মাথায় মুকট , দীর্ঘকায় মানুষ, একটু ঝুঁকে থাকেন, মোচে একটা আভিজাত্য ঝুলে আছে। গৌর বর্ণেও লোকটি রঙীন জামা গায়ে দিয়ে যশোর-বেনাপোল রোডে ঘড়ি বিক্রি করেন। বয়স সত্তর পেরিয়ে গেছে- নাম রামেশ্বর রাও। এ অঞ্চলের পরিচিত মুখ রামেশ্বর । তারা বিক্রির ভাষায় কোলকাতার ছাঁট আছে। শুনতে অসম্ভব সুন্দর। তার অসাধারন অ্যাডভার্টইজিং শুনে কেউ কেনে কেউ কেনে না। কিন্তু মোবাইলে এই যুগে অনেকেই তার ছবি তোলে বা ভিডিও করে নিয়ে যায়। সাবলীলভাবে দরাজ কণ্ঠে তিনি বলে যান একাধারে।
‘দিদি-এবং দাদী, ঠাকমা এবং বৌদি, মা এবং মাছি , দাদু এবং পিছি। আমি বিক্রি করি, প্রতাপাদিত্যের ঘড়ি। স্বাধীন ছিলেন যিনি, তার কথাই জানি। যশোরের রাজা, মোগল পেল ছাজা। কুছ পরোয়া নেহি, ছেলাম রাজা ছহি। এই ছেই ঘড়ি ভাই, আজ ছারাদিন তোমাকে চাই। প্রতাপাদিত্যেও ঘড়ি, নেহি ঝাড়ি ঝুরি।’ এমন অজস্র কথা বলতে বলতে ঘড়ি বিক্রি করেন রামেশ্বর রাও।
আমি তখোন পত্রিকার কাজে সীমান্ত এলাকার গণহত্যা নিয়ে কাজ করছি। চুকনগরের গণহত্যা নিয়ে রাতদিন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি। একদিনে দশ হাজার নীরিহ লোককে হত্যা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী। চুকনগর বাজারে সালামের টং দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে এলাকার বয়স্ক লোক নুরুদ্দিন বলছিলেন, 'বুইচেন, এই যে ভদ্রা নদী দেহিচেন- এই নদীতে চেয়ারম্যানের আদেশে আমরা লাশ ফেইলেচি। প্রতি লাশ পোঞ্চাশ পয়সা।'
আমি শুনি আর যন্ত্রনায় কুকরে উঠি। আমার চা খাওয়া হয় না। পত্রিকায় ফোন করে বার্তা সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলি। তিনি পাশে সাইড স্টোরি দিতে বলেন। আমি ঘুরে বেড়াই সাইড স্টোরির খোঁজে।
মুক্তিযুদ্ধ আমি দেখিনি। কিন্তু একটা মুক্তিযুদ্ধ আমার উপর কেমন করে যেন ভর করে আছে। আমি শৈশবে শুনেছি মায়ের কাছে। আমাদের বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধেও ক্যাম্প ছিলো । সেই যুদ্ধেও কত মুক্তিযোদ্ধার আজ তালিকায় নেই। এমন অজস্র প্রশ্ন এবং ক্ষত আমার ভিতরে। কিন্তু কী রিপোর্ট করবো, এতদিন পরে এই গণহত্যার সাক্ষী যত পাওয়ার কথা তত পাচ্ছি না। অন্যদিকে অফিস থেকে বার্তা সম্পাদকের ফোন আসছে শুধু চুকনগরের গণহত্যা নয়, সঙ্গে একটা যুতসই সাইড স্টোরির দরকার।
ডিসেম্বরের শীত পড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যা হলেই কুশয়াশায় ভরে যায় চারদিক। ডুমুরিয়ার রেস্ট হাউসে বিলের শীতল বাতাস আসে। আসে পরিযায়ী পাখির ডাক। দূরে শিয়াল ডাকে। বিলগুলো ঘেরাও করছে ঘের। এই নোনা পানির রাজনীতির শিকার খুলনা অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু বাসে দেখা রামেশ্বর রাও কেন যেন আমার মনে ছায়াপাত করে। প্রত্যাপাদিত্যের ঘড়ি বিক্রি করে চলে রামেশ্বরের জীবন। কিন্তু রাও পদবী বাঙালীর কি করে হয়?
