পার্থর ফোন মানেই কোনো না কোনো মৃত্যু সংবাদ। আত্মীয় স্বজনরা যে কোনো মৃত্যু সংবাদ আগে পার্থকে বলে। পার্থই সকলের কাছে তা পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়, আমার মা, বাবার খবর আমি পার্থকে আগে দিয়েছিলাম। তখন ল্যান্ড লাইনের যুগ। ঘরে ঘরে টেলিফোন ছিল না। পার্থদের বাড়িতে তা ছিল। আমি পাবলিক টেলিফোন বুথে গিয়ে ওকে খবর দিতে সকলে জেনে গিয়েছিল। যেভাবে হোক, পার্থ খবর দিয়েছিল। পরে আমি সকলের বাড়ি গিয়েছিলাম গুরুদশা নিয়ে। পার্থ নিয়ে এসেছে আজ লিলিদির ভাই সূর্যকে। সূর্য এই ফ্ল্যাট চিনত না। আগে কখনো আসেনি। আমি বছর দশ এই ফ্ল্যাট কিনেছি। তার মানে অন্তত দশ বছর সূর্যর সঙ্গে আমার কথা হয়নি। দেখা হয়নি। তাই লিলিদির কথা শুনিনি। লিলিদি ছিল মূক ও বধির। লিলিদি বলতে আমার চড়াই কি শালিখের কথা মনে হয়। কত কথাই না বলতে চায়। আমরা কিছুই বুঝি না। লিলিদির হাত নাড়া, মাথা নাড়ার কথা মনে পড়ল আমার। কত চেষ্টাই না ছিল তার নিজের কথা বোঝাবার। মুখ দিয়ে অবোধ্য সব শব্দ বেরিয়ে আসত। গুঙানি। আমরা বুঝতাম না। আত্মীয়স্বজন বলত, লিলিদি ছিল গুঙা। গুঙা এক তাচ্ছিল্যের বিশেষণ।
এসব আমার ছোটবেলার কথা। বড় হয়ে যাওয়ার পর দেখেছি ক্রমশ নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া লিলিদিকে। সে যেন ভয়ানক গ্রীষ্মের দুপুর প্রলম্বিত হয়েই চলেছে। মানুষজন গা এলিয়ে আছে লাল মেঝের উপর। কেউ কোনো কথা বলছে না। বিদ্যুৎ চলে গেছে। হাতপাখা চলছে। ক্লান্তির ঘুম এসেও আসছে না। বেলা আর পড়ে না। কথাও আর ফোটে না। নিঝুম রোদ ঝনঝনে চরাচর। কোন এক বাড়ির সদ্য যুবতি মেয়েটি একটি চিঠি পেয়েছিল। নিঝুম দুপুরে একা সেই চিঠি নিয়ে শুয়েছিল। কোথাও কোনো কথা নেই। লিলিদি যেন ক্রমাগত সেই দুপুরের নিঝুমতাকে ধারণ করছিল। সব বকম বকম থেমে গিয়েছিল।
টেলিফোনে বড় মাসির ছেলে পার্থ খবর দেওয়ার ক’দিন পর তাকে নিয়েই সূর্য এল। সূর্য আমার বড় মামার ছেলে। আমার চেয়ে কয়েক বছরের ছোট। পার্থ টেলিফোনে যখন খবর দিয়েছিল, লিলিদি নেই, চমকেই উঠেছিলাম। লিলিদি নেই মানে ? লিলিদি ছিল নাকি? ভুলেই গিয়েছিলাম লিলিদিকে। অনেককেই ভুলে যাচ্ছি। বয়স যত বাড়ছে, ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। এই সেদিন, মানে মাস ছয় আগে পার্থ ফোন করেছিল, পার্থকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তোর দাদা কেমন আছেরে, সেই বাঁকুড়াতেই?
পার্থর দাদা তীর্থ আমার চেয়ে বছর চারেকের বড়। বাঁকুড়ায় চাকরি করতে গিয়ে বাঁকুড়ায় রয়ে গেছে। মানে সেটলড। বাড়ি করেছে। বাগান করেছে। তার ছেলে মেয়ের একজন থাকে লন্ডন, একজন থাকে ক্যালিফোর্নিয়া। কয়েক বছর আগে সে লন্ডন গিয়েছিল প্রথমে, তারপর সেখান থেকে লস এঞ্জেলস। এসব কথা আমি পার্থর মুখেই শুনেছি। আমার কথা শুনে পার্থ বলল, তুমি জান না অনুপমদা?
-হ্যাঁ, জানি, তুই বলেছিলি, বিদেশ গেছে ?
পার্থ বলল, দাদা নেই, তুমি শোননি?
-তীর্থ নেই! কই শুনিনি তো, কবে কী হলো?
