়ির ছাদের উপর দিয়ে এসে গেছে মানে অন্তত এগারোটা তো হবেই। রুখু উঠে দরজা খুলে বাইরে ছাদে আসে। জ্যাঠাদের উঠোনে রুনিপিসীর লাগানো আমগাছটার ডালপালা একটু ছেঁটেছে মনে হচ্ছে। রুনিপিসী আসে তিন কি চার বছরে একবার। রুনিপিসীর বিয়েটা দাদু যখন আসামে ঠিক করল তখন জ্যাঠা আর বাবার খুব আপত্তি ছিল অতদূরে দিতে, তাছাড়া পিসেদের অবস্থাও তেমন কিছু ভাল ছিল না। কিন্তু দাদু ওই সরকারি চাকরি আর ‘ছ্যারাটা ভালা’ বলে কারো কথা কানেই নেয় নি। আগে আগে তো এলেই মা’র সাথে গড়িয়াহাট যেত। এখন কতবছর আর ... রুখু অন্যমনস্কভাবে তাকায়, কমলেকামিনী কোত্থেকে উড়ে এসে সামনে কোণার বাঁশের মাথায় বসে, ঘুরেফিরে রুখুকে দেখে। রুখুর কেমন যেন অস্বস্তি হয়, ঘাড়ের পেছনে শিরশির করে। দরজা বন্ধ করে নীচে চলে আসে।

মা’কে স্নান করার জন্য উঠতে বলছে আয়া, এ একজন মাঝবয়সী। আগে বছর দুয়েক একটি অল্পবয়সী মেয়ে করত। মা কিছুতেই উঠতে চাইছে না, রুখুকে দেখে অবাক হয়ে বলে “আরে রুখু কখন এলি? কবে এসেছিস? আমাকে তো কেউ বলে নি”। রুখু হকচকিয়ে গিয়ে বলে “সে কি সকালে এলাম যে! তুমিই তো বললে তখন”। মা বলে “ও, কতদিন থাকবি? কিছু খেয়েছিস? কফি খেয়েছিস? জলখাবার? ওই দ্যাখ চঞ্চলা বোধহয় কিছু রেখে গেছে ফ্রীজে, ও তো রাখে করে এটা সেটা”। “হ্যাঁ চঞ্চলাদি সব বানিয়ে টেবলে রেখে গেছে। তুমি চান করবে না? এত ফুলেছ কী করে?” মা প্রায় কেঁদে ফেলে বলে “না রে মা নারে মা পায়ে পড়ি আমি চান করব না”। নতুন আয়াটি বিব্রতমুখে বলে “মাসীমা রোজ এমন করেন”। রুখু বলে থাক আজকে, ঠান্ডাটাও বড্ড পড়েছে, এখানেই যতটা সম্ভব গা মুছিয়ে মাথা ধুইয়ে দাও। নাম কি গো তোমার?” “তৃপ্তি। তোমার কথা তো চঞ্চলা প্রায় বলে গো। ভাল আছ তো? ছোড়দি তো কথা বেশী বলে না, তাই জানতুম না যে তুমি আসছ”। জানে তা রুখু, বোনটা ওর ভারী শান্ত। পাঁচ বছর আগে বাবা যাবার পর থেকে আরো কথা কম বলে সুমু। মা’র দেখাশোনা ওই করে, রুখু তো আজ কুড়ি বচ্ছর বাইরে। আর গত ক’বছরে মা’র সাথে রুখুর সম্পর্ক একদমই আলগা হয়ে গেছে। এই যে দশমাস বাড়ি আসে নি, রুখু একবারও ফোন করে নি। এমনকি বিজয়ার পরেও না। গতবছর অবধি মা’ই জন্মদিনে, বিজয়ায় ফোন করত, সুমুই করে ধরে দিত। এইবছর আর মা’ও করে নি, রুখু আন্দাজ করেছে অবস্থা খুব সুবিধের নয়, কিন্তু তাও নিজে থেকে করে নি। বোনটাকে মেসেজ করেছে, জন্মদিনেও করেছে। বাবা যাওয়ার পর পর মা’র শরীর খারাপ হলেই সুমু দিদিকে জানাত। কিন্তু সেই যে একবার মা চরম খারাপ ব্যবহার করল, ভীষণ বৃষ্টির রাত্রে বলল ‘বেরিয়ে যা। যা বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে” --- ব্যাস রুখুর ভেতর থেকে শিকড়টা পট করে ছিঁড়ে গেল। বাড়ি আসা খুব কমিয়ে দিল, আর সুমুর মেসেজের জবাবে কিছু জিগ্যেস করত না বা পরামর্শও দিত না, সম্পূর্ণ অন্য একটা কথা লিখত। সুমু বুঝে গেল, ও ও আর মা’র কথা কিছু বলত না। এখন বছরে একবার কি দুবার আসে, আসার আগে সুমুকে জানায়। সুমু বিছানা পেতে, মাছ এনে সব তৈরী রাখে। রুখু আসে, থাকে, চলে যায়। সুমু সারাদিন অফিস করে এসে রাতে আবার ভাত রান্না করে ডাল তরকারি মাছ গরম করে মা’কে খেতে দেয়। রুখুকে দেয় নিজে নেয়। রান্নাঘর ধোয়, বাড়তি খাবার তুলে মা’র মশারি টাঙিয়ে তবে নিজের ঘরে যায়। রুখু এসে অতিথির মতই থাকে আলগা আলগা।


