বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্যের গল্প : পোড়া হাঁসের ছাই



- সরস্বতী পুজোর দিন নদীর ধারে এসো মা’কে নিয়ে। আমি থাকব।
- যাব।…
- সরস্বতী পুজোর দিন তোমার ছেলেকে নিয়ে আসবে তো নদীর ধারে? আমি অপেক্ষা করব।
- নিশ্চয়ই আসব আমরা।


মাঘ মাসের শুরুতেই হঠাৎ গরম পড়ে গেল। এমন গরম এর আগে কখনও কোনও মাঘ মাসে মানুষ দেখেনি। সে কী সাংঘাতিক গরম! হাঁ করলে বড় বড় ভাপ বেরিয়ে আসছে মুখ দিয়ে। চারবেলা ঝনঝন করে চান না করলে শরীর ঠান্ডা হবে না যেন। অথচ, অত জল কোথায় পাবে! জল তো নেই। চারদিকে শুধু ধুলো। একটা বেলায় কোনওমতে ডলে ডলে চান করতে পারলেই শরীরটা নিকোনো দাওয়া হয়ে যায় পুরো। এর মধ্যেই একদিন বিকেলজুড়ে টানা বৃষ্টি হয়ে গেল খানিকক্ষণ। বৃষ্টির জন্য আকাশ ও মাটির সমস্ত শান্তি সমস্ত সুস্থিরতাই বিঘ্নিত হয়ে উঠেছিল। এই বৃষ্টিটা পেয়ে ধরিত্রী একটু ঠান্ডা হল। গর্ত থেকে লাইন করে বেরিয়ে একটা পিঁপড়ের দল বড় গাছের দিকে চলে গেল। কেউ একটা যেন কোথাও থেকে বড় সুইচ টিপে দিয়েছে আচমকা। পৃথিবীটা আগের মতো চালু হয়ে গেল। মানুষের মোবাইলে বেজে উঠল হেমন্ত, দেবব্রত, গীতা দত্ত।

এই সুখানুভূতিতেও মা আর ছেলের মন ভাল নেই একটুও। তিনদিন ধরে চান করেনি দুজনের কেউই। গা-ভর্তি ধুলো জমে রয়েছে। খাওয়াদাওয়াও হয়নি তেমন। তিনদিন আগের করা বাসি ভাত-তরকারিই খাচ্ছে অল্প করে। বড় হাঁড়ি থেকে বাটি করে তুলে এনে ভাত খাচ্ছে হয়তো দিনে একবার। তাদের খিদে নেই। তাদের তেষ্টাও নেই তেমন। তাদের হাঁসটা মরে গেছে। এই পূর্ণবয়স্ক হাঁসটি তাদের কাছে ছিল মাসখানেক। হাঁসটি কোথায় থেকে তাদের কাছে এসেছিল, কেন এসেছিল, তা মা এবং ছেলের কেউই জানত না। দুটো পৃথক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে তারা তিন বছর করে জমা ছিল। বাড়ি ফিরেছিল একইদিনে।

বাড়ি ফেরার কয়েকদিন বাদে ওদের প্রায় একশো বছরের পুরনো বাড়িটির ছোট উঠোনে এক সকালে বুড়ো হাঁসটিকে জবুথবু হয়ে বসে থাকতে দেখল ছেলে। যার ভাল নাম নীলাঞ্জন। মা ডাকে, দুলু। তার সারা গায়ে তখন ভয়ানক চুলকানি। রাতে ঘুম আসে না। দিনে কখনও ঘরে কখনও রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় ওই বীভৎস চুলকানি নিয়েই। তার মধ্যেই ওই সকালে বুড়ো হাঁসটি উঠে এল ওদের উঠোনে। মাটির দেওয়াল থেকে চুঁইয়ে আসা জল দেখে যেভাবে আশা জাগে ভূগর্ভে পথ হারিয়ে ফেলা মানুষের মনে, তেমনই একটি আশা জাগিয়ে হাঁসটি উঠে এসেছিল ওদের উঠোনে। মা আর ছেলের একমাত্র আত্মীয় ও শেষতম বন্ধু।

-দুলু, তোর সুবীর কাকাকে মনে আছে? বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর জানলার ধারে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করল মা।

- কোন সুবীর কাকা বল তো?

- সন্ধেবেলা মাঝেমাঝে চপ-বেগুনি নিয়ে আসত আমাদের জন্য।

- মনে পড়েছে আমার, মা। জোরে জোরে হাসত। আমাকে বলতো, জিরিয়ে নে একটু। তোর পেট গরম হয়েছে। জিরোলে শরীরটা ঠান্ডা হয়ে যাবে।

- 'ডিঙা ভাসাও সাগরে' গানটা করত।

- এই গানটা কী? সুরটা মনে পড়ছে না তো!