পার্থ বলল, সে তো ২০২০-র অক্টোবরের কথা, তিন বছর হয়ে গেল। তীর্থ মারা গেছে এই খবর নাকি আমার জানার কথা। আমার ভাই নিরুপমকে বলেছিল পার্থ, সে কি বলেনি? বললে আমি নিশ্চয় পার্থকে ফোন করতাম। নাকি কোভিডের সময় এসব সামাজিকতা উঠে গিয়েছিল। মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিতে নিতে নিকটজনের মৃত্যুকে তার ভিতরে মিশিয়ে দিয়েছিলাম। সে কথা থাক, পার্থ তখন কি লিলিদির কথা বলেছিল ? মনে হয় না। ভুলে গিয়েছিল সব। বরং একটু বাদে রাজনীতি, কোটি কোটি টাকার নোট এইসব নিয়ে অনেক কথা বলেছিল। লিলিদির কথা কিন্তু সেই পার্থই এতদিন পরে আমাকে বলল, খবর পেয়েছ?
লিলিদি ক’দিন ধরে প্রায় অচৈতন্য হয়ে ছিল। চলে যাবে ঠিকই করেছিল যেন। পার্থর কথা তেমনি। পার্থ শুনেছে লিলিদির পরের ভাই সূর্যর কাছ থেকে। সূর্যর কাছেই লিলিদি থাকত শেষের কয়েক বছর। লিলিদি তার দুই ভাইয়ের কাছে, ছোট কাকার কাছে থেকেছে পালা করে করে। ছোটকাকার যমজ দুই সন্তান লিলিদির হাতেই বড় হয়েছে বলতে গেলে। লিলিদি বাচ্চা প্রতিপালন করতে পারত চমৎকার। কথা না বলতে পারলে কী হবে, ছোটকাকার দুই ছেলের মুখে কথা ফুটেছিল লিলিদির সঙ্গে খেলতে খেলতে। পার্থ বলে, যেদিন দুই যমজ, টুবাই আর বুবাই প্রথম কথা বলল। দুজনেই প্রায় এক সঙ্গে, খেলতে খেলতে যখন লিলি বলে ডেকে উঠল, লিলিদির কী আনন্দ। পাশের ঘর থেকে কাকিমাকে ডেকে এনেছিল। কাকিমা মর্নিং স্কুল থেকে সবে বাড়ি ফিরেছেন । লিলিদি যেন লাফাচ্ছিল, হাততালি দিচ্ছিল। বারবার বলতে চাইছিল, ওরা কথা বলেছে, কথা বলেছে। এই কথা ছোট কাকা, ছোট কাকি কতজনকে যে বলেছেন। লিলির চোখে মুখে সেদিন কী আনন্দের ছটা! আনন্দে লিলির মুখেই যেন কথা ফুটে যাবে সেদিন। ফুটতে ফুটতে ফোটেনি।
এক সময় লিলিদিকে নিয়ে অনেক কথাই ভেসে বেড়াত আত্মীয়স্বজনের ভিতর। সেই সব স্বজন-পরিজনের অনেকেই এখন নেই। সুতরাং লিলিদি যেন পোকা-মাকড়ের মতো চলে গিয়েছিল অন্ধকারে। তার কথা আর শোনা যেত না। সেই লিলিদি চলে গেল। সূর্য বলল, আশির উপর বয়স হয়েছিল, সারাজীবন এখানে ওখানে গিয়ে থেকেছে, এ জন্মে কী পেল বলো দেখি?
সূর্য দিদিকে খুব ভালবাসত। বড়দি তো। তার কাছ থেকেই চোখ বুঁজেছে লিলিদি। আর, একদম শেষ দিনে, মধ্যরাতে, চলে যাওয়ার আগে লিলিদি সূর্যকে কিছু বলেছিল। সারাজীবন যা পারেনি, তা হয়ত চেষ্টা করেছিল। সারাজীবন যে একটি কথাও বুঝিয়ে বলতে পারেনি, শুধু কতগুলো শব্দ মুখ থেকে বের করতে চেষ্টা করেছে, সে নাকি শেষের দিন, মৃত্যুর আগে থেমে থেকে কিছু কথা বলেছিল। হ্যাঁ, কথাই, বিড়বিড় করে বলেছিল কিছু। সূর্য বলল, কী বলল আমাদের বড়দি, তুমি ভাবতেও পারবে না।
লিলিদি যে বেঁচে আছে সেই ধারণাই আমার ছিল না। আসলে লিলিদির বাঁচা-মরা আমার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। এক একটা মানুষ থাকে যার থাকা বা না থাকায়, সমাজ কেন, তার পরিবারেরও কিছু যায় আসে না। লিলিদি তেমনই ছিল কি?