২)

মাঝে কদিন সুন্দরবন থেকে ঘুরে এসে ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি রুটিন টেস্টগুলো করিয়ে মা’কে ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করে রুখু। প্রতিদিন সকালে আর রাতে মা নিয়ম করে সুমুকে জিগ্যেস করে রুখু কবে এলো? কতদিন থাকবে? কমলেকামিনী সকালে একবার বিস্কুট আর সুমুর ভাত খাবার সময় কোন কোনদিন মাছের কাঁটাটা কি দু’চারদানা ভাত পায়। পতাকার জন্য রাতে মাছের ঝোল কাঁটা দিয়ে মাখা ভাত আর একটা রুটি থাকে। এসে খেয়ে যায়। কোনো কোনোদিন পতাকার পাত্তা পাওয়া যায় না, চাক্কু বা ফুলু এসে খেয়ে যায়। খেতে বসে রুখু জিগ্যেস করে এটা সেটা, সুমু উত্তর দেয়। বড়জেঠিমা ভালই আছে, মেজজেঠিমা এসেছিল একদিন মা’কে আর বড়জ্যেঠিকে দেখতে, ছোটমামা আর ফোন করে না, বড়মামা করে মাঝে মাঝে, এইসব দু পাঁচকথা। বড়মামার কথা তুলে রুখু একটু চুপ করে যায়। ওর ডিভোর্সের সময় সবচেয়ে রাগারাগি বড়মামাই করেছিল, ‘মাইয়্যালোকের এত ত্যাজ কিসের? কয় পয়সা ঘরে আনস দেইখ্যা সাপের পাঁচ পা দ্যাখছস?’ বড়মামাই বলেছিল রুখুকে দেখেই সুমু বিয়ে করতে চায় না, রুখুর জন্যই সুমুর একটা সংসার, একটা সুস্থ জীবন হল না। রুখু বোনের দিকে তাকিয়ে দেখে সিঁথির দুপাশে চুল পাতলা হয়ে এসেছে, রূপোলি হিজিবিজি মাথা জুড়ে। রুখুর মাথা যত্ন করে কপার ব্রাউন শেডে রং করানো, এমনি ছেড়ে দিলে চুনের হাঁড়িই হবে। বুকে আবার একটু চাপ চাপ লাগে।