- আমারও কিছু মনে পড়ছে না রে দুলু। এই তিনটে শব্দ ছাড়া।

- তুমি মিথ্যে কথা বলছ মা!

- কেন? মিথ্যে কেন বলব? আমার তো সত্যিই মনে পড়ছে না! আর তোকে কেন মিথ্যে বলব? তুই আমার ছেলে!

- রাসেল নামের যে লোকটার দোকান থেকে আমরা পাঁউরুটি কিনতাম, তাকে তোমার মনে আছে? পাঁউরুটিটা হাতে দেওয়ার সময় বলত, বেশি জোরে চাপ দেবে না। ওদের কষ্ট হয়।

- আমার মনে আছে। রাসেলের বউ আবিরার কথাও মনে পড়ে। ওর বউও তো দোকানে থাকত। কী কষ্ট করে সংসারটা করেছে ওরা দুজনে। ওদের ছেলে শ্রুতায়ুকে মনে আছে? কী দুরন্ত! আমাদের জামগাছটার মগডালে ঝুলে পড়েছে। প্যান্ট খুলে যাচ্ছে, তবু কোনও ভয়ডর নেই!

- শ্রুতায়ু তো একবার ভোলানাথদের বেলগাছেও উঠে পড়েছিল ওই ভাবে। বুকে-পেটে বেলকাঁটা ঢুকে গিয়েছিল। ছাড়ানো যাচ্ছিল না ওকে

- ভোলানাথরা ভাল আছে রে এখন?

- জানি না গো মা। অনেকদিন দেখা হয়নি তো! আমাদের বাড়িতেও তো আসেনি অনেকদিন। ভোলানাথ খুব মাংস খেতে ভালোবাসত।

- ভোলানাথকে তোদের অরিন্দম স্যার একবার খুব মেরেছিল না?

- না না! অতটা মারেনি। ও খুব বাড়িয়ে বলত। পড়াশোনায় অত ফাঁকি দিলে তো স্যার বকবেই। সেটাকে নিয়েই ওর ন্যাকামো!

- ছেলেটা খুব ভাল ছিল রে! কেন যে আসে না আর! খারাপ লাগে।

- তোমার এতকিছু তো মনে আছে, মা! সুবীরকাকার কথা মনে নেই আর?

মা কোনও উত্তর দিল না। ছেলেও আর কিছু জিজ্ঞাসা করল না। ধুলো তাদের শরীর ঢেকে ফেলেছে। এই অবস্থায় বাইরের কেউ অমনভাবে ধুলোর মধ্যে তাদের নীরব হয়ে বসে থাকতে দেখলে ফ্যাক করে হেসে ফেলত।

অনেক ভেবে ভেবে এই কথাগুলো তৈরি করেছে দুলু ও তার মা। নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য বহু মানুষই কথা তৈরি করতে চায়। বাস্তবের নানা চেনা কথার মধ্যে থেকেই, নতুন একটা কথা। তবে, ওদের দুজনের কথার মধ্যে বাস্তবের ভাগটা কম। কারণ, যে বাস্তব ওদের কাছে রয়ে গিয়েছে, তা আর ওদের সত্য নয়। তা ওদের কাছে গ্রহণীয় নয় বলেই সত্য নয়। তাই, অনেক ভেবেই এই দুজন মানুষ কল্পনার গাঁথুনি দিয়ে তৈরি করে কথার বাড়ি। দুজনেই জানে, এই বাড়ি আসলে জোয়ারে ফুঁসতে থাকা হিংস্র সাগরের মুখের সামনে বালির তৈরি কেল্লা সাজিয়ে রাখার মতো। শূন্য থেকে এসে, যা যখন তখন সে-ই শূন্যেই মিলিয়ে যাবে। তবু, ওদের আশা থামে না। কল্পনাও নয়। সদ্য বৃষ্টি হয়ে যাওয়া ঠান্ডা পৃথিবীর আলো-বাতাসের মধ্যে ওদের কথাগুলো আম গাছের টাটকা পাতার গন্ধ নিয়ে মিশে যায়। মা-ছেলের কোনও আত্মীয় ও বন্ধু নেই। ছিল না কখনও। আত্মীয়হীন ও বন্ধুহীন জীবনের সত্যিটার সঙ্গেই নানা কল্পনার মধ্য দিয়ে নিবিড় আত্মীয়তা স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যায় ওরা।

আসলে ওদের নিজের বলতে এতদিন ছিল কেবল ওই বুড়ো হাঁসটি। যে মরে গিয়েছে। তাকে উঠোনেই দাহ করে দিয়েছিল মা ও ছেলে। যেটুকু ছাই পাওয়া গিয়েছে, তা একটা পলিথিনে ভরে দেওয়ালের হুকে টাঙিয়ে রেখেছে। ওদের সঙ্গে আত্মীয়তা থামিয়ে দিয়েছে গোটা দুনিয়া। থামিয়ে দিয়েছে বলেই বাবুন আর তার মা এভাবেই নতুন আত্মীয়তা পাতিয়ে চলেছে।