ভাবছিলাম পাইকপাড়া আর মধ্যমগ্রাম কতটা দূর আর। খোঁজ নেওয়া যেত। নেওয়া হয়নি। যত বয়স বেড়েছে, একা হতে আরম্ভ করেছি আমরা। সূর্য বলছিল, পার্থ ছাড়া তো আসতে পারব না, ওকে নিয়ে আসতেই দেরি হলো, আগামী রবিবার কিন্তু তোমাকে আসতে হবে, বউদিকেও নিয়ে যাবে, লিলিদি, আমার বড়দির ব্যাপার, এইটা ওর শেষ ইচ্ছে, এইটা ও বলে গেছে।
লিলিদির কি ইচ্ছে ছিল? সাধ ছিল? কীভাবে তা বোঝা গেল? লিলিদি কথা বলতে পারত না। কানেও শুনত না। আসলে সূর্য যা বলছে, তা তার আবেগ। এখন পাইকপাড়া থেকে মধ্যমগ্রাম অনেক দূর মনে হচ্ছে। কী করতে যাব? যার জন্য যাব, সে তো আসলে নেই। একা যাব, কিংবা দু’জনে যাব, বলতে পারব না। আদৌ যাব কি না, তাও জানি না। এ বাড়িতে আমি ও আমার স্ত্রী। রূপালি ততো সুস্থ বলা যায় না। লিলিদির কথা তেমন জানে বলেও মনে হয় না। লিলিদি মারা গেছে গত সোমবার রাতে। দাহ হয়েছে গত মঙ্গলবার সকালে। লিলিদির শবদেহকে অপেক্ষা করতে হয়নি হিমঘরে। কেউ তাকে দেখতে আসবে এমন কথা ছিল না। এক ভাই দিল্লি, এক ভাই বহরমপুর, সকলে শুনেছিল, বলেছিল আসতে পারবে না। আসেওনি কেউ। কাজে আসতে পারে। না ও পারে।
আজ রবিবার। সূর্য লিলিদির কাজ করবে , সেই জন্যই এসেছে। জনে জনে যাচ্ছে। এইটা ফোন করে বলবে না। আজ বেরিয়েছে কয়েকজনকে খবর দিতে। লিলিদির খবর সে মুখে বলবে। লিলিদি আমার চেয়েও বড় ছিল। সূর্য বলছে, দিন পনের অচৈতন্য থেকে মৃত্যুর ঘন্টাখানেক আগে প্রায় স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। যেন ঘুম থেকে জেগে উঠেছিল। পাশ ফিরে আমাকে ডেকে তুলেছিল। ডাক্তার বলে গিয়েছিল, রাতটুকুও হয়ত টিকবে না দিদি, আমি দিদির বেডের পাশে চেয়ারে বসে ছিলাম, একটু তন্দ্রার মতো এসেছিল, তন্দ্রা ভেঙে গেল, সুজ্জ সুজ্জ বলে ডেকেছিল দিদি, আমার গায়ে ঠেলা দিয়ে যেন ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছিল।
দুই
অনুপমের স্ত্রী রূপালি এসে বসল। বাতের ব্যাথায় কাতর। এই ফ্ল্যাট দুই ঘরের। পাশে আর একটি দুই ঘরের ফ্ল্যাট আছে অনুপমের। সেটিতে তার পুত্র এবং পুত্র বধূ থাকে। রূপালি বলল, একবার দেখেছিলাম, কথা বলতে পারতেন না জানি, কানেও শুনতেন না, মূক ও বধির।
অনুপম বলল, তুই কানে শুনেছিলি সূর্য, লিলিদি তোকে তোর নাম ধরে ডেকেছিল?
-না হলে ঘুম ভাঙবে কেন, খুব ক্লান্ত ছিলাম, ঘুমিয়েই পড়েছিলাম, দিদি আচ্ছন্নের মতো ঘুমিয়ে ছিল, যখন তখন বাতাস নেওয়া বন্ধ হবে, বাড়িতেই সব ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
-হাসপাতালে দিলি না কেন? অনুপম জিজ্ঞেস করল।
-কথাই বলতে পারে না, হাসপাতালে দিয়ে কী হবে, আমরা বরং ওর ইঙ্গিত, কী চায় তা বুঝতাম।
পার্থ বলল, আমার দাদা আর লিলিদি বোধহয় এক বয়সী।
-হতে পারে, তোর দাদার চেয়েও বেশিদিন বেঁচেছে বড়দি, কিন্তু লাথি ঝ্যাঁটা খেয়ে বাঁচাকে কি বাঁচা বলে অনুপমদা ? সূর্যের গলায় কী আক্ষেপ।
অনুপম চুপ করে থাকল। রূপালি বলল, যার যেমন ভাগ্য।
-ভাগ্য মানো বউদি ?