সুমু চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে, কথা পাল্টাতে রুখু ভোটার লিস্টের কথা তোলে। রুখুর নাম এখান থেকে কাটিয়ে দিয়েছিল মা বছর দশেক আগেই, ডিভোর্সের সময় সেখান থেকেও নাম কাটা যায় এরপরে নতুন শহরেও আর নাম তুলিয়ে উঠতে পারে নি, ওর ভোটার আইডি নাকি অচল হয়ে গেছে। আসামে ঝামেলা শুরু হবার পর এদিকেও কিছু কিছু কথা বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এরমধ্যে আজকেই রুনিপিসীর খবরটা এসেছে বড়জ্যেঠির কাছে। সুমু অনলাইনে চেক করে রুখুর নাম যোগ করার চেষ্টা করেছিল, দরখাস্ত কোথাও একটা জমা হয়ে আছে। সুমু বলে ওরা একটা তারিখ দেবে সেদিন সব আসল নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে ভোটার লিস্টে নাম তুলে আসতে হবে। রুখু বলে ‘যদি সেই সময় ছুটি না পাই? কদিন সময় দেবে রে?’ “ওই দুই তিনদিন।“ রুখু মনে মনে হিসেব করে কর্পোরেশানের দেওয়া বার্থ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, প্যানকার্ড, আধার সবই তো আছে। তাজপুরের ওর নিজস্ব বাড়ির দলিলও। সুমুটার ৭১ এর পরে জন্ম, বার্থ সার্টিফিকেট, প্যান আর আধার আছে, পাসপোর্ট নেই, কিন্তু ভোটার লিস্টে নাম আছে। বিভিন্ন কারণে দুই বোনই কেটে যেতে পারে নাগরিকত্বের পরীক্ষায়। গেটের সামনে গিয়ে পতাকাদের খাওয়া দেখতে ইচ্ছে হয় না, রুখু চুপচাপ উপরে চলে যায়। সুমু এখনো রান্নাঘর ধোবে, মা’কে ঠিক করে শোয়াবে।

দাদু খুব জোর দিয়ে বলত ‘আমি ভারতবর্ষে জন্মাইসি, ভারতবর্ষেই মরবাম।“ ১৯০০ সালে দাদু যখন ঢাকা শহর থেকে ছয়ঘন্টা দূরত্বের এক গ্রামে জন্মায় তখন সেই মাটিটুকু ‘ভারত’ নামেই পরিচিত ছিল বটে। সে ভুখন্ডের নাম বদলে যাবার পর দাদু আবার খুঁজে খুঁজে ভারত নাম বহাল আছে এমন মাটিতে নিজের বসতবাড়ি বানায়। আচ্ছা দাদুর কি রিফ্যুজি কার্ড ছিল? ছিল নিশ্চই, নাহলে বাড়ির জমিটুকু যোগাড় করেছিল কী করে? কাল একবার বড়জেঠিমাকে জিগ্যেস করে দেখতে হবে রিফ্যুজি কার্ডের কথা কিছু জানে কিনা? ‘ঔ-উ-উ-উ-উ-উ-উ’ তীক্ষ্ণ করুণ স্বরে নীচ থেকে কুকুর কেঁদে ওঠার আওয়াজে চমকে বাইরে ছাতে বেরিয়ে আসে রুখু। গেটের বাইরে স্ল্যাবের উপরে বসে আকাশের দিকে মুখ তুলে ফুলু কাঁদছে, মোড়ের ল্যাম্পপোস্টের ফ্যাটফ্যাটে সাদা এলইডি লাইটে ফুলুকে দেখাচ্ছে তুষার শেয়ালের মতন। এরকম কান্না শুনলেই মা আগে বলত কিছু অশুভ আসছে সামনে, রুখুর বাবা হা হা করে হেসে বলত ‘এই আমি আছি মূর্তিমান অশুভ, অশুভে অশুভে কাটাকাটি হয়ে যাবে” রুখুরাও হাসত, মা রেগে যেত খুব। “না-আ না-আ শোব না” মা’র গলা শোনা যায় নীচ থেকে। রুখু এসে সিঁড়ির মুখটায় দাঁড়ায়। সুমু চাপা গলায় বলছে “ওঠো, খাটে পা তোলো। ওঠো ওঠো, হ্যাঁ এবার পাশ ফেরো, এই যে কম্বল” “মেরে ফেলিস না আমাকে মেরে ফেলিস না সুমু। ও সুমু মেরে ফেলিস না” প্রায় হাহাকার করে বলছে মা। আমগাছের ডালে বসে থাকা কুটুরে প্যাঁচা এইসময়ই চ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ করে ডেকে মস্ত ডানাজোড়া ছড়িয়ে উড়াল দেয়। ফুলু হঠাৎ চুপ করে যায় একদম। মা’র গলা ঘুমে জড়িয়ে আসে। সুমু কম্বলটা বুক অবধি তুলে দুইপাশে গুঁজে দিয়ে যায়। রুখু ছাতের দরজা বন্ধ করতে গিয়ে একঝলক দেখে সরুফালি চাঁদ ডানায় ঢেকে উড়ে যাচ্ছে কুটুরে প্যাঁচাটা।