দুটো ভিন্ন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে কয়েক বছর কাটিয়েছিল বাবুন ও তার মা। ওই সময়ে তাদের দুজনেরই প্রিয় কাজ বলতে ছিল চিলতে বারান্দায় মাঝে মাঝে খোলা জানলাটার সামনে দাঁড়ানো। কী দেখত তারা ওই জানলা দিয়ে? তেমন কিছু না। কারণ, তেমন কিছু দেখার মতো ছিলই না সেখানে। সামনে একটি আবর্জনা ফেলার জায়গা, তারপরেই পাঁচিল। দুজনের রিহ্যাবেই একইরকম। ওই জানলা দিয়ে স্রেফ তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনওকিছুই ওই সময় করার থাকত না তাদের। জানলা দিয়ে আবর্জনার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তো কোনও মুগ্ধতা আসে না কারও। তবে, একটা অভ্যাস তৈরি হয়। দেখার অভ্যাস। সেই অভ্যাসে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই ওই আবর্জনার ভিতর থেকেই একদিন এক অতি সুদর্শন পুরুষ উঠে এল দুলুর জানলার সামনে। তার মায়ের জানলার সামনে প্রায় একই সময়ে আবর্জনা থেকে উঠে এসেছিল অপূর্ব এক নারী।

তারপর থেকে মাঝেমাঝেই এমনভাবে উঠে আসতে আরম্ভ তারা। মা ও ছেলের সঙ্গে তৈরি হল সখ্য। ঠিক হল, তারা এই বন্দিদশা থেকে বেরোনোর পর সরস্বতী পুজোর দিন দুলু তার মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে ওই পুরুষটির। মা-ও ঠিক তেমনভাবেই নারীটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে তার ছেলের। ঠিক হয়েছিল, ওদের বাড়ির সামনের নদীর ধারেই সরস্বতী পুজোর দিনে দেখা হবে ওই চারজনের।

তারপর বহু অপরাহ্নের ফুল ঝরে গেল দ্রুত। একে একে মরে গেল অনেক অরণ্যের গাছ। কিন্তু, ওই নতুন পরিচয়ের প্রতিশ্রুতিটি মাথায় থেকে গেল তাদের দুজনের।

ওই বুড়ো হাঁসটি তাদের সঙ্গে থাকতে শুরু করার পর তারা ঠিক করেছিল সরস্বতী পুজোর দিন নদীর ধারের ওই পরিচয়পর্বের মুহূর্তটির ওদের দিক থেকে একমাত্র সাক্ষী থাকার জন্য সঙ্গে করে নিয়ে যাবে হাঁসটিকেও।

সেই হাঁসটি এখন মৃত। সে ছাই হয়ে পলিথিনে ঝুলছে। কিন্তু, ছাই হয়ে গেলেও তার মধ্যে তো কিছুটা হাঁসটি রয়ে গিয়েছে। এই বিশ্বাস থেকেই সরস্বতী পুজোর দিন ওদের সঙ্গে পলিথিনটিকেও নিয়ে যাবে বলে তারা দুজনে ঠিক করল। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কাউকে একটি শব্দও উচ্চারণ করতে হয়নি। দুজনেই বুঝতে পারল যে, অপরজন কী চাইছে।

- দুলু, সরস্বতী পুজোর দিন কী করবি? কী প'রে যাবি রে তুই ওই দিন?

- সরস্বতী পুজোর আর কতদিন বাকি মা?

ওদের কৌতূহলময় ত্বকে ফের ধুলো জমতে আরম্ভ করে। অর্থময় ও অর্থহীন স্মৃতি ও কাহিনির নানা রঙের ধুলো। ঘরের মধ্যে বাসি ভাত-তরকারির গন্ধ তীব্রতর হয়। তারপর তারা একটু নেতিয়ে পড়ল।


ওদের বাড়িটা থেকে দেড় কিলোমিটার মতো হেঁটে গেলেই একটি বহু পুরনো নদী পড়ে। নদীটিকে দেখলে তার বয়স বোঝা যায় না। তবে তা যে অতি প্রাচীন, সেটুকু টের পাওয়া যায় দিব্যি। সূর্যের ছন্দে দিন যায়, রাত যায়। আলো-আঁধারির প্রশান্তিতে নদীটি শুয়ে থাকে। তাতে চরা পড়ে গিয়েছে অনেক বছর হল। চরায় বসেই কেউ পিকনিক করে। কে একজন বাঁশ আর কাগজ দিয়ে সরস্বতী পুজোর জন্য মণ্ডপ প্রস্তুত করেছে। মানুষের সুর ও কথায় তৈরি হওয়া দৃশ্য দেখতে দেখতে নদীটির ঘুম পেয়ে গিয়েছিল একবার। ঘুম ধীরে নেমে আসার পর তা আর ভাঙেনি। সকলেই জানে, এই সেই নদী, যার উপর দিয়ে স্মৃতি সৌধের পরী উড়ে যায়। প্রেতাম্তা শব্দহীন হাঁটে।