রূপালি বলল, মানা না মানার ব্যাপার নয়, কিন্তু সকলের জীবন তো এক রকম যায় না সূর্য।
পার্থ বলল, সে সত্যিই বিশ্বাস করতে পারেনি লিলিদি এতদিন বেঁচে ছিলেন।
চুপ করে থাকল চারজনই। অনুপমের মনে পড়ল তীর্থদার মৃত্যুর কথা। সে খবরই পায়নি বা ভুলে গিয়েছিল। এই যে ক’দিন আগে গত শতাব্দীর ছয়ের দশকের বিখ্যাত সিনেমার হিরো মারা গেলেন, তিনি যে বেঁচে ছিলেন, তা জানা গেল তাঁর মৃত্যুতে। ভুলেই গিয়েছিল তার কথা। আর একজন হিরো ছিল নবীন নিশ্চল, তিনি কি বেঁচে আছেন? এদের কাছে লিলিদি তো ধুলোর মতো।
সূর্য বলল, বাবা মার আশা থাকে প্রথম সন্তান নিয়ে, তার এক বিন্দুও পূরণ করতে পারেনি বড়দি।
-পূরণ করবে কীভাবে, কথা বলতে পারত না, কানেও শুনত না। অনুপম বলল, বধিররা মূক হয় সূর্য, চিকিৎসা করলে হয়ত কিছুটা ডেভেলপ করত, মুখে বুলি ফুটত।
সূর্য বলল, পার্টিশন হয়ে যেতে বেঁচে থাকাই দুষ্কর ছিল তো চিকিৎসা, দেশ ছেড়ে এপারে না আসতে হতো যদি, বাবা মার অত কষ্ট হত না, বড়দিও ভালো থাকত কপোতাক্ষ নদের ধারে।
- সকলেরই কষ্টে আর অভাবে দিন কেটেছে, আমাদের ছোটবেলাও ভালো কাটেনি।
সূর্য বলল, বাবা খুব ভালোবাসত বড়দিকে, বলত তোদের দিদিকে তোরা দেখবি, লিলি হওয়ার পরই চাকরি পেয়েছিল বাবা, কিন্তু সেই চাকরি নেয়নি, জমিজমা ছিল, গ্রামের ইস্কুলে মাস্টারি ছিল, সেই উত্তরবঙ্গের রংপুরে কেন যাবে রেলের চাকরি করতে?
-সেইটা কোন সাল, মামা কোন সালে চাকরি পেয়েছিল রেলে ?
-১৯৪৪, দুর্ভিক্ষ সবে গেছে, তখনও তার রেশ যায়নি, সেই সময়েই চিঠি এসেছিল চাকরির।
-তুমি এত কথা জানলে কী করে সূর্য? পার্থ জিজ্ঞেস করল।
-বাবা যে আফশোস করতেন, চাকরিটা নিলে পারটিশনের পর ইন্ডিয়ান রেলওয়েতে মাইগ্রেট করতেন, ইন্ডিয়াতে ভালোভাবেই সেটল করতাম আমরা।
অনুপম বলল, মামা খুব স্ট্রাগল করেছে এপারে এসে, আর চাকরি পাবে কোথায়, উদ্বাস্তুর প্লাবন, চাকরি কই, বয়সও হয়ে গিয়েছিল।
সূর্য বলল, বাবা আমাদের নিয়ে গোয়ালিয়র চলে গিয়েছিল আমাদের দ্বিজু মামার কাছে, মামা ঐ এস্টেটে কাজ করতেন আগে থেকেই, বাবা ভেবেছিলেন কিছু হবে, রাজবাড়ির কাজটাজ পাবেন, তখন তো দিশাহারা, দেশ ছেড়ে আসতে হয়েছে, জমিজমা বেহাত হয়ে গেছে, বড় মেয়েটা বোবা, পরের ছেলেটা অবশ্য ঠিক ছিল।
অনুপম বলল, কিছু হয়নি তো গোয়ালিয়রে?
-না, আমার মামা ভালো ছিল না, বাবার সব টাকা নিজের কাছে নিয়ে আর ফেরত দেননি, আমরা নিঃস্ব হয়ে ফিরেছিলাম।
হুঁ। অনুপম অনেকটাই জানে। কিন্তু সবটা নয়। সব তার জানার কথা নয়। সূর্য বলছিল, তার বাবা খুব ভালোবাসতেন দিদিকে, কিন্তু মা মনে করতেন, ওর জন্মের পর থেকেই দুর্ভাগ্যর শুরু, তার আগে জীবন তো স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল, দিদির জন্মের পরেই যখন বোঝা চালের দর বাড়ছে, মিলিটারির জন্য চাল বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে সরকার, সে নাকি ভয়ঙ্কর এক সময় ছিল, দুর্ভিক্ষ এসে গেল দেশে।
-এক কোটির উপর মানুষ মারা গিয়েছিল না খেতে পেয়ে। বিড়বিড় করল পার্থ। সে যেন মৃত্যু সংবাদ দিল।
-হ্যাঁ, তারপর দাঙ্গা, দেশভাগ, আমাদের চলে আসতে হলো এদেশে। বলল সূর্য, তখন আমরা তিন ভাই এক বোন, তারপর এদেশে এসে আমরা দুজন, আমি বাহান্নয় আর আমার বোন তিতির চুয়ান্নয়, তিতির অবশ্য বাঁচেনি, আর আমাদের আগের একজন, দাদা যাকে আমি দেখিনি, সেও বাঁচেনি, মা বাবা দুই সন্তান হারিয়েছিলেন তা জানো?