ডাক্তার জিগ্যেস করেন ‘মাসীমা ঘুম হয়? পায়খানা হয়?” মা জিগ্যেস করে “আমি কি মরে যাচ্ছি ডাক্তারবাবু?” ডাক্তারবাবু জিগ্যেস করেন ‘নেবুলাইজারে কি একটু আরাম পান?” মা জিগ্যেস করে “আমার বড়মেয়ে কবে আসবে জান রেণু?” ডাক্তার একঝলক তাকান ঝরোখার দিকে। অসাড়ে পেচ্ছাপ হয়ে ভিজে যায় শাড়ি, বিছানার চাদর। ডাক্তার লেখেন ক্যাথেটার লাগানোর কথা, আরো দুটো নতুন ওষুধ। নেবুলাইজার চলবে দিনে তিনবার। আটশটাকা ভিজিট বাড়ি এসে দেখবার, রুখু বাড়িয়ে দেয়। হেলমেট তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান ডাক্তার। তৃপ্তি এবার বলে “রেণু কে? আমি তৃপ্তি। কতবার বলিচি আপনাকে মাসীমা।“ মা এতক্ষণে রুখুকে দেখতে পায়। “ওমা তুই কখন এলি? আমি পার্বতীকে জিগ্যেস করছিলাম তোর কথা।“ মা’র খাটের পাশের জানলাটা খোলা। রুখু তাকাতেই দেখে আমগাছের একটা নীচু ডালে বসে কমলেকামিনী ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। ওর সাথে চোখাচোখি হতেই ঘাড় কাৎ করে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ ঠোঁট দুটো ফাঁক করে কিন্তু কোন আওয়াজ হয় না। রুখুর গা’টা শিরসির করে ওঠে, চোখ সরিয়ে নিয়ে জানলার পাল্লাটা টেনে দেয়। কামিনী তখনো একদৃষ্টে তাকিয়ে।

ব্যাগপত্তর গুছিয়ে তৃপ্তি বেরিয়ে যায় ওর সময় হয়ে গেছে। “শুয়ে পড়ো এবার।” রুখুর কথায় মা বলে ‘খাব তো, সুমু খেতে দেবে এখন।“ “আরে এই সবে সন্ধ্যে হল সুমু তো এখনো আসেইনি। এখনো তিন চার ঘন্টা বাকী আছে রাতের খাবারের।” “তিন ঘন্টা? তাহলে কী খাব? খিদে লাগে না?” কেমন অসহায় বাচ্চার মত বলে মা। “আচ্ছা মিষ্টি খাও একটু” ক্ষীরের নাড়ু ভেঙে একটা কোণা হাতে গুঁজে দেয়, “আর খাবে?” ঘাড় নাড়ে মা, “কোত্থেকে আনলি রে? বেশ খেতে, ঠোঁট চেটে স্বাদটুকু সাপটে নিতে চায়। রুখু একটু একটু করে পুরো নাড়ুটাই খাইয়ে দেয়, কুড়ি এমএল মাপের বোতলে জল ভরে রেখে গেছে সুমু, দুই চুমুক খেয়ে ফিরিয়ে দিয়ে পাশ ফিরে শোয়। “রুনি আসলে আমাকে ডেকে দিস তো, এখন ঘুমাই।” “রুনিপিসী কোত্থেকে আসবে?” “ওমা জানিস না? রুনি এসে তো কলকাতা গেছে বাজার করতে, মনুর বৌয়ের শাড়ি কিনবে, নাতনির জামা, বেডকভার।“ বলতে বলতে চোখ বন্ধ করে মা। রুখু ভাবে মা কি তবে কাল শুনতে পেয়েছে কিছু কোনভাবে?