আমার প্রথমেই মনে পড়ে ইতিহাসের বালাজী বাজী রাওয়ের কথা। যুদ্ধে বিচক্ষণতার অভাবে তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধে তিনি হেরেছিলেন। আঠারো শতকের মধ্যভাগে ভারতের মারাঠা সাম্রাজ্যের এই নেতা নানা সাহেব নামেই পরিচিত ছিলেন। তার সময়ে 'ছত্রপতি' (মারাঠা রাজা) কেবল একজন আনুষ্ঠানিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। একই সময়ে মারাঠা সাম্রাজ্য একটি কনফেডারেশনে পরিণত হয়, যেখানে বিভিন্ন স্থানীয় নেতা (যেমন- হোলকার বংশ, সিন্ধিয়া বংশ কিংবা নাগপুরের ভোঁসলে বংশ) শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। বালাজী রাওয়ের সময়ে মারাঠা সাম্রাজ্য এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিস্তার লাভ করেছিলো। আরেক রাও আছেন, মুক্তিযুদ্ধেও ইতিহাসে। তিনি হলেন কুখ্যাত পাকি জেনারেল রাও ফরমান আলী। যিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনক্সা করেছিলেন। যদিও তিনি তার আত্মজীবনীতে সব অপরাধকে অস্বীকার করেছেন। তার মানে রাও পদবী বাঙালীর নয়। তাহলে কে এই রামেশ্বর?
পরদিন সকালে উঠেই রামেশ্বরের খোঁজে যাই। রামেশ্বরকে সব জিজ্ঞেস করতে তিনি উত্তর দিতে বিরক্ত হচ্ছিলেন। কিন্তু তার কলপ করা ভারী মোচের দিকে চোখ রাখতেই তার চোখে বিরক্তির গভীরতা দেখে মনে হলো সাধারণ হকার নয়, স্টোরি এখানেও পেয়ে যেতে পারি। আমি তার বাড়ি যেতে চাই বলতেই সে অজস্র ঘড়ি হাতে গাড়ি থেকে নেমে গেলো। তার প্রশ্ন আমি কী চাই? আমি বললাম, ভাই তেমন কিছু না। আপনার বাসায় বসেই বলি? ঠিকানাটা দেন।
তিনি শুধু বললেন, বেনাপোল।
গাড়ি ছেড়ে দিলো।
কিন্তু বেনাপোলে কোথায় পাবো তারে? তার সঙ্গে কথা হওয়ার পরে দু’দিন ধরে তিনি হাওয়া। আমার ভিতরে এবার আরো প্রশ্ন তৈরী হয়। রামেশ্বর পালাবে কেন? তাছাড়া রামেশ্বর যে ঘড়ি বিক্রি করেন- সে ঘড়িকে তিনি প্রতাপাদিত্যের ঘড়ি বলেন কেন?
প্রতাপাদিত্য ছিলেন মহারাজা প্রতাপাদিত্য রায়। বাংলাদেশের যশোহর সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন। যিনি মুঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম এক স্বাধীন সাম্রাজ্যের মহারাজা। মুঘল শাসনাধীন ভারতে প্রথম স্বাধীন "স্বরাজ" এর আদর্শ স্থাপন করেন এই বাঙ্গালী সম্রাট। ষোড়শ শতকের সূচনায় তিনি তাঁর যশোর সাম্রাজ্য কেন্দ্রে ধূমঘাট থেকে শুরু করে পশ্চিমে বিহারের পাটনা, দক্ষিণে উড়িষ্যার পুরী ও পূর্বে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পর্যন্ত তার রাজ্যসীমা বাড়িয়েছিলেন। তারপরে শুরু হয় মোগলদের আক্রমণ। মানসিংহের অভিযান সবইতো ইতিহাস। এর সঙ্গে এই ঘড়ির সম্পর্ক কি?