অনুপম বলল, আমাদেরও এক দিদি যাকে আমি দেখিনি, মারা গিয়েছিল, সে আমলে শিশু মৃত্যু ছিল যেন স্বাভাবিক, মায়েরা সহ্য করতেন সব।
রূপালি বলল, কান্না লুকিয়ে বাঁচতে হয় মায়েদের, আমার দাদা একুশ বছর বয়সে নিহত হয়েছিলেন।
এখন সন্ধ্যা। বাইরে অন্ধকার নেমে গেছে। বাতাস থেমে আছে। সূর্য বলল, দ্যাখো অনুপমদা, মা একদম সহ্য করতে পারত না দিদিকে, অথচ দিদি তো নিজে নিজে জন্মায়নি, দুর্ভিক্ষের বছরে জন্ম, তখন অন্নের অভাব হয়েছিল, হয়ত ভ্রুণ অবস্থায় পুষ্টি হয়নি তার, তার জন্য সে কি দায়ী, মা বলত দুর্ভিক্ষের গায়ে গায়ে জন্মেছিল, দুর্ভিক্ষ নিয়েই জন্মেছিল লিলি।
-মামা রাগ করত না এইসব কথা শুনে?
-খুব রাগ করত, প্রথম সন্তান, দেরি করে কথা বলবে ভাবতে ভাবতে দেশ দুই খণ্ড হয়ে গেল, গোয়ালিয়রে গিয়ে ধরা পড়ল ও কথা বলবে না, কানেও শুনবে না, তখন ওর চার বছর পার হয়ে গেছে। তখন আর কি চিকিৎসা ছিল, ছিল না, তবু কত ডাক্তার, হেকিমের কাছে বাবা ঘুরেছিল নাকি দিদিকে নিয়ে।
রূপালি বলল, থাক, ভালো লাগছে না আর।
-আমারও কি ভালো লাগছে বউদি, এখন ত বুঝতে পারি, আমাদের বিয়ের সময় ও না পারত আনন্দ করতে, না পারত মেনে নিতে, নিজেই একবার সিঁদুর মেখে বউ হয়ে মা-র কাছে মার খেয়েছিল, আর একবার, সে কথা আমি শুনেছি আবছা, বাবার কাছেই ছিল ওর আশ্রয়, বাবা বলতেন ওকে কার কাছে রেখে যাবেন, মা চুপচাপ কাঁদতেন, মা-র কি কষ্ট হত না, কষ্ট চাপা দিতে লিলির গায়ে হাত তুলত, শেষে আমার কাকা নিয়ে গেল ওকে, কাকা খুব ভালোবাসত দিদিকে , কিন্তু ছোট কাকার কাছে তিন বছর থাকার পর ফিরে এল, ও নাকি কার সঙ্গে সম্পর্ক করেছিল, এইটা হতে পারে?
-যে কথা বলতে পারে না, তার কি মন থাকে না? রূপালি বলল।
-নিচের দোকানদার লোকটি সুযোগ নিয়েছিল, জানাজানি হয়ে গেলে সে সব অস্বীকার করেছিল, মনে পড়ে দিদি ফিরে এল যেন সব হারিয়ে, নিঃস্ব হয়ে, দু’চোখ দিয়ে ঝরে যাচ্ছে অশ্রুধারা।।
-থাক সূর্যদা, কষ্ট হচ্ছে। রূপালি মাথা নামায়। সে যেন দেখতে পাচ্ছিল সেই দিনটি।
-ছোটকাকা কিন্তু বলেছিল ক’মাস থাকুক মধ্যমগ্রামে, তারপর নিয়ে যাবে, দিদি আর গেল না, দিদি কাঁদত, দিদি সব বুঝতে পেরেছিল প্রতারিত হয়েছিল, দিদি পেটে ধরেছিল, নারসিং হোম থেকে পরিষ্কার করিয়ে আনা হয়েছিল দিদিকে, হায়রে দিদি, তখন একটা পুতুল হয়েছিল তার সম্বল, বাবা কোথা থেকে একটা বড় পুতুল জোগাড় করে এনেছিল জানি না, বাবা আক্ষেপ করে বলত, ও খুব ভালো সংসার করতে পারত, কিন্তু হলো না।
অনুপম চুপ। রূপালি মাথা নামিয়ে। অনুপম আবছা জানত এই সংবাদ। মামা এসে তার বাবাকে বলেছিলেন। মামার আশা ছিল সেই দোকানদার বিয়ে করবে লিলিকে, কিন্তু দোকানদার লোকটি যে বিবাহিত তা পরে জানা গেল। বিহারে তার সংসার, বউ আর, দুটি বাচ্চা ছিল, তবু মামা রাজি ছিল বিয়ে দিতে, ভালোবাসা পেয়ে যদি বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারে লিলি, কিন্তু তা হয়নি, লোকটার ভিতরে ওসব ছিল না, কাম চরিতার্থ করতেই বোবা মেয়েটিকে ফাঁসিয়েছিল সে। মামা শুধু বলতেন, ওর কী হবে ?