ফোনটা হাতে নিয়ে বসার ঘরে বসে ফেসবুক, খবরের সাইট খোলে রুখু। আসামের ডিটেনশান ক্যাম্পে আটক মহিলাদের নিয়ে একটা প্রতিবেদন। পাহারাদার, কর্তাব্যক্তিদের ধর্ষণ তো সাধারণ ব্যপার সেখানে। পড়তে পড়তে রুখুর হাত পা অবশ হয়ে আসে, পশ্চিমবঙ্গেও রাজারহাট আর বনগাঁয় ডিটেনশান সেন্টারের জন্য জমি নেওয়া হচ্ছে। আচ্ছা রুখুকে ধরলে তো ভিনরাজ্য থেকে ধরে আনতে হবে। তাহলে সেখানকার জেলেই রাখবে? আর সুমুকে ধরলে? মা’কে কে দেখবে তখন? একজন ফেসবুকে লিখেছে প্রথমেই চাকরিটা যাবে আর জমিবাড়ি সরকার বাজেয়াপ্ত করবে। তাহলে রুখু যে এতকাল ট্যাক্স দিল সেই ট্যাক্সের টাকাগুলো কি সরকার রুখুকে ফেরত দেবে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে? সকালেই সুমু বলে গেছে বাবার ম্যাট্রিকের সার্টিফিকেট গ্র্যাজুয়েশানের সার্টিফিকেট কিচ্ছু পাওয়া যায় নি মায়ের আলমারিতে। জিগ্যেস করলে বলছে ‘ফালায়া দিসি। মানুষটাই গ্যাসে গিয়া ওইগুলা দিয়া কী করবি?” তাহলে যদি দাদুর রিফ্যুজি কার্ড পাওয়াও যায়, বাবার তথ্য না থাকলে তো ওরা দুইবোন বেয়াইনী হয়েই যাচ্ছে। বেআইনী! বেআইনী!! শব্দটা হাতুড়ির মত ঠকাং ঠকাং করে মাথায় বাড়ি মারে।

গেটের বাইরে কোন কুকুরটা যেন আবার ঔ-ঔ-উ-উ-উ করে কাঁদছে। বেরিয়ে দেখতে, থামাতেও ইচ্ছে করছে না। আসাম থেকে কাল জেঠির কাছে ফোন এসেছে রুনিপিসীদের বাড়ি পুলিশ এসে রুনিপিসী আর ওর জা’কে খোঁজে। রুনিপিসীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে ডিটেনশান সেন্টারে। সেই সেপ্টেম্বরেই জেনেছিল ওদের পরিবারের আর সকলের নাম উঠলেও রুনিপিসী আর ওর জা’য়ের নাম ওঠে নি। ওর জা খুব ডাকাবুকো। লিস্ট বেরোনর কয়েকদিনের মধ্যেই একদিন চুপ করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে জানা যায় রুনিপিসীর দেওর আগে থাকতেই গাড়ি আর কিসব কাগজপত্র নিয়ে তৈরী ছিল। ওরা পালিয়ে মায়ানমার হয়ে কোথায় যেন চলে গেছে। রুনিপিসে তখন তেমন পাত্তা দেয় নি এসবে, তবে থানাপুলিশও করে নি। বলেছিল ধুস সেই কোন জন্ম থেকে এখানে আছি কে কী করবে আমাদের? বাঙালখেদার সময়েও তো আমাদের গায়ে কেউ হাত দেয় নি। আর সত্যি ওরা সকলেই অহমিয়া বলতে পারে গড়গড়িয়ে। নিয়ম মেনে আবেদন করেছিল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না, সেই পিসীকে ধরে নিয়েই গেল।