তাছাড়া ঘড়ির কাহিনীও আলাদা। কারণ ১৫২৪ সালে প্রথম পিটার হেনেলিন পকেট ঘড়ি তৈরি করেছিলেন। ১৬৫৭ সালে এসে ডাচ জ্যোতির্বিদ ক্রিশ্চিয়ার হাইজেন্স সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে মিনিট, সেকেন্ড ও ঘণ্টা নির্দেশকারী উন্নতমানের যান্ত্রিক ঘড়ির নকশা করেন। তাহলে এসব আধুনিক ঘড়ি যা বিংশ শতকে মানুষের হাতে উঠেছে তার সঙ্গে প্রতাপাদিত্যের সম্পর্ক কি? ভাবতে ভাবতে দেখি কাঁচা রাস্তায় ধূলো উড়িয়ে আসছে বেনাপোলের গাড়ি। আমি কোন চিন্তা না করে গাড়িতে উঠে পড়ি।
রিপোর্টের কাজে বেশিদিন এ এলাকায় থাকায় এলাকায় আমার একটা পরিচিতি গড়ে উঠেছে। যেকোন জায়গায় কাজের খোঁজে যাওয়া আমার জন্য সমস্যা নয়। তাই বেনাপোল নেমে রামেশ্বরের খোঁজ করতে থাকি। অনেক্ষণ খোঁজার পরে বকুলের চায়ের দোকানে রামেশ্বর রাওয়ের খোঁজ পাই । শার্শায় সে একা থাকে তার সংসাওে কেউ নেই। আমি তার কাছে যেতে চাইলে বকুল একটা ছেলেকে পথ চিনিয়ে একটা বাইক ঠিক করে দেয়। সেই বাইকে গিয়ে দুপুরের চকচকে আলোয় রামেশ্বর রাওয়ের বাড়িতে দরোজায় থামি। দরমার বেড়া দেয়া বাড়ি।দরোজা বন্ধ। ভেতরে কেউ আছে বলে মনে হলো।
আমি দরোজায় শব্দ করলেই দরোজা খুলে যায়। খালি গায়ে বেড়িয়ে আসেন রামেশ্বর রাও। দীর্ঘ দেহী, বামপায়ে কাটা ছেড়া করা, অপারেশনের পুরানো ক্ষত। ছোট একটুকরো কাপড় পরে কি যেন করছিলেন তিনি।
আমাকে দেখা মাত্রই যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। রামেশ্বর খুব চটে যান। তিনি চিৎকার করে লোক ডাকার হুমকি দেন। তিনি বলতে থাকেন, আপনি পেয়েছেন কি ? আমি বিশ বছর ধরে বাসে ঘড়ি বিক্রি করে খাই। আপনার কি ক্ষতি হলো?
আমার কোন কথাই যখোন তিনি শুনছিলেন না, তখন আমি ব্যাগ থেকে আমার ক্যামেরা বের করে তার একটা ছবি তুলে বললাম, রামেশ্বর বাবু আমি একটা পত্রিকায় কাজ করি। আপনার অ্যাডভার্টাইজিং শুনে মুগ্ধ হয়েছি। আপনার সঙ্গে গল্প করবো ও একটা স্টোরি করবো বলে অনেক খুঁজে আপনাকে বের করেছি। আপনার আপত্তি থাকলে তাও করবো না। আমি কোন ক্ষতিকর কেউ না।
রামেশ্বর এতক্ষণে স্বাভাবিক হয়ে হাসতে হাসতে বললো, মুই ভাবজেলাম আমনে বেমালা ভয়ংকর লোক। হেইয়ার লাইগ্যা মুই দুইদিন কামে যাই নাই। তিনি আমাকে খাটে বসতে দিয়ে নিজে একটা জল চৌকিতে সামনে বসেন। তারপর শুরু হয় কথাবার্তা।
আমি অনেক কথার পরে তাকে জিজ্ঞেস করি-- আপনি প্রতাপাদিত্যের ঘড়ি পেলেন কোথায়? তার সময়কাল হলো ষোড়শ শতকের মধ্যভাগ । এ সময় কি বাংলায় হাতঘড়ির ব্যবহার শুরু হয়েছে?