-ভাইদের কাছে থাকবে। আমার বাবা বলতেন।
-ছেলেরা বিয়ে করবে, তাদের বউরা কি সহ্য করবে এই ননদকে? মামা হতাশ হয়ে বলতেন।
তিন
লিলিদিকে শেষ কবে দেখেছি আমি অনুপম, মনে করতে পারলাম না। বুড়ি হয়ে যাওয়া লিলিদিকে দেখেছি কি, মনেই হয় না। এখন কেমন হয়েছিলেন লিলিদি ? দেখতে কিন্তু সুন্দর ছিলেন। সত্যিই সুন্দর। গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যাম, চোখদুটি টানা টানা। মুখখানিতে কখনো হাসি, কখনো গম্ভীর ভাব। মাথায় কত চুল। দীর্ঘাঙ্গী। রূপালি জিজ্ঞেস করল, তুমি কবে কাজ করবে ?
-আমি একটা স্মরণ সভা করব, দিদিকে নিয়ে কথা হবে, দিদি তাই বলে গেছে।
-দিদি তো কথা বলতে পারত না, দিদি বলে গেল কীভাবে ? রূপালি বলল।
-বলছি বউদি সব, মৃত্যুর আগে তার কথা ফুটেছিল, সত্যিই বলেছিল অনেক কথা, লম্বা কথা, এই জীবনে যা বলতে পারেনি দিদি তাইই বলবে তোমরা।
-দিদি কী বলতে চেয়েছিল বুঝব কী ভাবে, যে বোবা তার আবার কী কথা?
-যে কথা বলতে পারে না, তার কি কোনো কথা হয় না, ছিল না?
-কী বলব ? আমি অনুপম জিজ্ঞেস করলাম।
-যা মনে হয় বলবে, যেটুকু জানো বলবে, কথা না বলা মানুষটির জন্য কিছু বলবে, দিদি তার কথাই বলতে বলে গেছে।
এক মিনিট নীরবতা নামল লিলিদির জন্য। সকলে ভাবতে লাগল লিলিদির কথা।
অনুপম বলল, পঞ্চাশের মন্বন্তরের পর জন্ম, আমি কি মন্বন্তরের কথা বলব, পড়েছি মন্বন্তরের কথা, মা-ও বলত মন্বন্তরের কথা, ভাত দে মা, ফ্যান দে মা, কলকাতার পথেঘাটে পড়ে থাকত না খেয়ে মরা মানুষ, মা মরে গেছে, শিশু মায়ের বুক হাতড়াচ্ছে দুধের জন্য, পঞ্চাশের মন্বন্তর নিয়ে জয়নুল আবেদিনের ছবি দেখেছি, অশনি সংকেত উপন্যাস তো ঐ মন্বন্তর নিয়েই।
রূপালি বলল, আমি কী বলব, আমি কি দাঙ্গার কথা বলব, তার ক’বছর বাদে, দাঙ্গার পর দাঙ্গা, ভাগলপুর, পাটনা, কলকাতা, নোয়াখালি, বরিশাল, ঢাকা, আমাদের এই কলকাতায় দাঙ্গা হলো, বাবা তখন কলকাতায় চাকরি করেন, বাবা থাকতেন শিয়ালদার একটি মেস বাড়িতে, আমাদের দেশ ছিল বরিশালে, বাবার কাছে যা শুনেছি, কয়েকদিন গুণ্ডাদের হাতে চলে গিয়েছিল এই শহর, আমাদের তখন জন্ম হয়নি, বরিশাল ছেড়ে এল সকলে।
-দাঙ্গার শেষ নেই, সেই যে মসজিদ ভাঙা হলো, সারা দেশজুড়ে দাঙ্গা, কলকাতায় কারফিউ, উফ, তখন না ছিল টেলিফোন না ছিল খবর পাওয়ার উপায়, কত রকম খবর আসছিল, ঠনঠনে কালি মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে, পালটা নাখোদা মসজিদের উপর ঝাঁপিয়েছে হিন্দুরা, গুজব গুজব গুজব। পার্থ বলল, কিন্তু আমার বন্ধু শামিম কিছুটা দূরের হয়ে গেল যেন, এরপর আমার বোনের বিয়ে হয়, শামিম আসেনি, শামিমের বোনের বিয়েতে আমি যাইনি।
অনুপম বলল, সে তো পরের কথা, আগের ছবি দেখিসনি, ট্রেন বোঝাই করে উদ্বাস্তু আসছে পূর্ববাংলা থেকে, অত মানুষের মাইগ্রেশন পৃথিবীতে আর হয়নি, আমরা ঐ সময় এসেছিলাম, শুনেছি সে সব কথা, শিয়ালদা স্টেশনে থাকতে হয়েছিল নাকি ক’দিন।
রূপালি বলল, আমার এক পিসিকে রেখে আসতে হয়েছিল নাকি ওপারেই, পেরিয়ে আসার সময় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল।
পার্থ বলল, আমার বন্ধু সুবিনয় সপরিবারে সুইসাইড করেছিল তারাপীঠে গিয়ে, কাগজে উঠেছিল।
-কেন, তারাপীঠে গিয়ে কেন?