সুমনা ঘরে ঢুকে পাখাটা জোর করে চালায়, কাঁধের ব্যাগটা নামিয়ে ভেতর থেকে বের করে আনে দুধের প্যাকেট, আড়াইশ গ্রাম বোঁদে, খান দশেক গুড়ের রসগোল্লা, চিঁড়েভাজার প্যাকেট। বারবার তাকায় দিদির দিকে, কেমন অদ্ভুত হয়ে আছে দিদিটা, ফ্যাকাশে, কোনদিকে তাকিয়ে বোঝা যাচ্ছে না। রুখু বোঝে সুমু ওকে দেখে বোঝার চেষ্টা করছে। ও তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে “এই এলি?” সুমু বলে “চাক্কু কাঁদছে, কেউ বোধহয় মেরেছে, একটু খুঁড়িয়ে হাঁটছে” রুখু ওঠে, ফোন, কাঁধের ব্যাগ, বই চসমা নিয়ে উপরে যায়। সুমু এখন টিফিন বাক্স ধোবে, এককাপ দুধ খাবে মা’র ওষুধের বাক্সগুলো নিয়ে কালকের ওষুধ ভরবে। সকাল দুপুর বিকেলের আলাদা আলাদা ওষুধ, খাবার আগে, খাবার পরে সব সময় লিখে লিখে বাক্সের উপরে স্টিকার মারা। আয়া দেখে দেখে খাইয়ে দেয়। বইপড়া অবশ্য হয় না। রুনিপিসেকে ফোন করে, পিসে বাড়ি নেই, মনুদা, পিসতুতো দাদা ধরে। পিসে কোন নেতার বাড়ি গেছে ধর্ণা দিতে, মনুদার গলা বসে গেছে, বলে “রুখুরে মা’কে ওরা দেখতেও দিল না। কেমন হ্যাট হ্যাট করে তাড়িয়ে দিল। আমার মেয়েটা কাল থেকে সমানে ঠাম্মুই যাবো বলে কেঁদে যাচ্ছে। কেন এরকম হল বল তো?” নীচে চাক্কুর সাথে আরেকটা কুকুর গলা মিলিয়েছে কান্নায়। রুখু ভাবে দেখবে উঠে পতাকা না ফুলু? ইচ্ছে করে না হাত পা নাড়তে, বসেই থাকে চুপ করে। মনুদা কয়েকবার হ্যালো হ্যালো করে ছেড়ে দেয়।

সকাল সোয়া আটটায় ফ্লাইট রুখুর। সোয়া ছ’টার মধ্যে রিপোর্ট করতে হবে। রুবানের গাড়ি বলা আছে, পাড়ার ছেলে, ঠিক সময় এসে তুলে নিয়ে যায়, নিয়ে আসে। সাড়ে চারটেয় অ্যালার্ম বাজলে রুখু উঠে মুখ ধোয়, কফি বানায়। মা’র ঘরে নাইট ল্যাম্প জ্বলছে, মা বসে আছে খাটের ধারে পা ঝুলিয়ে ঘাড় ঝুঁকিয়ে। শ্বাস টানছে, কষ্ট হচ্ছে নিঃশ্বাস নিতে। গাঢ় সবুজ আলোয় মনে হয় প্রাচীন এক বৃক্ষ যেন নুয়ে পড়েছে গভীর জঙ্গলের মধ্যে। যতটা সম্ভব আস্তে গ্যাস জ্বালায়, জল বসায় গরম করতে। “এই এই এই এএইই পড়ে যাচ্ছে পড়ে যাচ্ছেএ” দৌড়ে আসে রুখু “কী কী হয়েছে? কী বলছ?” “ অ রুখু, দেখনা এই বাটিটা ফ্রীজে তুলতে পারছি না, পড়ে যাচ্ছে।“ আঁচলের একটা কোণা দুই হাতে প্রাণপণে চেপে ধরে রেখেছে বিছানার সাথে। রুখু হাত বাড়িয়ে বড় আলোটা জ্বালায়। “কই কোথায় কীসের বাটি?” “এইযে নে আমার হাত থেকে আগে ডালের বাটিটা নে, তুলে এসে মাছের ঝোলের বাটিটাও তুলে দে না।” রুখু মিছিমিছি হাত দিয়ে আঙুল থেকে আঁচলের কোণাটা ছাড়িয়ে নেয়। “হ্যাঁ এইতো এবার ছেড়ে দাও”। মিছিমিছি ফ্রিজের পাল্লা খোলে বন্ধ করে, আবার যায় আবার বিছানায় হাত বুলিয়ে এসে পাল্লা খোলে বন্ধ করে। বড় আলো নিবিয়ে দেয়। “মাছের বাটি ধরে হাত ধুলি না? তোরা নাহয় কিছুই মানিস না আমি তো মানি। ও সুমু, সুমনাআ দ্যাখ কী করছে।“ রুখু এবার মিছিমিছি বেসিন খোলে। জলের ধারার আওয়াজে মা শান্ত হয়ে শোয়। মিনিট কুড়ির মধ্যেই রুখু তৈরী হয়ে যায়। গোছগাছ তো কালই সব করা ছিল।