সরস্বতী পুজোর আগের দিন ওই নদীর চর থেকেই একটা ঝড় উঠল। সমস্ত দুর্গন্ধ ও উগ্রতাকে অতিক্রম করে নিমেষে বড় হয়ে ফুলেফেঁপে গেল ঝড়টি।

বিপুল সেই ঝড়। দু-কূল জাপটে নিয়ে একটা প্রবল ভয়াবহ হাওয়ার স্রোত তৈরি হয়েছে আচমকা। মাঘ মাসে অমন গরমের মতোই অমন ঝড়ও কেউ কখনও দেখেনি। ধরিত্রী ওলটপালট হয়ে গেল যেন।

ঝড় এসে পড়ল তাদের বাড়ির ভিতর। ঘরের ভিতর। পোড়া হাঁসের ছাই পলিথিন থেকে ছড়িয়ে পড়ল ঘরের মেঝেতে। কিছু উড়ে গেল উত্তরদিকে। জীবিত মানুষের হাড়, মাংস ও মনের ভিতর ঝড়টা ঢুকে গিয়ে একটি আর্তনাদ হয়ে উঠল। ধুলোর মধ্যে ঝড়ের মধ্যে হাঁসের ছাইয়ের মধ্যে চাপা পড়ে গেল নীলাঞ্জন ওরফে দুলু আর তার মা।

নিঃশ্বাস পতনের শব্দের সঙ্গে সর্বশরীর স্পন্দিত হতে হতে তারা বুঝতে পারছিল, এর ভিতর থেকে আর কখনও বেরিয়ে আসা যাবে না। দুজনে দুজনের মুখটি দেখার চেষ্টা করতে করতে পুত্র বুঝতে পারছিল, তার মা ওই অপূর্ব সুপুরুষটির হাত আর ধরতে পারবে না। মা বুঝতে পারছিল, নদীর ধারে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা হবে না পুত্রের। ওই দুটি মানুষ হয়তো আসবে। যেমনভাবে অনেকেই আসে নদীর ধারে। মায়ের প্রেমিক এবং ছেলের প্রেমিকাও আসবে দুটি আলাদা দিক থেকে। অপেক্ষা করবে। নদীর মেঘ, নদীর নীল আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরবে তাদের। বসন্তমালতীর হাওয়ায় চুলও উড়বে তাদের। চুল তো উড়বেই! তারা তো ভালবাসতে এসেছে। মৃত্যু-ভাব তো তাদের মধ্যে আর নেই। কিন্তু, তারা কি অপেক্ষা করবে অনন্তকাল?

ধুলোর মধ্যে ঝড়ের মধ্যে চাপা পড়ে গিয়েছে ততক্ষণে ওরা দুজন। ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে যেতে যেতেও সন্দেহ-ঘৃণার এই পৃথিবীর দুই মানুষের মনে জেগে রইল প্রশ্নটা। 'ওরা কি অপেক্ষা করবে অনন্তকাল'?

পৃথিবীর সুখীতম জননীর মতোই, সেই মুহূর্তে, ছাইয়ের ভিতর থেকে ছেলের মাথাটা খুঁজে তাতে হাত বুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল মা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ

  1. খুব ভালো লাগল।

    উত্তরমুছুন
  2. বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্যর গল্প যেভাবে আশ্চর্য সরল ভাষায় এক অলৌকিক প্রতীতির স্মারক হয়ে জেগে থাকে, তার ব্যতিক্রম ঘটল না। কি বলতে চাইল এ গল্প! কোন অভিমুখে ধাবিত করল পাঠ প্রতিক্রিয়া! এমন গুরুগম্ভীর জিজ্ঞাসার সামনে এসে থতমত খেয়ে গেলেও ভেতর থেকে কে যেন বলে উঠতে চায় ম্যাজিক রিয়েলিজমের সার্থক উত্তরসূরী লিখিত এই অনুপম গল্পটিতে আশার ব্যঞ্জনা এবং মূর্ত হয়ে ওঠাকে এমন এক আলোয় রাঙিয়ে তোলা হল যে আমাদের বোধের সমান্তরালে এসে দাঁড়ালো আরেকটি বোধ, যার কোন অতিরেক নেই।

    উত্তরমুছুন
  3. পড়লাম, ভালো লাগলো।

    উত্তরমুছুন