-দেনার দায়ে সুইসাইড ছাড়া উপায় ছিল না, কোভিডে তার চাকরি যায়, আমার কাছ থেকেও হাজার পাঁচ ধার করেছিল, মেয়েটা বড় ইস্কুলে পড়ত, পড়া বন্ধ হয়ে গেল, বাড়ি ছাড়া আর কিছু ছিল না, বাড়ি মানে দুটি ঘর তার ভাগে।
অনুপম জিজ্ঞেস করল, তারাপীঠ গেল কেন?
-হ্যাঁ, সকলে মিলে গেছিল, অভিযোগ জানাতে গিয়েছিল, সকলে বিষ খেয়ে মরে পড়েছিল তারাপীঠের হোটেলে।
হাত তুলল রূপালি, উফ, আর বলো না। ,
-আমি কি উনিশ শো উনষাট সালে খাদ্যের দাবিতে মিছিল আর মৃত্যুর কথা বলব, তখন খুব ছোট, খাদ্যের জন্য আসা মানুষের আশীজনের মতো মারা গিয়েছিল পুলিশের গুলিতে, তারপর পঁয়ষট্টি ছেষট্টির খাদ্য আন্দোলন, ভাতের সঙ্গে রুটি, পাঁচ টাকা কেজি চাল, মা বলত আবার দুর্ভিক্ষ আসছে, ভিখিরি আসছে ফ্যান ভিক্ষা করতে, ভিখিরির ঝুলিতে চাল দিতাম আমি, মনে পড়ে যাচ্ছে, সেই কথা বলব লিলিদির স্মরণ সভায়।
রূপালি বলল, আমি কি আমার বড়দা অনিকেতের মৃত্যুর কথা বলব, সেই যে রাত্রে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ, ও একদিনের জন্য বাড়ি এসেছিল, ওর জন্মদিন ছিল সেদিন, তারপর বারাসতে ওকে পাওয়া গেল অনেক লাশের সঙ্গে, আমরা কিছু বলতে পারলাম না, বাবা সরকারি চাকরি করছেন, আর এক ভাই পড়ছে, শাসিয়ে গিয়েছিল একটা লোক, মুখ খুললে বিপদ হবে, বাবাকে মিসা আইনে জেলে ভরে রেখে দেবে, এখন দাদার কথা মনে পড়ছে এখন, আমার কান্না পাচ্ছে, আমার তিন বছরের বড় ছিল দাদা, সূর্যদার বয়সী হবে।
অনুপম বলল, মিছিল মিছিল মিছিল, কৃষকদের উপর পুলিশের গুলি চালানোর বিরুদ্ধে একটা মিছিল হয়েছিল, আমি সেই মিছিলে পা মিলিয়েছিলাম, আমি কি সেই মিছিলের কথা বলব সেদিন?
পার্থ বলল, দ্যাখো অনুপমদা, আমাদের বাবার কারখানা প্রায়ই বন্ধ হয়ে থাকত, তখন যে আমাদের দিন যেত কীভাবে, মা একটা দরজির দোকানের সেলাই করত বাড়িতে বসে, আমি কি সেই দিনগুলোর কথা বলব ?