তিনি হাসতে হাসতে বলেন, হেয়া মুই জানমু কেমনে? মুই এইয়া কইলে মানুষ ঘড়ি কেনে হেইয়ার লাইগ্যা কই।
এবার জিজ্ঞেস করি, আপনার বাড়ি কোথায়? আর রামেশ্বও রাওইবা হলেন কিভাবে বলবেন?
এবার তিনি বলেন, ভাই এতকাল কওয়ার কোন সুযোগ হয় নাই, আইজ কমু ভাত খাবেন তো, তয় ভাতটা চুলায় দিয়া লই। আমি রাজি হই, রামেশ্বও রাও এবার বলেন, মোর আসল নাম নলিনী চৌধুরী। মোর বাড়ি বরিশালের বানরীপাড়া। বাড়ি যাওয়া হয়নি কোন কালে। বাবা কাজের সূত্রে যশোর থাকতেন। এখানেই আমাদের বেড়ে ওঠা। আমাদের দিনকাল ভালোই যাচ্ছিল এরমধ্যে আসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। ঢাকায় ২৫ মার্চ ক্রাক ডাউনের পরে আমরা প্রথমে বানারীপাড়ার বাইশারীতে আত্মীয় বাড়ি চলে যাই। পরে সেখানেও আর্মি আসবে আর্মি আসবে শুনি। সেখান থেকে বাবা- মাসহ চলে আসি যশোর। শুনতে পাই চুকনগর গেলে ভারত যাওয়া সহজ। পরে চুকনগরে সবাই গিয়ে আশ্রয় নেয় ভারত যাওয়ার আশায়। এখানে অন্য এলাকার অনেক মানুষজন এসে জমা হতে শুরু করে নিরাপদ আশ্রয় ভারতে যাওয়ার জন্যে। এই এলাকার অনেক লোক মুক্তিযুদ্ধে যায়। বাবা-মা দুই ভাইবোনকে রেখে আমিও চলে গেলাম ভারতে।
ভারতে বসেই শুনলাম চুকনগরে দশ হাজার মানুষ জমা হয়ে ভারত যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলো। এ সময় রাজাকাররা পাকিস্তানী বর্বরবাহিনীকে খবর দেয়। পাকিস্তান বাহিনী এসে চালায় খাণ্ডব দাহন। এখানে দশ হাজার মানুষ শহীদ হয়। তারমধ্যে আমার পরিবারের সবাই শহীদ হয়েছে বলে শুনেছি। আমি মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে দেশে ঢুকে যশোর এলাকায় যুদ্ধ করলাম। দুর্ধর্ষ সব যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছি। একদিন যুদ্ধে্র ভিতরে পায়ে শত্রু সেনাদের গুলি লাগলো। সীমান্তের হাসপাতালে চিকিৎসা হলে আবার যুদ্ধে গেলাম। দেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু কোথায় যাবো?