রুবান এসে গেছে, রুখু এবার বেরিয়ে যাবে। সুমু উঠে পড়েছে, স্যুটকেস ঠেলে বারান্দায় আনে, রুবান ঢুকিয়ে নেয় গাড়ির পেছনে, ব্যাকপ্যাকটা বারান্দার বেঞ্চে রেখে রুখু দৌড়ে উপরে যায়, বাথরুমে যাবে আর একবার চোখ বুলিয়ে নেবে কিছু ফেলে যাচ্ছে কিনা। “মা আআ আমি মরে যাচ্ছিই।” মায়ের স্পষ্ট উচ্চারণের তীব্রতায় রুখু সিঁড়ির শেষধাপে, সুমু ডাইনিং স্পেসে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায় দুয়েক সেকেন্ড। মা আবার উঠে বসেছে পা ঝুলিয়ে ঘাড় ঝুঁকিয়ে। রুখু ঘরে ঢুকে আলনার নীচে থেকে জুতো বের করে রাখে, এসে প্রণাম করে। “চলে যাচ্ছিস? কালকেই তো এলি!” এখন একদম স্বাভাবিক গলা। “যাহ কি যে বলো! সতেরোদিন হয়ে গেল।“ “ওহ তাই বুঝি? দুগগা দুগগা, সাবধানে যাস। আমি তো আর গেট অবধি যেতে পারবো না।” “না না তুমি বসো, উঠো না।“ বলতে বলতে বেরিয়ে আসে। “শোন তোর সাথে তো কথা হয়, রুনিকে বলিস তো একদিন ফোন করে যেন, অনেকদিন গলাটা শুনি না।” রুনিপিসী! রুকু সুমু চোখাচোখি করে। ননদ ভাজে আর হয়ত দেখা হবে না। রুখুর ঠোঁট নড়ে বিড়বিড় করে “এত অন্যায় যারা করছে তাদের যেন খুব খারাপ হয়, সবকিছু সমস্তকিছু যেন নষ্ট হয়ে যায়, ধ্বংস হয়ে যায়।“ আজ এদিকে নিতাইকাকাদের কার্ণিশে বসে আছে কমলেকামিনী, নতুন গজানো পালক আবছা ভোরের আলোয় গাঢ় নীলচে দেখায়, কমলেকামিনীর পুঁতিচোখ জ্বলজ্বল করে, শব্দগুলো নিজের কানেই হাতুড়ি মারে ... রুখু কেমন ঘোরের মধ্যে আবার বিড়বিড় করে “সব ধ্বংস হোক ধ্বংস হোক”। অত ভারী বাক্যটা নীচে পড়ার আগেই পতাকা লুফে নেয়, ভৌ-ঔ-ঔ করে ছুঁড়ে দেয় কার্ণিশের দিকে। রুখুর চোখে চোখ রেখে ঠোঁট ফাঁক করে গভীরস্বরে কমলেকামিনী ডেকে ওঠে “ক্য-অ-অ-অ”, ধ্বংসকামনাটুকু লুফে নিয়ে ডানা ছড়িয়ে উড়ে যায় উত্তরদিকে। 

সেদিন ১১ই জানুয়ারী ২০২০।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