সূর্য বলল, বলো, যা মনে হয় বলবে, লিলিদি শুনবে, বিশ্বাস করো অনুপমদা, মৃত্যুর দিন, সেই গভীর রাতে আমি বসেছিলাম দিদির বিছানার পাশে, রাত তখন দুটো হবে, কখন তন্দ্রার ঘোরে ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না, ডাক শুনেই ঘুম ভেঙে গেল, দেখি লিলিদি, আমার বড়দি বড় বড় চোখ মেলে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, বলল, শোন সুজ্জ।
-বলল, সত্যি? রূপালি ঝুঁকে পড়ে জিজ্ঞেস করল।
-দুয়েকটা শব্দ বলতে পারত তো, নাম বলতে পারত একটু ভেঙে, বলল, সুজ্জ, যাই, তোদের জন্য খুব চিন্তা হয় সুজ্জ।
-তুই সত্যি বলছিস ? অনুপম তার উত্তেজনা গোপন করতে পারল না।
-হ্যাঁ, বলল, যাই, আর ভালো লাগে না, আমার অনেক কথা ছিল, সব বলতে পারলাম না, টাইম নেই, তোরা বলিস, আমি শুনব তোদের মুখে, এরপর আমার কান থাকবে, মুখ থাকবে, সব থাকবে, আমি শুনব সুজ্জ, আমার কথাগুলো তোরা বলিস।
-তারপর? রূপালি জিজ্ঞেস করল।
-তারপর দেখি দিদি ঘুমিয়ে আছে, দিদির কবজি হাতে নিয়ে নাড়ি দেখতে লাগলাম, নাড়ি নেই, বুঝলাম দিদি চলে গেছে, সারাটা জীবন কথা না বলে, কথা না শুনে, প্রেমিকের হাতে প্রতারিত হয়ে, মার খেয়ে, অপমানিত হয়ে দিদি চলে গেছে, সব যেন ধুয়ে গেছে গা থেকে, কী শান্ত, কী স্নিগ্ধ, কী সুন্দর লাগছিল আমার দিদিকে, দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের পর জলে ভাসছে যেন চিত হয়ে, আকাশের দিকে চোখ, তেমনি, অনুপমদা দিদির পারলৌকিক কাজ হলো এইটা, সকলে তোমরা বলে যাও, যা জানো তা বলে যাও, দিদির জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি যা জানো, তা বলে যাও তোমরা।
অনুপম বুঝে নিতে চাইছিল সব। রূপালিও। আশি বছরের কথা বলতে হবে লিলিদিকে। লিলিদি থাকবে। শুনবে। সেই নরহত্যা, সেই ধর্ষণ, সেই জেলখানায় হত্যা, এরই ভিতর ভালোবাসা, প্রতারণা, এতদিনে তার কান হয়েছে, বুঝতে পারবে সব কথা। রূপালির মনে পড়ল দাদার কথা। মা শেষ দিন অবধি বিলাপ করেছেন। বিশ্বাস করতেন না অনিকেত নিহত হয়েছে। লিলিদির পাশে মা এসে দাঁড়াবেন হয়ত। সকলে। লিলিদির বাবা, মা, মন্বন্তর পার হয়ে আসা মানুষ। লিলিদি মন্বন্তরে জন্মানো মানুষ। লিলিদি উচ্ছিন্ন মানুষ, দেশ ভাগের পর বড় হওয়া মানুষ, লিলিদির কথা তাদের বলতে হবে। কতদিন আর মুখ বুঁজে থাকবে তারা? মুখ বুঁজে ভয়ানক নিস্তব্ধ দুপুরের মতো, নিঝুম রাত্রির মতো জনহীন হয়ে থাকবে তারা, লিলিদির সকল পরিজন।


9 মন্তব্যসমূহ
গল্পটি টেনে নিয়ে গেল কোথায় ... কোন সমুদ্রে ... আসলে শ্রদ্ধেয় শ্রী অমর মিত্রের লেখার টানই এমন ...
উত্তরমুছুনশ্রাবণী।
গল্পের শুরুতে বোঝাই যায়নি গন্তব্য কোথায় হতে পারে। পাঠককে এক নিঃশ্বাসে পড়িয়ে নেওয়ার ক্ষমতা যেমন গল্পকার অমর মিত্রের আছে, তেমন হতবাক করার শক্তিও দেখলাম এ গল্পে। রেশ কাটতে সময় লাগবে।
উত্তরমুছুনআহা। এমন কত লিলিদি আছে চারিপাশে। লিলিদিরা বেঁচে থাকুক। ভাষা পাক। অপূর্ব সুন্দর গল্প। ~ সুরশ্রী ঘোষ সাহা
উত্তরমুছুনদিলারা মেসবাহ
উত্তরমুছুনলিলিদি মূক বধির,বুকের ভেতর কইমাছের কাঁটা।
ব্যাকুল শব্দের উজান স্রোত। আর কঠিন বাঁধ!
আহা এমন আরও লিলিদি আছেন তাঁরা মূলত মূক
বধির নন,তথাপি ওই লিলিদির মতো। লিলিদিরা
মিলেমিশে একাকার। নীল সুতোয় বোনা। নকশীকাঁথা।।
একটি গল্পের ভেতর হাজার গল্প লিখে দেওয়াই শ্রদ্ধেয় অমর মিত্রের লেখার স্টাইল। এই যে ভেসে যাওয়া এ অনন্ত ভেসে যাওয়া। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। লিলিদিরা কথা বলে শেষ বেলায় অনেক জমে থাকা কথা। -- শতাব্দী চক্রবর্তী
উত্তরমুছুনযাঁদের ভালো লেগেছে তাঁদের ভালো লাগা জানাই। নমস্কার জানাই,
মুছুনঅসাধারণ একটা গল্প
উত্তরমুছুনপ্রতিভা সরকার
লিলিদির গল্প আমাদের ইতিহাসের কথা, বধির ও মূক, অন্তরের হাহাকারের ধ্বনি। অমরদার গল্প আমরা যা ভুলে যেতে চাই তাই স্মরণে নিয়ে আসে, এই গল্পে অংশগ্রহণ ইতিহাসের পুনরুজ্জীবন - দীপেন ভট্টাচার্য
উত্তরমুছুনঅসামান্য গল্প। বুকের ভিতর কাঁটা বিঁধে রইলো।
উত্তরমুছুন