যশোরের ভাড়া বাড়ি পুড়ে গেছে। বানারীপাড়ার বাড়ি সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে চলে গিয়েছিল আরো আগে। আমি কোলকাতায় গিয়ে কাজের চেষ্টা করি। কাজ হয় না। পরে কাজ পেলাম মহারাষ্ট্রে গিয়ে। সেখানে এক মারাঠা পরিবারে কাজ নিলে আমার নাম হয় রামেশ্বর রাও। ওখানে কাজে মন বসলো না। তারপর ট্রেনে ট্রেনে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতাম। এভাবে একদিন ছোট বেলার বন্ধু হালিমের সঙ্গে দেখা হলো কলকাতায়। ওর সঙ্গে একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধও করেছি।ও আমার দীন-হীন অবস্থা দেখে আমাকে নিয়ে এলো যশোরে।
হালিমের গ্রামের বাড়ি শার্শা । এবাড়িতে এই ঘর তুলে বহুদিন আছি। ঘড়ি বিক্রি করি, একার জীবন এভাবেই কাটে। বাসে একাত্তরের রাজাকার- মুক্তিযোদ্ধা সবার সঙ্গে দেখা হয়। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আমার নাম নেই, কেউ জানেও না এই দেশ স্বাধীন করে যারা নিঃস্ব হয়েছে আমি তাদের একজন। চুকনগরে আমি এখনো যাই, মা-বাবাকে খুঁজি। দেশের পতাকাটা ছাড়া আর কেউ নাইরে ভাই। বলে অঝোরে কাঁদতে থাকে যশোর -বেনাপোল বাসের রামেশ্বর রাও্আ-মার নলিনীদা।
আমি তাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে বলি আমি আপনার কথা লিখবো দাদা। আসার সময় তিনি তার ঝোলা থেকে একটা ঘড়ি বের করে আমার হাতে পরিয়ে দিয়ে স্বভাব সুলভ ভাবে বলতে থাকেন। এই ভাই,এই পরালাম রাখি। মনে যেন থাকে, জীবনটাতো পাখি। রাজা আছে, রানী নাই, প্রতাপাদিত্যেও ঘড়ি - তোমাকে চাই।
তখন সন্ধ্যা নামছে, পাখিরা ফিরছে নীড়ে। কুয়াশা নামছে মাঠে দুধের সরের মতো । গ্রামের পথের দু’ধারের বৃক্ষরাজি ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। শীতের আমেজে গ্রামের পথ-ঘাট প্রায় খালি হয়ে এসেছে। আমি পরিবহনের খোঁজে হাঁটতে থাকি। চারপাশের দৃশ্যগুলো আবছা হতে শুরু করেছে কুয়াশায়। পাশের বাড়ি থেকে কুপির আলো জ্বলে উঠছে। উঠোনো খড়কুটো দিয়ে রান্নার গন্ধে গ্রামের পরিবেশ যেন জ্যান্ত হয়ে উঠছে। ধূলোময় পথ-ঘাটে পথচারীর সংখ্যা কমে এসেছে।
আমার ভিতরে একটা বৃহৎ গণহত্যার স্টোরি যেন ঈগলের মতো ডানা মেলছে। সঙ্গে রামেশ্বর রাও নামের এক মুক্তিযোদ্ধার বঞ্চনার ইতিহাস যেন আগুনের লেলিহান শিখার মতো দাউ দাউ করে জ্বলছে। মুক্তিযুদ্ধের পর কত ঘটনা ঘটলো। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে যারা তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা না হলেও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা পোক্ত জায়গা করে নিয়েছে। এখন তারা অনেক শক্তিশালী। এসব ভাবতে ভাবতে দেখি- রামেশ্বর রাও ভেজাচোখে দাঁড়িয়ে আছে আমার পথের দিকে চেয়ে।
কুয়াশার ভিতরেই আমার ডেরায় ফিরতে হবে। জোর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে একসময় রামেশ্বর রাওয়ের ভেজা চোখ অদৃশ্য হতে থাকে। আমি চলতে থাকি নতুন সংবাদের খোঁজে।


2 মন্তব্যসমূহ
চুকাইনগরের গণহত্যা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এক মর্মন্তুদ ঘটনা যেখানে নিরস্ত্র নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই পটভূমিকে স্পর্শ করে হৃদয় -ছোঁয়া লিখা। অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লেখক দীপঙ্কর গৌতম।
উত্তরমুছুনগল্পটা পড়তে গিয়ে ভেসে উঠছিল সেই দিনগুলোর কথা। ঐসময় ছিলাম কোলকাতায়। বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছি। যুদ্ধের কারণে আমার নিজের পড়াশুনা লাটে উঠেছিল। বহু ক্যম্পে ক্যাম্পে গিয়ে অনুবাদকের কাজ করেছি বিদেশী সংস্থাগুলো থেকে আসা ডাক্তারদের জন্য।
উত্তরমুছুন